

দেশের
দক্ষিণাঞ্চলের ৫ জেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে ১০ জন নিহত ও কমপক্ষে ৩৩ জন আহত হয়েছেন
এবং ২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে কয়েক শতাধিক ঘরবাড়ি।
রোববার
(৭ এপ্রিল) দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত হওয়া ঘূর্ণিঝড়ে এ
তাণ্ডবলীলা ঘটে। ভোলার মনপুরা ও লালমোহন, পিরোজপুর, বাউফল, বাগেরহাট ও ঝালকাঠিতে এ
ঘূর্ণিঝড় বয়ে যায়।
পিরোজপুর:
পিরোজপুরে
সকাল পৌনে ১০টার দিকে ঝড় শুরু হয়। এ ঝড়ে গাছচাপায় এক নারী ও ঝড়ে উড়ে গিয়ে এক বৃদ্ধের
মৃত্যু হয়েছে। এতে কমপক্ষে ১৩ জন আহত হয়েছেন।
জেলার
ওপর দিয়ে ১৫ মিনিট ঝড়ো গতিতে বাতাস বয়ে যায়। পুরো জেলার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে
গেছে। শত শত গাছ উপরে পড়ে কয়েকশত ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পৌরসভার প্রায় সব সড়কের
যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
পিরোজপুর
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান জানান, হঠাৎ ঘূর্ণিঝড়ে গাছপালা উপড়ে পড়ে পিরোজপুরের
সদর উপজেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জেলা
হাসপাতালের চিকিৎসক ডাক্তার রমজান আলী জানান, এ ঝড়ে ২ জন নিহত হয়েছেন। আহত ১২ থেকে
১৩ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ভোলা:
ভোলার
মনপুরা ও লালমোহনে দুপুরের দিকে আকস্মিক ঝড় শুরু হয়। এতে দুই শতাধিক ঘরবাড়ি ও গাছপালা
ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ সময় নিজ ঘরে চাপা পড়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া বজ্রপাতেও একজন
মারা গেছেন।
মনপুরার
দুপুর ১২টা দিকে হওয় ঝড়ের তাণ্ডবে দাসের এলাকায় ছয় জেলেসহ একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে
গেছে। যাত্রীদের সবাইকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও ট্রলারটির খোঁজ পাওয়া যায়নি।
ভোলার
জেলা প্রশাসক আরিফুজ্জামান জানিয়েছেন, নিহতের পরিবারকে নগদ ২৫ হাজার টাকা করে ৫০ হাজার
টাকা দেওয়া হবে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত তিন উপজেলায় ১৬ টন চাল তাৎক্ষণিক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
বাউফল:
বাউফলে
সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হওয়া ৩৫ মিনিট স্থায়ী ঝড়ে ২জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন। এদিকে
বাউফলে ব্যাপক শিলাবৃষ্টি ও বজ্রপাতসহ ঝড় হয়েছে। এতে তেতুলিয়া নদীতে ঝড়ের কবলে পড়ে
দুই জেলে নিখোঁজ রয়েছেন।
বাউফল
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শোণিত কুমার গাইন হতাহতের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে
বলেন, নিখোঁজদের উদ্ধার ও অনুসন্ধানে কাজ চলছে।
বাগেরহাট:
বাগেরহাটে
ঝড়ের তাণ্ডবে গাছ ও বিলবোর্ড পড়ে ১ জন নিহত ও ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সকাল
৯টা ৪০ থেকে ১০ টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত চলা ঝড়ে অন্তত দেড় শতাধিক ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত
হয়েছে।
এদিকে
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. খালিদ হোসেন জানিয়েছেন, কচুয়া উপজেলায় বজ্রপাতে এক ব্যক্তি
নিহত হয়েছেন। আকস্মিক ঝড়ে বেশকিছু ঘরবাড়ির ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাছপালা উপড়ে পড়েছে।
ক্ষতিপূরণ নিরূপণের জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঝালকাঠি:
ঝালকাঠির
২ উপজেলায় ঝড়ের সময় মাঠে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে ২ নারী ও এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। আজ বেলা ১১টার দিকে সদর উপজেলার শেখেরহাট, পোনাবালিয়া
ইউনিয়ন এবং কাঁঠালিয়া উপজেলার আওরাবুনিয়া ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
মন্তব্য করুন


ত্রয়োদশ
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল আগামীকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় ঘোষণা করা
হবে।
আজ
বুধবার ( ১০ ডিসেম্বর ) বিকেলে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা এবং প্রচারে বাংলাদেশ
টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের
ভাষণ রেকর্ড শেষে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এ তথ্য জানান।
সাংবাদিকদের
আখতার আহমেদ বলেন, আগামীকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার সময় জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের
তফসিল ঘোষণা করা হবে। সন্ধ্যা ৬ টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন।
এই ভাষণে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন তিনি।
বাগেরহাট
ও গাজীপুরের সীমানা সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব
বলেন, আমরা সীমানা নিয়ে খবরটা পেয়েছি। অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড অথবা আদালতের আদেশ পাওয়ার
পর এ বিষয়ে কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত
নেওয়া হচ্ছে ৩০০ সংসদীয় আসনে আগামীকাল তফসিল ঘোষণা করা হবে। কারণ, আমরা এখন পর্যন্ত
আদালতের কোনো আদেশ পাইনি। আদালতের আদেশ পাওয়ার পর যদি সংশোধনের প্রয়োজন হয়, সেটাও সেভাবে
করা যাবে।’
বাগেরহাটে
চারটি এবং গাজীপুরে পাঁচটি আসন বহাল থাকার রায়ের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে
তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আদালতের আদেশ আমাদের হাতে আসেনি। আদেশটা যেহেতু পাইনি, সেটার
বিষয়ে কথা না বলাই ভালো। আমি আবারো বলছি, আগামীকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬ টার সময় জাতির
উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে সিইসি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন।’এর
আগে বুধবার বিকেল ৪টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সিইসির কার্যালয়ে বিটিভি
ও বাংলাদেশ বেতারে তার ভাষণ রেকর্ড করা হয়। এ বিষয়ে আগেই বিটিভি ও বাংলাদেশ বেতারকে
অবহিত করে চিঠি দেওয়া হয়েছিল।
মন্তব্য করুন


২০২৪ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে আজ।
বেলা ১১টায় ফল স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান থেকে এবং অনলাইনে একযোগে ফল প্রকাশিত হবে।
এ বছর ভিন্ন এক পরিস্থিতিতে ফল প্রকাশ করা হচ্ছে। কয়েকটি পরীক্ষা হওয়ার পর কোটা সংস্কার আন্দোলনের কারণে কয়েক দফায় স্থগিত করা হয়। পরে সংশোধিত সময়সূচি করেও পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে বাকি পরীক্ষাগুলো বাতিল করা হয়। এরপর শুরু হয় বাতিল পরীক্ষাগুলো ফলাফল নির্ধারণ নিয়ে জটিলতা। শিক্ষা বোর্ড থেকে এসএসসি ও জেএসসির ফলাফলের ভিত্তিতে ফল নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা পরিমার্জন করে দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ফলে শুধু এসএসসির ফলাফলের ভিত্তিতে বাতিল হওয়া পরীক্ষাগুলোর ফল নির্ধারণ করা হয়েছে।
ফলাফল এবার নতুন আঙ্গিকে প্রকাশ করা হবে। তাছাড়া ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষ্যে কলেজ ছুটি থাকায় ফলাফল জানতে শিক্ষার্থীদের অনেকটা অনলাইন-নির্ভর থাকতে হবে।
শিক্ষা বোর্ড থেকেও অনলাইনে, এসএমএসে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কীভাবে ফলাফল পাওয়া যাবে, তা জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণার কোনো অনুষ্ঠান না থাকায় সবার নজর অনলাইনের দিকে।
তবে এবার এসএমএসে ফল জানানোর প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়েছে। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী—ফল প্রকাশের আগেই শিক্ষার্থীরা প্রি-রেজিস্ট্রেশন অর্থাৎ, আগেই এসএমএস পাঠিয়ে রাখতে পারবেন। যে যত আগে এসএমএস পাঠাবেন, তিনি তত আগে ফলাফল পাবেন।
যেকোনো অপারেটরের সিম ব্যবহার করা মোবাইল ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে HSC<>Board Name (First 3 Letter) <> Roll <> Year টাইপ করে 16222 নম্বরে পাঠাতে হবে। যেমন: ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের জন্য HSC <>DHA<> Roll <> 2023 লিখে 16222 নম্বরে সেন্ড করতে হবে।
জেএসসির ২৫, এসএসসির ৭৫ নম্বরের সমন্বয়ে তৈরি করা হবে ফল।
এইচএসসির ফল তৈরিতে সাবজেক্ট ম্যাপিং শুরু
ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে প্রি-রেজিস্ট্রেশন করা পরীক্ষার্থীদের মোবাইল নম্বরে ফলাফল পৌঁছে যাবে।
ফল প্রকাশের দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষ্যে কলেজ ছুটি। দুর্গাপূজার যে ছুটি চলমান তা এদিনও থাকবে। ফলে কলেজে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি থাকবে না। সেদিক বিবেচনায় অনলাইনে কীভাবে ফলাফল জানা যাবে, তা বিস্তারিত জানিয়েছে শিক্ষা বোর্ড।
স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের ফল বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে Result sheet download করা যাবে। যেমন, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট www.dhakaeducationboard.gov.bd, www.educationboardresults.gov.bd ও www.eduboardresults.gov.bd-এ Result কর্নারে ক্লিক করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের EIIN এন্ট্রি করে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক Result sheet download করা যাবে এবং রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বরের মাধ্যমে Result sheet download করতে পারবে। সেখানে থাকা ফলাফল অপশনে ক্লিক করে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে সাবমিট করলেই শিক্ষার্থীরা তার পুরো রেজাল্ট শিট দেখতে পাবেন।
এছাড়া SMS-এর মাধ্যমেও নিম্নোক্ত উপায়ে ফল সংগ্রহ করা যাবে: HSC Board name (first 3 letters) Roll Year টাইপ করে 16222 নম্বরে পাঠাতে হবে।
উদাহরণ: HSC Dha 123456 2024 লিখে 16222-তে পাঠাতে হবে।
এদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থীর ফলাফলের শিট পাবে, সেটাও জানিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে বলা হয়, স্ব স্ব শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে ঢুকে ইংরেজি অক্ষরে লেখা রেজাল্ট কর্নারে ক্লিক করতে হবে। সেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইআইআইএন নম্বর অ্যান্ট্রি করে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল শিট ডাউনলোড করা যাবে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার বলেন, ‘ঠিক বেলা ১১টায় সব বোর্ডের ওয়েবসাইটে ফল প্রকাশ করা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গেলেও শিক্ষার্থীরা ফল পাবেন। আর ১১টি বোর্ডের সমন্বিত যে ফল, তার সংক্ষিপ্তসার ঢাকা বোর্ড থেকে দেওয়া হবে। কোনো সংবাদ সম্মেলন বা ব্রিফিং করবো না আমরা। শুধু ফলাফলের সারসংক্ষেপটা আমরা সাংবাদিকদের দিয়ে দেবো।
গত ৩০ জুন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়। এতে পরীক্ষার্থী ছিলেন ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৭৯০ জন। প্রথম প্রকাশিত রুটিন অনুযায়ী—৮ দিন পরীক্ষা হওয়ার পর কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ১৮ জুলাইয়ের সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। এরপর তিন দফায় পরীক্ষা স্থগিত করে সরকার।
সূচি অনুযায়ী—মোট ৬১ বিষয়ের পরীক্ষা গ্রহণ বাকি ছিল। বিভিন্ন বিভাগের (বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য) বিভিন্ন বিষয় থাকায় এতগুলো পরীক্ষা স্থগিত এবং পরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে তা বাতিল করা হয়।
এতে কারও পাঁচ বিষয়, আবার কারও ছয় বিষয়ের পরীক্ষা বাতিল হয়েছে। সেগুলোতে এসএসসির ফলাফলের ভিত্তিতে গ্রেড পয়েন্ট নির্ধারণ করা হবে। আর যে বিষয়গুলোর পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেগুলোর খাতা মূল্যায়ন করে নম্বর ও গ্রেড পয়েন্ট নির্ধারণ হবে।
মন্তব্য করুন


গত ২৪ ফেব্রুয়ারি হতে ০৯ মার্চ ২০২৫ তারিখ পর্যন্ত বিলাইছড়ি উপজেলার অন্তর্গত দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় কুকি-চিন ন্যাশনাল আর্মির (কেএনএ) বিরুদ্ধে সফল অভিযান পরিচালনা করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। উক্ত অভিযানে সেনাবাহিনী কর্তৃক সার্বক্ষণিক নজরদারি ও সর্বত্র প্রভাব বিস্তারের ফলে কেএনএ সহ অন্যান্য সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো লোকালয় ত্যাগ করে। সেনাবাহিনী সফল অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের একাধিক অস্ত্রের অবস্থান, গুপ্তাশ্রয় ও আস্তানা চিহ্নিত ও ধ্বংস করে। এই অভিযানের ফলে কেএনএ ও অন্যান্য সন্ত্রাসী দলগুলো আরো কোনঠাসা হয়ে পড়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে স্থানীয় জনগণ। অভিযান শেষে সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ ও সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকায় স্ব স্ব ক্যাম্পে প্রত্যাবর্তন করেছে সেনাবাহিনীর টহল দল। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন


মার্কিন
অভিনেতা ও চিত্রনাট্যকার জেরেমি ও. হ্যারিসকে মাদকসহ জাপানের ওকিনাওয়ার নাহা আন্তর্জাতিক
বিমানবন্দর থেকে আটক করেছে দেশটির শুল্ক বিভাগ। গত ১৬ নভেম্বর যুক্তরাজ্য থেকে জাপানে
পৌঁছানোর পর কাস্টমস কর্মকর্তারা তার লাগেজ তল্লাশি করে মাদক পাওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার
করেন। বিষয়টি জাপানের ওকিনাওয়া আঞ্চলিক শুল্ক দপ্তরের এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন।
আন্তর্জাতিক
সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, জাপানের শুল্ক এজেন্টরা হ্যারিসের ব্যাগ থেকে
এক গ্রামের কম এমডিএমএ মাদক খুঁজে পান। মাদক বহনের অভিযোগে ৩৬ বছর বয়সি এ অভিনেতা প্রায়
তিন সপ্তাহ ধরে জাপানের পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।
জানা
গেছে, হ্যারিস ব্যক্তিগত কাজে জাপানে আসছিলেন। তিনি যুক্তরাজ্য থেকে যাত্রা শুরু করে
তাইওয়ানে যাত্রা বিরতি দিয়ে জাপানে পৌঁছান।
টমিগুসুকু
থানার একজন পুলিশ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, গ্রেপ্তারের পর থেকে হ্যারিসকে হেফাজতে
রাখা হয়েছে। তবে অভিনেতার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ স্বীকার করেছেন কি না, সে বিষয়ে কোনো
মন্তব্য করতে রাজি হয়নি এই পুলিশ। বৃহস্পতিবার শুল্ক কর্মকর্তারা অভিযোগ দায়ের করেছেন।
উন্নত
দেশগুলোর মধ্যে জাপানে মাদক আইন সবচেয়ে কঠোর। সামান্য পরিমাণ মাদক বহন বা পাচারের
অভিযোগে দীর্ঘদিন কারাদণ্ডসহ কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়। মাদকের প্রতি জিরো-টলারেন্স নীতির
কারণে অতীতেও অনেক বিদেশি নাগরিককে কারাগারে থাকতে হয়েছে।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর
কারওয়ান বাজার মোল্লাবাড়ী বস্তিতে আগুন লাগার ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস ২ জনের মরদেহ
উদ্ধার করেছে। এই ঘটনায় মা নাজমা (২৫) ও তার শিশুসন্তান নজরুল দগ্ধ হয়েছে।
শুক্রবার
(১২ জানুয়ারি) ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তর থেকে মিডিয়া হাউজের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম
দোলন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আনোয়ারুল
ইসলাম দোলন জানান, মোল্লা বাড়ির বস্তিতে আগুন লাগার ঘটনায় ২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা
হয়।
ঢাকা
মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ ইন্সপেক্টর বাচ্চু মিয়া জানান, কারওয়ান বাজারে লাগা
আগুনের ঘটনায় রাতে মা ও তার শিশু সন্তানকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য শেখ হাসিনা বার্ন
ইন্সটিটিউটে নিয়ে আসেন নাজমার স্বামী ওমর ফারুক।
নাজমার
স্বামী ওমর ফারুক জানান, তারা কারওয়ান বাজারের মাছবাজারে কাজ করতেন ও মোল্লাবাড়ি বস্তিতে
থাকতেন। তার ধারণা, প্রচণ্ড শীতের জন্য কেউ আগুন পোহানোর সময় এই অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে।
এদিকে
আহতদের বিষয়ে বাচ্চু মিয়া জানান, কারওয়ান বাজারে অগ্নিকাণ্ডে মা ও তার শিশুসন্তান
দগ্ধ হয়ে বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
শুক্রবার (১২ জানুয়ারি) দিনগত রাত ২টা ২৩ মিনিটে মোল্লাবাড়ি বস্তির অগ্নিকাণ্ডে ১৩ ইউনিট কাজ করে। পরে ৩টা ৪০ মিনিটে তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস।
মন্তব্য করুন


আসন্ন
জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা (এমএফএস) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের
কিছু লেনদেন সাময়িকভাবে সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ
সময় বিকাশ, রকেট, নগদসহ এমএফএসে একজন গ্রাহক দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা লেনদেন করতে
পারবেন, প্রতিটি লেনদেনের সীমা হবে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা।
বাংলাদেশ
ব্যাংকের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই সীমা কার্যকর থাকবে।
একই সময়ে ব্যাংকের অ্যাপস ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহার করে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি টাকা
স্থানান্তর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
সূত্র
জানায়, নির্বাচনে ভোটারদের প্রভাবিত করতে অর্থের অপব্যবহার ঠেকাতে নির্বাচন কমিশনের
চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) প্রস্তাবনা
দিয়েছে। প্রস্তাব বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী
সীমার অঙ্ক সামান্য পরিবর্তিত হতে পারে।
বর্তমানে
এমএফএস গ্রাহকেরা দিনে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা এবং মাসে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন
করতে পারেন। নির্বাচনকালীন সময়ে প্রস্তাব অনুযায়ী একজন গ্রাহক দিনে অন্য গ্রাহকের কাছে
সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পাঠাতে পারবেন এবং দিনে সর্বোচ্চ ১০টি লেনদেন করা যাবে—
যার সর্বোচ্চ সীমা ১ হাজার টাকা।
এদিকে
ব্যাংকের অ্যাপস ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবায় ব্যক্তি গ্রাহকেরা প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১০
লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন করতে পারেন। নির্বাচনকালীন সময়ে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি টাকা
স্থানান্তর বন্ধ রাখার প্রস্তাবটি বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে বলে সংশ্লিষ্ট
সূত্র জানিয়েছে।
বাংলাদেশ
ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের চাহিদার
পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ লেনদেন সীমিত করার বিষয়ে কাজ চলছে। এ বিষয়ে চলতি সপ্তাহে প্রজ্ঞাপন
জারি করা হবে।’
এ
ছাড়া নগদ টাকা জমা ও উত্তোলনের ওপর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো
হিসাবে এক দিনে এক বা একাধিক লেনদেনের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি নগদ জমা বা
উত্তোলন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে বিএফআইইউতে নগদ লেনদেনের প্রতিবেদন (সিটিআর) দাখিল
করতে হবে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সাপ্তাহিক ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন জমা
দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ
ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, সিটিআরে কোনো অস্বাভাবিকতা ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে
তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে। ব্যত্যয় হলে অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের বিধান অনুযায়ী
ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন


প্রধান
নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, দেশে কোনো পাতানো নির্বাচন
হবে না এবং রাজপথে নামারও দরকার হবে না।
আজ
বৃহস্পতিবার ( ০৮ জানুয়ারি ) সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন
(ইসি) ভবনে আপিল দায়ের কেন্দ্র পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ
কথা বলেন।
মনোনয়নপত্র
বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আপিল কর্তৃপক্ষ হিসেবে সর্বোচ্চ
ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে নির্বাচন কমিশন। রিটার্নিং কর্মকর্তা কোনো মনোনয়নপত্র গ্রহণ
বা বাতিল করলে, উভয় ক্ষেত্রেই সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আপিল করার সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন,
‘আমরা ইনসাফে বিশ্বাসী। আমরা ইনসাফ করব। শুনানি শেষে আপনারা দেখবেন, আইন ও বিধিবিধান
অনুযায়ী ন্যায়বিচার করা হয়েছে। আইন সবার জন্য সমান এবং সবাই তা মানতে বাধ্য।’
এক
প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, অতীতে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন সহিংসতা ও বোমাবাজির ঘটনা
ঘটত। কিন্তু এবার অত্যন্ত সুন্দর পরিবেশে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোনো সহিংসতার
খবর পাওয়া যায়নি। এটি একটি ভালো দিক। তিনি আরও জানান, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের
বিরুদ্ধে আপিলে প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
নির্বাচন
কমিশন এখন মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে উল্লেখ করে সিইসি বলেন, ‘দূর-দূরান্ত
থেকে মানুষ আপিল করতে আসছেন। এতে প্রমাণ হয়, নির্বাচনের প্রতি মানুষের আগ্রহ রয়েছে।
আমরা বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই দেখছি।’এদিকে, মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিলের
আদেশের বিরুদ্ধে আজ চতুর্থ দিনের মতো নির্বাচন কমিশনে আপিল দায়ের শুরু হয়েছে। ইসির
কর্মকর্তারা জানান, গত বুধবার নির্বাচন কমিশনে ১৩১টি আপিল দায়ের করা হয়। এতে গত তিন
দিনে মোট আপিলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯৫টি।
ইসির
কর্মকর্তারা আরও জানান, বুধবার দায়ের করা আপিলগুলোর মধ্যে খুলনা অঞ্চলে ১১টি, রাজশাহী
অঞ্চলে ১৫টি, রংপুর অঞ্চলে ৯টি, চট্টগ্রাম অঞ্চলে ১০টি, কুমিল্লা অঞ্চলে ১৯টি, ঢাকা
অঞ্চলে ৩১টি, ময়মনসিংহ অঞ্চলে ১৬টি, বরিশাল অঞ্চলে ৯টি এবং ফরিদপুর অঞ্চলের জেলাগুলো
থেকে ৭টি আপিল দায়ের করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনে ১২২টি আপিল দায়ের করা হয়।
সোমবার প্রথম দিনে মনোনয়নপত্র বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে ৪১টি এবং মনোনয়নপত্র গ্রহণের
বিরুদ্ধে একটি আপিল দায়ের করা হয়।
ইসি
সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ জানুয়ারি বাছাইয়ের শেষ দিনে জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনে জমা পড়া
মোট ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তা বা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা
১ হাজার ৮৪২টি মনোনয়নপত্র বৈধ এবং ৭২৩ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন। ইসির
নোটিশ অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার আদেশে সংক্ষুব্ধ কোনো প্রার্থী বা ব্যাংক বা আর্থিক
প্রতিষ্ঠান কিংবা সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি বিকেল
৫টার মধ্যে নির্বাচন কমিশন বরাবর আপিল করতে পারবেন। আপিলের ক্ষেত্রে মূল কাগজের ১ সেট
ও ৬ সেট ফটোকপি মেমোরেন্ডাম আকারে জমা দিতে হবে।
নির্বাচন
কমিশনে দায়ের করা আপিলগুলোর শুনানি আগামী ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিদিন সকাল
১০টা থেকে নির্বাচন ভবনের বেইজমেন্ট-২ এর অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে পারে। ফুল কমিশন
এ শুনানি গ্রহণ করবেন।
ইসির
তথ্য অনুযায়ী, ১০ জানুয়ারি ১ থেকে ৭০ নম্বর আপিলের শুনানি শুরু হবে। ১১ জানুয়ারি ৭১
থেকে ১৪০, ১২ জানুয়ারি ১৪১ থেকে ২১০, ১৩ জানুয়ারি ২১১ থেকে ২৮০, ১৪ জানুয়ারি ২৮১ থেকে
৩৫০, ১৫ জানুয়ারি ৩৫১ থেকে ৪২০, ১৬ জানুয়ারি ৪২১ থেকে ৪৯০, ১৭ জানুয়ারি ৪৯১ থেকে ৫৬০
এবং ১৮ জানুয়ারি ৫৬১ নম্বর থেকে অবশিষ্ট আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
শুনানি
শেষে আপিলের ফলাফল মনিটরে দেখানো হবে। একই সঙ্গে রায়ের পিডিএফ কপি ও আপিলের সিদ্ধান্ত
রিটার্নিং অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষের ই-মেইল ঠিকানায় পাঠানো হবে এবং নির্বাচন কমিশনের
ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। এছাড়া নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নির্বাচন ভবনের অভ্যর্থনা
ডেস্ক থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে রায়ের অনুলিপি বিতরণ করা হবে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি :
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় সৎ মাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে শাহিন মুন্সি (২৫) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। গতকাল বুধবার (২৯ অক্টোবর) রাত সোয়া ১১টার দিকে উপজেলার বাতাঘাসী ইউনিয়নের সব্দলপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। আজ বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত হালিমা খাতুন (৩৪) সব্দলপুর গ্রামের এমদাদুল হক মুন্সির দ্বিতীয় স্ত্রী। অভিযুক্ত শাহিন মুন্সি এমদাদুল হক মুন্সির চতুর্থ ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে প্রথম স্ত্রীর মৃত্যু হলে চার ছেলে ও তিন মেয়ের বাবা ৭৫ বছর বয়সী এমদাদুল হক মুন্সি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দুই মাস আগে তিনি দাউদকান্দির জয়নগর এলাকার হালিমা খাতুনকে বিয়ে করে ঘরে তোলেন। চার ছেলে সৌদিপ্রবাসী হলেও ছোট ছেলে শাহিন মুন্সি আট মাস আগে দেশে ফেরেন এবং বাড়িতেই থাকছিলেন।
এমদাদুল হক মুন্সি বলেন, ‘রাত ১১টার দিকে আমি শৌচাগারে যাই। ফিরে এসে দেখি স্ত্রী বিছানায় কাতরাচ্ছে, আর চারদিকে রক্ত ছড়িয়ে আছে। ডাকচিৎকার দিলে পরিবারের লোকজন ছুটে আসে। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে কুমিল্লা মেডিকেলে নিয়ে যাই। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
পুত্রবধূ শিরিনা আক্তার বলেন, ‘আমরা পাশের ঘরে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ শ্বশুরের চিৎকার শুনে ছুটে এসে দেখি, শাহিন ঘর থেকে বের হয়ে যাচ্ছে। আর সৎ শাশুড়ি রক্তাক্ত অবস্থায় বিছানায় পড়ে আছে।’
বাতাঘাসী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান সিরাজ জানান, এমদাদুলের দ্বিতীয় বিয়েকে পরিবার মেনে নিয়েছিল। কেন শাহিন এমন ঘটনা ঘটাল, তা কেউ বলতে পারছে না। ঘটনার পর থেকে শাহিন পলাতক।
চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম বলেন, ঢাকা থেকে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। নিহত নারীর স্বামী এমদাদ মুন্সি অভিযোগ করেছেন। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন


আসন্ন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে করার লক্ষ্যে বৈধ অস্ত্র
আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে নিকটস্থ থানায় জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
রোববার
(১৮ জানুয়ারি) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এতে সই করেন উপসচিব আবেদা আফসারী।
প্রজ্ঞাপনে
বলা হয়েছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালনার
লক্ষ্যে আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে নিকটস্থ থানায় বৈধ অস্ত্র সমর্পণ করতে হবে। এ ছাড়া
ঘোষিত তফসিল অনুসরণে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সধারীদের আগ্নেয়াস্ত্র
বহন ও প্রদর্শন সম্পূর্ণরুপে নিষিদ্ধ থাকবে।
তবে
রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের অনুকূলে ‘আগ্নেয়াস্ত্র
লাইসেন্স ও রিটেইনার নিয়োগ নীতিমালা, ২০২৫’ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনে বৈধভাবে মনোনয়নপত্র
দাখিল ও গৃহীত জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এবং তার সশস্ত্র রিটেইনারের ক্ষেত্রে বৈধ
অস্ত্র প্রদর্শন নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে না।
এতে
আরও বলা হয়েছে, এ আদেশ লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে দ্য আর্ম অ্যাক্ট ১৮৭৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারার
বিধান মোতাবেক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্দেশনা
বাস্তবায়নে দেশের সব পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ফায়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এক্সপোর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভবন অবকাঠামোতে শৃঙ্খলা আনতে নতুন করে নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ করার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইসাব সভাপতি নিয়াজ আলি চিশতি, বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন প্রমুখ।
নির্মাণে ত্রুটি ও বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের কারণে ভবনে আগুন লাগে জানিয়ে সালমান এফ রহমান বলেন, আগুন লাগার মূল কারণ বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট। যে ইলেকট্রিক ক্যাবল ব্যবহার করা হয় তার মান ভালো না, এই ক্যাবলের মান যেন ভালো হয় সেই ব্যবস্থা নিচ্ছি। এছাড়া অনেকগুলো ভবনের অবকাঠামো ভালো না। রানা প্লাজায় যে ঘটনা ঘটেছিলো, ভবনটা ধসে পড়ে। তার অবকাঠামোর পরিকল্পনা পাস করা হয় নাই। সেখানেও আমরা ব্যবস্থা করছি।
বিএসটিআইকে আরো শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, একটা প্রতিরোধমূলক অবকাঠামো করা প্রয়োজন। ঘটনা ঘটার আগে যেন আমরা তা প্রতিরোধ করতে পারি।
তিনি আরও বলেন, অগ্নি নির্বাপণের যন্ত্রপাতি আগে আমদানি করতে হতো। তবে ইসাব (ইলেকট্রনিক্স সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) জানিয়েছে এখন ফায়ার বল ও ক্যাবল দেশে তৈরি করছে। কিছুটা আমরা এক্সপোর্টও করছি। দেশে এই ধরনের পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। নতুন আইন করছি সেটা হলো বাংলাদেশ বিল্ডিং কোড। আইন অনুযায়ী রেগুলেটরি অথরেটি তৈরি হবে, সেটা এখনো হয় নাই। তবে তা তাড়াতাড়ি করার চেষ্টা করবো। এটা হয়ে গেলে প্রতিরোধমূলক কাজগুলো ওই রেগুলেটরি অথরিটির মাধ্যমে করবো।
ফায়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এক্সপোর আয়োজন করছে ইসাব। প্রদর্শনীতে বিশ্বের ৩০টি দেশের শতাধিক বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করবে, যারা তাদের ফায়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটির অত্যাধুনিক পণ্যগুলো প্রদর্শন করছে।
ইসাব সভাপতি নিয়াজ আলি চিশতি বলেন, দেশের অর্থনীতি যত বড় হচ্ছে অগ্নি ঝুঁকিসহ নিরাপত্তার বিষয়টি ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও টেকসই অবকাঠামো নির্মাণে অগ্নি নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম অগ্নি ঝুঁকি কমাতে নিম্নমানের পণ্য ব্যবহার না করার আহ্বান জানান।
বিজিএমইএ এ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, অগ্নি নিরাপত্তার সরঞ্জামগুলো দেশেই উৎপাদন করা সম্ভব। এ জন্য এ খাতে উদ্যোক্তার নীতি সহায়তা দেওয়া যেতে পারে।
মন্তব্য করুন