

কক্সবাজারের
টেকনাফ সীমান্তে ফের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নাফ নদীর ওপার থেকে থেমে থেমে গোলাগুলি ও বোমা
বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসায় সীমান্তঘেঁষা এলাকার মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার দিনভর এসব শব্দে স্থানীয়দের ঘরবাড়ি কেঁপে ওঠে বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা।
এ
পরিস্থিতিতে টেকনাফ উপজেলার নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে এক জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
শুক্রবার
সকালে হোয়াইক্যংয়ের উত্তরপাড়া সীমান্ত এলাকায় গোলাগুলির ঘটনার পর থেকে বর্ডার গার্ড
বাংলাদেশ (বিজিবি) সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন জেলে
ও সীমান্তবাসীদের সতর্ক থাকতে নির্দেশ দিয়েছে।
আহত
জেলের নাম মো. আলমগীর (৩১)। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নাফ নদীতে মাছ ও কাঁকড়া ধরার সময়
মিয়ানমার দিক থেকে ছোড়া গুলিতে তিনি আহত হন। গুলি তার হাত ভেদ করে বেরিয়ে যায়।
আলমগীর
টেকনাফের হোয়াইক্যং বিজিবি ক্যাম্পসংলগ্ন বালুখালী গ্রামের বাসিন্দা। তাকে কক্সবাজার
সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের
সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতেও সীমান্ত এলাকায় গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়।
পরিস্থিতি কিছু সময় শান্ত থাকলেও শুক্রবার সকাল ১০টার পর হোয়াইক্যং সীমান্তের ওপারে
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে
সঙ্গে একাধিক শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণের শব্দে এপারের বসতবাড়ি কেঁপে ওঠে।
হোয়াইক্যং
সীমান্তের বাসিন্দা আকবর হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার রাতে কয়েক দফা গুলির শব্দের কারণে
তিনি সারারাত আতঙ্কে ছিলেন। স্থানীয় জেলে ইকবাল মাঝি বলেন, রাখাইন সীমান্ত এলাকায় প্রায়ই
গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, এতে নাফ নদী ও চিংড়ি ঘেরে মাছ ধরতে যেতে ভয় লাগে।
হোয়াইক্যং
ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু জানান, শুক্রবার সকাল ১০টার
পর থেকে একের পর এক বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। বেলা ১১টার দিকে তিন থেকে
চারটি শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। এর আগেও রাখাইন সীমান্ত থেকে ছোড়া
গুলিতে এপারে একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
টেকনাফ
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমামুল হাফিজ নাদিম বলেন, সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের
নিরাপদ স্থানে থাকতে বলা হয়েছে এবং গুলিবিদ্ধ জেলের পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে
৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলামের দাবি, গুলিবিদ্ধ জেলে মাছ ধরার
সময় ভুলবশত সীমান্ত অতিক্রম করে মিয়ানমার অংশে ঢুকে পড়েছিলেন। সেখান থেকেই তাকে লক্ষ্য
করে গুলি করা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, শুক্রবার সকাল থেকে থেমে থেমে
মিয়ানমার অংশে গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে এবং বিজিবি সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
মিয়ানমারের
অভ্যন্তরে জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবেই সীমান্ত
এলাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে সীমান্তবাসীদের মধ্যে চরম
আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে।
মন্তব্য করুন


আইন
উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, শিগগিরই সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল করা হবে।
বৃহস্পতিবার
(৩ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর বিচার প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ
কথা বলেন।
উপদেষ্টা
আসিফ নজরুল বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব কালাকানুন বাতিল করা হবে। ডিজিটাল সার্ভিসেস
অ্যাক্টে (ডিএসএ) হওয়া মামলাগুলো প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর
আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর আইন মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সাইবার আইনে হওয়া ‘স্পিচ
অফেন্স’ (মুক্তমত প্রকাশ) সম্পর্কিত মামলাগুলো প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
মন্তব্য করুন


ঘন
কুয়াশায় চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে যাত্রীবাহী দুটি লঞ্চের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এতে অন্তত ৪ জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার
(২৫ ডিসেম্বর) রাত ২টার দিকে হাইমচর উপজেলা ও হরিণা এলাকার মাঝামাঝি স্থানে এ ঘটনা
ঘটে। পরে দুর্ঘটনাকবলিত লঞ্চের হতাহত যাত্রীদের ঢাকার সদরঘাটে আনা হয়।
এ
বিষয়ে সদরঘাট নৌ থানার ওসি সোহাগ রানা কালবেলাকে বলেন, ‘লঞ্চে সংঘর্ষের ঘটনায় ৪ জনের
লাশ পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৬-৭ জন। খোঁজখবর নিয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।’
বিআইডব্লিউটিএ
সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার কবলে পড়া লঞ্চ দুটি হচ্ছে ঢাকামুখী এমভি জাকির সম্রাট-৩
এবং ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বরিশালমুখী অ্যাডভেঞ্চার-৯।
প্রত্যক্ষদর্শীরা
জানান, তারেক রহমানের জনসভায় যোগ দিয়ে ঝালকাঠি বিএনপির নেতাকর্মীদের একটি অংশ অ্যাডভেঞ্চার-৯
লঞ্চে করে ঝালকাঠি ফিরছিলেন। রাতে ঘন কুয়াশার মধ্যে সম্রাট নামক একটি লঞ্চের সঙ্গে
মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় ঝালকাঠিগামী অ্যাডভেঞ্চার-৯-এর সঙ্গে। এতে দুই লঞ্চের ৩০ যাত্রী
আহত হয়।
এ
বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ চাঁদপুরের উপপরিচালক বছির আলী বলেন, ‘ঘন কুয়াশায় এ দুর্ঘটনা ঘটতে
পারে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি। নিহতদের
মরদেহ নিয়ে দুর্ঘটনার পর জাকির সম্রাট লঞ্চটি ঢাকা সদরঘাটে চলে গেছে।’
মন্তব্য করুন


নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ ব্যাহত করার চেষ্টা হলে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে উদ্দেশ্যমূলকভাবে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা জনমনে ভয় সৃষ্টি করছে। এ ধরনের তৎপরতা বন্ধে সরকার দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। কোন রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় এলে কী হতে পারে—এ নিয়ে বাইরে থেকে মন্তব্য করার কোনো সুযোগ নেই।
নির্বাচনী প্রচারে আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জানান, কিছু এলাকায় প্রার্থীরা সীমা অতিক্রম করছেন। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান এবং বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না।
মন্তব্য করুন


আগামী ৩ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত
হতে যাচ্ছে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বাংলাদেশ অধিনায়ক
নিগার সুলতানা জ্যোতি ও ভারতের অধিনায়ক হারমানপ্রিত কৌরকে সামনে রেখে বিশ্বকাপের সূচি
প্রকাশ করে আইসিসি।
এনিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো নারী টি-টোয়েন্টি
বিশ্বকাপ আয়োজন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আর এবারের
আসরে দুটি গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে দশটি দল। এর আগে স্বাগতিক বাংলাদেশসহ ৮টি দল সরাসরি
বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে। বাকি দুটি দল উঠে আসবে চলমান বাছাইপর্ব থেকে।
স্বাগতিক বাংলাদেশ পড়েছে বি গ্রুপে।
যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও বাছাইপর্বের দ্বিতীয়
দল।
অপর গ্রুপে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, ভারত,
নিউজিল্যান্ড পাকিস্তান ও বাছাইপর্বের প্রথম দল।
১৯ দিনের এই আসরে দুটি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত
হবে মোট ২৩টি ম্যাচ। বাংলাদেশসহ গ্রুপ 'বি' এর সকল ম্যাচগুলো হবে ঢাকার শেরেবাংলা জাতীয়
স্টেডিয়ামে। গ্রুপ 'এ'- এর সবগুলো ম্যাচের ভেন্যু সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম। ২০
অক্টোবর ঢাকায় ফাইনালের মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে বিশ্বকাপের নবম আসরের। প্রথম সেমিফাইনালে
সিলেট ও দ্বিতীয় সেমিফাইনাল হবে ঢাকায়। নকআউট পর্বের প্রতিটি ম্যাচের জন্যই থাকবে রিজার্ভ
ডে।
আসরের প্রথম দিন বাছাইপর্ব থেকে আসা
দ্বিতীয় দলের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ
টেলিভিশনকে (বিটিভি) জনগণের প্রচারমাধ্যম হিসেবে রূপ দেয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে
জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
আজ
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে বৈঠক শেষে
তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী
বলেন, তরুণ প্রজন্মের মূল্যবোধ গড়ে তুলতে বিটিভি, বেতার ও সামাজিক মাধ্যমকে কীভাবে
ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠক
প্রসঙ্গে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের মন্ত্রণালয়ের কাজের
পরিকল্পনা ও অগ্রগতি নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে।
মন্তব্য করুন


সৌদি
আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত খনি কোম্পানি সৌদি অ্যারাবিয়ান মাইনিং কোম্পানি (মা’আদেন)
দেশে চারটি স্থানে নতুন করে মোট ৭৮ লাখ আউন্স (২ লাখ ২১ হাজার কেজি) স্বর্ণসম্পদের
সন্ধান পাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এর মাধ্যমে দেশীয় খনিজ মজুত সম্প্রসারণ এবং বিশ্বমানের
স্বর্ণ উৎপাদক হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার কৌশল আরও জোরালো হলো বলে জানিয়েছে
প্রতিষ্ঠানটি। সংবাদ গলফ নিউজের
মা’আদেন
জানায়, লক্ষ্যভিত্তিক খনন কার্যক্রমের মাধ্যমে শুরুতে ৯০ লাখ আউন্সের বেশি স্বর্ণসম্পদের
তথ্য পাওয়া যায়। বার্ষিক প্রতিবেদনসংক্রান্ত মানদণ্ড অনুযায়ী সমন্বয়ের পর চূড়ান্তভাবে
নতুন সম্পদ যোগ হয়েছে ৭৮ লাখ আউন্স।
এই
সম্প্রসারণের আওতায় রয়েছে মানসুরাহ–মাসারাহ, উরুক ২০/২১, উম্ম আস সালাম
এবং নতুন আবিষ্কৃত ওয়াদি আল জাওয়ান। এর মধ্যে মানসুরাহ–মাসারাহ
প্রকল্পে এক বছরে সবচেয়ে বেশি, ৩০ লাখ আউন্স স্বর্ণসম্পদ যুক্ত হয়েছে। উরুক ২০/২১ ও
উম্ম আস সালাম থেকে এসেছে ১৬ লাখ ৭০ হাজার আউন্স, আর ওয়াদি আল জাওয়ানে প্রথমবারের মতো
৩০ লাখ ৮০ হাজার আউন্স স্বর্ণসম্পদের হিসাব যোগ হয়েছে।
মা’আদেনের
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বব উইল্ট বলেন, এসব ফলাফল সৌদি আরবের খনিজ সম্পদ
উন্মোচনে কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের সফলতা প্রমাণ করে। তিনি বলেন, ‘এই ফলাফল স্পষ্ট
করে দিয়েছে যে আমাদের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল বাস্তব পর্যায়ে কাজ করছে। এ কারণেই আমরা সৌদি
আরবের স্বর্ণসম্পদে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছি।’তিনি
আরও বলেন, নতুন স্বর্ণসম্পদ সংযোজন মা’আদেনের প্রকল্প পাইপলাইনের ধারাবাহিকতা
ও সক্ষমতা তুলে ধরেছে। ‘চারটি এলাকায় খননের মাধ্যমে ৭০ লাখ আউন্সের বেশি স্বর্ণ যোগ
হওয়া আমাদের স্বর্ণ পোর্টফোলিওর বিশালতা ও সম্ভাবনা দেখায়। এটি ভবিষ্যতের নগদ প্রবাহ
নিশ্চিত করতেও সহায়ক হবে,’ বলেন তিনি।
২০২৬
সালের অনুসন্ধান কর্মসূচিতে মা’আদেন মূলত সেন্ট্রাল অ্যারাবিয়ান গোল্ড
রিজিয়নে গুরুত্ব দিয়েছে। সেখানে উন্নত পর্যায়ের খনন কার্যক্রমে নতুন খনিজ স্তর এবং
সম্ভাব্য খনি সম্প্রসারণের ইঙ্গিত মিলেছে। ঐতিহাসিক মাহদ স্বর্ণখনির আশপাশেও খননের
মাধ্যমে খনির আয়ু বাড়ানোর সম্ভাবনা চিহ্নিত করা হয়েছে।
বব
উইল্ট বলেন, ‘সাম্প্রতিক ফলাফল কোম্পানির বহুমুখীকরণ পরিকল্পনাকেও জোরালো করেছে। স্বর্ণের
মতোই তামা ও নিকেলের প্রাথমিক ফলাফল আশাব্যঞ্জক। আরবিয়ান শিল্ড অঞ্চলে বড় পরিসরে খনিজ
উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে।’
শাইবান
ও জাবাল আল ওয়াকিল এলাকায় পাওয়া তথ্য সৌদি আরবজুড়ে বহুপণ্যভিত্তিক শক্তিশালী পোর্টফোলিও
গড়ার সম্ভাবনা দেখাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মা’আদেনের প্রধান প্রকল্প মানসুরাহ–মাসারাহে
বর্তমানে আনুমানিক ১১ কোটি ৬০ লাখ টন আকরে প্রতি টনে ২ দশমিক ৮ গ্রাম স্বর্ণ রয়েছে।
যার মোট পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৪ লাখ আউন্স। সাম্প্রতিক খনন
কার্যক্রমে
এক বছরে নিট ৩০ লাখ আউন্স স্বর্ণসম্পদ যোগ হয়েছে, যদিও মোট সংযোজন ছিল ৪২ লাখ আউন্স।
কোম্পানিটি
জানিয়েছে, মানসুরাহ ও মাসারাহ, উভয় খনিতেই গভীরে এখনও খনিজ স্তর উন্মুক্ত রয়েছে, যা
ভবিষ্যতে আরও বড় আবিষ্কারের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়। ২০২৬ সাল পর্যন্ত খনন কার্যক্রম
চলবে এবং পর্যায়ক্রমে নতুন তথ্য প্রকাশ করা হবে।
মন্তব্য করুন


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার
কসবা উপজেলায় ছেলের অটোরিকশা থেকে পড়ে ট্রাক চাপায় মাসুমা বেগম (৪০) নামে এক নারী নিহত
হয়েছে। মাসুমা বেগম উপজেলার বায়েক ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের কবির হোসেনের স্ত্রী।
শুক্রবার
(২৬ ডিসেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার কসবা পশ্চিম ইউনিয়নের আকছিনা গ্রামের কসবা-নয়নপুর
সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতের
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে ওষুধ কিনতে ছেলের চালানো অটোরিকশায় করে
কসবা বাজারে যাচ্ছিলেন মাসুমা বেগম। পথে আকছিনা এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে আসা একটি
দ্রুতগতির ট্রাক অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি অটোরিকশা থেকে ছিটকে ট্রাকের নিচে
চাপা পড়েন।
পরে
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক
তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কসবা
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক অনিক ইসলাম বলেন, ‘নিহতের মাথায় গুরুতর
আঘাত লেগেছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা
হচ্ছে।’
কসবা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজনীন সুলতানা বলেন, ‘দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) সকাল আনুমানিক ৯:৩০ মিনিটে মাদারীপুরের আড়িয়াল খাঁ ব্রিজের ওপর এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কমপক্ষে ১৭ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। হতাহতদের তাৎক্ষণিক নাম-পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজধানী ঢাকা থেকে খুলনা অভিমুখে যাচ্ছিল 'ওয়েলকাম পরিবহন'-এর একটি যাত্রীবাহী বাস। বাসটি আড়িয়াল খাঁ ব্রিজে পৌঁছানোর পর সামনে থাকা একটি ট্রাককে পেছন থেকে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে সজোরে ধাক্কা মারে।
বাসের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়।
আহত অবস্থায় কমপক্ষে ১৭ জন যাত্রীকে স্থানীয় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়, ফলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় তিনজনে।
খবর পেয়ে শিবচর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহুরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। ওসি জহুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দুর্ঘটনার জেরে মহাসড়কের ঢাকাগামী লেনে সাময়িকভাবে যান চলাচল ব্যাহত হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার কাজ চলছে।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী
সরকার আজ বৃহস্পতিবার ( ২৭ নভেম্বর )উপদেষ্টা পরিষদের সাপ্তাহিক বৈঠকে রাজধনী উন্নয়ন
কর্তৃপক্ষ (রাজউক) অধ্যাদেশ ২০২৫-এর খসড়া অনুমোদন করেছে। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক
মুহাম্মদ ইউনূস সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দেশের সব ভবন ও নির্মাণ কাজের অনুমোদনের জন্য
একটি পৃথক কর্তৃপক্ষ গঠনের নির্দেশ দেন।
বৈঠকের
পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের জানান, প্রধান উপদেষ্টা গৃহায়ন
ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে একটি পৃথক কর্তৃপক্ষ গঠন করা যায়, যা
দেশের সব স্থাপনা ও নির্মাণ কাজের অনুমোদন দেবে। বর্তমানে রাজউক শুধুমাত্র নিজস্ব এলাকায়
অনুমোদন দিতে পারে।
বৈঠকে
প্রধান উপদেষ্টা নিরাপদ নির্মাণ বিধি মানা হচ্ছে কি না তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
প্রেস সচিব বলেন, গ্রামাঞ্চলসহ দেশজুড়ে চার থেকে পাঁচ তলা ভবন নির্মাণ হচ্ছে, তবে প্রশ্ন
হলো এগুলো জাতীয় ভবন নির্মাণ কোড মেনে তৈরি হচ্ছে কিনা। এছাড়া ভূমিকম্প ও অগ্নি ঝুঁকির
বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে কিনা, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নতুন
রাজউক অধ্যাদেশে পুনর্বিকাশ, জমি পুনর্বিন্যাস, খেলার মাঠ, জলাশয় ও প্রাকৃতিক জলাধারের
সুরক্ষা সংক্রান্ত বিধান অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। শফিকুল আলম বলেন, ‘জমির মালিক ৬০ শতাংশের
সম্মতিতে পুনর্বিকাশ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যাবে।’
প্রধান
উপদেষ্টা নির্দেশ দিয়েছেন, নতুন অধ্যাদেশে নির্মাণ, জলাশয় খনন, নিচু জমি ভরাট, প্রাকৃতিক
জলপ্রবাহ বাধা, খেলার মাঠ ও উদ্যানের শ্রেণী পরিবর্তন নিয়ন্ত্রণের বিধান রাখা হয়েছে।
এছাড়া অনুমোদিত নকশা ব্যতীত নির্মাণ, ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যত্যয়ী স্থাপনা অপসারণের শাস্তি
এবং রাজউকের চেয়ারম্যান, সদস্য বা কর্মচারীদের রাজউকের সঙ্গে সংযুক্ত কোনো চুক্তি বা
শেয়ারে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


ছোটপর্দার
অভিনেত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যুকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখনও তুমুল আলোচনা-সমালোচনা
চলছে। বেশিরভাগই কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন তার স্বামী ও অভিনেতা জাহের আলভীকে। তবে নিজের
স্বপক্ষে ফেসবুকে সরব আলভীও। শুক্রবার (৬ মার্চ) মধ্যরাতেও ইকরার মৃত্যুকে ঘিরে সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন তিনি। যদিও এটিকে ইকরার মৃত্যু নিয়ে তার শেষ
পোস্ট বলে দাবি করেছেন এই অভিনেতা।
নতুন
পোস্টে ইকরার বিরুদ্ধে বেশ কিছু বিস্ফোরক অভিযোগ আনেন আলভী। সেখানে তিনি ঘটনাটি নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ
দাবি তুলে ধরেছেন এবং তদন্তে সেসব বিষয় খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া এ ঘটনায়
তার বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়, তবে তিনি আইনের প্রতি সম্মান রেখে তা মেনে
নেবেন বলেও জানিয়েছেন।
আলভী
লিখেছেন, ‘এটাই হয়তো আমার শেষ পোস্ট । একটু সময় নিয়ে পড়বেন। আইনের প্রতি সম্মান রেখেই
বলছি, সুষ্ঠু বিচারে আইন আমার বিরুদ্ধে যে পদক্ষেপ নিবে আমি মাথা পেতে নেব। কিন্তু
আমার এই পোস্টে আমি কিছু ইনফরমেশন রেখে যেতে চাই, যেন আমার কিছু হলে, অথবা আমাকে অন্যায়ভাবে
ফাঁসানো হলে সাধারণ জনগণ ও সাংবাদিক ভাই-বোনেরা এই বিষয়গুলো নিয়ে সতর্ক থাকেন এবং আইনের
কাছে খতিয়ে দেখার দাবি রাখতে পারেন। ’
পোস্টে
আলভী লেখেন, ‘আমার বাসায় ড্রইং-ডাইনিংয়ে একটি সিসিটিভি ক্যামেরা আছে। যার এক্সেস কখনোই
আমার কাছে ছিল না। ইকরার ফোনে ছিল। ইকরার ফোন পুলিশি হেফাজতে আছে এবং এই মুহূর্তে তা
ফরেনসিকে পাঠানো হয়েছে। অনেকেই বলবেন, আমার বাসার সিসিটিভির এক্সেস আমার কাছে ছিল না,
এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। তাদেরকে বলব, সিসিটিভির সাথে লিংকড ডিভাইস লিস্ট চেক করলে সেটি
অনায়সে বেরিয়ে আসবে। আমি সারাদিন শুটিং এ থাকার কারণে কখনো এর এক্সেস ইকরার কাছেও চাইনি।
ইকরা এই ক্যামেরা দিয়ে বাসার কাজের লোক ও বাসায় থাকা আমার সহকারীর গতিবিধি লক্ষ্য করত
প্রয়োজনমতো। এই সিসিটিভি ফুটেজ দুর্ঘটনার সবচেয়ে
বড় আলামত শুধু দুর্ঘটনার সময় না, আমি নেপাল
আসার দিন থেকে রয়েছে এই ক্যামেরায় গুরুত্বপূর্ণ
ফুটেজ। আবারও বলছি, ইকরার মোবাইল (যার পাসওয়ার্ড আমি জানি না) ও সিসিটিভি ক্যামেরার
মেমোরি কার্ড দুটোই পুলিশের হেফাজতে।’
ইকরার
বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে আলভী লেখেন, ‘এখন বলব, কেন সিসিটিভির ফুটেজ সবচেয়ে বেশি
গুরুত্বপূর্ণ। আমি নেপালের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হই ২৫ তারিখ দুপুরে। ২৫ তারিখ, ২৬
তারিখ ও সর্বশেষ ২৭ তারিখ; এই ৩ দিনই সন্ধ্যার পর আমার বাসায় ইকরার বান্ধবী ও বন্ধুর
আগমন ছিল। যার গতিবিধি সিসিটিভিতে আছে। ২৫/২৬ শুধু বান্ধবী এবং ২৭ তারিখ ২ জন বান্ধবী
ও ১ জন ছেলে বন্ধু বাসায় এসেছে এবং মধ্যরাত পর্যন্ত ছিল। এ সময়গুলোতে ৩ দিনই তারা
সিগারেট/গাজা ও মদ্যপান করেছে। দুর্ঘটনার আগের দিন ২৭ তারিখ ইকরা আমার সহকারীকে দিয়ে
সিগারেট ও ঘুমের ঔষধও আনিয়েছে ঐ সময়ে, যা সিসিটিভির নিচেই ইকরাকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে
। এই সমগ্র ভাষ্য আমার সহকারীর এবং তা ইতিমধ্যেই পুলিশের কাছে স্টেটমেন্ট আকারে পেশ
আছে। সাংবাদিক ভাই ও সাধারণ সবাইকে জানিয়ে রাখলাম, বিষয়টি যেন সিসিটিভি ফুটেজ থেকে
এই ৩ দিনের ফুটেজ কোনোভাবেই সরানো না হয়, আর সরানো হলেও যেন এর সুষ্ঠু জবাবদিহি বা
তদন্ত করা হয়। এই ৩ দিন ও দুর্ঘটনার মুহূর্তে ইকরার কথা-বার্তা কোনোভাবেই সাধারণ মানুষের
মতো ছিল না। ইকরা এর আগেও ১৫ বছরে একাধিকবার আত্নহত্যার চেষ্টা করলেও কখনো সিরিয়াসলি
কোনো সংযোগ পাওয়া যায়নি। কিন্তু এইবার ইকরা একদমই নরমাল ছিল না। ’
আলভী
আরও লেখেন, ‘ইকরার মোবাইল পুলিশের মাধ্যমে ফরেনসিকে পাঠানো হয়েছে। যেখানে স্পষ্ট চলে
আসবে কে ইকরার একাউন্ট ডিসেবল করেছে। এবং এটিও জানার প্রয়োজন আছে কেন করেছে। আমার সাথে
ইকরার কনভারসেশনের একটি দাঁড়ি-কমাও পরিবর্তিত হয়নি, সেটি আমার ফোন ফরেনসিকে নিলে প্রমাণ
মিলবে। যেটা আমি স্বেচ্ছায় পুলিশের কাছে দিব। সবাইকে এই দিকটাও লক্ষ্য রাখার জন্য অনুরোধ
জানানো হচ্ছে যেন ইকরার ফোন থেকেও কোন কনভার্সেশন ডিলিট না হয়। যেমন ম্যাসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ বা অন্যান্য অ্যাপ।
এমনকি ফোনের ইনকামিং ও আউটগোয়িং কল লিস্ট এবং ২৫/২৬/২৭ তারিখ রাতে ওর বন্ধুদের সাথে
বাসায় আসা এবং চিল করা নিয়ে কনভারসেশন।’
পোস্টমর্টেম
নিয়ে আলভী লিখেছেন, ‘এবার আসেন পোস্টমর্টেম রিপোর্ট নিয়ে কিছু কথা বলি। আগের রাতে মদ্যপান
ও মাদক সেবন করা হলে অবশ্যই সেটি পোস্টমর্টেম রিপোর্টে আসবে। তাই, কোনোভাবেই এই রিপোর্ট
যেন পরিবর্তন না হয় সেদিকেও একটু নজর রাখার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। কারণ পোস্টমর্টেম
করার আগে পোস্টমর্টেম বাধা দেয়া হচ্ছিল। না চাইতেও নিচে কিছু সংবেদনশীল ইঙ্গিত রেখে
যাচ্ছি যেগুলো আপনাদের সামনে এই মানুষটিকে নিয়ে বিস্তারিত বলতে আমার জন্য কষ্টদায়ক।
সর্বোপরি ইকরা আমার স্ত্রী।’
ইঙ্গিতের
ব্যাপারে আলভী লিখেছেন, ‘আপনাদের মতে আমার না হয় তিথীর সাথে পরকিয়া, তাহলে ইকরার ব্যাচমেট
জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি, ফিলোসফি ডিপার্টমেন্টের ৪১তম ব্যাচের ‘নাবিদ’-এর
সাথে ইকরার কী? ২০১০ সালে পালিয়ে বিয়ে করে দুই পরিবারের কাছে ধরা খাওয়ার পর, ইকরা আমার
বিবাহিত স্ত্রী থাকার পরও ইকরার পরিবার ইকরাকে ইকরার সম্মতিতে আরেক জায়গায় বিয়ে দিয়ে
দেয়। হ্যাঁ, আমার স্ত্রী থাকা অবস্থায় ইকরা আরেকটি বিয়ে করে, বাসর করে। আমাকে ডিভোর্স
না দিয়ে তার পরিবারের সম্মতিতে তবে ভুল বুঝতে
পেরে যখন ইকরা আমার কাছে ফিরে আসতে সিদ্ধান্ত নেয়, আমি তাকে মাফ করে বুকে পাথর রেখে
মেনে নেই। একজন স্বামী হয়ে এই সিচুয়েশন বয়ে বেড়ানো খুব একটা সুখের না অবশ্যই।’
এই
অভিনেতা লেখেন, ‘ওপরের কোনো কিছুই এটা প্রমাণ করে না যে, ইকরা আমাকে ভালবাসতো না। ইকরা
আমাকে ভয়ংকর ভালবাসতো। আমিও বাসতাম। ত্যাগ ওর যেমন ছিল, আমারও ছিল। যুদ্ধ দুজনেরই
করতে হয়েছে। ভুল-ত্রুটি, ঝগড়া, কলহ অন্য সব সংসারের স্বামী-স্ত্রীর মতো আমাদেরও ছিল।
কিন্তু সময়ের কালক্রমে ভালবাসাটা মায়ায় রূপ নেয়। মায়া, অভ্যস্ততা ও সন্তানের সেতুবন্ধন
সবকিছুকে ছাপিয়ে ভালবাসার জায়গাটায় আসন গেড়ে বসেছিল। ওপরের মহলের চাপ, ইকরার পরিবারের
প্রতিশোধপরায়ণতা ও আমার স্বকর্মসংস্থানের মানুষদের বেইমানি হয়তো আমাকে দমিয়ে দেবে,
হয়তো বেঁচে থাকতে দেবে না।
পোস্টের শেষে আলভী লিখেছেন, ‘১ জন মানুষও যদি বিবেচনার
দুয়ার খুলে লেখাগুলো পড়ে থাকেন। দয়া করে প্লিজ তথ্য-প্রমাণ মিলিয়ে নিয়েন। মুছে যেতে
দিয়েন না । আমার সন্তানের জন্য হলেও। কারণ আমার জায়গা আমার সন্তানের জীবনে কেউ পূরণ
করতে পারবে না। এটা বাস্তব। আমাদের দুজনের দুজনকে দরকার। আপনারা পারলে আমাকে মাফ করে
দিয়েন।’
মন্তব্য করুন