

গতকাল দিবাগত রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এর জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসী বুনিয়া সোহেলকে তার দুই সহযোগীসহ গ্রেফতার করা হয়। অভিযানে ২টি বিদেশি পিস্তল এবং ৬ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। শীর্ষ সন্ত্রাসী বুনিয়া সোহেল গ্রেফতারের প্রাক্কালে স্থানীয় জনগণ কর্তৃক মারধরের শিকার হয়ে গুরুতর আহত হলে পুলিশের তত্ত্বাবধানে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে।
অপরদিকে পৃথক একটি অভিযানে, রাজধানীর রায়েরবাগ এলাকায় একজন হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে গত ১০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নে সশস্ত্র সংঘর্ষে জড়িত থাকার এবং হত্যার অভিযোগে মামলা দায়েরকৃত রয়েছে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির তথ্যের উপর ভিত্তি করে, সংঘর্ষের ঘটনাস্থল মোল্লাকান্দি এলাকায় অভিযান চালিয়ে থানা থেকে লুটকৃত ১টি শটগান ও ১ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।
জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের যেকোনো তথ্য নিকটস্থ সেনা ক্যাম্প অথবা যে কোন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট প্রদান করুন।
মন্তব্য করুন


দেশের চলমান পরিস্থিতিতে জনসাধারণের
জান- মাল ও সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসমূহের সার্বিক নিরাপত্তা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি
নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিচার বহির্ভূত কর্মকাণ্ড রোধ ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে
দেশব্যাপী নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৬ অক্টোবর ২০২৪
(শনিবার) আনুমানিক রাত ১০টার দিকে মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে সেনাবাহিনীর ৪৬ স্বতন্ত্র
ব্রিগেড,র্যাব এবং পুলিশের সমন্বয়ে এই যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। এই অভিযানে সেনাবাহিনী,র্যাব
এবং পুলিশের একাধিক দল অংশগ্রহণ করে।
নিরাপত্তাহীনতায় নিমজ্জিত মোহাম্মদপুরবাসীর জীবনে স্বস্তি আনয়নের লক্ষ্যে যৌথ বাহিনীর এ অভিযান সুপরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হয়। এই অভিযানে মোহাম্মদপুর এলাকা হতে ৪৫ জন অপরাধী (০৯ টি দেশীয় ধারালো অস্ত্রসহ) গ্রেপ্তার হয়। ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাপ্রাপ্তির পর থেকে মোহাম্মদপুর, আদাবর এবং শের-ই-বাংলানগর থানাধীন ১৫২ জন অপরাধী, ১৮টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২৭১ রাউন্ড গোলাবারুদ, ১৭২ ধরনের বিভিন্ন দেশী বিদেশী অস্ত্র, ১টি গ্রেনেড এবং বিপুল পরিমাণ নেশাজাত দ্রব্য উদ্ধার হয়। সন্ত্রাস দমন এবং আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সেনাবাহিনীর কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারের পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদেরকে পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের
গত বছরের ঢাকা সফর সদ্য রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে উত্তরণের সময়ে বাংলাদেশকে এক বড় ধরনের
মানসিক প্রেরণা যুগিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ
ইউনূস।
মালয়েশিয়া সফরকালে গতকাল বুধবার দেশটির
সরকারি বার্তা সংস্থা বারনামাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। অধ্যাপক
ড. ইউনূস বারনামাকে বলেন, আনোয়ার ইব্রাহিমের এই সফর বাংলাদেশের কঠিন সময়ে জাতির মধ্যে
আশার সঞ্চার করেছিল।
বারনামা আজ সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করে।
বারনামার প্রধান সম্পাদক আরুল রাজু দুরার রাজের নেতৃত্বে সংস্থাটির একদল সাংবাদিক এই
সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে।
২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে অন্তর্বর্তী
সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক ড. ইউনূস সাক্ষাৎকারে ছাত্র জনতার নেতৃত্বে
কীভাবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয় এবং স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন তা
স্মরণ করেন। এ সময়ে বাংলাদেশ যে অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হয়েছিল, তা তুলে ধরেন তিনি।
এই পরিস্থিতিকে ‘ম্যাগনিচিউড ৯ ভূমিকম্পে
আঘাত হানা’ অবস্থার সঙ্গে তুলনা করে প্রধান উপদেষ্টা
বলেন, সবকিছু ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, ভীষণ বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি, কিছুই চলছিল না- শুধু ক্ষোভ
ফুঁসে উঠছিল।
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন, আমাদের
এমন এক কঠিন সময়ে দেশ চালানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এটা ছিল অত্যন্ত কঠিন কাজ। শুধু
বিশৃঙ্খলা দূর করাই নয়, সবকিছু নতুন করে গড়ে তুলতে হয়েছে। আমরা তখন পথ খুঁজছিলাম, কীভাবে
এগোবো— এমন সময়ে সুখবর এল, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী
আমাদের দেশে সফরে আসছেন।
বারনামাকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে নোবেল
বিজয়ী ইউনূস আনোয়ার ইব্রাহিমের সেই সফর নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন।
আনোয়ার ইব্রাহিম ২০২৪ সালের অক্টোবর
মাসে বাংলাদেশ সফর করেন। অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার দেশ পুনর্গঠনের দায়িত্ব
নেওয়ার মাত্র দুই মাসের মাথায় তিনিই প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি নেতা হিসেবে বাংলাদেশ
সফর করেন।
‘তিনি আমাদের আশা দিয়েছিলেন। তাঁর সফর
জনগণের মধ্যে বিপুল উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করেছিল। মালয়েশিয়া বাংলাদেশের মানুষের কাছে খুব
পরিচিত একটি দেশ, কারণ এখানে বহু বাংলাদেশি বসবাস করেন এবং তাদের পরিবারও এখানে রয়েছে।
এটি কোনো অজানা-অচেনা দেশ নয়। তাই মালয়েশিয়ার
প্রধানমন্ত্রী এসে বললেন, ‘হ্যাঁ, আমরা তোমাদের পাশে আছি’— এটি বাংলাদেশের মানুষের জন্য অনেক
অর্থবহ ছিল। তাঁর উপস্থিতি খুবই উৎসাহব্যঞ্জক ও অনুপ্রেরণাদায়ক ছিল,’ বলেন প্রধান উপদেষ্টা
ড. ইউনূস।
৮৫ বছর বয়সী ইউনূস একজন অর্থনীতিবিদ
ও সামাজিক উদ্যোক্তা। তিনি ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশে দরিদ্র বিশেষত নারীদের জন্য জামানতবিহীন
ক্ষুদ্রঋণ প্রদানের লক্ষ্যে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন।
মালয়েশিয়া বাংলাদেশের বাইরে প্রথম দেশ
হিসেবে আমানাহ ইখতিয়ার মালয়েশিয়া প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গ্রামীণ ব্যাংক মডেল গ্রহণ করে।
ইউনূস ১১ থেকে ১৩ আগস্ট মালয়েশিয়ায়
তিন দিনের সরকারি সফরে আসেন। এ সময় তিনি মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ সম্পর্কের অগ্রগতি বিশেষ
করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শ্রম, শিক্ষা, পর্যটন ও প্রতিরক্ষা খাত, এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক
পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়ে পর্যালোচনা করতে আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠক করেন।
তিনি দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক
জোরদারের লক্ষ্যে দেশটির বিভিন্ন খাতের নেতৃবৃন্দ এবং বড় বড় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ
করেন।
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন, আমি
বলতে পারি, আমাদের সফরটি দারুণ ও অত্যন্ত সফল হয়েছে। আমরা এই সফর নিয়ে খুবই সন্তুষ্ট।
সবাই তাঁদের সময় নিয়ে খুব উদার ছিলেন। আমরা যেসব কর্মকর্তা, নেতা ও ব্যক্তির সঙ্গে
দেখা করতে চেয়েছিলাম, সবাই এগিয়ে এসেছেন।
অধ্যাপক ড. ইউনূস আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে
বলেন, এই সফর দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করবে এবং পারস্পরিক উপকারী
ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতা সম্প্রসারিত করবে, যা ১৯৭২ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের
পর থেকে বিদ্যমান দৃঢ় বন্ধনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
দক্ষিণ এশিয়ায় মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম
বাণিজ্য অংশীদার ও রপ্তানি গন্তব্য বাংলাদেশ। এর প্রধান রপ্তানি পণ্য হলো পেট্রোলিয়ামজাত
দ্রব্য, পাম তেল ও রাসায়নিক দ্রব্য, আর আমদানি পণ্য হলো টেক্সটাইল, জুতা, পেট্রোলিয়ামজাত
দ্রব্য ও প্রস্তুত পণ্য।
মন্তব্য করুন


ভারতের
কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুতে সপ্তাহখানেক আগে এক নারী সফটওয়্যার প্রকৌশলীর মরদেহ উদ্ধার
করা হয় তাঁর ভাড়া বাসায়। উদ্ধারের এক সপ্তাহ পর তদন্তকারীরা চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ
করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, যৌন হেনস্তার চেষ্টা প্রতিরোধ করায় ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ ওই
নারীকে হত্যা করেছে।
ভারতীয়
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, ৩৪ বছর বয়সী শর্মিলা ডিকেকে গত ৩ জানুয়ারি
মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল যে, রামামূর্তি নগরের সুব্রামানি
লেআউটে তাঁর অ্যাপার্টমেন্টে অগ্নিকাণ্ডের পর ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
মরদেহ
উদ্ধারের পর পুলিশ ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৯৪(৩)(৪) ধারায় একটি
অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করে। তদন্ত চলাকালে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি
এবং প্রযুক্তিগত প্রমাণ ব্যবহার করে পুলিশ অভিযুক্তকে শনাক্ত করে। গ্রেপ্তারকৃত তরুণ
কর্ণেল কুরাই নিহতের পাশের বাসাতেই থাকত।
জিজ্ঞাসাবাদে
কুরাই অপরাধ স্বীকার করেছে বলে জানা গেছে। সে পুলিশকে জানায়, ৩ জানুয়ারি রাত ৯টার
দিকে যৌন লালসা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে একটি স্লাইডিং জানালা দিয়ে সে শর্মিলার ঘরে
ঢোকে। ভুক্তভোগী নারী বাধা দিলে সে জোরপূর্বক তাঁর মুখ ও নাক চেপে ধরে, যার ফলে তিনি
প্রায় অচেতন হয়ে পড়েন। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে ভুক্তভোগী রক্তাক্ত জখমও হন।
পুলিশ
জানিয়েছে, প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই নারীর পোশাক এবং অন্যান্য
আলামত শোবার ঘরের তোষকের ওপর রেখে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পালানোর সময় সে ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোনটিও চুরি করে নিয়ে যায়।
স্বীকারোক্তি
এবং পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস)
১০৩(১) (খুন), ৬৪(২), ৬৬ এবং ২৩৮ (প্রমাণ ধ্বংস) ধারায় মামলা করা হয়েছে। এই ঘটনায়
বর্তমানে অধিকতর তদন্ত চলছে।
মন্তব্য করুন


আজ
বৃহস্পতিবার ( ২৫ ডিসেম্বর ), খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শুভ বড়দিন।
ধর্মীয়
বিশ্বাস অনুযায়ী, এ দিনেই ফিলিস্তিনের বেথলেহেমে জন্মগ্রহণ করেন খ্রিষ্ট ধর্মের প্রবর্তক
যিশুখ্রিষ্ট। তাঁর জন্মদিন উপলক্ষ্যে বিশ্বজুড়ে খ্রিষ্টান সম্প্রদায় প্রার্থনা, ধর্মীয়
আচার ও আনন্দঘন আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও
আজ বড়দিন উদযাপন করা হচ্ছে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে। এ উপলক্ষ্যে দেশে
সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। খ্রিষ্টান ধর্মানুসারীরা গির্জায় বিশেষ প্রার্থনার পাশাপাশি
পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করছেন।
বড়দিন
উপলক্ষ্যে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের গির্জাগুলো সাজানো হয়েছে নতুন রূপে।
আলোকসজ্জা, ফুল, ব্যানার ও ধর্মীয় প্রতীকে গির্জাগুলো উৎসবের আবহে সজ্জিত করা হয়েছে।
গত সন্ধ্যা থেকেই অনেক গির্জা ও স্থাপনায় আলোর ঝলকানি বড়দিনের আনন্দকে আরও প্রাণবন্ত
করে তুলেছে। খ্রিষ্টান পরিবারগুলোতেও বড়দিনকে ঘিরে রয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি। ঘরে ঘরে
তৈরি হচ্ছে কেক ও ঐতিহ্যবাহী খাবার। পরিবারের সদস্যদের একত্রে সময় কাটানো, খাওয়াদাওয়া
ও আনন্দ উপভোগ বড়দিনের অন্যতম অনুষঙ্গ। অনেক এলাকায় ধর্মীয় সংগীত ও প্রার্থনাসভা আয়োজন
করা হয়েছে, যেখানে অংশ নিচ্ছেন খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ। অনেকেই আত্মীয়স্বজনের
সঙ্গে সময় কাটাতে রাজধানী ও বড় শহর ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন। পরিবারকেন্দ্রিক এই
আনন্দই বড়দিনের উৎসবকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।
রাজধানীর
বিভিন্ন স্থানে বড়দিনের আমেজ চোখে পড়ছে। ক্রিসমাস ট্রি, শান্তা ক্লজ ও আলোকসজ্জায় সেজেছে
বিভিন্ন ভবন ও স্থাপনা। বড়দিনের আগের রাতে অনেক গির্জায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা
হয়। আজ সকালেও বিভিন্ন গির্জায় বড়দিনের প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে শান্তি, সৌহার্দ্য
ও মানবকল্যাণ কামনা করা হয়।
খ্রিষ্টানদের
বিশ্বাস অনুযায়ী, যিশুখ্রিষ্ট মানবজাতিকে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করতে পৃথিবীতে
আগমন করেছিলেন। তাঁর শিক্ষা মানবপ্রেম, ক্ষমা, সহনশীলতা ও শান্তির বার্তা বহন করে।
বড়দিনে সেই শিক্ষার আলোকে সমাজে মানবিকতা ও ন্যায়বোধ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা
হয়।
ঢাকার
গির্জাগুলোতে বড়দিনের প্রস্তুতি চোখে পড়ার মতো। তেজগাঁওয়ের পবিত্র জপমালা রানীর গির্জা
ও মোহাম্মদপুরের সেন্ট ক্রিস্টিনা চার্চে করা হয়েছে বিশেষ সাজসজ্জা।
পবিত্র
জপমালা রানীর গির্জায় আজ সকাল সাতটা ও নয়টায় এবং সেন্ট ক্রিস্টিনা চার্চে সকাল আটটায়
বড়দিনের প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব প্রার্থনায় অংশ নেন হাজারো মানুষ। গির্জায় আগত
যিশুভক্তরা জানান, তারা প্রার্থনা ও ধর্মীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শান্তি, ভালোবাসা ও মানবতার
আহ্বান জানাচ্ছেন। অনেকে নীরবে মোমবাতি জ্বালিয়ে যিশুখ্রিষ্টের আদর্শ স্মরণ করছেন।
সেন্ট ক্রিস্টিনা চার্চের পাল পুরোহিত ফাদার কাজল পিউরিফিকেশন বলেন, এবারের বড়দিনে বিশ্ব ও দেশের শান্তির জন্য প্রার্থনা করা হচ্ছে, যা সব ধর্মের মানুষের কল্যাণ কামনায় নিবেদিত। পবিত্র জপমালা রানীর গির্জার পুরোহিত ফাদার জয়ন্ত এস গোমেস বলেন, যিশুখ্রিষ্ট প্রান্তিক মানুষের মর্যাদা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় কাজ করে গেছেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাই এবারের প্রার্থনার মূল বিষয়।
বড়দিন
উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস পৃথক
বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ,
যেখানে সকল ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করে। তিনি এই সৌহার্দ্য আরও
দৃঢ় করে দেশ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
প্রধান
উপদেষ্টা তাঁর বাণীতে যিশুখ্রিষ্টকে মানবজাতির মুক্তির দূত ও আলোর দিশারি হিসেবে অবহিত
করে বলেন, যিশু শান্তি, সত্য ও ন্যায়ের বাণী প্রচার করে গেছেন। তিনি খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের
দেশপ্রেম ও মানবতার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখার
আহ্বান জানান।
শুভ
বড়দিন শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি মানবতা, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির প্রতীক, যা সমাজে
শান্তি ও সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠায় মানুষকে অনুপ্রাণিত করে।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কারকিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ।
শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে এবং আমার নিজের পক্ষ থেকেও আমি নেপালের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনার নিয়োগে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।
অধ্যাপক ইউনূস উল্লেখ করেন, নেপালের জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন হিসেবে সুশীলা কারকির দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়টিকে বাংলাদেশ গুরুত্ব সহকারে দেখছে।
তিনি বলেন, একজন দীর্ঘদিনের বন্ধু ও প্রতিবেশী হিসেবে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আপনার দক্ষ নেতৃত্বে নেপাল ও এর দৃঢ়চেতা জনগণ শান্তি, উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার পথে এগিয়ে যাবে।
প্রধান উপদেষ্টা নেপালের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাবলীতে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, আমরা নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই এবং আহতদের দ্রুত ও পূর্ণ আরোগ্য কামনা করি।
অধ্যাপক ইউনূস আশা প্রকাশ করেন যে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার সম্পর্ক তার নেতৃত্বে আরও জোরদার হবে। তিনি সুশীলা কারকির সুস্বাস্থ্য ও সফলতা এবং নেপালের জনগণের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
মন্তব্য করুন


বুধবার (২০ মার্চ) অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সর্বজনীন পেনশন স্কিমে ‘প্রত্যয় স্কিম’ নামে নতুন স্কিম চালু করা হয়েছে। সব স্ব-শাসিত, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ বা সমজাতীয় সংস্থা এবং তাদের অধীনস্থ অঙ্গ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য প্রত্যয় স্কিমের রূপ রেখা ঘোষণা করা হয়েছে। চলতি বছরের ১ জুলাই ও তারপরে নতুন যোগদান করবেন তাদের সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা আইনের অন্তর্ভূক্ত করেছে সরকার।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১৩ মার্চ জারি করা এসআরও (নং-৪৭-আইন/২০২৪) এর মাধ্যমে সব স্ব-শাসিত, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ বা সমজাতীয় সংস্থা এবং তাদের অধীনস্থ অঙ্গ প্রতিষ্ঠানগুলোর চাকরিতে যেসব কর্মকর্তা বা কর্মচারী চলতি বছরের ১ জুলাই ও তার পরে নতুন যোগদান করবেন, তাদের সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা আইনের অন্তর্ভূক্ত করেছে সরকার।
এছাড়া ১৩ মার্চ জারি করা এসআরও (নং-৪৮-আইন/২০২৪) এর মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য প্রত্যয় স্কিমের রূপ রেখা ঘোষণা করা হয়েছে। প্রত্যয় স্কিম চালুর ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান কর্মকর্তা/কর্মচারীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হবে না এবং তাদের বিদ্যমান পেনশন/আনুতোষিক সুবিধা অক্ষুণ্ন থাকবে।
তবে, যাদের ন্যূনতম ১০ বছর চাকরি অবশিষ্ট আছে তারা আগ্রহ প্রকাশ করলে প্রত্যয় স্কিমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। প্রত্যয় স্কিমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে অবসর জীবনে মাসিক পেনশন প্রাপ্য হবেন বিধায় চলতি বছরের ১ জুলাই ও তার পরবর্তী সময়ে নতুন যোগদান দেওয়া কর্মকর্তা/কর্মচারীদের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, বিদ্যমান ব্যবস্থায় খুব কম সংখ্যক স্ব-শাসিত, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ বা সমজাতীয় সংস্থা এবং তাদের অধীনস্থ অঙ্গ প্রতিষ্ঠানে পেনশন স্কিম চালু রয়েছে। এ ধরনের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মচারীরা আনুতোষিক স্কিমের আওতাভুক্ত এবং তাদের জন্য সিপিএফ ব্যবস্থা প্রযোজ্য। উক্ত ব্যবস্থায় কর্মচারীরা চাকরি শেষে অবসর সুবিধা হিসাবে এককালীন আনুতোষিক প্রাপ্য হন, কিন্তু মাসিক কোনো পেনশন প্রাপ্য হন না।
ফলে অবসরোত্তর জীবনে প্রায় ক্ষেত্রেই আর্থিক অনিশ্চয়তার সম্মুখীন হন। কর্মচারীদের অবসরোত্তর জীবনের আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষা প্রদানে বিদ্যমান ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে সরকার ‘প্রত্যয় স্কিম’ প্রবর্তন করেছে। প্রত্যয় স্কিমে অংশগ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারীর প্রাপ্ত মূল বেতনের ১০ শতাংশ বা সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা, যাহা কম হয় তা কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বেতন থেকে কর্তন করা হবে এবং সমপরিমাণ অর্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা প্রদান করবে।
এরপর উভয় অর্থ ওই প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ওই কর্মকর্তা/কর্মচারীর কর্পাস হিসাবে জমা করবে। এ প্রক্রিয়ায় ওই কর্মকর্তা-কর্মচারীর পেনশন ফান্ড গঠিত হবে এবং ওই ফান্ড জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক লাভজনক খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রাপ্য মুনাফা এবং চাঁদা হিসাবে জমা করা অর্থের ভিত্তিতে পেনশন প্রদান করা হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিদ্যমান সিপিএফ ব্যবস্থায় কর্মচারী মূল বেতনের ১০ শতাংশ এবং প্রতিষ্ঠান মূল বেতনের ৮.৩৩ শতাংশ প্রদান করে থাকে। প্রত্যয় স্কিমে প্রতিষ্ঠান প্রদান করবে মূল বেতনের ১০ শতাংশ যা সিপিএফ ব্যবস্থা থেকে ১.৬৭ শতাংশ বেশি। প্রত্যয় স্কিমে একজন ব্যক্তি একটি প্রতিষ্ঠানে যোগদানের পর মাসিক দুই হাজার ৫০০ টাকা নিজ বেতন থেকে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে একই পরিমাণ টাকা ৩০ বছর চাঁদা প্রদান করলে তিনি অবসর গমনের পর অর্থ্যাৎ ৬০ বছর বয়স থেকে মাসিক ৬২ হাজার ৩৩০ টাকা হারে পেনশন প্রাপ্য হবেন।
তবে এ ক্ষেত্রে ৩০ বছর ধরে মাসিক দুই হাজার ৫০০ টাকা হারে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর নিজ বেতন থেকে প্রদত্ত মোট চাঁদার পরিমাণ নয় লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থা কর্তৃক প্রদত্ত মোট চাঁদার পরিমাণ নয় লাখ টাকা। অর্থ্যাৎ প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্মচারী মিলিয়ে সর্বমোট চাঁদার পরিমাণ হবে ১৮ লাখ টাকা। তিনি যদি ৭৫ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন তবে ১৫ বছরে পেনশন প্রাপ্য হবেন এক কোটি ১২ লাখ ১৯ হাজার ৪০০ টাকা। যা সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর নিজ জমার ১২.৪৭ গুণ।
মন্তব্য করুন


নারী ও শিশু নির্যাতন
আইনে ধর্ষণ মামলায় জামিন পাওয়ার অধিকার রাখবো না বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক
উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
আজ রবিবার (৯ মার্চ)
আইন মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ
নজরুল বলেন, ধর্ষণ মামলায় যদি ৯০ দিনের মধ্যে বিচার না হয়, তাহলে এই মামলায় কাউকে জামিন
দেওয়া যাবে না। আগে ছিল ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার না হলে জামিন দেওয়া যেতো। এখন থেকে ধর্ষণের
মামলার ক্ষেত্রে কোনো জামিন দেওয়া হবে না। ধর্ষণের মামলার ক্ষেত্রে যদি কোনো রকমের
গাফলতি থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে ডিপার্টমেন্টাল অ্যাকশন নেয়ার জন্য সুনির্দিষ্ট আইন
সংযোজন করা হবে। ধর্ষণের মামলার ক্ষেত্রে ডিএনএ
সার্টিফিকেট লাগতো। আমাদের দেশের সব জায়গায় ডিএনএ সার্টিফিকেট দেওয়ার সুবিধা নেই। এজন্য
ধর্ষণ মামলার বিচার অনেক দেরি হতো। এজন্য স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কথা বলে একটা সংশোধনী
আনবো যে, উপযুক্ত ক্ষেত্রে বিচারক যদি মনে করে যে শুধু মাত্র মেডিকেল সার্টিফিকেটই
মামলার বিচার ও তদন্ত কার্যক্রম চালানো সম্ভব তাহলে সে রকম ব্যবস্থা নিতে পারবে, বলেন
উপদেষ্টা।
আইন উপদেষ্টা আর বলেন,
যেসব স্থানে আসামিরা হাতেনাতে ধরা পড়বে সেখানে ডিএনএ সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য সময়ক্ষেপণ
রোধকল্পে এই পরিবর্তন আনার চিন্তা করছি। অতিদ্রুত জেলা পর্যায় ডিএনএ টেস্ট নেওয়ার জন্য
ল্যাবরেটরি তৈরি করা হবে।
মন্তব্য করুন


ভারতের
মহারাষ্ট্র রাজ্যের নাগপুর জেলার রামটেক এলাকায় এক চমকপ্রদ ঘটনা ঘটেছে। ১০৩ বছর বয়সী
বৃদ্ধা গঙ্গা শাঁখারীকে মৃত ঘোষণা করার পর শেষকৃত্যের প্রস্তুতি চলাকালীন তিনি হঠাৎ
জীবিত হয়ে ফিরে আসেন।
সনাতন
ধর্মাবলম্বী গঙ্গাকে মঙ্গলবার সকালে প্রথা অনুযায়ী নতুন শাড়ি পরানো হয়। মৃত ব্যক্তির
সঙ্গে চলমান শেষকৃত্যের আয়োজনের অংশ হিসেবে হাত ও পা বেঁধে নাকে তুলা গুঁজে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত আত্মীয়স্বজন এবং পাড়া-প্রতিবেশীরা শোকমগ্ন অবস্থায় ছিলেন।
কিন্তু
হঠাৎ গঙ্গার নাতি রাকেশ শাঁখারী তার দাদীর পায়ে মৃদু নড়াচড়া লক্ষ্য করেন। সঙ্গে সঙ্গে
নাকে থেকে তুলা তুলে দেখেন তিনি শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছেন। এ সংবাদে উপস্থিত সবাই হতবাক
হন।
পরিবারের
সদস্যরা দ্রুত চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এবং গঙ্গাকে বাঁচিয়ে আনেন। শেষকৃত্যের আয়োজন
থেকে এক মুহূর্তে জন্মদিনের উৎসবে রূপ নেয়।
বিশেষ
উল্লেখ, সেই দিনটি ছিল গঙ্গা শাঁখারীর ১০৩তম জন্মদিন। তাই সবাই মিলে কেক কেটে জন্মদিন
উদযাপন করেন।
ভারতের
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এই চমকপ্রদ ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেছে। এই ঘটনা মানব জীবনের অদ্ভুত
রহস্য ও আশ্চর্যের এক দৃষ্টান্ত হয়ে রয়ে গেলো।
মন্তব্য করুন


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং ঢাকা-৮ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মির্জা আব্বাস বলেছেন, দীর্ঘ ১৭ বছরে তার নির্বাচনী এলাকা মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির কবলে পড়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি নির্বাচিত হলে এলাকাকে এসব অপরাধ থেকে মুক্ত করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর শাহজাহানপুর এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, গত এক যুগেরও বেশি সময়ে তার এলাকার সামাজিক পরিবেশ ধ্বংসের মুখে পড়েছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, জনগণ তাকে নির্বাচিত করলে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে এলাকাকে নিরাপদ করে তুলবেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ ও সরকারের ঘনিষ্ঠ কিছু মহলের বক্তব্যে ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কিছু বক্তব্য শুনে সন্দেহ জাগছে যে ভেতরে ভেতরে অন্য কিছু চলছে। এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর মন্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, “ঢাকা শহরে তারা আমাদের একটি আসনও ছেড়ে দেবে না—এই কথা বলার অধিকার তাদের কে দিয়েছে? এই দেশের আসনের মালিক আল্লাহ ও জনগণ।”
বিএনপির এই নেতা দাবি করেন, তাকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে নানামুখী অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তার ভাষায়, মিথ্যা কাগজপত্র ছড়ানো হচ্ছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ভুয়া কনটেন্ট তৈরি করা হচ্ছে এবং সংগঠিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড জাতির জন্য কখনোই কল্যাণ বয়ে আনে না।
মির্জা আব্বাস আরও বলেন, প্রতিপক্ষের বক্তব্যে গণতান্ত্রিক চর্চার অভাব স্পষ্ট। তার মতে, পেছনে কোনো বিশেষ শক্তি সক্রিয় রয়েছে এবং নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, জনগণ এসব অপচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করবে।
মন্তব্য করুন


বিএনপির
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরেই ঐতিহাসিক সংবর্ধনা মঞ্চে বক্তব্য শেষে
তার মা বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব
অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।তিনি জানান, ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে নেমে বিমানবন্দর থেকে
এভারকেয়ার হাসপাতালে যাওয়ার পথে ৩০০ ফিট এলাকায় উপস্থিত জনসমাগমের উদ্দেশ্যে একটি সংক্ষিপ্ত
শুভেচ্ছা বক্তব্য দেবেন। এরপর তিনি তার মাকে দেখে বাসায় ফিরবেন।
মঙ্গলবার
(২৩ ডিসেম্বর) পিজি হাসপাতালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক নেতৃবৃন্দ এবং সরকারি ও
বেসরকারি মেডিকেল কলেজের সাবেক ও বর্তমান ছাত্রদলের আয়োজনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান
তারেক রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে স্বাগত মিছিল-পূর্বক সংক্ষিপ্ত
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। মিছিলটি বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের
(পিজি হাসপাতাল) বটতলা থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ মোড় হয়ে মৎস্যভবনে গিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে
রিজভী বলেন, দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজ
দেশ বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করতে যাচ্ছেন। আগামী ২৫ ডিসেম্বর তার আগমন উপলক্ষে সারা
দেশে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ তাকে এক নজর দেখার জন্য ঢাকায় আসবেন।
তিনি বলেন, ২০০৭ সালের মইনুদ্দিন–ফখরুদ্দিন সরকার ছিল শেখ হাসিনারই সমর্থিত
সরকার। সেই সরকারের সময় বিনা কারণে তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং নির্মম শারীরিক
নির্যাতন করা হয়। সেই নির্যাতনের পর তাকে এই পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকতে হয়। তিনি
আরও বলেন, চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার পর শেখ হাসিনার সরকার একের পর এক মিথ্যা মামলা
দিয়ে তাকে দেশে ফিরতে বাধা দেয়। ১৭ বছর ধরে তাকে তার পরিবার, দেশ ও মানুষের কাছ থেকে
বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। তিনি তার মায়ের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি, এমনকি ছোট ভাইয়ের
লাশ ও জানাজায়ও অংশ নিতে পারেননি। এসব ঘটনার জন্য শেখ হাসিনা দায়ী।
বিএনপির
এই মুখপাত্র বলেন, জিয়া পরিবার বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় ও ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবার।
এই পরিবারই স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছে এবং মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছে। দেশনেত্রী বেগম
খালেদা জিয়া একজন নির্ভীক সৈনিকের মতো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছেন। এই পরিবারকে ধ্বংস
করার জন্য আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্ররা কোনো চক্রান্ত বাদ দেয়নি।
নিরাপত্তা
প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, আমরা সরকারের কাছে তার পর্যাপ্ত নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছি। সরকার
আমাদের আশ্বস্ত করেছে যে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। দলীয়ভাবেও নেতাকর্মীরা তার
নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালন করবেন, ইনশাআল্লাহ। তিনি নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের
প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনসমাগম যত বড়ই হোক, সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করতে
হবে। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে প্রিয় নেতাকে শুভেচ্ছা জানাবেন। কোনো বিশৃঙ্খলা বা অরাজকতা
করা যাবে না। তিনি তার মাকে দেখে বাসায় পৌঁছানো পর্যন্ত সবাই শৃঙ্খলার সঙ্গে অবস্থান
করবেন।
কেন্দ্রীয়
ছাত্রদলের সহসভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়ালের সভাপতিত্বে মিছিলে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির
স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, বিএনপির আইটি সেলের সদস্য মাহফুজ কবির মুক্তা
এবং বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পাশাপাশি চিকিৎসক ও ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান বিভিন্ন
পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
মন্তব্য করুন