

রংপুরের
কাউনিয়ায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার
পলাতক আসামি আজমাইন আব্দুল্লাহ উৎসকে (২৬) প্রায় দুই মাস পর গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত সোমবার রাতে ঢাকার বিমানবন্দর থানাধীন এলাকা থেকে র্যাব-১-এর সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার
করা হয়।
পরে
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রংপুর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে
পাঠানো হয়েছে।
মামলার
তদন্তকারী কর্মকর্তা রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের হারাগাছ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রুহুল
আমীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তার হওয়া আজমাইন আব্দুল্লাহ উৎস কাউনিয়া
উপজেলার হারাগাছ পৌর এলাকার সারাই জাগরণ পাগড়া গ্রামের তারিকুল ইসলামের ছেলে।
মামলার
নথি ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত আজমাইন বিবাহিত হলেও বিষয়টি গোপন রেখে
প্রায় ১৮ বছর বয়সী এক কলেজছাত্রীর সঙ্গে পরিচয় গড়ে তোলেন। কলেজে যাওয়া-আসার পথে প্রথমে
প্রেমের প্রস্তাব দিলেও তরুণী তা প্রত্যাখ্যান করেন। পরে ফেসবুক মেসেঞ্জার ও হোয়াটস
অ্যাপে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়।
অভিযোগে
বলা হয়, গত বছরের ২ ডিসেম্বর বিয়ের আশ্বাস দিয়ে আজমাইন তরুণীকে রংপুর আদালত সংলগ্ন
লেকের পাড়ে নিয়ে যান। সেখানে একটি স্ট্যাম্প পেপারে স্বাক্ষর করিয়ে তাকে বিশ্বাস করানো
হয় যে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। এরপর একই দিন হারাগাছের ধুমগড়া এলাকার একটি বাড়িতে
নিয়ে স্ত্রী পরিচয়ে রাতভর ধর্ষণ করা হয়। পরবর্তী সময় বিভিন্ন স্থানে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে
একাধিকবার তার সঙ্গে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা
হয়েছে।
তদন্তকারী
কর্মকর্তা এসআই রুহুল আমীন বলেন, ‘ভুক্তভোগী পরে বৈধ কাবিননামা দেখতে চাইলে অভিযুক্ত
বিভিন্ন অজুহাত দেখাতে থাকেন। এতে তার সন্দেহের সৃষ্টি হয়।’
মামলার
বিবরণ অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল ভুক্তভোগী কয়েকজন সাক্ষীকে সঙ্গে নিয়ে আজমাইনের
বাড়িতে গেলে তিনি জানান, তিনি আগেই বিবাহিত এবং ওই তরুণীকে বিয়ে করা তার পক্ষে সম্ভব
নয়। অভিযোগ রয়েছে, এসময় তিনি স্বীকার করেন যে বিয়ের নাটক সাজিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করেছেন।
পাশাপাশি ঘটনাটি প্রকাশ না করতে টাকা দেওয়ার প্রস্তাব এবং আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার
হুমকিও দেন।
হারাগাছ
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অশোক চৌহান বলেন, ‘ভুক্তভোগী গত ৬ মে রংপুর আদালতে
মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে ১২ মে হারাগাছ থানায় ধর্ষণ মামলা রুজু হয়। মামলা
হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত আত্মগোপনে চলে যায়।’ তিনি আরো বলেন, ‘অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে
পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে। দীর্ঘ প্রায় দুই মাসের চেষ্টার পর র্যাব-১-এর
সহযোগিতায় ঢাকার বিমানবন্দর থানাধীন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। পরে
মঙ্গলবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।’
পুলিশ
জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দিকও খতিয়ে
দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন