

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে শব্দদূষণ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবাদী সংগঠন আওয়ার গ্রীন ক্যাম্পাস।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট এলাকায় এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ড. মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন।
এসময় শিক্ষার্থীরা “আর নয় শব্দ, হর্ন করি জব্দ, নো হর্ন নীতি ধরি সবুজ ক্যাম্পাস গড়ি” স্লোগান প্রদান করেন।
হর্ন ব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরে মানববন্ধনে সংগঠনটির সদস্যরা বিভিন্ন সচেতনতামূলক ব্যানার ও পোস্টার নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল“নীরবতায় ফুটুক সবুজের হাসি”, “হর্নের শব্দ মানুষ ও বন্যপ্রাণীর জন্য ক্ষতিকর”, “আর নয় শব্দ, হর্ন হোক জব্দ”, “নো হর্ন নীতি ধরো, ক্যাম্পাস সবুজ করো”, “বিপ নয়, প্রকৃতিকে ঘুমাতে দাও”।
সংগঠনটির সভাপতি মুজাহিদ ইসলাম বলেন, ক্যাম্পাসে যানবাহনের শব্দ ছাড়াও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত সাউন্ড ইফেক্ট ব্যবহার করা হচ্ছে, যা পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। আজকের কর্মসূচির মাধ্যমে শব্দের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
অপ্রয়োজনীয় হর্ন ব্যবহার কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে উপ-উপাচার্য ড. কামাল উদ্দিন বলেন, অনেকেই অপ্রয়োজনীয়ভাবে হর্ন ব্যবহার করেন, যা শব্দদূষণ সৃষ্টি করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়। এ কর্মসূচির মাধ্যমে এমন একটি বার্তা সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, যাতে অপ্রয়োজনীয় হর্ন ব্যবহারের প্রবণতা কমে এবং শিক্ষার্থীরাও শব্দদূষণ প্রতিরোধে সচেতন ভূমিকা রাখে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে একটি পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে উঠবে।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে ক্যাম্পাসে রিকশা ও সিএনজি চালকদের কাছেও হর্ন ব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাব এবং পরিবেশ সচেতনতার বিভিন্ন বার্তা তুলে ধরা হয়।
চবি প্রতিনিধি
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ-ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্তত ছয় দেশে রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে।
রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১১ মিনিটের দিকে এই কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস।
ইউএসজিএস বলেছে, রোববার মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে দক্ষিণ এশিয়ার ছয় দেশ। বাংলাদেশ, নেপাল, ভারত, মিয়ানমার, ভুটান ও চীনে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।রোববার স্থানীয় সময়
বিকেল ৫টা ১১ মিনিটের দিকে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের ঢেকিয়াজুলিতে। ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার ভূগর্ভে উৎপত্তি হওয়া এই ভূমিকম্পে ভারতসহ ছয় দেশ কেঁপে উঠেছে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তি বেশি গভীরে না হওয়ায় ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলে তীব্র কম্পন অনুভূত হয়েছে।
এদিকে, জার্মানির ভূতাত্ত্বিক গবেষণা সংস্থা জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস (জিএফজেড) বলছে, রোববার উত্তর-পূর্ব ভারতে ৫.৭১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এই ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়েছে ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার (৬.২১ মাইল)।
তবে এই ভূমিকম্পে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতি কিংবা হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন


জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা অভিযান ইউনাইটেড নেশন্স মিশন ইন সাউথ সুদান (UNMISS)–এ অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ৯৯ সদস্যের প্রথম দল মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দক্ষিণ সুদানের উদ্দেশে রওয়ানা দেয়। এই দলটি ‘বাংলাদেশ ফোর্স মেরিন ইউনিট–১১’-এর অংশ।জাতিসংঘের ম্যান্ডেট অনুযায়ী, নৌবাহিনীর এই ইউনিটটি দক্ষিণ সুদানের নদীপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। দূরবর্তী এলাকায় জ্বালানি, খাদ্য, ওষুধসহ বিভিন্ন মানবিক সহায়তাবাহী বার্জের নিরাপদ চলাচল তদারকি, জলদস্যুতা প্রতিরোধ, অগ্নিকাণ্ডে স্থানীয়দের সহায়তা এবং বেসামরিক নাবিকদের নিরাপত্তা রক্ষা–সবকিছুই তাদের দায়িত্বের আওতাভুক্ত। এছাড়া দুর্ঘটনাগ্রস্ত নৌযানে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা ও মিশনের সদস্যদের রসদ দুর্গম স্থানে পৌঁছে দেওয়ার কাজও তারা নিয়মিতভাবে করে যাচ্ছে।
গত তিন দশকের বেশি সময় ধরে নৌবাহিনীর শান্তিরক্ষীরা বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে দক্ষতা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে। আহত সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তিদের উদ্ধার, জরুরি চিকিৎসা সহায়তা এবং ডুবুরি কার্যক্রমেও তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
দক্ষিণ সুদানের বাইরে লেবাননের ভূমধ্যসাগরে উপমহাদেশের একমাত্র মেরিটাইম টাস্কফোর্সেও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘বানৌজা সংগ্রাম’ দায়িত্ব পালন করছে। নীল নদের প্রায় ১৩১১ কিলোমিটার নদীপথ অতিক্রম করে ইউনিটটি এখন পর্যন্ত ৭১টি সফল লজিস্টিক অপারেশন (অপারেশন লাইফলাইন) সম্পন্ন করেছে। নৌবাহিনীর এই ধারাবাহিক অবদান আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করেছে।
মন্তব্য করুন


রাঙ্গামাটি শহরের পুরাতন বাস স্টেশন এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চারটি দোকান ও দুটি বাস সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মধ্যরাত আনুমানিক ৩টা ৪০ মিনিটে পুরাতন বাস স্টেশন এলাকার খাগড়াছড়ি বাস টার্মিনাল সংলগ্ন একটি ফার্নিচারের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন আশপাশের দোকানে ছড়িয়ে পড়ে।
আগুনের খবর পেয়ে দোকান মালিকরা দ্রুত দোকান বন্ধ করে বাইরে বের হয়ে আসেন এবং আশপাশের লোকজনকে সতর্ক করেন। স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে পানি এনে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালালেও আগুনের তীব্রতায় তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
পরবর্তীতে খবর পেয়ে রাঙ্গামাটি ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিক ছোটন দাশ জানান, তিনি রাতের দিকে নিয়মমতো দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে যান। পরে ভোরে ফোন পেয়ে আগুন লাগার খবর জানতে পারেন। তার দোকানে প্রায় ৩৫টি নতুন জেনারেটরসহ কিছু সরকারি জেনারেটর সংরক্ষিত ছিল, যা আগুনে পুড়ে গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুনের লেলিহান শিখা খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের সর্বাত্মক চেষ্টা সত্ত্বেও আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
রাঙ্গামাটি ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউজ ইন্সট্রাকটর মো. মুর্শিদুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ফার্নিচারের দোকানে থাকা কয়েল থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। এ ঘটনায় চারটি দোকান ও দুটি বাস পুড়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষে জানা যাবে।
মন্তব্য করুন


চাঁদপুরের
মতলব উত্তর উপজেলার বেলতলী এলাকার বদরপুরে ঐতিহ্যবাহী ১০৭তম সোলেমান লেংটার মেলা প্রশাসনিক
অনুমতি ছাড়াই শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার
(৩১ মার্চ) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মেলা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ভক্তদের আগাম উপস্থিতির
কারণে একদিন আগেই সোমবার থেকে মেলা কার্যক্রম শুরু হয়ে যায়।
স্থাঈয়ব
সূত্রে জানা যায়, এর আগেও এই মেলা ঘিরে নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় এবার প্রশাসনের পক্ষ
থেকে কোনো ধরনের অনুমোদন দেওয়া হয়নি। তবে, বিগত বছরগুলোতে মেলায় সহস্রাধিক গাঁজার দোকান,
জুয়া, চাঁদাবাজি এবং অশ্লীলতার অভিযোগ সামনে আসে। এসব কারণ উল্লেখ করে কয়েকটি সংগঠন
মেলা বন্ধ রাখার দাবিতে প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদনও করে।
সরেজমিনে
মেলা ঘুরে দেখা গেছে, বেলতলী লঞ্চঘাট থেকে সাদুল্ল্যাপুর মোড় পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার
জুড়ে মেলার এই বিস্তৃতি। পুরো এলাকা জুড়ে বিভিন্ন ধরনের দোকানপাট বসার পাশাপাশি ভক্তদের
গান-বাজনা আয়োজনের জন্য অস্থায়ী আস্তানা গড়ে তোলা হয়েছে। সোলেমান লেংটার মাজারের আশপাশে
তার অনুসারীদের অন্তত ১৮ থেকে ২০টি মাজার এবং প্রায় দুই শতাধিক খানকা বা ভক্তদের আস্তানা
রয়েছে। এসব স্থানে নারী-পুরুষ একসঙ্গে গান-বাজনার সঙ্গে নাচানাচিতে অংশ নিচ্ছেন। বিগত
বছরগুলির ন্যায় এই মেলায় সহস্রাধিক গাঁজার দোকান বসে এবং এবারও যেন এর ব্যতিক্রম নয়।
স্থানীয়
বিভিন্ন পেশার মানুষ অভিযোগ করে জানান, এসব খানকার অনেকগুলোতেই গানের তালে তালে বিভিন্ন
বয়সী নারী-পুরুষের অশালীন নৃত্য অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাদের দাবি, শুধু
খানকাতেই নয়, আশপাশের এলাকাজুড়েও কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই অশালীন নৃত্যসহ নানা অপরাধমূলক
কর্মকাণ্ড চলছে। তবে এসব বিষয়ে আপত্তি থাকলেও প্রতিবাদ করার মতো পরিবেশ বা সাহস তাদের
নেই বলে জানান স্থানীয়রা।
সোলেমান
শাহ (রহ.) এর মাজারের খাদেম মতিউর রহমান লাল মিয়া বলেন, ‘যেসব এলাকায় গাঁজার দোকান
বসে, ওই জায়গাগুলো আমার নিয়ন্ত্রণাধীন না। তাই আমি এগুলো বন্ধ করতে পারছি না।’
নদীর
তীরবর্তী এলাকায় ট্রলার ও লঞ্চ থেকে আসা যাত্রীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রসঙ্গে
তিনি বলেন, ‘এটা আমার সীমানার বাইরের বিষয়। তাই এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তবে আমরা
চাই, এই লেংটার মেলা বা ওরশকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অনৈতিক কাজ বা চাঁদাবাজি না হোক।
এ বিষয়ে আমি সবার সহযোগিতা চাই।’
মেলার
অনুমতি না পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘অনুমতি না পাওয়ার বিষয়টি ঠিক আছে।'
তবে এত বড় আয়োজনে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে দায় কে নেবে—এ
প্রশ্নের জবাব না দিয়ে তিনি এড়িয়ে যান।’
মতলব
উত্তর উপজেলা পরিষদ মসজিদের খতিব মাওলানা এনামুল হক জানান, ‘ইসলামে মাদক, নারী-পুরুষের
বেহালাপনা-অশ্লীলতা ইসলাম ধর্ম সমর্থন করে না। ধর্মীয় মূল্যবোধ থেকে ইসলাম পরিপন্থী
কার্যক্রম পরিহার করা উচিত।’
মতলব
উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামরুল হাসান বলেন, ‘মেলার আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক
রাখতে পোশাকধারী অর্ধশত পুলিশ সদস্য এবং সিভিল পোশাকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক সদস্যই
এখানে কাজ করবে।’
উপজেলা
নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, ‘মতলবের সোলেমান লেংটার মেলা অনেক
বড় এবং বিশাল আকৃতির মেলা। জেলা প্রশাসন থেকে এখনো এই মেলার অনুমোদন দেওয়া হয়নি।
অনুমোদন পেলে এই মেলার শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য কর্তৃপক্ষের সাথে আইনশৃঙ্খলা সভাকরে
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে ভূমিকা রাখা হবে।’
উল্লেখ্য,
পীর ও সাধক হযরত শাহ সুফি সোলায়মান (রহ.) ওরফে লেংটা বাবা বাংলা ১৩২৫ সালের চৈত্র মাসে
মৃত্যুবরণ করেন। এরপর থেকেই প্রতি বছর তার মাজারকে কেন্দ্র করে চৈত্রের ১৭ তারিখে ওরশ
ও মেলার আয়োজন করা হয়। ‘লেংটার মেলা’ নামে পরিচিত এ আয়োজনে প্রতিবছর প্রায়
১৪ থেকে ১৫ লক্ষাধিক লোক সমাগম ঘটে। তবে সোলেমান লেংটা তার জীবদ্দশায় কোন ভক্ত তৈরি
করেননি। তার বাড়ি পার্শ্ববর্তী মেঘনা উপজেলায় হলেও তিনি মতলবের এই বদরপুরে বোনের
বাড়িতেই থাকতেন। নিজের পূর্ব বাসনার কারণেই এখানে তাকে সমাহিত করা হয়।
মন্তব্য করুন


২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ এবং ২০২১ সালের মার্চ মাসে বিক্ষোভ কর্মসূচি দমনে পরিচালিত হত্যাকাণ্ডে
শাহাদাতবরণকারী শহিদ পরিবারের সদস্যদের মাঝে চেক বিতরণ অনুষ্ঠান ২০২৫ গতকাল শুক্রবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান
অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. আ ফ ম খালিদ হোসেন।
২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞে শহিদ ৫৮ টি পরিবার এবং ২০২১ সালের মার্চ মাসে বিক্ষোভ কর্মসূচি দমনে পরিচালিত হত্যাকাণ্ডে শহিদ ১৯টি পরিবারের সদস্যদের মাঝে পরিবার প্রতি ১০ লক্ষ টাকা করে, মোট ৭ কোটি ৭০ লক্ষ টাকার চেক প্রদান করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের
উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, "শহীদদের রক্ত কখনো বৃথা যায় না। ঐতিহাসিক শাপলা চত্বর এবং মোদি বিরোধী আন্দোলনে শহীদদের আজকের এই স্বীকৃতি তারই প্রমাণ।"
শহীদ পরিবারদেরকে স্বীকৃতি দিতে পেরে সরকার গর্বিত উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ইতিহাস থেকে যেন কেউ ঐতিহাসিক শাপলা চত্বরের শহীদদের নাম মুছতে না পারে, এজন্য শাপলা চত্বরেই খোদাই করে লেখা হবে শহীদদের নাম।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, "শাপলা চত্বর এবং মোদি বিরোধী আন্দোলনে শহিদদের আর্থিক সহায়তা প্রদান স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ।"
এই উদ্যোগের মাধ্যমে দুই গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার স্বীকৃতি দেওয়ার প্রক্রিয়ার সূচনা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের হত্যাযজ্ঞ এবং ২০২১ সালের মোদি বিরোধী বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে
শাহাদতবরণকারী শহিদ পরিবারের সদস্যদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদকে আন্তরিক সাধুবাদ জানিয়ে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির মাওলানা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, "স্থানীয় সরকার উপদেষ্টার এই মহতী উদ্যোগে সারা বাংলার আলেম সমাজ সম্মানিত হয়েছে। "
স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা করেন জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জু, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা সাজিদুর রহমান এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ শাহজাহান মিয়া।
মন্তব্য করুন


সাবেক
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে
জাতিসংঘ (ইউএন)। একই সঙ্গে তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের
প্রতি সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেছে সংস্থাটি।
জাতিসংঘের
এক শোকবার্তায় বলা হয়, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী, মহামান্য বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে
জাতিসংঘ গভীর শোক প্রকাশ করছে।’
বার্তায়
আরো বলা হয়, ‘এই শোকের সময়ে জাতিসংঘ সম্মানিত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পরিবার ও স্বজনদের
প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে এবং বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি তার সংহতি পুনর্ব্যক্ত
করছে।’
মন্তব্য করুন


তেজগাঁও এলাকায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে সফররত ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগেকে ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানান প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় যোগদানের আগে দুই নেতা সেখানে একান্ত সাক্ষাৎ করেন বলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে।
দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় প্রধান উপদেষ্টা এবং ভুটানের প্রধানমন্ত্রী নিজ নিজ দেশের নেতৃত্ব দেন বলেও এতে বলা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


সরকারি সফরে তুরস্ক গেছেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান। আজ বুধবার (১ অক্টোবর) তিনি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তুরস্কের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।
তুরস্কের বিমান বাহিনী প্রধানের আমন্ত্রণে এ সফরে অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান। ১ থেকে ৫ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত চলবে এই সফর।
সফরকালে তিনি তুরস্কের বিমান বাহিনী প্রধান, প্রতিরক্ষা শিল্প সংস্থার সচিব এবং উচ্চ পর্যায়ের সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনায় অংশ নেবেন।
আলোচনায় পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় যেমন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, প্রযুক্তি বিনিময় ও প্রশিক্ষণ বিষয়ক বিষয়াদি গুরুত্ব পাবে।
এছাড়া, এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান সফরকালে Turkish Aerospace Industriesসহ তুরস্কের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সামরিক সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করবেন।
এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর ও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিমান বাহিনী প্রধান আগামী ৬ অক্টোবর দেশে ফিরে আসবেন।
মন্তব্য করুন


২০২৫-২৬
অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেছেন অর্থ উপদেষ্টা
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
বাংলাদেশের
ইতিহাসে ৫৪তম এবং অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের এই
প্রথম বাজেটটি দেশের মোট জাতীয় উৎপাদন (জিডিপি)’র ১২.৭ শতাংশের সমতুল্য।
অর্থ
উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আজ বিকাল ৩টা থেকে বাজেট বক্তৃতা উপস্থাপন শুরু করেছেন।
বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতারে পূর্বে ধারণকৃত সম্প্রচারের মাধ্যমে
এটি প্রচারিত হয়।
মোট
বাজেটের মধ্যে পরিচালন ব্যয় ও অন্যান্য খাতে ৫,৬০,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে
এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাবদ ২,৩০,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ
জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক
শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করেছেন।
আজ
শনিবার ( ২৭ ডিসেম্বর ) সকাল ১১টার পরে তারেক রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কবি কাজী নজরুল
ইসলামের সমাধির পাশে ওসমান হাদির কবরে পৌঁছান।
তারেক
রহমান এ সময় ওসমান হাদির কবরে ফুল দেন এবং ফাতিহা পাঠ ও হাদিসহ জুলাইয়ের সকল শহীদের
জন্যে দুহাত তুলে আল্লাহ’র দরবারে দোয়া ও মোনাজাত করেন। পাশাপাশি
তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরেও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
হাদির
কবর জিয়ারতের সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন
দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ সিনিয়র
নেতাকর্মীরা।
এছাড়াও,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আমহেদ খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা
দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান, উন্মুক্ত
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য
অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমানসহ আরো অনেকে এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে গুলশানের বাসা থেকে রওনা হন তারেক রহমান। বিএনপির
ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে জানানো হয়, তিনি ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে
যাত্রা করেন।
আজ
আগের দুই দিনের মতো লালসবুজ রঙে সাজানো বাস ব্যবহার না করে সাদা রঙের একটি গাড়িতে ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ে যান তারেক রহমান। গাড়িটি ফুল দিয়ে সাজানো ছিল। এ সময় রাস্তার দুপাশে
বিএনপির নেতা-কর্মীদের অবস্থান করতে দেখা যায়। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর
সদস্যদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।
তারেক
রহমানের আগমনকে ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। টিএসসি থেকে
হাদির কবর পর্যন্ত দুই স্তরের ব্যারিকেড বসানো হয়। শাহবাগের দিকেও পুলিশের ব্যারিকেড
ও নজরদারি ছিল। এর আগে তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে টিএসসি এলাকায় অবস্থান নেন ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। সংগঠনের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সাধারণ
সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনের নেতৃত্বে তারা রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অবস্থান করেন।
কবর
জিয়ারত শেষে ভোটার হওয়ার জন্য নির্বাচন ভবনে যাচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
সেখান থেকে ধানমন্ডিতে মাহবুব ভবনে যাবেন তিনি। ধানমন্ডির মাহবুব ভবনে কিছু সময় থাকার
পর বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী তার মা খালেদা জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ারে
যাবেন তারেক রহমান।
বিএনপির
মিডিয়া সেলের এক ফেসবুক পোস্টে জানানো হয়, জুলাই গণুঅভ্যুত্থানের কোনো আহত ব্যক্তি
বর্তমানে পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি না থাকায় সেখানে যাওয়ার কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে।
উল্লেখ্য,
দীর্ঘ ১৭ বছর পর গত বৃহস্পতিবার লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। তাঁর প্রত্যাবর্তন
ঘিরে ঢাকায় বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি
দেখা যায়। পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত সংবর্ধনা সমাবেশে সারা দেশ থেকে দলীয় নেতা-কর্মীরা
অংশ নেন।
মন্তব্য করুন