

সাগরপথে মিয়ানমারে সিমেন্ট পাচারের সময় কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপকূলে অভিযান চালিয়ে দুটি ট্রলারসহ ২৩ জনকে আটক করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। এ সময় ট্রলার দুটি থেকে ১ হাজার ৭৫০ বস্তা সিমেন্ট ও ৩২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
বুধবার বিকেলে নৌবাহিনীর পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মিয়ানমারে সিমেন্ট পাচারের উদ্দেশ্যে একটি চক্র সাগরপথ ব্যবহার করছে—এমন তথ্য পেয়ে নৌবাহিনী অভিযান চালায়।
বঙ্গোপসাগরে টহলরত নৌবাহিনীর জাহাজ শহীদ মহিবুল্লাহ কুতুবদিয়া বাতিঘর থেকে প্রায় ৪৬ নটিক্যাল মাইল দূরে দুটি সন্দেহজনক কাঠের ট্রলার শনাক্ত করে। থামার সংকেত দিলে ট্রলার দুটি পালানোর চেষ্টা করে।
পরে ধাওয়া চালিয়ে নৌবাহিনী ‘এফবি আজিজুল হক’ ও ‘এফবি রুনা আক্তার’ নামের ট্রলার দুটি আটক করে। তল্লাশি চালিয়ে ট্রলারগুলো থেকে বাংলাদেশি ডায়মন্ড সিমেন্টের ১ হাজার ৭৫০ বস্তা উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে পাচারচক্রের ২৩ সদস্যকে আটক করা হয়।
আটকরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, অধিক মুনাফার আশায় সিমেন্টগুলো মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিলেন। জব্দ করা মালামালসহ আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পতেঙ্গা মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশকে বিদেশে পাচারকৃত অর্থ উদ্ধার এবং বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হেলেন লাফেভ আজ বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) ঢাকার তেজগাঁও কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে লাফেভ বিদায়ী সাক্ষাৎকালে এ আশ্বাস দেন।
হেলেন লাফেভ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই বাংলাদেশকে পরামর্শ ও অন্যান্য সহায়তা দিয়ে অর্থ উদ্ধার এবং তা বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করছে।
‘চুরি করা টাকা ফেরত দেওয়া কঠিন, কিন্তু এটা অসম্ভব নয়,’ বলেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা অবশ্যই এটি করব।’
এসময় একজন শীর্ষ কূটনীতিক হিসেবে লাফেভের দায়িত্ব পালন ও সেবার প্রশংসা করেন প্রধান উপদেষ্টা। একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাংলাদেশ-মার্কিন সম্পর্ক এগিয়ে নিতে তার আন্তরিক প্রচেষ্টারও প্রশংসা করেন তিনি।
জুলাই-আগস্টে শিক্ষার্থী-নেতৃত্বাধীন গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে হেলেন লাফেভ বলেন, ‘আমি ইতিহাসের সাক্ষী হতে পেরে খুবই গর্বিত।’
এসময় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিকেনের একটি চিঠি অধ্যাপক ইউনূসের কাছে হস্তান্তর করেছেন মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টাকে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ ক্যাম্প থেকে উত্তর আমেরিকার দেশে পুনর্বাসন ত্বরান্বিত করছে।
আলোচনায় বিচারিক সংস্কার, দক্ষিণ এশীয় বিদ্যুৎ সংযোগ, সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ, স্বৈরচারী সরকার আমলে বাংলাদেশ থেকে চুরি হওয়া কয়েক বিলিয়ন ডলার দেশে ফেরানোর প্রচেষ্টা, বেসামরিক আমলাতন্ত্রের সংস্কার এবং শ্রম সমস্যাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা হয়েছে।
তাঁর সরকার ব্যাপক শ্রম সংস্কার করতেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করার প্রয়াসে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তা বাংলাদেশ সফর করবেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হেলেন লাফেভ।
মন্তব্য করুন


ইউনাইটেড
ন্যাশনস অফিস অন ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম (ইউএনওডিসি) ও ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ
অর্গানাইজেশনের (ইন্টারপোল) যৌথ আয়োজনে দুই দিনব্যাপী (১৬-১৭ মার্চ) গ্লোবাল ফ্রড সামিট
২০২৬-এ অংশ নিতে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন
আহমদ।
আজ
রোববার (১৫ মার্চ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভিয়েনা
ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে অনুষ্ঠেয় এ সামিটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৫ সদস্যের
বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে
বলা হয়, সামিটের উদ্বোধনী ও প্লেনারি সেশনসহ মন্ত্রী ‘গ্লোবাল ফ্রড রেসপন্স মেকানিজম’
শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের রাউন্ডটেবিল বৈঠক ও ‘ন্যাশনাল কমিটমেন্টস/প্লেজেস অন কমব্যাটিং
ফ্রড’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বিশেষ সেশনে প্যানেলিস্ট হিসেবে অংশগ্রহণ
করবেন।
এছাড়া
মন্ত্রী সাইডলাইন ইভেন্টের অংশ হিসেবে ইউএনওডিসি’র নির্বাহী পরিচালক জন ব্র্যান্ডোলিনো
এবং যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের প্রতিমন্ত্রী আরটি হন লর্ড হ্যানসন এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক
বৈঠকে মিলিত হবেন।
উল্লেখ্য,
মন্ত্রী সামিটে অংশ নিতে আজ রোববার বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের ইটি-৬৭৯
ফ্লাইট যোগে ঢাকার হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করবেন। সামিট শেষে
তিনি আগামী ২০ মার্চ ভোর ৫টা ৩৫মিনিটে তার্কিশ এয়ারলাইনসের টিকে-৭১২ নং ফ্লাইটে ঢাকায়
ফিরবেন।
মন্তব্য করুন


যা কিছুই ঘটুক না কেন, গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কাজে অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় সেনাপ্রধান তার কার্যালয়ে বসে রয়টার্সকে দেওয়া এক বিরল সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান।
তিনি জানিয়েছেন, আগামী ১৮ মাসের মধ্যে যেন নির্বাচন হতে পারে, সে জন্য তিনি যেকোনো পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন দেবেন।
আগস্টের শুরুতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পদত্যাগ করেন। পরে নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।
সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান রয়টার্সকে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর তার পূর্ণ সমর্থন আছে। সামরিক বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত করার একটি পথের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, আমি তাকে (মুহাম্মদ ইউনূস) সমর্থন করব। পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন। যেন তিনি তার কাজ সম্পন্ন করতে পারেন।
মুহাম্মদ ইউনূস দেশের বিচার বিভাগ, পুলিশ, আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের পথ প্রশস্ত করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় উত্তরণ হওয়া উচিত। তবে ধৈর্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি।
সেনাপ্রধান বলেন, যদি আপনি আমাকে জিজ্ঞেস করেন, আমি বলব, এ সময়ের মধ্যে আমাদের একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যাওয়া উচিত।
বাংলাদেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ এবং প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এর আগে আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতা নেওয়ার তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানায়।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সেনাপ্রধানের প্রতি সপ্তাহেই বৈঠক হচ্ছে। তাদের মধ্যে বেশ ভালো সম্পর্ক রয়েছে। অশান্ত পরিস্থিতির পর দেশকে স্থিতিশীল করতে সরকারের প্রচেষ্টায় সামরিক বাহিনীর সমর্থনের কথা উল্লেখ করেন সেনাপ্রধান।
তিনি বলেন, আমি নিশ্চিত, যদি আমরা একসঙ্গে কাজ করি, তবে ব্যর্থ হওয়ার কোনো কারণ নেই।
মন্তব্য করুন


এলিট ফোর্স র্যাবের অতিরিক্ত
মহাপরিচালক (এডিজি, অপারেশনস) হলেন কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন।
র্যাবের একাধিক সূত্র এ
তথ্যটি নিশ্চিত করে বলেছে তিনি বর্তমান এডিজি মাহাবুব আলমের স্থলাভিষিক্ত হবেন।
কর্নেল মোমেন বর্তমানে প্রতিরক্ষা
গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরে কর্মরত আছেন। আর মাহাবুব আলম ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিসেবে পদোন্নতি
পেয়ে নিজ বাহিনীতে ফেরত যাচ্ছেন। এরপর তিনি গাজীপুরে বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি
লি.-এ পরিচালক হিসেবে যোগ দিবেন।
এর আগেও র্যাবে বিভিন্ন
দায়িত্ব পালন করেন আব্দুল্লাহ আল মোমেন। সর্বশেষ তিনি র্যাব-১ এর অধিনায়ক ছিলেন। দীর্ঘদিন
এ দায়িত্ব সাফল্যের সঙ্গে পালন করেন তিনি। গত বছরের জুনে তিনি লে. কর্নেল থেকে পদোন্নতি
পেয়ে কর্নেল হন এবং নিজ বাহিনীতে ফিরে যান।
আব্দুল্লাহ আল মোমেন বিভিন্ন
সময়ে র্যাবে আরও কয়েকটি পদে দায়িত্ব পালন করেন। র্যাব-১২ অধিনায়ক, র্যাব-২ কোম্পানি
কমান্ডার এবং র্যাব সদরদপ্তরের গোয়েন্দা শাখায় উপপরিচালক হিসেবে কাজ করেন তিনি।
র্যাবে ভালো কাজের স্বীকৃতি
হিসেবে তিনি ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) এবং ‘রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক’ (পিপিএম) অর্জন
করেন।
আগামী বুধবার মোমেন তার দায়িত্ব
বুঝে নিতে পারেন।
র্যাব-১-এ দায়িত্ব পালনকালে
মোমেনের বেশ কটি অভিযান আলোচিত হয়। রাজধানীর উত্তরার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের একটি
অংশ কেনাবেচায় জড়িত গোলাম ফারুক নামের এক প্রতারককে গ্রেফতার করেন তিনি। ট্রান্সজেন্ডার
নারী বিউটি ব্লগার সাদ মুআ-কে যৌন নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় ফুয়াদ আমিন ইশতিয়াক
ওরফে সানিসহ তার দুই সহযোগীকে আটকও তার নেতৃত্বে হয়।
দেশের প্রথম ‘মাদক বিজ্ঞানী’ওনাইসী
সাঈদ ওরফে রেয়ার সাঈদকে গুলশান থেকে আটক; মানব পাচার, করোনা সার্টিফিকেট নিয়ে বিদেশগামীদের
সঙ্গে প্রতারণা, সিকিউরিটি কোম্পানি খুলে প্রতারণা, ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি সহজের
সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার রেজাউল করিমকে আটকসহ বিভিন্ন অভিযানের নেতৃত্ব দেন র্যাব-১-এর
এই সাবেক অধিনায়ক।
এছাড়া অবৈধভাবে ভারতে কিডনি
কেনাবেচা চক্রের মূলহোতা শহিদুল ইসলাম মিঠুকে গ্রেফতার করেন মোমেন।
সেনাবাহিনীর এই কর্মকর্তা
কিছুদিন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশেও (বিজিবি) সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালে
৪৬ বিজিবির অধিনায়ক থাকাকালে তিনি একজন সহকর্মীর (সৈনিক) জীবন বাঁচাতে নিজেই চালকের
আসনে বসে অ্যাম্বুলেন্স চালিয়ে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। অধিনায়ক হিসেবে সহকর্মীর প্রতি
এমন সহানুভূতিশীলতা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে এবং বেশ প্রশংসিত হন তিনি।
জানা গেছে, আব্দুল্লাহ আল
মোমেন ১৯৯৭ সালে ৩৬ বিএম লং কোর্সে সেনাবাহিনীর পদাতিক কোরে কমিশন লাভ করেন। কর্মজীবনে
তিনি সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট ও সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন
করেন। শান্তিরক্ষা মিশনে লাইবেরিয়া ও গণতান্ত্রিক কঙ্গোতে কাজ করেন এই সেনা কর্মকর্তা।
মন্তব্য করুন


বিএনপির
চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের নীরব সঙ্গী গৃহকর্মী
ছিলেন ফাতেমা বেগম। এভারকেয়ার হাসপাতালে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ছায়ার মতো খালেদা জিয়ার
পাশে ছিলেন তিনি। সেই ছায়াসঙ্গী ফাতেমাকে চিরবিদায় জানালেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক
প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
রাজনীতির
ইতিহাসে যেখানে নেতা, আন্দোলন, ক্ষমতা ও কারাগারের গল্প বারবার উঠে আসে। সেখানে অনেক
সময় আড়ালে থেকে যায় কিছু নীরব মুখ। আলোয় না থেকেও যারা ইতিহাসের সাক্ষী হন। বেগম খালেদা
জিয়ার জীবনে সেই নীরব সাক্ষীর নাম ফাতেমা বেগম।
দেড়
দশকেরও বেশি সময় ধরে গৃহকর্মীর পরিচয় ছাড়িয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন খালেদা জিয়ার একান্ত
সঙ্গী। কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠ, গৃহবন্দিত্বের দীর্ঘ সময়, হাসপাতালের নিঃসঙ্গ রাত
কিংবা বিদেশ সফরের নীরব করিডর সবখানেই নিঃশব্দে উপস্থিত ছিলেন তিনি।
ফাতেমা
বেগমের জন্ম ভোলার সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের শাহ-মাদার গ্রামে। রফিকুল ইসলাম ও মালেকা
বেগম দম্পতির পাঁচ সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন জ্যেষ্ঠ। অল্প বয়সেই সংসারের দায়িত্ব
কাঁধে নিতে হয় তাকে। একই ইউনিয়নের কৃষক মো. হারুন লাহাড়ির সঙ্গে বিয়ের পর মেঘনা নদীর
চরে কৃষিকাজ করেই চলছিল সংসার।
তাদের
সংসারে জন্ম নেয় মেয়ে জাকিয়া ইসলাম রিয়া ও ছেলে মো. রিফাত। তবে ২০০৮ সালে ছেলের বয়স
মাত্র দুই বছর থাকতেই অসুস্থ হয়ে মারা যান তার স্বামী। এক মুহূর্তে বদলে যায় জীবনের
পথচলা। দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি ফিরে যান বাবার বাড়িতে। কিন্তু মুদি দোকানি বাবার সামান্য
আয় সংসারের ব্যয় মেটাতে না পারায় কঠিন সিদ্ধান্ত নেন ফাতেমা। সন্তানদের গ্রামে রেখে
কাজের খোঁজে ঢাকায় পাড়ি জমান।
২০০৯
সালে পূর্বপরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে তিনি কাজ পান বেগম খালেদা জিয়ার বাসভবনে। সেখান
থেকেই শুরু হয় এক দীর্ঘ সহযাত্রা। রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এক নেত্রীর দৈনন্দিন
জীবনের নীরব সাক্ষী হয়ে ওঠেন তিনি। বাথরুমে নেওয়া–আসা, ওষুধ খাওয়ানো, শারীরিক দুর্বলতায়
হাত ধরে রাখা এসব কাজ তার কাছে শুধু দায়িত্ব ছিল না, ছিল সম্পর্কের দায়।
২০১৪
সালের ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচির সময় গুলশানের বাসভবনের সামনে
বালুভর্তি ট্রাক দিয়ে পথ অবরুদ্ধ করা হয়। গাড়িতে উঠেও বেরোতে না পেরে ফিরোজার দোরগোড়ায়
দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের সামনে কথা বলেন খালেদা জিয়া। পুলিশের চাপের মধ্যে শরীরের ভার সামলাতে
না পারার মুহূর্তে নীরবে তার হাত শক্ত করে ধরে রেখেছিলেন ফাতেমা। ক্যামেরার ফ্রেমে
ধরা পড়ে যায় সেই মানবিক দৃশ্য।
২০১৮
সালের ৮ ফেব্রুয়ারি আদালতের রায়ে খালেদা জিয়া কারাগারে গেলে আইনজীবীরা আবেদন করেন,
তার গৃহকর্মী ফাতেমা বেগম যেন সঙ্গে থাকতে পারেন। আদালতের অনুমতিতে ছয় দিন পর তিনি
নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশ করেন। কোনো রাজনৈতিক পরিচয় ছাড়াই
স্বেচ্ছায় হয়ে ওঠেন কারাবন্দি।
২০২১
সালের এপ্রিল মাসে করোনা আক্রান্ত হয়ে ৫৩ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন খালেদা জিয়া।
যখন মহামারির ভয়ে প্রিয়জনের কাছেও যেতে মানুষ দ্বিধায় ছিল, তখন ফাতেমা ছিলেন অবিচল
সেবিকা হয়ে, সাহস হয়ে, ছায়া হয়ে।
সবশেষ
লন্ডনে উন্নত চিকিৎসার সময়ও খালেদা জিয়ার সঙ্গেই ছিলেন তিনি। আগের বিদেশ সফরগুলোতেও
নীরবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ফাতেমা
বেগম কোনো রাজনৈতিক কর্মী ছিলেন না, কোনো পদও ছিল না। তবু ইতিহাসের কঠিন মুহূর্তগুলোতে
তার উপস্থিতি ছিল অবিচ্ছেদ্য। তিনি প্রমাণ করে গেছেন সব সম্পর্ক ক্ষমতার নয়, কিছু সম্পর্ক
শুধু দায়িত্ব আর মানবিকতার। রাজনীতির কোলাহলের ভিড়ে তিনি ছিলেন এক নীরব নাম। কিন্তু
সেই নীরবতাই তাকে আলাদা করে চিহ্নিত করে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার
চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামে পরিত্যক্ত টয়লেটের সেপটিক ট্যাংক
থেকে সুমাইয়া তাবাসসুম (৪) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রবিবার
(১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে বসন্তপুর গ্রামের বেপারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুমাইয়া তাবাসসুম
একই গ্রামের প্রবাসী ছালেহ আহমেদের দ্বিতীয় মেয়ে।
প্রতিবেশীরা
জানান, বিকেল ৫টা থেকে সুমাইয়া নিখোঁজ ছিল। এরপর স্বজনরা তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
একপর্যায়ে রাত ৮টার পর পাশের বাড়ির আব্দুল খালেকের পরিত্যক্ত টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকের
ভেতরে তাকে দেখতে পান স্থানীয়রা। সেখান থেকে উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য
কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
উপজেলা
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রবিউল হাসান বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই
শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।
চৌদ্দগ্রাম
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মাহমুদ কাওসার হোসেন জানান, নিহত শিশুর স্বজনদের
সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খেলতে গিয়ে সে পরিত্যক্ত টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকে পড়ে যায়।
এ ঘটনায় পরিবারের কোনো অভিযোগ নেই।
মন্তব্য করুন


আসন্ন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা করে প্রচারণা চালাতে পারবেন না জামায়াতের কোনো
প্রার্থী। দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায় কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর
দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব দাঁড়িপাল্লার প্রচারণায় মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেন।
আজ
সোমবার (২৪ নভেম্বর ) গণমাধ্যমে
পাঠানো এক বার্তায় এ
কথা জানান দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
মন্তব্য করুন


চলতি
বছরের ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত
করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
তিনি
বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে আগামী বছরের জুনের মধ্যে বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত
হবে, যা বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার গৃহীত সংস্কার কার্যক্রম সামনে এগিয়ে নিতে সহায়ক
হবে।
আজ
বুধবার (২৮ মে) জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ
লিগের (জেবিপিএফএল) সভাপতি তারো আসো টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে
গেলে তিনি এ কথা বলেন।
চার
দিনের সরকারি সফরে প্রধান উপদেষ্টা আজ দুপুরে টোকিও পৌঁছান। সফরকালে তিনি নিক্কেই ফোরামে
অংশগ্রহণের পাশাপাশি জাপানি নেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন।
সাবেক
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বাংলাদেশের দীর্ঘ দিনের বন্ধু তারো আসো, যিনি জেবিপিএফএলের সভাপতির
দায়িত্ব পালন করছেন, অধ্যাপক ইউনূসকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার দিকে অগ্রসর
করার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং একটি মসৃণ গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য সাধারণ নির্বাচন
অনুষ্ঠানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধান
উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার তিনটি প্রধান বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে—সংস্কার, খুনিদের বিচার ও
সাধারণ নির্বাচন আয়োজন।
তিনি
আরও বলেন, ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠন এবং
ঋণ পরিশোধে সরকার উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করেছে।
'পূর্ববর্তী
সরকার আমাদের দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করেছে, যার ফলে তরুণ সমাজের মধ্যে বিদ্রোহ
সৃষ্টি হয়েছে। সেই তরুণরাই আমাকে এই বিশৃঙ্খলা দূর করার আমন্ত্রণ জানিয়েছে,' বলেন তিনি।
তিনি
বলেন, 'গত ১০ মাসে জাপান আমাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দিয়েছে। আমি জাপানকে আন্তরিক
ধন্যবাদ জানাই। এক অর্থে, এটি একটি কৃতজ্ঞতা সফর।'
প্রধান
উপদেষ্টা ড. ইউনূস তারো আসোকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান, যাতে তিনি নিজের চোখে
পরিবর্তনগুলো দেখতে পারেন।
সাক্ষাতের
সময় তারো আসোর সঙ্গে থাকা কয়েকজন জাপানি সংসদ সদস্য বলেন, ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট
(ইপিএ) স্বাক্ষর বাংলাদেশে বৃহত্তর পরিসরে জাপানি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ
পদক্ষেপ হতে পারে।
বাংলাদেশ
আগামী আগস্টের মধ্যে আলোচনার কাজ শেষ করে সেপ্টেম্বর মাসে ইপিএ চুক্তি স্বাক্ষরের প্রত্যাশা
করছে।
এই
চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে জাপান হবে বাংলাদেশে ইপিএ স্বাক্ষরকারী প্রথম দেশ।
প্রধান
উপদেষ্টা রোহিঙ্গা শরণার্থী পরিস্থিতি সম্পর্কে জাপানি সংসদ সদস্যদের অবহিত করেন এবং
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এজেন্ডা বাস্তবায়নে তাদের সহায়তা কামনা করেন।
তিনি
বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট অন্যান্য শরণার্থী সংকটের থেকে ভিন্ন, কারণ তারা অন্য
কোনো দেশে যাওয়ার জন্য অনুনয় করছেন না, বরং নিজ দেশে ফেরার দাবি করছেন।
বৈঠকে
উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে
সিদ্দিকী এবং প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ।
মন্তব্য করুন


ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কে এক বাসের ধাক্কায় অপর আরেকটি বাস উল্টে খাদে পড়ে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় কমপক্ষে আরও ১৫ যাত্রী আহত হয়েছেন।
আজ বুধবার (১৫ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় ভাঙ্গা উপজেলার পূর্বসদরদী নামক স্থানে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত ওই নারী বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রথপুর গ্রামের এসআই নজরুল ইসলামের স্ত্রী শামসুন্নাহার বেগম (৪০)। এসআই নজরুল ইসলাম নারায়ণগঞ্জের গার্মেন্টস এলাকায় কর্মরত ছিলেন। তিনি স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে পাশাপাশি সিটে বসে বাড়ি ফিরছিলেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) “রাকিবুজ্জামা “।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে বরিশালগামী ইউরো পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসকে ওভারটেক করার সময় শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইউরো পরিবহনের বাসটি রাস্তার পাশের খাদে পড়ে উল্টে যায়। এ সময় বাসের নিচে চাপা পড়ে শামসুন্নাহার বেগম নামের ওই নারী ঘটনাস্থলেই মারা যান।
বরিশালে ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৩৫, আক্রান্ত সাড়ে ১৫ হাজার
বরগুনায় ডেঙ্গু আক্রান্ত ইতি বেগম (৩৫) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) রাতে বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ নিয়ে চলতি বছরে বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গু জ্বরে মৃত্যু হয়েছে ৩৫ জনের। একই সময়ে আক্রান্ত হয়ে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ১৫ হাজার ৫৭৮ জন।
এর মধ্যে সর্বশেষ ১৪ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে ১৫ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১৩৩ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪২৬ জন।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল কালবেলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সর্বশেষ মৃত্যুবরণ করা ইতি বেগম বরগুনার বেতাগী উপজেলার বাসিন্দা মিলন মিয়ার স্ত্রী।
গত ১৩ অক্টোবর বিকেলে ডেঙ্গুজ্বর নিয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। পরবর্তী ১৪ অক্টোবর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের তথ্য মতে, বিভাগে মৃত্যুবরণ করা ৩৫ জনের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বরগুনা জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে। এ ছাড়া বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন ২০ জন। যাদের মধ্যে বরগুনা জেলার বাসিন্দাই বেশি।
অপরদিকে মোট আক্রান্তের দিক থেকেই শীর্ষে বরগুনা জেলা। এ জেলায় এখন পর্যন্ত ৮ হাজার ৭৭ জন আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। চলতি মৌসুমে বরগুনা জেলাকে এডিস মশা এবং ডেঙ্গু জ্বরের হট স্পট হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল কালবেলাকে জানান, ডেঙ্গু নিয়ে মানুষের মাঝে কিছুটা হলেও সচেতনতা বেড়েছে। এ কারণে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর হার কমেছে। তবে জলাবদ্ধতা, অপরিচ্ছন্নতাসহ নানা কারণে বরগুনাসহ অন্য জেলা-উপজেলাগুলোতে এডিস মশার বিস্তার ঘটছে। এ থেকে রক্ষা পেতে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন এ কর্মকর্তা।
মন্তব্য করুন


যুব ক্রীড়া এবং কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানান, দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের দেশের বিভিন্ন সেক্টরে ইভিল প্র্যাকটিস হয়ে আসছিল। যার মধ্যে অন্যতম ছিল বাজার খাত। যে কারণে প্রতিবছরই কোনো না কোনো পণ্যের দাম বেড়ে যায়। এ বছরে ডিমের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে গেছে। এর পেছনে মূলত দায়ী চাঁদাবাজি এবং সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম। আমরা সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য ভাঙার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।
বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) টিসিবি কার্যালয়ের সামনে ফসল ডট কম কর্তৃক আয়োজিত ন্যায্যমূল্যে কৃষি পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, সাসটেইনেবল দামে পণ্য বিক্রি করায় ফসল ডটকমকে স্বাগত জানাচ্ছি। আমরা অন্যদেরও আহ্বান জানাব, তারা যেন এ ধরনের উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসে। প্রয়োজনে সরকারের পক্ষ থেকে লোনের ব্যবস্থাও করা হবে। যারা সিন্ডিকেট করে তারা ব্যবসা নিয়ে সারাক্ষণ চিন্তায় থাকে। এমনটা যাতে না হয়, সে জন্য আমরা উদ্যোক্তারদের পাশে থাকব।
উক্ত অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম উদ্দিন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের
সচিব এ এইচ এম
শফিকুজ্জামান, জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আলীম আখতার খান প্রমুখ।
মন্তব্য করুন