

নতুন দল গঠন করে নেতৃত্বে আসা ও সরকার থেকে
পদত্যাগের বিষয়ে এ সপ্তাহের শেষে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি এবং তথ্য ও
সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে জানিয়েছেন ।
ডিসি সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে কার্য অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
এরপর রাত ১০টার দিকে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সাংবাদিকদের প্রশ্নে জানান, আমি এ বিষয়ে আমার অবস্থান ব্যক্ত করেছি মিডিয়ার বিভিন্ন জায়গায়। তবে বিভিন্ন সংবাদপত্র বা মিডিয়ায় যেভাবে তথ্য আসছে আমি মনে করি যে এভাবে আসা উচিত না। কারণ আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সেটা প্রকাশের আগেই, কোনো ধরনের অনুমানের ওপর ভিত্তি করে এ ধরনের তথ্যগুলো ছড়ানো উচিত হচ্ছে না।
নাহিদ ইসলামের কাছে প্রশ্ন ছিল- ছাত্র জনতার
নেতৃত্বে একটি নতুন দল আসছে, আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি নতুন দল আপনার নেতৃত্বকে
বেছে নিয়েছে, তারা চায় আপনি সেই দলের নেতৃত্ব দেন। সে ক্ষেত্রে আপনার অবস্থান
কী? সেই দলে যদি আপনি যেতে চান তাহলে উপদেষ্টার পর থেকে সরে আসতে হবে- সে বিষয়ে
আপনি কী ভাবছেন?
প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, বাইরে যারা আছে, বৈষম্যবিরোধী নাগরিক কমিটি তারা একটা রাজনৈতিক দলের উদ্যোগের কথা বলেছে অনেক আগেই, ফেব্রুয়ারির মধ্যে। আমি আমার জায়গাতে বলেছি যে, সেই দলে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা হয়তো আমার থাকতে পারে। তো সেটা হলে আমি সরকার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেই সেটি করবো। সে বিষয়ে আমি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেইনি। কিন্তু সেটা সম্ভাবনা আছে। হয়তো এ সপ্তাহের শেষে আমি এ বিষয়ে একটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আপনাদের সবাইকে জানাতে পারব।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সরকারের
পতনের পর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের
উপদেষ্টার দায়িত্ব নেন মো. নাহিদ ইসলাম।
মন্তব্য করুন


প্রধান
উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের
জুনের মধ্যে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি
ইলেকশনস (এএনএফআরইএল)-কে আশ্বস্ত করেছেন।
বৃহস্পতিবার
ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এএনএফআরইএল এর একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে প্রধান
উপদেষ্টা বলেন, আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে, এই নির্বাচন হবে বাংলাদেশের ইতিহাসে সেরা
এবং দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এক মাইলফলক।
এএনএফআরইএল
প্রতিনিধিদলে ছিলেন নির্বাহী পরিচালক ব্রিজা রোসালেস, বাংলাদেশ নির্বাচন ও গণতন্ত্র
কর্মসূচির পরামর্শক মে বুটয়, প্রচারাভিযান ও অ্যাডভোকেসি বিভাগের সিনিয়র প্রোগ্রাম
কর্মকর্তা থারিন্ডু অ্যাবেইরাথনা, প্রোগ্রাম অফিসার আয়ান রহমান খান এবং প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট
আফসানা আমেই।
প্রধান
উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এ কথা জানান।
এএনএফআরইএল
হলো নাগরিক সমাজের একটি আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক যা এশিয়ায় গণতান্ত্রিক নির্বাচনী ব্যবস্থার
উন্নয়নে নিবেদিত, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ, গণতান্ত্রিক সংস্কার
এবং নাগরিক সম্পৃক্ততা বাড়াতে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
বৈঠকে,
এএনএফআরইএল প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে চলমান বিভিন্ন উদ্যোগ বিশেষ করে নাগরিক সমাজের-নেতৃত্বাধীন
স্বাধীন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কাঠামো পুনর্গঠনের অঙ্গীকার তুলে ধরেন।
প্রতিনিধিদলটি
অংশীজন ম্যাপিং এবং চাহিদা নিরূপণের মাধ্যমে নাগরিক সমাজের সম্পৃক্ততা জোরদার এবং নির্বাচনী
স্বচ্ছতা বৃদ্ধির সুযোগ চিহ্নিত করার বিষয়েও আলোচনা করে।
এএনএফআরইএল
প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এর সঙ্গে বৈঠকের সুযোগ পেয়ে কৃতজ্ঞতা
প্রকাশ এবং বাংলাদেশে স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে অংশীজনদের সঙ্গে
চলমান সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।
মন্তব্য করুন


মাতৃভাষার জন্য জীবন
দেওয়ার ঘটনা পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
শুক্রবার (২১
ফেব্রুয়ারি) মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আন্তর্জাতিক
মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার
স্বীকৃতি এনে দিতে আমাদের আত্মত্যাগ করতে হয়েছে অনেক। জাতির মুক্তি সংগ্রামের
ইতিহাসে ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব অপরিসীম। এ আন্দোলনের মধ্য দিয়েই একটি
অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, ভাষাভিত্তিক জাতিসত্তা ও রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনের ভিত
রচিত হয়।
তিনি আরো বলেন, পৃথিবীর
প্রায় সব দেশে নানান দেশের নানান ভাষার কিংবা হাতে গোনা কয়েকটি দেশের কিছু মানুষ
নাগরিকত্ব গ্রহণ করে কয়েক প্রজন্ম ধরে বসবাস করে। নতুন দেশের ভাষা তাদের দৈনন্দিন
জীবনে চব্বিশ ঘণ্টার ভাষায় পরিণত হয়ে যায়, কিন্তু তবু সে ভাষা তার মাতৃভাষায় পরিণত
হয় না। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সব জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে মাতৃভাষার চেতনা ও মর্যাদা
রক্ষার প্রেরণা ও এ চেতনার সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিকতার সূত্রে ২০০১ সালের ১৫ মার্চ
ঢাকায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়। বিশ্বের সব
মাতৃভাষার সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও গবেষণার ইতিবৃত্তকে লক্ষ্য করে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা
ইনস্টিটিউট তার যাত্রা শুরু করে।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস
বলেন, একটি নতুন ভাষা শিখলেই পুরনো ভাষায় দুর্বল হয়ে পড়বে এই ধারণার কোনো ভিত্তি
নেই। পৃথিবীর বহু দেশে একই নাগরিক সাবলীলভাবে কয়েকটি ভাষায় কথা বলবে এটা খুবই
স্বাভাবিক বলে ধরে নেওয়া হয়। তারা শৈশব থেকে নানান ভাষায় অভ্যস্ত হয়ে যায়।
স্কুলে পড়ার সময় প্রত্যেক ছাত্রকে অন্তত একটি ভিন্ন ভাষা শেখা বাধ্যতামূলক করা
হয়। ছাত্ররাও আনন্দ সহকারে সেটা করে থাকে। ইংরেজি শিখলেই বাংলা ভুলে যেতে হবে এমন
কোনো চিন্তা তাদের কারও মাথায় আসে না।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন,
আমরা দ্রুত গতিতে নতুন পৃথিবী সৃষ্টি করে যাচ্ছি। এর জন্য মূলত নিত্যনতুন
প্রযুক্তি প্রধানত দায়ী। প্রযুক্তির প্রাধান্যের সঙ্গে আসে ভাষার প্রাধান্য। যে
দেশের প্রযুক্তি পৃথিবীতে প্রাধান্য অর্জন করতে থাকবে তার সঙ্গে প্রাধান্য অর্জন
করতে থাকবে প্রযুক্তিদাতা দেশের ভাষা। সারা পৃথিবী এই ভাষা শেখার জন্য ঝাঁপিয়ে
পড়বে।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আরও বলেন, ভাষার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির সঙ্গে সাহিত্য, প্রযুক্তি, বিজ্ঞান- সরাসরি জড়িত। আমরা যখন মাতৃভাষায় কথা বলি তখন যেন মনে রাখি মাতৃভাষা মানুষের প্রাথমিক ভাষা। সেই ভাষা প্রথম শ্রবণে যতই রূঢ় মনে হোক না কেন তা একদিন তার প্রাথমিক স্তর পার হয়ে বহু দেশের বহু মানুষের অত্যন্ত নমস্য ভাষায় পরিণত হতে পারে। যদি সে ভাষা পৃথিবীর অগ্রযাত্রায় কৌশলগত ভূমিকা দখল করে নিতে পারে।
মন্তব্য করুন


মজিবুর রহমান পাবেল, প্রতিবেদক:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুমিল্লা জেলার ১১টি সংসদীয় আসনে ২৫টি রাজনৈতিক দলের মনোনীত ৭৬ জন প্রার্থী ও স্বতন্ত্র চার প্রার্থীর মাঝে প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। কুমিল্লা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. রেজা হাসান কুমিল্লা-১ আসনে প্রতীক বরাদ্দের মধ্যদিয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। পরে আসনভিত্তিকভাবে প্রার্থীদের মধ্যে পর্যায়ক্রমে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।
প্রতীক বরাদ্দ ঘিরে জেলা প্রশাসক কার্যালয় এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রতীক বরাদ্দের সময় অধিকাংশ প্রার্থী নিজে উপস্থিত না থেকে তাদের প্রতিনিধির মাধ্যমে প্রতীক সংগ্রহ করেন। কুমিল্লা- ৬ আসনের বিএনপি প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরী ও জামায়াতে ইসলাীর প্রার্থী কাজী দ্বীন মোহামম্মদ, কুমিল্লা-৭ আসনের বিএনপি প্রার্থী রেদোয়ান আহমেদ, কুমিল্লা-৯ আসনের বিএনপি প্রার্থী হআবুল কালাম আরও কিছু প্রার্থী নিজ নিজ নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে উপস্থিত হয়ে প্রতীক গ্রহণ করেন।
প্রতীক বরাদ্দ শেষে প্রার্থীরা প্রচারণার কৌশল নির্ধারণ ও মাঠে নামার প্রস্তুতি শুরু করেছেন। বিভিন্ন দলের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঘিরে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
এদিকে কুমিল্লার ১১টি আসনের মধ্যে বিএনপির তিনজন বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে তারা পছন্দের প্রতীক গ্রহণ করেছেন।এরমধ্যে কুমিল্লা-২ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এম এ মতিন খান পেয়েছেন তালা প্রতীক। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া। কুমিল্লা ৭ চান্দিনা আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী চান্দিনা উপজেলা বিএনপি'র সভাপতি আতিকুল আলম পেয়েছেন কলস মার্কা। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী ড. রেদওয়ান আহমেদ।
কুমিল্লা ৯ (লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিমের মেয়ে সামিরা আজিম দোলা পেয়েছেন ফুটবল প্রতীক। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির শিল্পবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম।
কুমিল্লার ১১টি আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৮০ জন প্রার্থী। এরমধ্যে মধ্যে ৭৬ জন তাদের নিজস্ব দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করছেন। চারজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান প্রতীক বরাদ্দ শেষে সাংবাদিকদের বলেন, কুমিল্লার ১১টি আসনে ২৫টি দলের ৭৬ জন প্রার্থী এবং চারজন স্বতন্ত্র প্রার্থীকে প্রতীক দেওয়া হয়েছে। একজন প্রার্থী হাইকোর্টের রায় নিয়ে এসেছেন, এটা যাচাই-বাছাই করেছি।
মন্তব্য করুন


প্রধান
উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত সময় অনুযায়ীই
সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে, এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বুধবার
(১৪ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনে দায়িত্ব
পালনকারী যুক্তরাষ্ট্রের দুই সাবেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক আলবার্ট গোম্বিস ও মর্স ট্যান
গতকাল মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার
সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলে তিনি একথা বলেন।
এসময়
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে ভুয়া খবরের বন্যা ও পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি
ছড়ানো হয়েছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রতিশ্রুতিতে
অটল।
অন্তর্বর্তী
সরকার নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণা শেষে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর
করবে।
‘কে কী বলল, তা বিবেচ্য নয়। নির্ধারিত
১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে; এর একদিন আগেও নয়, একদিন পরেও নয়,’ বলেন
প্রধান উপদেষ্টা। তিনি আরও বলেন, ভোট হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে।
নির্বাচনের
সময় অন্তর্বর্তী সরকার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকবে এবং সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ
নিশ্চিত করে পক্ষপাতমুক্ত প্রশাসন পরিচালনা করবে বলে প্রধান উপদেষ্টা জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের
সাবেক ভারপ্রাপ্ত আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট আলবার্ট গোম্বিস এবং সাবেক অ্যাম্বাসাডর-অ্যাট-লার্জ
মর্স ট্যান নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশ সফর করছেন।
প্রায়
এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ও সফররত কূটনীতিকরা আসন্ন নির্বাচন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান
ও এর পরবর্তী পরিস্থিতি, তরুণ আন্দোলনকারীদের উত্থান, জুলাই সনদ ও গণভোট, নির্বাচনকে
লক্ষ্য করে ছড়ানো ভুয়া খবর ও মিসইনফরমেশন, রোহিঙ্গা সংকট এবং জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশের
প্রেক্ষাপটে ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশনে’র সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ
বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
জনগণের
সম্মতি পেলে জুলাই সনদ গণতান্ত্রিক শাসনের এক নতুন যুগের সূচনা করবে এবং ভবিষ্যতে স্বৈরশাসনের
কোনো সুযোগ রাখবে না।
অধ্যাপক
ইউনূস বলেন, তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের সমর্থকেরা নির্বাচনকে ঘিরে বিভ্রান্তি সৃষ্টির
উদ্দেশ্যে ভুয়া খবর ও অপতথ্য ছড়াচ্ছে। তবে জনগণ এখন সচেতন। ক্রমেই তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
(এআই) দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও শনাক্ত করতে পারছে।
সাবেক
আন্ডার সেক্রেটারি গোম্বিস একমত পোষণ করে বলেন, ভুয়া খবর বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের ‘প্রধান
শত্রুদের একটি’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে এবং এই হুমকি মোকাবিলায় আরও জোরালো
প্রচেষ্টার প্রয়োজন রয়েছে।
দুই
কূটনীতিক গত দেড় বছরে সরকার পরিচালনায় প্রধান উপদেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য
প্রশংসা করেন।
তারা
জানতে চান, বর্ণবৈষম্য-পরবর্তী দক্ষিণ আফ্রিকার আদলে বাংলাদেশে ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন
উদ্যোগ গ্রহণ করা সম্ভব কি না।
অধ্যাপক
ইউনূস বলেন, প্রয়াত নেলসন ম্যান্ডেলার একজন বন্ধু হিসেবে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার ট্রুথ
অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশনের প্রক্রিয়া ঘনিষ্ঠভাবে দেখেছিলেন। তবে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট শাসকগোষ্ঠী
তাদের অপরাধ অস্বীকার করে যাওয়ায় এই মুহূর্তে বাংলাদেশে সে ধরনের কোনো উদ্যোগ গ্রহণের
সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না।
তিনি
বলেন, ‘সময় এখনো উপযুক্ত নয়। কোথা থেকে শুরু করবেন? ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন তখনই
সম্ভব, যখন কেউ স্বীকার করে যে সে ভুল করেছে, নিজের অপরাধের জন্য অনুতপ্ত হয়, অনুশোচনা
প্রকাশ করে।’
‘কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের কোনো অনুশোচনা
নেই, কোনো অনুতাপ নেই। বরং তারা দাবি করছে যে জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত তরুণরা সন্ত্রাসীদের
হাতে নিহত হয়েছে। তাদের অপরাধের বিপুল পরিমাণে প্রমাণ রয়েছে। তারা যা করেছে তা সম্পূর্ণ
বর্বরোচিত অপরাধ, তবু তারা সম্পূর্ণ অস্বীকারের অবস্থানেই রয়েছে।’
মন্তব্য করুন


জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান সংগঠক এবং কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জনগণ চাইলে কেউ দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না। তার মতে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়লেই গণতন্ত্র আরও শক্ত ভিত্তি পাবে এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত হবে।তিনি বলেন, যারা দুর্নীতিমুক্ত ও চাঁদাবাজিমুক্ত বাংলাদেশ দেখতে চান, যারা চান দেশের সন্তানরা সুশিক্ষা অর্জন করে যোগ্যতার ভিত্তিতে ভালো চাকরি পাক, এবং যারা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশা করেন—তাদের সবার উচিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান নেওয়া।রোববার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার বড় শালঘর ইউনিয়নের সৈয়দপুর বাজারে আয়োজিত আগ্রাসনবিরোধী পদযাত্রা ও গণসংযোগ কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, দেশের উন্নয়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে দুর্নীতি। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ফুটো থাকা একটি বড় পানির ট্যাংকিতে যতই পানি ঢালা হোক, তা কখনো পূর্ণ হবে না। দুর্নীতিই সেই ফুটোর মতো, যা বন্ধ না করলে কোনো সংস্কারই টেকসই হবে না। তিনি দাবি করেন, তার নির্বাচনী লড়াই মূলত দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে। পাশাপাশি তিনি ঋণখেলাপিদের সংসদের বাইরে রাখার কথাও উল্লেখ করেন।তিনি বলেন, এই পরিবর্তনের আন্দোলনে বিশেষ করে তরুণ সমাজসহ সব বয়সের মানুষকে মাঠে নামতে হবে এবং সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।আরও বলেন, তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে কোনো ধরনের সন্ত্রাস বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের জায়গা নেই। উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, তাদের পক্ষ থেকে কেউ কখনো হুমকি দিয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ‘না’ বলে সাড়া দেন। তিনি বলেন, তারা জোর করে কাউকে কর্মসূচিতে আনেন না, বরং ভালোবাসা ও সম্মানের মাধ্যমে মানুষের কাছে যান।হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, ভোট চাওয়াকে তিনি অসম্মানের মনে করেন না। বরং দুর্নীতি বা চুরি করার চেয়ে ভোট ভিক্ষা করাই তার কাছে বেশি মর্যাদার। তিনি জানান, প্রতিদিনই সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাকে আর্থিক সহায়তা, খাবার ও ভালোবাসা দিচ্ছেন। তার মতে, মানুষ তাকে সহযোগিতা করছে কারণ তারা তাকে একজন সৎ মানুষ হিসেবে বিশ্বাস করছে। তিনি বলেন, তিনি নিজের সক্ষমতা গোপন করেন না এবং জনগণের সহায়তা থাকলে পরিবর্তন সম্ভব বলেই তিনি বিশ্বাস করেন।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর
বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী
খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় চীনের পর এবার আসছে যুক্তরাজ্যের বিশেষজ্ঞ দল। বুধবার তারা ঢাকায়
আসবেন।
আজ
মঙ্গলবার ( ২ ডিসেম্বর ) দুপুরে হাসপাতালের সামনে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান খালেদা
জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন।
খালেদা
জিয়ার চিকিৎসায় সহায়তা দিতে চীনের পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল সোমবার (১
ডিসেম্বর) ঢাকায় আসেন। তারা ওইদিনই এভারকেয়ার হাসপাতালে খালেদা জিয়ার মেডিকেল বোর্ডের
সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে দলের দায়িত্বশীল কোনো নেতা এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
যুক্তরাষ্ট্র,
চীন, কাতার, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও ভারত ইতোমধ্যে চিকিৎসা সহায়তার হাত বাড়িয়েছে জানিয়ে
অধ্যাপক ডা. জাহিদ বলেন, খালেদা জিয়ার জন্য দেশের বাইরে নেওয়ার জন্য যে কথাটি আমি
পূর্বেও বলেছি, মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা ওনাকে দেখেছেন। আজও ইউকে থেকে ওনাকে দেখার
জন্য বিশেষজ্ঞ আসবেন এবং ওনারা দেখবেন। দেখার পর ওনাকে যদি ট্রান্সফারেবল হয়, আমাদের
যদি ট্রান্সফার করার প্রয়োজন পড়ে-মেডিকেল বোর্ড যদি মনে করে, তখনই সেই যথাযথ সময়ে
ওনাকে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া হবে। আমাদের সকল প্রস্তুতি আছে; কিন্তু
সর্বোচ্চটা মনে রাখতে হবে- রোগীর বর্তমান অবস্থা এবং সর্বোপরি মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শের
বাইরে কোনো কিছু করার সুযোগ এই মুহূর্তে আমাদের নেই।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে জাপানি নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের
একটি প্রতিনিধি দল সাক্ষাৎ করেছে। উচ্চপর্যায়ের এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে দেন বাংলাদেশে
জাপানের রাষ্ট্রদূত ও জাপানি নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনপ্রধান মাসাতো ওয়াতানাবে।
আজ
বুধবার ( ১১ ফেব্রুয়ারি ) বসুন্ধরায় জামায়াত আমিরের কার্যালয়ে অত্যন্ত আন্তরিকতা ও
হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই মিশনের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের সাধারণ
নির্বাচন সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্যভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা
এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে সহযোগিতা করা।
বৈঠকে
আশা প্রকাশ করা হয়, জাপানি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের এই উদ্যোগ বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে
আরও সুসংহত করবে এবং বাংলাদেশে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে ইতিবাচক ভূমিকা
রাখবে। ভবিষ্যতে উভয় দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে
আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
বৈঠকে
আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ড. মোশাররফ
হোসেন মাসুদ ও জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান।
মন্তব্য করুন


ইসির আইন শাখার উপ-সচিব মো. আব্দুছ সালামের ২৩ নভেম্বর স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন থেকে জানা গেছে,আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পূর্ব অনিয়মের তদন্ত করতে ৩০০ বিচার বিভাগীয় অনুসন্ধান কমিটি নিয়োগ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
প্রতি জেলার যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ এবং সিনিয়র সহকারী জজদের নিয়ে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে ৩০০ আসনের জন্য ৩০০ নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি গঠন করল ইসি।
নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি নির্বাচন-পূর্ব অনিয়ম সংঘটিত হলে তা অনুসন্ধানপূর্বক তৎমর্মে প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন অফিসারের কাছে পাঠাবেন এবং সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন অফিসার ওই অনুসন্ধান প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশন সচিবের কাছে পাঠাবেন। এর পর তা পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত দেবে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি কর্তৃক দায়িত্ব পালনকালে ০১(এক) জন বেঞ্চ সহকারী/ স্টেনোগ্রাফার/অফিস সহকারীকে সহকারী হিসেবে সঙ্গে নিতে পারবেন।
এদিকে জেলা প্রশাসককে ইসি নির্দেশ দিয়েছে , কমিটির কর্মকর্তাদের চাহিদা এবং প্রয়োজন অনুসারে সার্বক্ষণিকভাবে জিপগাড়ি বা মাইক্রোবাস বা স্পিডবোট এবং ক্ষেত্রমতো প্রয়োজনীয় যানবাহন সরবরাহের ব্যাবস্থা রাখার।
একইসঙ্গে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকালে নিরাপত্তার স্বার্থে অনুসন্ধান কমিটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে পুলিশ বাহিনীর ০২(দুই) জন অস্ত্রধারী সদস্যকে নিয়োগ করার জন্য সব পুলিশ কমিশনার/পুলিশ সুপারকেও নির্দেশনা দিয়েছে সংস্থাটি।
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ৩০ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কমিশনে আপিল দায়ের ও নিষ্পত্তি ৫ থেকে ১৫ ডিসেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৭ ডিসেম্বর। রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রতীক বরাদ্দ করবেন ১৮ ডিসেম্বর। নির্বাচনি প্রচার চলবে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত। আর ভোটগ্রহণ হবে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত।
মন্তব্য করুন


স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে বাংলাদেশে উদ্ভুত বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সহায়তার লক্ষ্যে ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সহায়তা সমন্বয় সেল’ গঠন করা হয়েছে।
শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়ে আরো বলা হয়, জননিরাপত্তা বিভাগের যুগ্মসচিব মো. হারুন-অর-রশিদ সেলের দৈনন্দিন কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করবেন।
‘দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা
সহায়তা সমন্বয় সেল’-এ জরুরি যোগাযোগের জন্য ০২-৪৭১১৮৭০০, ০২- ৪৭১১৮৭০১, ০২-৪৭১১৮৭০২, ০২-৪৭১১৮৭০৩, ০২-৪৭১১৮৭০৪ ও ০২-৪৭১১৮৭০৫ এবং ০১৩১৭৭৪৯৯৮০ ও ০১৮২০১১৭৭৪৪ নম্বরে ফোন করা যাবে।
সমন্বয় সেল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে সার্বক্ষণিক
যোগাযোগ রক্ষাসহ প্রাপ্ত তথ্যাদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন এবং সার্বক্ষণিক ফলোআপ করবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে
উল্লেখ করা হয় ।
মন্তব্য করুন


ত্রয়োদশ
সংসদ নির্বাচনের জন্য ঢাকা-১৭ সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র ভারপ্রাপ্ত
চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে দলটির প্রতিনিধি দল।
আজ
সোমবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে তারেক রহমানের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেন আসনটিতে
বিএনপি’র নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক আবদুস সালাম।
সকাল থেকেই সেগুনবাগিচায় অবস্থিত ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে
এই মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়।
পুরো প্রক্রিয়াটি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে শেষ হয়।
মনোনয়নপত্র
জমা দেওয়া শেষে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম বলেন, আল্লাহর রহমতে আমরা
সুন্দরভাবে তারেক রহমানের মনোনয়নপত্রটি জমা দিতে পেরেছি। দীর্ঘ ১৭ বছর আমাদের যে নেতাকে
তারা প্রবাস জীবনে বাধ্য করেছিল, আজ আল্লাহর রহমতে জনগণের দোয়ায় তিনি দেশে ফিরে এসেছেন।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে এই নির্বাচনের জন্য আমরা অপেক্ষা করেছি।
আব্দুস
সালাম বলেন, তারেক রহমান দেশে ফিরে আসার দিন নগরবাসী যেভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে তাকে বরণ
করে নিয়েছেন, সে জন্য আমরা নগরবাসীকে ধন্যবাদ জানাই। ঠিক একইভাবে আগামী ফেব্রুয়ারির
১২ তারিখের নির্বাচনেও ঢাকা-১৭ আসন এলাকার জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাদের নেতার পক্ষে
ভোট দেবে বলে আমরা আশা করি। তিনি আরও বলেন, দেশের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে একটি ভোটের জন্য
অপেক্ষা করছে। নতুন প্রজন্ম গত তিনটি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি। নতুন প্রজন্মের সব
ভোট ধানের শীষের পক্ষে হোক, এটাই আমরা আশা করি।
তিনি
বলেন, এখনও যে ষড়যন্ত্র চলছে, তা ভেদ করে একমাত্র বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলই এই দেশের
সব জনগণের পক্ষে কথা বলবে।
এ
সময় আরও উপস্থিত ছিলেন— বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ফরহাদ হালিম ডোনার, ঢাকা
মহানগর উত্তর বিএনপি’র আহ্বায়ক ও ঢাকা-১৬ আসনের বিএনপি মনোনীত
প্রার্থী আমিনুল হক, মহানগর উত্তর বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাকা-১৮ আসনের বিএনপি
মনোনীত প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর আলম এবং ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফ উদ্দিন
জুয়েলসহ বিএনপি’র কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের একাধিক
নেতা-কর্মী।
বিএনপি’র
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ঢাকা-১৭ আসনকে ঘিরে দলটির প্রস্তুতি বেশ কিছুদিন ধরেই
চলছিল। দেশে ফেরার পর গত শনিবার তারেক রহমান
ঢাকা-১৭ আসনের ভোটার হন। এরপর থেকেই বিএনপি’র সিনিয়র নেতারা তাকে ঢাকা-১৭ আসন থেকে
নির্বাচন করার অনুরোধ জানিয়ে আসছিলেন। গুলশান-বনানী ও বারিধারার মতো অভিজাত এলাকা নিয়ে
গঠিত ঢাকা-১৭ আসন। এই আসনে বিএনপি’র
জোটসঙ্গী হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থের
নির্বাচন করার কথা শোনা যাচ্ছিল।
তবে
তারেক রহমান ঢাকা-১৭ আসন থেকে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এই আসনটি ছেড়ে দেওয়ার
ঘোষণা দিয়েছেন বিজেপি’র চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি ভোলা-১ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত
নিয়েছেন বলে জানা গেছে। এর আগে বগুড়া-৬ আসন থেকে তারেক রহমানের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ
করা হয়। পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তিনটি
আসন— বগুড়া-৭, ফেনী-১ ও দিনাজপুর-৩ থেকে নির্বাচনে অংশ নেবেন
বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন