

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীর আলমের নামে থাকা প্রায় দুই কোটি টাকার জমি ও ফ্ল্যাট জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তার স্ত্রী কামরুন নাহারের নামে থাকা সাতটি ব্যাংক হিসাব সাময়িকভাবে অবরুদ্ধ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পৃথক আবেদনের শুনানি শেষে মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ নির্দেশনা দেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন জানান, জাহাঙ্গীর আলমের নামে নোয়াখালীর সদর ও চাটখিল উপজেলায় মোট ৩৫ শতাংশ জমি রয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য এক কোটি ৩৩ লাখ ৭৪ হাজার ৭৪০ টাকা। পাশাপাশি ঢাকার মিরপুর এলাকায় অবস্থিত ১ হাজার ৩৮৫ বর্গফুট আয়তনের একটি ফ্ল্যাটও জব্দের আদেশ দেওয়া হয়েছে, যার মূল্য ধরা হয়েছে ৪১ লাখ ৮২ হাজার টাকা।
এ ছাড়া তার স্ত্রী কামরুন নাহারের নামে পরিচালিত সাতটি ব্যাংক হিসাবে মোট এক কোটি তিন লাখ ৫৩ হাজার ৩৬৯ টাকা জমা রয়েছে বলে আদালতকে জানানো হয়। এসব হিসাবও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।
জমি, ফ্ল্যাট জব্দ এবং ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আবেদন করেন দুদকের সহকারী পরিচালক পিয়াস পাল। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ১৮ কোটি ২৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি তার ব্যক্তি মালিকানাধীন ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ৬২৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকার সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়ায় দুদক তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে সম্পদ জব্দ প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে, কামরুন নাহারের বিরুদ্ধেও ছয় কোটি ৮০ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। তার নামে থাকা সঞ্চয়ী ও ডিপিএস মিলিয়ে সাতটি হিসাবে প্রায় পাঁচ কোটি ৯৬ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়ায় দুদক পৃথক মামলা দায়ের করেছে। এ কারণেই ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আবেদন করা হয়।
এর আগে ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে শেখ হাসিনা তার বাসায় কর্মরত এক পিয়নের অস্বাভাবিক সম্পদের কথা উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, ওই ব্যক্তি কয়েকশ কোটি টাকার মালিক হয়েছেন এবং তার জীবনযাপনে হেলিকপ্টার ব্যবহারের কথাও বলেন। যদিও সে সময় নাম প্রকাশ করা হয়নি, তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি আলোচনায় এলে জাহাঙ্গীর আলমের নাম সামনে আসে। পরবর্তী সময়ে তার ব্যাংক হিসাব স্থগিতের নির্দেশ দেওয়া হয়।
জাহাঙ্গীর আলম টানা দুই মেয়াদে শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিরোধী দলে থাকার সময়েও তিনি তার ব্যক্তিগত স্টাফ ছিলেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর জন্য বাসা থেকে খাবার ও পানি বহনের দায়িত্ব পালন করায় তিনি ‘পানি জাহাঙ্গীর’ নামেও পরিচিত ছিলেন। পরবর্তীতে নানা অভিযোগের মুখে তাকে ওই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম একসময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী হতে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেও দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন। তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী পরিচয় ব্যবহার করে তদবির ও প্রভাব খাটিয়ে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হন এবং নোয়াখালী ও ঢাকায় উল্লেখযোগ্য সম্পদ গড়ে তোলেন। এ প্রেক্ষাপটে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কোনো সম্পর্ক নেই।
জুলাইয়ের গণআন্দোলনের পর শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দুদক তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের ঘোষণা দেয়। মামলার আগে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জাহাঙ্গীর আলম একটি নিম্ন আয়ের পরিবারের সন্তান এবং একসময় জাতীয় সংসদ ভবনে দৈনিক মজুরিতে কাজ করতেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তার আর্থিক অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন ঘটে। সর্বশেষ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-১ (চাটখিল–সোনাইমুড়ী) আসনে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় দেওয়া হলফনামায় তিনি নিজের নামে প্রায় ২১ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তার স্ত্রী কামরুন নাহারের নামে প্রায় সাত কোটি ৩০ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য উল্লেখ করা হয়।
মন্তব্য করুন


প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেছেন, দেশের বিচার ব্যবস্থার মূল সমস্যা ৪ মিলিয়ন মামলার ভার। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আমরা রাউন্ড-ব্রেকিং টেকনোলজিকাল ইনোভেশন সিস্টেমের উপর ফোকাস করছি এবং মামলা নিষ্পত্তির জটিলতাগুলো সমাধানের চেষ্টা করছি।
সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট কর্তৃক ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স
অন জুডিশিয়ারি এক্রোস দ্যা বর্ডার্স (21st Century Challenges and
Experiences from the Himalayas and Beyond) শীর্ষক দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক
সম্মেলন হয়েছে ।
আন্তর্জাতিক সম্মেলনটির প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন
প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। তিনি এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।
সম্মেলনটির দ্বিতীয় দিনের প্রথম অধিবেশনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভুটানের হাইকোর্টের বিচারপতি লোবজাং রিনজিন ইয়ার্গে।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তৃতা করেন- আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন।
প্রধান বিচারপতি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে ভুটান ও নেপাল বাংলাদেশকে স্বাধীনতার স্বীকৃতিদানের ইতিহাস কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন এবং পিপলস জুডিসিয়ারি সম্পর্কে বলেন, পিপলস জুডিসিয়ারি ধারণাটি এমন একটি ধারণা, যা সংখ্যালঘুসহ সকল নাগরিকের সমান প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে এবং সংবিধান অনুযায়ী তাদের অধিকারগুলো রক্ষা করে।
প্রধান বিচারপতি বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার মূল সমস্যা উল্লেখ করে- তা থেকে উত্তরণের উপায় ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, বাংলাদেশের আদালত আজকে ৪ মিলিয়ন মামলার ভারে জর্জরিত। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আমরা রাউন্ড-ব্রেকিং টেকনোলজিকাল ইনোভেশন সিস্টেমের উপর ফোকাস করছি এবং মামলা নিষ্পত্তির জটিলতাগুলো সমাধানের চেষ্টা করছি।
প্রধান বিচারপতি বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা আধুনিকায়নে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। কক্সবাজারে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠায় জমি বরাদ্দের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, এই অধিবেশন দক্ষিণ এশিয়ার বিচার ব্যবস্থার জন্য একটি অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম- যা নিজেদের মধ্যে সংলাপে অন্তর্ভুক্ত হওয়া, ক্রস বর্ডার
ঐক্য গড়ে তোলা ও বৃহত্তর সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করবে।
এছাড়া বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সম্পর্কে বলতে গিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান
সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী এবং তা বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।
তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন আর তাই দেশে আজ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
ভুটানের হাইকোর্টের বিচারপতি লোবজাং রিনজিন ইয়ার্গে বলেন, ব্যক্তির মানবাধিকার রক্ষায় আইনের শাসনের খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি শক্তিশালী গণতন্ত্রের মূলভিত্তি।
তিনি বলেন, দুটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি- কেউ আইনের উর্ধ্বে নয় এবং সকলেই আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী। এটা বাস্তবায়ন করা না হলে, আইন ন্যায়বিচারের পরিবর্তে অবিচারের উৎস হয়ে উঠে। তিনি তার বক্তৃতায় ভুটানের বিচার ব্যবস্থার অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির এরূপ সম্মেলনের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, এই সম্মেলনের ফলে এই অঞ্চলের বিচারব্যবস্থার চ্যালেঞ্জগুলো শেয়ার করার মাধ্যমে তা উত্তরণে সহায়ক হবে।
সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- আপিল বিভাগ ও হাইকোর্টের বিচারপতিগণ, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি,
এটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, এটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের কর্মকর্তাগণ, সুপ্রিমকোর্ট
বার নেতৃবৃন্দ, সিনিয়র আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রির কর্মকর্তাবৃন্দ।
মন্তব্য করুন


বিভিন্ন
শ্রেণি-পেশার লাখো জনতার অংশগ্রহণে জুলাই বিপ্লবী ও আধিপত্যবাদবিরোধী ‘ইনকিলাব মঞ্চ’র
মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদির জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়েছে।
আজ
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এ জানাজা অনুষ্ঠিত
হয়। জানাজা পড়ান তার বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক।
জানাজায়
অংশ নেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন
আহমদ, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান,
জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, অন্তর্বর্তী সরকারের একাধিক উপদেষ্টাসহ
বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের জনতা।
এছাড়াও
জানাজায় ছিলেন শরিফ ওসমান হাদির পরিবারের সদস্য এবং তার সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা। জানাজার আগে সংসদ ভবন প্লাজার সামনের মাঠ কানায়
কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। অনেকেই সংসদ ভবনের মাঠে প্রবেশ করতে না পেরে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের
রাস্তায় দাঁড়িয়ে হাদির জানাজায় অংশ নেন। জানাজার
পর ওসমান হাদিকে দাফন করার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের
কবরের পাশে নিয়ে আসা হবে।
নজরুলের
পাশেই সমাহিত করা হবে জুলাই বিপ্লবী হাদিকে। জানাজার আগে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বক্তব্য
রাখেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও হাদির ভাই আবু বকর সিদ্দিক। আবু
বকর সিদ্দিক তার বক্তব্যে হাদির স্মৃতিচারণ করেন এবং তার জন্য দোয়া কামনা করেন। এসময়
সেখানে কান্নার রোল পড়ে যায়।
চব্বিশের
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা ওসমান হাদি পরে ‘ইনকিলাব মঞ্চ’
গড়ে তুলে ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে আলোচনায় আসেন। বিভিন্ন
টেলিভিশনের টক শোতেও নিয়মিত আমন্ত্রণ পেতে থাকেন তিনি। তার যুক্তিতর্কের অনেক ক্লিপ
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–৮
আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন।
তিনি
গত নভেম্বরে নিজের ফেসবুক পেজে বলেছিলেন, দেশি-বিদেশি অন্তত ৩০টি নম্বর থেকে তাকে ফোনকল
করে এবং মেসেজ পাঠিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ওই পোস্টে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের
‘খুনি’ ক্যাডাররা তাকে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখছে। তবে প্রাণনাশের
আশঙ্কা সত্ত্বেও ইনসাফের লড়াই থেকে পিছিয়ে যাবেন না তিনি।
১২
ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় প্রচারে যাওয়া
ওসমান হাদিকে গুলি করে মোটরসাইকেলে আসা দুই সন্ত্রাসী। রিকশায় থাকা হাদি মাথায় গুলিবিদ্ধ
হন। তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর তাকে
নেওয়া হয় এভারকেয়ার হাসপাতালে। অবস্থা গুরুতর দেখে সেখান থেকে হাদিকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে
যায় সরকার। চিকিৎসকদের সর্বাত্মক চেষ্টার পরও মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ে হেরে যান হাদি।
বৃহস্পতিবার রাতে তার মৃত্যুর খবর জানান চিকিৎসকরা।
ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল সন্দেহভাজন নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর শেখ। তারা ভারতে পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সূত্র।
মৃত্যুর
পর ১৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ওসমান হাদির লাশ বাংলাদেশে আনা হয়। সেখান থেকে লাশ জাতীয় হৃদরোগ
ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের হিমঘরে নেওয়া হয়।
হাদির
মৃতুতে আজ রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালন করা হচ্ছে। দেশের সব সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত
প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি ও বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে
জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রয়েছে।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর
নির্মাণাধীন ভবনের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে
৬ মাসের জন্য নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে ওয়াসা,
রাজউক এবং বিদ্যুৎ বিভাগ কোনো ধরনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না।
রিহ্যাব-এর
রিট পিটিশনের কারণে এ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। বিচারপতি সিকদার মাহমুদুর রাজি এবং
বিচারপতি রাজিউদ্দিন আহমেদ এ আদেশ দেন। সম্প্রতি আদালত এ আদেশ দেন।
রিহ্যাব-এর
পক্ষ থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্নের সম্ভাব্য ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরা হলে আদালত তা আমলে নেন।
ভবন তৈরির বা আংশিক তৈরি ভবনে বসবাসরত পরিবারগুলোর দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, পানি ও বিদ্যুতের
ওপর নির্ভরশীলতা এবং মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে আদালত এ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন।
আদালতের
আদেশে উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোকে আগামী ছয় মাস কোনো ধরনের বিদ্যুৎ লাইন,
পানির সংযোগ কিংবা অন্যান্য ইউটিলিটি সেবা বন্ধ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। একই সঙ্গে
বিষয়টি চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে বলা হয়েছে।
এ
আদেশের ফলে সংশ্লিষ্ট নির্মাণকৃত ভবনের মালিক বা ডেভেলপার তাৎক্ষণিক ভোগান্তি থেকে
রক্ষা পাবেন। বিশেষ করে পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে যে নানা সংকট তৈরি হয়,
আদালত তা বিবেচনায় রেখেছেন।
উল্লেখ্য,
বিগত কয়েক মাসে রাজউক, ডেসকো, ডিপিডিসি ও অন্যান্য বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির সহায়তায়
বিভিন্ন নির্মাণাধীন ও আংশিক সম্পন্ন ভবন থেকে প্রায় ১২০০টির বেশি বিদ্যুৎ মিটার বিচ্ছিন্ন
করা হয়। মূলত ডেভেলপারদের প্রকল্পে বিদ্যুৎ ও ইউটিলিটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় অনেক নির্মাণ
প্রকল্প কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে নির্মাণকাজ আটকে যায়, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট কর্মীরা
বেকার হয়ে পড়েন, ফ্ল্যাট হস্তান্তর প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং ডেভেলপারদের বড় ধরনের আর্থিক
ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।
একই
সঙ্গে ব্যাংক ঋণ পরিশোধ, গ্রাহকের সঙ্গে চুক্তি রক্ষা ও বিনিয়োগ স্থবিরতার মতো জটিলতা
তৈরি হয়, যা সামগ্রিকভাবে আবাসন খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এসব বাস্তব পরিস্থিতি
তুলে ধরেই রিহ্যাব আদালতের শরণাপন্ন হয়। রিহ্যাবের আবেদনের প্রেক্ষিতেই আদালত সংশ্লিষ্ট
কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এ অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
মন্তব্য করুন


স্বরাষ্ট্র
উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ
করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ. বিন আবিয়াহ।
বৃহস্পতিবার
(১৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার দফতরে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে
সৌদি আরবে বসবাসরত ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাদের (বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিক) বাংলাদেশি পাসপোর্ট
প্রদানের অগ্রগতি, জনশক্তি রফতানি ও পারস্পরিক ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি, বাংলাদেশের জাতীয়
নির্বাচনের প্রস্তুতি, সৌদি আরবে অনুষ্ঠিতব্য 'বিশ্ব প্রতিরক্ষা প্রদর্শনী'-তে বাংলাদেশের
অংশগ্রহণের আমন্ত্রণপত্র বিনিময়সহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা
করা হয়।
রাষ্ট্রদূতকে
স্বাগত জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরব ঘনিষ্ঠ বন্ধুপ্রতিম দেশ। তিনি বলেন,
সৌদি আরব বাংলাদেশি জনগণের হৃদয়ে এক বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। শুধু ইসলাম ধর্মের
পবিত্র ভূমি হিসেবে নয় বরং আমাদের ৩২ লক্ষেরও বেশি প্রবাসী কর্মীর দ্বিতীয় আবাসস্থল
হিসেবেও এটি বাংলাদেশিদের হৃদয়ের গভীরে আসীন রয়েছে। সৌদি প্রবাসীদের অবদান বাংলাদেশের
অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
উপদেষ্টা
এসময় বাংলাদেশ থেকে আরও অধিক হারে জনশক্তি আমদানির জন্য রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ করেন।
এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো জোরদার হবে
বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রাষ্ট্রদূত
উপদেষ্টাকে সৌদি আরবে বসবাসরত ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাদের (বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিক)
বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদানের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চান। এর জবাবে উপদেষ্টা বলেন,
এ বিষয়ে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন এবং বাংলাদেশের বহিরাগমন
ও পাসপোর্ট অধিদফতর এ বিষয়ে পুরোদমে কাজ করে যাচ্ছে। এটি ত্বরান্বিত করার জন্য স্বরাষ্ট্র
মন্ত্রণালয় থেকে কয়েকটি বিশেষ টিমও পাঠানো হয়েছে। তবে মিশনে আসা আবেদনের তুলনায় পাসপোর্টের
এনরোলমেন্টে উপস্থিতির হার অনেক কম রয়েছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে সৌদি আরবের
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে।
রাষ্ট্রদূত
জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন পরিচালনার
মূল দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের হাতে। আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মূল দায়িত্ব হচ্ছে
জাতীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা। আর আমরা এ বিষয়ে সম্পূর্ণ প্রস্তুত
রয়েছি। তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষ্যে প্রথমবারের মতো বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে
প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন
সংক্রান্ত একটি পরিপত্রও জারি করা হয়েছে। অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার অভিযান বেগবান
করা হয়েছে। 'ডেভিল হান্ট ফেইজ-২' সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযান চলছে।
রাষ্ট্রদূত
উপদেষ্টাকে আগামী ০৮-১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মেয়াদে সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব
প্রতিরক্ষা প্রদর্শনী-তে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান এবং এ সংক্রান্ত সৌদি স্বরাষ্ট্র
মন্ত্রণালয়ের একটি আমন্ত্রণপত্র উপদেষ্টার হাতে তুলে দেন। উপদেষ্টা বলেন, আগামী ১২
ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কারণে তিনি
এ ইভেন্টে অংশগ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং উপযুক্ত প্রতিনিধি প্রেরণের বিষয়টি নিশ্চিত
করেন।
বৈঠকে
আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ফয়সল
আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব মু. জসীম উদ্দিন খান।
মন্তব্য করুন


যা কিছুই ঘটুক না কেন, গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কাজে অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় সেনাপ্রধান তার কার্যালয়ে বসে রয়টার্সকে দেওয়া এক বিরল সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান।
তিনি জানিয়েছেন, আগামী ১৮ মাসের মধ্যে যেন নির্বাচন হতে পারে, সে জন্য তিনি যেকোনো পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন দেবেন।
আগস্টের শুরুতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পদত্যাগ করেন। পরে নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।
সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান রয়টার্সকে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর তার পূর্ণ সমর্থন আছে। সামরিক বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত করার একটি পথের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, আমি তাকে (মুহাম্মদ ইউনূস) সমর্থন করব। পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন। যেন তিনি তার কাজ সম্পন্ন করতে পারেন।
মুহাম্মদ ইউনূস দেশের বিচার বিভাগ, পুলিশ, আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের পথ প্রশস্ত করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় উত্তরণ হওয়া উচিত। তবে ধৈর্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি।
সেনাপ্রধান বলেন, যদি আপনি আমাকে জিজ্ঞেস করেন, আমি বলব, এ সময়ের মধ্যে আমাদের একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যাওয়া উচিত।
বাংলাদেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ এবং প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এর আগে আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতা নেওয়ার তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানায়।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সেনাপ্রধানের প্রতি সপ্তাহেই বৈঠক হচ্ছে। তাদের মধ্যে বেশ ভালো সম্পর্ক রয়েছে। অশান্ত পরিস্থিতির পর দেশকে স্থিতিশীল করতে সরকারের প্রচেষ্টায় সামরিক বাহিনীর সমর্থনের কথা উল্লেখ করেন সেনাপ্রধান।
তিনি বলেন, আমি নিশ্চিত, যদি আমরা একসঙ্গে কাজ করি, তবে ব্যর্থ হওয়ার কোনো কারণ নেই।
মন্তব্য করুন


আসন্ন নির্বাচন, রমজান মাস, গ্রীষ্ম ও বর্ষা মৌসুমে
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের অংশ হিসেবে কক্সবাজারের
বিভিন্ন এলাকায় টানা ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন
বোর্ড (বিউবো) কক্সবাজার বিতরণ বিভাগ এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ৩৩ ও ১১
কেভি ফিডার এলাকায় সিস্টেম উন্নয়ন কাজ, গাছের বর্ধিত শাখা-প্রশাখা কর্তন এবং আনুষঙ্গিক
মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
এ কারণে শুক্রবার(৩০ জানুয়ারি) সকাল ৭টা থেকে দুপুর
১২টা পর্যন্ত ১১ কেভি বিসিক ফিডারের আওতাধীন এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
আমাকে ভোট দিন, জয়ী হলে সবার বিয়ের ব্যবস্থা করব:
এমপি প্রার্থী আশা
বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকা এলাকাগুলো হলো, পাওয়ার হাউজ
থেকে মেরিন সিটি পর্যন্ত রাস্তার ডান পাশ, বিসিক এলাকা, র্যাব-১৫ কার্যালয়, গণস্বাস্থ্য
অফিস, সদরপাড়া, মুহুরিপাড়া, জানার ঘোনা, কাইম্মার ঘোনা, ফুটখালী, সরকারি কলেজ এলাকা
ও ইমাম মুসলিম রোড। এতে সাময়িক ভোগান্তির জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক দুঃখ
প্রকাশ করেছে বিউবো কর্তৃপক্ষ।
মন্তব্য করুন


গুরুতর
অসুস্থ মায়ের দেখাশোনার জন্য ছুটি না পাওয়ায় ছেড়ে দিয়েছেন চাকরি এক নারী কর্মী। ভারতের
একটি বেসরকারি ব্যাংকে এই ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম রেডিটে করা একটি পোস্টে
সেই কর্মী অফিসের ম্যানেজারের উপর একটি অভিযোগ তুলেছেন।
তিনি
লিখেছেন, ছুটি চাওয়ায় ম্যানেজার তাকে বলেন তার মা যদি ‘অসুস্থ হন, তাহলে তাকে কোনো
মেডিক্যাল বা শেল্টার হোমে রেখে অফিসে চলে আসুন।
ম্যানেজারের
এই মন্তব্য ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে, একই সঙ্গে করপোরেটের কঠিন কর্মপরিবেশ ও ব্যক্তিগত
জীবনের ‘ওয়ার্ক লাইফ ব্যালান্স’ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
পোস্টে
বলেন, ভুল ওষুধের কারণে তার মা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে, তিনি কয়েক দিনের ছুটি চেয়েছিলেন।
তবে বসের কথা অমান্য করে অফিসে না গিয়ে থাকে মায়ের পাশে থাকেন তিনি। তাই কম্পানিতে
তিনি বহু বছর কাজ করলেও ছুটি না দেওয়ায় তাকে পদত্যাগ পথ বেছে নিতে হয়। পোস্টে
তিনি আরও বলেন, এমন কর্মক্ষেত্রে ‘সঠিক’ প্রতিক্রিয়া আসলে কী হওয়া উচিত,
সেটাই বুঝতে পারছি না, সে জন্যই আমি এখানে পোস্ট করছি।
পোস্টটি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম রেডিটে দ্রুতই ছড়িয়ে পরে, ৬০০-এর বেশি আপভোট এবং অসংখ্য মন্তব্য,
সব মিলিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে করপোরেট সংস্কৃতি, ছুটি নীতি আর ওয়ার্ক লাইফ ব্যালান্স
আদৌ কতটা বাস্তব।
একজন
মন্তব্য করেন, এটা শুধু অসংবেদনশীল নয় বরং নিষ্ঠুরও। তার ভেতর দিয়ে কী কষ্ট গেছে,
আমি তা বুঝতে পারছি। এ ধরনের অমানবিক শোষণের বিরুদ্ধে আইনি সুরক্ষা থাকা উচিত।’
অন্য আরেকজন লেখেন, ‘এটা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক।
মন্তব্য করুন


আবহাওয়া অফিস ঢাকাসহ দেশের ৬ অঞ্চলের ওপর দিয়ে সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় ও বজ্রসহ বৃষ্টির আশঙ্কা করছে ।
আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাজশাহী, পাবনা, ঢাকা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর এবং মাদারীপুর জেলার ওপর দিয়ে পশ্চিম
অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
রোববার (১৪ এপ্রিল) রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেয়া এক পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।তাই এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এদিকে আবহাওয়া অফিসের অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পশ্চিমা লঘুচাপের বাড়তি অংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তার কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করছে।মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।
এ অবস্থায় সোমবার (১৫ এপ্রিল) দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝড়বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টিও হতে পারে।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশের
সীমান্তে ঢুকে জলজ্যান্ত একটি ছাগল নিয়ে পালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ।
ভারতীয় চোরা চালানকারী ও কৃষকদের চৌর্যবৃত্তি সহায়ক হিসেবে কাজ করে বিএসফ। তবে এবার
তাদের সরাসরি ছাগল চুরির ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যা এখন দেশজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, হেলমেট পরিহিত অবস্থায় সীমান্তের
গেট পেরিয়ে লাঠি হাতে একটি কালো ছাগলকে ধাওয়া করছেন দুই বিএসএফ জওয়ান।
ভিডিওতে
দেখা গেছে, হেলমেট পরিহিত ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর দুই জওয়ান বাংলাদেশ
সীমান্ত পেরিয়ে লাঠি হাতে একটি কালো ছাগলকে ধরার চেষ্টা করছে। ছাগলটি পালাতে চেষ্টা
করছে,কিন্তু বিএসএফের জওয়ানরা তাকে থামানোর জন্য লাঠি ব্যবহার করছেন। ছাগলটি ধরার
পর তারা ছাগলটিকে সীমানার ওপারে নিয়ে যান।
ভিডিওটি
ধারণ করা হয়েছে দূর থেকে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনার পর নেটিজেনদের
মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
ভারত-বাংলাদেশ
সীমান্তে এমন ঘটনা অপ্রত্যাশিত হলেও ভারতীয় বাহিনী তা হরহামেশাই করছে। সীমান্তে বাংলাদেশীদের
হত্যার করার মাধ্যমে শূন্য সীমান্তে লুটতরাজ করতে চায় ভারত। এদিকে, সীমান্তে সাধারণভাবে
পশুপালন এবং সীমানা পারাপারের বিষয়ে নিয়মকানুন কঠোর। এমনকি সাধারণ ছাগলও দেশের সীমান্ত
অতিক্রম করলে তা নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অনেকে এই ভিডিও দেখে প্রশ্ন তুলেছেন,
বিএসএফের এমন আচরণ কতটুকু গ্রহণযোগ্য এবং আন্তর্জাতিক প্রটোকলের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ।
মন্তব্য করুন


কলম্বিয়ার উত্তরে যাত্রীবাহী একটি বিমান বিধ্বস্ত
হয়ে ক্রু ও যাত্রীসহ বিমানে থাকা ১৫ জনের সবাই নিহত হয়েছেন। ভেনেজুয়েলা সীমান্তের
কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা সাতেনা নিশ্চিত করেছে।
খবর বিবিসির।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে সংস্থাটি
জানায়, তাদের একটি বিচক্র্যাফট ১৯০০ মডেলের প্লেন ‘গুরুতর দুর্ঘটনার’ শিকার হয়েছে।
তবে প্রাথমিকভাবে এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য জানানো হয়নি। পরে একটি পাহাড়ি
এলাকায় বিমানটির ধ্বংসাবশেষের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
সরকারি যাত্রী তালিকা অনুযায়ী, বিমানে কলম্বিয়ার
আইনপ্রণেতা দিয়োজেনেস কুইন্তেরো আমায়া এবং আসন্ন কংগ্রেস নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থী
কার্লোস সালসেদোও ছিলেন।
সাতেনা জানায়, বুধবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫
মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময় ১৭টা ৫ মিনিট) ভেনেজুয়েলা সীমান্তবর্তী শহর ওকানিয়ায় অবতরণের
কথা থাকলেও তার ১১ মিনিট আগে বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
বিমান সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এনএসই ৮৮৪৯ নম্বর ফ্লাইটটি
কুকুতা শহর থেকে উড্ডয়ন করেছিল। কুকুতা শহরটি ওকানিয়া থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার
(৬২ মাইল) উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। বিমানে ১৩ জন যাত্রী ও দুইজন ক্রু সদস্য ছিলেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সেমানা-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে
নর্তে দে সান্তান্দের প্রদেশের গভর্নর উইলিয়াম ভিয়ামিজার জানান, এখন পর্যন্ত সাতটি
লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
যে এলাকায় বিমানটি নিখোঁজ হয়েছিল, সেখানে কলম্বিয়ার
ইএলএন গেরিলা গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চল রয়েছে। ওই এলাকায় অনুসন্ধান ও উদ্ধার
কার্যক্রমে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী সহায়তা করছে। এদিকে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো
পেত্রো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শোক প্রকাশ করে বলেন, এ ঘটনায় তিনি গভীরভাবে শোকাহত।
মন্তব্য করুন