

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীর আলমের নামে থাকা প্রায় দুই কোটি টাকার জমি ও ফ্ল্যাট জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তার স্ত্রী কামরুন নাহারের নামে থাকা সাতটি ব্যাংক হিসাব সাময়িকভাবে অবরুদ্ধ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পৃথক আবেদনের শুনানি শেষে মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ নির্দেশনা দেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন জানান, জাহাঙ্গীর আলমের নামে নোয়াখালীর সদর ও চাটখিল উপজেলায় মোট ৩৫ শতাংশ জমি রয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য এক কোটি ৩৩ লাখ ৭৪ হাজার ৭৪০ টাকা। পাশাপাশি ঢাকার মিরপুর এলাকায় অবস্থিত ১ হাজার ৩৮৫ বর্গফুট আয়তনের একটি ফ্ল্যাটও জব্দের আদেশ দেওয়া হয়েছে, যার মূল্য ধরা হয়েছে ৪১ লাখ ৮২ হাজার টাকা।
এ ছাড়া তার স্ত্রী কামরুন নাহারের নামে পরিচালিত সাতটি ব্যাংক হিসাবে মোট এক কোটি তিন লাখ ৫৩ হাজার ৩৬৯ টাকা জমা রয়েছে বলে আদালতকে জানানো হয়। এসব হিসাবও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।
জমি, ফ্ল্যাট জব্দ এবং ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আবেদন করেন দুদকের সহকারী পরিচালক পিয়াস পাল। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ১৮ কোটি ২৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি তার ব্যক্তি মালিকানাধীন ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ৬২৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকার সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়ায় দুদক তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে সম্পদ জব্দ প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে, কামরুন নাহারের বিরুদ্ধেও ছয় কোটি ৮০ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। তার নামে থাকা সঞ্চয়ী ও ডিপিএস মিলিয়ে সাতটি হিসাবে প্রায় পাঁচ কোটি ৯৬ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়ায় দুদক পৃথক মামলা দায়ের করেছে। এ কারণেই ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আবেদন করা হয়।
এর আগে ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে শেখ হাসিনা তার বাসায় কর্মরত এক পিয়নের অস্বাভাবিক সম্পদের কথা উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, ওই ব্যক্তি কয়েকশ কোটি টাকার মালিক হয়েছেন এবং তার জীবনযাপনে হেলিকপ্টার ব্যবহারের কথাও বলেন। যদিও সে সময় নাম প্রকাশ করা হয়নি, তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি আলোচনায় এলে জাহাঙ্গীর আলমের নাম সামনে আসে। পরবর্তী সময়ে তার ব্যাংক হিসাব স্থগিতের নির্দেশ দেওয়া হয়।
জাহাঙ্গীর আলম টানা দুই মেয়াদে শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিরোধী দলে থাকার সময়েও তিনি তার ব্যক্তিগত স্টাফ ছিলেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর জন্য বাসা থেকে খাবার ও পানি বহনের দায়িত্ব পালন করায় তিনি ‘পানি জাহাঙ্গীর’ নামেও পরিচিত ছিলেন। পরবর্তীতে নানা অভিযোগের মুখে তাকে ওই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম একসময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী হতে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেও দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন। তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী পরিচয় ব্যবহার করে তদবির ও প্রভাব খাটিয়ে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হন এবং নোয়াখালী ও ঢাকায় উল্লেখযোগ্য সম্পদ গড়ে তোলেন। এ প্রেক্ষাপটে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কোনো সম্পর্ক নেই।
জুলাইয়ের গণআন্দোলনের পর শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দুদক তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের ঘোষণা দেয়। মামলার আগে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জাহাঙ্গীর আলম একটি নিম্ন আয়ের পরিবারের সন্তান এবং একসময় জাতীয় সংসদ ভবনে দৈনিক মজুরিতে কাজ করতেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তার আর্থিক অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন ঘটে। সর্বশেষ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-১ (চাটখিল–সোনাইমুড়ী) আসনে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় দেওয়া হলফনামায় তিনি নিজের নামে প্রায় ২১ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তার স্ত্রী কামরুন নাহারের নামে প্রায় সাত কোটি ৩০ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য উল্লেখ করা হয়।
মন্তব্য করুন


ঝিনাইদহে
নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত থাকায় নিজের ছেলেকে ত্যাজ্য ঘোষণা করেছেন এক
বাবা। গত সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে
হলফনামার মাধ্যমে এ ঘোষণা দেন মো. আবু জাফর।
হলফনামা
সূত্রে জানা যায়, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পোড়াহাটী ইউনিয়নের আড়ুয়াকান্দী গ্রামের ব্যবসায়ী
মো. আবু জাফর তার ছেলে মো. নাহিদ হাসান সবুজকে ত্যাজ্যপুত্র হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
অভিযুক্ত
নাহিদ হাসান সবুজ ঝিনাইদহ সরকারি কেসি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে
দায়িত্ব পালন করছেন।
হলফনামায়
মো. আবু জাফর উল্লেখ করেন, তার পুত্র দীর্ঘদিন ধরে তার অবাধ্য এবং অবান্তর জীবনযাপন
করে আসছিলেন। তিনি বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করেন না এবং নিজের খেয়ালখুশিমতো আলাদা
থাকেন।
তিনি
আরো উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময় ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করা সত্ত্বেও
নাহিদ হাসান এই সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রমে লিপ্ত ছিলেন। বিশেষ করে গত ২১ ফেব্রুয়ারি
ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের কার্যক্রম পুনরায় চালু করার প্রক্রিয়ায় সবুজের
সক্রিয় অংশগ্রহণের সংবাদ পাওয়ার পর তাকে নিজ বাড়ি থেকে বিতাড়িত করেন আবু জাফর।
হলফনামায়
স্পষ্ট বলা হয়েছে, আজ থেকে নাহিদ হাসান সবুজের কোনো প্রকার আয়-রোজগার, দায়-দেনা বা
কর্মকাণ্ডের সঙ্গে পিতা বা তার পরিবারের অন্য কোনো সদস্যের সম্পর্ক থাকবে না। তার কোনো
অপকর্মের দায়ভার পরিবার বহন করবে না। ভবিষ্যতে তার সঙ্গে পরিবারের সকল প্রকার রক্ত
সম্পর্কীয় ও আইনি বিচ্ছেদ বজায় থাকবে।
আবু
জাফর বলেন, ‘দেশের আইন ও নীতিমালার পরিপন্থী কোনো কাজ আমার সন্তান করুক তা আমি চাই
না।
বারবার
সতর্ক করার পরও সে শোধরায়নি, তাই বাধ্য হয়ে আমি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
মন্তব্য করুন


আগামীকাল মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল)
থেকে শুরু হচ্ছে চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফরম পূরণ
যা চলবে আগামী ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত।
ফরম পূরণ এর ফি নিয়ে শিক্ষা
বোর্ডগুলো বলছে, এবার বিজ্ঞান শাখার পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণের ফি ২ হাজার ৬৮০ টাকা
নির্ধারণ এবং মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার জন্য ফি ২ হাজার ১২০ টাকা।
তবে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা
শাখার কোনো পরীক্ষার্থীর চতুর্থ বিষয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষা থাকলে নির্ধারিত ফি এর সঙ্গে
অতিরিক্ত ১৪০ টাকা যুক্ত হবে। আর নৈর্বাচনিক বিষয়ে ব্যবহারিক থাকলে বিষয়প্রতি আরও ১৪০
টাকা যোগ করা হবে।
এ ছাড়া অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের
ক্ষেত্রে শিক্ষা বোর্ডগুলো বলছে পরীক্ষার্থী প্রতি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ টাকা
। জিপিএ উন্নয়ন ও প্রাইভেট পরীক্ষার্থীদের জন্য ১০০ টাকা তালিকাভুক্তি ফি নির্ধারণ
করা হয়েছে। রেজিস্ট্রেশন নবায়ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫০ টাকা। আর বিলম্ব ফি নির্ধারণ
করা হয়েছে ১০০ টাকা।
তবে কোন শিক্ষার্থী ২৫ তারিখের
মধ্যে ফর্ম পূরণ করতে না পারলে নির্ধারিত সময়ের পর বিলম্ব ফি দিয়ে ২৯ এপ্রিল থেকে ২
মে পর্যন্ত ফরম পূরণ করতে পারবে ।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের এইচএসসি
ও সমমানের পরীক্ষা আগামী ২০ জুন হতে শুরু হবে।
মন্তব্য করুন


মার্কিন
অভিনেতা ও চিত্রনাট্যকার জেরেমি ও. হ্যারিসকে মাদকসহ জাপানের ওকিনাওয়ার নাহা আন্তর্জাতিক
বিমানবন্দর থেকে আটক করেছে দেশটির শুল্ক বিভাগ। গত ১৬ নভেম্বর যুক্তরাজ্য থেকে জাপানে
পৌঁছানোর পর কাস্টমস কর্মকর্তারা তার লাগেজ তল্লাশি করে মাদক পাওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার
করেন। বিষয়টি জাপানের ওকিনাওয়া আঞ্চলিক শুল্ক দপ্তরের এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন।
আন্তর্জাতিক
সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, জাপানের শুল্ক এজেন্টরা হ্যারিসের ব্যাগ থেকে
এক গ্রামের কম এমডিএমএ মাদক খুঁজে পান। মাদক বহনের অভিযোগে ৩৬ বছর বয়সি এ অভিনেতা প্রায়
তিন সপ্তাহ ধরে জাপানের পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।
জানা
গেছে, হ্যারিস ব্যক্তিগত কাজে জাপানে আসছিলেন। তিনি যুক্তরাজ্য থেকে যাত্রা শুরু করে
তাইওয়ানে যাত্রা বিরতি দিয়ে জাপানে পৌঁছান।
টমিগুসুকু
থানার একজন পুলিশ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, গ্রেপ্তারের পর থেকে হ্যারিসকে হেফাজতে
রাখা হয়েছে। তবে অভিনেতার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ স্বীকার করেছেন কি না, সে বিষয়ে কোনো
মন্তব্য করতে রাজি হয়নি এই পুলিশ। বৃহস্পতিবার শুল্ক কর্মকর্তারা অভিযোগ দায়ের করেছেন।
উন্নত
দেশগুলোর মধ্যে জাপানে মাদক আইন সবচেয়ে কঠোর। সামান্য পরিমাণ মাদক বহন বা পাচারের
অভিযোগে দীর্ঘদিন কারাদণ্ডসহ কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়। মাদকের প্রতি জিরো-টলারেন্স নীতির
কারণে অতীতেও অনেক বিদেশি নাগরিককে কারাগারে থাকতে হয়েছে।
মন্তব্য করুন


নিজের
জীবন বাজি রেখে ১৩ জনকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করেন ২২ বছর বয়সী হাসান আহমেদ আল গাজ্জার।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজেই প্রাণ হারালেন। মিশরের সিনাই অঞ্চলের মেনিয়েল দোয়েইব গ্রামের
এই যুবকের অমর বীরত্ব দেশজুড়ে মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।
স্থানীয়
গণমাধ্যমের বরাতে গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের বহনকারী
একটি মিনিবাসের টায়ার বিস্ফোরণের পর সড়ক থেকে ছিটকে নদীতে পড়ে যায়। ঘটনাটি সামনে থেকে
দেখা মাত্রই হাসান ছুটে যান। যদিও তিনি সাঁতার জানতেন না, তবুও বিন্দুমাত্র দ্বিধা
না করে পানিতে ঝাঁপ দেন। ডুবে থাকা মিনিবাসের পেছনের দরজা ভেঙে তিনি একে একে সব ১৩
ছাত্রীকে নিরাপদে তুলে আনেন। কিন্তু অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম আর মানসিক চাপের পর তিনি
আর ভেসে থাকতে পারেননি। ক্লান্তির কাছে পর্যদস্ত হয়ে নিজেই নদীতে তলিয়ে যান এবং মারা
যান। ঘটনাটি বেদনাদায়ক হলেও মহৎ সমাপ্তি নিয়ে হাসানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন মিশরবাসী।
হাসান
জীবিকার সন্ধানে সিনাই এলাকায় গিয়েছিলেন। তার ঘরে রয়েছে স্ত্রী ও তিনটি কন্যাশিশু-যাদের
ভবিষ্যৎ আজ অনিশ্চয়তায় ঘেরা। শোকে ভেঙে পড়া বাবা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমার ছেলে একজন
নায়ক হয়ে মরেছে। আমি তার জন্য গর্বিত।’ তিনি জানান, মাত্র দুই দিন পরই ছিল
হাসানের জন্মদিন। ছেলের জন্য কেক কিনে তাকে দেখতে যাওয়ার পথে তিনি পেয়েছিলেন মৃত্যুসংবাদ।
এ দুর্ঘটনার আগে হাসান পরিবারের সঙ্গে করা শেষ ফোনকলে মায়ের সঙ্গে দেখার ইচ্ছা জানিয়েছিলেন-যা
এখন শোকের ভার আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।হাসানের পরিবার সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছে, যেন তার
স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা হয় এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে হাসানকে সম্মানিত
করা হয়। পরিবারের ভাষায়, ‘অনেক পরিবারের কান্না থামিয়ে দিয়েছে হাসান। অন্তত তার মেয়েদের
ভবিষ্যৎ যেন সুরক্ষিত হয়।’
সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে হাজারো মানুষ হাসানকে জাতীয় বীর, শহিদ এবং রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত করার
দাবি তুলেছেন। তারা লিখছেন-তার আত্মদান শুধু ১৩টি প্রাণই নয়, অসংখ্য পরিবারকে অশ্রুশোক
থেকে রক্ষা করেছে। সাহস, আত্মদান আর মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রইল হাসান আহমেদ
আল গাজ্জারের নাম।
মন্তব্য করুন


শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আজ (১৪
ডিসেম্বর) ভোরে রাজধানীর মিরপুরে শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের
প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধান উপদেষ্টা
ড. মুহাম্মদ ইউনূস শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
আজ সকাল ৭টায় প্রথমে রাষ্ট্রপতি মো.
সাহাবুদ্দিন এবং পরে প্রধান উপদেষ্টা সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা
নিবেদন শেষে তারা সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।
এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল
রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানকে রাষ্ট্রীয় সালাম জানায়।
এ সময় বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।
দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর
বাঙালি জাতির চূড়ান্ত বিজয়ের মাত্র দুই দিন আগে ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর দখলদার পাকিস্তানি
বাহিনী ও তাদের এই দেশীয় দোসররা জাতিকে মেধা শূন্য করতে এই দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের
হত্যা করে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি;
কুমিলায় আলাউদ্দিন নামে এক ট্রাক চালককে হত্যা করে চল্লিশ লাখ টাকার চিনি ছিনতাই করে নিয়েছে সঙ্গবদ্ধ ছিনতাই কারীদের একটি দল। এ ঘটনায় জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশে জেলার ডিবির ওসি শামসুল আলম শাহ-র নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের একটি দল ফেনী, নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৫ ছিনতাই কারী কে গ্রেফতার করেছে।
সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) রাতে জেলা ডিবি পুলিশের এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। জেলা গোয়েন্দা শাখা ডিবির ওসি সামসুল আলম শাহ জানান, চট্টগ্রামের বন্দর এলাকা থেকে আকিজ কোম্পানির ৪০ লাখ টাকা মূল্যের ২৭ মেট্রিক টন চিনি (চট্ট- মেট্রো - শ-১১-০৬৫৫) ট্রাকে বোঝাই করে চালক আলাউদ্দিন (৩১) গত ১৫ জানুয়ারি গাজীপুরের উদ্দেশ্যে রওনা করেন। ১৭ জানুয়ারি খালি গাড়িসহ চালক আলাউদ্দিনের লাশ কুমিল্লার মনোহরঞ্জ থানার কুমিল্লা -নোয়াখালী আঞ্চলিক সড়কের বিপুলা সারের বড় কাছি এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।হত্যাকাণ্ডের শিকার চালক আলাউদ্দিন ভোলা জেলার লালমোহন থানার রায়চাঁদ গ্রামের পলান মিয়ার ছেলে।
এ ঘটনায় গাড়ির মালিক নাজমুল হোসেন (২৯) বাদী হয়ে গত ১৯ জানুয়ারি মনোহরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশে থানা পুলিশের পাশাপাশি জেলা ডিবি পুলিশ ও মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। ডিবির ওসি শামসুল আলম শাহ-র পুলিশের একটি দল গত দুদিন ধরে ফেনী, নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। এসময় পুলিশ ছিনতাইকারি চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করে। পুলিশ ছিনতাইকারীদের লুন্ঠিত প্রতি বস্তায় ৫০ কেজি করে ৯৯ বস্তা চিনি উদ্ধার করে।
গ্রেফতারকৃত ছিনতাইকারী হচ্ছে - নোয়াখালীর সুধারাম থানার ধর্মপুর গ্রামের নূর হোসেন মুন্না (২৮), চট্টগ্রামের ভুজপুর থানার হারুয়ালছড়ি গ্রামের মিন্টু বড়ুয়া (৩৬),কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আল করা গ্রামের শাহাদাত হোসেন রকি (২৬), একই থানার বসন্তপুর গ্রামের মোহাম্মদ বাবলু (৩৯) ও ফেনীর সদর থানার ইজ্জতপুর গ্রামের আমিনুল ইসলাম (৫৫)। গ্রেফতারকৃতদেরকে সোমবার আদালতের মাধ্যমে জেলাজতে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী
সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের
অন্যতম সংগঠক মাহফুজ আলম বলেছেন, আমাদের
অনিরাপদ করলে বাংলাদেশে ভারত
ও ভিনদেশের স্বার্থ রক্ষাকারীদের নিরাপদে থাকতে দেওয়া হবে না।
আজ সোমবার
(১৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বদলীয়
প্রতিরোধ সমাবেশে তিনি এই কথা
বলেন।
মাহফুজ
আলম বলেন, আমাদের হাতে যখন মুজিববাদী,
১৪ দলীয় সন্ত্রাসীদের প্রত্যেকের
বাড়ি চুরমার করে দেওয়ার ক্ষমতা
ছিল, তখন আমরা নিজেদের
সংবরণ করার কারণে আজ
তারা এটি করার সাহস
করেছে। ক্ষমা করে যদি ভুল
করে থাকি, তাহলে আমরা প্রতিজ্ঞা নেব,
আর ক্ষমা করবো না।
তিনি
বলেন, দেশের ভেতরের রাজনৈতিক লড়াই কেউ কেউ
দেশের বাইরে নিয়ে গেছে, তাদের
হুঁশিয়ার করতে চাই, মুক্তির
লড়াইও কিন্তু দেশের বাইরে যাবে।
মাহফুজ বলেন, আমাদের গায়ে হাত দেওয়া যাবে না। একটা লাশ পড়লে আমরা কিন্তু লাশ নেব। কোনো সুশীলতা করে লাভ নেই। অনেক ধৈর্য হয়েছে। অনেক রিকনসিলিয়েশন, অনেক কথা বলেছি। আমরা বলেছি, আইসিটি ট্রাইব্যুনালে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিচার করুন। কিন্তু একদিকে বিচার চলছে, অন্যদিকে আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে ভারত পালিয়ে আশ্রয় নেবেন, ভারত থেকে সন্ত্রাস করবেন, ভাইয়ের ওপর গুলি চালাবেন, আমরা এটা বরদাশত করব না।
বাংলাদেশে ভারতের এবং ভিনদেশিদের স্বার্থ যারা রক্ষা করবে, তাদের নিরাপদে থাকতে দেওয়া হবে না। আমরা যদি নিরাপদ না থাকি, এই দেশে আমাদের শত্রুরাও নিরাপদ থাকতে পারবে না।
মন্তব্য করুন


জুলাই সনদ স্বাক্ষরের দিন পুলিশের সঙ্গে জুলাই যোদ্ধাদের সংঘর্ষের ঘটনায় ৪টি মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে রিমন চন্দ্র বর্মন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার মধ্যরাতে রাজধানীর শেরেবাংলা থানায় পুলিশ বাদী হয়ে এসব মামলা করেন।
আজ শনিবার (১৮ অক্টোবর) সকালে মামলা ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরেবাংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) “ইমাউল হক”। তিনি কালবেলাকে বলেন, গতকালের ঘটনায় মোট (৪টি) মামলা হয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো সংরক্ষিত এলাকায় জোরপূর্বক প্রবেশের মামলা। অপরগুলো হলো পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর ও কন্ট্রোল রুম পোড়ানোর মামলা।
গতকাল শুক্রবার জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জুলাই যোদ্ধাদের একাংশ জুলাই যোদ্ধাদের স্বীকৃতি, শহীদ ও আহতদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত, সুরক্ষা আইন ও তাদের দায়মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে এই তিন দফা দাবি নিয়ে উপস্থিত হয়। একপর্যায়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই কয়েক শত জুলাই যোদ্ধা গেট ভেঙে সনদ স্বাক্ষরের অনুষ্ঠানস্থল সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার ভেতরে ঢুকে যায়। প্রধান উপদেষ্টা অনুষ্ঠানটিতে উপস্থিত হবে এ জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের সেখান থেকে বেরিয়ে যেতে অনুরোধ করে পুলিশ। তবে পুলিশের অনুরোধে কাজ না হওয়ায় লাঠিপেটা করে বের করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে জুলাই যোদ্ধা ও পুলিশ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে পুলিশ সদস্যদের মারধর, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর ও কন্ট্রোল রুমে অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ জুলাই যোদ্ধারা৷ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিপেটা, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে পুলিশের অন্তত ১০ জন ও জুলাই যোদ্ধাদের ৩০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে৷
এই সংঘর্ষের ঘটনাকে পুলিশি হামলা উল্লেখ করে গতকালই প্রতিবাদ জানিয়েছে জুলাই যোদ্ধা সংসদ নামে একটি সংগঠন। এ ছাড়া তিন দফা দাবি বাস্তবায়নসহ হামলার প্রতিবাদে আগামীকাল রোববার (১৯ অক্টোবর) সারা দেশের সড়ক ও মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি দিয়েছে সংগঠনটি।
মন্তব্য করুন


আন্তর্জাতিক
শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতে বিভিন্ন দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ সনদের
জালিয়াতি ও ভুয়া সনদের ব্যবহার রোধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা
প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।
আজ
রবিবার (০৮ ফেব্রুয়ারি) তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় দক্ষতা
উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) গভর্নিং বডির সভায় প্রধান উপদেষ্টা এই নির্দেশনা দেন।
২০১৮
সালে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এটি ছিল গভর্নিং বডির দ্বিতীয় সভা।
এর আগে ২০২২ সালে গভর্নিং বডির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে
সভাপতির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার
ভিত্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এনএসডিএ খুবই ভালো ফ্রেমওয়ার্ক। আন্তর্জাতিক
বাজারে বাংলাদেশের শ্রমশক্তির চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এটি আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে
উঠবে।’
প্রধান
উপদেষ্টা বলেন, ‘বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের শ্রমশক্তির চাহিদা অনেক। কিন্ত দক্ষতা প্রশিক্ষণের
সনদ জালিয়াতি ও প্রতারণার জন্য আমাদের কর্মীদের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। ’
চাকরিদাতারা যদি আস্থা হারিয়ে ফেলে তাহলে দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগগুলো বিফল হবে উল্লেখ
করে তিনি বলেন, ‘এসব জালিয়াতি বন্ধ করতে হবে।’ দেশের ব্র্যান্ড ইমেজ তৈরির ওপর জোর
দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘চাকরিদাতারা যেন বলেন যে বাংলাদেশ থেকে যেসব কর্মী এসেছে,
নিশ্চয়ই তারা ভালো করবে।’
প্রধান
উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করে বলেন, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সব প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে
একটি অভিন্ন মানের সনদ ব্যবস্থা চালুর যে উদ্যোগ নিয়েছে তা এ ধরনের জালিয়াতি রোধে গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা রাখবে। প্রধান উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘আমাদের তরুণ প্রজন্ম অনেক সৃজনশীল এবং সম্ভাবনাময়।
আমাদের দায়িত্ব হলো তাদের জন্য সম্ভাবনার দরজাগুলো উন্মুক্ত করে দেওয়া।’
প্রধান উপদেষ্টা এ ক্ষেত্রে বেসরকারি উদ্যোক্তারা যেন আরো স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে কাজ
করতে পারে সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও সমন্বয়ের ওপর জোর দেন।
সভায়
বিগত সভার সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি একটি সমন্বিত দক্ষতা
ইকোসিস্টেম প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এই ইকোসিস্টেমের আওতায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের
আয়োজিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমগুলোর অভিন্ন কারিকুলাম ও মানদণ্ড নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এই ব্যবস্থা সম্পূর্ণ রূপে চালু হলে আন্তর্জাতিক বাজারে সনদের মান ও বিশ্বাসযোগ্যতা
বৃদ্ধির পাশাপাশি একদিকে যেমন সরকারি অর্থের অপচয় কমবে, সেই সঙ্গে শিল্প খাতে শ্রমিকের
চাহিদা নিরূপণ ও শ্রমশক্তির উন্নয়নে কেন্দ্রীয়ভাবে একটি শক্তিশালী পরিকল্পনা প্রণয়ন
ও বাস্তবায়ন সহজ হবে বলে সভায় জানানো হয়।
এ
ছাড়া গভর্নিং বডির এই সভায় এলডিসি থেকে উত্তরণ-পরবর্তী বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবেলায়
এনএসডিএর দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যসমূহ অনুমোদন করা হয়। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাগুলোর মধ্যে
উল্লেখযোগ্য হলো, উদীয়মান সেক্টরগুলোতে ‘স্কিলস গ্যাপ অ্যানালাইসিস’
করা, সব উন্নয়ন প্রকল্পকে এনএসডিএ কারিকুলাম ও কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ডের আওতায় আনা,
বাংলাদেশ জাতীয় যোগ্যতা কাঠামোকে (বিএনকিউএফ) আন্তর্জাতিক মানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ
করা এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের বিপুল জনবলকে ‘পুর্ব অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি’র
মাধ্যমে জাতীয় দক্ষতা সনদের আওতায় আনা।
অন্যান্য
বিষয়ের মধ্যে সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন ইনস্টিটিউট
অব মেরিন টেকনোলজিগুলোতে (আইএমটি) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সিডিসি দেয়ার বিষয়ে
আলোচনা করা হয়।
সভায়
নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল(অব) এম সাখাওয়াত হোসেন,
শিল্প, গৃহায়ণ ও স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন
কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুণ, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য
সচিব, এনএসডিএর নির্বাহী চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন
কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


ইনকিলাব
মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদির বিদেশে চিকিৎসায় যত অর্থ প্রয়োজন, তা অর্থ মন্ত্রণালয়
থেকে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। ঢাকায় ইতোমধ্যে এয়ার
অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছেছে এবং তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
ইনকিলাব
মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান বিন হাদির বিদেশে
চিকিৎসার সব ব্যয় অর্থ মন্ত্রণালয় বহন করবে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন
আহমেদ। সোমবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের
প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থ
উপদেষ্টা বলেন, “কালকে হাদির ব্যাপারে বলা হয়েছে, তো আমরা রেডি। এই যে হাদির ব্যাপারে,
বাইরে পাঠাবে; কালকে যখন আমাদেরকে মেসেজ দিল; আমরা বলেছিলাম, টাকা-পয়সা কোনো ব্যাপার
না। উই উইল গিভ অ্যালোকেশন। যা হোক ওটা ম্যানেজ হয়ে গেছে।”তিনি
আরও বলেন, “হাদির জন্য যখন বলেছে যে—বাইরে পাঠানো হবে; সো অবভিয়েসলি টাকার
ইনভলভমেন্ট আছে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে আমরা বলেছি, যাই লাগে—হয়তো
হেলিকপ্টার নিতে হবে বা এয়ার অ্যাম্বুলেন্স নিতে হবে। কিন্তু লাকিলি অর্থ মন্ত্রণালয়
তাদের নিজস্ব বাজেট থেকে দিচ্ছে।”
সালেহউদ্দিন
আহমেদ বলেন, “এই ব্যাপারে কোনো দ্বিধা ছিল না। যখন ডিসিশন নিয়েছে, বোর্ড যখন বলেছে,
তখন ইমিডিয়েটলি গভর্নমেন্ট টুক ইট আপ। এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়েছে, আমরা বলে
দিয়েছি—যেকোনো সময় আমরা ইসে করব।”
শরীফ
ওসমান বিন হাদিকে সিঙ্গাপুরে নিতে গালফস্ট্রিম জি-১০০ সিরিজের একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স
সোমবার বেলা ১১টা ২২ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছেছে। ওই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করেই তাকে সিঙ্গাপুর
জেনারেল হাসপাতালের অ্যাক্সিডেন্ট ইমার্জেন্সি বিভাগে নেওয়া হবে।
প্রধান
উপদেষ্টার দপ্তর জানিয়েছে, হাদির উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকার দুদিন ধরে সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড
ও মালয়েশিয়ার একাধিক হাসপাতালে যোগাযোগ করেছে। রোববার এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ
চিকিৎসক দলের পরামর্শ ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনার পর তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানোর
সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য,
গত শুক্রবার রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগের সময় চলন্ত রিকশায় থাকা শরীফ ওসমান বিন
হাদিকে একটি মোটরসাইকেল থেকে গুলি করা হয়। গুলিটি তার মাথায় লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায়
প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং অস্ত্রোপচারের পর এভারকেয়ার
হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তার অবস্থা ‘অত্যন্ত আশঙ্কাজনক’
বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন