

চাঞ্চল্যকর ক্লুলেস ব্যবসায়ী ইপিজেট এলাকার শাহআলম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যার ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের সনাক্ত পূর্বক গ্রেফতার করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইপিজেট পুলিশ ফাঁড়ীর এসআই (নিরস্ত্র) নিয়াজ মোহাম্মদ খাঁন।
গত বুধবার ২৮ ই মার্চ কুমিল্লা জেলার মাসিক অপরাধ সভায় বর্নিত হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন সহ সকল আইনানুগ কার্যক্রম সম্পাদন করার কারনে জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার হিসেবে তাকে পুরষ্কারের ঘোষনা দেন কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার আবদুল মান্নান বিপিএম।
এ সময় এসআই (নিরস্ত্র) নিয়াজ মোহাম্মদ খাঁনের হাতে মামলার রহস্য উদঘাটনে শ্রেষ্ঠ অফিসারের পুরস্কার ও সম্মামনা স্বারক তুলে দেন পুলিশ সুপার, কুমিল্লা।পুরস্কার পেয়ে অনুভূতি ব্যক্ত করে এসআই (নিরস্ত্র) নিয়াজ মোহাম্মদ খাঁন বলেন,
ক্লুলেস মামলায় রহস্য উদঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদানসহ সার্বিক সহযোগিতা করেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আলমগীর ভূইয়া এবং ইপিজেট পুলিশ ফাঁড়ীর ইনচার্জ মোঃকবির হোসেন । তাদের দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতায় শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার পেয়েছি।
আজকের এই পুরস্কার সামনের দিকে আমার কাজের স্পৃহাকে আরো বাড়িয়ে দেবে। সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।আমি সবার কাছে দোয়া চাই, যেন আগামীতে দেশ ও মানুষের মানবতার সেবায় কাজ করে যেতে পারি।
সদর দক্ষিণ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আলমগীর ভূইয়া বলেন সৎ ও সাহসি কাজের পুরুষ্কার কাজে গতিপথ বৃদ্ধি করে।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এসআই (নিরস্ত্র) নিয়াজ মোহাম্মদ খাঁন এবং তার টিমের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ, সদর দক্ষিণ মডেল থানার মামলা নং-২৫ (০২)২০২৪খ্রি. ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড সংক্রান্ত ক্ল-লেস হত্যা মামলার ঘটনায় জড়িত মূল হত্যাকারী আসামী আলাউদ্দিনসহ মোট ০৪ জন আসামীকে গ্রেফতার এবং আসামী আলাউদ্দিন ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি বিজ্ঞ আদালতে গ্রহণের মাধ্যমে মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছেন।
এতে জনমনে কুমিল্লা জেলা পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জল হয়েছে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে প্রায় ৬৮ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ি জব্দ করেছে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে বুধবার (১৭ জুন) ভোর রাতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শিবেরবাজার বিওপির টহল দল মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালে সীমান্ত থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নিমসার বাজার এলাকায় মালিকবিহীন অবস্থায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত শাড়িগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ৬৮ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।
বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধারকৃত শাড়িগুলো প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন


মো: মাসুদ রানা,কচুয়া:
চাঁদপুরের কচুয়ায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ৩জন আটক ও ডাকাতির ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার রাতে কচুয়া থানার এসআই আনোয়ার হোসেন ও সাইফুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে উপজেলার বাতাপুকুরিয়া এলাকা থেকে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে তাদের আটক করেন।
আটককৃতরা হলেন, উপজেলার বাইছারা গ্রামের আব্দুল জলিল ভূঁইয়ার ছেলে শরীফ ভূঁইয়া(৩৪),বুধুন্ডা গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে বাদশা মিয়া (১৯) ও মফিজুল ইসলামের ছেলে মো. নাঈম হোসেন (২০)।
কচুয়া থানার ওসি এম আবদুল হালিম জানান, সোমবার রাতে বাতাপুকুরিয়া এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতি নেয় অজ্ঞাত ডাকাতদল। পুলিশ গোপন সংবাদ পেয়ে অভিযান পরিচালনা করে ডাকাতির ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র ও সরঞ্জামসহ তাদের আটক করে। তাদের বিরুদ্ধে কচুয়া থানায় মামলা দায়েরের পর মঙ্গলবার চাঁদপুরের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


মো: মাসুদ রানা,কচুয়া:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য চাঁদপুর জেলা শাখার সাবেক আমীর অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম পাটোয়ারী বলেছেন, দেশের অর্থনৈতিক, প্রশাসনিক, শিক্ষা ও সকল ক্ষেত্রে যদি আল্লাহ’র দাসত্ব করতে পারি, তাহলেই ইসলামের শান্তি কায়েম হবে। তাহলে দেশের মানুষের নিরাপত্তা ও বৈষম্যমূলক একটি সুখী সমৃদ্ধিশালী সমাজ গঠিত এবং পরিচালিত হবে।
তিনি আরো বলেন, এদেশের মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য ও দেশ এবং জনগনের সমৃদ্ধির জন্য জাতি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বারবার রক্ত দেয়া হয়েছে কিন্তু মানুষের সেই কাঙ্খিত আশা এখনো পূরন হয়নি। ছাত্র-জনতার প্রানের বিনিময় ও রক্ত-চোখের পানির বিনিময়ে নতুন বিপ্লব হয়েছে। এ বিপ্লব পূর্বের বিপ্লবের মতো কোনো ধরনের নস্যাৎ করা যাবে না। তাই আল্লাহ’র বিধান অনুযায়ী এদেশের মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব প্রয়োজন। তাই জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসলে দেশের মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারবে।
তিনি শুক্রবার বিকালে কচুয়া ৭নং সদর দক্ষিন ইউনিয়নে ঘাগড়া বাজারে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সম্মেলনে পধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
কচুয়া সদর দক্ষিন ইউনিয়নের সভাপতি মাওলানা আব্দুস ছামাদ আযাদীর সভাপতিত্বে ও সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন মিয়াজীর পরিচালনায় বিশেষ মেহমান হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জেলা জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারী এ্যাডভোকেট মাসুদুল ইসলাম বুলবুল, বাংলাদেশ মাজলিসুল মুফাসসিরীনের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী ও হাজীগঞ্জ কামিল মাদ্রাসার প্রধান মুহাদ্দিস আবু নছর আশরাফী,উপজেলা আমীর এ্যাডভোকেট আবু তাহের মেসবাহ,নায়েবে আমীর মাষ্টার সিরাজুল ইসলাম, শাহ মুহাম্মদ জাকির উল্যাহ শাজুলী,সেক্রেটারী মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, সহ-সেক্রেটারী হাফেজ দেলোয়ার হোসেন,মাওলানা আমিনুল হক মীর আযাদী প্রমুখ। এসময় উপজেলা ও কচুয়া সদর দক্ষিন ইউনিয়নের জামায়াতের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


আজ
কুমিল্লায় নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী বাজার পরিস্থিতি ও সরবরাহ চেইন তদারক
ও পর্যালোচনার জন্য জেলা পর্যায়ে গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
বিকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে অংশগ্রহণ করেন জেলা প্রশাসনের বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক, অতিরিক্ত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, ক্যাবের প্রতিনিধি এবং জেলা পুলিশের একটি টিম।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা
ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) এর বিশেষ টহলদল মাদক ও চোরাচালান বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে
৪৮৭ পিস ভারতীয় শাড়ি জব্দ করেছে।
আজ
বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) এর অধীনস্থ শিবের বাজার
বিওপি এর বিশেষ টহলদল সীমান্ত পিলার ২১০২ থেকে ৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সোনাপুর
এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় ভারত থেকে বাংলাদেশে পাচারের জন্য প্রস্তুত বিভিন্ন প্রকার
৪৮৭ পিস ভারতীয় শাড়ি আটক করা হয়।
আটককৃত
শাড়িগুলোর আনুমানিক বাজার মূল্য ৩৭ লক্ষ ৬১ হাজার টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে আলু বোঝাইকৃত ট্রাকের চাপায় বাকিয়ার মল্লিক (৬৫) নামের এক বৃদ্ধ নিহতের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জালাল মিয়া (৬৭) নামের অপর বৃদ্ধ আহত হয়ে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ঘাতক ট্রাকটিকে আটক করে থানায় নিয়েছে।
নিহত ব্যক্তি বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের কানখরদী গ্রামের মৃত হানিফ মল্লিকের ছেলে।
থানা ও এলাকা সূত্রে জানা যায়, বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের কানখরদী গ্রামের বৃদ্ধ বাকিয়ার মল্লিক (৬৫) ও জালাল মিয়া নামে দুইজন কানখরদী বাসস্ট্যান্ড মসজিদ থেকে নামাজ শেষে শুক্রবার (১৪ মার্চ) সকাল সাড়ে ৬ টার দিকে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় বোয়ালমারীগামী আলু বোঝাইকৃত (ঢাকা মেট্রো-ট ১৮-০২৪৯) ট্রাক মাঝকান্দী-ভাটিয়াপাড়া আঞ্চলিক মহাসড়কে কানখরদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাকিয়ার মল্লিক ও জালাল মিয়াকে চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই বাকিয়ার মল্লিক মারা যায়। দুর্ঘটনায় আহত জালাল মিয়াকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছে।
তবে ঘাতক ট্রাকটি বোয়ালমারী বাজারে কাঁচাবাজারের আড়তে ট্রাকটি রেখে চালক পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ আড়ত থেকে ট্রাকটি জব্দ করে থানায় নিয়েছে।
এ ব্যাপারে বোয়ালমারী থানার উপপরিদর্শক
আব্দুর রশিদ বলেন, মাঝকান্দী-ভাটিয়াপাড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের কানখরদীতে আলু বোঝাইকৃত
ট্রাকের চাপায় একজন নিহত এবং অপরজন আহত হয়েছেন। ট্রাকটিকে বোয়ালমারী বাজারের আলুর
আড়ত থেকে জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক পালিয়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা
প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মন্তব্য করুন


মজিবুর রহমান পাবেল,কুমিল্লা:
কুমিল্লায় ৫ লক্ষ টাকা যৌতুক না পেয়ে
দুই সন্তানের জননী নূরজাহান বেগম (৩০) নামের এক গৃহবধূর স্পর্শকাতর অঙ্গসহ শরীরের বিভিন্ন
জায়গায় গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ীর লোকজন।
বুধবার (১৯ জুন) ভোরে জেলার আদর্শ সদর
উপজেলার শীমপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে নূরজাহান কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের
বার্ণ ইউনিটে ভর্তি রয়েছেন।
ঘটনার পর বুধবার বিকেলে স্বামী খোরশেদ
আলম (৪৫) ও তার পরিবারের ৫ সদস্যের বিরুদ্ধে কোতয়ালী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগীর
বাবা জয়নাল আবেদীন।
মামলা দায়েরের পর পুলিশ প্রধান আসামি
ভুক্তভোগী গৃহবধূর ভাশুর ও তার স্ত্রী এবং আরেক জা–কে আটক করে আদালতে পাঠিয়েছে।
অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, যৌতুকের
টাকা না পেয়ে ভোর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় স্বামী ও শ্বশুরবাড়ীর লোকজন মিলে মারধর করে দড়ি
দিয়ে বেঁধে রাখেন নূরজাহানকে। একপর্যায়ে গরম খুন্তি দিয়ে গোপনাঙ্গ ও শরীরের বিভিন্ন
অঙ্গ পুড়িয়ে দেয় তারা। সকালে গুরুতর অবস্থায় স্থানীয়রা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে
নিয়ে যায়।
নূরজাহানের বাবা জয়নাল আবেদীন বলেন,
শ্বশুরবাড়ীর লোকজন যৌতুকের জন্য দীর্ঘদিন ধরে আমার মেয়েকে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল। আমি
এর আগে কয়েকবার তাদের সাথে বসে বিষয়টি সমাধান করি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আনোয়ার
হোসেন বলেন, তিন আসামিকে একদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। অপর আসামিদের ধরতে
অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ভুক্তভোগী নারীর ৯ বছর বয়সী এক শিশুকন্যা ও ১২ বছরের একটি
ছেলে রয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল)
মো: কামরান হোসেন বলেন, হাসপাতালে গিয়ে শারীরিক নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর বক্তব্য রেকর্ড
করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তার স্বামীসহ ৬ জনের নামে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ৩ জনকে পুলিশ
আটক করেছে। বাকিদেরও আটকের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি :
ঈদযাত্রায় যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে কুমিল্লার মুরাদনগরের কোম্পানীগঞ্জ বাস টার্মিনালে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করেছে। এ সময় দুই পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।
সোমবার (১ জুন) দিনব্যাপী পরিচালিত এ অভিযানের নেতৃত্ব দেন মুরাদনগর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব হাছান খাঁন। অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও সহযোগিতা করেন।
জানা যায়, ঈদ উপলক্ষে মানুষের চাপ বাড়ার সুযোগে কয়েকটি পরিবহন যাত্রীদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে, এমন অভিযোগের ভিত্তিতে কোম্পানীগঞ্জ বাস টার্মিনালে অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে এবং ভাড়ার রসিদ যাচাই করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত ৪০০ টাকার পরিবর্তে যাত্রীদের কাছ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছিল। এ ঘটনায় হানিফ পরিবহনের ম্যানেজারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও ১৫ দিনের কারাদণ্ড এবং প্রান্তিক পরিবহনের সুপারভাইজারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেয়া হয়।
এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে অতিরিক্ত আদায় করা ভাড়ার অর্থ সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের ফেরত দেয়া হয়। প্রশাসনের এমন পদক্ষেপে যাত্রীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ঈদযাত্রায় ভাড়া নৈরাজ্য রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানান।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব হাছান খাঁন বলেন, ‘ঈদকে কেন্দ্র করে কোনো পরিবহন যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে পারবে না। সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। যাত্রীদের স্বার্থরক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতে কেউ অনিয়ম করলে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন


কেউ গাড়ির হেলপার-ড্রাইভার, কেউ দোকানের কর্মচারী, নির্মাণ শ্রমিক, কেউবা পুরাতন মালামাল ক্রেতা কিংবা রাজমিস্ত্রী। আছে সবজি বিক্রেতাও। কিন্তু ভিন্ন পেশা হলেও সন্ধ্যা নামতেই বদলে যায় তাদের পেশা-পরিচয়। বেরিয়ে আসে ভয়ঙ্কর রূপ।
এসব ভিন্ন ভিন্ন পেশার আড়ালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও তার আশপাশের এলাকায় তারা ডাকাতি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে জড়িত। প্রত্যেকের নামে রয়েছে একাধিক মামলা। প্রত্যেকেই জেল খেটেছেন। বেরিয়ে আবারো জড়িয়েছেন গ্যাং কালচারে।
পুলিশের এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) রাজধানীর মোহাম্মাদপুর, আদাবর, হাজারীবাগ এলাকায় কিশোর গ্যাং এর বিভিন্ন গ্রুপের ছিনতাই, চাঁদাবাজি, বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে ৩৬ জনকে গ্রেফতারের পর এসব তথ্য জানিয়েছে ।
গ্রেফতারকৃত কিশোর গ্যাং পাটালি গ্রুপের অন্যতম মূলহোতা সুজন মিয়া ওরফে ফর্মা সজীব এবং লেভেল হাই এর অন্যতম মূলহোতা মো. শরিফ ওরফে মোহন ও চাঁন গ্রুপ,মাউরা ইমরান গ্রুপসহ বিভিন্ন গ্রুপের সদস্য। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র। গ্রেফতারকৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, গ্রেফতারদের মধ্যে ৫ জন পাটালি গ্রুপের, ৬ জন লেভেল হাই, ৬ জন চাঁন গ্রুপ, ৫ জন লও ঠ্যালা গ্রুপ, এবং ৭ জন মাউরা ইমরান গ্রুপের সদস্য। বাকি ৭ জন অন্য গ্রুপের সদস্য। এদের গ্রুপে প্রায় ২০-২৫ জন সদস্য থাকে।
র্যাব-২ অধিনায়ক বলেন, সম্প্রতি রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় বেশ কয়েকটি কিশোর গ্যাং গ্রুপের সদস্য ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম লক্ষ্য করা যায়। এসব সন্ত্রাসীদের হামলা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি ও মামলা হয়েছে। সম্প্রতি মোহাম্মদপুর, আদাবর, হাজারীবাগ ও তার আশপাশের এলাকায় বেশ কয়েকটি ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য পেয়ে র্যাব টহল ও গোয়েন্দা কার্যক্রম বৃদ্ধি করে।
র্যাব-২ অধিনায়ক আরও বলেন, পাটালি গ্রুপটি সুজন মিয়া ওরফে ফর্মা সজীবের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হয়ে আসছে। নিজেদের মধ্যে অন্তঃকোন্দলের কারণে তারা ২/৩টি গ্রুপে বিভক্ত হয়। লেভেল হাই গ্রুপটি গ্রেফতার শরিফ ওরফে মোহনের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হয়ে আসছে। গ্রেফতাররা মোহাম্মদপুর, আদাবর, বেড়িবাঁধ ও ঢাকা উদ্যান এলাকায় চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ অন্যান্য সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করতো। এসব গ্রুপের গ্রেফতাররা একাকী পথচারীদের আকস্মিকভাবে ঘিরে ধরে চাপাতিসহ ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জোর করে অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী ছিনতাই করে দ্রুত পালিয়ে যায়। তারা বিভিন্ন সময় চাঁদাবাজিসহ আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঢাকা উদ্যান, আদাবর, শ্যামলী, মোহাম্মদপুরসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে মারামারিসহ বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করতো। মাদক সেবনসহ এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত তারা। মূলত তারা মোহাম্মদপুর এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জন্য বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যক্রমে জড়িত।
গ্রেফতারদের পেশা সম্পর্কে র্যাব-২ এর অধিনায়ক বলেন, বিভিন্ন গাড়ির হেলপার ও ড্রাইভার, দোকানের কর্মচারী, নির্মাণ শ্রমিক, পুরাতন মালামাল ক্রেতা, সবজি বিক্রেতা ইত্যাদি পেশার আড়ালে তারা মূলত মোহাম্মদপুর ও তার আশপাশের এলাকায় ডাকাতি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজি করতো।
অতিরিক্ত ডিআইজি আনোয়ার হোসেন আরও বলেন, গ্রেফতার সুজন মিয়া ওরফে ফর্মা সজীব পাটালি গ্রুপ এর মূলহোতা। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, ডিস ব্যবসা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য ১৫-২০ জনের একটি গ্রুপ তৈরি করে। সে এই সন্ত্রাসী গ্যাং এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক কারবারি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন ধরণের সন্ত্রাসী কার্যক্রম করছিল।
গ্রেফতার রানা শিকদার, জুয়েল মিয়া ও সাগর গ্রেফতার ফর্মা সজীবের সহযোগী। তারা গ্রেফতার পাটালি গ্রুপ এর ফর্মা সজীবের নেতৃত্বে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন এলাকায় টাকার বিনিময়ে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী হিসেবে বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম করতো। সুজন মিয়া ওরফে ফর্মা সজীবের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মাদক, ছিনতাই ও মারামারি সংক্রান্ত ১১টির বেশি মামলা রয়েছে এবং এ সকল মামলায় কারাভোগ করেছে।
র্যাব-২ এর সিও আরও বলেন, গ্রেফতার শরিফ ওরফে মোহন লেভেল হাই গ্রুপের মূলহোতা ও সন্ত্রাসী হায়াত ওরফে টাকলা হায়াত অন্যতম প্রধান সহযোগী। আগে সে মোহাম্মদপুর এলাকায় মাদকের ব্যবসা করতো। সে টাকলা হায়াতের অন্যতম সহযোগী হিসেবে মোহাম্মদপুর ও তার আশপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতি ও অপহরণসহ বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করে আসছিল।
টাকলা হায়াতের অবর্তমানে সে গ্যাংটি পরিচালনা করে আসছিল। গ্রেফতার দুলাল, সোহাগ ও তারেক তারা লেভেল হাই গ্রুপের সদস্য। তারা গ্রেফতার শরিফ ওরফে মোহনের নেতৃত্বে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম করতো। শরিফের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মাদক, ছিনতাই ও মারামারি সংক্রান্ত ৮টির বেশি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় কারাভোগ করেছে।
গ্রেফতার সাকিব ওরফে প্রকাশ রিয়াম চাঁন গ্রুপের অন্যতম সহযোগী সদস্য। সে ২০১৮ সালে বরিশাল হতে ঢাকায় এসে ঢাকা উদ্যান এলাকায় বসবাস শুরু করে। সে বিভিন্ন সময়ে গার্মেন্টসে চাকরি করেছে।
২০২১ সালে একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানিতে চাকরির সময়ে চাঁন গ্রুপ নামে একটি কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। পরে মাদক, ছিনতাই ও মারামারি সংক্রান্ত অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে সে চাঁন গ্রুপের অন্যতম সহযোগী। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মাদক, ছিনতাই ও মারামারি সংক্রান্ত ৩টির বেশি মামলা রয়েছে এবং এসব মামলায় কারাভোগ করেছে।
ডিস ব্যবসা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদকের কারবারে গ্রেফতার ইমরান ওরফে মাউরা ইমরান মাউরা ইমরান গ্রুপের সদস্য। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, ডিস ব্যবসা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য ১৫-২০ জনের একটি গ্রুপ তৈরি করে। আগে সে মোহাম্মদপুর এলাকায় রাজমিস্ত্রীর কাজ করতো।
২০২১ সালে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরির সময়ে নিজেই একটি কিশোর গ্যাং মাউরা ইমরান গ্রুপ গঠন করে। মাউরা ইমরান মোহাম্মদপুর এলাকায় চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও অপহরণের সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মাদক, ছিনতাই ও মারামারি সংক্রান্ত ৪টির বেশি মামলা রয়েছে এবং এসব মামলায় কারাভোগ করেছে।
মুরগী রাকিব লও ঠ্যালা গ্রুপের সদস্য । র্যাব-২ এর সিও অতিরিক্ত ডিআইজি আনোয়ার হোসেন খান আরও বলেন, রাকিব ওরফে মুরগী রাকিবের জন্ম বরিশাল এলাকায়। সে বিভিন্ন সময়ে গার্মেন্টসে চাকরি ও ডিসের লাইনে চাকরি করতো। ২০২০ সালে একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে চাকরির সময় লও ঠ্যালা গ্রুপে যোগ দেয়। সে বিভিন্ন স্থান থেকে মাদক সংগ্রহ ও মাদক পৌঁছে দেয়ার কাজ করতো। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মাদক, ছিনতাই ও মারামারি সংক্রান্ত দুটির অধিক মামলায় কারাভোগ করেছে।
গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ছিনতাইয়ের প্রস্তুতিকালে দুই ছিনতাইকারী কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দুই ছিনতাইকারী হলো মো. পারভেজ (২৭) ও মো. জীবন (২৪)।শনিবার রাতে ফার্মগেট আনন্দ সিনেমা হলের সামনে থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ দুপুরে এই তথ্য নিশ্চিত করেন তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসিন।
তিনি জানান, দুই ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে দুইটি চাকু উদ্ধার করা হয়। তারা পথচারীকে চড়-থাপ্পড় দিয়ে সব ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যান। গ্রেপ্তার পারভেজ ও জীবন পেশাদার ছিনতাইকারী। পারভেজের বিরুদ্ধে সাতটি এবং জীবনের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা রয়েছে। তারা দুইজন ফার্মগেট এলাকায় ঘুরাফেরা করেন। সাধারণত একাকী পথচারী তাদের প্রধান টার্গেট। তারা নির্জন স্থানে ওঁত পেতে থাকেন। এরপর ওই পথে কেউ গেলে তার প্রতিরোধ করে চড়-থাপ্পড় দিয়ে মোবাইল, মানিব্যাগ কেড়ে নেন। আর কেউ যদি বাধা দেয় তাহলে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়।
গতকাল রাতে এমনভাবেই ছিনতাইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তারা। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফার্মগেটের আনন্দ সিনেমা হলের সামনে থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
মন্তব্য করুন