

নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লায় দুটি ভিন্ন এলাকায় যৌথ বাহিনীর অভিযানকালে অস্ত্র ব্যবসায়ী হায়দার ও পেনু মির্জাকে ৪টি শর্টগানসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেনাবাহিনী সূত্রে জানা যায়, তারা ছদ্মনাম ব্যবহার করে অস্ত্রের ব্যবসা করতো। ২২ জুলাই ভোররাত ৩টা থেকে ৬টা পর্যন্ত শহরের দুটি ভিন্ন এলাকায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে দুইজন অস্ত্র ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আটককৃতরা হলেন কুমিল্লা কোতয়ালী থানার মুরাদপুর এলাকার মো. আবু হায়দার (৪০), কোতয়ালী থানার নূরপুর এলাকার মজিবর রহমান (৩৮)। মজিবরের ছদ্মনাম নাম পেনু মির্জা ।
অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে শর্টগান ৪টি, বিদেশি চাকু ১টি, ছেনি ১টি, অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ২টি, বাটন ফোন ২টি ,পাসপোর্ট ১টি, এলজির কার্তুজ ১টি উদ্ধার করা হয়।
যৌথ বাহিনী সূত্রে জানা যায়, অল্প পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার হলেও গোয়েন্দা তথ্য ও মোবাইল ফরেনসিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। যেমন, প্রাথমিক অডিও বিশ্লেষণে জানা যায়, পেনু মির্জা ৭.৬৫ পিস্তল এক লক্ষ টাকায় বিক্রি করতেন। এছাড়া হায়দার আওয়ামী লীগের দুর্বৃত্তদের কাছে অস্ত্র সরবরাহ করতেন বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়।
এই দুই অস্ত্র ব্যবসায়ী এখন পর্যন্ত চারটি আগ্নেয়াস্ত্র বহনের প্রমাণসহ ধরা পড়লেও তাদের চ্যানেলে দুটি ৭.৬৫ পিস্তল লেনদেন হয়েছে। এমন তথ্য ইতোমধ্যে গোয়েন্দা সংস্থার হাতে এসেছে।
এছাড়া, অপরাধ জগতে ছদ্মনাম ব্যবহারের প্রবণতাও এই অভিযানের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে, যেমন পেনু মির্জা নামটি। মূল পরিচয় গোপন রাখতে এটি ব্যবহৃত হতো।
নগরীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী (২৩ বীর) ও র্যাব-১১-এর যৌথ অভিযান ধারাবাহিকভাবে ফলপ্রসূ প্রমাণিত হচ্ছে বলে জানায় যৌথ বাহিনী।
কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মহিনুল ইসলাম বলেন, যৌথ বাহিনী আসামিদের থানায় হস্তান্তর করার পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে প্রেরণ করা হবে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১১, সিপিসি-২ এর একটি বিশেষ অভিযানে কুমিল্লা শহর থেকে বিপুল পরিমাণ স্কাফ ও ফেন্সিডিলসহ এক নারী মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
রোববার (৫ অক্টোবর ২০২৫) ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা কোতোয়ালী মডেল থানার রাজমঙ্গলপুর মধ্যপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে র্যাব সদস্যরা। এসময় জেসমিন (৪০) নামে এক নারীকে আটক করা হয়। তিনি ওই এলাকার আবাদ মিয়া খন্দকারের স্ত্রী।
র্যাব জানায়, এ অভিযানে ২৮৫ বোতল স্কাফ ও ১৫ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জেসমিন স্বীকার করেছেন, তিনি ও তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার সীমান্ত এলাকা থেকে মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে কুমিল্লা ও আশপাশের এলাকায় পাইকারি ও খুচরা মূল্যে বিক্রি করতেন।
র্যাব-১১ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীদের সঠিক স্বাস্থ্যসেবা ও সুবিধা নিশ্চিত করতে শনিবার ভ্রাম্যমান আদালত একটি বিশেষ পরিচালনা করে ।
রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে দালাল নির্মুলের লক্ষ্যে ভ্রাম্যমান আদালতের বিশেষ অভিযানে জুয়েল নামের এক দালালকে গ্রেফতার করে তার পকেট থেকে একটি ইয়াবা ট্যাবলেট ও সেবনের যন্ত্রাংশ পাওয়া যায় ।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ও সাধারণ রোগীদের ঠকিয়ে দালালি করার অপরাধে জুয়েল নামের দালালকে ৩ মাসের জেল ও ৫০ টাকা জরিমান করা হয় ।
জরিমানা দিতে ব্যর্থ হইলে আরো সাত দিন জেল খাটতে হবে বলে এই আদেশ দেন এসিল্যান্ড ভূমি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান।
রোগীদের সঠিক স্বাস্থ্যসেবা ও সুবিধা নিশ্চিত করতে সামনের দিনগুলোতেও এমন অভিযান চলমান থাকবে বলে জানা যায়।
মন্তব্য করুন


নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা:
অরাজনৈতিক, ধর্মীয় ও মানবিক সেবামূলক সংগঠন গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ-এর সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শাখার নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নবগঠিত কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন আব্দুস সামাদ। তিনি কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের মেকানিক্যাল বিভাগের ষষ্ঠ সেমিস্টারের ছাত্র। সদস্য সচিব হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে তৌফিকুল ইসলামকে, যিনি কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের চতুর্থ সেমিস্টারের ছাত্র।
আহ্বায়ক মোঃ আব্দুস সামাদ তার বক্তব্যে বলেন, গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে আর্তমানবতার সেবা, দ্বীনি শিক্ষা বিস্তার এবং সুফিবাদী দর্শনের মাধ্যমে সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের এই কমিটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে নৈতিক শিক্ষার প্রসার এবং মানবিক সহায়তামূলক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। বিশেষ করে দুর্যোগকালীন ত্রাণ বিতরণ, রক্তদান কর্মসূচি এবং অসুস্থ শিক্ষার্থীদের সহায়তায় এই কমিটি অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।
নবগঠিত এই কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ-এর জেলা ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, তরুণ ছাত্রসমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে পলিটেকনিক অঙ্গনে মানবিক ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ আরও সুদৃঢ় হবে।
মন্তব্য করুন


রাজশাহীর তানোরে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে
আহত গানিউল হক (৫০) নামের এক কর্মী মারা গেছেন।
আজ বুধবার (১২ মার্চ) রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ
হাসপাতালে (রামেক) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
গানিউল পাঁচন্দর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি
মমিনুল হক মমিনের ছোট ভাই। আহতরা হলেন-
পাঁচন্দর ইউপির বিএনপির বর্তমান সভাপতি প্রভাষক মজিবুর রহমান,
মমিন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক গোলাম মুর্তজা ও লুৎফর রহমান।
স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গলবার কৃষ্ণপুর আদর্শ মহিলা কলেজের মাঠে
পাঁচন্দর ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ইফতার মাহফিলের প্রধান
অতিথি হিসেবে বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মেজর জেনারেল (অব) শরিফ
উদ্দিন উপস্থিত হন। প্রধান অতিথিকে বরণ করাকে কেন্দ্র করে কৃষ্ণপুর মোড়ে মজিবুরের
সঙ্গে মমিনের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে দুগ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মুজিবুর ও মোমিনের
সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে উভয় গ্রুপের পাচঁজন আহত হয়। এদের মধ্যে
গানিউলকে আশংকাজনক অবস্থায় রামেক হাসপাতালের লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে তানোর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক
আখেরুজ্জামান হান্নান বলেন, প্রধান অতিথিকে কৃষ্ণপুর মোড় থেকে বরণ করে ইফতারের মঞ্চে নিয়ে আসাকে কেন্দ্র
করে মজিবুর ও মমিনের লোকজনদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
এ বিষয়ে তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
(ওসি) আফজাল হোসেন বলেন, পাঁচন্দর ইউনিয়ন বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছিল। পুলিশ ঘটনাস্থলে
গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে অটোরিকশার ভাড়াকে কেন্দ্র করে বুকে রড ঢুকিয়ে ফরহাদ হোসেন (২০) নামের এক যুবককে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। (১ সেপ্টেম্বর) সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার লক্ষণপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
একইদিন রাত ১০টার দিকে মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহত ফরহাদ হোসেন উপজেলার লক্ষণপুর ইউনিয়নের বানঘর গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে। অপরদিকে অভিযুক্ত মাহফুজ আলম (২০) সাইকচাইল গ্রামের রবিউল হোসেনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ফরহাদ ও মাহফুজ দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। সোমবার সন্ধ্যায় কাজ শেষে অটোরিকশায় করে তারা লক্ষণপুর বাজারে পৌঁছান। এ সময় ভাড়া দেওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।
একপর্যায়ে মাহফুজ উত্তেজিত হয়ে ফরহাদের বুকে রড ঢুকিয়ে দেয়। এতে ফরহাদ গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। পরে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত মাহফুজকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
মনোহরগঞ্জ থানার ওসি বিপুল চন্দ্র দে বলেন, ‘খবর পেয়ে নিহতের মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ আগস্ট) সকালে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবককে আটক করা হয়েছে।’
মন্তব্য করুন


আব্দুল মোতালেব নিখিল, প্রতিবেদক:
কুমিল্লায় মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার
করেছে পুলিশ।
আজ রোববার (৩১ আগস্ট) বিকেলে নগরীর
২১ নম্বর ওয়ার্ডের রামপুর এলাকার নিজবাড়ি থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত লুৎফা
বেগমের ছেলে শাহীন ও তার স্ত্রীকে লাকি আক্তারকে আটক করা হয়।
নিহতরা হলেন, রামনগর এলাকার আবু তাহেরের
স্ত্রী লুৎফা বেগম (৭০)। ও তার মেয়ে শিল্পী আক্তার (৪০)।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, রামনগর এলাকায়
আবু তাহেরের স্ত্রী লুৎফা বেগম ও তার মেয়ে শিল্পী আক্তারের সাথে শাহীনের স্ত্রী লাকি
আক্তারের পারিবারিক কলহ চলে আসছিলো।
শনিবার বিকেলেও তাদের মধ্যে জগড়া হয়।
সবশেষ রোববার দুপুরে লুৎফা বেগম ও শিল্পী আক্তারের মৃত্যুর ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে
পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে।
ইপিজেড পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক সাইফুল
ইসলাম জানান, সুরতহালে নিহতদের শরীরে আঘাতের কোন চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে কি কারনে তাদের
মৃত্যু হয়েছে তা তদন্ত করা হচ্ছে। আমরা নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছেলে শাহীন ও ও তার স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত শেষে ঘটনার বিস্তারিত বলা যাবে।
মন্তব্য করুন


ঈদ উপলক্ষে কুমিল্লা বিসিকে (বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন) উৎপাদিত সেমাই বৃহত্তর কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, মুন্সীগঞ্জ, সিলেট, নারায়ণগঞ্জ, জামালপুরসহ ২০-২২টি জেলায় যাচ্ছে।
সূত্রমতে, কুমিল্লা বিসিকের পাঁচটি কারখানায় সেমাই উৎপাদন করা হয়। সেগুলো হচ্ছে কুমিল্লা ফ্লাওয়ার মিল, রিয়াজ ফ্লাওয়ার মিল,মেট্রো কনফেকশনারি, খন্দকার ফুড ও মক্কা কনজুমার এন্ড ফুড প্রোডাক্টস। বিসিক ছাড়া কুমিল্লা আদর্শ সদর ও বিভিন্ন উপজেলায় সেমাই উৎপাদন হয়ে থাকে। কারখানা গুলোতে বাংলা ও লাচ্ছা নামে দুই ধরনের সেমাই তৈরি করা হয়।
কুমিল্লা বিসিকের কুমিল্লা ফ্লাওয়ার মিলে গিয়ে দেখা গেছে, মেশিনে গর গর শব্দে বাংলা সেমাই উৎপাদন করা হচ্ছে। সেই সেমাই ছাদে শুকানো হচ্ছে। শুকানোর পর সেটা উনুনে ভাজা হয়। ঈদ বাজারের চাহিদা মেটাতে দ্রুত প্যাকেটজাত করছেন শ্রমিকরা। ঘণ্টায় একজন শ্রমিক দুই থেকে আড়াইশ’ প্যাকেট করছেন। কেউ প্যাাকেট, কেউ ওজন, কেউ মুখ লাগানোর কাজ করছেন। কেউ কার্টনে সেমাই ভরছেন।
কুমিল্লা ফ্লাওয়ার মিলের সেমাই কারখানার সুপারভাইজার মো. মহসীন, শ্রমিক ফজলে রাব্বী ও হালিমা আক্তার বলেছেন, ঈদের অল্প কয়েকদিন বাকি। এখন বাজারে সেমাইয়ের চাহিদা রয়েছে। ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে দ্রুত কাজ করতে হচ্ছে।
নগরীর কাপ্তান বাজারের ব্যবসায়ী টিপু সুলতান বলেছেন, কুমিল্লা বিসিকে উৎপাদিত সেমাইয়ের সুনাম রয়েছে। তাই স্থানীয় বাজারে এর চাহিদাও ভালো।
কুমিল্লা ফ্লাওয়ার মিলের পরিচালক সৈয়দ গোলাম কাদের তানিন বলেছেন, আমরা ৩ দশক ধরে মান সম্মত উপায়ে সেমাই তৈরি করি। এখানে সেমাই তৈরিতে কৃত্রিম কিছু ব্যবহার করা হয় না। আমাদের সেমাই বৃহত্তর কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে বেশি বিক্রি হয়। বাংলা সেমাই আল-নূর, কুলসুম নামে এবং লাচ্ছা সেমাই তানিন নামে বাজারজাত করি। চরাঞ্চলে বাংলা সেমাইয়ের চাহিদা বেশি।
বিসিক কুমিল্লার ডিজিএম মো. মুনতাসির মামুন বলেছেন, কুমিল্লা বিসিকের খাদ্য সামগ্রী উৎপাদনে সুনাম রয়েছে। তার একটি সেমাই। এখানে উৎপাদিত সেমাই ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে। এখানের সেমাই মান সম্মত। মান রক্ষায় আমরা নিয়মিত কারখানা পরিদর্শন করি।
মন্তব্য করুন


জেসিআই ঢাকা আপটাউন এর ২০২৬ সালের জেনারেল অ্যাসেম্বলি ও চেইন হ্যান্ডওভার সেরেমনি রাজধানীর গুলশান ক্লাবে ১০ মার্চ প্রাণবন্ত পরিবেশে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল (জেসিআই) একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক যা বিশ্বের ১২৭ টি দেশে বিস্তৃত।
এটি তরুণ উদ্যোক্তা ও পেশাজীবীদের নেতৃত্ব বিকাশের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন সৃষ্টিতে কাজ করে। জেসিআই বাংলাদেশ জাতীয় সংগঠন হিসেবে পরিচালিত হয় এবং জেসিআই ঢাকা আপটাউন দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ও গতিশীল লোকাল চ্যাপ্টার হিসেবে স্বীকৃত।
জেনারেল অ্যাসেম্বলিতে নাভিদ নওরোজ শাহ্ আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬ সালের লোকাল প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন। নবগঠিত ২০২৬ লোকাল বোর্ডের অন্যান্য সদস্যরা হলেন ইমেডিয়েট পাস্ট লোকাল প্রেসিডেন্ট এবং ২০২৬ ন্যাশনাল ট্রেনিং কমিটি চেয়ার সুমাইয়া ইসলাম; সহসভাপতি ফারহান মাহি; সেক্রেটারি জেনারেল জিয়া উদ্দিন রিয়াদ; জেনারেল লিগ্যাল কাউন্সেল অ্যাডভোকেট সাজিদ হোসেন; ট্রেজারার তাইবা রহমান মাইশা; ট্রেনিং কমিশনার ফারহাতুল জান্নাত, জেআইবি চেয়ার শফিকুল আলম শাওন; ডিরেক্টর নাসির সরকার।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ২০২৫ সালের লোকাল প্রেসিডেন্ট সুমাইয়া ইসলাম এবং নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ২০২৪ লোকাল প্রেসিডেন্ট ফয়জুন্নুর আখন।
অনুষ্ঠানে জেসিআই বাংলাদেশের জাতীয় নেতৃবৃন্দ আতিথেয়তা গ্রহণ করেন। উপস্থিত ছিলেন জেসিআই বাংলাদেশের ২০২৬ ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট আরেফিন রাফি আহমেদ, ২০২৫ ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট কাজী ফাহাদ, ২০২৪ ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট ও ক্লাব জেসিআই লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট ইমরান কাদির, ২০২৬ ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট খন্দকার নায়েমুল হাসান, ন্যাশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর জাফির শাফি, ন্যাশনাল সেক্রেটারি জেনারেল সিনান আরেফিন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল চেয়ারপারসন রাফায়েলুর রহমান মেহেদী; ফাউন্ডেশন অ্যাফেয়ার্স চেয়ারপারসন রেজওয়ানুর রহমান, জেসিআই ঢাকা আপটাউন এর পাস্ট লোকাল প্রেসিডেন্ট সালেহীন এফ নাহিয়ান ও নাজিয়া বরকত এবং অন্যান্যরা। এছাড়াও উক্ত অনুষ্ঠানে সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন দূতাবাস এর কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
২০২৬ লোকাল প্রেসিডেন্ট নাভিদ নওরোজ শাহ্ পূর্ববর্তী নেতৃত্ব, বিশেষ করে বিদায়ী লোকাল প্রেসিডেন্টের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি ২০২৬ সালে অর্থপূর্ণ প্রজেক্ট, নেতৃত্ব উন্নয়ন কার্যক্রম এবং সদস্যদের সক্রিয় সম্পৃক্ততার মাধ্যমে চ্যাপ্টারকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক চেইন হ্যান্ডওভার সম্পন্ন হয়, যা নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা ও আগামী বছরের জন্য নবায়িত অঙ্গীকারের প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত হয়।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
‘আবর্জনার মতো লাগে’ বলে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বেলতলী এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভাজকে লাগানো অর্ধশত বকুলগাছ কেটে ফেলার ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর নাম মো. আজমির হোসেন (৩৭)। তাঁর বিরুদ্ধে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ থানায় মামলা করেছে।
গতকাল শনিবার রাতে বেলতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে আজমির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সেলিম। আজ রোববার তাঁকে কুমিল্লার আদালতে পাঠানো হবে।
আজমিরের বাড়ি কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার সাওড়াতলী গ্রামে। তবে তিনি বেলতলী এলাকায় উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা ১০০ শয্যাবিশিষ্ট শিশু হাসপাতালের ফটকের পাশে থাকেন। সেখানে চা-বিস্কুট বিক্রি করেন।
এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। পরে শনিবার রাতেই কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার পুলিশ এ ঘটনায় মামলা নিয়ে আজমির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে।
কেটে ফেলা বকুলগাছগুলো মহাসড়কের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য লাগানো হয়েছিল সওজের উদ্যোগে। প্রতিটি গাছের বয়স ছিল ৯ বছরের বেশি।কুমিল্লা সওজের সড়ক ও জনপথ বিভাগের কার্যসহকারী রুহুল আমিন বাদী হয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় মামলাটি করেন।
তিনি বলেন, বেলতলীতে হাসপাতালের সামনেই একসঙ্গে ১৭টি বকুলগাছ কাটা হয়েছে। অন্য গাছগুলো আশপাশে কাটা হয়েছে।
আজ রোববার সকালে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ সেলিম বলেন, গতকাল রাতে এ ঘটনায় আমরা মামলা গ্রহণ করেছি। পরে রাতেই অভিযান চালিয়ে আজমির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সওজ কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা জানিয়েছেন, যেসব স্থানে গাছগুলো কাটা হয়েছে, পরে সেখানে নতুন করে গাছ রোপণ করা হবে।
মহাসড়কটি ২০১৬ সালে চার লেনে রূপান্তর করার পর সৌন্দর্য বর্ধনের পাশাপাশি এক লেনের গাড়ির হেডলাইটের আলো যাতে অন্য লেনের গাড়ির ওপর না পড়ে, সে জন্য বিভাজকের ওপর রোপণ করা হয়েছিল বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত প্রায় ১৯২ কিলোমিটার এলাকায় মধ্যে মহাসড়কের প্রায় ১৪৩ কিলোমিটার এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছে। তার মধ্যে আছে বকুল, কাঞ্চন, করবী, গন্ধরাজ, কুর্চি, রাধাচূড়া, হৈমন্তী, টগর, সোনালু, কৃষ্ণচূড়া, কদম, পলাশসহ নানা ফুলের গাছ। এ রকম ফুলের গাছ লাগানো হয়েছে ৫০ হাজারের বেশি। এ ছাড়া সড়কের পাশে এবং বিভিন্ন স্থানে বিভাজকের ওপর লাগানো হয়েছে জলপাই, অর্জুন, কাঁঠাল, মেহগণি, শিশু, আকাশমণি, নিম, একাশিয়া, হরীতকীসহ বিভিন্ন প্রজাতির ৪০ হাজারের বেশি গাছ। কুমিল্লার বেলতলী এলাকাটি বকুলগাছে সাজানো ছিল।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার
মুরাদনগর উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশে হঠাৎ
হামলা, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ১০ থেকে ১২ জন সমর্থক আহত
হয়েছেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে একজন ইউপি সদস্যও রয়েছেন।
আজ
বুধবার (৩০ জুলাই) বিকেলে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা সদরে এ হামলা ও ধাওয়া-পাল্টা
ধাওয়া ঘটনা ঘটে।
এর
আগে আজ বুধবার বিকেলে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সদরের আল্লাহ চত্বরে এনসিপির নেতৃবৃন্দ
ও মাহমুদের সমর্থকরা বিক্ষোভ নিয়ে সমাবেশে জমায়েত হন। এ সময় সমাবেশ লক্ষ্য করে পার্শ্ববর্তী
জেলা পরিষদের মার্কেট থেকে বেশ কয়েকটি ইট, পাটকেল ছোঁড়া হয়। এরপরই দুই পক্ষের মধ্যে
ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। হামলা ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় এনসিপির ১০ থেকে
১২ জন সমর্থক আহত হন এর মধ্যে একজন ইউপি সদস্যও রয়েছে।
আহত
ইউপি সদস্য শেখর জানান, আমরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে আল্লাহ চত্বরে এসে সমাবেশ শুরু করার
পরপরই সমাবেশ লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ছোঁড়া হয়। এ সময় আমাকে ব্যাপক মারধর করে মাথা
ফাঠিয়ে দেয়া হয় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশ আঘাত করে।
মিছিল
নিয়ে আসা নাগরিক সমাজের আহবায়ক মিনাজুল হক জানান, তারা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে বিএনপির
লোকজন আমাদের উপর হামলা চালিয়েছে। মিছিল নিয়ে আসার পর করে শত শত ইট পাটকেল ছুড়ে
আমাদেরকে ধাওয়া দিতে থাকে এ সময় প্রায় অর্ধ শতাধিক সমর্থক আহত হয়।
কুমিল্লার
মুরাদনগর থানার তদন্ত কর্মকর্তা আমিন কাদের খান বলেন, আজকে মুরাদ নগরের সদরে এনসিপির
সমর্থনের একটি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ চলছিল এ সময় পাশে অবস্থানকৃত কিছু লোক বিনা
উস্কানিতে ইট পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন, এরপরে বিপক্ষের মধ্যে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া
শুরু হয় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাজ করে। তবে এনসিপির সমর্থকদের অর্ধ শতাধিক
আহতের বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন। এছাড়াও কারা এ হামলার সাথে ইন্ধনদাতা তাদের বিরুদ্ধে
ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন