

মজিবুর রহমান পাবেল, কুমিল্লা:
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) শুরু হয়েছে বহুল প্রত্যাশিত আন্তঃবিভাগ ক্রিকেট প্রতিযোগিতা-২০২৫। বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের আয়োজনে বুধবার (৭ মে) সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিযোগিতাটির উদ্বোধন করেন মাননীয় ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সোলায়মান।
উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, "খেলোয়াড়দের
মধ্যে খেলোয়াড়সুলভ আচরণ এবং দর্শকদের মধ্যে সহিষ্ণুতা থাকা প্রয়োজন। কখনও কখনও এ জায়গায়
ব্যত্যয় দেখা যায়, তবে আমি আশা করি এবারের প্রতিযোগিতায় সব বিভাগ দায়িত্বশীলতা ও সৌহার্দ্য
বজায় রাখবে।" তিনি আরও বলেন, "হার-জিত খেলার অংশ, তাই তা মেনে নেওয়ার মানসিকতা
থাকতে হবে। আবহাওয়াজনিত কারণে কমিটির সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া উচিত। প্রতিটি বিভাগ যেন
প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও সুন্দর খেলা উপহার দেয়, সেই প্রত্যাশা রইল।"
তিনি আরও যোগ করেন, "এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে
আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অংশগ্রহণযোগ্য ভালো ক্রিকেটার উঠে আসবে। ব্যক্তিগত অনুশীলনের
পাশাপাশি দলীয় বোঝাপড়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যান্ডিংয়ে শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা রাখতে পারবে। ভবিষ্যতে আন্তঃহল প্রতিযোগিতা আয়োজনের দিকেও ক্রিয়া কমিটি সচেষ্ট
থাকবে।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়া কমিটির আহ্বায়ক ড. মুহাম্মদ সোহরাব উদ্দীন জানান, “নভেম্বরে কমিটি গঠনের পর থেকে কোনো খেলা বাদ যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাৎসরিক খেলাগুলো তিন মাসে সম্পন্ন করেছি। আশা করি, আন্তঃবিভাগ প্রতিযোগিতাটিও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে।”
প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোঃ আবদুল হাকিম বলেন,
“খেলায় হার-জিত থাকবেই। শিক্ষার্থীদের উচিত এই বাস্তবতাকে মেনে নেওয়া এবং আম্পায়ারের
সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানো। বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলাধুলার উদ্দেশ্য পূরণে সবাই যেন সচেষ্ট
থাকেন।”
প্রতিযোগিতার সর্বশেষ আপডেট বিশ্ববিদ্যালয়ের
নির্ধারিত ওয়েবসাইট ও অ্যাপের মাধ্যমে জানতে পারবেন শিক্ষার্থীরা।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায় ১২ কেজি গাঁজাসহ একজন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র্যাব-১১, সিপিসি-২।
আজ (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে র্যাব-১১, সিপিসি-২ এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানাধীন গোলাবাড়ি এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশু মোঃ হৃদয় (১৫) নামক একজন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে। এ সময় তার কাছ থেকে ১২ কেজি গাঁজা ও মাদক পরিবহন কাজে ব্যবহৃত একটি ভ্যান গাড়ি উদ্ধার করা হয়।
আটককৃত আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশু
মোঃ হৃদয় (১৫) কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানার টিক্কারচর গ্রামের মৃত জাকির হোসেন
এর ছেলে।
র্যাব জানান, সে দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার
সীমান্তবর্তী এলাকা হতে মাদকদ্রব্য গাঁজা সংগ্রহ করে কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে মাদক
ব্যবসায়ী ও মাদক সেবীদের নিকট পাইকারি ও খুচরা মূল্যে বিক্রয় করে আসছে। র্যাব-১১ এর
মাদক বিরোধী ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে উক্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়। মাদকের মতো
সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে র্যাব-১১ এর অভিযান অব্যাহত থাকবে। আটককৃত আইনের সহিত সংঘাতে
জড়িত শিশুর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
মন্তব্য করুন


তাপস চন্দ্র সরকার, কুমিল্লা।
"জয় জগন্নাথ... জয় জগন্নাথ..."—হাজারো কণ্ঠের একযোগে উচ্চারিত এই ধ্বনি, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি, ঘণ্টা-করতাল ও মহাহরিনাম সংকীর্তনের সুরে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) মুখর হয়ে ওঠে কুমিল্লা নগরী। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ভক্তি, আনন্দ আর সর্বজনীন সম্প্রীতির অপূর্ব মিলনে লাখো ভক্তের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় শ্রী শ্রী জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রাদেবীর পবিত্র উল্টো রথযাত্রা মহোৎসব। এর মধ্য দিয়েই সমাপ্তি ঘটে নয় দিনব্যাপী রথযাত্রা মহোৎসবের।
দুপুরের পর থেকেই নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও মন্দির প্রাঙ্গণে ভক্তদের ঢল নামে। ফুল, আলোকসজ্জা ও বর্ণিল সাজে সজ্জিত মন্দির এবং সুদৃশ্য রথ যেন এক অনন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি করে। ছোট-বড়, নারী-পুরুষ, তরুণ-বৃদ্ধ—সব বয়সের মানুষ ভক্তিভরে অংশ নেন এই মহোৎসবে। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি উৎসবটি পরিণত হয় সৌহার্দ্য, মানবতা ও সামাজিক সম্প্রীতির এক অনন্য মিলনমেলায়।
কুমিল্লার জগন্নাথপুর শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের মন্দির এবং ঠাকুরপাড়াস্থ শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ গৌর-নিতাই মন্দিরভিত্তিক আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন), কুমিল্লার যৌথ উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, পূজার্চনা, অগ্নিহোত্র যজ্ঞ, মহাহরিনাম সংকীর্তন, ধর্মসভা, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও মহাপ্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে এ মহোৎসব পালিত হয়।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, উল্টো রথযাত্রা উপলক্ষে নগরীর শ্রী শ্রী গুন্ডিচা মন্দিরে সকাল সাড়ে ৭টা থেকেই শুরু হয় পূজার্চনা, দর্শন-আরতি, বিশ্বশান্তি কামনায় অগ্নিহোত্র যজ্ঞ, ভজন-কীর্তন এবং মহাপ্রসাদ বিতরণ। কুমিল্লাসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে অসংখ্য ভক্ত ও দর্শনার্থী এতে অংশ নেন। অনেকেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে জগন্নাথদেবের দর্শন গ্রহণ করেন এবং মহাপ্রসাদ গ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের ধন্য মনে করেন।
দুপুরে অনুষ্ঠিত ধর্মসভায় ধর্মীয় গুরু, বিশিষ্টজন, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন সামাজিক-ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে আশীর্বাদক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন)-এর সিনিয়র সহ-সভাপতি শ্রী শ্রীমৎ ভক্তি অদ্বৈত নবদ্বীপ স্বামী মহারাজ। উদ্বোধন করেন ইসকনের সাধারণ সম্পাদক শ্রী শ্রীমৎ ভক্তিময় নিতাই স্বামী মহারাজ।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসূফ মোল্লা টিপু, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উৎবাতুল বারী আবু, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া, কুমিল্লা (দক্ষিণ) জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম প্রমুখ।
ধর্মসভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন জগন্নাথপুর শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের মন্দির ইসকন কুমিল্লার সহ-সভাপতি শ্রীমান ভদ্র নিমাই দাস ব্রহ্মচারী।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন- বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট কুমিল্লা মহানগর শাখার আহ্বায়ক শ্রী শ্যামলকৃষ্ণ সাহা। স্বাগত বক্তব্য দেন- মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক শ্রীমান রূপচন্দ্র শ্যাম দাস ব্রহ্মচারী। উদ্বোধনী শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ করেন শ্রীমান সদা শিব সিংহ দাস ব্রহ্মচারী এবং সভাপতিত্ব করেন শ্রীমান সুদর্শন জগন্নাথ দাস ব্রহ্মচারী।
ধর্মসভা শেষে শুরু হয় বহু প্রতীক্ষিত উল্টো রথযাত্রা। কীর্তনের তালে তালে হাজারো ভক্ত রথের রশি ধরেন। "হরে কৃষ্ণ, হরে রাম" এবং "জয় জগন্নাথ" ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে কুমিল্লার প্রধান সড়ক। করতাল, মৃদঙ্গ ও শঙ্খধ্বনির মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলে সুসজ্জিত রথ। দুই পাশে দাঁড়িয়ে হাজারো মানুষ এ দৃশ্য উপভোগ করেন। অনেকে মোবাইল ফোনে স্মরণীয় মুহূর্ত ধারণ করেন, আবার কেউ কেউ ভক্তিভরে রথকে প্রণাম জানান।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, রথের রশি স্পর্শ করা কিংবা রথ টানার সুযোগ পাওয়া পরম সৌভাগ্যের বিষয়। তাই নারী-পুরুষ, শিশু, যুবক ও প্রবীণ—সবাই গভীর শ্রদ্ধা ও ভক্তিভরে রথ টেনে নিজেদের সৌভাগ্যবান মনে করেন। অনেকের চোখেমুখে ফুটে ওঠে আবেগ, আনন্দ ও আধ্যাত্মিক প্রশান্তির অনন্য প্রকাশ।
শোভাযাত্রায় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কুমিল্লা জেলা, মহানগর ও আদর্শ সদর উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ উৎসবটিকে এক সর্বজনীন সম্প্রীতির বন্ধনে রূপ দেয়।
উল্টো রথযাত্রার ধর্মীয় তাৎপর্য সম্পর্কে বক্তারা বলেন, রথযাত্রার সময় শ্রী শ্রী জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রাদেবী মূল মন্দির থেকে গুন্ডিচা মন্দিরে গমন করেন। নির্ধারিত সময় শেষে উল্টো রথযাত্রার মাধ্যমে পুনরায় নিজ মন্দিরে প্রত্যাবর্তন করেন। এই প্রত্যাবর্তনই উল্টো রথযাত্রা হিসেবে উদযাপিত হয়। ভক্তদের বিশ্বাস, এই মহোৎসবে অংশগ্রহণ করলে ঈশ্বরের বিশেষ কৃপা লাভ হয় এবং ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে শান্তি, কল্যাণ ও সৌভাগ্য বয়ে আসে।
আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন), কুমিল্লার সভাপতি শ্রী সুকান্ত চক্রবর্তী (সুদর্শন জগন্নাথ দাস ব্রহ্মচারী) বলেন, "শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি ভক্তি, সম্প্রীতি, মানবকল্যাণ ও বিশ্বশান্তির এক অনন্য বার্তা বহন করে। সকলের অংশগ্রহণেই এই মহোৎসব আরও অর্থবহ হয়ে ওঠে।"
তিনি আরও বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের পারস্পরিক অংশগ্রহণই সম্প্রীতির বাংলাদেশ গঠনের অন্যতম শক্তি। রথযাত্রার মতো ধর্মীয় উৎসব সমাজে সহনশীলতা, সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধকে আরও সুদৃঢ় করে। তিনি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসব সফল করতে রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যমকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক এবং সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।
আয়োজকরা জানান, ভক্তদের নিরাপদ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন। ফলে পুরো মহোৎসব শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।
নয় দিনব্যাপী এই রথযাত্রা মহোৎসবজুড়ে পূজার্চনা, ধর্মসভা, মহাহরিনাম সংকীর্তন, ভজন-কীর্তন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং মহাপ্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে ভক্তদের মাঝে ধর্মীয় চেতনা, মানবসেবা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও বিশ্বশান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
দিনশেষে যখন জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রাদেবীর রথ পুনরায় নিজ মন্দিরে ফিরে আসে, তখন ভক্তদের কণ্ঠে আবারও ধ্বনিত হয়—"জয় জগন্নাথ"। প্রার্থনায় মুখরিত হয় চারদিক। হাজারো ভক্তের বিশ্বাস, এই পবিত্র প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়েই নতুন আশীর্বাদ, নতুন আশা এবং মানবকল্যাণের এক চিরন্তন বার্তা ছড়িয়ে পড়ে সমাজের সর্বস্তরে। কুমিল্লার এবারের উল্টো রথযাত্রা মহোৎসব তাই শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; এটি পরিণত হয়েছে ভক্তি, ঐতিহ্য, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধের এক অবিস্মরণীয় মহামিলনমেলায়।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায় ৮৪ কেজি গাঁজাসহ একজন মাদক
ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১,সিপিসি-২।
আজ সোমবার (২১ অক্টোবর) সকালে র্যাব-১১, সিপিসি-২ একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ মডেল থানাধীন পশ্চিম রাজাপাড়া এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে অভিনব কৌশলে মিনি পিকআপের পিছনে মাছ রাখার ড্রামের মধ্যে লুকিয়ে গাঁজা পরিবহণের সময় আসামী রাকিবুল হাসান নামের একজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। এ সময় আসামীর কাছ থেকে ৮৪ কেজি গাঁজা ও মাদক পরিবহণ কাজে ব্যবহৃত একটি মিনি পিকআপ উদ্ধার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামী রাকিবুল হাসান (২২) কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানার বাশমঙ্গল গ্রামের দুলাল মিয়া এর ছেলে।
র্যাব জানান, গ্রেফতারকৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানায় যে, সে দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকা হতে মাদক দ্রব্য গাঁজা সংগ্রহ করে কুমিল্লা সহ অন্যান্য জেলায় মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবীদের নিকট পাইকারি ও খুচরা মূল্যে বিক্রয় করে আসছে। এছাড়াও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়াতে সে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অভিনব কৌশল অবলম্বন করে মাদকদ্রব্য পরিবহণ করতো। র্যাব-১১ এর মাদক বিরোধী ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে উক্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়। মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে র্যাব-১১ এর অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
মন্তব্য করুন


ময়মনসিংয়ের এক তরুণীর সঙ্গে কুমিল্লার
নাঙ্গলকোটের আরিম নামে এক তরুণের ৬ মাস আগে রং নাম্বারে পরিচয় হয় । তারপর ঢাকায় বিয়ে
করে।
এরপর স্ত্রীকে নিয়ে আরিফ কুমিল্লার
নাঙ্গলকোটে তার গ্রামের বাড়িতে আসলে পরিবার এ বিয়ে মানতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে বাড়ি
থেকে বের হয়ে স্ত্রীকে রেলস্টেশনে রেখে পালিয়ে যায় স্বামী আরিফ। স্ত্রীর দাবি নিয়ে
সেই তরুণী এখন অনশন করছে স্বামীর বাড়িতে।
প্রেমিক আরিফ (২১) কুমিল্লার নাঙ্গলকোট
উপজেলার হেসাখাল ইউনিয়নের উরুকচাউল গ্রামের আবদুস ছাত্তারের ছেলে।
শুক্রবার দুপুরে ভুক্তভোগী তরুণী জানান,
৬ মাস আগে রং নম্বরে তাদের দুজনের পরিচয় হয়। এরপর তাদের দেখা হয়। তারপর প্রেম। আরিফের
সঙ্গে তার বাড়িতে যান তিনি। কিন্তু আরিফের বাবা তাদের দুজনকে বের করে দেয়। এরপর প্রেমিক
তাকে নিয়ে রেলস্টেশনে যায়। সেখানে রেখে পালিয়ে যায় আরিফ। পরে স্ত্রীর স্বীকৃতি চেয়ে
অনশনে বসেছেন তিনি। স্ত্রীর অধিকার না পাওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাবেন।
আরিফের মা সেলিনা বেগম জানান, মেয়েটি
যদি বিয়ের প্রমাণ দেখাতে পারে তাহলে স্ত্রী হিসেবে মেনে নেবেন তারা।
নাঙ্গলকোট থানার ওসি দেবাশীষ চৌধুরী
বলেন, স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে বিষয়টি শুনেছি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া
হবে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি;
হামের উপসর্গ নিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় মাস বয়সী আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) ভোরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ইউনিটে ওই শিশুর মৃত্যু হয়।
শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মিয়া মঞ্জুর আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত শিশু রাব্বি কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার গুড়গাঁও এলাকার কাউসার আহমেদের ছেলে। হামের উপসর্গ নিয়ে গত ৯ মে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।
এ নিয়ে কুমিল্লায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে সাতজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চারজন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।
শিশু বিভাগের প্রধান মিয়া মঞ্জুর আহমেদ জানান, বর্তমানে হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ইউনিটে ৬৯ জন শিশুরোগী ভর্তি রয়েছে।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত জেলায় মোট হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৫০০। এর মধ্যে ১০০ জন নিশ্চিতভাবে হাম রোগে আক্রান্ত বলে দপ্তরটি জানিয়েছে। জেলায় এ পর্যন্ত ১০৭৮ জন হাম ও উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৯৩৩ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১৪৫ জন।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার
লালমাই উপজেলায় এনায়েতুর রহমান ওরফে বাহার (৩৫) নামের এক যুবককে গলা কেটে হত্যার ঘটনা
ঘটেছে। একইসঙ্গে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রতিবেশী এক নারীকে আটক করা হয়েছে। এনায়েতুর
রহমান তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন বলে আত্মরক্ষার্থেই তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। শনিবার
(২৭ জুন) সকাল আটটার দিকে উপজেলার একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ
ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত এনায়েতুর রহমান ও প্রবাসী সুমন চৌধুরীর বাড়ি পাশাপাশি।
কয়েক বছর আগে দুই পরিবারের মধ্যে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি
হয়। প্রায় এক মাস আগে ছুটিতে দেশে এসে সুমন চৌধুরী তার স্ত্রীর প্রতি এনায়েতুর রহমানের
অসদাচরণের অভিযোগ তুলেছিলেন। তবে এনায়েতুর রহমান কিছুটা শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় স্থানীয়ভাবে
বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। চার দিন আগে সুমন আবার কর্মস্থলে চলে যান।
এ
বিষয়ে নিহত এনায়েতুর রহমানের মা নেহারা বেগম জানান, তার ছেলে শারীরিক প্রতিবন্ধী ছিলেন।
দুই হাতের কবজি ও আঙুল কার্যকর না থাকায় স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারতেন না।
এসময়
সকালে প্রতিবেশী নারী ঘরে ডেকে নিয়ে তার ছেলেকে গলা কেটে হত্যা করেছেন। এ ঘটনার সঙ্গে
জড়িত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান তিনি।
ওসি
বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
আটক নারী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেছেন, এনায়েতুর রহমান তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন।
আত্মরক্ষার্থেই তিনি তাকে হত্যা করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায়
সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জের ধরে এক প্রবাসীর পরিবারে হামলা চালিয়ে প্রবাসীর মা ফিরোজা
বেগমসহ কয়েকজনকে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার ধুড়িয়ারা গ্রামে
এ ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার
(২ ফেব্রুয়ারি) সকালে কুমিল্লা প্রেসক্লাবের হলরুমে সাংবাদিক সম্মেলন করে এমন অভিযোগ
করেন মির্জা জয়নাল আবদীন হিরণ ও ঘটনার খবর পেয়ে দেশে আসা তার দুই ভাই আবদুল্লাহ মাহবুব
ও রফিকুল ইসলাম।
ভুক্তভোগীরা
অভিযোগ করে বলেন, পার্শ্ববর্তী বাড়ির আজিজুর রহমান লিটনসহ পরিবারের লোকজনের সাথে প্রবাসীর
পরিবারের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এর জের ধরে তারা গত ২৮ জানুয়ারি প্রবাসীর পরিবারের
উপর হামলা চালায় এবং প্রবাসীর মাকে কোদাল দিয়ে চোখের উপরিভাগে গুরুতর আঘাত করে রক্তাক্ত
জখম করে। এদিন প্রবাসীর আহত মা ফিরোজা বেগমকে প্রথমে নাঙ্গলকোট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
ও পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
প্রতিপক্ষের
হামলা ও হুমকিতে প্রবাসীর পরিবারটি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় আছে বলে তারা জানান। প্রবাসী
আবদুল্লাহ মাহবুব জানান, হামলাকারীরা তার মাকে হত্যার চেষ্টা করলেও তারা এখন ঘটনাটি
ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে অপপ্রচার চালিয়ে হয়রানী
করছে।
নাঙ্গলকোট
থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেবাশীষ চৌধুরী জানান, দুইপক্ষের মারামারির
ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মন্তব্য করুন


গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিএনসি কুমিল্লার উপপরিচালক চৌধুরী ইমরুল হাসান এরঁ সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও উপপরিদর্শক তমাল মজুমদার এর নেতৃত্বে ৭ ফেব্রুয়ারি বুড়িচং থানাধীন নিমসার এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে হোমনাগামী একতা বাস তল্লাশি করে ১৬ কেজি গাঁজাসহ দুইজনকে আটক করা হয়।
আটককৃত আসামি মো: হোসেন মিয়া (২৯) কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী থানার শুভপুর গ্রামের নাছির মিয়ার ছেলে। অপর আসামী শারমিন আক্তার(২০) কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী থানার আড়াইওড়া গ্রামের জনি মিয়ার স্ত্রী।
আটককৃত আসামীরা প্রথমে ভুল তথ্য দিয়ে ডিএনসি টীমকে বিভ্রান্তি করার চেষ্টা করে। এরপর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা কথিত স্বামী স্ত্রী পরিচয় দিয়ে মাদক পাচার করছিলো। একপর্যায়ে প্রকৃত স্বামীকে মুখোমুখি করলে ঘটনার মূল রহস্য বেরিয়ে আসে। আটকৃত আসামি শারমিন তার স্বামীর অগোচরে মোবাইলের মাধ্যমে আসামি হোসেন মিয়ার সাথে বন্ধুত্ব সম্পর্ক গড়ে তোলে। কথিত স্বামী স্ত্রী পরিচয় দিয়ে আইন শৃংখলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে তার কৌশল হিসেবে লোকাল বাসে কুমিল্লা হতে গাঁজা নিয়ে প্রথমে দাউদকান্দি যাচ্ছিল। তারপর অন্যবাসে করে ঢাকা নিয়ে যেতো।
আসামীদের বিরুদ্ধে উপপরিদর্শক তমাল মজুমদার বাদী হয়ে বুড়িচং থানায় মামলা দায়ের করেন।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ছুরিসহ এক ছিনতাইকারীকে আটক করেছে হাইওয়ে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের বলদাখাল খিলাল ফ্যাক্টরীর সামনে থেকে মোটরসাইকেল গতিরোধ করে ছিনতাইকালে তাকে আটক করা হয়েছে।এ বিষয়ে দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ নুরুল আফসার জানান, ৩/৪ জন ছিনতাইকারী দেশীয় অস্ত্রের মুখে ছিনতাই করার সময় মোটরসাইকেল চালকের আত্ম চিৎকারে টহল পুলিশ ঘটনাস্থলে যান। এসময় এক ছিনতাইকারীকে আটক করা হয় এবং কয়েকজন পালিয়ে যায়।আটককৃত ছিনতাইকারী মোঃ আনন্দ (১৮) দাউদকান্দি উপজেলার দক্ষিণ সতানন্দী গ্রামের মোঃ আক্তার মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় দাউদকান্দি মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


বিচার বিভাগের মর্যাদা, ন্যায়বিচারের প্রতি অঙ্গীকার এবং আইনজীবীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয়ে কুমিল্লায় নবাগত বিজ্ঞ সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোঃ হেমায়েত উদ্দিন-কে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নিয়েছে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতি।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই ২০২৬) বিকেলে কুমিল্লা আইনজীবী সমিতি ভবনের দ্বিতীয় তলার ৭ নম্বর হলরুমে জেলা আইনজীবী সমিতির আয়োজনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। শুরু থেকেই অনুষ্ঠানস্থলে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। নবীন-প্রবীণ আইনজীবীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং আন্তরিক অভ্যর্থনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো মিলনায়তন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ সহিদ উল্লাহ। সঞ্চালনায় ছিলেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোঃ মাহাবুবুল হক খন্দকার, যিনি সুচারুভাবে পুরো অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই নবাগত সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোঃ হেমায়েত উদ্দিনকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে বরণ করে নেন জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ। এ সময় উপস্থিত আইনজীবীরা করতালির মাধ্যমে তাঁকে স্বাগত জানান এবং তাঁর নেতৃত্বে কুমিল্লার বিচার বিভাগ আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসান বলেন, বিচারক ও আইনজীবীরা একই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেন—ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে পারস্পরিক সম্মান, আন্তরিকতা ও পেশাগত সৌহার্দ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নবাগত জেলা জজের সফল দায়িত্বপালন কামনা করেন।
ওই অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন- সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোঃ মাহাবুবুল হক খন্দকার।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন- জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ইসমাইলসহ সমিতির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে নবাগত জেলা জজের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, কুমিল্লার বিচারাঙ্গন দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। নবাগত সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজের অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা ও কর্মদক্ষতা বিচার বিভাগের কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে বিচারক ও আইনজীবীদের পারস্পরিক সহযোগিতা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার অন্যতম ভিত্তি বলেও উল্লেখ করেন। তারা আরও বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমানো এবং বিচার ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করতে বিচারক ও আইনজীবীদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
সংবর্ধনার জবাবে নবাগত সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোঃ হেমায়েত উদ্দিন জেলা আইনজীবী সমিতির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা অটুট রাখতে সততা, নিষ্ঠা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনই তাঁর প্রধান অঙ্গীকার। আইনজীবীদের সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের মাধ্যমে কুমিল্লার বিচার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে জেলা আইনজীবী সমিতির নবীন ও প্রবীণ আইনজীবীরা ছাড়াও বিভিন্ন আদালতের বিচারক, সমিতির নেতৃবৃন্দ এবং বিচারাঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল সৌহার্দ্য, আন্তরিকতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের অনন্য এক পরিবেশ, যা কুমিল্লার বিচারাঙ্গনে নতুন কর্মউদ্দীপনা ও আশার বার্তা ছড়িয়ে দেয়।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ, ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় এবং স্মৃতিচারণমূলক আলোকচিত্র ধারণের মধ্য দিয়ে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। উপস্থিত আইনজীবীদের প্রত্যাশা, নবাগত সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজের বিচক্ষণ নেতৃত্বে কুমিল্লার বিচার ব্যবস্থা আরও গতিশীল, স্বচ্ছ, মানবিক এবং ন্যায়ভিত্তিক হয়ে উঠবে।
মন্তব্য করুন