

টাঙ্গাইলের
নাগরপুরে বিদ্যালয়ের টিউবওয়েলের পানি পান করে ৩২ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন
রয়েছে। আজ (মঙ্গলবার, ২৩ জুন) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
বিদ্যালয়ের
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘সকাল সোয়া ১০ টার পর যখন শিক্ষার্থীরা
ক্লাসে যাচ্ছিলো, ঠিক ওই সময়ে অনেকেই বমি করতে থাকে। পরে ৩২ জনকে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য
কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এসময় দুই জন উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ
হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে মেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। অন্য শিক্ষার্থীদের
মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে।’
তিনি
আরও জানান, টিউবওয়েলের পাশ থেকে পলিথিনে ভরা সাদা পেস্টের মতো ক্রীম উদ্ধার করা হয়েছে।
আমার ব্যক্তিগত ধারণা এ পেস্ট টিউবওয়েলের পানির মধ্যে মেশানোর কারণে বিষক্রিয়া হয়েছে।
নাগরপুর
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা স্কুল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি
খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হাসপাতালে যারা ভর্তি রয়েছে, তারা অনেকটাই সুস্থ।’
মন্তব্য করুন


ভারতের
বেঙ্গালুরুতে তথ্যপ্রযুক্তি ও বৈশ্বিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘ক্যাপজেমিনির’
ডে-কেয়ার বা শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রে শিশুদের ওপর নিয়মতান্ত্রিকভাবে ভয়াবহ নির্যাতনের
ঘটনা সামনে এসেছে। ওই কেন্দ্রের কেয়ারগিভার বা আয়াদের বিরুদ্ধে দুই বছর বয়সী শিশুদের
কান্নাকাটি থামানোর জন্য সচল ওয়াশিং মেশিনের ভেতর ঢুকিয়ে পানি ছিটানো ও বাথরুমে আটকে
রাখার মতো রোমহর্ষক অভিযোগ উঠেছে।
আজ
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলা শিশু সুরক্ষা কর্মকর্তা
তিলকেশ কুমার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রবেশন
অফিসার তিলকেশ কুমার জানান, এই ডে-কেয়ার কেন্দ্রটিতে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন শিশু নিবন্ধিত
রয়েছে। যার মধ্যে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ জন শিশু আসত। এই নির্যাতন দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছিল।
এর আগেও একজন কর্মকর্তা বিষয়টি সুপারভাইজারকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া
হয়নি; উল্টো সেই হুইসেলব্লোয়ার বা তথ্যফাঁসকারীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন
ধরে শিশু নির্যাতনের সন্দেহ থাকলেও উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব
হয়নি।
চলতি
সপ্তাহে এক অভিযোগকারীর প্রকাশ করা বেশ কিছু সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিওর মাধ্যমে এই নির্মম
নির্যাতনের সত্যতা প্রমাণিত হয়। ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, মাত্র দুই বছর বয়সী অবুঝ শিশুদের
ওয়াশিং মেশিনের ভেতরে বসিয়ে ওয়াটার জেট দিয়ে তীব্র গতিতে পানি স্প্রে করা হচ্ছে। অন্য
কিছু ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুদের দীর্ঘ সময় অন্ধকার বাথরুমে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে।
তিলকেশ
কুমার জানান, যেসব মানুষের ওপর শিশুদের যত্নের দায়িত্ব ছিল, তারাই শিশুদের কান্নাকাটি
বা সামান্য শব্দ করার কারণে এই নির্যাতন চালাত। শিশুদের মুখ বন্ধ করতে তারা ওয়াশিং
মেশিন ও বাথরুমকে শাস্তির জায়গা হিসেবে ব্যবহার করত। চাইল্ড হেল্পলাইনের মাধ্যমে এই
অভিযোগ ও ভিডিও হাতে পাওয়ার পরপরই আমরা দ্রুত থানায় গিয়ে মামলা দায়ের করি।
এই
রোমহর্ষক ঘটনায় ইতোমধ্যেই পাঁচ জন কেয়ারগিভারের বিরুদ্ধে সীতাকুণ্ড (ভুলবশত পূর্ববর্তী
প্রসঙ্গের প্রেক্ষিতে না ভেবে) বেঙ্গালুরু পুলিশ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই
সঙ্গে সংগৃহীত সব ভিডিও প্রমাণ হিসেবে ‘কর্ণাটক রাজ্য শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনের’
কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এক বিবৃতিতে ক্যাপজেমিনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আমাদের কর্মীদের
এবং তাদের পরিবারের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও কল্যাণ আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে পুলিশের সঙ্গে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি
সতর্কতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে আপাতত ওই ডে-কেয়ার সেন্টারটি সাময়িকভাবে বন্ধ
ঘোষণা করেছে।
মন্তব্য করুন


নওগাঁর
বদলগাছী উপজেলায় জমির আইল কাটা নিয়ে বিরোধের জেরে ইউনিয়ন যুবদলের এক নেতার বাম হাতের
কব্জি ধারালো হাসুয়া দিয়ে কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী
লীগের এক নেতার বিরুদ্ধে।
হামলায়
আহত ওই যুবদল নেতা ও তার মা বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ
ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রোববার
(২ আগস্ট) বিকালে উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহত
হাসান রমন (৪২) জালালপুর গ্রামের দুদু মিয়ার ছেলে। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের ভাষ্য, তিনি
মথুরাপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি।
অভিযুক্তরা
হলেন- একই গ্রামের মমতাজ উদ্দিনের ছেলে মিজানুর রহমান ও তার স্ত্রী আমেনা বেগম। স্থানীয়দের
দাবি, মিজানুর রহমান ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য এবং তার স্ত্রী আমেনা বেগম
একই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভানেত্রী।
স্থানীয়
সূত্র জানায়, বিকালে জমির আইল কাটা নিয়ে হাসান রমনের সঙ্গে মিজানুর রহমানের কথা কাটাকাটি
হয়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে মিজানুর রহমান ধারালো হাসুয়া দিয়ে হাসান
রমনের বাম হাতে কোপ দেন। এতে তার বাম হাতের কব্জি প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
হাসান
রমনকে উদ্ধার করতে গেলে তার মা বিউটি বেগমকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে
আহত করা হয়। পরে স্থানীয়রা মা-ছেলেকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে
এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে দুজনই
সেখানে চিকিৎসাধীন।
মামলার
বাদী ও আহতের বাবা দুদু মিয়া বলেন, জমির আইল কাটা নিয়ে বিরোধের জেরে মিজানুর রহমান
ও তার স্ত্রী আমার ছেলেকে ধারালো হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। আমার স্ত্রী
ছেলেকে উদ্ধার করতে গেলে তাকেও কুপিয়ে আহত করা হয়। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
উপজেলা
বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাদি চৌধুরী টিপু বলেন, অভিযুক্তরা আওয়ামী লীগের রাজনীতির
সঙ্গে জড়িত। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
তবে
অভিযোগ অস্বীকার করে মিজানুর রহমান বলেন, আমার জমির আইল হাসান কেটে ফেলেছিল। এ নিয়ে
তর্কের একপর্যায়ে তারা ৬ থেকে ৭ জন আমার বাড়িতে হামলা চালায়। আমার হাতে ঘাস কাটার হাসুয়া
ছিল। ধস্তাধস্তির সময় সেটি দিয়ে হাসানের হাতের কব্জি কেটে যায়।
বদলগাছী
থানার ওসি মুহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলার প্রধান দুই
আসামি মিজানুর রহমান ও তার স্ত্রী আমেনা বেগমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।
মন্তব্য করুন


চুয়াডাঙ্গার
দর্শনায় ‘জয় বাংলা’ লেখা একটি বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার করেছে
পুলিশ। বুধবার (২৪ জুন) সকাল ১০টার দিকে দর্শনা থানার কুড়ালগাছি বিলসংলগ্ন মৎস্য অফিসের
পাশ থেকে বস্তুটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ
ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে কুড়ালগাছি গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি স্থানীয় রায়সা
বিলে গোসল করতে গিয়ে মৎস্য অফিসের পাশে একটি বোমাসদৃশ বস্তু পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তারা
বিষয়টি দর্শনা থানা পুলিশকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তুটি
উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
দর্শনা
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান,
বোমাসদৃশ বস্তুটি উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়া চলছে। বস্তুটির গায়ে ‘জয় বাংলা’
লেখা স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
তিনি
আরও জানান, বস্তুটি প্রকৃতপক্ষে বিস্ফোরক কি না, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া
যাবে।
মন্তব্য করুন


দিনাজপুর জেলার হিলি স্থলবন্দরের সিপি মোড়ে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৩ টাকায়। ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ আসার পথে বৃষ্টিতে ভিজে পচে গেছে। এসব নিম্ন মানের পেঁয়াজ বন্দর থেকে আড়তে নিয়ে এসে বাছাই করে ৩ টাকা থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে হিলি স্থলবন্দরে ভারত থেকে আমদানিকৃত ভালো মানের পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত।
শনিবার বন্দর এলাকায় ৯৫ থেকে ১০০ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি হলেও আজ বিক্রি হচ্ছে ৮৫ থেকে ৯০ টাকার মধ্যে।
মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে সিপি মোড়ে অবস্থিত একটি পেঁয়াজের আড়তে গিয়ে এই দৃশ্য দেখা যায়।
পেঁয়াজ কিনতে আসা রফিক নামের একজন ক্রেতা জানান, আমি ১৫০ টাকায় ১ বস্তা পেঁয়াজ কিনলাম। একটু পঁচা তবে বাড়িতে গিয়ে বাছাই করে ব্যবহার উপযোগী কিছু বের করা যাবে।
সফিকুল নামের আরও একজন জানান, আড়ত থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে নিম্ন মানের কিছু পেঁয়াজ কিনলাম। এসব বাছাই করে বাজারে বিক্রি করবো। বন্দরে তো পেঁয়াজের দাম অনেক বেশি।
আড়তদার হেলাল হোসেন জানান, ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে পেঁয়াজ আমদানি হয় হিলি স্থলবন্দর
দিয়ে। এসব পেঁয়াজ বাংলাদেশে আসতে প্রায় ৭ থেকে ৮
দিন সময় লাগে আর এ সময়ের
ভিতরে রৌদ, ঝড়, বৃষ্টির কবলে পড়তে হয় পেঁয়াজ বোঝাই
ট্রাকগুলোকে। এবার কিছু পেঁয়াজের ট্রাক বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়ায় সেই পেঁয়াজগুলো পচে গেছে। বন্দর থেকে এসব পেঁয়াজ আড়তে এনে শ্রমিক দিয়ে বাছাই করা হয়। নিম্ন মানের ৫০ কেজি ওজনের
পেঁয়াজের বস্তা ১৫০ টাকা আর তার থেকে
একটু ভালো মানেরটা ৪০ টাকা কেজি
দরে বিক্রি করতেছি।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় গরমে অসুস্থ
হয়ে পড়েছিল একজন রিকশাচালক, ট্রাফিক পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে রক্ষা পেল রিকশাচালকের
প্রাণ। প্রচণ্ড গরমে রিকশা চালানো অবস্থায় হঠাৎ শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে সড়কে পড়ে
যান ওই ব্যক্তি। এমন ঘটনা দেখে ট্রাফিক পুলিশরা দ্রুত গিয়ে তাকে সুস্থ করে তোলেন।
সোমবার (২৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার
দিকে যাত্রাবাড়ী ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে ঘটে এমন ঘটনা। জানা যায়, সেখানে দায়িত্বরত
ছিলেন ট্রাফিক ইন্সপেক্টর পবিত্র বিশ্বাস। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে যাত্রাবাড়ী মোড়ে দায়িত্বরত
অন্যান্য ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের সহযোগিতায় রিকশাচালকের মাথায়, চোখে ও মুখে পানি ছিটিয়ে
দেন। এরপর পুলিশ বক্স থেকে নিয়মিতভাবে সাধারণ জনগণের জন্য বিলি করা পানি ও স্যালাইন
অসুস্থ রিকশাচালককে খাওয়ালে তিনি ক্রমাগত সুস্থ হয়ে সাধারণ অবস্থায় ফিরে আসেন।
সুস্থ হওয়ার পর রিকশাচালক জানান, তিনি
রিকশা চালাচ্ছিলেন। প্রচণ্ড গরমের কারণে হঠাৎ তার শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। তখন
তিনি চলন্ত রিকশা থেকে রাস্তায় পড়ে যান। পুলিশের দ্রুত সহযোগিতার জন্য তিনি তার প্রাণ
ফিরে পেয়েছেন। তা না হলে হয়তো হিট স্ট্রোকে তার মৃত্যুও হতে পারতো।
এ সময় তিনি ট্রাফিক পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা
প্রকাশ করেন।
মন্তব্য করুন


অর্থ উপদেষ্টা সালেহ উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে। সরকার এ সমস্যা সমাধানের
চেষ্টা করছে।
মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক শেষে সচিবালয়ে গণমাধ্যমকে এসব কথা বলেন সালেহউদ্দিন আহমেদ।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় নিবে। সরকার চেষ্টা করছে বিদ্যুতের ঘাটতি মেটাতে। এ জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি, কয়লা আমদানি করা হচ্ছে। চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের স্মরণ সভার জন্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকা খরচ হবে। ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এ বিষয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে । ১৪ সেপ্টেম্বর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এ অনুষ্ঠানে সব শহীদ পরিবারসহ সংশ্লিষ্ট সবাই ও বিদেশি অতিথিরাও আসবেন।
তথ্য উপদেষ্টা বিষয়টি ঠিক করবেন বলে জানান অর্থ উপদেষ্টা।
মন্তব্য করুন


রক্তাক্ত
দুটি মানুষ ছটফট করছেন রাস্তার ধারে। ব্যথায় কুঁকড়ে যাওয়া এক নারী আর তার নিথরপ্রায়
স্বামী পড়ে আছেন তপ্ত পিচের ওপর। অথচ তাঁদের বাঁচানোর কোনো আকুতি ছুঁয়ে গেল না পাশে
জমা হওয়া শত শত মানুষকে। চোখের সামনে যখন মৃত্যুর মুখোমুখি এই দম্পতি, তখন উপস্থিত
জনতার পুরো মনোযোগ কেড়ে নিল কেবলই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কিছু কাঁচা-পাকা আম। নিস্পৃহ একদল
মানুষ মগ্ন হলেন আম লুটের উৎসবে। ভারতের বিহার রাজ্যের মুজাফফরপুরে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক
সড়ক দুর্ঘটনাটি কেবল একটি তাজা প্রাণই কেড়ে নেয়নি, বরং আরও একবার উলঙ্গ করে দিয়ে গেছে
আধুনিক সমাজের বুক চিরে জেগে ওঠা এক চরম ও কুৎসিত মানবিক অবক্ষয়কে।
রোববার
(১৫ জুন) ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে তাদের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
ভয়াবহ
এই দুর্ঘটনার একটি ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক
সমালোচনা ও ক্ষোভের ঝড় শুরু হয়। ভিডিওটিতে দেখা যায়, বিহারের জাতীয় সড়ক-২৭-এর ওপর দুর্ঘটনাকবলিত
গাড়িটি উল্টে পড়ে আছে। রক্তাক্ত মানুষ পাশে কাতরালেও উপস্থিত লোকজন যে যেভাবে পারছেন
রাস্তার ওপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা আমের স্তূপ থেকে আম কুড়িয়ে নিয়ে পালাচ্ছেন।
স্থানীয়
পুলিশের ভাষ্যমতে, ৪০ বছর বয়সী অজয় পাসোয়ান তার স্ত্রী সান্তারা দেবীকে নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ
থেকে আমবোঝাই করে মুজাফফরপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের গাড়িটি
উল্টে গেলে দুজনেই গুরুতর আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা
জানান, রক্তাক্ত অবস্থায় ওই দম্পতি দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় পড়ে থাকলেও সেখানে ভিড় জমানো
সাধারণ মানুষের মধ্যে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার কোনো তাগিদ বা ন্যূনতম মানবিকতা
দেখা যায়নি। উল্টো সবাই ব্যস্ত ছিলেন বিনামূল্যে আম ঘরে তুলতে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ
দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই দম্পতিকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠায়। তবে হাসপাতালে
চিকিৎসাধীন অবস্থায় অজয় পাসোয়ানের মৃত্যু হয়। তার স্ত্রী সান্তারা দেবী বর্তমানে আশঙ্কাজনক
অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
মুজাফফরপুরের
জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা রাকেশ কুমার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, পুলিশ খবর
পাওয়া মাত্রই দম্পতিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছিল। আম লুটের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও
লজ্জাজনক ঘটনার বিষয়টি খতিয়ে দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে
বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মন্তব্য করুন


১২ বছর বয়সী নুরে জারিন নুদার। বর্তমান সময়েরর ছেলে-মেয়েদের থেকে একটু আলাদা। যে বয়সে মেয়েরা মুঠোফোন নিয়ে ব্যস্ত। ওই বয়সে ক্ষুদে এ শিক্ষার্থী হাতে কোরআন লিখে পার করছে ব্যস্ত সময়। তার গল্প শুনলে অনেকেরই চোখ কপালে উঠবে। এই মাদরাসা শিক্ষার্থীর কোনো ক্লাসে পড়তে হয়নি প্রাইভেট। মাত্র ১০ মাসে নির্ভুল ভাবে সে পুরো আল-কোরআন হাতে লিখেছেন। তার দৃষ্টিনন্দন হাতের লেখা দেখলে যে কারো চোখ আটকাবে। মনে হবে এটি কম্পিউটারে ছাপা লেখা। চোখ জুড়ানো হাতের লেখায় পবিত্র কোরআন লিখে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে সে।
বর্তমানে নুদার বসুরহাট দারুল ইহসান গার্লস মাদরাসার ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। ২০২২ সালের সেপ্টম্বর মাসের ঘটনা। তখন ১০ বছর বয়সী নুদার বাড়ির পাশের ইকরা আরাবিয়া মাদরাসার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। একদিন হঠাৎ মেয়ের সুন্দর আরবি হাতের লেখা চোখে পড়ে বাবার। এরপর তিনি মেয়েকে উদ্বুদ্ধ করেন পবিত্র কোরআন হাতে লিখতে। যে কথা, সেই কাজ। মেয়েকে প্রথমে এক রিম খোলা সাদা কাগজ এনে দেন তিনি। সেই থেকে শুরু। এরপর আস্তে আস্তে ১০ মাসে ২০২৩ সালের জুলাই মাসে নুদার কোরআন লিখে শেষ করেন। এরপর তার বাবা হাতে লিখা কোরআন শরীফ নিয়ে নুদারের মাদরাসার আরবী শিক্ষক মুফতি মুহা.আবদুল্লাহ আল নোমান শরনাপন্ন হন। সেই থেকে নুদারের লেখা শেষে তিনি বানান সংশোধন করে পুনঃনিরীক্ষণ করে দিতেন। তার উৎসাহে ও সহযোগিতায় নুদারের লেখা আরও গতি পায়। পরবর্তীতে পান্ডুলিপি থেকে ১০ পারা করে তিন ভাগে পুর্ণাঙ্গ কোরআন বাঁধাই করা হয়। কোরআন লিখতে ব্যবহার করা হয়েছে ৬১১টি এ ফোর সাইজের সাদা কাগজ ও ৫৫টি বলপেন কলম। মেয়ের এমন সাফল্যে উচ্ছ্বসিত মা-বাবা,দাদা-দাদী সহ এলাকাবাসী। মা-বাবার আশা মেয়ে উচ্চ শিক্ষা অর্জন করে দেশবাসীর কল্যাণে দ্বীনি শিক্ষা প্রসারে কাজ করবে। নুরে জারিন নুদার নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট পৌরসভার ৯নম্বর ওয়ার্ডের মওদুদ স্কুল এলাকার ছেলামত মঞ্জিলের মো.নুরুল হুদা মামুনের মেয়ে।
নুরে জারিন নুদার বলেন, বাবা-মায়ের উৎসাহে আমি চতুর্থ শ্রেণিতে থাকা অবস্থায় পবিত্র কোরআন মাজিদ লেখা শুরু করি। এরপর পঞ্চম শ্রেণিতে উঠলে আমার লেখা শেষ হয়। আমার এ লেখা দেখে মা-বাবা আমাকে মাদরাসায় পড়া লেখার পাশাপাশি এখন হিফজ বিভাগে ভর্তি করে দেয়। আমি দেশ বাসীর কাছে দোয়া চাই।
নুদারের বাবা মো.নুরুল হুদা, আমি প্রথমে আমার মেয়ের সুন্দর আরবি হাতের লেখা দেখে খুব আনন্দিত হই। আমারও তার শিক্ষকদের উৎসাহে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে সে কোরআন নিজ হাতে লেখা শুরু করে। যখন এক পারা লেখা সম্পন্ন হতো তখন ইকরা আরাবিয়া মাদরাসার শিক্ষক মুফতি মুহা.আবদুল্লাহ আল নোমান আরবি বানান গুলো যাচাই বাচাই করে পুনঃনিরীক্ষণ করে দিতে। এভাবে ২০২৩ সালের জুলাই মাসে পুরো কোরআন লিখে শেষ হয়। পরে পুনরায় আবার বানান পুনঃনিরীক্ষণ করে ১০ পারা করে তিন ভাগে বাধাই করা হয়। মেয়ের এমন কাজে আমি গর্বিত। এমন কাজে অন্য ছেলে মেয়েরা উদ্ধুদ্ধ হবে বলেও আমি আশা করি।
মা বিবি ফাতেমা বলেন, আমার মেয়ে নিজ হাতে কোরআন লিখেছে, আমরা তাকে উৎসাহ দিয়েছি। লেখার সময় অনেক সময় মনমানসিকতা অন্য রকম হয়ে যেত, তো লিখবো, লিখেনা। আবার মনমানসিকতা ঠিক করে আগ্রহ দিয়ে লিখতে বসত। বিশেষ করে ভালো কাজে শয়তানের প্ররোচনা থাকে। খাতা-কলমে দাগ টানা সহ বিভিন্ন ভাবে তাকে আমি সহযোগিতা করেছি। চার বছর বয়স থেকে সে নিয়মিত নামাজ পড়ে।
ইকরা আরাবিয়া মাদরাসার নাজেমে তালিমাত, মুফতি মুহা.আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, কোরআন লেখার যে প্রাচীন নিয়ম রয়েছে। সে অক্ষরে অত্যন্ত সুনিপুন ভাবে নুদার ১০ মাসের প্রচেষ্ঠায় কোরআন হাতে লিখে সম্পন্ন করেন। ওই সময় আমি তার লেখার তত্বাবধান করি। বোঝার উপায় নেই, এটি হাতে লিখা না, না কম্পিউটারে লিখা। তার লেখা কোরআন পুরোটাই আমি পুনঃনিরীক্ষণ করি।
ইকরা আরাবিয়া মাদরাসা মোহতামিম মাওলানা মোতালেব হোসেন পারভেজ বলেন,নুরানী বোর্ডের সমাপনী পরীক্ষায় নুদার পুরো বাংলাদেশে দশম স্থান অর্জন করে। সে একজন মেধাবী ছাত্রী। তার স্বহস্তে কোরআন লেখার এ কৃতিত্বকে আমরা স্বগত জানাই।
বসুরহাট পৌরসভা ৯নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবিএম ছিদ্দিক বলেন, পবিত্র কোরআন হাতে লেখার উদ্যোগ নিয়ে সম্পন্ন করার কাজটি অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। এতো সুন্দর ভাবে কোরআন লিখলেন সেটি আসলেই অবাক হওয়ার মতো ঘটনা। আমি তার উত্তরোত্তর সফলতা কামনা করছি।
মন্তব্য করুন


শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিগুলো পূরণ করা
হবে। তবে আইন ভেঙে অসন্তোষ সৃষ্টি করলে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন, শ্রম ও
কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) শ্রমিক কল্যাণ
তহবিলে গ্রামীণফোনের লভ্যাংশের চেক প্রদান অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
শ্রমিকদের কল্যাণে দেশের বিভিন্ন শিল্প
গ্রুপকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, যারা শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে
লভ্যাংশের নির্ধারিত অংশ দিচ্ছেন না, তাদেরও এর আওতাভুক্ত করা হবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার
ভিত্তিতে তহবিল থেকে শ্রমিকদের সহায়তা দেওয়া হবে। শ্রমিকদের দাবি অনুসারে তাদের সব
সমস্যার সমাধানও করা হবে বলে জানান তিনি।
উপদেষ্টা আরও বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য
দাবি পূরণ করা হবে। তবে যেসব শ্রমিক আইন ভেঙে অসন্তোষ সৃষ্টি করবে, তাদের আইনের আওতায়
আনা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
গ্রামীণফোন লিমিটেড তাদের গত এক বছরের
লভ্যাংশের দশমিক ৫ শতাংশ হিসেবে শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে ২৪ কোটি ৪৪ লাখ ৫৭ হাজার ৪৪২
টাকা প্রদান করেছে। এখন পর্যন্ত এ তহবিলে ২৭৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা দিল গ্রামীণফোন লিমিটেড।
শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে ৪৪০টি কোম্পানি
লভ্যাংশের নির্ধারিত অংশ নিয়মিত দিয়ে থাকে। শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে এখন পর্যন্ত জমা
রয়েছে ১ হাজার ২৬ কোটি টাকা।
মন্তব্য করুন


আজ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৬০তম জন্মদিন। তিনি ১৯৬৫ সালের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন।
তারেক রহমানের জন্মদিন উপলক্ষ্যে দেশব্যাপী দলের নেতাকর্মীরা জাঁকালো অনুষ্ঠান উদযাপনের পরিকল্পনা করলেও এবার দলের পক্ষ থেকে তা না করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
১১ নভেম্বর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে দলের পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদের জন্মদিন উদযাপন না করার জন্য বলা হয়েছে। দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সই করা ওই বিবৃতিতে সংগঠনের সব ইউনিটের নেতাকর্মীদের জানানো হয়, তারেক রহমানের জন্মদিন নিয়ে কোনো অনুষ্ঠান হবে না। এর ব্যত্যয় হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান।
মন্তব্য করুন