

বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনরত সাত কলেজের
ছাত্রদের ভেতরে বহিরাগত প্রবেশ করছে এমন অভিযোগ আসছে। তাই কোনো ধরনের উসকানির ফাঁদে
না পড়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া এবং স্থানীয় সরকারবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
আজ বুধবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ফরেন
সার্ভিস একাডেমিতে ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান তিনি। সকালে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের
বৈঠকে হওয়ার বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানাতে এ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।
উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, যখন সাত
কলেজের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করল, তখন তাদের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আমাদের শিক্ষা উপদেষ্টা
এবং আমি সেই আলোচনায় ছিলাম। সেখানে যথেষ্ট ভাল আলোচনা হয়েছে এবং তারা সন্তুষ্ট ছিল।
সেখানেই বিষয়টি শেষ হয়ে গিয়েছিল। সেখানে সমাধানের পথটা দেখানো হয়েছিল। এ দ্রুত শিক্ষার
ব্যাপারে এমন দাবি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। সেই জায়গা থেকে তাদের সঙ্গে একটা কনসালটেশন
হয়েছিল।
তিতুমীর কলেজের আন্দোলন প্রসঙ্গে উপদেষ্টা
আসিফ মাহমুদ বলেন, তিতুমীর কলেজে যে ঘটনা ঘটেছে সেটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা বলছেন অনুপ্রবেশকারীরা,
আমরা দেখেছি কীভাবে ট্রেনের ভেতরে পাথর ছুড়ে একটা বাচ্চার পর্যন্ত মাথা ফেটে গেছে।
এ ধরনের দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। আজও ঢাকা কলেজ-সিটি কলেজের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এখনও স্পষ্ট
না কি বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ অঞ্চলটাতে প্রায়ই এমন ঘটনা দেখে থাকি।
এক্ষেত্রে ছাত্রদের প্রতি আহ্বান থাকবে কোনো ধরনের উসকানির ফাঁদে না পড়ার, যেন আইনশৃঙ্খলা
পরিস্থিতি বজায় থাকে। আহ্বান জানাচ্ছি, ছাত্ররা যেন নিজেদের নাগরিক দায়িত্ব পালন করে।
আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি হলো জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্বে দিয়েছে ছাত্ররা। তাই তাদের মধ্যে
অনেক আশঙ্কা রয়েছে। তাদের দাবির প্রতি আমরা সহনশীল। তবে সেই দাবি দাওয়া নিয়ে আমাদের
সঙ্গে আলোচনা করার আহ্বান জানাই। চাইলে সমাধান করতে পারি। সরকার এ ব্যাপারে খুব পজিটিভ।
আসুক কথা বলব। সরকার কথা শুনছে চাইলে সমাধান করা যায়। যারা আন্দোলন করছেন তাদের কাছে
দাবি থাকবে আপনারা আসুন, আলোচনা করি। কোনো উসকানিতে পা দেবেন না। সরকার আপনাদের শুনতে
ইচ্ছুক। যেহেতু ছাত্ররা গণঅভ্যুত্থান সফল করেছে আমি মনে করি ছাত্ররা দায়িত্বশীলতার
পরিচয় দেবেন।
এ প্রসঙ্গে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল
বলেন, রাতারাতি এক কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় বানিয়ে ফেলার জন্য রাস্তা বন্ধ করে জনমানুষের
ভোগান্তি তৈরি করবেন, এটা কতটুকু সমীচীন, সেটা একটু বিবেচনা করে দেখতে ছাত্রদের প্রতি
আহ্বান জানান।
মন্তব্য করুন


জামায়াতে
ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের
বাসায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানালেন এনসিপির
উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
আজ
রবিবার ( ১৫ ফেব্রুয়ারি ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই বিষয়ে পোস্ট দেন সারজিস
আলম। এটাকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সম্প্রীতির নতুন ধারা’
হিসেবে অভিহিত করেন সারজিস।
ফেসবুক
পোস্টে সারজিস উল্লেখ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর বিএনপির
চেয়ারম্যানের এই পদক্ষেপ দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পুরনো
প্রতিহিংসার রাজনৈতিক কালচার বাদ দিয়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য এই মুহূর্তে
সবচেয়ে বেশি দরকার রাজনৈতিক দল এবং রাজনীতিবিদদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সম্প্রীতির
নতুন ধারা। তারেক রহমান সেই উদ্যোগ গ্রহণ করায় আন্তরিক ধন্যবাদ।
প্রসঙ্গত,
সন্ধ্যা ৭টায় জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের বাসায়, পরে রাত ৮টায় নাহিদ ইসলামের
বাসায় যাবেন তারেক রহমান।
মন্তব্য করুন


স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল
(অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারো
নেই।
বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন
পুলিশের কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল
(অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মব জাস্টিসের ক্ষেত্রে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। কাল দেখলাম
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে হত্যা হয়েছে। তারা তো সবচেয়ে শিক্ষিত, তাদের সচেতনতা আসতে
হবে। একজন অন্যায় করলে তাকে আইনের হাতে সোপর্দ করেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার
কারও নেই। একজন অন্যায় করলে আইনের হাতে তাকে তুলে দেন। নিরপরাধ লোক যেন কোনো অবস্থায়
হেনস্তা না হয় জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে দায়ের করা মামলাগুলোয়
বিপুল সংখ্যক আসামি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর
আলম চৌধুরী বলেন, এখন পুলিশ মামলা করছে না, করছে সাধারণ জনগণ। আগে পুলিশ মামলা দিতো,
এই সময়ে কোনো পুলিশ একটা মামলা দিয়েছে? আগে পুলিশ ১০ জনের নাম দিয়ে ১০০ জনের নাম দিতো
অজ্ঞাত। আজ পর্যন্ত কিন্তু পুলিশ (মামলা) দিচ্ছে না। এটা কিন্তু সাধারণ পাবলিকরা দিচ্ছে।
মিডিয়াতেও বলছি, পেপারে দিয়েছি যে সাধারণ লোক যেন হেনস্তা না হয়। তদন্ত ছাড়া কাউকে
এরেস্ট করা হবে না। ডিবিকে আজকেই নির্দেশনা দিয়েছি। পরিচয় তারা নিজেরা দেবে, তারপর
ধরবে। এখানে ধরার কথা শুধু অপরাধীদের সাধারণ মানুষদেরকে তো ধরবে না। বাংলাদেশ পুলিশকে
পুরোনো রূপে মানবিক পুলিশ হতে উজ্জীবিত করে কীভাবে তাদের পুরোনো গৌরব ফিরে পাওয়া যায়
এবং জনবান্ধব পুলিশ যেন বাস্তবে হয় সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। থানা পর্যায়ে লোকজনকে অনেক
সময় বিভিন্ন কাজের জন্য গিয়ে তাদের যে সমস্যা সেটা সমাধান করতে পারে না, সবসময় সমাধান
সম্ভবও নয়। কিন্তু তারপরেও কীভাবে সমাধান করা যায় এটা বলা হয়েছে। প্রধানত আলোচনা হয়েছে
তাদের যে পুরোনো ফর্মে যেন পুলিশ যতো তাড়াতাড়ি ফিরে যেতে পারে। তারা যেন জনবান্ধব পুলিশ
হতে পারে। জনগণের একটা আশা, তারা যেন জনবান্ধব পুলিশ হতে পারে। সবার একটা আশা জনবান্ধব
পুলিশ। ট্রাফিকে যে একটা সমস্যা হচ্ছে, এই ট্রাফিকটা কীভাবে উন্নত করা যায়, চাঁদাবাজি
কীভাবে বন্ধ করা যায় এ সম্পর্কে বলা হয়েছে। চাঁদাবাজিটা যদি বন্ধ হয় জিনিসপত্রের দামটা
একটু সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে। এই চাঁদাবাজি যেন না হয়, প্লাস এই ঘুষ এবং দুর্নীতিতে
আমাদের সমাজটাকে গ্রাস করে নিছে। এটাকে কীভাবে বন্ধ করা যায় এগুলো সম্পর্কে তাদের সঙ্গে
আলোচনা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


মজিবুর রহমান পাবেল, প্রতিবেদক:
ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শাখাওয়াত হোসেন প্রথমবার আয়োজিত আমেরিকান কারি অ্যাওয়ার্ডসে ‘বেস্ট হসপিটালিটি আইকন’ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। নিউইয়র্কের কুইন্সে ২৪ মে অনুষ্ঠানে তার হাতে এ পুরস্কার তুলে দেন জর্জিয়ার সিনেটর শেখ রহমান।
বিশ্বজুড়ে রন্ধনশিল্প ও আতিথেয়তা শিল্পে উৎকর্ষের স্বীকৃতি প্রদানের এ অনুষ্ঠানে সমবেত হয়েছিলেন বিভিন্ন দেশের শীর্ষস্থানীয় নেতা ও উদ্ভাবকরা। খালিল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ ইউএসএ এবং আশা গ্রুপ ইউএসএ আয়োজিত আমেরিকান কারি অ্যাওয়ার্ডস একটি মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক মঞ্চ, যা আতিথেয়তা ও রন্ধনশিল্পে অসাধারণ অবদানকে স্বীকৃতি দিচ্ছে।
প্রথমবার ১৮টি বিভাগে পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। মোঃ শাখাওয়াত হোসেন ‘বেস্ট হসপিটালিটি আইকন’ হিসেবে স্বীকৃত হয়েছেন। বাংলাদেশের আতিথেয়তা শিল্পে তার অনন্য অদ্বিতীয় নেতৃত্ব, যুগান্তকারী অবদান ও রূপান্তরকারী প্রভাবের স্বীকৃতি এই সম্মাননা। বিশেষ করে, ফুড কস্ট অপ্টিমাইজেশনের ওপর তার উদ্ভাবনী কাজ বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। তার এই অর্জন বাংলাদেশের জন্য এক গৌরবের মুহূর্ত, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের আতিথেয়তা শিল্পের ক্রমবর্ধমান অবস্থানকে তুলে ধরে।
মোঃ শাখাওয়াত হোসেন এরই মধ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য সম্মাননা হলো : যুক্তাজ্যের এশিয়ান ক্যাটারিং ফেডারেশন প্রদত্ত এশিয়ান কারি অ্যাওয়ার্ড ২০২১, সাউথ এশিয়ান ট্রাভেল অ্যাওয়ার্ডস ২০২৪-এ ‘ট্যুরিজম ফেস অব সাউথ এশিয়া’ খেতাব, নেপালের কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত হোটেল ইন্ডাস্ট্রি আর্কিটেকচার, ইন্টেরিয়র অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সম্মেলনে ‘বাংলাদেশের সেরা হোটেলিয়ার’ পুরস্কার। তিনি দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত শেফস ক্যুলিনারি কাপ কোরিয়া ২০২৪ ও ২০২৫-এর বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস পিএলসি হলো দ্য ওয়েস্টিন ঢাকা, শেরাটন ঢাকা ও হানসা আ প্রিমিয়াম রেসিডেন্সের মূল কোম্পানি। ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শাখাওয়াত হোসেন একমাত্র বাংলাদেশি হোটেলিয়ার, যিনি এই শিল্পের একজন অভিজ্ঞ পেশাজীবী, শিক্ষক ও গবেষক হিসেবে কাজ করছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টে পিএইচডি করছেন এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাডজাঙ্কট ফ্যাকাল্টি হিসেবে পড়ান। তার প্রভাব শুধু করপোরেট ও একাডেমিক ক্ষেত্রেই নয়, তিনি শেফস ফেডারেশন অব বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা, ওয়ার্ল্ড ট্যুরিজম নেটওয়ার্ক ঢাকা চ্যাপ্টারের পরিচালক এবং ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ইন্ডাস্ট্রি স্কিল কাউন্সিল বাংলাদেশের পরিচালক পদসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।
মন্তব্য করুন


সৌদি
আরবের জেদ্দায় ফিলিস্তিন বিষয়ক ওআইসি নির্বাহী কমিটির বৈঠকের ফাঁকে কয়েকটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। এসব বৈঠকে ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থান
পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
জেদ্দায়
পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার; সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ওয়ালিদ এ আলখারিজি; তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা কুলাকলিকায়া; ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ড. ভারসেন ওহানেস ভার্তান আগাবেকিয়ান এবং গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরিং মোদু এনজির
সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেছেন ড. খলিলুর রহমান। উল্লেখ্য, গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই
নির্বাহী কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
বৈঠকে
বিশ্বনেতারা বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয় এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে
দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশে রাজনৈতিক
স্থিতিশীলতা আসবে এবং উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন। তারা ফিলিস্তিন
ইস্যুতে বাংলাদেশের দৃঢ় সমর্থনের প্রশংসা করেন এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের
সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান।
পাকিস্তানের
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে গত বছর
নিজের সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করেন ইসহাক দার। তিনি জানান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী
শাহবাজ শরীফ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানাতে ঢাকা সফর করার
অপেক্ষায় রয়েছেন। নতুন সরকারের অধীনে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ
করেন তিনি।
তুরস্কের
উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আে উভয়পক্ষ বাংলাদেশ-তুরস্কের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা তুলে
ধরেন উভয়পক্ষ। একই সঙ্গে বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও একমত হন। রোহিঙ্গাদের
প্রতি অব্যাহত সমর্থনের জন্য তুরস্ককে ধন্যবাদ জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর। উভয়পক্ষই
এই সংকট দ্রুত সমাধানে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।
রমজানের
পর বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানকে আমন্ত্রণপত্র
দেন ড. রহমান। সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক
রহমান শিগগিরই সৌদি আরব সফর করবেন। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকেও রিয়াদ সফরের
আমন্ত্রণ জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, সৌদি
আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের সুযোগ তৈরি
করেছে। অন্যদিকে ড. খলিলুর বাংলাদেশে সৌদি
বিনিয়োগের উজ্জ্বল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। এসব সম্ভাবনা বাস্তবায়নে একসঙ্গে কাজ করার
বিষয়েও একমত হন উভয়পক্ষ। পাশাপাশি ওআইসি সচিবালয়ের কার্যকারিতা বাড়াতে গৃহীত সংস্কার
উদ্যোগে বাংলাদেশের সমর্থন চান সৌদির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলখারিজি।
ফিলিস্তিনের
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী সীমানার ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে
রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অটল
সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন ড. খলিলুর। বাংলাদেশের এই ধারাবাহিক সমর্থনের প্রশংসা করেন
ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আরব-ইসলামিক ব্লক জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির
পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন করবে বলেও আশ্বাস দেন। গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী
সেরিং মোদু এনজির সঙ্গে বৈঠকে ড. রহমান রোহিঙ্গা ইস্যুতে গাম্বিয়ার অব্যাহত সমর্থনের
জন্য ধন্যবাদ জানান। বিশেষ করে, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক
বিচার আদালতে মামলা লড়ার জন্য গাম্বিয়া সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
আগামী
এপ্রিলে বাগদাদে অনুষ্ঠিতব্য ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে
যৌথভাবে একটি ইভেন্ট আয়োজনের বিষয়েও দুই দেশ একমত হয়েছে। এছাড়া, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের
সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে আফ্রিকার দেশগুলোর সমর্থনের আশ্বাস দেন এনজি।
বৈঠকগুলোতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত
ছিলেন।
মন্তব্য করুন


অভিনব কায়দার ফার্নিচার (সোফা সেট) এর ভিতর লুকিয়ে ফেনসিডিল পাচারের সময় আল আমিন (৩৬) নামে এক মাদককারবারিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১।
দিনাজপুর থেকে চার সেট ফার্নিচারের মধ্যে ১৯৭ বোতল ফেনসিডিল লুকিয়ে বিমানবন্দর দিয়ে যাওয়ার সময় তল্লাশির মাধ্যমে আল আমিনকে গ্রেফতার করা হয়।
এ সময় গ্রেফতারকৃত মাদককারবরির কাছ থেকে মোবাইল ফোন, সিমকার্ড ও ৪টি সোফা সেট জব্দ করা হয়।
সোমবার (১ জুলাই) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন, র্যাব-১ এর সহকারী পরিচালক (অপস অ্যান্ড মিডিয়া অফিসার) সহকারী পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুর রহমান।
র্যাব-১ এর সহকারী পরিচালক সহকারী পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুর রহমান জানান, রোববার (৩০ জুন) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এ মাদককারবারিকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব-১ এর সহকারী পরিচালক সহকারী পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুর রহমান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত আসামি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার সীমান্ত এলাকা থেকে মাদকদ্রব্য ফেনসিডিল সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্রি ও সরবরাহ করে আসছিলেন। আল আমিন বিভিন্ন সময় সুকৌশলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে অবৈধ মাদকদ্রব্য ফেনসিডিল পরিবহন করে রাজধানী ঢাকা ও গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় খুচরা মাদককারবারিদের কাছে সরবরাহ করতেন বলে স্বীকার করেছেন।
র্যাব-১ এর সহকারী পরিচালক সহকারী পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুর রহমান আরও জানান, গ্রেফতারকৃত মাদককারবরির নামে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সেই সঙ্গে উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যসহ তাকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


ত্রয়োদশ
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র তুলেছেন তৃতীয়
লিঙ্গের নেত্রী আনোয়ারা ইসলাম রানী। তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রথম ট্রান্সজেন্ডার
প্রার্থী হিসেবে পরিচিত। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) বিকেলে রংপুর জেলা নির্বাচন অফিস থেকে
তিনি এই ফরম সংগ্রহ করেন।
আনোয়ারা
ইসলাম রানী বলেন, ‘জনগণের ভালোবাসা এবং উৎসাহে উদ্বুদ্ধ হয়ে রংপুর-৩ আসনে স্বতন্ত্র
প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছি। কোনো ক্ষমতার জোরে বা দলীয় ছায়ায় নয়, শুধু মানুষের
বিশ্বাস এবং ন্যায়ের শক্তিকে সঙ্গী করে রাজনীতিতে এসেছি। আমি সুবিধাভোগী হতে আসিনি,
এসেছি মানুষের কথা বলার জন্য, অবহেলিতদের কণ্ঠস্বর হওয়ার জন্য।’
তিনি
আরও বলেন, ‘আমার কোনো পিছুটান নেই। তাই পুরো সময়, শক্তি এবং দায়বদ্ধতা উৎসর্গ করব রংপুর-৩
আসনের মানুষের অধিকার এবং মর্যাদা প্রতিষ্ঠায়। এটি আমার ব্যক্তিগত সংগ্রাম নয়, একটি
মানবিক ন্যায়ের আন্দোলন।’
তরুণ
প্রজন্মকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘কর্মহীন বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য সম্মানজনক কর্মসংস্থানের
সুযোগ সৃষ্টি করব, যাতে তারা নিজ দেশেই স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারে। এই নির্বাচন আপনাদের।
আপনাদের একটি ভোট হতে পারে ভয়ের রাজনীতির অবসান এবং সাহসী, মানবিক পরিবর্তনের সূচনা।’
রংপুর
সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শোয়েব সিদ্দিকী জানান, বুধবার দুপুর পর্যন্ত জেলার ৬টি
আসনে কোনো প্রার্থী মনোনয়ন সংগ্রহ বা জমা দেননি। তবে বিকেলে রংপুর-৩ আসনে আনোয়ারা রানী
স্বতন্ত্র হিসেবে ফরম তুলেছেন। মনোনয়ন জমার শেষ তারিখ ২৯ ডিসেম্বর, এর মধ্যে অন্য প্রার্থীরা
আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে। জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুসারে, রংপুরে মোট ভোটকেন্দ্র
৮৭৩টি এবং ৬ আসনে ভোটার সংখ্যা ২৫ লাখ ৯৯ হাজার ২০২ জন। রংপুর-৩ আসনে ভোটার প্রায় ৪
লাখ ৫০ হাজার, যার মধ্যে নারী ভোটারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য।
জানা
গেছে, আনোয়ারা ইসলাম রানী (৩২) রংপুরের স্থানীয় বাসিন্দা এবং তৃতীয় লিঙ্গ সম্প্রদায়ের
একজন সক্রিয় নেত্রী। স্কুল ড্রপআউট হলেও তিনি সমাজসেবা এবং অধিকার আন্দোলনে সক্রিয়।
গত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (২০২৪) তিনি রংপুর-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে
‘ঈগল’ প্রতীকে লড়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের বিরুদ্ধে
২৩ হাজার ৩৩৯ ভোট পেয়েছিলেন। সেই নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশের প্রথম ট্রান্সজেন্ডার প্রার্থী
হিসেবে আলোচিত হয়েছিলেন এবং সমাজের প্রান্তিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন।
জুলাই বিপ্লবের সময় তিনি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন এবং নিজের সম্প্রদায়ের
অধিকারের জন্য লড়াই করে আসছেন।
রংপুর-৩
আসনে অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপির শামসুজ্জামান সামু, জামায়াতে ইসলামীর মাহবুবুর
রহমান বেলাল, ইসলামী আন্দোলনের আমিরুজ্জামান পিয়াল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদিকে এই
আসনে জাতীয় পার্টির জিএম কাদেরের নাম শোনা যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন


নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর কবিরহাট চাপরাশিরহাট পশ্চিম বাজারে নৈশপ্রহরীকে হত্যা করে দুটি স্বর্ণের দোকান লুট করেছে সংঘবদ্ধ ডাকাত দল।
ঘটনার ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ৭ ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় উদ্ধার করা হয়েছে লুন্ঠিত ৬০ ভরি স্বর্ণ, ১৬০ ভরি রুপা, স্বর্ণ বিক্রির ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, একটি দেশীয় তৈরী পাইপগান, দুই রাউন্ড কার্তুজ, একটি গ্যাস সিলিন্ডার ও একটি পাইপ।
সোমবার (১১ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন, নোয়াখালীর পুলিশ সুপার এসপি মো.শহীদুল ইসলাম। এর আগে, গত শুক্রবার ৮ ডিসেম্বর ভোর রাতের দিকে কবিরহাট ডাকাতির ঘঠনা ঘটে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার বলেন,গত শুক্রবার ১০-১৫ জনের একটি ডাকাত দল রাত ৩টার পর চাপরাশিরহাট পশ্চিম বাজারে প্রবেশ করেন। ওই সময় অস্ত্রের মুখে নৈশপ্রহরীসহ অন্যান্য চলাচলকারী লোকজনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। এরপর প্রায় দুই ঘন্টা ডাকাতি সংঘটন করে। এ সময় ডাকাত দলকে বাধা দিলে নৈশ প্রহরী শহীদুল্লাহকে মাথায় আঘাত করলে সে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।
মন্তব্য করুন


মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সংঘর্ষের জেরে এখন পর্যন্ত মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) ২২৯ জন সদস্য অস্ত্রসহ পালিয়ে এসেছে বাংলাদেশে।
তাদের মধ্যে ১৮৩ জন বিজিপির সদস্য, ৪৬ জন মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও ইমিগ্রেশনের সদস্য রয়েছেন।
মঙ্গলবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম।
বিজিবি বলছে, যারা অস্ত্রসহ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন, তাদের নিরস্ত্রীকরণ করে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হয়েছে।
বিজিবির নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, ২২৯ জনের মধ্যে তুমব্রু বিওপিতে ৭৬ বিজিপি সদস্য, ঘুমধুমে ৩৭ বিজিপি, বালুখালীতে ৭০ বিজিপিসহ মোট ১৮৩ বিজিপি সদস্য আছেন।
এছাড়া ২ সেনা সদস্য, ৪ জন সিআইডি, ৫ জন পুলিশ, স্পেশাল ব্রাঞ্চের ৯ জন, ইমিগ্রেশন সদস্য ২০ জন, অসামরিক ৪ জন রয়েছেন।
এ নিয়ে মোট ২২৭ জন সদস্য কক্সবাজার বিজিবি ব্যাটেলিয়নের অধিনে আছেন। এদিকে, টেকনাফের হোয়াইক্যং বিওপিতে আরও ২জন বিজিপি সদস্য রয়েছেন।
বিজিবি জানায়, সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত টহল ও চেকপোস্ট বৃদ্ধি করা হয়েছে। কোনো রোহিঙ্গাকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। দেশের স্বার্থে সীমান্তে সার্বক্ষণিক নজরদারি বৃদ্ধি করেছে বিজিবি।
বিজিবি জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বিজিপিসহ ২২৯ সদস্যকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
এর আগে সোমবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা পর্যন্ত বিজিপির ১০৬ সেনা পালিয়ে আসার তথ্য জানায় বিজিবি।
এদিকে মিয়ানমারের সীমান্ত থেকে আসা মর্টার শেলের আঘাতে বান্দরবানে দুইজন নিহত হন।
সোমবার দুপুরে নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউপির চার নম্বর ওয়ার্ডের জলপাইতলি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এতে নিহত হন ওই এলাকার বাদশা মিয়ার স্ত্রী হাসিনা বেগম (৫২)। এছাড়া অপর নিহত রোহিঙ্গা পুরুষের (৫৫) পরিচয় জানা যায়নি।
এর আগে সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা পর্যন্ত বিজিপির ১০৬ সেনা পালিয়ে আসার তথ্য জানায় বিজিবি।
মন্তব্য করুন


তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীক এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।
এক শোকবার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে জাতি তার এক মহান অভিভাবককে হারাল। তাঁর মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত।
প্রফেসর ইউনূস বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রীই ছিলেন না; তিনি ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাঁর অবদান, তাঁর দীর্ঘ সংগ্রাম এবং তাঁর প্রতি জনগণের আবেগ বিবেচনায় নিয়ে সরকার চলতি মাসে তাঁকে রাষ্ট্রের অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর আপোষহীন নেতৃত্বের ফলে গণতন্ত্রহীন অবস্থা থেকে জাতি বারবার মুক্ত হয়েছে, মুক্তির অনুপ্রেরণা পেয়েছে। দেশ ও জাতির প্রতি তাঁর অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
রাজনৈতিক মতপার্থক্য সত্ত্বেও জাতির কল্যাণে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা, গণমুখী নেতৃত্ব এবং দৃঢ় মনোবল সব সময় পথ দেখিয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত রাজনীতিককে হারাল।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি’র চেয়ারপারসন, যিনি স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তাঁর স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধান, বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর ১৯৮২ সালে গৃহবধূ থেকে রাজনীতির মাঠে আসা বেগম খালেদা জিয়ার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব স্বৈরশাসক এরশাদের দীর্ঘ ৯ বছরের দুঃশাসনের পতন ঘটাতে প্রধান ভূমিকা রাখে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার বহু কর্ম ও সিদ্ধান্ত দেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছে। তিনি মেয়েদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি চালু করেন, যা বাংলাদেশের নারী শিক্ষার অগ্রগতির ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক জীবনে বেগম খালেদা জিয়া ভীষণভাবে সফল ছিলেন। তিনি কখনো কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনগুলোতে তিনি পাঁচটি পৃথক সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৮ সালে তিনি যে তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, সেখানেই তিনি জয়লাভ করেছিলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর অর্থনৈতিক উদারীকরণের মাধ্যমে তিনি দেশের অর্থনীতির একটি মজবুত ভিত্তি স্থাপন করেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন সংগ্রাম ও প্রতিরোধের এক অনন্য প্রতীক। তাঁর আপোষহীন ভূমিকা দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামে জাতিকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক সাফল্যের কারণেই বেগম খালেদা জিয়া চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছিলেন। মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় তাঁকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং দীর্ঘদিন কারাবাস করতে হয়েছিল।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টা তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার ও দলের নেতাকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
জাতির এই অপূরণীয় ক্ষতির দিনে তিনি দেশবাসীকে শান্ত থাকার ও ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন এবং যার যার অবস্থান থেকে বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া ও প্রার্থনা করার অনুরোধ করেছেন।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায় কোতোয়ালী মডেল থানা কর্তৃক হারিয়ে যাওয়া ৪৩টি মোবাইল ফোন উদ্ধার পূর্বক প্রকৃত মালিকের নিকট হস্তান্তর করেছে কুমিল্লা কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ।
কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান বিপিএম (বার) এর দিকনির্দেশনায় অফিসার ইনচার্জ কোতোয়ালী মডেল থানার সার্বিক তত্ত্বাবধানে কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন স্থানে হারিয়ে যাওয়া ১৪ টি মোবাইল ফোন জিডি মূলে তথ্য প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোনসমূহ আজ (২৮ নভেম্বর) মঙ্গলবার কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তানতর করেন।
মোবাইল ফোন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ভিকটিমগণ তাদের হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন ফেরত পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে এবং পুলিশ সুপার ও কুমিল্লা জেলা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
মন্তব্য করুন