

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের মামলার চার্জশিট আগামী ৭ জানুয়ারির মধ্যে দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
শনিবার রাতে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে ইনকিলাব মঞ্চের চলমান অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এ ঘোষণা দেন।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে জড়িত সবাইকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে দৃঢ়ভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, “অনেক সময় আপনাদের মনে হতে পারে—আমরা সব তথ্য প্রকাশ করছি না। কিন্তু মনে রাখতে হবে, আমরা শত্রুপক্ষের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তদন্ত করছি। এমন কোনো তথ্য আমরা প্রকাশ করতে চাই না, যা অপরাধীদের শক্তিশালী করে তুলতে পারে।”
তিনি আরও জানান, সব ধরনের ফরেনসিক ও তদন্তসংক্রান্ত পরীক্ষা শেষ করেই নির্ভুল চার্জশিট দেওয়া হবে। “চার্জশিট দেওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই যেন দ্রুত বিচার সম্পন্ন করা যায়, সে নিশ্চয়তা আমি আপনাদের দিচ্ছি। আমরা থাকতেই এই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা হবে,”—বলেন উপদেষ্টা।
হাদি হত্যার দ্রুত বিচার প্রসঙ্গে তিনি আছিয়ার ঘটনার উদাহরণ টেনে বলেন, ওই মামলায় মাত্র ছয় কার্যদিবসের মধ্যে বিচার শেষ করা সম্ভব হয়েছিল। সঠিক ও শক্ত চার্জশিট হলে হাদি হত্যার বিচারেও বিলম্ব হবে না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, অপরাধীরা পালিয়ে গেলেও বিচার সম্ভব। “ইন অ্যাবসেন্সিয়া বিচার ব্যবস্থা আমাদের আইনে আছে। শেখ হাসিনার বিচার হয়েছে তিনি দেশে না থেকেও। যারা হাদিকে হত্যা করেছে তারা দেশ ছাড়লেও বিচার এড়াতে পারবে না।” তিনি জানান, কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে ভারতকে এ বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে এবং ভারত সরকার জানিয়েছে—অভিযুক্তরা ভারতে অবস্থান করলে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করা হবে।
তদন্তের স্বার্থে সব তথ্য এখনই প্রকাশ করা যাচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামীকাল (রোববার) সকাল সোয়া ১১টায় ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে।
এদিকে হাদি হত্যার বিচার দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো শাহবাগে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। এর আগে শুক্রবার জুমার নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে ইনকিলাব মঞ্চ, জুলাই মঞ্চের নেতাকর্মী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন। পরে সেখানে ধারাবাহিক কর্মসূচি শুরু হয়, যেখানে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মন্তব্য করুন


ভারতের সুরাট শহরের জাহাঙ্গীরপুরা এলাকায় একটি ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা ঘটেছে। ৫৭ বছর বয়সী নীতিনভাই আদিয়া তার ফ্ল্যাটের জানালার কাছে ঘুমাচ্ছিলেন। হঠাৎ অনিচ্ছাকৃতভাবে পড়ে গেলে তার পা আটকা যায় অষ্টম তলার একটি ফ্ল্যাটের জানালার গ্রিলে।ঘটনার পর প্রতিবেশীরা ফায়ার ব্রিগেডকে খবর দেন। জাহাঙ্গীরপুরা, পালানপুর এবং আদাজান থেকে তিনটি ফায়ার স্টেশন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। উদ্ধারকর্মীরা দড়ি ও নিরাপত্তা বেল্ট ব্যবহার করে এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আদিয়াকে নিরাপদে টেনে বের করেন। এই সময়ে নিচে নিরাপত্তা জাল বসানো হয়।
উদ্ধারের পর তাকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, এবং চিকিৎসা চলছে। ভিডিওতে দেখা গেছে, তার পা গ্রিলে আটকে থাকলেও দমকল কর্মীদের তৎপরতায় তিনি নিরাপদে উদ্ধার হন।
মন্তব্য করুন


ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় একটি শিয়ালের কামড়ে নারী ও শিশুসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। সোমবার (১২ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার চর হরিরামপুর ইউনিয়নের পূর্ব চর শালেপুর গ্রামের আদার বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন—জিয়াসমিন (৫০), শেখ লোকমান (৪৩), দেলোয়ার খান (৩২), লুৎফর ব্যাপারী (৪২) এবং শিশু রবিউল (৭)। তারা সবাই পূর্ব চর শালেপুর গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে আহতরা চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত জিয়াসমিন জানান, বাড়ির পেছনে কাজ করার সময় হঠাৎ একটি শিয়াল তাকে কামড় দেয়। কিছুক্ষণ পর তার পাশে থাকা সাত বছর বয়সী ছেলে রবিউলের হাতেও কামড় দেয় শিয়ালটি। সন্তানকে বাঁচাতে গেলে শিয়ালটি শিশুটিকে ছেড়ে দিয়ে তার গলা ও মুখে কামড়ে ঝুলে থাকে। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে শিয়ালটি এলোপাতাড়ি কামড়াতে শুরু করে। পরে স্থানীয়রা শিয়ালটিকে পিটিয়ে হত্যা করে।
এ ঘটনায় আহত শেখ লোকমান বলেন, চিৎকার শুনে মা ও ছেলেকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে শিয়ালটি তার হাতের আঙুলের অগ্রভাগ কামড়ে ছিঁড়ে ফেলে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাফিজুর রহমান জানান, শিয়ালের কামড়ে আহত পাঁচজনকে হাসপাতালে এনে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রত্যেককে র্যাবিস ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে এবং ভর্তি রেখে চিকিৎসা চলছে।
তিনি আরও জানান, সোমবার হাসপাতালের মজুদে থাকা র্যাবিস ভ্যাকসিন শেষ হয়ে গেছে। এছাড়া অ্যান্টিভেনমেরও সংকট রয়েছে। প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন ও জীবনরক্ষাকারী ওষুধ সরবরাহের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন


ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের চালক আলমগীরের দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। আটক দুজন হলেন মো. মিলন ও হাবিবুর রহমান হাবিব।
আজ রোববার (১৪ ডিসেম্বর) ভোরে রাজধানীর অদূরে সাভারের হেমায়েতপুরের জাদুর চর এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গুলিবর্ষণের দিন বাইকচালক আলমগীরের সঙ্গে আটক দুই সহযোগীর মধ্যে ব্যাপক যোগাযোগ ছিল। ওই দিন আলমগীরের ফোন থেকে মিলনের নম্বরে ৭৪ বার এবং হাবিবের সঙ্গে ৫২ বার কথা বলার তথ্য পাওয়া গেছে, যা কিলিং মিশনের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এদিকে হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও শনাক্ত করেছে র্যাব। ওই মোটরসাইকেলের মালিক আব্দুল হান্নানকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। রোববার তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে ৫৪ ধারায় পল্টন থানায় হস্তান্তর করা হয়।
র্যাব-২ জানায়, আটক হান্নানের বাড়ি মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় হলেও তার স্থায়ী ঠিকানা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হান্নান একাধিকবার বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছেন। কখনো বলেছেন মোটরসাইকেল বিক্রি করেছেন, আবার কখনো বলেছেন সেটি গ্যারেজে ছিল—তবে কোনো দাবির পক্ষেই তিনি প্রমাণ দিতে পারেননি।
র্যাবের কর্মকর্তারা জানান, প্রযুক্তির সহায়তায় সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মোটরসাইকেলটির নম্বর (৫৪-৬৩৭৫) শনাক্ত করা হয় এবং বিআরটিএ থেকে যাচাই করে মালিকানা নিশ্চিত করা হয়। হান্নান হামলার প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদের পূর্বপরিচিত হলেও দীর্ঘদিন যোগাযোগ নেই বলে দাবি করেছেন। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, ফয়সাল তার ঘনিষ্ঠজন এবং জিজ্ঞাসাবাদে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাজধানীর পল্টনে বক্স কালভার্ট রোড দিয়ে রিকশায় যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলযোগে এসে শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। বর্তমানে তিনি একটি বেসরকারি হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মন্তব্য করুন


দেশের চলমান পরিস্থিতিতে জনসাধারণের
জান- মাল ও সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসমূহের সার্বিক নিরাপত্তা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি
নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিচার বহির্ভূত কর্মকাণ্ড রোধ ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে
দেশব্যাপী নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৬ অক্টোবর ২০২৪
(শনিবার) আনুমানিক রাত ১০টার দিকে মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে সেনাবাহিনীর ৪৬ স্বতন্ত্র
ব্রিগেড,র্যাব এবং পুলিশের সমন্বয়ে এই যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। এই অভিযানে সেনাবাহিনী,র্যাব
এবং পুলিশের একাধিক দল অংশগ্রহণ করে।
নিরাপত্তাহীনতায় নিমজ্জিত মোহাম্মদপুরবাসীর জীবনে স্বস্তি আনয়নের লক্ষ্যে যৌথ বাহিনীর এ অভিযান সুপরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হয়। এই অভিযানে মোহাম্মদপুর এলাকা হতে ৪৫ জন অপরাধী (০৯ টি দেশীয় ধারালো অস্ত্রসহ) গ্রেপ্তার হয়। ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাপ্রাপ্তির পর থেকে মোহাম্মদপুর, আদাবর এবং শের-ই-বাংলানগর থানাধীন ১৫২ জন অপরাধী, ১৮টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২৭১ রাউন্ড গোলাবারুদ, ১৭২ ধরনের বিভিন্ন দেশী বিদেশী অস্ত্র, ১টি গ্রেনেড এবং বিপুল পরিমাণ নেশাজাত দ্রব্য উদ্ধার হয়। সন্ত্রাস দমন এবং আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সেনাবাহিনীর কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারের পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদেরকে পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


দূরবর্তী দ্র দ্বীপ ক্রিসি থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে ভূমধ্যসাগরের জলসীমানায় প্রথমে একটি তুর্কি পণ্যবাহী জাহাজ বিপদে পড়া অভিবাসী নৌকাটিকে চোখে পড়ে। নৌকাটি অস্বাভাবিকভাবে দুলতে দেখে জাহাজের নাবিকরা পরিস্থিতি গুরুতর বলে বুঝতে পারেন এবং এক মুহূর্ত দেরি না করে সঙ্গে সঙ্গে গ্রীক উপকূলরক্ষীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাদের দ্রুত পদক্ষেপের ফলেই উদ্ধার অভিযান শুরু করা সম্ভব হয়।
পরে গ্রীক কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধারকৃত ব্যক্তিদের নিরাপদে ক্রিট দ্বীপে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যেখানে তাদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা ও সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। অনেকের শারীরিক অবস্থা দুর্বল থাকায় চিকিৎসক ও স্বেচ্ছাসেবকেরা জরুরি সেবা দিয়েছেন।
মন্তব্য করুন


রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে বইছে তীব্র তাপপ্রবাহ। প্রচণ্ড গরমে মানুষের নাভিশ্বাস অবস্হা ।
তীব্র তাপদাহে ইতোমধ্যে সারা দেশে বেশ কয়েকজনের হিট অ্যাটাকে মৃত্যুও হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিফ হিট অফিসার বুশরা আফরিন নগরবাসীকে ব্যাগে পানির বোতল, টুপি, ফ্যান, ছাতার মতো জিনিসপত্র রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
তীব্র তাপপ্রবাহের এই পরিস্হিতিতে সম্প্রতি গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই অবস্থা থেকে সবাইকে বাঁচানোর জন্য তারা নিয়মিত ‘হিট অ্যাওয়ারনেস ক্যাম্পেইন’ চালাচ্ছেন। চেষ্টা করে যাচ্ছেন কেন ঢাকায় তাপমাত্রা বাড়ছে তা খুঁজে বের করার। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যায়, সেটার চেষ্টা সম্পর্কে বুশরা জানান, তার মতে, ঢাকা এবং আশপাশের এলাকায় তাপমাত্রা কমাতে আরও বেশি গাছ লাগানো জরুরি।
তিনি বলেন, আমাদের এখানে রাস্তার ধারে ২ লাখ গাছ লাগানোর পরিকল্পনা করা হয়। শুধু গাছ লাগালেই হবে না, সেগুলোর উপযুক্তভাবে রক্ষণাবেক্ষণও করতে হবে। নগরে বনায়ন করা খুব জরুরি। এখানে যে ফাঁকা এবং পরিত্যক্ত জায়গাগুলো পড়ে আছে সেখানে সবুজায়ন করার দিকেও আমরা নজর দিয়েছি। আমাদের এখানে আরও অনেক পার্ক এবং সবুজে ঘেরা জায়গা দরকার। তাতে তাপমাত্রা যেমন কমবে, তেমনই পাখিসহ নানা প্রাণীও ফিরে আসবে।
হিট অফিসার আরো বলেন, ঢাকা শহরের প্রায় ৮০ শতাংশ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এর ফলে নানা রকম সমস্যার সঙ্গে বাড়ছে তাপমাত্রাও। দিন দিন বাড়তে থাকা জনসংখ্যার ঘনত্বের কারণে সংকটে পড়া ঢাকার তাপমাত্রা গ্রামাঞ্চলের চেয়ে বেশি হচ্ছে।
নগরের তাপমাত্রা কমাতে ঢাকায় বনাঞ্চল তৈরির পরিকল্পনার বিষয়ে বুশরা আফরিন বলেন, ঢাকায় তাপমাত্রা কমানোর জন্য আমরা ‘টু অ্যাবেল ফরেস্ট’ অর্থাৎ দুটি বন করার চেষ্টা করছি। একটা হচ্ছে মিরপুর কল্যাণপুরের দিকে; অন্যটি বনানীর এক্সপ্রেসওয়ের পাশে।
তিনি বলেন, এই বন দুটি যে শুধু নগরের হিট কমাবে তা নয় পাশাপাশি দূষণ প্রতিরোধেও সহায়তা করবে। একই সঙ্গে তীব্র তাপপ্রবাহ কমাতে শহরের ফাঁকা জায়গাগুলোতে গাছ লাগনো হবেও বলে জানান তিনি।
বুশরা বলেন, তীব্র তাপপ্রবাহে আমরা নিজেরা যদি সচেতন থাকি- আমরা যদি বাসা থেকে বের হওয়ার আগে আমাদের ব্যাগে একটা পানির বোতল, টুপি, ফ্যান, ছাতার মতো জিনিসপত্র সঙ্গে রাখি তাহলে কিন্তু অনেকটাই নিরাপত্তা পেতে পারি।
মন্তব্য করুন


জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮০তম অধিবেশনে
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের দায়িত্বশীল বৈশ্বিক
ভূমিকাকে আরও সুদৃঢ় করেছে। এতে গণতান্ত্রিক শাসন, মানবিক সংহতি ও গঠনমূলক আন্তর্জাতিক
সহযোগিতার প্রতি বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি নতুনভাবে প্রতিফলিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান
উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
আজ শুক্রবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে
পোস্ট করা এক বার্তায় তিনি প্রধান উপদেষ্টার ইউএনজিএ সফরের সাফল্যগুলো তুলে ধরেন।
প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, অধ্যাপক ড. ইউনূস গত
সপ্তাহে নিউইয়র্কে ইউএনজিএ-র উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলকে নেতৃত্ব
দেন। সেখানে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে উদ্দেশ করে বক্তব্য রাখেন, বিশ্বনেতাদের
সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন এবং গণতন্ত্র, মানবিক নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সহযোগিতা
নিয়ে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেন। ইউএনজিএ-র ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশে
গণতন্ত্র, স্বচ্ছতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থার প্রতি অটল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত
করেন। তিনি স্বাধীন, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করে বৈশ্বিক
মহলকে আশ্বস্ত করেন যে বাংলাদেশ জনগণ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের লালিত গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
রক্ষায় প্রস্তুত।
শফিকুল আলম আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সফরে
তিন রাজনৈতিক দলের ৬ প্রতিনিধি ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘এটাই প্রথমবার এমন একটি মর্যাদাপূর্ণ
প্রতিনিধিদল একসঙ্গে সফরে যোগ দিল। তারা কূটনীতিক, প্রবাসী নেতৃবৃন্দ ও ব্যবসায়ীদের
সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব যোগাযোগ বিশ্বের কাছে শক্তিশালী বার্তা পৌঁছে দিয়েছে যে গোটা
বাংলাদেশই গণতান্ত্রিক, স্বাধীন ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে একসঙ্গে এগোচ্ছে।’
বিশ্বনেতাদের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার কৌশলগত বৈঠক
প্রসঙ্গে আলম বলেন, অধ্যাপক ড. ইউনূস উচ্চপর্যায়ের একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন, যা
বাংলাদেশের বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব জোরদার ও যৌথ অগ্রাধিকারের প্রসারে ভূমিকা রাখে।
তিনি জানান, ইতালি, ফিনল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান,
অস্ট্রেলিয়া, আলবেনিয়া, কসোভো ও ভুটানের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে গণতান্ত্রিক শাসন, বাণিজ্য,
জলবায়ু সহনশীলতা ও মানব উন্নয়নের বিষয় গুরুত্ব পায়।
আলম আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টা জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও
গুতেরেস, ইউএনএইচসিআর প্রধান ফিলিপো গ্রান্ডি, ইউনিসেফ নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল,
জাতিসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি জেনারেল রাবাব ফাতিমা, বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা,
নেদারল্যান্ডসের রানি ম্যাক্সিমা এবং আইএমএফ ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভার
সঙ্গে বৈঠক করেন।
এছাড়া অধ্যাপক ড. ইউনূস মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড
ট্রাম্প আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নিয়ে শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। যুক্তরাষ্ট্রের
বিশেষ দূতের সঙ্গেও তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা হয়, যেখানে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও বহুপাক্ষিক
কূটনীতিতে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ভূমিকা উঠে আসে।
রোহিঙ্গা সংকটে মানবিক নেতৃত্ব প্রসঙ্গে আলম বলেন,
প্রধান উপদেষ্টার সফরের মূল বিষয় ছিল রোহিঙ্গা ইস্যু। সেখানে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া
এক মিলিয়নের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রতি অব্যাহত মানবিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি পাওয়া
যায়। জাতিসংঘ সংস্থা ও দাতা দেশগুলোর সঙ্গে বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা নিরাপদ, স্বেচ্ছায়
ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং সংকট যেন বৈশ্বিক মনোযোগ থেকে
হারিয়ে না যায় সে আহ্বান জানান। প্রেস সচিব জানান, এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য
থেকে রোহিঙ্গাদের সহায়তায় ৯৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রতিশ্রুতি আনতে সক্ষম হন।
শফিকুল আলম বলেন, জবাবদিহি ও উন্নয়নে সরকারের প্রতিশ্রুতি
তুলে ধরতে অধ্যাপক ইউনূস জাতিসংঘকে অনুরোধ জানান বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি)
থেকে উত্তরণের অগ্রগতির একটি স্বাধীন মূল্যায়ন পরিচালনা করতে। এ অনুরোধ ঢাকার অর্থনৈতিক
যাত্রাপথে আস্থা ও গঠনমূলক আন্তর্জাতিক মূল্যায়নের প্রতি উন্মুক্ততা প্রকাশ করে।
প্রেস সচিব জানান, ইউএনজিএ সফরে বিদেশে কর্মসংস্থান
ও শ্রমশক্তি রপ্তানির নতুন সুযোগও উন্মোচিত হয়। কসোভো, আলবেনিয়া ও ইউরোপের আরও কয়েকটি
দেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনায় বাংলাদেশের শ্রমিকদের জন্য শ্রমবাজার সম্প্রসারণের
বিষয়ে সম্ভাবনা খোঁজা হয়েছে। তিনি বলেন, এসব সুযোগ প্রবাসী আয় বাড়াতে ও নতুন অংশীদার
দেশের সঙ্গে জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার করতে সহায়ক হবে।
মন্তব্য করুন


আগামী ৩ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত
হতে যাচ্ছে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বাংলাদেশ অধিনায়ক
নিগার সুলতানা জ্যোতি ও ভারতের অধিনায়ক হারমানপ্রিত কৌরকে সামনে রেখে বিশ্বকাপের সূচি
প্রকাশ করে আইসিসি।
এনিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো নারী টি-টোয়েন্টি
বিশ্বকাপ আয়োজন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আর এবারের
আসরে দুটি গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে দশটি দল। এর আগে স্বাগতিক বাংলাদেশসহ ৮টি দল সরাসরি
বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে। বাকি দুটি দল উঠে আসবে চলমান বাছাইপর্ব থেকে।
স্বাগতিক বাংলাদেশ পড়েছে বি গ্রুপে।
যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও বাছাইপর্বের দ্বিতীয়
দল।
অপর গ্রুপে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, ভারত,
নিউজিল্যান্ড পাকিস্তান ও বাছাইপর্বের প্রথম দল।
১৯ দিনের এই আসরে দুটি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত
হবে মোট ২৩টি ম্যাচ। বাংলাদেশসহ গ্রুপ 'বি' এর সকল ম্যাচগুলো হবে ঢাকার শেরেবাংলা জাতীয়
স্টেডিয়ামে। গ্রুপ 'এ'- এর সবগুলো ম্যাচের ভেন্যু সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম। ২০
অক্টোবর ঢাকায় ফাইনালের মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে বিশ্বকাপের নবম আসরের। প্রথম সেমিফাইনালে
সিলেট ও দ্বিতীয় সেমিফাইনাল হবে ঢাকায়। নকআউট পর্বের প্রতিটি ম্যাচের জন্যই থাকবে রিজার্ভ
ডে।
আসরের প্রথম দিন বাছাইপর্ব থেকে আসা
দ্বিতীয় দলের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে
উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার ( ২২ জানুয়ারি ) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
মন্তব্য করুন


রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক
মানের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরিতে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস এন্ড সার্জনসকে (বিসিপিএস)
কার্যকরী ভূমিকা রাখার তাগিদ দিয়েছেন।
(২৪ জুন) সোমবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সাথে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস এন্ড
সার্জনস (বিসিপিএস)-এর নির্বাহী কমিটির একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করে।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন সাংবাদিকদের সাক্ষাৎ এর বিষয়টি নিয়ে
ব্রিফ করে ।
প্রেস সচিব জানান, বিসিপিএস এর কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি।
সাক্ষাতকালে বিসিপিএস-এর সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লা প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব
দেন। তিনি বিসিপিএস এর একাডেমিক কার্যক্রম ও ডিগ্রি প্রদানের সার্বিক প্রক্রিয়া রাষ্ট্রপতিকে
জানান।
বিসিপিএস এর কার্যকরী ভূমিকা রাখা নিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, চিকিৎসা মানুষের অন্যতম
মৌলিক অধিকার। তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের নতুন নতুন উদ্ভাবনের ফলে চিকিৎসা বিজ্ঞানেও
দ্রুত পরিবর্তন আসছে। তিনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরির ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার
পাশাপাশি হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়ার পদ্ধতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ারও তাগিদ দেন।
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, দেশে আন্তর্জাতিক মানের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরি
করা গেলে চিকিৎসা সেবার জন্য বিদেশমুখীতার প্রবণতা কমবে। পাশাপাশি মূল্যবান বৈদেশিক
মুদ্রাও সাশ্রয় হবে। জনগণও কম খরচে উন্নত চিকিৎসা সেবা পাবে।
অধ্যাপক সহিদুল্লা জানান, বিসিপিএস থেকে ইতোমধ্যে ৮ হাজার ৮১৫ জন চিকিৎসক ফেলাশিপ
(এফসিপিএস) এবং ৩ হাজার ৭৯১ জন চিকিৎসক মেম্বারশীপ (এমসিপিএস) লাভ করেছেন। বাঙালি জাতির
পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ৬ জুন রাষ্ট্রপতির আদেশ বলে যুক্তরাজ্যের
রয়েল কলেজগুলোর আদলে বিসিপিএস প্রতিষ্ঠা করেন।
এই কলেজ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য
ভূমিকা রাখছে।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন