

নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লায় চট্টগ্রাম মেইল ট্রেনের ধাক্কায় যাত্রীবাহী মামুন পরিবহনের ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। এ ঘটনার পর ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রামের রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
শনিবার (২১ মার্চ) রাত ৩টার দিকে জাঙ্গালিয়া কচুয়ায় পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড ফ্লাইওভারে নিচে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের পরিচয় জানা যায়নি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার উপপুলিশ পরিদর্শক জনি বড়ুয়া।
জনি বড়ুয়া জানান, রাতে জাঙ্গালিয়া কচুয়ায় চট্টগ্রাম মেইল ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কায় যাত্রীবাহী মামুন পরিবহনের বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ১২ জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাস্থলে সদর দক্ষিণ থানা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
এ বিষয়ে কুমিল্লা ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. ইদ্রিস জানান, যাত্রীবাহী মামুন পরিবহনের বাসটি গাইবান্ধা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ হয়ে নোয়াখালী যাচ্ছিল। রাতে বাসটি জাঙ্গালিয়া কচুয়ায় পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড ফ্লাইওভারে নিচে রেললাইন পার হওয়ার সময় চট্টগ্রাম থেকে আসা ঢাকামুখী চট্টগ্রাম মেইল ট্রেনের ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে যায়। নিহত ও আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তবে ধারণা করা হচ্ছে, দুই যানের অসতর্কতার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
মন্তব্য করুন


তাপস
চন্দ্র সরকার, কুমিল্লা:
আসছে ৩১ আগস্ট, ২০২৫ (রবিবার) শ্রীশ্রী
রাধাষ্টমী ব্রত।
জানা যায়- ভাদ্র মাসের শুক্লাষ্টমী
তিথি অর্থাৎ শ্রীকৃষ্ণের জন্মের পরবর্তী অষ্টমী তিথি হল ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গিনী
শ্রীরাধার পবিত্র জন্মতিথি। এই তিথি রাধাষ্টমী নামে পরিচিত। মথুরার বারসনা হল শ্রীরাধার
জন্মস্থান। এই পবিত্র তিথিতে রাজা বৃষভানু এবং তাঁর স্ত্রী কীর্তি স্বর্ণপদ্মের কোলে
এসেছিলেন শ্রীরাধা। পবিত্র রাধাষ্টমী পালন করলে মনোবাসনা পূরণ হয় বলে মনে করা হয়।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন,কুমিল্লা প্রতিনিধি:
২০২৪ সালের ৪ ও ৫ আগস্ট, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এ কুমিল্লার দেবীদ্বার পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। আওয়ামী লীগের সশস্ত্র কর্মী ও পুলিশের হামলায় নিহত হন পৌর সেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক বাদশা রুবেল (৪৩), স্কুলছাত্র আমিনুল ইসলাম সাব্বির (১৮) ও আব্দুস সামাদসহ মোট ১২ জন। আহত হন অর্ধশতাধিক, এদের মধ্যে স্কুলছাত্র আবুবকর মানসিক ভারসাম্য হারান।
৪ আগস্ট বানিয়াপাড়ায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন রুবেল। সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পরও তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তার স্ত্রী হ্যাপি আক্তার তখন ছিলেন ৯ মাসের অন্তঃসত্ত¦া। নিহতের এক মেয়ে ও পরবর্তীতে জন্ম নেওয়া এক ছেলে রয়েছে। রুবেল দেবীদ্বার পৌর এলাকার বারেরা গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। রুবেল পেশায় বাস টালক ছিলেন।
৫ আগস্ট থানা ঘেরাওয়ের সময় পুলিশের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হন সাব্বির। ৪০ দিন মৃত্যুর সাথে লড়ে ১৪ সেপ্টেম্বর মারা যান। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাব্বির পরিবার চালাতেন ভ্যান চালিয়ে। সিএনজি চালক আমিনুল ইসলাম ছাব্বির দেবীদ্বার পৌর এলাকার ভিংলাবাড়ি গ্রামের মৃত আলমগীর হোসেনের পুত্র। একই ঘটনার জেরে গুলিবিদ্ধ হন আব্দুস সামাদ। তিনি দীর্ঘ সাত মাস চিকিৎসা নিয়ে ৪ মার্চ ঢাকা জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে মারা যান।
আহত শিক্ষার্থী আবুবকর এখন মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে। তার পরিবার উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারের সহায়তা কামনা করছে।
দেবীদ্বারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ১২ শহীদের রক্তে লালিত গণআন্দোলন। সংগ্রামী ছাত্র জনতার আত্মত্যাগের করুণ ইতিহাস।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো কুমিল্লার দেবীদ্বারও জেগে উঠেছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে। কিন্তু সে জাগরণ থেমে গেছে গুলির আওয়াজে, রক্তাক্ত হয়েছে শহরের রাজপথ। এ পর্যন্ত দেবীদ্বার উপজেলার ১২ জন শহীদ গণআন্দোলনের অংশ নিয়ে শাহাদাৎ বরণ করেছেন। তাঁদের রক্তে লেখা হয়েছে আন্দোলনের করুণ ইতিহাস।
নিম্নে উল্লেখিত ৩ জন ছাড়া বাকী ৯ জনের শহীদদের নাম, পরিচয় ও শাহাদাতের সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো:
দেবীদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ ইউনিয়নের কাচিসাইর গ্রামের মো. সফিকুল ইসলাম সরকার’র পুত্র ফয়সাল সরকার (২৪)। সে ঢাকায় একটি পলিটেকনিক্যাল ইনিস্টিটিউটের শিক্ষার্থী ছিলেন। ১৯ জুলাই বিকেলে ঢাকা আব্দুল্লাহপুর এলাকায় পুলিশের গুলিতে ফয়সালের মাথার খুলি উড়ে যায়, পরে হসপিটালে চিকিৎসারত অবস্থায় মারা যান। তাকে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে ঢাকায় অজ্ঞাত স্থানে দাফন করা হয়।
উপজেলার বড়শালঘর গ্রামের মো. হানিফ মোল্লা’র পুত্র মো. সাগর মিয়া(১৯), তিনি পেশায় সবজি বিক্রেতা ছিলেন। ১৯ জুলাই ঢাকা মিরপুর ১০ নম্বরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন। ২০ জুলাই তার নিজ বাড়িতে দাফন করা হয়।
উপজেলার রাজামেহার ইউনিয়নের বেতুয়া গ্রামের মো. মানিক মিয়ার পুত্র মোঃ হোসাইন মিয়া (১০), সে পেশায় পপকর্ন বিক্রেতা ছিলেন। ২০ জুলাই বিকেলে চিটাগং রোডে তলপেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। ২২ জুলাই নিজ বাড়িতে দাফন সম্পন্ন করা হয়।
উপজেলার ভানী ইউনিয়নের সূর্যপুর গ্রামের মৃত: মোহাম্মদ আলীর পুত্র কাদির হোসেন সোহাগ (২২), তিনি পেশায় চাকরি জিবী(পাঠাও কুরিয়ার সার্ভিস)। ২০ জুলাই ঢাকা গোপীবাগে পুলিশের গুলিতে নিহত হন। ২২ জুলাই নিজ বাড়িতে দাফন সম্পন্ন করা হয়। উপজেলার ইউছুফপুর ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের মৃত শাহআলম সরকার’র পুত্র জহিরুল ইসলাম রাসেল। তিনি শিক্ষার্থী ছিলেন। ৪ আগস্ট ঢাকা গুলিস্তান এলাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত হন। ৬ আগস্ট নিজ বাড়িতে দাফন করা হয়।
উপজেলার ৪ নং সুবিল ইউনিয়নের ওয়াহেদপুর গ্রামের মোঃ ইদ্রিস মিয়ার পুত্র মোঃ রবিন মিয়া (৩৫)। পেশায় একজন ব্যবসায়ি ছিলেন। ৪ আগস্ট যাত্রাবাড়ি গুলিতে নিহত হন। ৬ আগস্ট নিজ বাড়িতে দাফন হয়।
উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের খয়রাবাদ গ্রামের ফজর আলীর পুত্র মোঃ রায়হান রাব্বি। তিনি শিক্ষার্থী ছিলেন। ৫ আগস্ট খিলগাঁও তালতলা মার্কেটে গুলিতে নিহত হন। ৬ আগস্ট নিজ বাড়িতে দাফন হয়। উপজেলার এলাহাবাদ গ্রামের মো. সফিকুল ইসলাম রানার পুত্র সাইফুল ইসলাম তন্ময়। উপজেলার রসুলপুর গ্রামের সৈয়দ আবুল কায়েসের ছেলে নাজমুল হাসান। ঢাকার মধ্য বাড্ডায় একটি প্রাইভেট হাসপাতালে চাকরি করতেন তিনি। গত ১৯ জুলাই দুপুরের বাড্ডা এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান তিনি। পরদিন মরদেহ মাদারীপুরে তার মামার বাড়িতে দাফন করা হয়।
মন্তব্য করুন


মজিবুর রহমান পাবেল, প্রতিবেদক:
১৫ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার বিকেলে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে গুরুত্বপূর্ণ মিটিং করেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক এমপি হাজী আমিন উর রশীদ ইয়াছিন।
এ সময় কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউছুফ মোল্লা টিপু , সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিউর রহমান রাজিব ও কুমিল্লার তরুণ বিএনপি নেতা নিজাম উদ্দিন কায়সার উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান হাজী ইয়াছিনকে বিএনপির ত্যাগী ও পরিক্ষিত নেতা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আপনার নেতৃত্বে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রত্যেক প্রার্থী যেন বিজয়ী হয় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান হাজী ইয়াছিনকে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার সব কয়টি সংসদীয় আসনের সমন্বয়ক হিসেবে মনোনয়ন প্রদান করেন। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী এ কথা নিশ্চিত করেন।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায় পৃথক অভিযানে ২৬ কেজি গাঁজা ও ১৪৯
বোতল ফেন্সিডিল’সহ ৪ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১, সিপিসি-২।
শনিবার (৮ জুন) রাতে র্যাব-১১, সিপিসি-২ একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ মডেল থানাধীন উত্তর রামপুর এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে আসামী ১। সবুজ খান (২৩), ২। সবুজ হাওলাদার (২৩) এবং ৩। মোঃ রাহাত খান (২০) নামক তিন জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। এ সময় আসামীদের কাছ থেকে ২০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
পৃথক অন্য একটি অভিযানে অদ্য ৮ জুন রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ মডেল থানাধীন উত্তর রামপুর এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে আসামী মোঃ হালিম শেখ (৪৮) নামক একজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। এ সময় আসামীর কাছ থেকে ৬ কেজি গাঁজা, ১৪৯ বোতল ফেন্সিডিল ও মাদক পরিবহণ কাজে ব্যবহৃত একটি কাভার্ড ভ্যান উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলো- ১। সবুজ খান (২৩) ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর থানার আরুয়া সোনারগাঁও গ্রামের বাবুল খান এর ছেলে, ২। সবুজ হাওলাদার (২৩) গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া থানার গচাপাড়া গ্রামের আলীম হাওলাদার এর ছেলে, ৩। মোঃ রাহাত খান (২০) ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া থানার উত্তর চড়াইল গ্রামের সোহরাব খান এর ছেলে এবং ৪। মোঃ হালিম শেখ (৪৮) নারায়নগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার পশ্চিম দেওভোগ গ্রামের মৃত মোঃ করিম শেখ এর ছেলে।
র্যাব জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকা হতে মাদক দ্রব্য সংগ্রহ করে ঝালকাঠি, নারায়নগঞ্জ, কুমিল্লা জেলায় মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবীদের নিকট পাইকারি ও খুচরা মূল্যে বিক্রয় করে আসছে। র্যাব-১১ এর মাদক বিরোধী ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে উক্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়। মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে র্যাব-১১ এর অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
মন্তব্য করুন


মজিবুর রহমান পাবেল, কুমিল্লা:
গাজীপুরে
জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত হাসনাত আবদুল্লাহর উপর হামলার
প্রতিবাদে কুমিল্লার দেবীদ্বারে বিক্ষোভ মিছিল করেছে উপজেলা এনসিপি ও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক
ছাত্রসংস।
রোববার রাত ৮ টায় দেবীদ্বার নিউ মার্কেট চত্তর থেকে বিক্ষোভ মিছিল টি বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে একই স্থানে এসে শেষ হয়।
বিক্ষোভ
মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বিক্ষোভ জাতীয় নাগরিক পার্টির উপজেলা নেতা নাজমুল হাসান নাহিদ, শামীম কাউসার, ফয়সাল
হোসেন, এমরান হোসেন, আবদুল্লাহ সামি, ফয়সাল মির্জা, জালাল হোসেন, জামাল হোসেন, শাহাদাত
হোসেন শ্যামল, বাংলাদেশ ছাত্র সংসদের নেতা রাকিবুল হাসান হৃদয়, মোক্তাদির জারিফ সিক্ত,
সাজেদুল রাফসান ও মোঃ হাসান আরও অনেকে।
বক্তারা হাসনাত আবদুল্লাহর উপর হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করে শাস্তির দাবী করেন।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা
সদর উপজেলার বিষ্ণপুর সীমান্তে হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে পাচারকালে নগদ ২৮ লক্ষ টাকা সহ
একজন পাচারকারীকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
বিজিবি’র কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০
বিজিবি) এর অধীন বিবিরবাজার বিওপি’র
আওতাধীন কটকবাজার পোস্টের একটি বিশেষ টহল দল গতকাল শুক্রবার (১৩ জুন ২০২৫) সন্ধ্যা
৬টা নাগাদ সীমান্ত এলাকার বিষ্ণপুর নামক স্থানে এ অভিযান পরিচালনা করে।
আটককৃত
ব্যক্তির হলেন- কুমিল্লা ব্রাহ্মণপাড়া থানাধীন তেতাভূমি গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে ফোরকান উদ্দিন (৩৫)
বিজিবি
সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত শূন্য রেখা থেকে প্রায় ১০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সন্দেহজনকভাবে
ঘোরাফেরা করার সময় ফোরকানকে আটক করা হয়। পরে তার দেহ ও সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে
উদ্ধার করা হয় ২৮ লক্ষ নগদ টাকা এবং দুটি মোবাইল ফোন।
বিজিবি
জানায়, আটক ব্যক্তি এ অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে পাচারের চেষ্টা করছিল। জব্দকৃত অর্থ
ও মালামালের মোট মূল্য ২৮ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা।
আটক
ফোরকান উদ্দিনকে নগদ টাকা ও জব্দকৃত আলামতসহ কুমিল্লা কোতয়ালী থানায় হস্তান্তর করা
হয়েছে।
বিজিবি
কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, সীমান্ত এলাকায় দেশের সার্বভৌমত্ব
রক্ষা ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবি নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
চোরাচালান ও হুন্ডি প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান চলমান থাকবে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লা–০৬ (সদর, সদর দক্ষিণ, সিটি কর্পোরেশন ও সেনানিবাস) আসনে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিনকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে টানা ১১ দিন ধরে মাঠে অবস্থান করছেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সকালে থেকে বিকাল পর্যন্ত নগরীর কান্দিরপাড়স্থ দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তারা আন্দোলনের একাদশ দিন পার করেন। দলীয় কার্যালয়ের সামনে সকাল থেকেই ভিড় জমতে থাকে বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের।
নেতাকর্মীরা জানান, ৩ নভেম্বর রাতে মহাসড়ক অবরোধের মধ্য দিয়ে এই আন্দোলনের সূচনা হয়। পরদিন ৪ নভেম্বর নগরীর কান্দিরপাড়সহ বিভিন্ন স্থানে মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তী দিনগুলোতে নারী সমর্থকদের সমাবেশ, গণ–ইফতার, দোয়া মাহফিল, সংবাদ সম্মেলন, তারুণ্যের সমাবেশ, গণস্বাক্ষর কর্মসূচি—সব মিলিয়ে টানা ১১ দিন ধরে একের পর এক কর্মসূচি পালন করে আসছেন তারা।
বৃহস্পতিবারের অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন মহানগর, সদর উপজেলা, সদর দক্ষিণ উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদল ও ছাত্রদলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।
অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও সাবেক মন্ত্রী আকবর হোসেনের সাবেক পিএস আমিনুল ইসলাম, আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা হাজী নাসির উদ্দিন, সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য হাজী শাহজাহান, মামুনুর রশিদ, জগন্নাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম মেম্বার, পাঁচথুবী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. কাইয়ূম, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম–আহ্বায়ক সালমান সাঈদ, মহানগর যুবদলের যুগ্ম–আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন, যুবদল নেতা মনছুর নিজামী, আরিফুর রহমান সুমন, আমড়াতলী ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মো. আলমগীর হোসেন, সদস্য সচিব শাহজাহান সাজু, মহানগর ছাত্রদল নেতা রবিন খাঁনসহ অনেকে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, হাজী ইয়াছিন শুধু রাজনীতিক নন, তিনি দলের সংকটে আশ্রয়দাতা হিসেবে পরিচিত। দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থেকে আইনি ও আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন, আন্দোলন-সংগঠনে রেখেছেন সক্রিয় ভূমিকা। অথচ এ আসনে এমন একজনের নাম আলোচনায় এসেছে, যিনি এলাকার রাজনীতি বা জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন—এতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
আমড়াতলী ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব শাহজাহান সাজু বলেন, আমরা যাঁর নেতৃত্বে রাজনীতি করি, যিনি হামলা-মামলার সময় আমাদের আশ্রয় দেন, সেই ইয়াছিন ভাইয়ের পরিবর্তে বাইরের কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হলে আমরা তা মেনে নেব না।
মহানগর যুবদল নেতা মনছুর নিজামী বলেন, কুমিল্লা–৬ আসনে বিএনপির রাজনীতির প্রাণকেন্দ্রে আছেন হাজী ইয়াছিন। তিনি দলের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ নেতা, যাঁকে বাদ দিয়ে এ আসনে কোনো গণভিত্তিক রাজনীতি করা সম্ভব নয়।
যুবদল নেতা আরিফুর রহমান সুমন বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের দাবি জানাচ্ছি। গণস্বাক্ষর, ইফতার, দোয়া মাহফিল—সবই তৃণমূলের বার্তা কেন্দ্রে পৌঁছে দিতে। দল যেন এই বার্তাকে সম্মান জানায়, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।
অবস্থান কর্মসূচি শেষে নেতাকর্মীরা ঘোষণা দেন—তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন


মজিবুর রহমান পাবেল, কুমিল্লা:
৪৩ তম জাতীয় ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশীপের গ্রুপ পর্বের শেষ খেলায় মাগুরা জেলা ক্রিকেট দলকে ৬ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে কুমিল্লা জেলা ক্রিকেট দল। এর আগে ২০০৩ সালে বাংলাদেশ বিমানের সাথে ফাইনালে রানার্সআপ হয় কুমিল্লা। আগামী ৪মে রোববার কক্সবাজার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ফাইনাল ম্যাচে কিশোরগঞ্জ জেলা দলের মুখোমুখি হবে কুমিল্লা।
আজ
বৃহস্পতিবার কক্সবাজার স্টেডিয়ামে টসে হেরে ফিল্ডিং পাওয়া কুমিল্লা জেলা দলের দুই স্পিনার ইয়াসির আরাফাত এবং আশরাফুল হাসান রোহান এর ঘূর্ণি যাদুতে মাগুরা জেলা ক্রিকেট দল মাত্র ৩৮.২ ওভারে অলআউট হয়ে যায়। মাগুরা জেলা দলের আসলাম, মোহাইমিন এবং তালহা যথাক্রমে ১৯,১৮ এবং ১৭ রান করেন। ইয়াসির আরাফাত ৫০ রানে ৫ উইকেট এবং রোহান ৩৮ রানে ৪ উইকেট লাভ করেন।অপর উইকেটটি নেন পেসার সবুজ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে কুমিল্লা জেলা দল ৩৪.৪ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। দলের ওপেনার ইরফান তাকরির অপরাজিত ৮০ রান করেন। অপর ব্যাটসম্যানের মধ্যে রুবেল মিয়া ২৮ আবুবকর, ১৪ রান করেন।
কুমিল্লা জেলা ক্রিকেট দলের ম্যানেজার ফখরুল আলম উল্লাস এবং কোচ মানিক কুমার দাস ২২বছর পর ফাইনালে উঠার সুযোগ পাওয়ায় ক্রিকেটারদের অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং ফাইনালে ভাল করার জন্য সকলের নিকট দোয়া চেয়েছেন।
মন্তব্য করুন


নিজস্ব প্রতিবেদক।।
আইন পেশায় সফলতার নয় বছর অতিক্রম করে দশম বর্ষে পদার্পণ করেছেন অ্যাডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার। কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সুপরিচিত এই সদস্য দীর্ঘদিন ধরে আইনজীবী হিসেবে যেমন সুনাম অর্জন করেছেন, তেমনি গণমাধ্যমকর্মী হিসেবেও তিনি একজন পরিচিত ও সম্মানিত মুখ।
চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলার খাদেরগাঁও ইউনিয়নস্থিত লামচরী গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেয়া তাপস চন্দ্র সরকার ছোটবেলা থেকেই ছিলেন মেধাবী ও চঞ্চল। ২০১৬ সালের ১৪ মে বার কাউন্সিলের সনদ পাওয়ার পর ৯ জুন কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতিতে যোগ দিয়ে পেশাগত জীবনে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। তবে তার পথচলার শুরু আরও আগেই ২০০০ সাল থেকে সাংবাদিকতা ও সিনিয়র আইনজীবীদের সহকারী হিসেবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা অর্জন করে গড়ে তুলেছেন নিজেকে একজন দক্ষ আইনজীবী হিসেবে। তাঁর পিতা নিখিল চন্দ্র সরকার ছিলেন একজন আইনজীবী সহকারী। বাবার প্রেরণাতেই ছেলেবেলা থেকে কালো কোর্টের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয় তাপসের। দুঃখের বিষয়, বাবার মৃত্যুর কারণে তিনি ছেলেকে আইনজীবী হিসেবে দেখে যেতে পারেননি। তবে পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পর তাপস চন্দ্র সরকার তার পেশাগত জীবনে সততা, নিষ্ঠা ও মানবসেবাকে রেখেছেন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে।
অ্যাড. তাপস চন্দ্র সরকার বলেন, “যারা শর্টকাট পথে বিশ্বাসী, তাদের জন্য এই পেশা নয়। কঠোর পরিশ্রম ও ধৈর্য আর মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিয়ে এগোলে আইনজীবী হিসেবে সফল হওয়া সম্ভব।” তিনি আরও বলেন, “সেবা দেওয়ার মনোভাব থাকলে এই পেশা অনেক বড় কিছু। এখানে টাকা নয়, আগে দরকার নিষ্ঠা ও প্রতিশ্রুতি।”
আইনজীবী হওয়ার পাশাপাশি তিনি কুমিল্লা ভিত্তিক পাক্ষিক ‘বিবর্তন’ পত্রিকার মাধ্যমে সাংবাদিকতা শুরু করেন এবং পরে ‘দৈনিক আমাদের কুমিল্লা’য় এক যুগেরও বেশি সময় স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কাজ করেন। তাঁর লেখা সংবাদ ও প্রতিবেদন স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
তাঁর স্ত্রী রিতা রানী মজুমদার কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার কেরণখাল ইউনিয়নের ডুমুরিয়া মজুমদার বাড়ির সন্তান। তাঁদের একটি কন্যা ও একটি পুত্র রয়েছে। পরিবার নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লা মহানগরীর কালিয়াজুরী এলাকায় বসবাস করছেন।
অ্যাড. তাপস চন্দ্র সরকার শুধু আইন ও সাংবাদিকতা নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও সক্রিয়। নিজেকে তিনি সবসময় একজন সেবক হিসেবে দেখতে চান। তাঁর বিশ্বাস, “মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারাটাই প্রকৃত মানবতা।”
মন্তব্য করুন


ইবনে তাইমিয়া স্কুল এন্ড কলেজের প্রাক্তন
ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে গ্র্যান্ড রিইউনিয়ন ২০২৫ এর রেজিষ্ট্রেশনের কার্যক্রমের উদ্বোধন
করা হয়েছে।
রবিবার বিকেলে প্রতিষ্ঠানের হল রুমে
শিক্ষক, শিক্ষিকা ও ৩৭টি ব্যাচের (১৯৮৮-২০২৪) তাইমিয়ান্স মডারেটর ও ছাত্র-ছাত্রীদের
উপস্থিতিতে এ কার্যক্রম শুরু হয়।
আগামী ১০ জানুয়ারী ২০২৫ এ কুমিল্লা
শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে এই রিইউনিয়ন আয়োজনের লক্ষ্যে রেজিষ্ট্রেশন চলবে
আগামী ৩০ নভেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত।
বাকী বিল্লাহ’র সঞ্চালনায় তাইমিয়ান্স গ্রুপের এডমিন
আলমগীর এইচ রিপনের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে বক্তব্য রাখেন ইবনে
তাইমিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মু. শফিকুল আলম হেলাল, প্রাক্তন শিক্ষক মোঃ মোছলেহ উদ্দিন, তাইমিয়ান্স
বদরুল ইসলাম খান, ইশতিয়াক শাহীন, ও মাজহারুল হক। এছাড়া বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষকদের
মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আমিনুল ইসলাম, ইউনুস সরকার, কামারুজ্জামান, ইসরাফিল, মাওলানা মোছলেহ
উদ্দিন, কামাল হোসেন, আমাতুস সালাম শিরিন, হাজেরা বেগম, উম্মে হাবিবা, এবং রাবেয়া আক্তার।
বক্তারা বলেন, ইবনে তাইমিয়া স্কুল এন্ড
কলেজের ৩৭ টি ব্যাচের তাইমিয়ান্সদের অংশগ্রহনে গ্র্যান্ড রি-ইউনিয়নের মাধ্যমে প্রাক্তন
শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগের সেতুবন্ধন তৈরি হবে। এতে স্বনামধন্য এই প্রতিষ্ঠানের
ইতিহাস-ঐতিহ্য দেশ বিদেশে ছড়িয়ে পড়বে। দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে উপস্থিত
তাইমিয়ান্স সদস্য ও মডারেটরগণ একটি সফল অনুষ্ঠান আয়োজনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। রেজিষ্ট্রেশন
ওয়েবসাইট এবং মোড়ক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে অনুস্থানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
মন্তব্য করুন