

গতকাল রোববার চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত
হয়েছে। এবার এসএসসি পরীক্ষায় পাস করেছে ১৬ লাখ ৭২ হাজার ১৫৩ শিক্ষার্থী। উত্তীর্ণদের
মধ্যে ছাত্র ৮ লাখ ৬ হাজার ৫৫৩ এবং ছাত্রী ৮ লাখ ৬৫ হাজার ৬০০ জন।
প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী উত্তীর্ণ
শিক্ষার্থীদের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন শুরু হবে আগামী ২৬ মে।
সোমবার (১৩ মে) দুপুরে শিক্ষা
মন্ত্রণালয়ে আন্ত:শিক্ষা বোর্ডের সাথে মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে নেয়া এ সিদ্ধান্ত এর বিষয়টি
নিশ্চিত করে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত)
অধ্যাপক মোহাম্মদ আবুল মনছুর ভুঁঞা বলেন, ২৬ মে থেকে একাদশে ভর্তির আবেদন শুরু হবে।
বিষয়টি চূড়ান্ত করতে আজ দুপুর সাড়ে ১২টায় মন্ত্রণালয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় আর সেখানেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে
।
চলতি বছর অনলাইনে নির্ধারিত
ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের একাদশ শ্রেণির ভর্তির আবেদন করতে হবে। একজন শিক্ষার্থী
যতগুলো কলেজে আবেদন করবেন, তার মধ্য থেকে তার মেধা, কোটা ও পছন্দক্রমের ভিত্তিতে একটি
কলেজে তার অবস্থান নির্ধারণ করা হবে।
শিক্ষা বোর্ড বলছে, এবার
সারা দেশে একাদশ শ্রেণিতে আসন সংখ্যা ২৪ লাখ যা পাস করা শিক্ষার্থীদের তুলনায় অনেক
বেশি। তাই ভর্তিতে কোনো ধরনের সংকট হবে না।
তবে যেসব শিক্ষার্থী বিশেষ
চাহিদাসম্পন্ন হিসেবে এসএসসি পরীক্ষা উত্তীর্ণ হয়েছেন, তারা বোর্ডে ম্যানুয়ালি ভর্তির
জন্য আবেদন করতে পারবেন।
এছাড়া প্রবাসীদের সন্তান
ও বিকেএসপি থেকে শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য বোর্ডে ম্যানুয়ালি আবেদন করতে পারবে। এক্ষেত্রে
বোর্ড প্রমাণপত্র যাচাই-বাছাই করে শিক্ষার্থীকে ভর্তির ব্যবস্থা নেবে।
মন্তব্য করুন


দিনাজপুরের ফুলবাড়ী সীমান্তে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে অর্চনা সুরিন (২৭) নামে এক বাংলাদেশি তরুণীকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কাছে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী পতাকা বৈঠক শেষে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বিজিবি ফুলবাড়ী ২৯ ব্যাটালিয়নের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে প্রবেশের অভিযোগে বিএসএফ অর্চনা সুরিনকে আটক করে। পরে বিএসএফের আহ্বানে বিজিবি সীমান্ত পিলার ২৯৯/১ এস-এর কাছে ভারতের অভ্যন্তরে বসুলপুর শেখপাড়া এলাকায় (জিআর-৮২৫০৯৭, এমএস-৭৮ সি/১৪) পতাকা বৈঠকে অংশ নেয়।
বৈঠকে অর্চনা সুরিনের জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। যাচাই শেষে তিনি বাংলাদেশি নাগরিক বলে নিশ্চিত হওয়ায় বিএসএফ তাকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। পরবর্তীতে বিজিবি তাকে ফুলবাড়ী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
জিজ্ঞাসাবাদে অর্চনা সুরিন জানান, তিনি দীর্ঘদিন ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে কর্মরত ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে ভারতীয় নাগরিক দিপংকরের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের আশ্বাস পেয়ে ভারতীয় নাগরিক রানার সহায়তায় গত ১২ ডিসেম্বর তিনি শ্রীমঙ্গল সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন এবং দিপংকরের বাড়িতে ওঠেন।
তবে দিপংকরের পরিবারের সদস্যরা এ বিয়েতে সম্মতি না দেওয়ায় গত ১৪ ডিসেম্বর পতিরাম থানা পুলিশ অর্চনা সুরিনকে আটক করে। পরে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বিজিবি ফুলবাড়ী ২৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ এম জাবের বিন জব্বার বলেন, অর্চনা সুরিনকে গ্রহণের পর পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে ফুলবাড়ী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের একপর্যায়ে মারধরের শিকার হয়ে নাঈম কিবরিয়া (৩৫) নামে এক আইনজীবীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (রাত) এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নাঈম কিবরিয়া পাবনা সদর উপজেলার চক জয়েনপুর গ্রামের বাসিন্দা গোলাম কিবরিয়ার ছেলে। তিনি ঢাকা নিম্ন আদালতে আইন পেশায় যুক্ত ছিলেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
ভাটারা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আরিফুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, সংবাদ পেয়ে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল থেকে ট্রলির ওপর থাকা অবস্থায় নাঈম কিবরিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ঢামেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্যমতে, বুধবার রাতে নাঈম কিবরিয়া নিজ প্রাইভেট কারে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় চলাচলের সময় একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কার ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে মোটরসাইকেল আরোহীরা নেমে প্রাইভেট কারের চালক নাঈম কিবরিয়াকে কিলঘুষি মারতে থাকেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সড়কের পাশে ফেলে রেখে তারা চলে যান।
পরবর্তীতে স্বজনেরা খবর পেয়ে নাঈম কিবরিয়াকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এসআই আরিফুল ইসলাম আরও জানান, নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মুখ দিয়ে লালা ও নেশাজাতীয় উপাদানের আলামত বের হওয়ার লক্ষণও দেখা গেছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন অপেক্ষমাণ রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
মন্তব্য করুন


গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সারাদেশে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়ে ৪৯০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আজ (৩ ডিসেম্বর) বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এ নিয়ে চলতি বছরের এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯১ জনে দাঁড়িয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি রোগী বেড়ে দাঁড়ালো ৯৬ হাজার ৬৭ জনে।চলতি বছর নভেম্বর মাসে ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে। ওই মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১০৪ জনের মৃত্যু হয়।
মন্তব্য করুন


মজিবুর রহমান পাবেল,কুমিল্লা:
১৯৭১ সালের ১৮ অক্টোবর কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া থানায় দেউশ মন্দভাগ বাজারে মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানী বাহিনীর বিরুদ্ধে একটি যুদ্ধে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করে।
১৯৭১ সালের ১৪ অক্টোবর সালদা নদীতে প্রথম আক্রমণের পর ৪ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ‘সি’ কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার ওহাবের ৭ নং প্লাটুনকে দেউশ-মন্দভাগ এলাকায় প্রতিরক্ষা অবস্থান নিতে নির্দেশ দেন। এলাকাটি দক্ষিণ-পশ্চিমে চান্দলা খাল ও দক্ষিণ-পূর্বে সালদা নদী ঘিরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সুবেদার ওহাবের নেতৃত্বে প্রায় ৬০ জন মুক্তিযোদ্ধা, ২টি এমজি, ৭-৮টি এলএমজি এবং ৬০ মি.মি. মর্টারসহ দৃঢ় প্রতিরক্ষা অবস্থান গ্রহণ করেন।
শত্রুপক্ষ ৩৩ বালুচ রেজিমেন্টের একটি কোম্পানি ১৭ অক্টোবর রাতে সালদা নদী পথে অগ্রসর হয়। ১৮ অক্টোবর ভোরে চান্দলা খালে মাছ ধরায় নিয়োজিত আবু মিঞা প্রথমে শত্রুর নৌবহরের শব্দ শুনে মুক্তিযোদ্ধাদের সতর্ক করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই শত্রুর প্রথম নৌকাটি প্রতিরক্ষা অঞ্চলে প্রবেশ করলে নায়েক আতাউর রহমান গুলি চালিয়ে আক্রমণ শুরু করেন। মুহূর্তেই মুক্তিবাহিনীর সব পোস্ট সক্রিয় হয় এবং সুবেদার ওহাব নিজে এমজি পজিশনে থেকে ফায়ার নিয়ন্ত্রণ করেন। ভয়াবহ গুলিবর্ষণে পাকিস্তানি সেনাদের ৭-৮টি নৌকা ধ্বংস হয়, বহু সেনা নিহত ও আহত হয়। ভোরের আলো ফোটার পর সুবেদার ওহাব ও তাঁর সহযোদ্ধারা লে. সীমাসহ প্রায় ১৫-২০টি মৃতদেহ উদ্ধার করেন। নিহত এক হাবিলদারের পকেট থেকে উদ্ধারকৃত চিঠিতে লেখা ছিল- “এখানে মুক্তিবাহিনী নামক বাহিনী আচমকা এসে আক্রমণ করে পালিয়ে যায়, এদের দেখা যায় না।”
এই চিঠি মুক্তিবাহিনীর গেরিলা কৌশলের সার্থকতা প্রকাশ করে।
আহতদের মধ্যে হাবিলদার আকরাম নামের এক সৈনিক জানায়, তাদের নৌকায় মেজর আফ্রিদি ছিলেন যিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিখোঁজ হন। সুবেদার ওহাব আহত আকরামকে হত্যা না করে চিকিৎসার জন্য ক্যাম্পে পাঠান—যা মুক্তিবাহিনীর মানবিক আচরণের উদাহরণ।
অতঃপর সকাল ৯টার দিকে পাকিস্তানি বাহিনী পশ্চিম ও দক্ষিণ দিক থেকে প্রতিআক্রমণ শুরু করে। সুবেদার ওহাবের এমজি ও এলএমজি পোস্ট থেকে গুলি ও মর্টার বর্ষণে শত্রু ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে পিছু হটে যায়। এরপর শুরু হয় আধাঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আর্টিলারি গোলাবর্ষণ, যা অধিকাংশই খাল ও বিলের পানিতে গিয়ে পড়ে। মুক্তিযোদ্ধাদের কেউ হতাহত না হলেও তাদের দৃঢ় অবস্থান শত্রুকে হতাশ করে।
দুপুরে শত্রু ৪টি হেলিকপ্টার নিয়ে আকাশ থেকে গুলি বর্ষণ করে। এই হামলায় কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক হতাহত হলেও মুক্তিযোদ্ধারা অক্ষত থাকে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও সুবেদার ওহাব পরে হেডকোয়ার্টারের সঙ্গে যোগাযোগ পুনঃস্থাপন করে যুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাঠান।
এই অভিযানে পাকিস্তানি বাহিনীর প্রায় ৫০-৫২ জন নিহত ও ৫০-৫৫ জন আহত হয়, যার মধ্যে ২ জন অফিসারও ছিলেন। এটি ছিল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একক অভিযানে শত্রুপক্ষের সর্বাধিক হতাহতের অন্যতম নজির। পাকিস্তানি সেনারা পরবর্তীতে সুবেদার ওহাবকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় ধরিয়ে দিলে ৫০,০০০ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে।
দেউশ-মন্দভাগ অভিযান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল অধ্যায়—যেখানে সুবেদার ওহাবের নেতৃত্ব, মুক্তিযোদ্ধাদের কৌশল, সাহস ও আত্মত্যাগ প্রমাণ করেছিল যে আধুনিক অস্ত্র নয়, স্বাধীনতার অদম্য আকাঙ্ক্ষাই বিজয়ের মূল শক্তি।
মন্তব্য করুন


শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর, সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোঃ তাহেরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন মঙ্গোলিয়ার অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত গ্যানবোল্ট দামবাযাভ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশে মঙ্গোলিয়ার অনারারি কনসাল জেনারেল নাসরিন ফাতেমা আউয়াল।
অত্যন্ত আন্তরিক ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাৎকালে ২৪-এর গণবিপ্লব-সহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গঠনমূলক ভূমিকা তুলে ধরা হয়।
ভবিষ্যতে দুই দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি এবং পারস্পরিক দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ আরও জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল, সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য জনাব সাইফুল আলম খান মিলন ও জনাব মোবারক হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


রাজবাড়ীতে
ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা এক সেনা সদস্যের বিশেষ কেটে দিয়েছেন তার স্ত্রী। গুরুতর আহত অবস্থায়
হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছেন সেনা সদস্য ইমান মোল্লা (২৮)।
সোমবার
(২৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের পার শাইলকাঠি গ্রামে ইমান
মোল্লার শ্বশুরবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ইমান মোল্লা সুলতানপুর ইউনিয়নের লক্ষণদিয়া গ্রামের
এখলাছ মোল্লার ছেলে ও রোকসানা একই ইউনিয়নের পার শাইলকাঠি গ্রামের নুর ইসলাম শেখের মেয়ে।
এ দম্পতির চার বছর বয়সি এক ছেলে রয়েছে।
জানা
গেছে, ভালোবেসে ছয় বছর আগে আপন খালাতো বোন রোকসানা বেগমকে বিয়ে করেন সেনা সদস্য ইমান
মোল্লা। বিয়ের পর থেকে বাবার বাড়িতেই থাকেন রোকসানা। দাম্পত্য জীবনের শুরুটা স্বাভাবিক
থাকলেও গত তিন বছর ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি
১০ দিনের ছুটিতে বাড়ি আসেন ইমান। ২৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ইমানকে ফোন করে বাবার বাড়িতে
ডেকে নেন রোকসানা। সেখানে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়েছিলেন ইমান। ইমানের অভিযোগ, রাত ২
টার দিকে স্ত্রী রোকসানা ধারালো চাকু দিয়ে তার গোপনাঙ্গ কেটে দেন।
হাসপাতালে
চিকিৎসাধীন ইমান বলেন, আমার ছেলের অসুস্থতার কথা বলে রোকসানা আমাকে ফোন করে তাদের বাড়িতে
যেতে বলে। আমি সন্ধ্যার দিকে তাদের বাড়িতে যাই। রাতের খাবার খেয়ে ১২ টার দিকে আমি পরনের
প্যান্ট পরে ঘুমাতে যাই। কিন্তু রোকসানা আমাকে জোর করে লুঙ্গি পরায়। তার মনে যে এতোবড়
ভয়াবহ পরিকল্পনা ছিলো তা আমি বুঝতে পারিনি। আমি আমার ছেলেকে বুকের মধ্যে নিয়ে ঘুমিয়ে
যাই। রাত ২ টার দিকে আমি ঘুমের ঘোরে বুঝতে পারি রোকসানা আমার পুরুষাঙ্গ চাপ দিয়ে ধরেছে।
এসময় আমি ঘুম থেকে উঠে তার হাত সরাতে গেলে সে তার অন্য হাতে থাকা চাকু দিয়ে আমার হাতে
কোপ দেয়। এরপর সে চাকু দিয়ে আমার আমার যৌনাঙ্গ কাটে। তাৎক্ষণিক আমি চিৎকার করি এবং
গামছা দিয়ে পুরুষাঙ্গ বেঁধে ফেলি। পরে আমার বাড়িতে ফোন করলে পরিবারের সদস্যরা আমাকে
উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে
ওই রাতেই আসি যশোর সিএমএইচ হাসপাতালে ভর্তি হই। আমার পুরুষাঙ্গে অনেকখানি অংশ কেটে
গেছে, বেশ কয়েকটি সেলাই লেগেছে। এ ঘটনায় আমি মামলা করবো। আমি রোকসানার দৃষ্টান্তমূলক
শাস্তি চাই।
ইমান
মোল্লার মা রহিমা বেগম বলেন, রোকসানা আমার ছেলের জীবনটা ধ্বংস করে দিয়েছে। আমরা তার বিরুদ্ধে মামলা করবো। আমরা রোকসানার দৃষ্টান্তমূলক
শাস্তি চাই।
মন্তব্য করুন


ঢালিউডের
সোনালী দিনের দাপুটে নায়ক ও কালজয়ী নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ আর নেই। দীর্ঘ দিন মরণব্যাধি
ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধ করে ৮২ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন তিনি (ইন্নালিল্লাহি
ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
মৃত্যুর
বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী
সদস্য সনি রহমান। ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের
পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণ করেন এই গুণী অভিনেতা। পরবর্তীতে সপরিবারে পাঞ্জাবে চলে এলেও
নিয়তি তাকে টেনে আনে ঢাকার চলচ্চিত্র অঙ্গনে।
১৯৬৪
সালে উর্দু সিনেমা ‘নয়ি জিন্দেগি’র মাধ্যমে নায়ক হিসেবে রুপালি পর্দায়
অভিষেক ঘটে তার। তবে তার ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায় ১৯৬৬ সালে ‘পায়েল’
সিনেমার মাধ্যমে। এই ছবিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী শাবানা।
এরপর
আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে; একের পর এক ব্যবসাসফল সিনেমা দিয়ে দর্শকদের হৃদয়ে
‘ড্যান্সিং হিরো’ হিসেবে স্থায়ী আসন গেড়ে নেন তিনি।
চলচ্চিত্র জীবনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ১৯৮৪ সালে বিয়ে করেন সে সময়ের জনপ্রিয়
চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরীকে।
সত্তুর
ও আশির দশকের দর্শকদের কাছে জাভেদ মানেই ছিল পর্দা কাঁপানো নাচ আর অ্যাকশনের অনবদ্য
এক মিশ্রণ। তার প্রয়াণে বাংলা চলচ্চিত্রের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। দীর্ঘ দিন ক্যানসারে
আক্রান্ত হয়ে নিভৃতে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন এই গুণী শিল্পী।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশের
বার্ষিক বাজেটের চার গুণ টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে দাবি করে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর
রহমান বলেছেন, অনেক টাকা আছে আমাদের। চোরেরা চুরি করে বাংলাদেশ থেকে ২৮ লক্ষ কোটি
টাকা বিদেশে পাচার করেছে। আল্লাহ যেন তৌফিক দেন ওদের পেটের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে সেই টাকা
যেন নিয়ে আসতে পারি।
গতকাল
মঙ্গলবার ( ০৩ ফেব্রুয়ারি ) দুপুরে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউস মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান
অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির এসব কথা বলেন।
তিনি
আরো বলেন, এটা (পাচার হওয়া টাকা) বাংলাদেশের বার্ষিক বাজেটের চার গুণ। দেশের টাকা বিদেশে
নিয়ে রাজার আদলে বসবাস করবে, আমরা তাদের ঘুম হারাম করে দেব। তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে
শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। দেশে মুরগি-গরু চুরির জন্য মানুষকে পিটিয়ে মারা হয়, কিন্তু
বড় চোরদের কিছু হয় না।
শফিকুর
রহমান বলেন, মানুষ বাংলাদেশের পরিবর্তন চায়। এবারের নির্বাচন কোনো সাধারণ নির্বাচন
না। এবার দুটি ভোট— একটি ‘হ্যাঁ’,
‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, ‘না’ মানে গোলামি।
‘হ্যাঁ’
ভোট মা-বোনদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে। আপনারা প্রথম ভোটটা ‘হ্যাঁ’তে
দেবেন, দ্বিতীয়টা ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীকে দিয়ে ইনসাফ কায়েম করবেন।
মন্তব্য করুন


নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের লোকজন দুই সাংবাদিককে লোহার পাইপ দিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রূপগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণবাগ হিন্দুপাড়া এলাকায়। পরে দুপুরে সাংবাদিক রাশেদুল ইসলাম রূপগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন।পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় আফজাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আফজাল হোসেন দক্ষিণবাগ এলাকার মৃত শামসুদ্দিনের ছেলে। আহত রাশেদুল ইসলাম জানান, তিনি দৈনিক মানবকণ্ঠ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত। তিনি উল্লেখ করেন, আফজাল হোসেন, জাকির হোসেন, জয়নাল ও সুখেনকে নিয়ে স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং অতীতে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন।রাশেদুল আরও বলেন, শনিবার দুপুরে তিনি এবং এশিয়ান টেলিভিশনের সাংবাদিক নাজমুল হাসান তার জমি দেখতে গিয়েছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিপক্ষের কয়েকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় তারা লোহার পাইপ দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। পরে আশপাশের লোকজনের সাহায্যে তাদের উদ্ধার করে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।রূপগঞ্জ থানার ওসি সবজেল হোসেন জানান, এই ঘটনার পর একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর
হারানো অস্ত্রের সন্ধান দিতে পারলে পুরস্কার দেওয়া হবে।
এ সময় তিনি জানান,
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুমানিক ৭০০ অস্ত্র উদ্ধার এখনো বাকি রয়েছে।
আজ রোববার (১০
আগস্ট) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা
সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা জানান।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হারানো
অস্ত্রগুলো উদ্ধার করতে আমরা একটি বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছি৷ যারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হারানো
অস্ত্রের সন্ধান দিতে পারবে, তাদের পুরস্কৃত করা হবে। দ্রুত এ সংক্রান্ত একটি কমিটি
গঠন করা হবে, যা পরবর্তীতে মিডিয়ায় জানিয়ে দেওয়া হবে।
গাজীপুরে সাংবাদিক
তুহিন হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক৷ এ ধরনের
ঘটনা ঘটুক সমাজে কেউ চিন্তাও করতে পারে না৷ জাতি হিসেবে আমরা খুব অসহিষ্ণু হয়ে গেছি৷
আগে সমাজে কোনো খারাপ কাজ ঘটলে লোকজন ঝাঁপিয়ে পড়ত সেটা প্রতিহত করার জন্য৷ কিন্তু আজকাল
সেটা খুব কমে গেছে৷ এখন সবাই ভিডিও করে৷ অপরাধ প্রতিহত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব৷ সবসময়
সব জায়গায় তো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থাকেন না৷ সে সময় উপস্থিত জনতারই
প্রাথমিকভাবে অপরাধ প্রতিরোধ বা প্রতিহত করা উচিত। উপদেষ্টা এ সময় গাজীপুরের ঘটনায়
জড়িতদের বেশিরভাগকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে বলে জানান।
নিউমার্কেট থেকে
১১০০ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব অস্ত্র যারা তৈরি করেন, তাদের আরও
সতর্ক হতে হবে। তারা জানে- কারা এসব ব্যবহার করছে। যারা এগুলো করছে তাদের আইনের আওতায়
আনা হয়েছে।
উপদেষ্টা আরও
বলেন, সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দায়িত্ব শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নয়। এর
সঙ্গে যুক্ত রয়েছে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলো, নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন,
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সর্বোপরি জনগণ। আশা করি, আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ
নির্বাচন উপহার দিতে পারব। উপদেষ্টা এ সময় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসারের
নিরাপত্তার জন্য অস্ত্রসহ একজন বাড়তি আনসার সদস্য (গানম্যান) নিয়োজিত থাকার সিদ্ধান্তের
কথা জানান।
ব্রিফিংকালে উপস্থিত ছিলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরী, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ, পিএসসি প্রমুখ।
মন্তব্য করুন