

নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি :
কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের আরপি চেকপোস্টে দায়িত্ব পালনরত এক মহিলারক্ষীর সতর্কতা, দায়িত্বশীলতা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে এক নারী দর্শনার্থীর দেহ তল্লাশি করে গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।মঙ্গলবার সন্দেহভাজন ওই নারী কারাগারে বন্দির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসেন বলে জানা গেছে।
দেহ তল্লাশির সময় তার কাছ থেকে অবৈধ মাদকদ্রব্য গাঁজা উদ্ধার হওয়ার পর ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। আদালত অভিযুক্ত নারীকে ১৫ দিন বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা জরিমানা প্রদান করেন।
কারাগার সূত্র জানায়, কারাগারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সর্বদা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। একই সঙ্গে অবৈধ দ্রব্য পাচার বা বহনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে কারা কর্তৃপক্ষ।
কারা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শৃঙ্খলা রক্ষা ও আইন প্রয়োগে তারা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে এবং ভবিষ্যতেও কারাগারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
কারা কর্তৃপক্ষ সাধারণ জনগণকে আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিরাপদ সমাজ গড়তে সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।
মন্তব্য করুন


জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্র সংস্কারে দলের
প্রস্তাব প্রকাশ করেছেন। দলটি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য
রাখা, পুলিশের জন্য স্বাধীন কমিশন গড়ে তোলাসহ বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছে। এ সময় রাষ্ট্র
সংস্কারে সেক্টর অনুযায়ী আলাদা আলাদা ১০টি প্রস্তাবনা তুলে ধরেছে দলটি।
বুধবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে হোটেল ওয়েস্টিনে আয়োজিত 'রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাবনা' শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রস্তাব তুলে ধরেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের।
এর আগে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন,
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অবদানের
কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি। নিহত এবং আহতদের জন্য দোয়া কামনা করেন। অনুষ্ঠান
পরিচালনা করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সম্পাদক মতিউর রহমান
আকন্দ।
জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে, এই ১০ প্রস্তাব শুধুমাত্র অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য। নির্বাচিত কোনো সরকারের জন্য নয়।
এই সরকারের কাছে তাদের মোট ৪১টি প্রস্তাব
আছে, যার মধ্যে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব গণমাধ্যমে তুলে ধরা হয়।
জামায়াতের
সংস্কারের প্রস্তাবগুলো হলো--
১.
আইন ও বিচার
● উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগের জন্য
সুষ্ঠু ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
● বিচার বিভাগ থেকে দ্বৈত শাসন দূর
করতে হবে।
● বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে
পৃথকীকরণের কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
● আইন মন্ত্রণালয় থেকে আলাদা করে সুপ্রিম
কোর্টের অধীনে পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
● ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার স্বার্থে
বিদ্যমান আইনসমূহের প্রয়োজনীয় সংশোধনী ও গণমানুষের মূল্যবোধের সাথে সামঞ্জস্যশীল আইন
প্রণয়ন করতে হবে।
● ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩’ওসকল কালো আইন বাতিল করতে হবে।
● বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা কমাতে বিভাগীয়
পর্যায়ে হাইকোর্ট বেঞ্চ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
● নিম্ন আদালতের যথাযথ স্বাধীনতা নিশ্চিত
করার জন্য পৃথক বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন করতে হবে।
● সকল ফৌজদারি মামলা তদন্তের জন্য স্বাধীন
তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।
● দেওয়ানি মামলার জন্য সর্বোচ্চ ৫
বছর এবং ফৌজদারি মামলাসমূহ সর্বোচ্চ ৩ বছরের মধ্যে নিষ্পত্তি করার বিধান করতে হবে।
২.
সংসদ বিষয়ক সংস্কার
● সংসদের প্রধান বিরোধীদল থেকে একজন
ডেপুটি স্পিকার মনোনীত করতে হবে।
● সংসদীয় বিরোধী দলীয় নেতার নেতৃত্বে
ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
● সংসদে বিরোধী দলীয় সদস্যদের পর্যাপ্ত
সময় দিতে হবে।
৩. নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার
● জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক
ব্যবস্থা (Proportional Representation-PR) চালু করতে হবে।
● সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত
করার লক্ষ্যে কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে স্থায়ীভাবে সন্নিবেশিত করতে হবে।
● নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার
জন্য বিভিন্ন দেশে প্রত্যাখ্যাত ইভিএম ভোটিং ব্যবস্থা বাতিল করতে হবে।
● কোনো সরকারি চাকরিজীবী তাদের চাকরি
ছাড়ার কমপক্ষে ৩ বছরের মধ্যে কোনো ধরনের নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।
● স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে
সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করতে হবে।
● অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার
জন্য সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক ২০০৮ সালে প্রবর্তিত রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন প্রথা বাতিল
করতে হবে।
● নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য কমিশনার
নিয়োগের জন্য প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা ও প্রধান বিচারপতির সমন্বয়ে সার্চ কমিটি
গঠিত হবে।
● জাতীয় সংসদ নির্বাচন একাধিক দিনে
অনুষ্ঠিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
● ঘওউ- ব্যবস্থাপনা নির্বাচন কমিশনের
অধীনে আনতে হবে।
৪. আইনশৃঙ্খলা সংস্কার
ক) পুলিশ বাহিনীর সংস্কার
● ১৮৬১ সালে ব্রিটিশ সরকার প্রণীত পুলিশ
আইন পরিবর্তন এবং পুলিশের জন্য একটি পলিসি গাইডলাইন তৈরি করতে হবে।
● পুলিশ সদস্যদের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি
এবং চাকরিচ্যুতির জন্য স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠন করতে হবে।
● নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি এবং চাকরিচ্যুতির
ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক ব্যক্তির সুপারিশের সুযোগ রাখা যাবে না তথা সর্বপ্রকার
দলীয় ও ব্যক্তিগত প্রভাব বা হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।
● পুলিশ ট্রেনিং ম্যানুয়ালের মধ্যে
ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিক অনুশাসন অন্তর্ভুক্ত
করতে হবে।
● পুলিশের মধ্যে মারণাস্ত্রের ব্যবহার
বাতিল করতে হবে।
● রিমান্ড চলাকালে জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে
আসামি পক্ষের আইনজীবীর উপস্থিতি এবং মহিলা আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাদের অভিভাবকের
উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।
● বিচার বিভাগীয় সদস্যদের দ্বারা পুলিশ
ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান থাকতে হবে।
● পুলিশের ডিউটি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা
উন্নত করতে হবে।
● ‘পুলিশ আইন’ পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জনের
মাধ্যমে আধুনিকায়ন করতে হবে।
খ)
র্যাব বিষয়ক সংস্কার
● র্যাব ও অন্যান্য বিশেষায়িত বাহিনীর
প্রতি জনসাধারণের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে।
● গত সাড়ে ১৫ বছর যারা র্যাবে কাজ
করেছে তাদেরকে স্ব স্ব বাহিনীতে ফিরিয়ে আনতে হবে এবং তাদেরকে পুনরায় র্যাবে নিয়োগ
দেয়া যাবে না।
● বিচারবহির্ভূত সকল প্রকার হত্যাকাণ্ড-
বন্ধ করতে হবে।
● র্যাবের সামগ্রিক কার্যক্রম মনিটরিং-এর
জন্য সেল গঠন করতে হবে। কোনো র্যাব সদস্য আইনবহির্ভূত কোনো কাজে জড়িত হলে এই সেল তার
বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করবে।
● মিডিয়ার ক্ষেত্রে নীতিমালা প্রণয়ন
ও অনুসরণ নিশ্চিত করতে হবে।
৫. জনপ্রশাসন সংস্কার
● জনবল নিয়োগ, বদলি, পদায়নে তদবির,
সুপারিশ ও দলীয় আনুগত্যের পরিবর্তে যোগ্যতা, দক্ষতা ও সততাকে প্রাধান্য দিতে হবে।
● যে কোনো চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি থেকে
শুরু করে নিয়োগ পর্যন্ত সময়ক্ষেপণ না করে যৌক্তিক সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।
● সরকারি চাকরিতে আবেদন বিনামূল্যে
করতে হবে।
● চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা আগামী ২
বছরের জন্য ৩৫ বছর ও পরবর্তী বয়সসীমা স্থায়ীভাবে ৩৩ বছর এবং অবসরের বয়সসীমা ৬২ বছর
নির্ধারণ করতে হবে।
● চাকরির আবেদনে সকল ক্ষেত্রে বয়সসীমার
বৈষম্য নিরসন করতে হবে।
● সকল সরকারি দপ্তরে দুর্নীতি নিরোধকল্পে
বিশেষ ব্যবস্থা তৈরি করা যাতে করে কেউ দুর্নীতি করার সুযোগ না পায়। এ জন্য প্রয়োজনীয়
মনিটরিং-এর ব্যবস্থা করতে হবে।
● চাকরিতে বিরাজমান আন্তঃক্যাডার বৈষম্য
দূর করতে হবে।
● বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে সরকারি
চাকরিতে যারা প্রশ্নপত্র ফাঁস, দুর্নীতি, জালিয়াতি ও দলীয় বিবেচনায় চাকরি পেয়েছে তাদের
নিয়োগ বাতিল করতে হবে।
৬.
দুর্নীতি
● দুর্নীতি দমন কমিশনে পরীক্ষিত সৎ,
ন্যায়পরায়ণ, দক্ষ ও যোগ্য লোক নিয়োগ দিতে হবে।
● রাষ্ট্রের সকল সেক্টরে জবাবদিহিতা
নিশ্চিত করতে হবে।
● দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী করে
নিরপেক্ষভাবে কাজ করার স্বাধীনতা দিতে হবে।
● বিগত সরকারের আমলে দেশ থেকে পাচারকৃত
অর্থ ফেরত আনার উপযুক্ত বিধান প্রণয়ন ও তা কার্যকর করার পদক্ষেপ নিতে হবে।
● মন্ত্রণালয় ভিত্তিক দুর্নীতি দমন
কমিশন গঠন করতে হবে।
● দুর্নীতি দমন কমিশনের আইন সংস্কার,
জনবল ও পরিধি বৃদ্ধি করতে হবে।
● রাষ্ট্রীয় ও জনগণের সম্পদ অবৈধভাবে
ভোগ দখলকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সুস্পষ্ট আইন প্রণয়ন করতে হবে।
৭.
সংবিধান সংস্কার
● রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে
ক্ষমতার ভারসাম্য রাখার বিধান সংযুক্ত করতে হবে।
● একই ব্যক্তি পরপর দুই মেয়াদের বেশি
প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না।
৮.
শিক্ষা ও সংস্কৃতি সংস্কার
ক) বিরাজমান সমস্যার আলোকে শিক্ষা সংস্কার
প্রস্তাব
● ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মাধ্যমিক
এবং একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিকে উচ্চমাধ্যমিক হিসেবে বলবৎ রাখতে হবে। অষ্টম শ্রেণির পাবলিক
পরীক্ষা বাতিল করে পূর্বের পরীক্ষা পদ্ধতি ফিরিয়ে আনতে হবে।
● পাঠ্যপুস্তকে ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের
বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস গুরুত্বের সাথে তুলে ধরতে হবে।
● সকল শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকে ধর্মীয়
মূল্যবোধবিরোধী উপাদান বাদ দিতে হবে।
● সকল শ্রেণিতে নবী করিম সা. এর জীবনীসহ
মহামানবদের জীবনী সংবলিত প্রবন্ধ সংযোজন করতে হবে।
● স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা
করতে হবে। বিদ্যমান স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসাগুলোকে সরকারীকরণ করতে হবে।
● প্রতিটি জেলায় কমপক্ষে একটি করে কামিল
মাদরাসাকে সরকারীকরণ করতে হবে।
● কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষাকে সাধারণ
শিক্ষার মূলধারায় যুক্ত করতে হবে।
● Department of Higher Education নামে
একটি স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠন করতে হবে।
● শিক্ষা সংস্কারের লক্ষ্যে গঠিত শিক্ষা
কমিশনের সকল ধারা তথা সাধারণ, আলিয়া, কওমীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে।
খ)
সংস্কৃতি সংস্কার
● জাতির ঐতিহাসিক আন্দোলন-সংগ্রাম ও
মূল্যবোধের আলোকে বিভিন্ন ধরনের চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে হবে।
● জাতির ঐতিহাসিক দিনগুলোকে স্মরণীয়
করার লক্ষ্যে বিশেষ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় তা পালনের ব্যবস্থা
করতে হবে।
● নাটক, সিনেমাসহ বিভিন্ন বিনোদনমূলক
অনুষ্ঠানগুলো অশ্লীলতামুক্ত করতে হবে। নাটক, সিনেমা ও বিভিন্ন কন্টেন্টে বিভিন্ন ধর্ম,
বিশেষ করে ইসলামকে হেয় করা থেকে বিরত থাকার বিধান প্রণয়ন করতে হবে।
● প্রাণীর মূর্তিনির্ভর ভাস্কর্য নির্মাণ
না করে দেশীয় প্রকৃতি, ঐতিহ্যকে বিভিন্ন চিত্রাঙ্কন-ভাস্কর্যে তুলে আনতে হবে।
● সকল গণমাধ্যমে শিক্ষামূলক প্রোগ্রাম
প্রচার নিশ্চিত করতে হবে।
৯.
পররাষ্ট্র বিষয়ক সংস্কার
● পররাষ্ট্রীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে সকল
গণতান্ত্রিক দেশের সাথে সাম্য ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে পারস্পরিক সম্পর্ক বজায় রাখতে
হবে।
● জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় চীন, নেপাল,
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার আন্তর্জাতিক নদীসমূহের পানিবণ্টন চুক্তির উদ্যোগ নিতে হবে।
● আসিয়ানভুক্ত দেশসমূহের সাথে বাণিজ্যিক
সম্পর্ক বৃদ্ধি করতে হবে।
● অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে বিগত সরকারের
আমলে সম্পাদিত সকল চুক্তি রিভিউ করতে হবে। এক্ষেত্রে একটি রিভিউ কমিশন গঠন করতে হবে।
● বাংলাদেশকে আসিয়ান জোটভুক্ত করার
উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
● শক্তিশালী SAARC পুনর্গঠনের উদ্যোগ
গ্রহণ করতে হবে।
● কোনো দেশের সাথে চুক্তি অথবা সমঝোতা
চুক্তি হলে পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে সেসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক উত্থাপন করে বিস্তারিত
আলোচনা পূর্বক তা অনুমোদন করতে হবে।
১০. ধর্ম মন্ত্রণালয় সংস্কার
● ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশকে (ইফাবা)
রাষ্ট্রের কল্যাণে অর্থবহ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
● ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমিকে স্বতন্ত্র
সংস্থা বা দপ্তরে রূপান্তর করতে হবে, যাতে তারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে।
● ইসলামিক মিশনকে সরাসরি মন্ত্রণালয়ের
অধীনে স্বতন্ত্র সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
● হজ ব্যবস্থাপনার জন্য স্বতন্ত্র অধিদপ্তর
প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
● হজ্জ ও উমরার খরচ কমানোর জন্য কার্যকর
উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
● ইসলামিক ফাউন্ডেশনে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান
প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যেখানে দেশের বরণ্যে আলেমগণ সম্পৃক্ত থাকবেন।
● বিতর্কিত সকল বই বাতিল ও প্রকাশনা
বন্ধ করতে হবে।
● সকল ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় কার্যক্রম
পরিচালনার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয়
নেতা অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, আ ন ম শামসুল ইসলাম, এটিএম মাছুম, সাইফুল আলম খান মিলন,
মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, এহসানুল মাহবুব
জুবায়ের, নূরুল ইসলাম বুলবুল, মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন সহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশিদ স্বাক্ষরিত
এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম
অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে
অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
রোববার দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ
নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া এক পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন


দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আজ কুমিল্লা সার্কিট হাউজে আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন নির্বাচন কমিশনার আনিছুর রহমান।
তিনি বলেছেন, নির্বাচনে কত শতাংশ ভোট পড়ল, তা আমাদের দেখার বিষয় না। নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু হলো কিনা, তা দেখার বিষয়।আমরা শুনছি বিএনপি নির্বাচনে আসতে চায়। দলটি যদি পর্দার আড়ালে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে আসতে চায়, তাহলে সংবিধান অনুযায়ী তফসিল পেছানোর সুযোগ আছে। আমরা সব নিবন্ধিত দলকে চিঠি দিয়েছি। কারা নির্বাচনে আসবে, কারা আসবে না, সেটা দেখার সুযোগ নেই। নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে। এটাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ নেই। আমরা আশাবাদী, ভোটাররা উপস্থিত হবেন। ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে আমরা কাজ করব। রিটার্নিং কর্মকর্তারা নির্বাচনকে প্রভাবিত করলে কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তফসিলের আগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে জামালপুরের ডিসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। আগে যদি পারি, এখন কেন পারব না?
মতবিনিময় সভায় কুমিল্লার জেলা প্রশাসক খন্দকার মু. মুশফিকুর রহমানসহ জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ ও নির্বাচন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


মিয়ানমারের
রাখাইন রাজ্যের ম্রাউক-উ অঞ্চলে সেনা বিমান হামলায় কমপক্ষে ৩১ জন নিহত এবং ৬৮ জন আহত
হয়েছেন। স্থানীয় সহায়তা কর্মী ওয়াই হুন অং , গতকাল বুধবার (১০ ডিসেম্বর) এই তথ্য নিশ্চিত
করেছেন। হামলাটি ঘটেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসের দিনে।
হামলায় আহত
ও নিহতদের মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাধারণ মানুষ ও কর্মীরা রয়েছেন। হাসপাতালে কমপক্ষে
২০টি মৃতদেহও দেখা গেছে। এই বিমান হামলা সামরিক শাসনের অধীনে ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য
নির্বাচনের আগে সংঘটিত হলো।
মিয়ানমারে সামরিক
অভিযান ও বিমান হামলার ঘটনা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত অক্টোবরেও সাগাইং অঞ্চলে ধর্মীয়
উৎসবে বিমান হামলায় কমপক্ষে ২৪ জন নিহত এবং ৪৫ জন আহত হন।
জাতিসংঘ এই
ধরনের অবিচ্ছিন্ন হামলাকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছে এবং সকল পক্ষকে আন্তর্জাতিক
মানবাধিকার আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য
অনুযায়ী, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের পর সাগাইং অঞ্চল সবচেয়ে বেশি
বিমান হামলার শিকার হয়েছে। চলতি বছরে শুধু ২৮ মার্চ এই অঞ্চলে ১০৮টির বেশি বিমান হামলায়
অন্তত ৮৯ জন নিহত হয়েছেন।
মন্তব্য করুন


আগামীকাল ২ জুন থেকে পবিত্র ঈদুল আজহার ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে।
মঙ্গলবার (২৮ মে) দুপুরে রেলমন্ত্রী জিল্লুল হাকিম টিকিট বিক্রির বিষয়টি ঘোষণা করেছেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৭ জুনকে ঈদের দিন ধরে আগামী ২ জুন আন্তঃনগর ট্রেনের অগ্রিম ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হবে।
এবার দুই সময়ে ট্রেনের আসন বিক্রি
করা হবে। পশ্চিমাঞ্চলের আসন বিক্রি শুরু হবে সকাল ৮টা থেকে। আর পূর্বাঞ্চলের আসন বিক্রি
শুরু হবে দুপুর ২টায়। বরাবরের মতো এবারও শতভাগ আসন অনলাইনে বিক্রি করা হবে। ঈদের আগে
বিশেষ ব্যবস্থায় ৫ দিনের ট্রেনের আসন বিক্রি করা হবে।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাংলাদেশ
রেলওয়ের নেয়া কর্মপরিকল্পনায় বলা হয়, এবার ঢাকা থেকে বহির্গামী ট্রেনের মোট আসনসংখ্যা
হবে ৩৩ হাজার ৫০০টি, যা শতভাগ অনলাইনে বিক্রি করা হবে। রোববার থেকে যাত্রা শুরুর ১০
দিন আগের আন্তঃনগর ট্রেনের আসন অগ্রিম হিসেবে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় বিক্রি করা হবে।
যেভাবে টিকিট কাটবেন
অনলাইনের চাপ কমাতে এবার দুই শিফটে টিকিট বিক্রি করা হবে। এবার পশ্চিমাঞ্চলের টিকিট
বিক্রি শুরু হবে সকাল ৮টা থেকে, আর পূর্বাঞ্চলের টিকিট বিক্রি শুরু হবে প্রতিদিন দুপুর
২টা থেকে।
রেলওয়ের ওয়েবসাইট থেকে সহজেই যাত্রীরা টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে রেলওয়ের
ওয়েবসাইটে একবার রেজিস্ট্রেশন করলেই চলবে। যারা আগে রেজিস্ট্রেশন করেছেন, তারা শুধু
লগইন করেই টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।
রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া
প্রথমে বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। পরে ওয়েবসাইটের উপরের দিকে রেজিস্ট্রেশন
ট্যাব ক্লিক করতে হবে। এতে রেজিস্ট্রেশন নামে নতুন একটি পেজ আসবে। এ পেজে ব্যক্তিগত
তথ্যাদি দিয়ে সংশ্লিষ্ট ঘরগুলো পূরণ করতে হবে। মোবাইল নম্বরে একটি ওটিপি চলে আসবে।
সেটি সঠিকভাবে পূরণ করে ভেরিফাই বাটনে ক্লিক করতে হবে।
সব তথ্য ঠিক থাকলে রেজিস্ট্রেশন সফল হবে এবং বাংলাদেশ রেলওয়ে নামে নতুন একটি পেজ আসবে।
এখানে ইউজার অটো লগইন হয়ে যাবে।
টিকিট কেনার পদ্ধতি
প্রথমে বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইটে প্রবেশ
করতে হবে। অটো লগইন না হয়ে থাকলে প্যানেলে ই-মেইল ও পাসওয়ার্ড পূরণ করে লগইন বাটনে
ক্লিক করতে হবে। লগইনের পর যে পেজ আসবে তাতে কাঙ্ক্ষিত ভ্রমণ তারিখ, প্রারম্ভিক স্টেশন,
গন্তব্য স্টেশন, শ্রেণি পূরণ করে ফাইন্ড টিকিট বাটনে ক্লিক করতে হবে। পরের পেজে ট্রেনের
নাম, সিট অ্যাভেইলেবিলিটি (আসন আছে কি নেই) ও ট্রেন ছাড়ার সময় দেখাবে।
ট্রেন অনুযায়ী ভিউ সিটস বাটনে
ক্লিক করে আসন খালি থাকাসাপেক্ষে পছন্দের আসন সিলেক্ট করে কন্টিনিউ পারচেজে ক্লিক করতে
হবে। ভিসা, মাস্টার কার্ড কিংবা বিকাশে পেমেন্ট করলে একটি ই-টিকিট অটো ডাউনলোড হবে।
পাশাপাশি যাত্রীর ই-মেইলে টিকিটের কপি চলে যাবে। ই-মেইলের ইনবক্স থেকে টিকিট প্রিন্ট
করে ফটো আইডিসহ ই-টিকিট প্রদত্ত টিকিট প্রিন্ট ইনফরমেশন দিয়ে সংশ্লিষ্ট সোর্স স্টেশন
থেকে যাত্রার আগে ছাপানো টিকিট সংগ্রহ করা যাবে।
কোন তারিখে ট্রেনের কোন টিকিট
২ জুন দেয়া হবে ১২ জুনের টিকিট, ৩ জুন দেয়া হবে ১৩ জুনের,
৪ জুন ১৪ জুনের, ৫ জুন ১৫ জুনের এবং ৬ জুন ১৬ জুনের টিকিট দেয়া হবে। ফিরতি টিকিট দেয়া
হবে ১০ জুন থেকে। ১০ জুন দেয়া হবে ২০ জুনের টিকিট, ১১ জুন ২১ জুনের, ১২ জুন ২২ জুনের,
১৩ জুন ২৩ জুনের এবং ১৪ জুন ২৪ জুনের টিকিট দেয়া হবে।
মন্তব্য করুন


নোয়াখালীর
চাটখিলে তাহাজ্জুদের নামাজরত অবস্থায় আকরাম হোসেন (১২) নামে এক মাদ্রাসাশিক্ষার্থী
মৃত্যুবরণ করেছে। শনিবার (২৯ নভেম্বর) লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চর কাদিরা ইউনিয়নের
নিজ বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এর
আগে ভোর রাতে উপজেলার বিষ্ণুরামপুর এলাকার নুরানি হাফিজিয়া মাদ্রাসায় নামাজের সময় এ
ঘটনা ঘটে। আকরাম লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চর কাদিরা ইউনিয়নের ফারুক হোসেনের বড়
ছেলে।
জানা
যায়, ভোরে মাদ্রাসার অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাহাজ্জুদের নামাজে অংশ নেয় আকরাম।
সালাম ফেরানোর আগ মুহূর্তে হঠাৎ অস্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে শুরু করে সে। পরে সহপাঠী
ও শিক্ষকরা তাকে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে
মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় মাদ্রাসার পাশের মসজিদের মুয়াজ্জিন ও আকরামের মামা মাওলানা বোরহান
উদ্দীনও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আকরামের সহপাঠী আব্দুল হান্নান গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা
এক সঙ্গে খেলাধুলা করতাম। তাকে হারানোর পর আমাদের মধ্যে এক ধরনের শূন্যতা বিরাজ করছে।
মাদ্রাসা
শিক্ষক হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ ইয়াসিন আরাফাত গণমাধ্যমকে বলেন, আকরাম খুবই ভালো শিক্ষার্থী
ছিল। কখনো তার নামে কোনো অভিযোগ পাওয়া যেত না। খুবই নম্র এবং ভদ্র ছিল।
আকরামের
মামা মাওলানা বোরহান উদ্দীন বলেন, আকরামকে বিকেল সাড়ে ৪টায় লক্ষীপুরের কমলনগরে তার
পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। তাকে হারিয়ে তার বাবা-মা বাকরুদ্ধ হয়ে গেছেন।
মাদ্রাসার
মুহতামিম হাফেজ মাওলানা মহিউদ্দিন বলেন, আকরাম ১৫ পারা শেষ করে ১৬ পারায় ছিল। খুব শিগ্গির
তার হিফজ সম্পূর্ণ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। আমরা একজন মেধাবী শিক্ষার্থীকে হারালাম। আল্লাহ
তাকে জান্নাতুল ফেরদৌসের মেহমান হিসেবে কবুল করুক। তার পরিবারকে ধৈর্য ধরার তাওফীক
দিক।
মন্তব্য করুন


বিএনপি
ক্ষমতায় গেলে সংবিধানের প্রস্তাবনায় এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে মহান আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস পুনঃপ্রতিষ্ঠা
করা হবে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
শনিবার
(১৫ নভেম্বর) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত আন্তর্জাতিক খতমে নবুওয়ত মহাসম্মেলনে যোগ দিয়ে এ কথা বলেন
তিনি। খতমে নবুওয়ত মহাসম্মেলনে উপস্থিত হয়েছেন দেশ ও দেশের বাইরের
প্রথিতযশা আলেম ও ইসলামী চিন্তাবিদরা।
সালাহউদ্দিন
আহমদ বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে আল্লাহ এক এবং হযরত
মুহাম্মদ (সা.) শেষ নবী। তিনি উল্লেখ করেন, মুসলিম জাতির মধ্যে বিভাজনের কারণে ফিলিস্তিন ও মিয়ানমারে মুসলমানরা
নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ যদি দায়িত্বপ্রাপ্ত হন এবং সকলে
সহযোগিতা করেন, তাহলে খতমে নবুওয়ত কমিটির দাবির বিষয়ে বিএনপি আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। যারা রাসুলুল্লাহ (সা.)কে স্বীকার করে
না, তাদেরকে বিএনপি মুসলিম হিসেবে মনে করে না।
সম্মেলনের
মাওলানা মুহিউদ্দীন রব্বানী বলেন, কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা এবং খতমে নবুওয়তের পবিত্র আকিদা রক্ষার দাবি নিয়ে আয়োজিত এ মহাসম্মেলনে বিভিন্ন
দেশ থেকে আগত শীর্ষ আলেমরা অংশগ্রহণ করেছেন।
মহাসম্মেলনে
সভাপতিত্ব করেন সম্মিলিত খতমে নবুয়ত পরিষদের আহ্বায়ক ও খতমে নবুয়ত
সংরক্ষণ কমিটি বাংলাদেশের আমির মধুপুরের পীর মাওলানা আবদুল হামিদ।
সম্মিলিত
খতমে নবুওয়ত পরিষদের উদ্যোগে এই মহাসম্মেলন হচ্ছে।
খতমে নবুওয়ত সংরক্ষণ কমিটি বাংলাদেশ এই মহাসম্মেলনের তত্ত্বাবধান
করছে।
মন্তব্য করুন


মুরাদুল ইসলাম কুড়িগ্রাম , কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার সীমান্তে পারাপারের সময় গুলি ছুড়ে মিস্টার আলী নামের বাংলাদেশি এক যুবককে ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের বিরুদ্ধে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার রৌমারী সদর ইউনিয়নের খাটিয়ামারী সীমান্তের আন্তর্জাতিক ১০৬২-১০৬৩ নম্বর সীমানা পিলার এলাকা থেকে তাকে আটক করে নিয়ে যায় বিএসএফ।
রৌমারী সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আটক মিস্টার আলী (২৫) উপজেলার রৌমারী সদর ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে।
সীমান্তের স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম জানান, সোমবার ভোরে ৮ থেকে ১০ জন বাংলাদেশি চোরাকারবারিরা সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার ওপর দিয়ে কম্বল পারাপার করছিল। এ সময় ভারতের আসাম রাজ্যের মানকারচর শাহপাড়া ক্যাম্পের বিএসএফের টহলরত সদস্যরা গেট খুলে তাদেরকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলির শব্দে বাকিরা পালাতে পারলেও মিস্টার আলীকে ধরে ক্যাম্পে নিয়ে যায় বিএসএফ।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধীন মোল্লাচর বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানি কোমান্ডার ফখরউদ্দিন বলেন, বাংলাদেশি এক যুবককে ধরে নিয়ে গেছে শুনেছি। তবে আমার এরিয়া থেকে তাকে ধরে নিয়ে যায়নি। ওই ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে গেছে ১০৬৩ নম্বর পিলার থেকে।
রৌমারী সদর বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনি বলেন, গুলি ছুড়ে বাংলাদেশি কাউকে ধরে নিয়ে গেছে কি না আমাদের বিজিবির টহলরত সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যাবে। তবে এ বিষয়ে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে বলে জানান তিনি।
মন্তব্য করুন


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ও এমপি পদপ্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদ।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হান্নান মাসউদ। পোস্টে সাক্ষাতের একটি ছবি শেয়ার করে তিনি জানান, এটি ছিল ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমের সঙ্গে তার প্রথম সাক্ষাৎ।
পোস্টে হান্নান মাসউদ লেখেন, সাক্ষাতের শুরুতেই ভিপি সাদিক কায়েম হাসিমুখে তাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘হান্নান! হাতিয়ার অঞ্চলের মানুষের কাছ থেকে যতটুকু শুনি, ইনশাআল্লাহ তুমি এমপি হতে যাচ্ছ।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রথম সাক্ষাতে তিনি সাদিক কায়েমের জন্য একটি উপহার নিয়ে গিয়েছিলেন। পাশাপাশি নতুন কিছু করার এবং পরিবর্তনের লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও একসঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মন্তব্য করুন


জাতীয়
সংসদের দক্ষিণ প্লাজা সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আগামীকাল বুধবার বাদ জোহর সাবেক
প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। দাফন করা হবে চন্দ্রিমা উদ্যানে শহীদ
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে।
দুপুরে
উপদেষ্টা পরিষদের সভা শেষে এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
তিনি জানান, বৈঠকে বিশেষ আমন্ত্রণে অংশ নিয়েছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম
আলমগীর। তিনি খালেদা জিয়ার পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে জানাজা ও দাফনের বিষয়ে উপদেষ্টা
পরিষদকে অবহিত করেছেন।
মঙ্গলবার
উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠক শুরু হয় এক মিনিটি নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে। আসিফ নজরুল
বলেন, গোটা জাতির মতো সরকারে যারা আছেন তারাও শোকাহত। উপদেষ্টা পরিষদের সভায় খালেদা
জিয়ার মৃত্যুতে বুধবার থেকে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। আগামীকাল
সাধারণ ছুটি।
সরকার
জানাজা ও দাফন ঘিরে সব ধরনের সহযোহিতা দেবে। সভায় প্রধান উপদেষ্টা বেগম জিয়ার স্মৃতিচারণ
করেন। সবশেষ সেনাসদরে খালেদা জিয়ার সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার আলাপ হয়েছিল। তিনি সভায়
সেদিনের স্মৃতিচারণ করেন।
আইন
উপদেষ্টা বলেন, দেশের ইতিহাসে বেগম জিয়ার অবদান অবিনশ্বর হয়ে থাকবে। এমন একজন নেত্রীর
চলে যাওয়াটা একটি বিশেষ মুহূর্ত। সবাই শোকাহত। সবার উচিত জানাজা ও দাফনে যথাযথ সম্মান
প্রদর্শন ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা।
উপদেষ্টা
পরিষদের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশ্বে বাংলাদেশের যত দূতাবাস ও হাইকমিশন আছে সেগুলোতে
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক বই খোলা হবে।
এদিকে
দুপুরে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন,
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গোটা জাতি আজ গভীর
শোক ও বেদনায় আচ্ছন্ন। তাঁর ইন্তেকালে আমরা এক মহান অভিভাবককে হারিয়েছি। দেশের গণতান্ত্রিক
রাজনীতিতে তাঁর অবদান ইতিহাসে অম্লান হয়ে থাকবে।
মন্তব্য করুন