

ঠাকুরগাঁওয়ের
রাণীশংকৈল উপজেলায় গত বছর ১ আগস্ট একটি বিয়ের পর ‘কনে বদল’
সংক্রান্ত জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। যা এখন আদালত ও কারাগারের মাধ্যমে বিচারাধীন রয়েছে।
বিবরণ
অনুযায়ী, রায়হান কবির ও জিয়ারুল হকের মেজ মেয়ের বিয়ে হয়। তবে বাসররাতে বর রায়হান কবির
অভিযোগ করেন, যাকে বিয়ের আগে দেখানো হয়েছিল, বাসরঘরে আসা নববধূ সে নন। বর দাবি করেন,
অতিরিক্ত মেকআপের আড়ালে কনে বদল করা হয়েছে এবং বিয়ের পরেই এ প্রতারণা বুঝতে পেরেছেন।
এই
অভিযোগের ভিত্তিতে বরপক্ষ মেয়ের বাবা জিয়ারুল হক ও ঘটক মোতালেবকে আসামি করে ২৭ আগস্ট
ঠাকুরগাঁও আদালতে মামলা করেন। এরপর ২ সেপ্টেম্বর কনের পরিবারও পাল্টা মামলা দায়ের করে।
বর
রায়হান কবিরের মামা বাদল জানান, ঘটকের মাধ্যমে পাত্রী খোঁজা হয়েছিল এবং মেয়েপক্ষ দ্রুত
বিয়ে সম্পন্ন করতে চেয়েছিল। কিন্তু বিয়ের রাতেই কনেকে চিনতে না পারার কারণে সমস্যা
শুরু হয়। বর দাবি করেন, ঘটক ও মেয়ের বাবা এই প্রতারণার পরিকল্পনা করেছিলেন।
অন্যদিকে
কনের বাবা জিয়ারুল হক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মেজ মেয়েকে ছেলেপক্ষ বিয়ের আগে দেখেছে
এবং বিয়ের অনুষ্ঠানে অনেক অতিথি উপস্থিত ছিল। তিনি বলেন, বিয়ের পর যৌতুক দাবি করা হয়,
যা মিথ্যা অভিযোগ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ঘটক
মোতালেবও কনে বদলের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি অন্য কোনো মেয়ে দেখাননি এবং বিয়ের
প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করেছে ছেলেপক্ষ।
ঠাকুরগাঁও
আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও ছেলেপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন জানান, মীমাংসার
চেষ্টা করা হলেও সমাধান হয়নি। বর্তমানে বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এবং তারা আশা
করেন, সঠিক সত্য উন্মোচিত হবে।
এ
ঘটনা ঠাকুরগাঁও এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে এবং বিয়ের আনন্দ মুহূর্তকে সন্দেহ
ও আইনি ঝামেলায় পরিণত করেছে। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুসারে রায়হান কবির জামিনে ছিলেন,
তবে সম্প্রতি জামিন নামঞ্জুর হয়ে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন


মহান শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দেওয়া এক বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। এ ছাড়া ব্রেইল বইসহ বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর মাতৃভাষায় পাঠ্যপুস্তক বিনামূল্যে বিতরণ করা নিয়েও তিনি কথা বলেন।
তিনি বলেন, মহান শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আমি বাংলাসহ বিশ্বের সকল ভাষাভাষী মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। ইউনেস্কো ২০০০ সাল থেকেই বাংলাদেশের সঙ্গে এ দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করে আসছে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘মেইক ল্যাঙ্গুয়েজ কাউন্ট ফর সাসটেউনেবল ডেভেলপমেন্ট’ যুক্তিযুক্ত হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশ ও দেশের ভাষাসমূহের মর্যাদা রক্ষায় নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে, যা দেশের উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য।
ড. ইউনূস আরো বলেন, শত বছরের শোষণে ও শাসনে জর্জরিত বাঙালি জাতির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম জয়যাত্রা ১৯৫২ সালে ২১ ফেব্রুয়ারিতে। বাঙালি জাতির মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব অপরিসীম। এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই একটি অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, ভাষাভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনের ভিত রচিত হয়েছিল। এ দিনে আমাদের মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষা করতে প্রাণোৎসর্গ করেছিলেন আবুল বরকত, আবদুল জব্বার, আবদুস সালাম, রফিক উদ্দিন আহমদ, শফিউর রহমানসহ আরো অনেকে।
পাশাপাশি তিনি আরো বলেন, ১৯৫৬ সালে বাংলা রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা পায় এবং ২১ ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে এই দিনে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।
প্রফেসর
ইউনূস সবাইকে মহান শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৫ এর শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন
জানান। তিনি এ উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন। সূত্র: বাসস
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা:
কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ ইয়াছিন বলেছেন, সবাই মিলে কুমিল্লার উন্নয়নে পাশে দাঁড়ালে হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্যে এই প্রত্যয় নিয়েই কাজ করা হবে।
পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষ্যে কুমিল্লা সমিতি ঢাকার উদ্যোগে শনিবার বিকালে রাজধানীর রাওয়া কনভেনশন হলে আয়োজিত দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সবার আন্তরিক সহযোগিতা ও সমর্থন পেলে কুমিল্লা এগিয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ—এমন বিশ্বাস তাঁর রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, কুমিল্লাকে বিভাগ করার দাবিতে একসময় আন্দোলন করা হয়েছে এবং সেই স্বপ্ন এখনও তাঁর অন্তরে লালিত রয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, আজকের অনুষ্ঠানে শুধু তিনি নন—সচিব পর্যায়ের বহু কর্মকর্তা, অবসরপ্রাপ্ত যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ এবং অসংখ্য গুণীজন উপস্থিত রয়েছেন। সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় অবহেলিত কুমিল্লাকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মন্ত্রী বলেন, কখনও ভাবেননি তাঁকে মন্ত্রিত্ব দেওয়া হবে। যখন জানতে পারেন যে তাঁকে শপথ নিতে হবে, তখন তিনি বলেছিলেন—"মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার আগে তিনি নিশ্চিত হতে চান, যে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হবে সেখানে যেন জনগণের কল্যাণে বাস্তব ভূমিকা রাখার সুযোগ থাকে। জনগণের কল্যাণে কাজ করার সুযোগ থাকলেই কেবল তিনি সেই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।" তিনি আরও বলেন, সবার দোয়া ও সমর্থনে আজ অত্যন্ত পছন্দের একটি সেক্টরে তাঁকে মন্ত্রিত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি যেন সৎ ও হক-হালাল পথে দায়িত্ব পালন করতে পারেন এবং তাঁর বাবার সম্মান, নিজের সম্মান ও সর্বোপরি কুমিল্লাবাসীর সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখতে সক্ষম হন—সেজন্য তিনি সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।
তিনি সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কুমিল্লার উন্নয়ন ও বিভাগ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ। সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা সমিতির সভাপতি সিনিয়র সচিব এ বি এম শাহজাহান।
দোয়া ও ইফতার মাহফিলে কুমিল্লা সমিতি ঢাকার সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন পেশাজীবী, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং আমন্ত্রিত অতিথিগণ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


প্রধান
উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আজ রোববার (৩ আগস্ট) নৌবাহিনী সদর দপ্তরে ‘নৌবাহিনী
ও বিমান বাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৫' এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন।
নৌবাহিনী
সদর দপ্তরে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন হতে কমডোর, কমান্ডার হতে
ক্যাপ্টেন ও লেঃ কমান্ডার হতে কমান্ডার এবং বিমান বাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন হতে এয়ার
কমডোর, উইং কমান্ডার হতে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এবং স্কোয়াড্রন লীডার হতে উইং কমান্ডার পদবিতে
কর্মকর্তাদের পদোন্নতির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের
সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দের সমন্বয়ে গঠিত এ পর্ষদ, সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে নৌবাহিনী
ও বিমান বাহিনীর ভবিষ্যৎ জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বের জন্য যোগ্য ও দক্ষ কর্মকর্তা নির্বাচন করবেন।
অনুষ্ঠানের
শুরুতে মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজে সংঘটিত মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে
১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
আন্তঃবাহিনী
জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
নির্বাচনী
পর্ষদ-২০২৫ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর বীর সেনা, সকল শ্রেণি-পেশার
মুক্তিকামী বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে
আত্মত্যাগকারী সকল শহীদকে।
তিনি
বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর গৌরবময় ইতিহাস, সংগ্রাম ও বীরত্বের কথা স্মরণসহ শান্তিকালীন
সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা এবং জাতীয় প্রয়োজনে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ভূয়সী
প্রশংসা করেন।
তিনি
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ও নানা সংকটে বিশেষত ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র
জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী দেশের নিরাপত্তা সংকটে আপামর জনসাধারণের পাশে দাঁড়িয়ে আইন-শৃঙ্খলা
নিয়ন্ত্রণ, দেশ গঠনে উন্নয়ন ও সেবামূলক কাজে অংশগ্রহণ করে দেশের মানুষের ভালোবাসা ও
পরম নির্ভরতা অর্জন করায় নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের সাধুবাদ ও অভিনন্দন জানান।
প্রধান
উপদেষ্টা দেশের সমুদ্র সম্পদের সংরক্ষণ ও আহরণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন,
ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র গভীর সমুদ্র বন্দরের ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর
অবদান এবং সার্বিকভাবে সুনিল অর্থনীতির বিকাশে প্রয়োজনীয় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ার ব্যাপারে
নির্দেশনা প্রদান করেন। একইসাথে তিনি দেশের সুনীল অর্থনীতির বিকাশে চলমান বিভিন্ন কর্মকাণ্ড,
মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এমআইডিএ) প্রতিষ্ঠা, উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়নসহ
দেশের সার্বিক উন্নয়নে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের
ওপর আলোকপাত এবং এক্ষেত্রে নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর অবদানের কথা উল্লেখ করেন।
অধ্যাপক
ড. ইউনূস নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী কর্তৃক দেশের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ
অবদানসহ দেশমাতৃকার সেবায় ও সুরক্ষায় বাহিনী দ্বয়ের ভূমিকা ও সর্বোপরি সশস্ত্র বাহিনীর
আধুনিকীকরণের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন। নৌবাহিনী এবং বিমান বাহিনী দেশের সংবিধান
সমুন্নত রেখে যে কোন রাষ্ট্রীয় সংকটে এবং দুর্যোগে আর্তমানবতার সেবায় জনগণের পাশে
দাঁড়ানোর এই ধারা ভবিষতেও অব্যাহত রাখবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।
তিনি
বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর নেতৃত্বে দেশপ্রেমিক, মেধাবী, দক্ষ, পেশাদার, সৎ,
মানবিক এবং নৈতিক গুণাবলীসম্পন্ন যোগ্য কর্মকর্তাদের নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী পর্ষদকে
যথাযথ নির্দেশনা দেন।
প্রধান
উপদেষ্টা অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান, ওএসপি, এনপিপি,
এনডিসি, এনসিসি, পিএসসি এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান,
বিবিপি, ওএসপি, জিইউপি, এনএসডব্লিউসি, পিএসসি তাঁকে স্বাগত জানান।
নির্বাচনী
পর্ষদ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ায় নৌবাহিনী প্রধান এবং বিমান বাহিনী
প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।
নৌবাহিনী
ও বিমান বাহিনীর ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রধান উপদেষ্টার ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা
ও দিকনির্দেশনা নৌবাহিনী এবং বিমান বাহিনীর সকল সদস্যের কর্মস্পৃহা ও মনোবল বৃদ্ধি
করেছে বলে তারা দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এছাড়াও,
প্রধান উপদেষ্টার মূল্যবান দিকনির্দেশনায় নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীতে নেতৃত্ব প্রদানে
দেশপ্রেম, পেশাগত দক্ষতা, মানবিক ও অধিনায়কত্বের গুণাবলির মাপকাঠিতে দক্ষ ও উপযুক্ত
কর্মকর্তা নির্বাচনের মাধ্যমে সুদক্ষ বাহিনী গড়ে তোলার দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেন বাহিনী
প্রধানগণ ।
অনুষ্ঠানে
সংশ্লিষ্ট সামরিক ও বেসামরিক উধ্বর্তন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধান
উপদেষ্টা নৌবাহিনী সদর দপ্তর প্রাঙ্গণে একটি বৃক্ষরোপণ করে নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী
ও বাংলাদেশের সমৃদ্ধি কামনা করেন ।
মন্তব্য করুন


পবিত্র
লাইলাতুল কদর উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সব মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ
জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি পবিত্র এই রাতের তাৎপর্য অনুধাবন করে সবাইকে
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগি করি এবং মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ
করার আহ্বান জানান।
সোমবার
(১৬ মার্চ) দিবাগত রাতের পবিত্র লাইলাতুল কদর উপলক্ষে আজ রবিবার (১৫ মার্চ) দেওয়া বাণীতে
এ শুভেচ্ছা জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন,
‘লাইলাতুল কদর মহিমামণ্ডিত ও বরকতময় এক রাত।
পবিত্র
কুরআনুল করিম রমজান মাসের এই মহিমান্বিত রাতেই অবতীর্ণ হয়েছে। মহান আল্লাহ তাআলা এ
রাতকে হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ বলে ঘোষণা করেছেন। এ রাত মানবজাতির জন্য কল্যাণ, ক্ষমা
ও রহমতের বার্তা নিয়ে আসে।’
তারেক
রহমান বলেন, ‘এই রাতে ইবাদত-বন্দেগি, তাওবা ও দোয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের
এক অনন্য সুযোগ সৃষ্টি হয়। রমজান মাস সংযম, আত্মশুদ্ধি, সহনশীলতা ও মানবিক গুণাবলির
জাগরণের মাস। পবিত্র লাইলাতুল কদরের শিক্ষা আমাদের ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে শান্তি,
ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় অনুপ্রাণিত করে।’
তিনি
বলেন, ‘আসুন, আমরা সবাই এই রাতের তাৎপর্য অনুধাবন করে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে
বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগি করি এবং মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করি। আমি মহান আল্লাহ তাআলার
দরবারে প্রার্থনা করি, তিনি যেন পবিত্র লাইলাতুল কদরের অসীম রহমত ও বরকত আমাদের সবার
ওপর বর্ষণ করেন। আমাদের দেশ ও জাতিকে অগ্রগতি, শান্তি, সম্প্রীতি এবং কল্যাণের পথে
পরিচালিত করেন।’
তিনি
আশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘পবিত্র লাইলাতুল কদরের মহিমা আমাদের জীবনে শান্তি, সম্প্রীতি
ও কল্যাণ বয়ে আনুক—এই কামনা করি।’
মন্তব্য করুন


প্রায় দেড়শ
বছরের ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী সৌদি আরবের সবচেয়ে প্রবীণ নাগরিক শেখ নাসের বিন রাদ্দান
আল রশিদ আল ওয়াদাইয়ের ইন্তেকাল করেছেন।
পরিবারের দাবি
অনুযায়ী, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১৪২ বছর। গত ১১ জানুয়ারি সৌদি আরবের দাহরান
আল এলাকায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
পরিবারের তথ্যমতে,
আধুনিক সৌদি আরব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠারও বহু আগে ঊনবিংশ শতকে আল রশিদের জন্ম
হয়েছিল। তিনি প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, মরুপ্রধান সমাজ থেকে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক
সৌদি আরবের রূপান্তর এবং একাধিক সৌদি শাসকের শাসনকাল প্রত্যক্ষ করেছেন।
পরিচিতজনদের
ভাষ্যে, তাঁর দীর্ঘ জীবনের মূল ভিত্তি ছিল দৃঢ় ধর্মবিশ্বাস ও পরিবার। জীবদ্দশায় তিনি
৪০ বারেরও বেশি পবিত্র হজ পালন করেন। মৃত্যুকালে তিনি ১৩৪ জন সন্তান, নাতি-নাতনি ও
তাঁদের বংশধর রেখে গেছেন। তিনি সাত বিয়ে করেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, ১১০ বছর বয়সে তিনি
শেষবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং পরবর্তী সময়ে তাঁর একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়।
মন্তব্য করুন


১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আজ সন্ধ্যা ৬টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বিটিভি নিউজ ও বাংলাদেশ বেতার একযোগে ভাষণটি সম্প্রচার করবে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি;
কৃষকদের উৎপাদিত ফসলকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দিতে ফসল বীমা (ইনসুরেন্স) চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন খাদ্য, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, বন্যা বা অন্য কোনো দুর্যোগে ফসলের ক্ষতি হলে বীমা সুবিধার আওতায় ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে, যাতে কৃষকরা আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত না হন। কৃষকদের জন্য কেবল কৃষক কার্ডই নয়, তাদের উৎপাদিত ফসলের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করার কাজ করছে সরকার।
বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার আমড়াতলী ইউনিয়নের শ্যামপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়।
মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে সরকার যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিল, তা বাস্তবায়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করা হচ্ছে। অনেকেই মনে করেছিলেন এসব প্রতিশ্রুতি কেবল কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সেগুলো বাস্তবায়ন করছেন।
তিনি আরও বলেন, এই দল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দল, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দল। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রমাণ করে যাচ্ছেন, বিএনপি যা বলে, তা বাস্তবায়ন করে।
মন্ত্রী জানান, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানীসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। শুরুতে এসব উদ্যোগ নিয়ে অনেকে সমালোচনা করেছেন, কিন্তু আমাদের দল ক্ষমতায় আসার পর বাস্তবে তা কার্যকর করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, কৃষিই দেশের অর্থনীতির মূলভিত্তি। দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ সরাসরি কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই কৃষকের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। কৃষকদের জন্য বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি ফসল বীমা চালু হলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতির ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে।
তিনি আরও বলেন, কৃষকের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কৃষি খাতে প্রণোদনা, সহায়তা এবং ঋণ সুবিধা সহজীকরণের মাধ্যমে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণ করা হবে।
খাদ্য নিরাপত্তা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ রয়েছে এবং তা দিয়ে আগামী কয়েক মাসের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। দেশের কোনো মানুষ খাদ্য সংকটে পড়বে না—এমন নিশ্চয়তা দিতে সরকার কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নিত্যানন্দ কুণ্ডু।
আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির যুগ্ম- সাধারণ সম্পাদক নজরুল হক ভূইয়া স্বপন, আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম, সাধারন সম্পাদক শফিউল আলম রায়হান, মহানগর বিএনপি নেতা নিজাম উদ্দিন কায়সার, আমড়াতলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক মিয়াজ মাহমুদ সোহেলসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে আমড়াতলী ইউনিয়নের এক হাজার ৮৭৯ জন উপকারভোগীর মাঝে প্রত্যেককে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি;
খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার প্রমাণ করেছে যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল শুধু কথার রাজনীতি করে না, বরং বাস্তব কাজের মাধ্যমে মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কাজ শুরু করেছে।
আজ দুপুরে লালমাই উপজেলার দোশারীচোঁ মৌজাস্হ ডাকাতিয়া নদীর শাখা খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন এবং খাল সংলগ্ন মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কৃষি মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগেই বিএনপি দরিদ্র ও অসহায় নারীদের সহায়তার জন্য ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের ঘোষণা দিয়েছিল এবং নির্বাচন শেষে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সেই কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। একইভাবে কৃষকদের সহায়তায় কৃষক কার্ড চালু করার প্রস্তুতিও প্রায় সম্পন্ন হয়েছে এবং পয়লা বৈশাখের আশপাশে তা চালু করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ কৃষির সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত। কৃষকদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। এ লক্ষ্যে সরকার কৃষি ঋণ মওকুফসহ বিভিন্ন সহায়ক উদ্যোগ ইতোমধ্যে নিয়েছে।
মন্ত্রী আরো বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান-এঁর সময়ের মতো আবারও খাল খনন কর্মসূচি চালু করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় খাল পুনঃখনন ও সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, খাল পুনঃখননের মাধ্যমে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং মাছ উৎপাদনের সম্ভাবনা বাড়বে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতেও এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য হল কৃষকবান্ধব নীতি গ্রহণের মাধ্যমে দেশের কৃষি খাতকে আরও শক্তিশালী করা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো।
তিনি স্থানীয় জনগণকে খাল রক্ষা ও ব্যবস্থাপনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, খালগুলো সচল থাকলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, পানি নিষ্কাশন সহজ হবে এবং এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা -১০ (নাঙ্গলকোট ও লালমাই) এর সংসদ সদস্য মো: মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া, বিএডিসির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো: আজিজুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মু: রেজা হাসান। এসময় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ, স্হানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ জনসাধারণ উপস্হিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী “দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন এবং পুনঃখনন” কর্মসূচির অংশ হিসেবে কুমিল্লা জেলার লালমাই উপজেলায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)-এর আওতাধীন “বি-স্ট্রং” প্রকল্পের অধীনে খাল খননের কার্যক্রম আজ শুরু হয়েছে। এ খাল খনন কার্যক্রমের মাধ্যমে লালমাই উপজেলার ৪২টি গ্রামের জলাবদ্ধতা দূরীভূত হবে। ফলে এ অঞ্চলের বিপুল সংখ্যক মানুষ উপকৃত হবে।
মন্তব্য করুন


পরিবেশ রক্ষার অংশ হিসেবে সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পর্যটক ভ্রমণ দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ করা হচ্ছে। আগামীকাল রোববার থেকে টানা নয় মাস দ্বীপটিতে পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। শনিবার চলতি পর্যটন মৌসুমের শেষ দিনে শেষবারের মতো পর্যটকবাহী জাহাজ দ্বীপে যাতায়াত করছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সেন্ট মার্টিনগামী কোনো পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না।
এই সিদ্ধান্তে দ্বীপের পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী মানুষ ও পরিবহন খাতের সঙ্গে যুক্তদের মধ্যে চরম দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। সাধারণত প্রতি বছর ১ অক্টোবর থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সেন্ট মার্টিন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত থাকলেও চলতি মৌসুমে সময়সীমা কমিয়ে নভেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে নভেম্বর মাসজুড়ে পর্যটকদের রাতযাপন নিষিদ্ধ ছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মৌসুম সংক্ষিপ্ত হওয়ায় ব্যস্ত সময়েও তারা কাঙ্ক্ষিত আয় করতে পারেননি। ফলে টানা নয় মাস পর্যটন বন্ধ থাকলে জীবিকা সংকট আরও তীব্র হবে বলে আশঙ্কা করছেন দ্বীপবাসী।
দ্বীপের স্থানীয় সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই হাজার পর্যটক সেন্ট মার্টিনে এসেছেন। সব মিলিয়ে মোট পর্যটকের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় এক লাখ ২০ হাজার। তবে পর্যটকের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হলেও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তেমন লাভবান হননি বলে জানান তারা।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান হোসাইন বলেন, শনিবার পর্যটকদের নিয়ে সব জাহাজ চলাচল করবে। রোববার থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। ভবিষ্যতে সরকার সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সেন্ট মার্টিন হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি এম এ আবদুর রহমান জানান, অধিকাংশ ব্যবসায়ী এবার লাভ করতে পারেননি, বরং অনেকেই আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। নির্বাচন শেষে যদি পুনরায় পর্যটন চালুর অনুমতি দেওয়া হয়, তাহলে কিছুটা হলেও ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, দ্বীপের প্রায় প্রতিটি পরিবার কোনো না কোনোভাবে পর্যটনখাতের ওপর নির্ভরশীল। হঠাৎ করে পর্যটক ভ্রমণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবাই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।
রিকশাচালক নুর আজিম জানান, রিকশা কেনার জন্য ঋণ নিয়েছিলেন, কিন্তু দুই মাসেও তা শোধ করতে পারেননি। এখন পর্যটক না থাকায় ঋণ পরিশোধ করা নিয়ে তিনি চরম দুশ্চিন্তায় আছেন।
কটেজ মালিক মো. জাহাঙ্গীর অভিযোগ করে বলেন, কিছু বড় বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়িক সিন্ডিকেটের কারণে স্থানীয়রা প্রকৃত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। সরকারের বিধিনিষেধে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন দ্বীপের সাধারণ মানুষ।
ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে মানবিক দৃষ্টিকোণ বিবেচনায় অন্তত ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত বা আরও কয়েক মাস পর্যটন চালু রাখার দাবি জানানো হয়েছে।
সরকারি নির্দেশনায় সেন্ট মার্টিন দ্বীপে রাতের বেলায় সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি, বারবিকিউ আয়োজন, কেয়াবনে প্রবেশ ও কেয়া ফল সংগ্রহ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবালসহ কোনো ধরনের জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা যাবে না। সৈকতে মোটরচালিত যান চলাচল এবং পলিথিনের ব্যবহারও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে
‘ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের বীর সেনাপতি’ আখ্যা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)
আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে মিরপুরে ঢাকা-১৫
আসনের নির্বাচনী প্রচারণার জনসমাবেশে বক্তৃতার সময় তিনি এ আখ্যা দেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশ জামায়াতে
ইসলামীর সংগ্রামী আমির। তবে এটুকু পরিচয় উনার জন্য বর্তমান বাংলাদেশের যথেষ্ট নয়।
তিনি দশ দলীয় নির্বাচনে ঐক্যের প্রধান কাণ্ডরি ও
ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের বীর সেনাপতি।
তিনি বলেন, জামায়াতের আমির এই বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে
নির্যাতিত হয়েছেন। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে গিয়েছেন, কারাবরণ করেছেন, মজলুম জননেতা
হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, আজ আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের
প্রচারণা শুরু হলো।
সারা বাংলাদেশে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটের যারা
প্রার্থী রয়েছে তাদের পক্ষে যেই জনজোয়ার নেমে এসেছে। ১২ ফেব্রুয়ারি সেটার ফল বাংলাদেশের
জনগণ দেখতে পাবে।
মন্তব্য করুন