

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে ছিনতাইকারী চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১০।
রোববার (২ জুন) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যাত্রাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
সোমবার (৩ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন, র্যাব-১০ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও সহকারী পুলিশ সুপার এম জে সোহেল।
গ্রেফতারকৃতরা হলো: সাকিব ওরফে এল এস এরো (২৩), মো. আরমান (২০), শফিকুল ইসলাম সিয়াম (২৪) ও দেলোয়ার হোসেন (২৪)। অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত ২টি চাকু উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-১০ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও সহকারী পুলিশ সুপার এম জে সোহেল জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতারকৃতরা বেশ কিছুদিন ধরে যাত্রাবাড়ীসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পথচারীদের ধারালো চাকুর ভয় দেখিয়ে টাকা-পয়সা ও মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মূল্যবান সম্পদ ছিনতাই করে আসছিলেন।
তাদের নামে সংশ্লিষ্ট থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। সেই সঙ্গে তাদের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান র্যাব-১০ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও সহকারী পুলিশ সুপার এম জে সোহেল।
মন্তব্য করুন


বিএনপির
চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, তার দল আগামী নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনে আত্মবিশ্বাসী।
একই সঙ্গে তিনি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট বা জাতীয় ঐক্য সরকার গঠনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান
করেছেন।
বার্তা
সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি কীভাবে আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে
নিয়ে সরকার গঠন করব, তাহলে বিরোধী দলে কে থাকবে?’ জামায়াতে ইসলামীর জোট সরকার গঠনের
প্রস্তাব প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি একথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ‘তাদের আসন সংখ্যা কত
হবে আমি জানি না, তবে যদি তারা বিরোধী দলে থাকে, আমি আশা করি তারা একটি ভালো বিরোধী
দলের ভূমিকা পালন করবে।’তবে রয়টার্স স্মরণ করিয়ে দেয়, ২০০১
থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী একসঙ্গে বাংলাদেশ শাসন করেছিল।
সংবাদ
সংস্থাটি জানায়, ২০২৪ সালে কয়েক মাসের অস্থিরতায় দেশের বৃহৎ তৈরি পোশাক শিল্প মারাত্মকভাবে
ব্যাহত হওয়ার পর জামায়াত সম্প্রতি দেশকে স্থিতিশীল করতে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের লক্ষ্যে
অংশীদারিত্ব পুনর্নবায়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পরিস্থিতি বর্ণনা করে রয়টার্স জানায়,
৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান প্রায় দুই দশক লন্ডনে নির্বাসিত থাকার পর গত ডিসেম্বর দেশে
ফেরেন। ছাত্র-যুব নেতৃত্বাধীন এক গণঅভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের নেতা শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত
হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ একটি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। সংবাদ সংস্থাটি
আরও জানায়, বিএনপির সহযোগীরা বলছেন, ৩০০ আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ের
বিষয়ে দলটি আত্মবিশ্বাসী। বিএনপি ২৯২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে এবং বাকি আসনে এর
মিত্ররা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
তবে
তারেক রহমান নির্দিষ্ট সংখ্যা বলতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘আমরা আত্মবিশ্বাসী যে সরকার
গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন আমরা পাব।’
বিভিন্ন
জনমত জরিপে বিএনপির বিজয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হলেও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের কাছ থেকে
কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে। ওই জোটে ছাত্র-যুব আন্দোলন থেকে
গড়ে ওঠা একটি ‘জেন জেড’ দলও রয়েছে।
বিশ্বের
সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়টার্স মন্তব্য করে, গত বছর ঢাকার একটি আদালত দমন-পীড়নে ভূমিকার জন্য
শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিলে ভারতের তাকে আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের
অবনতি ঘটে এবং এতে চীনের বিনিয়োগ ও রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হয়।
জয়ী
হলে ভারত থেকে সরে গিয়ে চীনের দিকে ঝুঁকবেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান
বলেন, প্রায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ (১৭৫ মিলিয়ন) মানুষের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে
সক্ষম এমন অংশীদার বাংলাদেশের প্রয়োজন। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে তরুণদের জন্য
কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দেশে ব্যবসা আনা এবং মানুষের জীবনমান উন্নত করার উদ্যোগ নিতে হবে।
তারেক
রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে যে দেশ আমার জনগণ ও দেশের
জন্য উপযোগী প্রস্তাব দেবে, তাদের সঙ্গেই আমাদের বন্ধুত্ব থাকবে, কোনো নির্দিষ্ট দেশের
সঙ্গে নয়। নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গারা থাকতে পারবে বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ
এবং উচ্চ দারিদ্র্যহারসম্পন্ন দেশ বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ (১.২ মিলিয়ন) রোহিঙ্গা মুসলিম
শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে।
এদের
অনেকেই প্রতিবেশী বৌদ্ধপ্রধান মিয়ানমারে একাধিক দমন অভিযানের মুখে পালিয়ে এসেছে, যেখানে
তাদের বহিরাগত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বাংলাদেশের
অন্তর্বর্তী সরকার গত বছর জানিয়েছিল, নানা চ্যালেঞ্জের কারণে শরণার্থীদের জন্য অতিরিক্ত
সম্পদ বরাদ্দ দেওয়ার সক্ষমতা তাদের নেই এবং তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক
সম্প্রদায়ের সহায়তা চেয়েছে।
বিএনপি
চেয়ারম্যান বলেন, তিনিও রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার পক্ষে, তবে তা অবশ্যই নিরাপদ
পরিস্থিতিতে হতে হবে।
তিনি
বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করব যেন এই মানুষগুলো তাদের নিজ ভূমিতে ফিরে যেতে পারে। তবে সেখানে
পরিস্থিতি নিরাপদ হতে হবে। যত দিন নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়, তত দিন তারা এখানে থাকতে
স্বাগত।’
মন্তব্য করুন


ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও রাজশাহী মোট ৪টি বিভাগে হচ্ছে বৃষ্টিপাত। এ কারণে আরও কমে যেতে পারে সারা দেশে তাপমাত্রা।
বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) এ তথ্য জানানো হয় বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে।
আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান জানান, বৃষ্টি হচ্ছে দেশের ৪ বিভাগে। বিশেষ করে দক্ষিণপশ্চিম অঞ্চলে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গায় ১৯ ও যশোরে ১৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান আরও জানান, বৃষ্টির কারণে কুয়াশা কমবে। এতে হয়ত সূর্য দেখা যেতে পারে। তবে আগামীকাল শুক্রবার থেকে সারা দেশেই তাপমাত্রা কমে যেতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, বৃহস্পতিবার দেশে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। রংপুর বিভাগের সব জেলায়, ঢাকা বিভাগের কিশোরগঞ্জ এবং রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ হচ্ছে। চলতি মাস পুরোটাই দেশে বেশ শীত অনুভূত হবে।
আগামী রোববার থেকে দেশে আবহাওয়া পরিস্থিতি সামান্য পরিবর্তন হতে পারে বলেও জানায় আবহাওয়া অধিদপ্তর।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী
সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস দাতব্য সংস্থা আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের
নতুন ভবনের উদ্বোধন করেছেন।
সোমবার
(৩ মার্চ) বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে রাজধানীর কাকরাইলে আঞ্জুমান জে আর টাওয়ার নামের নতুন
এ ভবনটির উদ্বোধন করা হয়।
নতুন
ভবন উদ্বোধন শেষে প্রধান উপদেষ্টা এতিম শিশুদের সঙ্গে ইফতার করেন।
প্রধান
উপদেষ্টার ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানান, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ ও আলী ইমাম মজুমদার,
আঞ্জুমান মুফিদুলের সভাপতি মুফলেহ আর. ওসমানী ও সহ-সভাপতি গোলাম রহমান উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


নির্বাচন কমিশন (ইসি) আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে ৬৫৩ জন বিচারিক হাকিমকে ১ জানুয়ারি প্রশিক্ষণ দেবে।
বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) এ সংক্রান্ত চিঠি সংশ্লিষ্টদের পাঠিয়েছেন ইসির আইন শাখার উপ-সচিব মো. আব্দুছ সালাম।
প্রশিক্ষণ নিয়ে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচনী অপরাধসমূহ আমলে নেওয়া ও তা সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচারের নিমিত্তে সারাদেশে ৩০০ সংসদীয় আসনে নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত ৬৫৩ জন প্রথম শ্রেণির বিজ্ঞ বিচারিক হাকিমদের ১ জানুয়ারি ১০টা থেকে দিনব্যাপী আগারগাঁওয়ের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ব্রিফিং/প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে।
ব্রিফিং/প্রশিক্ষণে বিজ্ঞ বিচারিক হাকিমদের নির্ধারিত তারিখ ও স্থানে সকাল ৯টায় নিবন্ধন সম্পন্ন করে দিনব্যাপী ব্রিফিং/প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করতে হবে।
মন্তব্য করুন


এরমধ্যে ২০টি ফ্লাইট
সরাসরি জেদ্দায় যাবে, দুটি ফ্লাইট যাবে মদিনা।
বিমান
বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স চট্টগ্রাম জেলার ব্যবস্থাপক মো. শাহাদাত হোসেন জানান, ১৪ মে
ভোররাত ৩টা ৫০ মিনিটে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে হজযাত্রীদের নিয়ে
বাংলাদেশ বিমানের বোয়িং ৭১৭ যোগে প্রথম ফ্লাইট যাত্রা শুরু করবে। প্রথম ফ্লাইটে
৪১৯ জন যাত্রী মদিনা যাবেন।
এই
বছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করতে যাবেন ৮৩ হাজার ২০২ জন। এর মধ্যে
সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাবেন ৪ হাজার ৩০৭ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যাবেন ৭৮
হাজার ৮৯৫ জন।
এর
আগে ৯ মে ঢাকা থেকে এ বছরের হজ ফ্লাইট শুরু হচ্ছে। ঢাকা থেকে এদিন হজযাত্রীদের
নিয়ে প্রথম ফ্লাইট সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা দেবে। এরপর শিডিউল অনুযায়ী পরবর্তী
ফ্লাইটগুলো ছাড়া হবে।
চাঁদ
দেখা সাপেক্ষে ১৬ জুন পালিত হতে পারে হজ। প্রতিবছর সাধারণত একমাস আগে থেকে শুরু হয়
হজ ফ্লাইট। তার আগে হজযাত্রীদের ভিসা, ফ্লাইট শিডিউল সংক্রান্ত কাজ শেষ করে থাকে
ধর্ম মন্ত্রণালয় ও এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ।
মন্তব্য করুন


রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন,পহেলা বৈশাখের মাঝে বাঙালি
খুঁজে পায় নিজস্ব ঐতিহ্য,সংস্কৃতি ও চেতনার স্বরূপ।
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি আজ দেয়া এক বাণীতে বলেন, শুভ
নববর্ষ-১৪৩১’ পহেলা বৈশাখ বাঙালি জাতির জীবনে পরম আনন্দের একটি দিন। আনন্দঘন
এই দিনে আমি দেশে ও বিদেশে বসবাসরত সকল বাংলাদেশিকে জানাই বাংলা নববর্ষের
শুভেচ্ছা। ২০১৬ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা বিশ্ব
সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাষ্ট্রদর্শন ও আদর্শের
অন্যতম ভিত্তি ছিল দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশ ও জাতীয় চেতনার উন্মেষ। সেই চেতনায়
উজ্জীবিত হয়ে বঙ্গবন্ধু কারারুদ্ধ জীবনে সহবন্দিদের নিয়ে নববর্ষ উদযাপন
করেছিলেন। জাতীয় সংস্কৃতির এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি জাতি হিসেবে বাঙালির জন্য
পরম গৌরব ও মর্যাদার।
রাষ্ট্রপতি আরো বলেন,পহেলা বৈশাখের মাঝে বাঙালি খুঁজে পায় নিজস্ব
ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও চেতনার স্বরূপ। দুঃখ, জরা, ব্যর্থতা ও মলিনতাকে ভুলে সবাই জেগে
ওঠে নব আনন্দে, নব উদ্যমে। বৈশাখের আগমনে বেজে উঠে নতুনের জয়গান। ফসলি সন
হিসেবে মোঘল আমলে যে বর্ষগণনার সূচনা হয়েছিল,সময়ের সাথে আজ সমগ্র বাঙালির
অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক স্মারক উৎসবে পরিণত হয়েছে।
এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের
আত্মবিকাশ ও বেড়ে ওঠার প্রেরণা। বৈশাখ শুধু উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।বাঙালি
সংস্কৃতির বিকাশ,আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মুক্তিসাধনায় পহেলা বৈশাখ এক অবিনাশী শক্তি।
বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও গণতান্ত্রিক বিকাশে সংস্কৃতির এই শক্তি রাজনৈতিকতন্ত্রের
চেতনাকে দৃঢ় ও বেগবান করে।
"পহেলা বৈশাখ আমাদেরকে উদার হতে শিক্ষা দেয় এবং একটি আদর্শ জাতিকে মানব সমাজের অনুপ্রাণিত হয়ে
বিশ্বমানবের সঙ্গে মিশে যাওয়ার শক্তি জোগায়। এই উদারনৈতিক চেতনাকে ধারণ করে
বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্রদর্শন, বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আদর্শ এবং রাষ্ট্রভাষা চেতনার
বহ্নিশিখা অন্তরে ধারণ করে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত, সুখী-সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ
বিনির্মাণ হোক আজকের দিনে সকলের অঙ্গীকার।"
ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সকলে মিলে নাচ-গান, শোভাযাত্রা,
আনন্দ-উৎসব, হরেক রকম খাবার ও বাহারি সাজে বৈশাখকে বরণ করে নেয় উৎসবপ্রেমী বাঙালি
জাতি। নতুন বছরে যাত্রাপালা, পুতুলনাচ, লোকসংগীত, গ্রামীণ খেলাধুলা, মেলাসহ
নানাবিধ বর্ণিল আয়োজন মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেয় আনন্দ ও সম্প্রীতির নতুন
বার্তা।
রাষ্ট্রপতি প্রত্যাশা - সকল অশুভ ও অসুন্দরের ওপর সত্য ও
সুন্দরের জয় হোক। ফেলে আসা বছরের সব শোক-দুঃখ-জরা দূর হোক, নতুন বছর জাতীয় ও ব্যক্তিজীবনে
নিয়ে আসুক অনাবিল সুখ ও সমৃদ্ধি।
মন্তব্য করুন


জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সদস্য সৈয়দা নীলিমা দোলা দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। শনিবার বিকেলে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এ ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি তার পদত্যাগপত্রও প্রকাশ করেন।
পদত্যাগপত্রে সৈয়দা নীলিমা দোলা এনসিপির রাজনৈতিক অবস্থান ও সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন, দলের সব দায়িত্ব ও পদ থেকে তিনি সরে দাঁড়াচ্ছেন, কারণ এনসিপির মাধ্যমে আর মধ্যপন্থী রাজনীতির নতুন কোনো ধারা তৈরি সম্ভব নয় বলে তিনি মনে করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে—এই প্রত্যাশা থেকেই তিনি এনসিপির সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দলটির একাধিক সিদ্ধান্ত তার কাছে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে এনসিপি ক্রমশ ডানপন্থী রাজনীতির দিকে ঝুঁকে পড়ছে এবং সেই ধারাকেই পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির নির্বাচনকেন্দ্রিক জোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি কোনো কৌশলগত জোট নয়। তার মতে, যদি সত্যিই এটি কৌশলগত হতো, তাহলে একের পর এক নেতাকর্মীর পদত্যাগ দেখা যেত না। তিনি অভিযোগ করেন, নেতাকর্মীদের না জানিয়ে এবং বিভ্রান্ত করে এই জোট গঠন করা হয়েছে। মনোনয়নের নামে প্রতারণা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
পদত্যাগপত্রে সৈয়দা নীলিমা দোলা আরও বলেন, দলে থেকে যাওয়া অনেকেই প্রশ্ন তুলতে পারেন—ক্ষমতা বা গুরুত্ব পাওয়ার পরও কেন তিনি চলে গেলেন। এর জবাবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, তাকে কোনো ধরনের ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। বরং তার প্রগতিশীল মানসিকতা ও ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের পরিচয়ই এতদিন এনসিপিকে শক্তি জুগিয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, যারা দল ছাড়ছেন তাদের ‘বামপন্থী’ হিসেবে চিহ্নিত করাও একটি পরিকল্পিত কৌশলের অংশ। তার প্রশ্ন—যদি বামপন্থীরা বেরিয়ে যায়, তবে যারা থেকে গেলেন তারা কি সবাই ডানপন্থী? এনসিপি কি আদৌ একটি সেন্ট্রিস্ট দল?
পদত্যাগপত্রের শেষাংশে তিনি উল্লেখ করেন, এনসিপিতে যোগ দেওয়ার আগেও তিনি রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সক্রিয় ছিলেন এবং দলটিতে যুক্ত হওয়ার পরও সেই কাজ অব্যাহত রেখেছেন।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐক্য গঠনের পর থেকেই এনসিপির একাধিক নেত্রী দল ছাড়ছেন। সৈয়দা নীলিমা দোলার পদত্যাগ সেই ধারাবাহিকতারই সর্বশেষ ঘটনা।
মন্তব্য করুন


শেরপুর-৩
(শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াতে ইসলামীর বৈধ প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা যাওয়ায় গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী উক্ত আসনের
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট স্থগিত করা হয়েছে।
আজ
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এ তথ্য
জানিয়েছেন।
গণপ্রতিনিধিত্ব
আদেশে বলা হয়েছে, কোনো বৈধ প্রার্থী মারা গেলে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচন বাতিল করবেন
রিটার্নিং কর্মকর্তা। এ ক্ষেত্রে নতুন করে তফসিল দিতে হবে।
তবে
আগের বৈধ প্রার্থীদের নতুন করে মনোনয়নপত্র দাখিলের প্রয়োজন হবে না।
বাংলাদেশ
জামায়াতে ইসলামীর বৈধ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মারা যাওয়ায় এ আসনে নতুন তফসিল দেবে
নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
গণপ্রতিনিধিত্ব
আদেশের অনুচ্ছেদ ১৭-এর দফা (১)-এ বলা হয়েছে, প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি-এমন কোনো
বৈধভাবে মনোনীত প্রার্থী মৃত্যুবরণ করলে রিটার্নিং অফিসার গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট
নির্বাচনসংক্রান্ত সকল কার্যক্রম বাতিল করবেন।
দফা
(২)-এ বলা হয়েছে, যে ক্ষেত্রে দফা (১)-এর অধীন কোনো নির্বাচনসংক্রান্ত কার্যক্রম বাতিল
করা হয়, সে ক্ষেত্রে এই আদেশের অধীন নতুন কার্যক্রম এমনভাবে শুরু করতে হবে, যেন এটি
একটি নতুন নির্বাচন।
তবে
শর্ত থাকে যে, অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নতুন করে মনোনয়নপত্র দাখিল করা
বা অনুচ্ছেদ ১৩-এর অধীন পুনরায় অর্থ জমা দেওয়ার কোনো প্রয়োজন হবে না।
মন্তব্য করুন


বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন,
নির্বাচনে সততা পালিয়ে গেছে। আমরা চেষ্টা করছি সততা ধরে রাখতে। আপনার ভোট বড় আমানত।
সেটা আমাকে দেবেন। কারণ আমি আপনাদের চেনা লোক।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে সালন্দর ইউনিয়নের
কালীতলা এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগে একথা বলেন তিনি।
মহাসচিব বলেন, আমরা ভিক্ষা আর দয়ায় বাঁচতে চাই না,
কাজ করে বাঁচতে চাই। সেজন্য প্রশিক্ষণ নিতে হবে।
আমাদের ছেলেগুলো শুধু পড়াশোনা করে এমএ-বিএ পাস করতে
চায়, কিন্তু পাস করে চাকরি মেলে না। প্রশিক্ষণ নিয়ে বাইরের দেশে গিয়ে ভালো আয় করা সম্ভব।
ছাত্রদের ওইদিকে মনোযোগী করতে হবে। সঠিক পথে যেতে হবে। এতে আমাদের উন্নতি হবে।
তিনি আরও বলেন, ১৫ বছর এসব কথা আমরা বলতে পারি নাই।
আমাদের শুধু পিটিয়েছে আর মামলা দিয়েছে৷ এখন আমরা কাজ করতে চাই। আপনারা সংগঠন গড়ে তুলবেন।
সংগঠনের মাধ্যমে আমরা কাজ করতে চাই।
সবজি রাখার জন্য কোল্ড স্টোরেজ করা হবে। নারীদের কুটির
শিল্পে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, ঠাকুরগাঁও আমার জন্মস্থান। আমার
বাবা, আমি ও আমার ছোট ভাই পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলাম। আওয়ামী লীগের আমলে ছোট ভাই চেয়ারম্যান
থাকা সত্বেও তাকে কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয় নাই। আমরা কাজ করতে পারি নাই। সরকার চলে যাওয়ায়
পর আমরা শহরের রাস্তার কাজগুলো নিয়ে এসেছি। আপনারা অতীতে ভোট দিয়েছেন এবারও দেবেন।
আমরা রাজনীতি করে ব্যবসা করি না। বাপের জমিজমা বিক্রি করে রাজনীতি করি। বাপের জমিজমা
যা ছিল অর্ধেক শেষ। এটাই আমার শেষ নির্বাচন, আপনারা আমাকে সুযোগ করে দেবেন। এসময় দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা
উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


কাজের ক্ষেত্রে কারো রক্তচক্ষু বা ধমক
আমলে না নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস মাঠ প্রশাসনকে
আইন অনুযায়ী দেশের জন্য কাজ করতে বলেছেন।
আজ রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে
১০টায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের শাপলা হলে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের উদ্বোধনী
অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ
ইউনূস বলেন, কারও রক্তচক্ষুর কারণে, কারো ধমকের কারণে কোনো কাজ করার প্রয়োজন নাই। আমি
নিজের মতো করে যেটাই আইন, যেটা দেশের জন্য করা দরকার সেটা করবো। সে কাজেই আমি ব্যস্ত
থাকবো যাতে আমি করতে পারি।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, বিনা কারণে মানুষকে হয়রানি করা হয়। হয়রানি
করাটাই যেন আমাদের ধর্ম! সরকার মানেই মানুষকে হয়রানি—এটার থেকে উল্টে দাও। সরকার ভিন্ন জিনিস,
আপনার অধিকার আপনার দরজায় পৌঁছে দেওয়া আমাদের কাজ। এটাই যেন আমরা স্মরণ রাখি।
দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠাকে সর্বোচ্চ
অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা যেহেতু এমন পরিস্থিতিতে
এসেছি, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা মস্ত বড় ইস্যু হয়ে গেল। এটাতে আমরা কে কী পরিমাণে
অগ্রসর হলাম, কী করণীয়—এটা
এক নম্বর বিবেচ্য বিষয়। আইন-শৃঙ্খলায় আমরা যেন বিফল না হই, কারণ এটাতে আমাদের সমস্ত
অর্জন সফলভাবে অর্জিত হতে বা বিফলতায় পর্যবসিত হতে পারে। সেটাই নিয়ে এই সম্মেলনে আলোচনা
হোক। ফিরে যাওয়ার পর যেন এটা বোঝার মধ্যে কোনো গলদ না থাকে।
মন্তব্য করুন