

পাবনায় কারাগারে থাকা কয়েদিদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ এবং তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
তারা হলেন—জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক তৌফিক ইমাম খান, জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শেখ লালু, গয়েশপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মোতাহার হোসেন মুতাই এবং আসাদুজ্জামান সুইট। তারা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় হামলা ও হত্যার ঘটনায় করা মামলার আসামি।
এ ঘটনায় শাস্তিস্বরূপ পাঁচ আসামিকে মঙ্গলবার (৪ মার্চ) অন্য জেলার কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে।
পাবনা জেলার জেল সুপার মো. ওমর ফারুক বলেন, কয়েকদিন ধরেই কারাগারে থাকা অন্য সাধারণ কয়েদিদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করছিলেন তারা। সবশেষ ৩ মার্চ বিকেলে এই পাঁচ কয়েদি কারাগারের অন্য কয়েদিদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন এবং বাকবিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে তাদের গায়ে হাত তোলেন।
এ ঘটনার পরে শাস্তিস্বরূপ কয়েদি তৌফিক ইমাম, শেখ লালু ও আসাদুজ্জামান সুইটকে রাজশাহী এবং মুতাই ও অন্যজনকে নওগাঁ জেলা কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।
পাবনা জেলার জেল সুপার আরো বলেন, বিগত সময়ে তারা বাইরে যেমন বেপরোয়াভাবে কথাবার্তা বলেছেন ও চলেছেন, কারাগারেও তেমনই চলছিলেন। ফলে ঝামেলাটা বাঁধে। অন্য কয়েদিদের সঙ্গে অশোভন আচরণ ও কারাগারে বিশৃঙ্খলার অভিযোগে ৪ মার্চ বিকেলে তাদের রাজশাহী ও নওগাঁ কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।
মন্তব্য করুন


তথ্য
ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন, এই প্রজন্মই দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের
রক্ষাকবচ।
তিনি
তার ভেরিফাইড ফেসবুকে ‘কয়েকটি কথা’শিরোনামে
আজ (৯ মে) একটি পোস্টে এই কথা বলেছেন।
তিনি
সেখানে লিখেছেন, একটি দলের এক্টিভিস্টরা বারবার লীগ নিষিদ্ধের আইনি প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে
ছাত্ররা রাজি ছিল না, এটা বলে বেড়াচ্ছেন। মিথ্যা কথা। ক্যাবিনেটে প্রথম মিটিং ছিল আমার।
আমি স্পষ্টভাবে এই আইনের অনেকগুলো ধারা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলাম। নাহিদ-আসিফও আমার পক্ষে
ছিল স্বভাবতই। দল হিসেবে বিচারের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরা হলে একজন উপদেষ্টার জবাব ছিল
ন্যুরেমবার্গ ট্রায়ালের মত পশ্চাৎপদ উদাহরণ আমরা আমলে নিতে পারি কি-না। এই যুক্তি যিনি
দিয়েছিলেন, একটি দলের এক্টিভিস্টরা আজ সমানে তার পক্ষে স্ট্যাটাস দিয়ে যাচ্ছেন ছাত্রদের
কুপোকাত করতে। অথচ, উনার সাথে আমাদের কোনো বিরোধ নেই। মিছে বিরোধ লাগানোর অপচেষ্টা
করে কোনো লাভ নেই।
বলে
রাখা ভালো, দু’জন আইন ব্যাকগ্রাউন্ডের
উপদেষ্টা (একজন ইতোমধ্যে মারা গিয়েছেন) ও আমাদের বক্তব্যের পক্ষে ছিলেন। সংস্কৃতি উপদেষ্টাও
পক্ষে ছিলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে কথা হয়েছে। দল হিসেবে লীগের বিচারের প্রভিশন
অচিরেই যুক্ত করার আশ্বাস দিয়েছেন উক্ত উপদেষ্টা। উনাকে ধন্যবাদ।
মিথ্যা
বলা বন্ধ করুন। ঘোষণাপত্র নিয়ে আপনাদের দুই মাস টালবাহানা নিয়ে আমরা বলব। ছাত্রদের
দল ঘোষণার প্রাক্কালে আপনারা দলীয় বয়ানের একটি ঘোষণাপত্র নিয়ে আলোচনা শুরু করেছিলেন।
সমস্যা নেই, আমরাও চাই সবাই স্বীকৃত হোক। কিন্তু, এখন সেটাও হতে দিবেন না। দোষ আমাদেরও
কম না। আমরা আপনাদের দলীয় প্রধানের আশ্বাসে আস্থা রেখেছিলাম।
পুনশ্চ:
আমরা নির্বাচন পেছাতে চাইনা। ডিসেম্বর টু জুনের মধ্যে নির্বাচন হবেই।
আপনারা
যদি মনে করেন, ছাত্ররা নিজেদের আদর্শ ও পরিকল্পনা নিতে পারে না বরং এখান থেকে ওখান
থেকে অহি আসলে আমরা কিছু করি। তাহলে আপনারা হয় ছাত্রদের খাটো করে দেখছেন, নয়তো ছাত্রদের
ডিলেজিটিমাইজ করার পরিকল্পনায় আছেন। সেই আগস্ট থেকেই আমরা জাতির জন্য যা ভালো মনে করেছি,
সবার পরামর্শ নিয়েই করেছি। বরং, উক্ত দলকেই আমরা বেশি ভরসা করেছি। সবার আগে উনাদের
সাথেই পরামর্শ করেছি। ভরসার বিনিময়ে পেয়েছি অশ্বডিম্ব। সব দোষ এখন ছাত্র উপদেষ্টা নন্দঘোষ!
আমরা
উক্ত দলকে বিশ্বাস করতে চাই। উক্ত দলের প্রধানকে বিশ্বাস করতে চাই। উনি আমাদের বিশ্বাসের
মূল্য দিয়ে লীগ নিষিদ্ধ প্রশ্নে ও ঘোষণাপত্র প্রকাশে দেশপ্রেমিক ও প্রাগমাটিক ভূমিকা
রাখবেন বলেই আস্থা রাখি। উক্ত দলকে নিয়ে কে কি বলবে জানি না কিন্তু আমরা চাই উক্ত দল
ছাত্রদের সাথে নিয়ে দেশের পক্ষে, অভ্যুত্থানের শত্রুদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ঐকমত্যের
নেতৃত্ব দিক। দেশপ্রেমিক ও সার্বভৌমত্বের পক্ষের শক্তি হিসাবে নেতৃত্ব দিলে ছাত্ররা
রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় উনাদের সাথে চলবেন।
ঐক্যবদ্ধ
হোন। নেতৃত্ব দিন। এই প্রজন্মকে হতাশ করবেন না।‘এই
প্রজন্ম দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ।’
মাহফুজ
আলম ২০২৪ এর জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালীন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম
সংগঠক ছিলেন। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কমিটির একজন সমন্বয়ক ছিলেন। বৈষম্যবিরোধী
ছাত্র আন্দোলন থেকে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মাহফুজ আলম।
মন্তব্য করুন


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাম্য হত্যাকান্ডের ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনা হবে বলে জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
তিনি তার ভেরিফাইড ফেসবুকে এক পোস্টে বলেন, ইতিমধ্যে সাম্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।
উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে এক আতঙ্কের স্থান থেকে ধীরে ধীরে একটি নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক স্থানে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় সরকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে।
দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আলম সাম্য নিহত হওয়ার ঘটনায় রাত আটটার পর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধসহ সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া অপর এক পোস্টে জানান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয় বলে জানান উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ।
বৈঠকে নেওয়া অন্য সিদ্ধান্তগুলো হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেট স্থায়ীভাবে বন্ধ করা, উদ্যানে অবৈধ দোকান উচ্ছেদ, মাদক ব্যবসা বন্ধ এবং পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, সিটি কর্পোরেশন, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা। নিয়মিত মনিটরিং ও অভিযানের জন্য সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে একটি কমিটি গঠন, উদ্যানে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা ও ক্লোজড সার্কিট (সিসিটিভি) ক্যামেরা স্থাপন এবং সেগুলোর নিয়মিত মনিটরিং করা; উদ্যানে একটি ডেডিকেটেড পুলিশ বক্স স্থাপন এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেও রমনা পার্কের মতো সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা চালু করা।
মঙ্গলবার দিবাগত রাতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চের পাশে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে নিহত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার। তিনি স্যার এ এফ রহমান হল শাখা ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক ছিলেন। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল খুনীদের অবিলম্বে গ্রেফতারসহ বিভিন্ন দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
মন্তব্য করুন


ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবারের দেখাশোনাসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের বলে জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ের ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অফিস কক্ষে বাইপাইলে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পুলিশের গুলিতে নিহত মো. রমজান আলীর পরিবারের সাথে সাক্ষাতকালে তথ্য উপদেষ্টা এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন,গণঅভ্যুত্থানের সময় যেভাবে ছাত্র-জনতা রাস্তায় নেমে এসেছিলো, তাদের রক্তের বিনিময়ে আমরা নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। শহীদদের জন্যই আমরা বেঁচে আছি, বাক্স্বাধীনতা ফিরে পেয়েছি।
এ সময় তথ্য উপদেষ্টা শহীদ রমজান আলীর পরিবারের খোঁজখবর নেন। তাদেরসহ সব শহীদ পরিবারের মাসিক ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। উপদেষ্টার সাথে সাক্ষাতের সময় শহীদ রমজানের পরিবার থেকে তার বাবা ও ছোট বোন উপস্থিত ছিলেন।
শহীদ রমজান আলী নাটোরের সিংড়ায় স্নাতক শ্রেণিতে পড়াশোনা করতেন। তার পরিবারের কেউ উপার্জনক্ষম না থাকায় বাইপাইলে একটি মাছের আড়তে কাজ করে তিনি পুরো পরিবারের খরচ চালাতেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন তিনি আন্দোলনে অংশ নেন এবং ৫ আগস্ট পুলিশের গুলিতে নিহত হন।
মন্তব্য করুন


দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে জাতীয় স্বার্থে
সবাই যেন ঐক্যবদ্ধ থাকে সেজন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে
ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
আজ বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) রাতে রাষ্ট্রীয়
অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের
ব্রিফিংকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান
বলেন, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ কয়েকজন উপদেষ্টা বৈঠকে ছিলেন। তাদের
সঙ্গে বিদ্যমান পরিস্থিতির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। দেশ কীভাবে শান্তিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে
আগামীতে একটা কার্যকর নির্বাচনের দিকে এগোতে পারে, সে বিষয়ে কথা হয়েছে।
তিনি বলেন, জাতি-ধর্ম, দল-মত নির্বিশেষে
এ দেশ আমাদের সবার। সবাই মিলেমিশে জাতীয় ঐক্য আরও কীভাবে সংহত করা যায়, প্রশাসনকে আরও কীভাবে গুছিয়ে আনা যায়, এসব বিষয়ে
আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি দ্রব্যমূল্যের যে ঊর্ধ্বগতি, যেটাতে মানুষের কষ্ট হচ্ছে, সেটাকে
লাঘব করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামীতে রমজান মাস আসছে, এটাকে কেন্দ্র করে অসাধু ব্যবসায়ীরা
যেন কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে না পারে, সেসব নিয়েও কথা হয়েছে। আমরা পরামর্শ করেছি।
পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও অনেক আলোচনা হয়েছে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কিছু
বিষয় নিয়ে আলাপ হয়েছে। এসব আলোচনায় আমরা একমত হয়েছি যে—দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়েই দেশকে সামনে
এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। আর দেশের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে যারাই জড়িত থাকবে,
তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। এর মাধ্যমে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে দিতে হবে। এরজন্য
প্রয়োজন সর্বোত জাতীয় ঐক্য। দল-মত-ধর্মের ভিন্নতা থাকতে পারে, তবে জাতীয় স্বার্থে আমরা
যেন ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারি। আপনাদের মাধ্যমে আমরা সে আহ্বান জানাই। আমরা বৈঠকেও এ কথা
বলেছি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ন্যূনতম যে
সংস্কার দরকার, সেটা দ্রুত করে তারপর নির্বাচন আয়োজনের কথা বলে এসেছি আমরা।
বৈঠকে জামায়াত আমিরের সঙ্গে উপস্থিত
ছিলেন, দলটির দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, আব্দুল হালিম এবং
নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন।
মন্তব্য করুন


জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আজ (১৪ মার্চ) সকালে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
রাজধানীর তেজগাঁও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের পর জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এবং প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস দুইজন কক্সবাজার সফরে যাবেন। সেখানে তারা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে ইফতার করার পাশাপাশি আরো কিছু কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন।
মন্তব্য করুন


দেশবাসীর
উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির পায়তারা
চলছে, সতর্ক থাকুন।’
তিনি
বলেন, ‘আজকে যারা দেশে এই অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করতে চায় তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক
থাকতে হবে। কারণ, দেশে এই মুহূর্তে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড
বাধাগ্রস্ত হবে। দেশের মানুষ বিপদে পড়বে।’
আজ
শনিবার ( ২৩ মে ) দুপুরে ত্রিশালের বৈলর এলাকার ‘ধরার খাল’
পুনঃখননের পর উপস্থিত নেতা-কর্মীসহ গ্রামবাসীদের এক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা
বলেন।
পল্লবীতে
শিশু রামিসা হত্যার ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘তিন-চার দিন আগে এই অত্যন্ত দুঃখজনক,
হৃদয় বিদারক একটি ঘটনা ঘটছে। এই ছোট্ট বাচ্চাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। প্রথম থেকে
আমরা বলে এসেছি যে, আইনের দৃষ্টিতে কোন ব্যক্তি যদি অপরাধ করে তাকে শাস্তি পেতে হবে।
আইনের শাসন আমরা প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। তবে সব কিছু নিয়ম কানুন মেনেই করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, ‘যে কোন অন্যায়কারীকে শাস্তি দিতে হলে, তার বিচার করতে হলে সরকারের কতগুলা নিয়ম
কানুন আছে। অথচ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে কিছু সংখ্যক মানুষ একটা ঘোলাটে
পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করছে। রাস্তাঘাট বন্ধ করে দিচ্ছে, যান বাহন চলাচল বন্ধ
করে দিচ্ছে, এখানে আগুন ধরাচ্ছে, ওখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হচ্ছে। এই কাজগুলো যারা করে
তারা আইনের শাসনকে বাধাগ্রস্ত করছে।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যখন ক্ষমতায়
ছিল সেই সময় আমরা দেখেছি দেশে কয়েকটি দুঃখজনক এরকম অন্যায় ঘটেছে, সেই অন্যায় যখন ঘটেছে
আমি নিজে সেই সকল বাচ্চার মায়েদের সাথে কথা বলেছিলাম, আমাদের দলের আইনজীবী, আমাদের
দলের চিকিৎসকরা গিয়ে চিকিৎসা দিয়েছে, আইনজীবীরা গিয়ে সেই আইনি সহায়তা করেছিল। আজকে
যেই ব্যক্তিরা হৈচৈ করছে, রাস্তা অবরোধ করছে, বড় বড় কথা বলছে, সেদিন কিন্তু তাদেরকে
আমরা মাঠে দেখিনি, সেদিন কিন্তু আমরা দেখিনি তারা অবরোধ করেছে।’
তিনি
প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘তাহলে কি আমরা ধরে নেব ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ
যেহেতু বিএনপিকে ভোট দিয়ে সরকার গঠন করতে ক্ষমতা দিয়েছে সেই জন্যই কোনো মহলের মনে জ্বালা
হচ্ছে এবং এই জ্বালার কারণেই তারা এসব ষড়যন্ত্র করছে?’
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, ‘আমাদেরকে সতর্ক হতে হবে। গত ৫ আগস্ট যাদেরকে বাংলাদেশের মানুষ এই দেশ থেকে বিতাড়িত
করে দিয়েছিল, এখন যারা অরাজগতা সৃষ্টি করতে চাইছে তাদের মধ্যে যোগসূত্র রয়েছে। যেভাবে
‘৯৬ সালে করেছিল, যেইভাবে ’৮৬ সালে করেছিল,
তাদের সাথে নতুন কয়েকটি লেজও গজিয়েছে। সুন্দর
ছোট ছোট লেজেও গজিয়েছে।’
তিনি
বলেন, ‘আমরা এই দেশ থেকে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছি। যেই স্বৈরাচার বাংলাদেশের মানুষের
ভোটের অধিকার, মানুষের কথা বলার অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, খেটে খাওয়া মানুষ, গ্রামে বাস
করা মানুষের সকল প্রকার উন্নয়ন বন্ধ করে দিয়েছিল সেই স্বৈরাচারকে এই বাংলাদেশের মানুষ
ছাত্র-জনতা রাজপথে একত্রিত হয়ে তাদেরকে এই দেশ থেকে বের করে দিয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, ‘এখন বাংলাদেশের মানুষ দেশ গঠন করতে চায়। বাংলাদেশের মানুষ তার ভাগ্যের পরিবর্তন
করতে চায়। ভাগ্যের পরিবর্তন যদি করতে হয় আমাদের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে সক্রিয়
করে তুলতে হবে, আমাদের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কাজে ব্যবহার করতে হবে, তাহলেই
আমরা এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারব।’
জনগণের
ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা রুখতে হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলে, ‘আজকে সময় এসেছে
মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য কাজ করার। অন্যদিকে যারা ন্যায় বিচারকে, সঠিক বিচারকে,
বাধাগ্রস্ত করার জন্য বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, মানুষের জন্য গৃহীত কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্তের
জন্য বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে তাদের ব্যাপারে বাংলাদেশের মানুষকে সজাগ থাকতে হবে।’
তিনি
বলেন, ‘মনে রাখতে হবে এদেশের মালিক জনগণ। কিছু সংখ্যক মানুষ দেশে বিভ্রান্তি ছড়াবে
আর তারা সফল হয়ে যাবে,মানুষের ভাগ্যে নিয়ে ছিনিমিনি খেলবে এই কাজ আর হতে দেওয়া যাবে
না। যারা জনগণের সাথে থাকবে জনগণের পাশে থাকবে, জনগণের জন্য কাজ করবে বাংলাদেশের জনগণ
তাদেরকেই সাথে নিয়ে এই দেশকে রক্ষা করবে যে কোন ষড়যন্ত্রের হাত থেকে।’
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, ‘আমার ঘর আমাকেই দেখতে হবে। আমাদের দেশ আমাদেরকেই দেখতে হবে। আমাদের দেশের স্বাধীনতা,
আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব, আমাদের দেশের মানুষের স্বার্থ আমরাই দেখব এবং যে কোন ষড়যন্ত্র
প্রতিহত করব আমরা ইনশল্লাহ।’
ময়মনসিংহ-৭
আসনে সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান লিটনের সভাপতিত্বে সমাবেশে দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী
আসাদুল হাবিব দুলুসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
এর
আগে প্রধানমন্ত্রী খাল পূনঃখনন স্থলে এসেই ফলক উন্মোচন করেন। এরপর তিনি নিজে খালের
কাছে গিয়ে কোদাল দিয়ে ‘ধরার খাল’ পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। তিনি
খালের পাশে একটি তাল গাছের চারাও রোপণ করেন।
মন্তব্য করুন


ইয়াংওয়ান করপোরেশনের চেয়ারম্যান কিহাক সাংয়ের নেতৃত্বে কোরিয়ার বিনিয়োগকারীদের একটি প্রতিনিধিদল আজ মঙ্গলবার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় তারা
অন্তর্বর্তীকালীন
সরকারের উদ্যোগে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটি নতুন যুগের সূচনা হওয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত রয়েছে
বলে ঘোষণা দেন।
প্রতিনিধিদলে এলজির কর্মকর্তাসহ কোরিয়ার টেক্সটাইল, ফ্যাশন, স্পিনিং, লজিস্টিকস, স্বাস্থ্যসেবা, বিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের বৃহৎ বেশ কয়েকটি কোম্পানির প্রতিনিধিরা ছিলেন।
বৈঠকে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মূখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিনিধিদলটি গতকাল সোমবার চট্টগ্রামে কোরিয়ান ইপিজেড পরিদর্শন করেন। ইয়াংওয়ান করপোরেশন পরিচালিত এই শিল্পপার্কে অনেক বিনিয়োগকারী তাৎক্ষণিকভাবে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেন।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক
ড. ইউনূস বাংলাদেশে ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নের জন্য শ্রম, শিল্প, জ্বালানি ও বিনিয়োগ নীতিতে গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এমন সময়ে আপনারা বাংলাদেশে এসেছেন যখন আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ নির্মাণ করছি। এই নতুন বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ এখন সহজ ও ঝামেলামুক্ত। আপনাদের জন্য বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করা আমাদের দায়িত্ব। আমি জানি গত ১৬ বছরে আপনাদের অনেক চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে হয়েছে, আমরা সেই সময়ের ক্ষতিপূরণ দিতে চাই। ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশে আসা কিহাক সাং প্রধান উপদেষ্টার কথার সঙ্গে একমত পোষণ করেন এবং দেশের ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ ও সরকারের ইতিবাচক নীতির প্রশংসা করেন।
অধ্যাপক
ড. ইউনূস বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহ দেন যাতে তারা বাংলাদেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে অবদান রাখতে পারেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে আপনাদের ব্যবসার গন্তব্য এবং অনুপ্রেরণার উৎস বানান। আপনারা কোটি কোটি মানুষকে অনুপ্রাণিত করার ক্ষমতা রাখেন।’
কিহাক সাং ঘোষণা দেন, ইয়াংওয়ান করপোরেশন চট্টগ্রামে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে একটি টেক্সটাইল ও ফ্যাশন কলেজ স্থাপন করবে, যা বাংলাদেশকে বিশ্বের শীর্ষ টেক্সটাইল হাবে পরিণত করতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করবে।
তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রধান উপদেষ্টার প্রেরিত সাম্প্রতিক চিঠিরও প্রশংসা করেন, যা নতুন মার্কিন প্রশাসনের নীতির কারণে উদ্ভূত উদ্বেগ নিরসনে সহায়ক হয়েছে। তিনি বলেন, ‘চিঠিটি অত্যন্ত সুচিন্তিত ছিল’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের পরামর্শও দেন।
বাংলাদেশের সাপ্লাই চেইন কাঠামো অনন্য উল্লেখ করে কোরিয়ান ফ্যাশন ও রিটেইল খাতের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ থেকে পোশাক কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল খাতও দ্রুত বিকাশমান এবং বিশ্ব বাণিজ্য কাঠামোতে দেশটি শীর্ষ ওষুধ রপ্তানিকারক হতে পারে। একজন বিনিয়োগকারী দেশে একটি এপিআই (অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রিডিয়েন্ট) কারখানা স্থাপনের আগ্রহ জানান।
অধ্যাপক
ড. ইউনূস প্রতিনিধিদলের একজন শীর্ষ কোরীয় সার্জনকে চট্টগ্রামে একটি হাসপাতাল স্থাপনের প্রস্তাব দেন।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লা ১৮৬৪ সালের ৩০ নভেম্বর যে স্থানে কুমিল্লা পৌরভবন স্থাপন করা হয়, সেখানেই আছে বর্তমান নগর ভবন। নতুন নগর ভবন এই স্থানেই করতে হবে। এর বাইরে নেওয়ার সুযোগ নেই। স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. রবিউল ইসলামের কাছে নগরবাসী ওই মতামত দেন। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত তিনি কুমিল্লা নগরের বিভিন্ন মহলের বক্তব্য রেকর্ড করেন। এতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের অনুসারী গুটি কয়েক ব্যক্তি ছাড়া সবাই বর্তমান স্থানেই নতুন নগর ভবন নির্মাণের পক্ষে মতামত দেন।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের অতীন্দ্র মোহন রায় সম্মেলন কক্ষে তদন্ত কমিটির ওই সভা হয়। এতে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. রবিউল ইসলাম তদন্ত কাজের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। এতে তিনি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, বর্তমান স্থানে নতুন ভবন চান বর্তমান প্রশাসক। নগরের দক্ষিণ এলাকার ছোট ধর্মপুরে চান স্থানীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। দুইটি আবেদনের প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় আমাকে সরেজমিনে এসে তদন্ত কাজ করতে বলে। আমি ওই কারণে এসেছি। আপনারা মতামত দিন।
এ সময় কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু সায়েম ভূঁঞা। সভায় উপস্থিত নাগরিকদের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা কে হাজির করা হয়।
বর্তমান স্থানে নতুন নগর ভবন নির্মাণ নিয়ে মতামত দেন সুশাসনের জন্য নাগরিক ( সুজন) কুমিল্লার সভাপতি শাহ মো. আলমগীর খান, কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি জহিরুল হক দুলাল, আবুল হাসনাত বাবুল, মাসুক আলতাফ চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম হৃদয়, আমার শহর পত্রিকার সম্পাদক গাজীউল হক সোহাগ, কুমিল্লা নাগরিক সমাজের সাধারণ সম্পাদক শাহাজাদা এমরান, কুমিল্লা টাউন হলের সদস্য সচিব সাজ্জাদুল কবীর, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে দুইবার নির্বাচন করা প্রার্থী মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন কায়সার, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক শওকত আলী বকুল, কুমিল্লা মহানগর মহিলা দলের সভাপতি রায়হান রহমান হেলেন, দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক রূপালী, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি মো. নাহিদুজ্জামান রানা প্রমুখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবদলের আহবায়ক আনোয়ারুল হক, যুগ্ম আহবায়ক খলিলুর রহমান বিপ্লব , মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব রোমান হাসান, যুবদল নেতা রনি। বিএনপির নেতা আতাউর রহমান ছুট্রি, রেজাউল হক আঁখি, ১১ নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান গোলদার, কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান, সিনিয়র সহসভাপতি নজরুল ইসলাম দুলাল।
ছোট ধর্মপুর এলাকায় নগর ভবন স্থাপনের পক্ষে মত দিয়েছেন সাবেক কাউন্সিলর খলিলুর রহমান মজুমদার, সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট আখতার হোসাইন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক চৌধুরী, সাবেক কাউন্সিলর হারুনুর রশিদ, মো. শাহ আলম মজুমদার ও কাজী মাহবুবুর রহমান।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. রবিউল ইসলাম বলেন, আমি আপনাদের সবার বক্তব্য সংরক্ষণ করেছি। লিপিবদ্ধ করেছি। লিখিত নিয়েছি। আপনাদের মতামত আমি ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।
এরপর তিনি ঢাকা- চট্রগ্রাম মহাসড়কের অদূরে ছোট ধর্মপুর এলাকায় আঞ্চলিক নগর ভবন দেখতে যান। সেখানেই মনিরুল হক চৌধুরী নতুন নগর ভবন নির্মাণ করতে চান। আর পুরাতন স্থানে অর্থাৎ বর্তমান স্থানে চান প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু। এ নিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগে দুই নেতা পাল্টাপাল্টি চিঠি দেন। এরই প্রেক্ষিতে এই জরুরি তদন্ত কাজ হয়।
এদিকে মনিরুল হক চৌধুরীর আবেদনের প্রেক্ষিতে বর্তমানে দরপত্র কার্যক্রম অর্থাৎ টেন্ডার সিডিউল বিক্রি ও জমা দেওয়া বন্ধ রয়েছে। সভায় বক্তারা দ্রæত টেন্ডার প্রক্রিয়া চালু করার দাবি উপস্থাপন করেন।
মন্তব্য করুন


আজ শনিবার (১০ মে) রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন
যমুনায় শুরু হওয়া এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ
ইউনূস।
প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার
রাত ৮টা ৫০ মিনিটে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।
এদিকে এনসিপিসহ বেশকিছু রাজনৈতিক দল ও সংগঠন আওয়ামীলীগকে
নিষিদ্ধ করার দাবিতে তিন দিন ধরে টানা কর্মসূচি পালন করছে। শুক্রবার থেকে ‘শাহবাগ ব্লকেড’ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।
শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এক বিবৃতিতে বলা
হয়,
সম্প্রতি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল,
সংগঠন ও জনগণের পক্ষ থেকে স্বৈরশাসন ও সন্ত্রাসী
কার্যক্রমের অভিযোগে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার যে দাবি উঠেছে,
তা সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। এ ব্যাপারে সরকার
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ইতিমধ্যে যোগাযোগ করেছে। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত
সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের নেতা ও সমর্থকদের সন্ত্রাসী
কার্যক্রমের বিষয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদন সরকার বিবেচনায় রাখছে। সে পর্যন্ত সকলকে
ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানাচ্ছে। উল্লেখ্য যে, ইতিমধ্যে সরকার জনদাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রচলিত আইনের
অধীনে সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করেছে। চলমান তদন্তে সহযোগিতা করার
পরিবর্তে,
দলটি দেশের স্থিতিশীলতাকে বিপন্ন করার জন্য স্পষ্টতই চেষ্টা
চালিয়ে যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন


প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমান দেশে সনদনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে দক্ষতাভিত্তিক, প্রযুক্তি নির্ভর এবং
বাস্তব ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
তিনি
বলেন, ‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও অটোমেশনের চ্যালেঞ্জ
মোকাবিলায় প্রচলিত শিক্ষা কারিকুলামকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করার কোনো বিকল্প নেই।'
তিনি
আজ রোববার (০৭ জুন ) সকালে বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
আয়োজিত 'কর্মমুখী ও টেকনিক্যাল শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ’
কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, 'দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময়ের ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণ শুধুমাত্র দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক
রাজনৈতিক অধিকারই কেড়ে নেয়নি কিংবা দেশের সাংবিধানিক এবং বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোকেই
অকার্যকর করে দেয়নি, শিক্ষা ব্যবস্থাকেও বিপর্যস্ত করে দিয়েছে। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে
এবার আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর পালা।'
একটি
জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, 'দেশের স্বাধীনতা এবং
মুক্তিযুদ্ধ অর্জন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে যেসব সাহসী মানুষ
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় আত্মত্যাগ করেছেন, তাঁদের অবদানকে
সম্মান জানাতে আমাদের শিক্ষা-দীক্ষায়, জ্ঞানে-বিজ্ঞানে ও প্রযুক্তিতে নিজেদের প্রস্তুত
করতে হবে। অন্যথায় বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কষ্টকর হবে।'
উচ্চশিক্ষা
বিস্তারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'সারাদেশে
২ হাজারের বেশি অধিভুক্ত কলেজে বর্তমানে ৪০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। উচ্চশিক্ষা
ব্যবস্থাপনার সংকট নিরসন এবং সবার জন্য শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী
মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯২ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। দেশের আধুনিক
ও প্রযুক্তিনির্ভর উচ্চশিক্ষা বিস্তারে এই প্রতিষ্ঠানটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
পালন করতে পারে।'
প্রযুক্তির
দ্রুত পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, 'অটোমেশন এবং এআই-চালিত প্রযুক্তির কারণে
অনেক পুরোনো পেশা ঝুঁকির মুখে পড়লেও নতুন অনেক কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হচ্ছে।
এই প্রযুক্তিগত বিপ্লব মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার সিকিউরিটি, প্রোগ্রামিং,
ডিজিটাল এন্টারপ্রেনারশিপ, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ন্যানো টেকনোলজি এবং ফাইভ জি প্রযুক্তির
মতো বিষয়গুলো শিক্ষা কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করা অপরিহার্য। বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে
প্রাথমিক থেকে সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত শিক্ষাক্রমকে বাস্তবভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর
করার কাজ শুরু করেছে।'
প্রধানমন্ত্রী
উচ্চশিক্ষিত পর্যায়ে বেকারত্বের হার কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, 'সর্বোচ্চ একাডেমিক
সার্টিফিকেট অর্জন করলেও প্রায়োগিক দক্ষতার অভাবে অনেকেই বেকার থাকছেন। এই পরিস্থিতি
উত্তরণে সরকার এপ্রেন্টিসশীপ, ইন্টার্নশীপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা বাড়াতে
কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে। প্রাথমিকভাবে বিভাগীয় শহরগুলোতে এই পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা
হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি কর্মদক্ষতা অর্জন করতে পারেন।'
মন্তব্য করুন