

নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি;
মহান বিজয় দিবস ২০২৫ উপলক্ষে কুমিল্লায় অনুষ্ঠিত হয়েছে আনন্দঘন কুচকাওয়াজ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। আজ ১৬ ডিসেম্বর সকালে কুমিল্লা ভাষা সৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয় মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী বীর শহীদদের।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোঃ রেজা হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার মোঃ আনিসুজ্জামান, পিপিএম। এ সময় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।অনুষ্ঠানের শুরুতে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে বাংলাদেশ পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, কারারক্ষী, বিএনসিসি এবং রোভার স্কাউটের সদস্যরা মনোমুগ্ধকর কুচকাওয়াজ প্রদর্শন করেন। কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণকারীদের শৃঙ্খলা ও নৈপুণ্য দর্শকদের প্রশংসা কুড়ায়।
এ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা মহান বিজয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরেন এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। বক্তারা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করেই আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে কুচকাওয়াজে বিজয়ী পুলিশ সদস্যদের হাতে সম্মাননা ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। তাঁদের সাহসিকতা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়।
এছাড়াও বিজয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরতে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সঙ্গীত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল দেশপ্রেম ও স্বাধীনতার গৌরবময় চেতনার উচ্ছ্বাস।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান নতুন প্রজন্মের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও দেশপ্রেমের চেতনা আরও সুদৃঢ় করবে বলে মনে করেন আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীরা।
মন্তব্য করুন


প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা
প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন বৌদ্ধ ধর্মীয়
নেতৃবৃন্দের প্রতিনিধিদল।
আজ রোববার (৫ অক্টোবর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন
যমুনায় এ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসময় বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতারা প্রবারণা
পূর্ণিমার মাহাত্ম্য বর্ণনা করে প্রধান উপদেষ্টাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
তাঁরা প্রধান উপদেষ্টাকে বিহার পরিদর্শনেরও আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
এসময় রাজধানীর উত্তরায় বৌদ্ধদের শেষকৃত্যের জন্য
জায়গা বরাদ্দ করে দেওয়ায় প্রধান উপদেষ্টাকে বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বৌদ্ধ
নেতৃবৃন্দ।
বৌদ্ধ নেতৃবৃন্দরা বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন
সরকারকে বিষয়টি অবহিত করার পর ১০ দিনের মধ্যে শ্মশানের জন্য স্থান বরাদ্দ করে
দেওয়া হয়েছে। এটা ইতিহাসে অনন্য। ঢাকায় বৌদ্ধধর্মের কেউ মারা গেলে শেষকৃত্যের জন্য
বহু পথ পারি দিয়ে চট্টগ্রামে যেতে হতো। এখন মৃত্যুর পরে একটা জায়গা হলো।
বৈঠকে এ বছর কঠিন চীবর দান উদযাপনের প্রস্তুতি
সম্পর্কেও প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করা হয়েছে। এছাড়া সার্বক্ষণিক সহযোগিতার জন্য
ধর্ম মন্ত্রণালয় ও পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও
ধন্যবাদ জানিয়েছেন বৌদ্ধ নেতৃবৃন্দ।
পাশাপাশি, তীর্থযাত্রার জন্য সরকারি
ব্যবস্থাপনা, বৌদ্ধ পন্ডিত, ধর্মগুরু ও দার্শনিক অতীশ দীপঙ্করের নামে সরকারিভাবে
একটি জ্ঞানচর্চা কেন্দ্র গড়ে তোলাসহ বিভিন্ন দাবির বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত
করেন বৌদ্ধ নেতৃবৃন্দ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারের
অধ্যক্ষ বুদ্ধপ্রিয় মহাথের, বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ভিক্ষু
সুনন্দপ্রিয়, পার্বত্য ভিক্ষু সংঘের ভিক্ষু কল্যাণ জ্যোতি, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ
ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান ভবেশ চাকমা, বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতির ঢাকা অঞ্চলের সাধারণ
সম্পাদক স্বপন বড়ুয়া চৌধুরী, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব জয় দত্ত বড়ুয়া
এবং বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড.
সুকোমল বড়ুয়া, মং হলা চিং, সুশীল চন্দ্র বড়ুয়া, অধ্যাপক ববি বড়ুয়া, রুবেল বড়ুয়া ও
রাজীব কান্তি বড়ুয়া।
পাশাপাশি ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন ও
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত অবস্থা যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। যেসব প্রতিষ্ঠানে সীমানাপ্রাচীর নেই, দরজা-জানালা ভাঙা বা জরাজীর্ণ, কিংবা অল্প কিছু মেরামতের প্রয়োজন— সেসব প্রতিষ্ঠানের বিস্তারিত তথ্য দ্রুত চেয়েছে কমিশন।
বুধবার (৫ নভেম্বর) নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরীর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ২০ অক্টোবর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটকেন্দ্রের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখন সেই তালিকাভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যেগুলোর অবকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে, সেগুলোর তথ্য নির্ধারিত ফরমে পাঠাতে হবে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি জেলার সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার মাধ্যমে এসব তথ্য আগামী ১২ নভেম্বরের মধ্যে নির্বাচন সহায়তা-১ শাখায় পাঠাতে হবে। তথ্যগুলো হার্ড কপি এবং নিকস ফন্টে সফ্টকপি উভয় আকারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া একই দিনে ইসি আরেকটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে, যেসব ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা আছে, সেগুলোর বিস্তারিত তালিকাও দ্রুত পাঠাতে হবে। সংশ্লিষ্ট সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার ও জেলা নির্বাচন অফিসারদের একই সময়সীমার মধ্যে তালিকাগুলো জমা দিতে বলা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা, অবকাঠামোর মান ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সহজ হবে। তারা আরও বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও প্রযুক্তিনির্ভরভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে ইসি ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে।
মন্তব্য করুন


সুপ্রিম কোর্টের সাবেক রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. গোলাম রব্বানী আইন ও বিচার বিভাগের সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।
সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে বুধবার তাকে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
এ বিভাগের চলতি দায়িত্ব পালনের ১০ দিনের মাথায় তিনি পূর্ণ দায়িত্ব পেলেন।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একই বিভাগে তিনি যুগ্ম সচিব (প্রশাসন-১) পদে ছিলেন। এর আগে চট্টগ্রাম থেকে তাকে ঢাকায় বদলি করে আনা হয়। তিনি ৮ সেপ্টেম্বর থেকে চলতি দায়িত্বে ছিলেন।
সুপ্রিম কোর্টের সাবেক এই রেজিস্ট্রার জেনারেলকে দেড় মাস আগে জেলা ও দায়রা জজ করে পাঠানো হয়েছিল চট্টগ্রামে। সরকার পরিবর্তনের পর গত ১৩ অগাস্ট তাকে আবার আইন মন্ত্রণালয়ে ফিরিয়ে আনা হয়। তখন এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য তাকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হচ্ছে বলে আলোচনা ছিল।
এ বিভাগের আগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ারকে গত বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ওএসডি করা হয়েছিল।
বিভিন্ন জেলায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করা নতুন আইন সচিব গোলাম রব্বানী ২০২২ সালে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের দায়িত্বে ছিলেন। ২০১৫ সালে তৈরি করা সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের পদটি রাষ্ট্রের পদমর্যাদাক্রম অনুযায়ী জ্যেষ্ঠ সচিবের সমপর্যায়ের। এর আগে তিনি ছিলেন হাই কোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার, যে পদটি মর্যাদার দিক দিয়ে সচিব পর্যায়ের।
আগের সরকার এ বছর ১ জুলাই তাকে রেজিস্টার জেনারেল পদ থেকে সরিয়ে চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে বদলি করে। ক্ষমতার পালাবদলের পর গত ১৩ অগাস্ট তাকে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব করা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের ছাত্র গোলাম রব্বানী ১৯৯১ সালে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য হন। পরে জুডিশিয়াল সার্ভিসে নিয়োগ পেয়ে টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, গাজীপুর ও ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
জামালপুরের যুগ্ম জেলা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের আইন শাখায় দায়িত্ব পালন করা গোলাম রব্বানী ২০১৭ সালের ৩১ অক্টোবর হাই কোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পান।
মন্তব্য করুন


দুর্বৃত্তদের
গুলিতে আহত ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ
ওসমান বিন হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হচ্ছে।
আজ
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুর ২টার দিকে তাকে বহনকারী গালফস্ট্রিম জি-১০০ সিরিজের একটি
প্রাইভেট জেট (এয়ার অ্যাম্বুলেন্স) হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড়ে
গেছে।
প্রধান
উপদেষ্টার দপ্তর জানায়, সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি
বিভাগে হাদির চিকিৎসার সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তার উন্নত চিকিৎসার লক্ষ্যে সরকার
টানা দুদিন ধরে সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার বিভিন্ন হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ
করে।
এর
আগে রোববার এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের পরামর্শ এবং পরিবারের সদস্যদের
সঙ্গে আলোচনার পর বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করা হয়। পরবর্তীতে সংস্কৃতি উপদেষ্টা
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়–বিষয়ক
বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান, এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
ডা. জাফর এবং হাদির ভাই ওমর বিন হাদির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানোর
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা–৪
আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী মনোনয়ন ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি)
দেওয়া সিদ্ধান্তের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করেছেন। ১৭ জানুয়ারি আপিলে তাঁর
মনোনয়নপত্র বাতিল করে ইসি।
হাইকোর্টের
সংশ্লিষ্ট শাখায় সোমবার ( ১৯ জানুয়ারি ) রিটটি
দায়ের করা হয়। আগামীকাল এর ওপর শুনানি হতে পারে।
মঞ্জুরুল
আহসান মুন্সীর অন্যতম আইনজীবী হামিদুল মিসবাহ প্রথম আলোকে বলেন, ইসির ১৭ জানুয়ারির
সিদ্ধান্ত স্থগিত চাওয়া হয়েছে রিট আবেদনে।
এর
আগে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বৈধ
ঘোষণা করেছিলেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল করেছিলেন
এই আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি আপিলে অভিযোগ
করেছিলেন, বিএনপির প্রার্থী ঋণখেলাপি হওয়ার তথ্য গোপন করে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
আগারগাঁওয়ে
নির্বাচন ভবনের মিলনায়তনে শুনানি শেষে ১৭ জানুয়ারি হাসনাত আবদুল্লাহর আপিল মঞ্জুর করে
ইসি। এতে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র অবৈধ হয়।
রিট
আবেদনে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার
দেওয়া সিদ্ধান্ত বহাল চাওয়া হয়েছে বলে আবেদনকারী সংশ্লিষ্ট অপর এক আইনজীবী জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন


বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের
গুলিতে শহীদ হওয়া বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী শহীদ আবু
সাঈদের স্নাতক চূড়ান্ত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হয়েছে।
তিনি সিজিপিএ ৩.৩০ পেয়ে সম্মিলিত মেধাতালিকায়
১৪তম স্থান অধিকার করেছেন।
আজ রোববার (২০ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের
উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলীর অনুমোদনে ফলাফল প্রকাশিত হয়।
এসময় উপাচার্য বলেন, আমাদের মেধাবী
শিক্ষার্থী আবু সাঈদ আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু তার স্নাতক চূড়ান্ত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ
করা হয়েছে। ৬৯ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে আবু সাঈদ মেধাতালিকায় ১৪তম স্থান অধিকার করেছে।
এটি আমাদের ভালো লাগার বিষয়। কিন্তু তার অনুপস্থিতিতে আমরা শোকাহত। তার আত্মার মাগফিরাত
কামনা করি।
ফলাফল প্রকাশের সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের
রেজিস্ট্রারের দায়িত্বে থাকা প্রফেসর ড. মো. তাজুল ইসলাম, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের
ডিন প্রফেসর ড. মিজানুর রহমান, ছাত্র উপদেষ্টা ড. ইলিয়াছ হোসেন ও অতিরিক্ত পরীক্ষা
নিয়ন্ত্রক মো. ফিরোজুল ইসলাম।
আবু সাঈদের বন্ধুরা জানান, আবু সাঈদ
শিক্ষার্থী হিসেবে অনেক ভালো ছিলেন। আবু সাঈদ রেজাল্ট দেখলে কত খুশি হতেন। আবু সাঈদ
আজ নেই।
আবু সাঈদের বড় ভাই আবু হোসেন কান্নজড়িত
কণ্ঠে জানান, আমার ভাই প্রতিবছর ভালো রেজাল্ট করে। আজ আমার ভাই নাই। এ রেজাল্ট দিয়ে
কী করব?
মন্তব্য করুন


২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ
ঢাকা, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ (নিজস্ব প্রতিবেদক) : ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল এবং ডেন্টাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষার ফল আজ রোববার বিকেলে প্রকাশ করা হয়েছে। এ বছর ভর্তি পরীক্ষায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬৬.৫৭ শতাংশ।
ফলাফলে দেখা গেছে, ভর্তি পরীক্ষায় মোট ৮১,৬৪২ জন শিক্ষার্থী পাস করেছেন। এর মধ্যে পুরুষ পরীক্ষার্থী ৩১,১২৮ জন (৩৮.১৩ শতাংশ) এবং নারী পরীক্ষার্থী ৫০,৫১৪ জন (৬১.৮৭ শতাংশ)।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক রুবীনা ইয়াসমীন জানান, শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট www.dgme.gov.bd
, www.dghs.gov.bd
এবং result.dghs.gov.bd
থেকে ফলাফল পরীক্ষা করতে পারবেন। পরীক্ষার ফল দেখার জন্য প্রার্থীদের ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে সাবমিট বাটনে ক্লিক করতে হবে। ফলাফল ডাউনলোড বা স্ক্রিনশটের মাধ্যমে সংরক্ষণ করা সম্ভব। এছাড়া, মেধাতালিকাও পিডিএফ আকারে ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে।
২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় মোট ১,২০,৪৪০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে অনুপস্থিত ছিলেন ২,১৯২ জন। অংশগ্রহণের হার ছিল ৯৮.২১ শতাংশ।
মেধাতালিকা নির্ধারণ পদ্ধতি
মোট ১০০ নম্বরের ভিত্তিতে মেধাতালিকা নির্ধারিত হয়।
এসএসসির জিপিএ × ৮ = ৪০ নম্বর
এইচএসসির জিপিএ × ১২ = ৬০ নম্বর
লিখিত পরীক্ষার নম্বরের সঙ্গে এগুলোর যোগফলেই চূড়ান্ত মেধাতালিকা তৈরি হবে। ২০২৪ সালের পরীক্ষার্থীদের জন্য মোট নম্বর থেকে ৩ নম্বর কাটা হবে এবং পূর্ব শিক্ষাবর্ষে সরকারি মেডিকেল বা ডেন্টাল কলেজে ভর্তিকৃত প্রার্থীর ক্ষেত্রে ৫ নম্বর কাটা হবে।
আসন সংখ্যা
সরকারি মেডিকেল কলেজে মোট আসন ৫,৬৪৫টি (এমবিবিএস ৫,১০০, বিডিএস ৫৪৫)। বেসরকারি মেডিকেল কলেজে মোট আসন ৭,৪০৬টি (এমবিবিএস ৬,০০১, বিডিএস ১,৪০৫)। সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে মোট আসন সংখ্যা ১৩,০৫১টি, যার মধ্যে এমবিবিএস ১১,১০১ এবং বিডিএস ১,৯৫০। ভর্তি পরীক্ষায় আবেদনকারী এই বছর ছিলেন ১,২২,৬৩২ জন।
মন্তব্য করুন


সুইজারল্যান্ডের
ক্র্যানস-মন্টানা স্কি রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার সুইস কনফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট গি
পারমেলিনকে পাঠানো এক বার্তায় তিনি এই শোক প্রকাশ করেন।
শোকবার্তায়
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘সুইজারল্যান্ডের ক্র্যানস-মন্টানা স্কি রিসোর্টে সংঘটিত মর্মান্তিক
অগ্নিকাণ্ডে বহু মূল্যবান প্রাণহানির সংবাদে আমি গভীরভাবে শোকাহত।’
প্রধান
উপদেষ্টার প্রেস উইং শুক্রবার বিকেলে এ তথ্য জানায়।
শোকবার্তায়
তিনি আরও বলেন, ‘গভীর শোকের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি এবং
আপনার মাধ্যমে নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনসহ সুইস কনফেডারেশনের জনগণের প্রতি আন্তরিক
সমবেদনা জানাচ্ছি।’
নিহতদের
পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘এই গভীর বেদনা ও শোকের সময়ে
আমাদের চিন্তা ও প্রার্থনা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে রয়েছে। মহান আল্লাহ যেন নিহতদের
আত্মাকে শান্তি দান করেন এবং তাঁদের স্বজনদের এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি ও ধৈর্য
দান করেন।’
আহতদের
দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তিনি বলেন, ‘আহতদের দ্রুত আরোগ্য লাভের জন্য আমরা প্রার্থনা
করি।’
মন্তব্য করুন


সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি সংক্রান্ত নীতিমালা প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে উপসচিব মোসামৎ রহিমা আক্তার স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতকরণ ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বদলি নীতিমালা না থাকায় এবং বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান পরিপত্র ও অফিস আদেশ যুগোপযোগী করার উদ্দেশে এ নীতিমালা প্রণয়ন করা হলো।
নীতিমালার আওতা বিষয়ে বলা হয়েছে, শিক্ষার মাধ্যমিক স্তরের সরকারি শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে এ নীতিমালা প্রযোজ্য হবে। সরকার জনস্বার্থে যেকোনো সময় যেকোনো শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়ন করতে পারবে।
তবে বদলির সময়কাল প্রসঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতি শিক্ষাবর্ষে শুধুমাত্র অক্টোবর মাসে আগ্রহী শিক্ষকদের বদলির আবেদন করতে পারবেন। এ সময়সীমা ছাড়া অন্য কোনো সময়ে বদলির জন্য আবেদন করা যাবে না। তবে অনিবার্য পরিস্থিতিতে শুধু সিনিয়র সচিব বা সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ বরাবর আবেদন করা যাবে।
আবেদনের শর্ত বিষয়ে বলা হয়েছে, বর্তমান কর্মস্থলে চাকরির সময়সীমা তিনবছর পূর্ণ হতে হবে এবং বদলির উপযুক্ত কারণ থাকতে হবে। শিক্ষকদের বদলি হবে শুধুমাত্র অনলাইনে। বছরের আর অক্টোবর মাসে এ বদলি আবেদন নেওয়া হবে।
এছাড়া নতুন নীতিমালায় আরো জানানো হয়, সমতলের কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তাকে পার্বত্য অঞ্চল (রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি) এবং দূর্গম, চর ও হাওড় অঞ্চলে বদলি করা হলে বদলিকৃত কর্মস্থলে এক বছর চাকরির পর তিনি পুনরায় বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে তার আবেদন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
এতে বলা হয়, মহানগরী ও জেলা সদরে কর্মরত কোনো শিক্ষকের কর্মকাল একই প্রতিষ্ঠানে একাধারে ৬ বছরের বেশি হলে তাকে নিজ জেলায় অথবা পাশের জেলায় বদলি করা হবে। তবে তার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি বা অন্যকোনো অভিযোগ থাকলে তা প্রমাণিত হওয়া সাপেক্ষে যথাযথ কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণসহ তাকে বদলি করতে পারবে। বদলির ক্ষেত্রে আবেদনকারীর নিজ জেলা ও পার্শ্ববর্তী জেলায় পদায়নে গুরুত্ব দেওয়া, সহকারী শিক্ষকের শূন্যপদের বিপরীতে অন্য বিষয়ে শিক্ষক বদলি বা সহ পদায়ন করা হবে না।
এতে আরো বলা হয়েছে, অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী বিষয়ভিত্তিক সহকারী শিক্ষকের শূন্যপদের বিপরীতে অন্য বিষয়ের শিক্ষক বদলি বা পদায়ন করা যাবে না।
তবে অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে যাওয়ার একবছর আগে কোনো শিক্ষক বা কর্মচারী অবসরভাতা গ্রহণের সুবিধার্থে কোনো সুবিধাজনক কর্মস্থলে বদলির আবেদন করলে তার আবেদন সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে হবে।
মন্তব্য করুন


বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় পুলিশের গুলিতে
আহত রকিবুল সরদার (৩০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) ভোর ৬টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু
হয়।
নিহত রকিবুল মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার আলীনগর এলাকার দক্ষিণ কামাইপুর
গ্রামের কালু সরদারের ছেলে।
নিহতের পরিবার ও এলাকা সূত্রে জানা গেছে, রকিবুলের পরিবারে স্ত্রী,
২ মেয়ে, বাবা, ৩ ভাই ও ১ বোন রয়েছে। তিনি ঢাকার উত্তর বাড্ডায় একটি ফার্নিচারের দোকানে
কাজ করতেন। দরিদ্র পরিবারের মাত্র ভরসা ছিলেন তিনি। তার উপার্জনের ওপর নির্ভরশীল ছিল
পুরো পরিবার।
গত ২০ জুলাই বিকালে উত্তর বাড্ডা এলাকায় ছাত্র-জনতার একটি মিছিল বের
হলে আ. লীগের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পালটা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ মিছিল দেখতে বাসা থেকে রকিবুল
রাস্তায় বের হয়। এসময় দুই পক্ষের মিছিলের মাঝখানে পড়ে যান তিনি। তখন হঠাৎ পুলিশের একটি
ছোড়াগুলি রকিবুলের পেটের সামনে দিয়ে ঢুকে পিছন দিয়ে বের হয়ে যায়। মুহূর্তেই মাটিতে
লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল
কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। আজ মঙ্গলবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতের স্ত্রী শাবনুর বেগম বলেন, আমার স্বামীর ওপর নির্ভরশীল ছিল আমাদের
সংসার। এখন আমাদের সংসার কে চালাবে। আমাদের সব শেষ হয়ে গেল। একটি গুলিতে সব স্বপ্ন
আজ মিথ্যা হয়ে গেল। এখন আমরা কীভাবে বাঁচবো।
নিহতের মামা এইচ এম মশিউর রহমান বলেন, রকিবুল ঢাকায় সোপা কাপড় সেলাইয়ের
কাজ করে তার সংসার চালাতো। আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের ধাওয়া পালটা ধাওয়ার মধ্যে
থেকে একটি গুলি এসে লেগে রকিবুলকে শেষ করে দিল। তার সংসারে বাতি আজ নিভে গেল।
মন্তব্য করুন