

পটুয়াখালীতে
দুটি পোষা কুকুরকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে দুই ব্যক্তির নামে মামলা করা হয়েছে। রবিবার
(২৬ জুলাই) পটুয়াখালী সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আতিউর রহমান বাদী হয়ে
মামলাটি করেন।
পটুয়াখালী
চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আদালতের বিচারক আবু বকর সিদ্দিকের আদালত মামলাটি
সরাসরি গ্রহণ করে মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার
আসামিরা হলেন দক্ষিণ বাদুরা এলাকার মো. মঞ্জু হাওলাদার (৫০) ও মো. জহির হাওলাদার (৪৫)।
মামলা
সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুলাই সকাল ১১টার দিকে আউলিয়াপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ বাদুরা খেজুরতলা
স্ট্যান্ড এলাকায় দুটি কুকুরকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে কাঠের চেড়া ও
লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে
পড়লে বিষয়টি পটুয়াখালী সদর উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার নজরে আসে।
মামলার
বাদী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আতিউর রহমান বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারি। পরে যাচাই করে প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার
অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বাদীপক্ষের
আইনজীবী মো. ইমরান বলেন, প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
আইন
অনুযায়ী এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। আদালত মামলাটি সরাসরি আমলে নিয়েছেন। এ ঘটনার সঙ্গে
জড়িতদের বিরুদ্ধে আদালত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) অভিযান চালিয়ে ১৪৮ কেজি ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার করেছে। সোমবার (১৮ মে) সকাল আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বিজিবি সূত্র জানায়, আমাগন্ডা বিওপির একটি টহলদল দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান বিরোধী অভিযান চালায়। এসময় সীমান্ত থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সপুয়া বাজার এলাকায় মোঃ ফাহাদ মিয়ার ফার্নিচার দোকানের পেছনের বাথরুম থেকে ১৪৮ কেজি গাঁজা জব্দ করা হয়।
উদ্ধারকৃত গাঁজা চৌদ্দগ্রাম থানায় জমা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অবৈধভাবে মাদকদ্রব্য গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে মজুদ রাখার অভিযোগে পলাতক আসামি মোঃ ফাহাদ মিয়া (২৮), পিতা- মোঃ কামাল মিয়া, গ্রাম- নোয়াপুর, থানা- চৌদ্দগ্রাম, জেলা- কুমিল্লার বিরুদ্ধে চৌদ্দগ্রাম থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


বগুড়ায়
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতার বিরুদ্ধে কয়েকজন ছাত্রী ও নারী শিক্ষকদের উত্ত্যক্ত
এবং তাদের অশালীন কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
প্রতিবাদে
ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের কক্ষে তাকে জুতা পেটা করেছেন। পরে তিনি ভবিষ্যতে আর
এমন কাজ করবেন মর্মে মুচলেকা দিয়ে রেহাই পেয়েছেন।
গত ২৪ মে এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে।
ওই
নেতা বগুড়ায় অবস্থিত কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টিটিসি) ড্রাইভিং ও আরএসি ট্রেডের
ছাত্র। তার নাম আলী আজম সাব্বির খান। এ প্রসঙ্গে
টিটিসির অধ্যক্ষ প্রকৌশলী এসএম ইমদাদুল হক বলেন, এটা একটি সাধারণ ঘটনা। ওই ছাত্রকে বহিষ্কার করা হবে। জানা যায়, জেলা এনসিপি
ওই নেতাকে সংগঠনের সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি ও তিনদিনের কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে
জানা গেছে, বগুড়া শিবগঞ্জের দহিলা গ্রামের সেকেন্দার আলীর ছেলে এনসিপি নেতা আলী আজম
সাব্বির খান বগুড়া টিটিসিতে তিন মাসের ড্রাইভিং ও আরএসি ট্রেডে ভর্তি হন। তিনি নিজের
ট্রেডের পাশাপাশি অন্যান্য ট্রেডের অন্তত ২০ জন ছাত্রীকে মোবাইল ফোন ও সরাসরি নানাভাবে
উত্ত্যক্ত ও অশালীন কুপ্রস্তাব দেন। শুধু তাই নয়; প্রতিষ্ঠানের অন্তত ছয়জন নারী শিক্ষককেও
একই ধরনের কুরুচিপূর্ণ প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাকে নিষেধ করলে তিনি তাদের
এনসিপির সমন্বয়ক পদের ভয় দেখান। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীরা টিটিসির অধ্যক্ষের কাছে বিচার
দাবি করেন। পরে প্রশাসনিকভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হয়। এরপরও এনসিপি নেতা সংশোধন
হননি। তিনি প্রতিষ্ঠান ছুটির দিন গত ২৪ মে অধ্যক্ষের কক্ষে শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচারণ
ও চড়াও হওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তাকে জুতাপেটা করেন। এরপর ভবিষ্যতে
এমন কাজে জড়িত থাকবেন না মর্মে মুচলেকা দিয়ে রেহাই পান। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের
মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নারী শিক্ষার্থী ও নারী শিক্ষকদের হয়রানির
সঙ্গে জড়িত সাব্বিরকে আইনের আওতায় এনে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
এ
ঘটনার পর জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত ইমরান স্বাক্ষরিত বার্তায় সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের
অভিযোগে সাব্বিরকে সংগঠনের সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি ও শোকজ করা হয়েছে।
আগামী
তিন কার্যদিবসের মধ্যে জেলা এনপিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এমএসএ মাহমুদ ও সদস্য সচিব
সুলতান মাহমুদের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। ফোন না ধরায় এ নেতাদের
বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নাম ও পরিচয় প্রকাশে অনুচ্ছিক জেলা এনসিপির এক দায়িত্বশীল
নেতা আলী আজম সাব্বির খানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
মন্তব্য করুন


সারাদেশে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি চক্র উত্তম ও সেলিম সিন্ডিকেটের মূলহোতাসহ ১৪ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাব ।
কয়েকটি চক্র রেলস্টেশনে কর্মরত অসাধু কর্মচারী, সহজ ডটকমের অসাধু কর্মকর্তা, সার্ভার রুম ও আইটি সদস্যদের সহযোগিতায় ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি করতো । এছাড়া সংরক্ষণ করা জনসাধারণের এনআইডির তথ্য ব্যবহার করে এমনকি সার্ভার ডাউন করে অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করতো এসব চক্র।
বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর কমলাপুর ও বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে র্যাব -৩।
গ্রেফতাররা হলেন- ট্রেনের টিকেট কালোবাজারির সেলিম সিন্ডিকেটের মূলহোতা মো. সেলিম (৫০), তার প্রধান সহযোগী মো. আনোয়ার হোসেন ওরফে কাশেম (৬২), অবনী সরকার সুমন (৩৫), মো. হারুন মিয়া (৬০), মো. মান্নান (৫০), মো. আনোয়ার হোসেন ওরফে ডাবলু (৫০), মো. ফারুক (৬২), মো. শহীদুল ইসলাম বাবু (২২), মো. জুয়েল (২৩) ও মো. আব্দুর রহিম (৩২)।তাদের তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দর রেলস্টেশন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে উত্তম সিন্ডিকেটের মূলহোতা উত্তম চন্দ্র দাস (৩০), তার প্রধান সহযোগী মো. মোর্শিদ মিয়া ওরফে জাকির (৪৫), আব্দুল আলী (২২) ও মো. জোবায়েরকে (২৫) গ্রেফতার করা হয়।
এসময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় এক হাজার ২৪৪টি আসনের টিকিট, ১৪টি মোবাইল ফোন এবং টিকিট বিক্রির নগদ ২০ হাজার টাকা।
শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে কারওয়ান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।তিনি বলেন, অনলাইনে বা রেল স্টেশনের টিকিট কাউন্টারে টিকিট পাওয়া না গেলেও কালোবাজারে বেশি দামে টিকিট বিক্রি হতে দেখা যায়। টিকিট কালোবাজারিরা বিভিন্ন কৌশলে ট্রেনের টিকিট অগ্রিম সংগ্রহ করে অবৈধভাবে নিজেদের কাছে মজুত করে রেখে সাধারণ যাত্রীদের কাছ দেড় থেকে দুই গুণ বেশি দামে টিকিট বিক্রি করছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে সরাসরি ট্রেন চলাচল শুরু হয় এবং এই রুটে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস নামের দুটি ট্রেন যাত্রা শুরু করে। দীর্ঘ এই ভ্রমণে নিরাপদ ও আরামদায়ক যাত্রার জন্য এ রুটে ট্রেনের টিকিটের ব্যাপক চাহিদা দেখা দেয়। টিকেটের চাহিদা বেশি থাকায় টিকিট কালোবাজারিদের দৌরাত্ম্যও বেড়ে যায়; অনলাইনে বা কাউন্টারে টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শেষ হয়ে যায় এই রুটের ট্রেনের টিকিট। কিন্তু কালোবাজারিদের কাছে ২-৩ গুণ দামে টিকিট বিক্রি হতে দেখা যায়।চাহিদা অনুযায়ী টিকিট না পাওয়ার এবং টিকিট কালোবাজারিরা বেশি দামে টিকিট বিক্রির বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচিত হয়। ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি প্রতিরোধ ও কালোবাজারিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে ১৪ জনকে গ্রেফতার করে র্যাব ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা ট্রেনের টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে কিছু তথ্য প্রদান করেছে ।
স্টেশনে কুলি, টোকাই, রিকশাওয়ালা ও দিনমজুরদের লাইনে দাঁড় করিয়ে টিকিট সংগ্রহ:
কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, কমলাপুর রেলস্টেশনে সেলিম সিন্ডিকেটের মূলহোতা সেলিম এবং বিমানবন্দর রেলস্টেশনে উত্তম সিন্ডিকেটের মূলহোতা উত্তমের নেতৃত্বে এ চক্রটি সংঘবদ্ধভাবে দীর্ঘদিন ধরে মহানগর প্রভাতী, তূর্ণা নিশিথা, চট্টলা এক্সপ্রেস, উপবন এক্সপ্রেস, মহানগর এক্সপ্রেস, পারাবত এক্সপ্রেস, উপকূল এক্সপ্রেস, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, কালনী এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি করে আসছিল। গ্রেফতার সেলিম এবং উত্তমের নেতৃত্বে তার সহযোগীরা প্রথমত ট্রেনের কাউন্টারে বিভিন্ন ভ্রাম্যমাণ যাত্রী, রেলস্টেশনের কুলি, স্টেশনের আশেপাশের এলাকার টোকাই, রিকশাওয়ালা ও দিনমজুরদের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে লাইনে দাঁড় করিয়ে টিকিট সংগ্রহ করত।
যাত্রীদের এনআইডি সংগ্রহ করে পরবর্তীতে সেগুলো ব্যবহার করে কাটা হতো টিকিট:
এক্ষেত্রে তাদের প্রত্যেককে চারটি করে টিকিট সংগ্রহ করার বিনিময়ে ১০০ টাকা করে দেওয়া হতো। এছাড়াও কাউন্টারে থাকা কিছু অসাধু টিকিট বুকিং কর্মচারীদের দিয়ে বিভিন্ন সাধারণ যাত্রীদের টিকিট কাটার সময় এনআইডি সংগ্রহ করে রাখে এবং পরবর্তীতে সেগুলো ব্যবহার করে সংরক্ষণকৃত প্রতিটি এনআইডি দিয়ে চারটি করে ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করে থাকে।
প্রতিদিন ৫০০ টিকিট সংগ্রহ করতো তারা:
এভাবে তারা প্রতিদিন প্রায় পাঁচ শতাধিক টিকিট সংগ্রহ করতো। অনেক ক্ষেত্রে টিকিট কাউন্টারে নিজেরা লাইনে দাড়িয়ে এবং কৌশলে লাইনে অপেক্ষমান টিকিটপ্রত্যাশী সাধারণ যাত্রীদের এনআইডি ব্যবহার করে চারটি টিকিট কিনে তিনটি টিকিট নিজেরা তার কাছ থেকে টাকা দিয়ে টিকিটগুলো কিনে নিতো।
সার্ভার ডাউন করে তারা অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ:
র্যাবের মুখপাত্র বলেন, ঈদ, পুজা, সাপ্তাহিক ছুটিসহ বিশেষ ছুটির দিনকে উপলক্ষ করে গ্রেফতাররা রেলস্টেশনে কর্মরত কিছু অসাধু কর্মচারী এবং অনলাইনে টিকিট ক্রয়ের জন্য ব্যবহৃত ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান সহজ ডটকমের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও সার্ভার রুম ও আইটি সদস্যদের সহযোগিতায় তাদের কাছে সংরক্ষিত জনসাধারণের এনআইডির তথ্য ব্যবহার করে এমনকি সার্ভার ডাউন করে তারা অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করতো।
শিক্ষার্থীদের দিয়ে অনলাইনে টিকিট কাটানো হতো:
কমান্ডার মঈন বলেন, পাশাপাশি গ্রেফতাররা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের দিয়ে অনলাইনে টিকিট কেটে সেগুলো তাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করতো। গ্রেফতাররা স্টেশনে থাকা তাদের সিন্ডিকেটের সদস্যদের দিয়ে কাউন্টার থেকে স্ট্যান্ডিং টিকেট সংগ্রহ করতো। এসব টিকিটের মূল্য কাউন্টারের বুকিং কর্মচারীদের সঙ্গে তারা ভাগ করে নিতো। ফলে রেলওয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এভাবে গ্রেফতাররা অবৈধভাবে বিভিন্ন পন্থায় বিপুল সংখ্যক ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করতো।
গ্রেফতারকৃত সেলিম ও উত্তমের নেতৃত্বে তার সহযোগীরা উপযুক্ত সময় বুঝে সংগ্রহকৃত টিকিট নিয়ে রেলস্টেশনের ভেতরে অবস্থান করে। রেলস্টেশনে এসে টিকিট না পাওয়া সাধারণ যাত্রীদের কাছে গ্রেফতাররা টিকিট বিক্রির জন্য ঘুরাঘুরি করে এবং বেশি দামে টিকিট বিক্রি করে। এছাড়াও ট্রেন ছাড়ার সময় যত সন্নিকটে আসতে থাকে তাদের মজুত করা কালোবাজারি টিকিটের দাম তত বাড়তে থাকে এবং সুযোগ বুঝে অনেক ক্ষেত্রে টিকিটের দাম দিগুণেরও বেশি বাড়িয়ে দেয়।
ঈদের সময় ৪ গুণ দামে টিকিট বিক্রি:
র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক বলেন, ঈদের ছুটিসহ বিভিন্ন ছুটিকে কেন্দ্র করে গ্রেফতাররা প্রতিটি টিকেট ৩-৪ গুণ বেশি মূল্যে বিক্রি করে। প্রতিটি টিকিট তারা দেড় গুণ থেকে দুই গুণে বিক্রি করে এই লভ্যাংশের ৫০ শতাংশ পায় গ্রেফতাররা নিতো এবং বাকি ৫০ শতাংশ কাউন্টারে থাকা বুকিং কর্মচারী ও তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সহজ ডটকমের কর্মচারী-কর্মকর্তা ও আইটি বিশেষজ্ঞদের দেওয়া হতো।
৩৫ বছর ধরে টিকিট কালোবাজারি করেছে সেলিম:
কমান্ডার মঈন জানান, গ্রেফতার সেলিম দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর ধরে টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত। তিনি কমলাপুর রেলস্টেশনে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি সেলিম সিন্ডিকেটের মূলহোতা। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় টিকিট কালোবাজারির দায়ে সাতটি মামলা রয়েছে এবং এসব মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগও করেছেন তিনি। সে জামিনে মুক্তি পেয়ে পুনরায় আবার টিকিট কালোবাজারির কার্যক্রমে লিপ্ত হয়।
১৫ বছর ধরে টিকিট কালোবাজারিতে জড়িত কাশেম:
তিনি বলেন, গ্রেফতার আনোয়ার হোসেন ওরফে কাশেম প্রায় ১৫ বছর ধরে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত। তিনি গ্রেফতার সেলিমের অন্যতম প্রধান সহযোগী। মূলত তার দায়িত্ব ছিল কাউন্টার থেকে ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করা। এর আগে তিনি মাদক মামলাসহ একাধিক মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করেছেন।
এছাড়াও গ্রেফতার অবনী সরকার ও হারুন মিয়ার দায়িত্ব ছিল চট্টগ্রাম এলাকার কাস্টমার সংগ্রহ করা। একইভাবে মান্নান এবং আনোয়ার ওরুফে ডাবলুর দায়িত্ব ছিল সিলেট এলাকার কাস্টমার সংগ্রহ করা। ফারুক এবং শহীদুল ইসলাম বাবুর দায়িত্ব ছিল ভৈরব ও কিশোরগঞ্জের কাস্টমার দেখাশোনা করা। জুয়েল এবং আব্দুর রহিমের দায়িত্ব ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও আখাউড়ার যাত্রী সংগ্রহ করা। এছাড়াও গ্রেফতারদের সবার বিরুদ্ধে টিকিট কালোবাজারির মামলা রয়েছে।
১৫ বছর ধরে টিকিট কালোবাজারি করেছে উত্তম:
কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, গ্রেফতার উত্তম প্রায় ১৫ বছর ধরে ট্রেনের টিকেট কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত। তিনি বিমানবন্দর রেলস্টেশনের টিকিট কালোবাজারি চক্র উত্তম সিন্ডিকেটের মূলহোতা। তার সহযোগী গ্রেফতার আলী ও ফারুকসহ রাজধানীর আশকোনা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় অবস্থান করে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করত। তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং এই সহানুভূতিকে কাজে লাগিয়ে রেলস্টেশন এলাকায় সবসময় অবস্থান করে টিকিট কালোবাজারি চক্র গড়ে তোলে।
উত্তমের বিরুদ্ধে টিকিট কালোবাজারির দায়ে চারটি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তিনি বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করেছেন।পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারও টিকিট কালোবাজারির কাজে লিপ্ত হন।
মন্তব্য করুন


পটুয়াখালীর
মির্জাগঞ্জে সুবিদখালী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের জার্সি পরিহিত অবস্থায়
দালালি করতে গিয়ে বাবলু হাসান (২৮) নামে এক যুবক ভ্রাম্যমাণ আদালতের হাতে আটক হয়েছেন।
পরে তাকে ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রোববার
(১২ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাসেল মুন্সীর নেতৃত্বে পরিচালিত
অভিযানে এ দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত বাবলু উপজেলার চত্রা গ্রামের মো. মোশারেফ
হাওলাদারের ছেলে।
জানা
গেছে, দীর্ঘদিন ধরে একটি দালাল চক্র সুবিদখালী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে আসা সাধারণ মানুষের
কাছ থেকে দ্রুত সেবা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও বিভিন্নভাবে হয়রানি
করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে আর্জেন্টিনার জার্সি পরিহিত অবস্থায়
সাধারণ মানুষকে হয়রানির সময় বাবলুকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
পরে
ভ্রাম্যমাণ আদালতে বাবলু অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করলে, মোবাইল কোর্ট আইনের সংশ্লিষ্ট
ধারায় তাকে ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
উপজেলা
সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাসেল মুন্সী বলেন, ‘ভূমি অফিসকে দালালমুক্ত ও জনবান্ধব করতে
এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চলবে। কোনো অবস্থাতেই সাধারণ মানুষকে সরকারি সেবা নিতে এসে হয়রানির
শিকার হতে দেওয়া হবে না।’
মন্তব্য করুন


মাদারীপুরে
পানিছত্র এলাকায় মানিকগঞ্জ আদালতের সিনিয়র সিভিল জজ আতিক জামান এবং তার স্ত্রী মানিকগঞ্জ
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মায়িশা মালিহা অদ্রির গ্রামের
বাড়িতে সংঘবদ্ধ চোরচক্রের দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় প্রায় ৩২ লাখ টাকার
সম্পদ চুরি হয়েছে।
সোমবার
(৬ জুলাই) শেষ রাতে শহরের পানিছত্র ভূঁইয়া বাড়ি মসজিদসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পরিবার
সূত্রে জানা যায়, জজ আতিক জামানের বাবা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মো. আলিমুজ্জামান
অসুস্থতার কারণে পরিবারসহ ঢাকায় চিকিৎসাধীন থাকায় বাড়িটি তালাবদ্ধ ছিল। এই সুযোগে
গভীর রাতে চোরচক্র কোলাপসিবল গেট ও একাধিক দরজার তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। পরে শয়নকক্ষে
থাকা স্টিলের আলমারির লকার ভেঙে প্রায় ১১ ভরি স্বর্ণালংকার, ৪ লাখ ৮০ হাজার নগদ টাকা,
একাধিক মূল্যবান হাতঘড়ি এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে পালিয়ে যায়।
এ
ছাড়া নির্মাণাধীন ভবনে রাখা বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রীও চুরি হয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ।সোমবার
সকাল ৭টার দিকে বাড়ির ভাড়াটিয়ারা তালা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পেয়ে মো. আলিমুজ্জামানকে
মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানান। পরে তিনি ঢাকা থেকে মাদারীপুরে এসে বাড়ির বিভিন্ন কক্ষের
তালা ভাঙা, আলমারি তছনছ এবং মালামাল খোয়া যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।খবর পেয়ে
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন
করেন।
তিনি
বলেন, ‘ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত, গ্রেপ্তার
এবং চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’এ
ঘটনায় মো. আলিমুজ্জামান বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা চোরচক্রের বিরুদ্ধে মাদারীপুর সদর মডেল
থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ
জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে
তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের দুই কর্মকর্তার গ্রামের বাড়িতে সংঘটিত
এই চুরির ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত চোরচক্রকে
গ্রেপ্তার এবং চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোঃ আমিরুল কায়সার এর নির্দেশনায় কুমিল্লার কাঁচা বাজারের বৃহৎ আড়ত বুড়িচং উপজেলার নিমসার বাজারে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
বুধবার পরিচালিত এ অভিযানটি বুড়িচং উপজেলা প্রশাসন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং কৃষি বিপণন অধিদপ্তর দ্বারা সমন্বিতভাবে পরিচালিত হয়েছে।
অভিযানে পাইকারি আড়তদারদের পাকা ভাউচার সংরক্ষণ ও বিক্রি সময় পাকা ভাউচার প্রদান করার জন্য কঠোর সতর্ক করা হয়েছে।
পাশাপাশি এটাও বলা হয়েছে পদক্ষেপগুলো গ্রহণ না করা হলে অন্যথায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এই সময় বিভিন্ন অনিয়মে ০২ টি প্রতিষ্ঠানকে ১৫,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
জনস্বার্থে পুরো রমজান ব্যাপি এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিযানে সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন কুমিল্লা জেলা পুলিশ ও বুড়িচং থানার পুলিশ।
মন্তব্য করুন


পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের
উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, পরিবেশ এবং বন সংরক্ষণ ও উন্নয়নে পরিবেশ ও বন
অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তা কোনো প্রকার দুর্নীতি, অনিয়ম ও অবহেলা প্রদর্শন করলে তাদের
বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিকেলে দায়িত্ব নেওয়ার পর বুধবার (১৪
আগস্ট) প্রথমবারের মতো বন অধিদপ্তর পরিদর্শন এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায়
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
রাজধানীর কাটাবনের পাখি মার্কেটে বিদ্যমান
অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন
মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, দেশের বনকে বনের মতো রাখতে হবে এবং
দেশের পরিবেশের মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিকভাবে নিবেদিত হয়ে কাজ
করতে হবে। বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটকে এখানে নিয়মিত মনিটরিং করতে হবে।
এখানে সকল প্রকার অবৈধ পাখির ব্যবসা বন্ধে এবং পাখির প্রতি নিষ্ঠুর আচরণকারী ব্যবসায়ীদের
বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। এ কাজে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা নেওয়ার আহ্বান
জানান তিনি।
বনের ওপর আগ্রাসন বন্ধে অগ্রাধিকার
ভিত্তিতে বনের সীমানা নির্ধারণ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান পরিবেশ উপদেষ্টা।
মতবিনিময় সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু
পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব, বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক, বিভাগীয়
বন কর্মকর্তা, বন অধিদপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বুধবার (১৪ আগস্ট) সকালে পরিবেশ উপদেষ্টা
পরিবেশ অধিদপ্তর পরিদর্শন করেন এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি পাহাড়
ও টিলা কর্তন, নদীর দূষণ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের
কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান আরও বলেন, জনগণের
অভিযোগ দ্রুততম সময়ে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে।
কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির আহ্বান
জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, দৃশ্যমান ফলপ্রসূ কাজের মাধ্যমে মানুষের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে
আনতে হবে।
মতবিনিময় সভায় পরিবেশ উপদেষ্টা পরিবেশ
ও বন অধিদপ্তরের সমস্যা, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জসমূহ শোনেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের
আশ্বাস দেন।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ
জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪৮তম
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালীর গলাচিপায় দলটির বর্তমান কমিটি ও সাবেক নেতাকর্মীদের
অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা
ঘটেছে। পৃথক কর্মসূচি পালনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সকাল থেকেই ঘটনাস্থলগুলোতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে ছিল।
মঙ্গলবার
(১ সেপ্টেম্বর) সকালে গলাচিপা পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। এর আগে সোমবার
থেকেই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা
জানান, সকালে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা
ঘটে। পরে উভয় পক্ষ পৃথকভাবে মিছিল বের করলে পৌর শহরের কালীবাড়ি ও বটতলা এলাকায়
তাদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ ও পথচারীদের মধ্যে
নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়।
এদিকে
সংঘর্ষের সময় প্রেস ক্লাব গলাচিপার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আল মামুনের মালিকানাধীন
ঐতিহ্যবাহী হাবিব রেস্টুরেন্টে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ
উঠেছে। এতে রেস্টুরেন্টটির বিভিন্ন আসবাব ও মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত
হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এতে প্রায় এক লাখ টাকার
ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। তবে হামলার সঙ্গে কারা জড়িত, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া
যায়নি।
স্থানীয়
সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গলাচিপায় বর্তমান উপজেলা কমিটির নেতাকর্মীরা একদিকে এবং সাবেক নেতাদের অনুসারীরা অন্যদিকে পৃথক কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কর্মসূচি ঘোষণার পর থেকেই দুই
পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অবস্থান ও উত্তেজনা দেখা
দেয়। শেষ পর্যন্ত কর্মসূচি পালনের সময় তা সংঘর্ষে রূপ
নেয়।
পরিস্থিতি
নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
গলাচিপায়
সংঘর্ষের বিষয়ে পটুয়াখালী পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মো.
সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে অল্প কিছু হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সকাল থেকেই পুলিশ সেখানে উপস্থিত ছিল।' তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।
মন্তব্য করুন


চলতি
বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল ২০ জুলাইয়ের মধ্যে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন।
সোমবার
(০৮ জুন) সচিবালয়ে জাতীয় পর্যায়ের স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া
শোকেসিং প্রোগ্রাম, প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট এবং মন্ত্রণালয় ও
বিভাগের অন্যান্য আয়োজন বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী
বলেন, আমরা কারিকুলাম নিয়ে কাজ করছি। এটি পরিমার্জনের জন্য ব্যাপক কার্যক্রম চলমান
রয়েছে। আগামী বছর ৪টি নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ২০২৮ সালে নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়ন
করা হবে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি নিয়ে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশের
পরিকল্পনা রয়েছে।
সংবাদ
সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী
ববি হাজ্জাজ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক, কারিগরি ও মাদ্রাসা
শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক
(ডিজি) ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক
শাহীনা ফেরদৌসী উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


স্থানীয়
সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এখন যে ভাষায় বিরোধীদলীয়
নেতারা কথা বলছেন, ‘৫ বছর ক্ষমতায়
থাকতে দেবো না।’ ঠিক এমনই কথা বলতেন শেখ হাসিনাও।
সোমবার
(৩ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবে আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
স্থানীয়
সরকারমন্ত্রী বলেন, ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগ বলেছিল, সরকারকে একটি মুহূর্তের জন্য শান্তিতে থাকতে দেবো না। ঠিক সেই একই ভাষায় কথা বলতে শুরু করেছে বর্তমান বিরোধীদলের নেতারা।
তিনি
আরও বলেন, বিএনপি জুলাই সনদের বাস্তবায়ন চায় না, এমনটা বলে ভুল বোঝানো হচ্ছে। গণভোটের একটি প্রশ্ন ঐকমত্য কমিশন চাপিয়ে দিয়েছে। জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। বিএনপি যেখানে একমত নয়, সেটা বলেছে। স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি অংশ পালন করবে বিএনপি।
স্থানীয়
সরকারমন্ত্রী বলেন, রাজপথে বিরোধীদলের নেতারা যে ভাষায় কথা
বলছেন, সেটা ঠিক নয়। রাজপথে আন্দোলন তাদের অধিকার। কিন্তু, সেটা যেন সংঘাতের দিকে না যায়। সংশোধন
কমিটি হবে নাকি সংস্কার পরিষদ, সংসদে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে বিরোধীদলকে আহ্বান জানান তিনি।
এছাড়াও
যেসব জায়গায় হামলার মতো ঘটনা ঘটেছে, সেটার নিন্দা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে।
এসময়
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, রাজনীতিকে কৃত্রিমভাবে সংসদের বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির ধারা বজায় রাখতে দলগুলোর সহযোগিতা চায় বিএনপি।
তিনি
আরও বলেন, কার্যকর সংসদ আর গণতান্ত্রিক পন্থায়
রাজনৈতিক বিতর্ক হলে শহীদদের আত্মত্যাগ সফল হবে।
মন্তব্য করুন