

খেলোয়াড়দের
রাজনীতিতে না আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ সোমবার (৩০ মার্চ)
সকাল সাড়ে ১০টায় তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে ক্রীড়াকার্ড ও ভাতা
প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, ‘পেশাদার খেলোয়াড়ি জীবনে আপনারা কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর নয়; বরং ক্রীড়ানৈপুণ্য
দিয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করুন। দেশে-বিদেশে বিজয়মাল্য বরণ করে বিশ্ব ক্রীড়া জগতে বাংলাদেশকে
উচ্চতর মর্যাদার আসনে সমাসীন রাখুন।
তিনি
আরো বলেন, ‘দেশপ্রেম, ঐকান্তিক ইচ্ছা আর টিম স্পিরিট থাকলে আপনাদের সাফল্যজনক অগ্রযাত্রায়
কেউ বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না বলে আমি বিশ্বাস করি।’
সরকারপ্রধান
বলেন, ‘বর্তমান সময়ে ক্রীড়া শুধু শখ, বিনোদন কিংবা শরীর চর্চার বিষয় নয়, বরং সারা বিশ্বে
ক্রীড়া এখন পেশা হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। বাংলাদেশও পিছিয়ে থাকবে না। ২০২৬ সালে জাতীয়
নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে আমরা দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছিলাম।
আমরা
বলেছিলাম, জনরায়ে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতা পরিচালনার সুযোগ পেলে দেশে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে
প্রতিষ্ঠিত করা হবে। জনগণের কাছে দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পর্ব আনুষ্ঠানিকভাবে
আজ থেকেই শুরু হলো।’
সরকার
খেলোয়াড়দের ধারাবাহিকভাবে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে বেতন কাঠামোর আওতায়
আনার কাজটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘যিনি যে খেলায় ভালো
করতে পারবেন, যারা যে খেলায় আনন্দ পাবেন, তারা যাতে তাদের পছন্দের খেলাটিকে নিশ্চিন্তে
পেশা হিসেবে গ্রহণ করে মনোযোগ দিয়ে খেলাধুলা করতে পারেন এবং খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে
নিয়ে একজন খেলোয়াড় যাতে নিজের এবং পরিবারের জন্য অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বা টানাপড়েনে
না ভোগেন, সে লক্ষ্যে বর্তমান সরকার খেলোয়াড়দের ধারাবাহিকভাবে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার
ভিত্তিতে বেতন কাঠামোর আওতায় আনার কাজটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। তিনি বলেন, দেশের
ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ক্রীড়াবিদদের বেতন কাঠামোর আওতায় এনে ক্রীড়া ভাতা প্রদান করা
হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, ‘সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ইতিমধ্যেই
পর্যায়ক্রমিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম, খতিব এবং অন্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য
সম্মানি ভাতা প্রদান এবং সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছে।'
ক্রীড়াকে
পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সরকার ব্যাপক এবং বিস্তারিত কর্মসূচি হাতে নিয়েছে
উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে বর্তমানে ক্রিকেট এবং ফুটবল সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়
খেলা। তবে এসব খেলার পাশাপাশি আরচারি, বক্সিং, ইয়োগা, জিমন্যাস্টিকস, ক্যারম, ভারোত্তোলন,
উশু, সাঁতার, প্যারা সাঁতার, অ্যাথলেটিকস, প্যারা অ্যাথলেটিকস, কারাতে, সেপাক টাকরো,
টেবিল টেনিস, কাবাডি, ভলিবল, হুইলচেয়ার বাস্কেটবল, ব্রিজ, ফুটসাল এবং ব্যাডমিন্টনের
মতো আরো অনেক ক্রীড়া রয়েছে, যেসব খেলা সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দেশের জন্য
সম্মান বয়ে আনতে সক্ষম। আপনারা দেখেছেন সম্প্রতি সাফ নারী ফুটসালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ
চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।’
দেশব্যাপী
নতুন পরিসরে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ চালু হতে যাচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী
বলেন, ‘স্বাধীন বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিশু-কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণমূলক অনুষ্ঠান
‘নতুন কুঁড়ি’ ১৯৭৬ সালে শুরু হয়েছিল।
বাংলাদেশ
টেলিভিশনের জনপ্রিয় এই অনুষ্ঠানটি একপর্যায়ে অনেকগুলো বছর বন্ধ থাকলেও বর্তমানে অনুষ্ঠানটি
বিটিভিতে আবার চালু হয়েছে। এবার ভিন্ন আঙ্গিকে শিশু-কিশোরদের মধ্যে ক্রীড়া প্রতিভা
খুঁজে বের করতে আগামী ৩০ এপ্রিল থেকে সিলেট থেকে দেশব্যাপী নতুন পরিসরে শুরু হতে যাচ্ছে
‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’। এর আগে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় তেজগাঁওস্থ
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে ক্রীড়াকার্ড ও ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন
করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী
ল্যাপটপে বাটন প্রেস করার সঙ্গে সঙ্গেই সোনালী ব্যাংকের অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে প্রত্যেক
ক্রীড়াবিদের মোবাইলে এক লাখ টাকা পৌঁছে যায়। এ সময় ১২৯ জন ক্রীড়াবিদের হাতে ক্রীড়া
কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারী
ক্রীড়াবিদদের সম্মাননা প্রদান করেন তিনি।
যুব
ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে
উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপি
মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ ছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়
এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ
আযম খান, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের
প্রশাসক আবদুস সালাম, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন প্রমুখ।
অনুষ্ঠান
শেষে প্রধানমন্ত্রী শাপলা হলের বাইরে খেলোয়াড়দের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন।
মন্তব্য করুন


মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের
গত বছরের ঢাকা সফর সদ্য রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে উত্তরণের সময়ে বাংলাদেশকে এক বড় ধরনের
মানসিক প্রেরণা যুগিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ
ইউনূস।
মালয়েশিয়া সফরকালে গতকাল বুধবার দেশটির
সরকারি বার্তা সংস্থা বারনামাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। অধ্যাপক
ড. ইউনূস বারনামাকে বলেন, আনোয়ার ইব্রাহিমের এই সফর বাংলাদেশের কঠিন সময়ে জাতির মধ্যে
আশার সঞ্চার করেছিল।
বারনামা আজ সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করে।
বারনামার প্রধান সম্পাদক আরুল রাজু দুরার রাজের নেতৃত্বে সংস্থাটির একদল সাংবাদিক এই
সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে।
২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে অন্তর্বর্তী
সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক ড. ইউনূস সাক্ষাৎকারে ছাত্র জনতার নেতৃত্বে
কীভাবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয় এবং স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন তা
স্মরণ করেন। এ সময়ে বাংলাদেশ যে অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হয়েছিল, তা তুলে ধরেন তিনি।
এই পরিস্থিতিকে ‘ম্যাগনিচিউড ৯ ভূমিকম্পে
আঘাত হানা’ অবস্থার সঙ্গে তুলনা করে প্রধান উপদেষ্টা
বলেন, সবকিছু ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, ভীষণ বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি, কিছুই চলছিল না- শুধু ক্ষোভ
ফুঁসে উঠছিল।
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন, আমাদের
এমন এক কঠিন সময়ে দেশ চালানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এটা ছিল অত্যন্ত কঠিন কাজ। শুধু
বিশৃঙ্খলা দূর করাই নয়, সবকিছু নতুন করে গড়ে তুলতে হয়েছে। আমরা তখন পথ খুঁজছিলাম, কীভাবে
এগোবো— এমন সময়ে সুখবর এল, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী
আমাদের দেশে সফরে আসছেন।
বারনামাকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে নোবেল
বিজয়ী ইউনূস আনোয়ার ইব্রাহিমের সেই সফর নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন।
আনোয়ার ইব্রাহিম ২০২৪ সালের অক্টোবর
মাসে বাংলাদেশ সফর করেন। অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার দেশ পুনর্গঠনের দায়িত্ব
নেওয়ার মাত্র দুই মাসের মাথায় তিনিই প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি নেতা হিসেবে বাংলাদেশ
সফর করেন।
‘তিনি আমাদের আশা দিয়েছিলেন। তাঁর সফর
জনগণের মধ্যে বিপুল উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করেছিল। মালয়েশিয়া বাংলাদেশের মানুষের কাছে খুব
পরিচিত একটি দেশ, কারণ এখানে বহু বাংলাদেশি বসবাস করেন এবং তাদের পরিবারও এখানে রয়েছে।
এটি কোনো অজানা-অচেনা দেশ নয়। তাই মালয়েশিয়ার
প্রধানমন্ত্রী এসে বললেন, ‘হ্যাঁ, আমরা তোমাদের পাশে আছি’— এটি বাংলাদেশের মানুষের জন্য অনেক
অর্থবহ ছিল। তাঁর উপস্থিতি খুবই উৎসাহব্যঞ্জক ও অনুপ্রেরণাদায়ক ছিল,’ বলেন প্রধান উপদেষ্টা
ড. ইউনূস।
৮৫ বছর বয়সী ইউনূস একজন অর্থনীতিবিদ
ও সামাজিক উদ্যোক্তা। তিনি ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশে দরিদ্র বিশেষত নারীদের জন্য জামানতবিহীন
ক্ষুদ্রঋণ প্রদানের লক্ষ্যে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন।
মালয়েশিয়া বাংলাদেশের বাইরে প্রথম দেশ
হিসেবে আমানাহ ইখতিয়ার মালয়েশিয়া প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গ্রামীণ ব্যাংক মডেল গ্রহণ করে।
ইউনূস ১১ থেকে ১৩ আগস্ট মালয়েশিয়ায়
তিন দিনের সরকারি সফরে আসেন। এ সময় তিনি মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ সম্পর্কের অগ্রগতি বিশেষ
করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শ্রম, শিক্ষা, পর্যটন ও প্রতিরক্ষা খাত, এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক
পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়ে পর্যালোচনা করতে আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠক করেন।
তিনি দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক
জোরদারের লক্ষ্যে দেশটির বিভিন্ন খাতের নেতৃবৃন্দ এবং বড় বড় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ
করেন।
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন, আমি
বলতে পারি, আমাদের সফরটি দারুণ ও অত্যন্ত সফল হয়েছে। আমরা এই সফর নিয়ে খুবই সন্তুষ্ট।
সবাই তাঁদের সময় নিয়ে খুব উদার ছিলেন। আমরা যেসব কর্মকর্তা, নেতা ও ব্যক্তির সঙ্গে
দেখা করতে চেয়েছিলাম, সবাই এগিয়ে এসেছেন।
অধ্যাপক ড. ইউনূস আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে
বলেন, এই সফর দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করবে এবং পারস্পরিক উপকারী
ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতা সম্প্রসারিত করবে, যা ১৯৭২ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের
পর থেকে বিদ্যমান দৃঢ় বন্ধনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
দক্ষিণ এশিয়ায় মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম
বাণিজ্য অংশীদার ও রপ্তানি গন্তব্য বাংলাদেশ। এর প্রধান রপ্তানি পণ্য হলো পেট্রোলিয়ামজাত
দ্রব্য, পাম তেল ও রাসায়নিক দ্রব্য, আর আমদানি পণ্য হলো টেক্সটাইল, জুতা, পেট্রোলিয়ামজাত
দ্রব্য ও প্রস্তুত পণ্য।
মন্তব্য করুন


২৬ আগস্ট ২০২৪ দেশ জুড়ে পালিত হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান উৎসব শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী।
এ দিনটিকে কেন্দ্র করে আয়োজিত বিবিধ অনুষ্ঠান ও উপাসনালয় সমূহের বিশেষ নিরাপত্তায় অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি নিয়োজিত রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
সেনাবাহিনীর এ তৎপরতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সনাতন ধর্মাবলম্বী জনগণ।
উল্লেখ্য যে, দেশব্যাপী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তায় কাজ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সংঘর্ষ ও অন্যায়কে পরাভূত করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই শ্রীকৃষ্ণের শিক্ষা। এই শিক্ষাকে বুকে ধারণ করে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের মানুষ একসাথে সোনার বাংলা গড়ে তুলবে এই সকলের প্রত্যাশা।
জনগণের এই প্রত্যাশা পূরণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পাশে আছে এবং থাকবে।
মন্তব্য করুন


১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আজ সন্ধ্যা ৬টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বিটিভি নিউজ ও বাংলাদেশ বেতার একযোগে ভাষণটি সম্প্রচার করবে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন


বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো বার্তায় দেশবাসীকে সালাম জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আমাদের তরুণ বিপ্লবীরা দেশের মানুষের মনে নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন জাগিয়ে দিয়েছে তা পূরণে আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। শহীদদের আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ হয়ে এক নতুন যুগের সূচনা করতে চাই।
ড.
মুহাম্মদ ইউনূস আরো বলেছেন, আজ আমরা বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জনের প্রথম মাস
উদযাপন করছি। ইতিহাসের অন্যতম গৌরবময় বিপ্লবের জন্য শত শত ছাত্র এবং সর্বস্তরের মানুষ
সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। আমাদের বাংলাদেশকে এর পূর্ণ গৌরবে প্রতিষ্ঠিত করার
দায়িত্ব আমাদের।
তিনি বলেন, আমি সেই সাহসী তরুণ, শ্রমিক, দিনমজুর, পেশাজীবীদের স্মরণ করছি যারা মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছিল। স্মরণ করছি আন্দোলন চলাকালে নিহত সাংবাদিকদের। আজ আমি এই বিপ্লবে শাহাদাত বরণকারী সবার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। আমি অভিবাদন জানাই হাজার হাজার মানুষকেও যারা আহত হয়েছেন, প্রাণঘাতী আঘাতের শিকার হয়ে চিরজীবনের জন্য পঙ্গু হয়েছেন, কিংবা চক্ষু হারিয়েছেন।
গত মাসে আমাকে যখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তখন আবু সাঈদ, মুগ্ধ এবং সমস্ত জানা এবং অজানা শহীদদের নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমার সকল সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এই দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।’
ড. ইউনূস বলেন, ‘আমার প্রিয় তরুণেরা, তোমরা তোমাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের শপথ নিয়েছিলে। শহর ও গ্রামীণ জনপদের দেয়ালে আঁকা তোমাদের স্বপ্নগুলো এখনো নানা রঙের সাজ নিয়ে আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।’
তিনি আরো বলেন, বিপ্লবের সময়, তোমরা পড়াশুনা ছেড়ে দিয়ে বন্ধুদের নিয়ে উদ্বিগ্ন ঘুমহীন রাত কাটিয়েছো এবং দিনে নিষ্ঠুর শাসনকে প্রতিহত করার জন্য পরস্পরের থেকে চির বিদায় নিয়ে রাস্তায় নেমেছো। বিপ্লব শেষ হওয়ার পর তোমরা দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও তাদের উপাসনালয় পাহারা দিয়েছো এবং সারাদেশে ট্রাফিক পরিচালনা করার দায়িত্ব নিয়েছো। আমি জানি তোমাদের পড়াশোনার অনেক ক্ষতি হয়েছে। তাই এখন সময় পড়াশোনায় ফেরার। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় খোলা হয়েছে। আমি তোমাদেরকে ক্লাস ও ক্যাম্পাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। কেননা বিপ্লবের সুফল ঘরে তুলতে আমাদের একটি সুশিক্ষিত ও দক্ষ প্রজন্মের দরকার।
তিনি বলেন, মাত্র একমাস হলো অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। তা সত্ত্বেও আমরা বিপ্লবের প্রকৃত লক্ষ্য অর্জনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের কাজ শুরু করেছি। আমাদের প্রথম কাজ জুলাই ও আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। গণহত্যার বিষয়ে জাতিসংঘের নেতৃত্বে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করার জন্য আমরা জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। তারা এদেশে এসেছেন এবং তাদের কাজ শুরু করে দিয়েছেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমাদের প্রধান দায়িত্বগুলির মধ্যে একটি হল বিপ্লবের সময় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হাজার হাজার মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করা। হাসিনার দুর্বৃত্তরা তাদের চোখ লক্ষ্য করে রাবার বুলেট ছোড়ায় অসংখ্য তরুণ শিক্ষার্থী দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করবো তাদের চোখের আলো ফিরিয়ে দিতে। আমরা শহীদ ও আহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির জন্য ক্রমাগত কাজ করে যাচ্ছি। মূল তালিকা হয়ে গেছে। এখন শুধু দূর-দূরান্তে যাদের লাশ নিয়ে যাওয়া হয়েছে তাদের তথ্য সংগ্রহ করে তথ্যগুলিতে পূর্ণাঙ্গতা দেওয়া হচ্ছে। আহত শত শত মানুষ যাদের দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা প্রয়োজন, তাদের ব্যয়বহুল চিকিৎসা এবং শহীদদের পরিবারের দেখাশোনার জন্য একটি ফাউন্ডেশন এখন তৈরির শেষ পর্যায়ে আছে। যাদের শাহাদাতের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে আমরা তাদের কখনোই ভুলবো না।
ড.
মুহাম্মদ ইউনূস সবশেষে বলেন, আমরা সবাই প্রতিজ্ঞা নিলাম শহিদদের রক্ত এবং আহত ভাইবোনদের
আত্মত্যাগকে জাতি হিসাবে আমরা কিছুতেই ব্যর্থ হতে দেবো না। যে সুযোগ তারা আমাদের জন্য
তৈরি করে দিয়েছেন সে সুযোগকে আমরা কখনো হাতছাড়া হতে দেবো না। আজ তাদের স্মৃতিময় দিনে
আবারও প্রতিজ্ঞা করলাম তাদের স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ আমরা গড়বোই। মহান আল্লাহ আমাদের
সকলের সহায় হোন।
মন্তব্য করুন


আসন্ন
জাতীয় নির্বাচনের আগেই লুট হওয়া অস্ত্র যেকোনোভাবে এবং যত দ্রুত সম্ভব উদ্ধার করার
ওপর জোর দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, ‘লুট হওয়া অস্ত্র
যেভাবেই হোক নির্বাচনের আগেই উদ্ধার করতে হবে।’
আজ
মঙ্গলবার ( ২০ জানুয়ারি ) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত
জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১১৯তম সভায় প্রধান উপদেষ্টা এ কথা বলেন। প্রধান উপদেষ্টা
সভায় সভাপতিত্ব করেন। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে এটি নিকার-এর প্রথম সভা।
সভা
শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব
শফিকুল আলম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সভায় প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করেন
এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অস্ত্র উদ্ধারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।
নির্বাচন
সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে শফিকুল আলম বলেন, ‘যারা নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন,
তাদের অনেকের পেছনের ইতিহাস আমরা জানি। তারা গত সাড়ে ১৫ বছরে কী পরিমাণ দালালি করেছেন,
সেটা আমাদের অজানা নয়। তাই এ ধরনের বক্তব্যে আমরা অবাক হচ্ছি না।’
তিনি বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা সবার আছে, সবাই কথা বলতেই পারেন। তবে নির্বাচন নিয়ে
সরকারের অবস্থান একেবারে পরিষ্কার। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের ১২ তারিখেই নির্বাচন হবে।
নির্বাচন এর একদিন আগেও হবে না, একদিন পরেও হবে না। নির্ধারিত দিনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত
হবে এবং তা খুব সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে বলে সরকার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে।
ব্রিফিংয়ে
প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেন, নির্বাচন হবে না—
এমন বক্তব্য যারা দিচ্ছেন, তাদের কাছে এর পেছনের যুক্তি জানতে চাওয়া উচিত। তিনি বলেন,
‘কেউ যদি নির্বাচন হবে না— এ দাবির পেছনে কোনো যৌক্তিক বা বাস্তব
কারণ দেখাতে না পারেন, তাহলে সেটিকে গণতন্ত্রবিরোধী ও নির্বাচনবিরোধী প্রপাগান্ডা হিসেবে
ধরে নিতে হবে।’
তিনি
আরও বলেন, নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং সে লক্ষ্যেই প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত
প্রস্তুতি জোরদার করা হচ্ছে।
সামাজিক
মাধ্যমে নির্বাচন নিয়ে ছড়ানো গুজব দেশের মানুষ বিশ্বাস করে না বলে ব্রিফিংয়ে উল্লেখ
করেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
মন্তব্য করুন


আসন্ন
গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আজ সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার তথ্য অধিদপ্তরের
এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রধান উপদেষ্টার ধারণকৃত এই ভাষণটি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়
একযোগে সম্প্রচার করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে
দেশের সব ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়াকে এই ভাষণটি একযোগে প্রচার করার জন্য অনুরোধ করা
হয়েছে।
ধারণা
করা হচ্ছে, ভাষণে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা
এবং দেশের চলমান সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবেন প্রধান উপদেষ্টা।
নির্বাচন
কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা
শুরু হতে যাচ্ছে এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
মন্তব্য করুন


আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেন নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বজায় থাকে এবং নির্বাচন যেন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয় সে বিষয়ে সব ধরনের প্রস্তুতি নিতে তিন বাহিনীর প্রধানকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।
শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
এসময় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তার পাশাপাশি দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সামরিক বাহিনীর সদস্যদের কঠোর পরিশ্রমের জন্য সাধুবাদ জানান প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, গত ১৫ মাসে সেনাবাহিনীসহ সব বাহিনীর সদস্যরা দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করেছে। আসন্ন নির্বাচন যেন নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকে সেজন্যও তিন বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, "ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখর করতে অন্তর্বতীকালীন সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"
আজকের বৈঠকে নির্বাচনের জন্য সামরিক বাহিনী সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়ার বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করেছেন তিন বাহিনীর প্রধান।
নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৯০ হাজার সেনাসদস্য, আড়াই হাজারের বেশি নৌবাহিনীর সদস্য এবং দেড় হাজার বিমানবাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে।
প্রতিটি উপজেলায় এক কোম্পানি সেনা মোতায়েন থাকবে।
আজকের বৈঠকে আগামী ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবসের আয়োজনে প্রধান উপদেষ্টাকে আমন্ত্রণ জানান তিন বাহিনীর প্রধান।
মন্তব্য করুন


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে কৃষিঋণ সংক্রান্ত প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিতে অনুষ্ঠিত হয় মন্ত্রিসভার বৈঠক। এতে অর্থ, বাণিজ্য, স্থানীয় সরকার, আইনসহ সব মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা অংশ নেন। সংক্ষিপ্ত এই বৈঠকে কৃষিঋণ সংক্রান্ত একটিমাত্র এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
এরপর বিকেলে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। তিনি জানান, শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতের কৃষকেরা এ সুবিধা পাবেন। এ সিদ্ধান্তের ফলে মওকুফ হবে মোট ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। এতে প্রায় ১২ লাখ কৃষক সুফল পাবেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ নেওয়ার পর যত সুদই হোক, সুদ-আসলসহ পুরোটা মওকুফ হবে। তিনি আরও বলেন, সরকার তার নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী এই হারে কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো দরিদ্র কৃষকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষি খাতের মেরুদণ্ডকে শক্তিশালী করা। এতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরা ঋণের দায় থেকে মুক্ত হতে পারবেন, যা তাঁদের কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি করবে এবং দেশের কৃষি খাতে উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
নাসিমুল গনি আরও বলেন, ঋণের কিস্তি বাবদ যে অর্থ কৃষকের ব্যয় হতো, সেই অর্থ তাঁরা উন্নত মানের বীজ বা আধুনিক সেচপ্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করতে পারবেন। মাথার ওপর ঋণের বোঝা না থাকায় কৃষক পরবর্তী মৌসুমে নতুন উদ্যমে চাষাবাদ শুরু করতে সক্ষম হবেন। এ ছাড়া এই মওকুফ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কৃষকদের ক্রেডিট রেকর্ড বা ঋণমান ভালো হবে। ফলে তাঁরা ব্যাংক থেকে আবার স্বল্প সুদে কৃষিঋণ গ্রহণ করতে পারবেন, যা তাঁদের স্থানীয় মহাজনি ঋণের উচ্চ সুদের হাত থেকে রক্ষা করবে।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর)
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আজ রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সাক্ষাৎকালে, সেনাপ্রধান
দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সেনাবাহিনীর চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে প্রধান
উপদেষ্টাকে অবহিত করেন। পাশাপাশি, দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য সেনাবাহিনী গৃহীত
বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা করেন।
আলোচনাকালে, সেনাপ্রধান তাঁর সাম্প্রতিক
সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক সফরের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করেন। এই সফরটি দুই
দেশের মধ্যকার সম্পর্কোন্নয়ন ও সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে সেনাপ্রধান
আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এছাড়াও, সদ্য সমাপ্ত বিবিধ বঞ্চিত সেনা
কর্মকর্তাদের সুবিচার নিশ্চিতকরণ সংক্রান্ত উচ্চপদস্থ পর্ষদের মূল্যায়ন ও সুপারিশ এবং
বিবিধ কারণে চাকরিচ্যুত জেসিও ও অন্যান্য পদবীর সেনা সদস্যদের চলমান উচ্চপদস্থ পর্ষদ-এর
অগ্রগতির বিষয়ে সেনাপ্রধান প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করেন।
এ ছাড়া জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আহত
ছাত্র-জনতার চিকিৎসায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কেও তাঁকে অবহিত
করা হয়।
প্রধান উপদেষ্টা সেনাবাহিনীর ভূমিকা
ও অবদানের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে সেনাবাহিনীকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা
প্রদান করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে
সেনাবাহিনী তাদের পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে।
মন্তব্য করুন


আসন্ন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সারা দেশে ২১ হাজার ৯৪৬টি অতি গুরুত্বপূর্ণ
ও ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য ৭১ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার
টাকা বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।
আজ
মঙ্গলবার প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১১৯তম সভা
শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার
উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার। ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল
আলম উপস্থিত ছিলেন।
আজাদ
মজুমদার বলেন, সারা দেশে প্রায় ৪২ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬ হাজার ৫৫২টি কেন্দ্রে
আগে থেকেই সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। বাকি কেন্দ্রগুলোতে নতুন করে ক্যামেরা স্থাপন করা
হচ্ছে। এর মধ্যে ২১ হাজার ৯৪৬টি কেন্দ্রকে অতি গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত
করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে সিসিটিভি বসানোর জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ এই বরাদ্দ
দেওয়া হয়েছে।
তিনি
জানান, বরাদ্দের আওতায় প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে কমপক্ষে ছয়টি করে সিসিটিভি ক্যামেরা
স্থাপন করা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ তালিকার বাইরে থাকা কেন্দ্রগুলোতে স্থানীয় প্রশাসন, সিটি
করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের নিজস্ব অর্থায়নে ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে সব জেলায়
এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং অনেক এলাকায় তা দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে।
উপ-প্রেস
সচিব আরও জানান, কয়েকটি জেলায় প্রায় শতভাগ ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে।
এর মধ্যে গাজীপুর জেলা উল্লেখযোগ্য। গাজীপুরে মোট ৯৩৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪৪৭টি ঝুঁকিপূর্ণ
হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের অধিকাংশে ইতিমধ্যে বিশেষ বরাদ্দের আওতায় সিসিটিভি
স্থাপন করা হয়েছে। বাকি কেন্দ্রগুলোতেও আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ক্যামেরা স্থাপন সম্পন্ন
হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আজাদ
মজুমদার বলেন, সারা দেশে ২৯৯টি ভোটকেন্দ্র শনাক্ত করা হয়েছে, যেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ
নেই। এসব কেন্দ্রে সৌর বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনকে নির্দেশ
দেওয়া হয়েছে, প্রয়োজনে জেনারেটরের মাধ্যমে হলেও ভোটের দিন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে
হবে।
এদিকে
ব্রিফিংয়ে প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ঢাকা মহানগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও কার্যকরভাবে
ব্যবস্থাপনার বিষয়েও নিকার সভায় আলোচনা হয়েছে। ঢাকার আয়তন ও জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ায় আইনশৃঙ্খলা
রক্ষা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক
পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা যায় কি না, তা নিয়ে
আলোচনা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) উত্তর ও দক্ষিণে বিভক্ত করা হবে, নাকি একাধিক
অংশে পুনর্গঠন করা হবে—এ বিষয়ে আলোচনা হলেও এখনো কোনো সিদ্ধান্ত
হয়নি।
শফিকুল
আলম চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন,
ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে। সেখানে যৌথ বাহিনীর সমন্বয়ে আরও
জোরদার অভিযান চালানো হবে এবং আশপাশের এলাকায় লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে কম্বিং অপারেশন
পরিচালনা করা হবে।
মন্তব্য করুন