

প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমান বলেছেন, নির্বাচনের আগে জনগণকে দেয়া সকল প্রতিশ্রুতি, জনগণের রায়ে বিএনপির
সরকার গঠনের পর আমরা সেগুলো একের পর এক বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি।
আজ
শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল সোয়া ১১টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ইমাম, মুয়াজ্জিন,
খাদেম, পুরোহিত, সেবায়েত, বিহার, অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষদের সম্মানী দেওয়ার কার্যক্রমের
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
কর্মসংস্থান
সৃষ্টির মাধ্যমে আর্থিক বৈষম্য দূর করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তারেক রহমান আরো বলেন,
'সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ যারা অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে রয়েছেন, তাদের জন্য
আর্থিক সহায়তা কিংবা কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে আর্থিক বৈষম্য দূর করে আমরা সবাই
মিলে ভালো থাকবো, জাতীয় নির্বাচনের আগে আমরা জনগণের কাছে সেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম।
এখন সেগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি।'
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, 'অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া নারীদের জন্য আমরা ইতোমধ্যেই 'ফ্যামিলি কার্ড' চালু
করেছি। পর্যায়ক্রমিকভাবে এই কার্ড সারাদেশে সবাই পাবেন। আগামী ১৪ এপ্রিল তথা পয়লা বৈশাখ
থেকে চালু হচ্ছে 'ফার্মার্স কার্ড' বা 'কৃষক কার্ড'। আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুর থেকে
শুরু হচ্ছে খাল খনন কর্মসূচি।'
প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমান বলেন, 'আজ থেকে চালু হলো খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং অন্য ধর্মের ধর্মীয়
গুরুদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি। যাদের প্রয়োজন সারাদেশে তাদের প্রত্যেককে পর্যায়ক্রমিকভাবে
এই সহায়তা দেয়া হবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি শ্রেণী-পেশার মানুষ তথা প্রতিটি
নাগরিকের আর্থিক সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকার রাষ্ট্রীয় সামর্থ্যের সবটুকু
দিয়ে চেষ্টা করবে।'
নাগরিক
কিছু দায়বদ্ধতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, 'নাগরিকদেরও কিন্তু রাষ্ট্র এবং সমাজের প্রতি
কিছু দায় দায়িত্ব রয়েছে। নাগরিক হিসেবে আমরা যদি যে যার অবস্থান থেকে রাষ্ট্র এবং সমাজের
প্রতি যার যার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করি, আমি আশা করি, আগামী ১০ বছরে রাজনৈতিক এবং
অর্থনৈতিকভাবে আমরা একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ দেখতে পাবো।'
নাগরিকদের
দুর্বল রেখে রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হতে পারে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'দেশের
প্রতিটি নাগরিকের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমরা আমাদের
দেশকে এমন একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে চাই, যাতে আর কোনো ফ্যাসিবাদ
কিংবা তাবেদার অপশক্তি মানুষের স্বাধীনতা কেড়ে নিতে না পারে। আমি বার বার একটি কথা
বলি, নাগরিকদের দুর্বল রেখে রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হতে পারে না।'
ধর্মীয়,
সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'অর্থনৈতিকভাবে
সমৃদ্ধ রাষ্ট্র মানুষের জীবনে হয়তো আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করে কিন্তু ধৈর্য,
সততা, কৃতজ্ঞতাবোধ, শ্রদ্ধা, আনুগত্য, সংহতি, সহনশীলতা, উদারতা, বন্ধুত্ব, বিনয়, দায়
কিংবা দয়া, এই সকল বৈশিষ্টগুলো অর্জন ছাড়া একজন ব্যক্তি মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন হয়ে
উঠতে পারে না। এ ধরণের মানবিক বৈশিষ্টগুলো অর্জনের জন্য ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধে
উজ্জীবিত হওয়া জরুরি।' তিনি বলেন, 'প্রতিহিংসা এবং সহিংসতা' মুক্ত একটি নিরাপদ সমাজ
বিনির্মাণের ক্ষেত্রে ধর্মের উদারনৈতিক শিক্ষণীয় বক্তব্যগুলো অতুলনীয়। আমার বিশ্বাস,
একটি নৈতিকতা সমৃদ্ধ মানব সমাজের গঠনের জন্য
প্রতিটি
ধর্মেই ইতিবাচক বার্তা রয়েছে। সুতরাং, একটি ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ সমৃদ্ধ
মানসিকতা তৈরীর ক্ষেত্রে আপনাদের মতো ধর্মীয় জ্ঞান সম্পন্ন মানুষদের ভূমিকা অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে
ধর্ম সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদের খতিব মুফতি সাইফুল ইসলাম,
বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মহিবুল্লাহি বাকি, শায়েখে চরমোনাই ও ইসলামী
আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম বক্তব্য রাখেন।
মন্তব্য করুন


মজিবুর
রহমান পাবেল, কুমিল্লা:
কুমিল্লার ৬টি উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত গৃহহীন ৭০টি পরিবার নিজ বসতভিটায় বিশেষ আবাসন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় সেনাবাহিনীর নির্মিত ঘর পেয়েছে।
আজ বুধবার (৩০ এপ্রিল) সকালে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের ঘোলপাশায় ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হয়ে ঘরগুলো উপহার হিসেবে হস্তান্তর করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস।
এসময় কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোঃ আমিরুল কায়ছার, ৪৪ পদাতিক ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোঃ এনামুল হক, ২৩ বীরের অধিনায়ক লে. কর্নেল মাহমুদুল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশেদুল হক চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জামাল হোসেনসহ সেনাবাহিনীর উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জেলার বুড়িচংয়ে ২৯, ব্রাহ্মণপাড়ায় ১০, সদর দক্ষিণে ৬, চৌদ্দগ্রামে ১০, মনোহরগঞ্জে ১০ ও নাঙ্গলকোটে ৫ টি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত উপকারভোগীদের মাঝে হস্তান্তর করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় সেনাবাহিনীর ২৪ ও ৩৩ পদাতিক ডিভিশন এসব গৃহনির্মাণ বাস্তবায়ন করে।
ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সঙ্গে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গোলপাশা ইউনিয়নের কুমাল্লা গ্রামের উপকারভোগী মো. আলম মিয়ার বাড়ির সামনে থেকে অনুষ্ঠানটি সংযুক্ত হয়।
২০২৪ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত গৃহহীন কুমিল্লা জেলার ৭০টি পরিবারের মধ্যে এ ঘরগুলো হস্তান্তর করা হয়।
মন্তব্য করুন


সাবেক
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে
জাতিসংঘ (ইউএন)। একই সঙ্গে তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের
প্রতি সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেছে সংস্থাটি।
জাতিসংঘের
এক শোকবার্তায় বলা হয়, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী, মহামান্য বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে
জাতিসংঘ গভীর শোক প্রকাশ করছে।’
বার্তায়
আরো বলা হয়, ‘এই শোকের সময়ে জাতিসংঘ সম্মানিত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পরিবার ও স্বজনদের
প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে এবং বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি তার সংহতি পুনর্ব্যক্ত
করছে।’
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী
সরকারের গঠন করা জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জনসাধারণের জন্য প্রকাশ
করা হয়েছে। আট খণ্ডের এ প্রতিবেদনে রয়েছে- কমিশনের সুপারিশ, জুলাই জাতীয় সনদ, রাজনৈতিক
দল ও জোটগুলোর মতামত, আলোচনার সারসংক্ষেপ, বিভিন্ন নথিপত্র এবং কমিশনের করা জনমত জরিপের
ফলাফল।
আজ মঙ্গলবার
( ০৯ ডিসেম্বর ) সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা
ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
অন্তর্বর্তী
সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর গত বছরের অক্টোবর থেকে বিভিন্ন সময়ে মোট ১১টি সংস্কার কমিশন
গঠন করা হয়। প্রথম ছয়টি কমিশনের কার্যক্রম শেষের দিকে এলে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ
ইউনূসকে সভাপতি এবং সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান প্রফেসর আলী রীয়াজকে সহ-সভাপতি
করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়। পরবর্তী সময়ে বিচার বিভাগ ও জনপ্রশাসন সংস্কার
কমিশনের প্রধানরা ব্যক্তিগত কারণে দায়িত্ব পালন করতে না পারায় ওই দুই কমিশনের জ্যেষ্ঠ
সদস্যদের জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
চলতি বছরের
১৫ ফেব্রুয়ারি কমিশনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর পর রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের
সঙ্গে একাধিক দফা আলোচনা চলে। এর ধারাবাহিকতায় ৩১ জুলাই চূড়ান্ত করা হয় জুলাই জাতীয়
সনদ ২০২৫, যা পরে ১৭ অক্টোবর রাজনৈতিক দলগুলোর আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে অনুমোদিত
হয়।
মন্তব্য করুন


বর্তমানে
দেশে সুস্থ ধারার রাজনীতিতে তিনটি উপাদান বিরাজ করছে জানিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী
জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান নির্বাচিত সরকার
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ, বহুদলীয় গণতন্ত্র ও ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় পুরোপুরি বদ্ধপরিকর।
তিনি বলেন, ‘ধর্ম ব্যবসায়ীদের হাত থেকে ধর্মীয় মূল্যবোধের সীমানাকে রক্ষা করতে পারলে,
বাংলাদেশকে পরাজিত করার মতো কোনো শক্তি আর থাকবে না।’
আজ
শনিবার (১৪ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ
‘মশিয়ূর রহমান যাদু মিয়ার ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকী’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান
আলোচকের বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
তথ্য
মন্ত্রী বলেন, ‘মশিয়ূর রহমান যাদু মিয়া ছিলেন সেই দূরদর্শী নেতা, যিনি মাওলানা ভাসানীর
ধানের শীষ প্রতীককে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায়
দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরেই ধানের শীষের নেতৃত্ব আজ তারেক রহমানের হাতে।’
তিনি বলেন, এই রাজনৈতিক প্রতীকী রূপান্তরের পেছনে যাদু মিয়ার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও কৃতিত্ব
মিশে আছে। মাত্র ৫৫ বছর বয়সে তিনি মারা গেলেও আজকের গণতান্ত্রিক ও বহুদলীয় রাজনীতির
ভিত্তিভূমি তিনিই তৈরি করে দিয়েছিলেন।
জহির
উদ্দিন স্বপন দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘আমাদের সরকার অত্যন্ত সচেতনভাবে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদকে
মূর্তমান করার কাজ করছে। আমাদের স্পষ্ট কথা—সবার আগে বাংলাদেশ। এ সময় তিনি আরও বলেন, দিল্লির প্রতি যাদের মোহ রয়েছে
কিংবা পিন্ডির প্রতি যাদের টান রয়েছে, আমরা ‘সবার আগে বাংলাদেশ’
স্লোগান দিয়ে সেই মোহগ্রস্তদের ঘুম ভাঙাতে চাই। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের
গুরুত্ব তুলে ধরে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, ‘একটি মহল অবাধ নির্বাচনকে বিতর্কিত
ও প্রলম্বিত করতে চেয়েছিল। কিন্তু আমরা গণতান্ত্রিক রাজনীতির অনিবার্য অনুষঙ্গ নির্বাচনকে
সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছি। তিনি আরও বলেন, গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা
শুরু হয়েছে। ১৯৯১ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সংসদীয় রাজনীতি নতুন করে
প্রাণ ফিরে পেয়েছিল, যা পরবর্তীতে স্বৈরাচার এরশাদ ছিনতাই করেছিল, শেখ হাসনার শাসনামলে
ভুলন্ঠিত হয়েছিল, আমি-ডামি নির্বাচন, নিশি রাতের নির্বাচন ও এক তরফা নির্বাচনের মধ্য
দিয়ে।
তথ্য
ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন,
‘আজ তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে আবারও সংসদীয় গণতন্ত্র ও রাজনীতির যাত্রা শুরু
হয়েছে।’আলোচনা সভায় মন্ত্রী তার বক্তব্যে ৭৫-এর পটপরিবর্তনের কথা
উল্লেখ করে বলেন, আওয়ামী লীগের একদলীয় শাসনের কারণেই সেই ভয়াল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
তৈরি হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘খন্দকার মোশতাক থেকে শুরু করে বিচারপতি সায়েম সাহেব পর্যন্ত
যে নৈরাজ্য তৈরি হয়েছিল, সিপাহী-জনতা শহীদ জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করার মাধ্যমেই সেই
নৈরাজ্য থেকে জাতিকে উদ্ধার করেছিল। এ সময় মন্ত্রী আরও বলেন, মশিয়ূর রহমান যাদু মিয়ার
মতো নেতারা সেদিন শহীদ জিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বলেই আওয়ামী লীগ দ্বিতীয়বারের মতো জন্ম
নিয়ে সংসদে ফিরে আসার সুযোগ পেয়েছিল।
বিশিষ্ট
ছড়াকার আবু সালেহ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা
হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ।
এ
ছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে এতে বক্তব্য রাখেন— গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম নেতা ও ভাসানী
জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ সৈয়দ দিদার
বকত ও রাজনীতিবিদ রিটা রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ সফরে থাকা ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
রোববার (২৩ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর একটি সিটি হোটেলে তাদের মধ্যে এ সৌহার্দ্যপূর্ণ দেখা–সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সকালে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেয়।
এর আগে শনিবার সকালে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকায় আসেন শেরিং তোবগে। ড্রুক এয়ারের একটি ফ্লাইট সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করলে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাকে অভ্যর্থনা জানান।
সফরসূচি অনুযায়ী, আগামী সোমবার (২৪ নভেম্বর) সকালে তিনি ঢাকা ত্যাগ করে থিম্পুর উদ্দেশে রওনা হবেন।
মন্তব্য করুন


আজ (১ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগরসহ সারা
দেশে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কর্তৃক নকল ও ভেজাল পণ্যের উপর তদারকিসহ
বন্যার ত্রাণসামগ্রী (মুড়ি, চিরা, গুড় ইত্যাদি) ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল
ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে বাজার তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
উল্লেখ্য, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকাতে
অধিদপ্তরের ৬ জন কর্মকর্তার নেতৃত্বে ৬ টি টিম কর্তৃক ঢাকা মহানগরীর বনানী বাজার, কল্যাণপুর,
কলাবাগান ও মোহাম্মদপুর টাউনহল এলাকায় বাজার তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
আজ দেশের ৫২টি জেলায় অধিদপ্তরের ৫৭টি
টিম কর্তৃক পরিচালিত এ অভিযানে ১১৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৬,২১,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানান, ভোক্তা অধিকার রক্ষায় অধিদপ্তরের এসকল কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন


মন্তব্য করুন


সাবেক
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন
বেগম খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে
রাজধানী ঢাকার রাস্তাঘাটে আছড়ে পড়েছে অগণিত
জনতার ঢেউ। মানিক মিয়া
অ্যাভিনিউ রূপ নিয়েছে জনসমুদ্রে।যতদূর
চোখ যায়, চারদিকে শুধু
মানুষ আর মানুষ।
জাতীয়
সংসদ ভবন কমপ্লেক্সের দক্ষিণ
প্লাজায় খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে সকাল
থেকেই সমবেত হতে থাকেন শোকাহত
মানুষেরা।
মানিক
মিয়া অ্যাভিনিউ ঘুরে দ্য ডেইলি
স্টারের সংবাদদাতা জানান, দিনের শুরুতেই মানুষের সারি তৈরি হতে
থাকে এবং সময় গড়ানোর
সঙ্গে সঙ্গে তা আরও দীর্ঘ
হয়।
ধানমন্ডি
৩২ নম্বর এলাকা থেকে শোকাহত মানুষের
লাইন আসাদ গেট পেরিয়ে
কারওয়ান বাজার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। প্রধান সড়কের
সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি রাস্তা ও গলিপথে মানুষ
ধৈর্যের সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছিলেন। অনেকের হাতে ছিল দলীয়
পতাকা ও প্ল্যাকার্ড, আবার
অনেকেই নীরবে দোয়া করছিলেন।
জনসমাগম
কেবল সড়কেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বিভিন্ন
এলাকায় মানুষকে উড়াল সড়কের ওপর
এবং আশপাশের ভবনের ছাদে দাঁড়িয়ে জানাজার
কার্যক্রম একনজর দেখার চেষ্টা করতে দেখা যায়।
বিএনপি
সমর্থকদের পাশাপাশি কোনো রাজনৈতিক দলের
সঙ্গে যুক্ত নন, এমন সাধারণ
নাগরিকদেরও পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়, যা
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের ব্যাপক প্রভাবের প্রতিফলন। বয়স্ক মানুষ, নারী ও তরুণ—সব বয়সের মানুষই
উপস্থিত ছিলেন; অনেককেই শেষ শ্রদ্ধা জানাতে
ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা
করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত দেখা
যায়।
এই অভূতপূর্ব জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ ও চলাচল স্বাভাবিক
রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকদের মোতায়েন
করা হয়। আশপাশের সড়কে
যান চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। বিশৃঙ্খলা
এড়াতে কর্তৃপক্ষ সবাইকে শান্ত থাকার এবং নির্দেশনা মেনে
চলার আহ্বান জানায়।
অনেক
শোকাহত মানুষ খালেদা জিয়াকে দেশের আধুনিক রাজনৈতিক ইতিহাস গড়ে দেওয়া এক
প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন।আসাদ গেটের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা
এক ব্যক্তি বলেন, 'খালেদা জিয়া শুধু একটি
দলের নেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন
এ দেশের সব মানুষের নেত্রী।'
মন্তব্য করুন


রাজধানীর শেওড়াপাড়া স্টেশনে মেট্রোর একটি ট্রেনের দরজার অটোমেটিক সিস্টেম অচল হয়ে যাওয়ায় প্রায় ২৬ মিনিট বন্ধ ছিল মেট্রোরেল চলাচল।
রোববার (০৫ জানুয়ারি) সকাল পৌনে ১০টা থেকে ১০টা ১৩ মিনিট পর্যন্ত মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ থাকে।
জানা যায়, শেওড়াপাড়া স্টেশনে ট্রেন থেকে নামতে গিয়ে দুই যাত্রী ট্রেন ও প্ল্যাটফর্মের মধ্যবর্তী স্থানে আটকে পড়েন। এতে ওই ট্রেনের দরজার অটোমেটিক সিস্টেম অচল হয়ে যায়। এতে অন্যান্য স্টেশনে থাকা ট্রেন বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ২৬ মিনিট বন্ধ থাকার পর আবার ট্রেন চলাচল শুরু হয়।
এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-৬) এর উপ-প্রকল্প পরিচালক (গণসংযোগ) মো. আহসান উল্লাহ শরিফী।
মো. আহসান উল্লাহ শরিফীবলেন, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কিছু সময় ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে বিষয়টি সমাধান করেছি এবং বর্তমানে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
মন্তব্য করুন


বেলস
পার্ক মাঠে আজ বুধবার ( ০৪ ফেব্রুয়ারি ) দুপুরের রোদে মানুষের ভিড় জমেছিল অনেক আগেই।
বেলা ঠিক সাড়ে ১২টার কিছু পরে মঞ্চে উঠতেই করতালি আর স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে জনসভা।
প্রায় ২০ বছর পর বরিশালে এলেন বিএনপির চেয়ারম্যান
তারেক রহমান। হাত নেড়ে অভিবাদনের জবাব দিলেন, তারপর শুরু করলেন দীর্ঘ বক্তব্য। মূল
সুর একটাই, নারীর সম্মান, স্বাধীনতা আর রাজনীতিতে নারীর ভূমিকা।
কারো
নাম সরাসরি না করেই তারেক রহমান অভিযোগ তুললেন, একটি রাজনৈতিক দল দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী
অর্থাৎ নারীদের ঘরের ভেতর আটকে রাখতে চায়। তার ভাষায়, ‘সেই দলের এক নেতা প্রকাশ্যেই
বলেছেন, তারা কোনোভাবেই নারীর নেতৃত্বে বিশ্বাস করেন না।’
জনসভায় এই মন্তব্য ঘিরে শোরগোল পড়ে যায়।
ইঙ্গিত
স্পষ্ট, যদিও তিনি দলটির নাম উচ্চারণ করেননি।
বক্তব্যে
আরো কড়া হন বিএনপির চেয়ারম্যান। বলেন, ‘কয়েক দিন আগে একটি রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মসংস্থানে
যাওয়া নারী ও মা-বোনদের নিয়ে এমন একটি শব্দ ব্যবহার করেছেন, যা লজ্জাজনক।’
তার মতে, এই মন্তব্য শুধু নারীদের নয়, পুরো দেশের জন্যই কলঙ্ক।
তারেক
রহমানের অভিযোগ, যে দলটি সকাল-বিকাল জনগণের সামনে মিথ্যা কথা বলছে, নারীদের হেয় করছে,
তারাই এখন নানাভাবে ষড়যন্ত্রে নেমেছে। কারণ মানুষ তাদের কথাবার্তা আর কাজকর্মের ফাঁকফোকর
ধরে ফেলেছে। সে কারণেই দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তারেক
রহমান।
বক্তৃতার
একপর্যায়ে প্রশ্ন ছুড়ে দেন বিএনপির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘দেশের লাখ লাখ নারী পোশাকশিল্পে
কাজ করে অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছেন।
নিম্ন
ও মধ্যবিত্ত পরিবারের বহু নারী আজ দ্রব্যমূল্যের চাপে সংসার চালাতে স্বামীর পাশাপাশি
কাজ করছেন। অথচ সেই নারীরাই আজ অসম্মানিত হচ্ছেন।’ এই দ্বিচারিতাই তার মতে সবচেয়ে বিপজ্জনক।
ধর্মীয়
উদাহরণ টেনে তারেক রহমান স্মরণ করিয়ে দেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর স্ত্রী হজরত
বিবি খাদিজা (রা.) ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী। এরপর প্রশ্ন তোলেন, ‘যে দলটি নির্বাচনের
আগেই দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে ঘরের ভেতর বন্দি রাখতে চায়, অসম্মানজনক ভাষা ব্যবহার
করে, তারা ক্ষমতায় এলে নির্বাচন-পরবর্তী আচরণ কেমন হতে পারে।’
সাম্প্রতিক
বিতর্ক প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘নারীদের মন্তব্য নিয়ে যখন সমাজজুড়ে তীব্র সমালোচনা
শুরু হলো, তখন সংশ্লিষ্টরা দাবি করলেন, তাদের আইডি হ্যাক হয়েছিল। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা
স্পষ্ট বলেছেন, এভাবে আইডি হ্যাক হওয়ার কথা নয়।’ তার কটাক্ষ, ‘এদের একটাই পরিচয়, এরা
মিথ্যাবাদী। নিজেদের স্বার্থে মিথ্যা বলতে তারা দ্বিধা করে না, আর দেশদরদি হওয়ার প্রশ্নই
ওঠে না।’
জামায়াতে
ইসলামীর উদ্দেশে আরো সরাসরি আক্রমণ করেন বিএনপির চেয়ারম্যান। তার অভিযোগ, ‘দলটি ধর্মকে
ব্যবহার করে কেবল নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য। যেখানে প্রয়োজন, সেখানে ধর্মের ব্যাখ্যাও
নিজেদের মতো করে নেয় তারা।’
বক্তব্যের
শেষদিকে ভবিষ্যৎ প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘দেশের জনসংখ্যা প্রায়
২০ কোটি, যার অন্তত অর্ধেক নারী। এই বিশাল নারী সমাজকে পেছনে রেখে কোনো বড় পরিকল্পনাই
সফল হতে পারে না।’
বিএনপি
সরকার গঠন করলে প্রতিটি গৃহিণীর কাছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’
পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানান তারেক রহমান। সেই কার্ডের মাধ্যমে নারীদের ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী
করে তোলাই লক্ষ্য, যাতে নারী সমাজ কারো মুখাপেক্ষী হয়ে না থাকে।
মন্তব্য করুন