

আগামী জাতীয় নির্বাচনে দেশের নারী ভোটারদের বড় অংশ জামায়াতে ইসলামীর প্রতি সমর্থন জানাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। তার দাবি, এই সমর্থনের ইতিবাচক ইঙ্গিত তারা ইতোমধ্যেই লক্ষ্য করছেন।সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীর বসুন্ধরায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য ইভারস আইজাবসের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি জানান, দেশের জনগণের ওপর তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আসন্ন নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ সুশাসনের পক্ষে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করবে। জামায়াতে ইসলামীর একমাত্র প্রত্যাশা হলো—নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়।তবে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়া নিয়ে আশঙ্কার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার ভাষায়, কোনো ধরনের অনিয়ম বা শঙ্কা দেখা দিলে প্রথমে তা নির্বাচন কমিশনের নজরে আনা হবে। সেখান থেকে সমাধান না এলে বিষয়টি জাতির সামনে তুলে ধরা হবে।জামায়াত আমির আরও বলেন, যদি এবারের নির্বাচনেও জনগণের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হয়, তাহলে ভবিষ্যতে মানুষ কবে তাদের অধিকার ফিরে পাবে—তা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।এ সময় তিনি দেশের গণমাধ্যম নিয়েও মন্তব্য করেন। তার অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু গণমাধ্যম একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। এমনকি অতীতের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়েও একই প্রবণতা দেখা গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামি চায় গণমাধ্যম স্বাধীন ও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করুক। তার মতে, গণমাধ্যম যদি স্বেচ্ছায় পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়, তাহলে তা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল হবে। প্রশাসন ও গণমাধ্যম—উভয়ের ভূমিকাই জনগণ মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মন্তব্য করুন


আনুষ্ঠানিক
নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতে আজ বুধবার রাতে সিলেটে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক
রহমান। ঢাকা থেকে আকাশপথে সিলেটে পৌঁছে তিনি রাতে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত
করবেন।
আজ
বুধবার ( ২১ জানুয়ারি ) সকালে রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে
তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন এসব তথ্য জানান।
মাহদী
আমিন বলেন, 'আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে।
তারেক রহমান সিলেট সফরের মধ্য দিয়ে এই প্রচারণা শুরু করছেন। আজ রাত ৮টা ১৫ মিনিটের
দিকে তিনি সিলেটে পৌঁছাবেন এবং পরে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন।'
কর্মসূচি
অনুযায়ী, আগামীকাল সকালে তারেক রহমান সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে একটি অনুষ্ঠানে যোগ
দেবেন। পরে দুপুরে মৌলভীবাজারের শেরপুর-আইনপুর মাঠে একটি সমাবেশে অংশ নেবেন তিনি।
ফেরার
পথে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ নতুন উপজেলা পরিষদ মাঠে এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের আরও
দুটি সমাবেশে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
বিকেলে
কিশোরগঞ্জের ভৈরব স্টেডিয়ামে এক জনসভায় ভাষণ দেবেন বিএনপি প্রধান। পরে ঢাকার পথে নরসিংদী
পৌর এলাকায় একটি কর্মসূচিতে এবং নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার-রূপগঞ্জের গাউছিয়া এলাকায় আরেকটি
সমাবেশে যোগ দেবেন তিনি। রাতে তার গুলশানের বাসভবনে ফেরার কথা রয়েছে।
দলীয়
সূত্র জানিয়েছে, সিলেট সফরে তারেক রহমানের সঙ্গে থাকবেন আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল,
মামুন হাসান, আব্দুল মোনায়েম মুন্না, কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, ইয়াছিন ফেরদৌস মুরাদ
ও রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
মন্তব্য করুন


ত্রয়োদশ
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ওপর গণভোটের বিষয়ে সারাদেশে প্রচারণার
লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেছে ভোটের গাড়ি ‘সুপার ক্যারাভান’।
সারাদেশের
সব জেলায় প্রচারণার অংশ হিসেবে শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে ভোলা সরকারি স্কুল মাঠে
ভোটের এই ‘সুপার ক্যারাভান’র উদ্বোধন করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
মো. তৌহিদ হোসেন।
এ
সময় তিনি বলেন, প্রত্যেক মানুষ যেন নিজের ইচ্ছেমতো ভোট দিতে পারে, সে লক্ষ্যই থাকবে
আমাদের। এই সরকার কোনো দলের পক্ষে নয়, এটা সবার জানা।
পররাষ্ট্র
উপদেষ্টা বলেন, জুলাই আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছে, যে দাবির লক্ষ্যে তাদের প্রাণ দিতে
হয়েছে, সে দাবির তালিকা তৈরি করা হয়েছে, সেটি অতি দ্রুতই জনগণের সামনে হাজির করা হবে।
জনগণ এর পক্ষে হ্যাঁ অথবা না ভোট দেবেন।
তিনি
আরও বলেন, এবারের ভোটে বিপুলসংখ্যক দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক থাকবেন। এছাড়া ভোটকেন্দ্রে
কোনো সহিংসতা হলেই ওই কেন্দ্র স্থগিত করে দেওয়া হবে।
ভোটের
এ ক্যারাভানের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার
শহিদুল্লাহ কাওছারসহ কর্মকর্তারারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া বলেছেন,
১৯৭৫ সালের সিপাহী-জনতার বিপ্লব এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান একই সামাজিক-রাজনৈতিক
প্রেক্ষাপট থেকে সৃষ্টি হয়েছিল। ১৯৭৫ সালের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের প্রেক্ষাপট ২০২৪
সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটের সঙ্গে অনেকটাই সাদৃশ্যপূর্ণ। প্রকৃতপক্ষে,
এই দুটি গণআন্দোলনের পেছনের পরিস্থিতির মধ্যে খুব সামান্যই পার্থক্য রয়েছে।
আজ শুক্রবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে
জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আয়োজনে
‘নভেম্বর থেকে জুলাই : বিপ্লব থেকে বিপ্লবে’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন
তিনি।
যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া বলেন,
স্বাধীনতার পর একটি ন্যায়ভিত্তিক ও কার্যকর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থতা-এই দুই ঘটনার
পটভূমি তৈরি করেছিল। স্বাধীনতার পর যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তারা দুর্নীতি
ও লুটপাটে জড়িয়ে পড়েন। এর ফলেই ১৯৭৫ সালের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়
এবং প্রায় একই পরিস্থিতি ২০২৪ সালেও পুনরাবৃত্তি ঘটে। ১৯৭৫ সালের পর থেকেই বাংলাদেশ
একটি কার্যকর রাষ্ট্র হিসেবে যাত্রা শুরু করে- যখন দেশ প্রতিষ্ঠানিক গঠন, সামরিক বাহিনীকে
শক্তিশালীকরণ এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে ভূমিকা রাখার মতো কার্যক্রম শুরু করে, এসব বিষয়গুলো
আজও প্রাসঙ্গিক।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের
অবদানের কথা তুলে ধরে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, জিয়াউর রহমান কল্যাণমুখী রাজনীতির
সূচনা করেন এবং একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র কাঠামো গঠনে কাজ করেন। আজও দেশ তাঁর স্থাপিত
ভিত্তির ওপর পরিচালিত হচ্ছে, যা আমাদের রাজনৈতিক ও নীতিগত আলোচনায় প্রতিফলিত হয়।
এ সময় জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক
প্রেক্ষাপট ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড নিয়েও আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের
সভাপতি রিফাত রশিদ। আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান
মজিবুর রহমান মঞ্জু, কবি ও রাজনৈতিক চিন্তাবিদ ফরহাদ মজহার, ড. আবদুল লতিফ মাসুম এবং
লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান।
মন্তব্য করুন


নির্বাচন কমিশন সচিবালয় জানিয়েছে,বাংলাদেশি ভোটার বিদেশে বসবাস করলেও পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পারবেন।
সম্প্রতি এ নিয়ে ইসির উপ-সচিব মো. আতিয়ার রহমানের স্বাক্ষরিত একটি পরিপত্র জারি হয়েছে যাতে বলা হয়, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর ২৭ অনুচ্ছেদে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগের বিধান রয়েছে।
পোস্টাল ব্যালটে ভোটদানের জন্য আবেদন:প্রবাসী ব্যক্তি ভোটদানের জন্য কমিশনের ঘোষিত সময়সূচির প্রজ্ঞাপন ঘোষণার দিন থেকে ১৫ দিনের মধ্যে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটদানের জন্য রিটার্নিং অফিসারের নিকট বিধি অনুসারে আবেদন করতে পারবেন।বিধান অনুযায়ী পোস্টাল ব্যালটে ভোট প্রদান সংক্রান্ত রিটার্নিং অফিসার স্থানীয়ভাবে প্রচার করবেন। আর বিদেশে অবস্থিত দূতাবাস, হাইকমিশন ও মিশনসমূহ থেকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পদ্ধতিগতভাবে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
আবেদনপত্র প্রাপ্তির পর করণীয়: রিটার্নিং অফিসার উল্লিখিত আবেদন প্রাপ্তির পর পরই সংশ্লিষ্ট ভোটারের নিকট একটি পোস্টাল ব্যালট পেপার এবং তার সঙ্গে একটি খাম পাঠাবেন। এই খামের ওপর ভোটার থেকে যথারীতি পূরণকৃত খামটি ডাক বিভাগের উপযুক্ত কর্মকর্তার দ্বারা সার্টিফিকেট অব পোস্টিংয়ের মাধ্যমে ডাকযোগে প্রেরণের প্রত্যয়নসহ তারিখ উল্লেখ থাকবে। সার্টিফিকেট অব পোস্টিংয়ের মাধ্যমে পোস্টাল ব্যালট পেপার গ্রহণ এবং চিঠির ওপর এ সম্পর্কে রাবার স্ট্যাম্পের সিল ব্যবহার করতে হবে। রিটার্নিং অফিসার সঙ্গে সঙ্গে ডাকযোগে ভোটদানের যোগ্য ব্যক্তিদের নিকট পোস্টাল ব্যালট পেপার প্রেরণ করবেন।
পোস্টাল ব্যালটে ভোটের নিয়ম: যার নিকট ব্যালট পেপার প্রেরণ করা হবে তার নাম, সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার নাম এবং ভোটার তালিকায় বর্ণিত ক্রমিক নম্বর ইস্যুকৃত ব্যালট পেপারের মুড়িপত্রে লিপিবদ্ধ করবেন।) উল্লিখিত ভোটার সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রে যাতে ভোট প্রদান করতে পারেন তা নিশ্চিত করবেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্তৃপক্ষকে ডাকযোগে ব্যালট পেপার প্রেরণ ও প্রাপ্তির নিশ্চয়তা বিধানের লক্ষ্যে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করতে হবে ।
মন্তব্য করুন


আসন্ন ত্রয়োদশ
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন
ফারহানা হাঁস প্রতীক পেয়েছেন। আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়
থেকে প্রতীক সংগ্রহ করেন তিনি।
আজ বুধবার দুপুরে
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়টি সংসদীয় আসনের
৪৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।
প্রতীক পাওয়ার
পর উচ্ছ্বসিত রুমিন ফারহানা সাংবাদিকদের বলেন, আমি আমার ভোটার ও কর্মী-সমর্থকদের প্রাণের
চেয়েও বেশি ভালোবাসি। তারাই আমাকে আজকের এই জায়গায় এনেছেন। তারা যখন আমাকে দেখেন, ছোট
ছোট বাচ্চারা চিৎকার করে বলে-আমাদের হাঁস মার্কা, আমাদের হাঁস মার্কা। তাই এই মার্কাটা
আমার ভোটারদের মার্কা, শুধু আমার নয়।
নিজের পালিত
হাঁস চুরির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমি হাঁস পালতাম। আমার হাঁসগুলো যখন চুরি হয়েছিল,
আমি চোরকে ছাড়িনি। মামলা করেছি, জেলেও ভরেছি। আমার এই হাঁস প্রতীক যদি কেউ চুরি করার
চিন্তাও করে, আমি যথাযথ ব্যবস্থা নেব।
আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২
আসনের সাধারণ মানুষের প্রার্থী জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ভোটাররা যদি আমাকে নির্বাচিত
করেন, তারা যেভাবে বলবেন, যেভাবে চাইবেন, সেভাবেই এই এলাকার উন্নয়ন করব।"
রিটার্নিং কর্মকর্তার
কার্যালয় সূত্র জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ১৩ জন প্রার্থী তাদের
প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। এতে চূড়ান্ত বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৮ জনে।
এর মধ্যে দলীয়
প্রার্থীরা নিজ নিজ দলীয় প্রতীক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী প্রতীক
পেয়েছেন।
এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬
(বাঞ্ছারামপুর) আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী
জোনায়েদ সাকি তার দলীয় প্রতীক মাথাল বরাদ্দ পেয়েছেন।
মন্তব্য করুন


সাবেক প্রধানমন্ত্রী
খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দায় থেকে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা মুক্তি পেতে পারে না
বলে মনে করে বিএনপি। আজ বুধবার বিকালে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত জানাজার
আগে দলের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ করা হয়।
বিএনপির স্থায়ী
কমিটির সদস্য ও খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী নজরুল ইসলাম খান লিখিত বক্তব্য
পাঠ করেন। এ সময় প্রধান উপদেষ্টা, তিন বাহিনীর প্রধান, দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা
উপস্থিত ছিলেন।
নজরুল ইসলাম
খান বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী হাসিনার ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার শিকার হয়ে মিথ্যা মামলায় ২০১৮
সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে দুই বছরেরও বেশি সময় অন্ধকার কারাগারে আবদ্ধ থাকার সময়
উপযুক্ত চিকিৎসার অভাবে খালেদা জিয়া দারুণভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। দেশবাসী সাক্ষী হলো,
পায়ে হেঁটে যিনি কারাগারে প্রবেশ করেছিলেন; নির্জন কারাগার থেকে তিনি বের হলেন চরম
অসুস্থতা নিয়ে।’
‘দেশ-বিদেশের
চিকিৎসকদের মতে, পরবর্তী সময়ে গৃহবন্দিত্বের চার বছর বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ না দেওয়ার
কারণেই তার অসুস্থতা বৃদ্ধি পায় এবং তার ফলশ্রুতিতে অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানতেই
হলো এই অপরাজেয় নেত্রীর। তাই এই মৃত্যুর দায় থেকে ফ্যাসিবাদী হাসিনা কখনও মুক্তি
পেতে পারে না’- বলেন নজরুল ইসলাম খান।
নজরুল ইসলাম
উল্লেখ করেন, গণতন্ত্রের মাতা ও আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মঙ্গলবার ভোর ৬টায়
মারা যান। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
মন্তব্য করুন


বিএনপি
সরকার গঠন করতে পারলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের উন্নত চিকিৎসা এবং আহতদের ও শহীদদের
স্বজনদের পুনর্বাসনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি আলাদা বিভাগ গঠন করা
হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
আজ
রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় রাজধানীর ফার্মগেট-খামারবাড়ি এলাকার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্বজন ও আহতদের সঙ্গে বিএনপি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি
এ কথা জানান।
অনুষ্ঠানে
বক্তব্য দিতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, শহীদ ও আহত পরিবারের অনেকেই তাদের কষ্ট ও অভিজ্ঞতার
কথা তুলে ধরতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে সবাইকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া
সম্ভব হয়নি। এজন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।
তিনি
আরও বলেন, আপনারা যখন আপনাদের কষ্ট ও ব্যথার কথা জানাতে সবার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা
করেছিলেন, তখন আমরা একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাই। ১৯৭১ সালে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান
ও মর্যাদা রক্ষার জন্য খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সরকার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়
গঠন করেছিল। ইনশাআল্লাহ, জনগণের ভোটে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে সেই মন্ত্রণালয়ের
আওতায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্বজন ও আহতদের জন্য একটি আলাদা ডিপার্টমেন্ট করা
হবে, যাদের দায়িত্ব হবে এ মানুষগুলোর দেখভাল করা।
তারেক
রহমান বলেন, ওই বিভাগ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের উন্নত চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং দীর্ঘমেয়াদি
সহায়তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে পরিবারগুলো রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ যত্ন
ও সম্মান পায়।
বিএনপির
চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশের মানুষের সমর্থনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আগামী দিনে সরকার
গঠন করতে সক্ষম হলে এ শহীদ পরিবারে যারা আছেন, জুলাই যোদ্ধা যারা আছেন, তাদের যে কষ্টের
কথাগুলো যে কজন মানুষ তুলে ধরেছেন, এ কষ্টগুলো যাতে আমরা কিছুটা হলেও সমাধান করতে পারি,
যাকে আমরা হারিয়ে ফেলেছি, তাকে তো ফিরিয়ে আনতে পারবো না, কিন্তু যারা পেছনে রয়ে গিয়েছেন
সেই পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন সুবিধা-অসুবিধা যেন দেখভাল করতে পারি, তারাও মুক্তিযোদ্ধা,
তারাও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গণ্য।
‘একাত্তর সালে এ দেশের মানুষ এ দেশের
স্বাধীনতা অর্জনের জন্য জীবন দিয়েছিলেন, এ দেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য যোদ্ধারা ত্যাগ
স্বীকার করেছিলেন। ঠিক একইভাবে ২৪ এর যে যোদ্ধারা যুদ্ধ করেছেন, তারা স্বাধীনতা স্বার্বভৌমত্ব
রক্ষায় যুদ্ধ করেছেন।
স্বাধীনতা
স্বার্বভৌমত্ব অর্জিত হয়েছিল ৭১ সালে, তাকেই আবার রক্ষা করা হয়েছে ২০২৪ সালে। মুক্তিযুদ্ধ
মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আমরা আরেকটি ডিপার্টমেন্ট করব, যাদের কাজই হবে এ মানুষগুলোর দেখভাল
করা’, যোগ করেন তিনি।
মন্তব্য করুন


দেশের
খাদ্যপণ্যে দূষণ ও ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থের
উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।
খাদ্যদূষণ
প্রতিরোধ এবং জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি কমাতে জরুরি উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেছেন,
‘খাদ্যে বিভিন্ন দূষণের অস্তিত্ব সম্পর্কে আমরা জানি; এটাকে কীভাবে মোকাবিলা করা যায়
সেই ব্যবস্থা আমাদের নিতে হবে। আমাদের সন্তান, বাবা-মা, আপনজন সবাই এর ভুক্তভোগী। নিজেদের
স্বার্থেই আমাদের সকলকে একসঙ্গে এই সংকট মোকাবিলায় কাজ করতে হবে। বাস্তবায়নের দিকগুলো
নিয়ে আলোচনা করে আমরা সিদ্ধান্ত নেব কোনটি এখনই শুরু করা জরুরি। এ বিষয়ে জরুরি উদ্যোগগুলো
আমরা তাৎক্ষণিকভাবে নেব।’
আজ
রবিবার ( ০৭ ডিসেম্বর ) দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি
ভবন যমুনায় খাদ্যে বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি ও এর প্রেক্ষাপটে জনস্বাস্থ্যের
ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যক্রম গ্রহণ এবং খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে
তিনি এ কথা বলেন। প্রধান উপদেষ্টা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
বৈঠকে
কৃষি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার,
স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, জাতীয়
নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী সায়েদুর রহমান, প্রধান
উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়া, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ এবং বাংলাদেশ
স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) মহাপরিচালক এস এম ফেরদৌস
আলম, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফারুক আহম্মেদ, বাংলাদেশ নিরাপদ
খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) চেয়ারম্যান জাকারিয়া ও পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান
ড. মো. মজিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে
খাদ্যবাহিত রোগ, দূষণ সম্পর্কিত ঝুঁকি এবং এ সংকট মোকাবিলায় করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত
আলোচনা হয়েছে। এসময় সংশ্লিষ্ট প্রত্যেককে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে খাদ্যে দূষণ সংকট
মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় কার্যক্রম বাস্তবায়ন সংক্রান্ত প্রস্তাবনা লিখিত আকারে পাঠানোর
নির্দেশ দেন প্রধান উপদেষ্টা।
বৈঠকে
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কিছু তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরা হয়। তারা জানান,
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণা অনুযায়ী বছরে খাদ্যবাহিত রোগে প্রতি বছর ১০ জনের মধ্যে
এক জন শিশু বছরে অন্তত একবার অসুস্থ হয়। খাদ্যবাহিত রোগে আক্রান্ত ৩ ভাগের ১ ভাগ শিশু
মৃত্যুবরণ করে। খাদ্যবাহিত রোগে প্রতিবছর বিশ্বে ৬০ কোটি এবং বাংলাদেশে ৩ কোটি শিশু
আক্রান্ত হয়।
নিরাপদ
খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, খাবারে চার ধরনের দূষক থাকতে পারে। ভারী ধাতু, কীটনাশক-জীবনাশক
এর অবশিষ্টাংশ, তেজস্ক্রিয়তা ও জৈবদূষক। গত অর্থবছর ১৭১৩টি এবং এ বছর এ পর্যন্ত ৮১৪টি
নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে অতিরিক্ত মাত্রায় পাওয়া গেছে সীসা বা সীসা ক্রোমেট। মোট
১৮০ নমুনার মধ্যে ২২টিতে সীসা শনাক্ত হয়েছে।
শেরে
বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউএমইএ সুইডেন এর যৌথ গবেষণায়
দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ৮৭টি পানি ও ২৩ মাছ এর নমুনা সংগ্রহ করে ৩০০ ধরনের ঔষধ, ২০০
ধরনের কীটনাশক, ১৬ ধরনের পিএফএএস শনাক্ত করা হয়।
ইউনিসেফের
এক জরিপে জানা গেছে, বাংলাদেশে সাড়ে তিন কোটি শিশু সীসার সংক্রমণে আক্রান্ত। এ তথ্য
তুলে ধরে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জাকারিয়া বলেন, ‘সীসা মানবদেহে প্রবেশ
করে মস্তিষ্ক, যকৃৎ, কিডনি, হাড় এবং দাঁতে জমা হয়। শিশুদের হাড় নরম হওয়ায় সীসা সরাসরি
মস্তিস্কে চলে যায়। ফলে শিশুদের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।’
প্রধান
উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী সায়েদুর রহমান জানান, বাংলাদেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে
ল্যাব আছে। শিক্ষার্থীদের এ ধরনের পরীক্ষা করার ক্যাপাসিটিও রয়েছে। খাদ্যে সীসার পরিমাণ
নিয়ে একটি সমন্বিত গবেষণা করে খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে।
বৈঠকে
খাদ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা হাঁস-মুরগি, দুগ্ধজাত খাদ্য ও মাছের মাধ্যমে
মানবদেহে প্রবেশকারী ক্ষতিকারক পদার্থ সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন। তারা জানান,
হাঁস-মুরগির খামারগুলোতে অনিয়ন্ত্রিত ওষুধ প্রয়োগ হয়। মুরগিকে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া
হলে তা ৭ থেকে ২৮ দিন পর্যন্ত থেকে যায়। ২৮ দিন পার হওয়ার আগেই মুরগিকে বাজারজাত করা
হলে সেই মুরগির মাংসের মাধ্যমে মানবদেহে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ঢুকতে পারে। তারা
জানান, বড় প্রতিষ্ঠানগুলোতে এসব বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন হলেও কিছু চোরাগোপ্তা কোম্পানি
কর্তৃপক্ষের নজরদারি এড়িয়ে গোপনে অনিয়ন্ত্রিতভাবে পোল্ট্রি ফার্ম পরিচালনা করছে।
পোল্ট্রি
ফার্মগুলোকে নজরদারিতে আনা এবং কৃষিতে অবৈধ কীটনাশকের ব্যবহার রোধে কী কী ব্যবস্থা
নেওয়া হয়েছে এবং আরও কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে সে বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
খাদ্য উপদেষ্টা বলেন, পর্যাপ্ত পরিমাণে খাদ্য নিশ্চিত করতে গিয়ে কখনো কখনো যা খাচ্ছি
তা নিরাপদ কি না সে দিকটি উপেক্ষা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমগুলো
ভূমিকা রাখতে পারে। খাদ্য নিরাপত্তা একটি জরুরি বিষয়। পাঠ্যপুস্তকে এ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত
হওয়া প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।
মন্তব্য করুন


ভুয়া মামলা দায়ের এবং মামলায় নিরপরাধ
ব্যক্তিকে পক্ষভুক্ত করার চেষ্টা রোধে ফৌজদারি কার্যবিধিতে নতুন বিধি সংযোজিত হয়েছে
বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
আজ রবিবার (২৯ জুন) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস
একাডেমিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি
এ কথা জানান।
প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন প্রধান
উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, অ্যাডভাইজার
কাউন্সিলের আজকের বৈঠকের খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে- ফৌজদারি কার্যবিধির একটি সংশোধন।
আমাদের সরকারের আমলে কিছু জিনিস নিয়ে আমরা নিজেরাই খুব বিব্রত, এবং এ বিষয়েগুলো নিয়ে
আমরা কাজ করার চেষ্টা করি। তেমনই একটি বিষয় হচ্ছে ভুয়া মামলা, এবং আরেকটি হচ্ছে মামলায়
অকারণে নির্দোষ ব্যক্তিকে পক্ষভুক্ত করে মামলা বাণিজ্য করা। এ বিষয়টি থেকে পরিত্রাণ
পেতে এটি নিয়ে আমরা ভেবে দেখেছি। বাংলাদেশের ক্রিমিনাল ল' এক্সপার্ট ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের
সাথে আলোচনা, বৈঠক করে আমরা ফৌজদারি কার্যবিধির একটি বিধানে বড় একটি সংশোধনী এনেছি।
১ফৌজদারি কার্যবিধিতে যখন একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয় তখন ইনভেস্টিগেশন করতে তিন-চার
বছর লাগে, এখানে শত শত আসামি থাকেন, কিছু ক্ষেত্রে এখানে মামলা বাণিজ্যও হয়। এ থেকে
পরিত্রাণ পেতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩(ক)/১৭৩(অ) এই নতুন বিধানটি যুক্ত করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে- পুলিশ কমিশনার, এসপি বা কোনো জেলার এসপি পদমর্যাদার কোনো পুলিশ কর্মকর্তার
এখতিয়ারাধীন কোনো মামলার বিষয়ে তিনি যৌক্তিক মনে করলে ইনভেস্টিগেশন অফিসার/তদন্ত কর্মকর্তাকে
ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর সেই মামলার তদন্তের ব্যাপারে প্রাথমিক বা প্রিলিমিনারি ইনভেস্টিগেশন
রিপোর্ট দাখিল করার নির্দেশ দিতে পারবেন। ম্যাজিস্ট্রেট তার বিবেচনাবলে নিরপরাধ ও যার
বিরুদ্ধে উক্ত অপরাধের কোনো সাক্ষ্য প্রমাণ নেই, তাদের প্রি ট্রায়াল বা বিচার পূর্ববর্তী
স্টেজেই মামলা থেকে রেহাই দিতে পারবেন।
আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানান,
আমরা আশা করছি এটি কার্যকর হলে পুলিশ ও আদালত প্রশাসন একসাথে কাজ করে এসমস্ত মামলায়
গ্রেফতার বাণিজ্য, মামলা বাণিজ্য এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবেন। এর ফলে নিরপরাধ
ব্যক্তিরা ভুয়া মামলা থেকে রেহাই পাবেন। এর ফলে তদন্ত কিন্তু থেমে যাবেনা, যাদের বিরুদ্ধে
অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্টতার যথাযথ প্রমাণ পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা চলমান
থাকবে।
আগামীকাল গেজেট প্রকাশিত হলেই আইনটি
কার্যকর হবে বলে জানান তিনি।
এসময় আইন উপদেষ্টা আরও জানান, আজ আরেকটি
গুরুত্বপূর্ণ আইনগত অগ্রগতি হয়েছে। একটি জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা ইউএনওএইচসিএইচআর
এর প্রধান ফলকার তুর্ক আমাদের দেশে সফর করেছিলেন। সংস্থাটি তাদের কার্যালয়ের একটি মিশন
শাখা বাংলাদেশে খুলতে চেয়েছেন, এ লক্ষ্যে আলোচনা হয়েছে। তাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
আজকে এ বিষয়ে একটি খসড়া সমঝোতা স্মারকের ব্যাপারে আজকের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সভায় নীতিগতভাবে
অনুমোদিত হয়েছে। এটি নিয়ে আরো কিছু আলোচনার পর চূড়ান্ত খসড়াটি ফলকার তুর্ককে পাঠানো
হবে, তিনি তার মতামত দিলে দ্রুততম সময়ে এটি স্বাক্ষরিত হবে। এই স্মারক স্বাক্ষরিত হলে
প্রাথমিকভাবে তিন বছরের জন্য অফিস স্থাপিত হবে। বাংলাদেশে যদি কোন ধরনের গুরুতর মানবাধিকার
ঘটনা ঘটে তাহলে আমাদের মানবাধিকার বিষয়ক রাষ্ট্রীয় এজেন্সিগুলোর পাশাপাশি এই সংস্থাটিও
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে।
সম্প্রতি কুমিল্লার মুরাদনগরে সংঘটিত
একটি ধর্ষণের বিষয়ে তিনি বরেন, মুরাদনগরে যে জঘন্য ঘটনা ঘটেছে, তাতে বাংলাদেশের যে
কোন সাধারণ নাগরিকের মত আমরা মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ। আমাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ের
সাথে সাথেই ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রধান আসামি এর সাথে সাথে যারা এই ছবি বা ভিডিও গুলো
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার মতন অত্যন্ত দায়িত্বহীন ও অপরাধমূলক কাজ করেছে
তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা ধর্ষণ বিষয়ক আইনে
সময়োপোযোগী সংশোধন এনেছি সেটার প্রমাণ আপনারা মাগুরার ধর্ষণ মামলার ক্ষেত্রে দেখেছেন।
এই ঘটনাটির ক্ষেত্রেও আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচার করব,
সে বিষয়ে আমরা বদ্ধপরিকর।
মন্তব্য করুন


তথ্য
ও সম্প্রচার, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা
হাসান বলেছেন, ‘আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচন একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করবে। এই ভিত্তি
গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় করবে এবং সরকারকে জনগণের কাছে জবাবদিহির আওতায় আনবে। বৈষম্যহীন ও
শোষণমুক্ত সমাজ গড়ার যে স্বপ্ন এখনো পূর্ণতা পায়নি, সেই লক্ষ্য অর্জনের যাত্রা এখান
থেকেই শুরু করা সম্ভব হবে।’
আজ
সোমবার ( ১৬ ডিসেম্বর ) ঢাকায় সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন
শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন উপদেষ্টা।
উপদেষ্টা
বলেন, ‘শুধু নির্বাচন নয়, এবার গণভোটের মাধ্যমেও সংস্কার প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে
জনগণ তাদের মতামত জানাতে পারবে। এর ওপর ভিত্তি করে গণতন্ত্রের যাত্রা নতুন রূপে শুরু
হতে পারে।’
রিজওয়ানা
হাসান বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিপক্ষকে দমন করতে যুক্তি ও তর্কের বদলে হত্যাচেষ্টার
মতো সহিংস পন্থা নেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি নিন্দনীয় ও কাপুরুষোচিত।
তিনি
বলেন, ‘শক্তি থাকলে জনগণের মুখোমুখি হতে হবে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের সামনে যাওয়ার
পথ সবারই জানা।’ তিনি আরো বলেন, ‘প্রতিপক্ষকে ঘায়েল
করার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, নতুন বাংলাদেশে তার কোনো স্থান নেই। এই সরকার তখনই সফল
হবে, যখন সুষ্ঠু নির্বাচন, বিচার এবং সংস্কারের যে লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছে,
তা বাস্তবায়ন করা যাবে।’
তথ্য
উপদেষ্টা বলেন, ‘সরকারের লক্ষ্য একটি শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও স্বতঃস্ফূর্ত নির্বাচন
নিশ্চিত করা। মানুষ যেন নির্ভয়ে ভোট দিতে পারে। তবে এই প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার জন্য
একটি শক্তি সক্রিয় রয়েছে। সেই শক্তিকে প্রতিহত করার পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে
তোলাও প্রয়োজন।
মন্তব্য করুন