

গণভোটে 'হ্যাঁ'র প্রচারণায় প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের সামনে কোনো আইনগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, এবারের গণভোট কোনো দলকে ক্ষমতায় বসানো কিংবা কোনো দলকে ক্ষমতায় যেতে বাধা দেয়ার এজেন্ডা নয়; এটি রক্তের অক্ষরে লেখা জুলাই জাতীয় সনদভিত্তিক রাষ্ট্র সংস্কারের এজেন্ডা, যা বাংলাদেশের সকল মানুষের। এই গণভোট হলো জনগণের সম্মতি নেওয়ার একটি প্রক্রিয়া: যার মাধ্যমে নির্ধারণ হবে আগামীর বাংলাদেশ কোন পথে চলবে।
গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে বিভাগীয় কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গতকাল শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, সকালে রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করে ঢাকা বিভাগীয় প্রশাসন।
ঢাকা বিভাগের কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার, বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস এসোসিয়েশনের সভাপতি ও পূর্ত সচিব মো: নজরুল ইসলাম ওঢাকা রেন্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক।
অনুষ্ঠানে প্রফেসর আলী রীয়াজ বলেন, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সাবেক বিচারপতি ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনায় ‘একবাক্যে’ মত পেয়েছি-গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের ওপর আইনগত নিষেধাজ্ঞা নেই। যারা এ বিষয়ে বাধা আছে বলে প্রচার করছে, তারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে অথবা ভিন্ন উদ্দেশ্যে বিষয়টি উত্থাপন করছে।
তিনি আরও বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে যে ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা ছিল, তার বিরুদ্ধে যারা সংগ্রাম করেছেন, প্রাণ দিয়েছেন, জেল–জুলুম–নিপীড়ন সহ্য করেছেন, গুমের শিকার হয়েছেন, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন-তারাই আমাদের দুইটি সুস্পষ্ট দায়িত্ব দিয়ে গেছেন। ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্র যেন আর ফিরে আসতে না পারে, সেই পথ রুদ্ধ করা। আরেকটি দায়িত্ব হচ্ছে ভবিষ্যতের বাংলাদেশের পথনকশা নির্মাণ। বাংলাদেশের এক তৃতীয়াংশ মানুষ ২৭ থেকে ৩৭ বছরের নিচে। আগামী অন্তত ৪০ বছর এই দেশ কেমনভাবে চলবে, আজ আমার ও আপনার দায়িত্ব হচ্ছে সে পথ নির্ধারণ করা এবং দুর্বার গতিতে সাফল্য ও সমৃদ্ধির এগিয়ে যাবার আয়োজন করা।
আলী রীয়াজ বলেন, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা কেবল কর্মকর্তা-কর্মচারী নন; তারা একই সঙ্গে নাগরিকও। তাই, রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কাঠামো নির্ধারণে নাগরিক দায়িত্ব পালনের প্রশ্নে তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্তদের জনগণের সেবায় সর্বদা সচেষ্ট থাকার কর্তব্য এবং নাগরিকদের আইন মানা, শৃঙ্খলা রক্ষা ও জাতীয় সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব উল্লেখ রয়েছে। সেই দায়িত্বের আলোকে গণভোটে মানুষকে সচেতন করা ও ভোটদানে উদ্বুদ্ধ করার কাজটিও নাগরিক কর্তব্যের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।
গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তির বিষয়টি উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, দীর্ঘ সময় ভোট নিয়ে অনাস্থার কারণে অনেকের কাছে গণভোট নতুন অভিজ্ঞতা। ফলে জনগণকে বোঝাতে হবে কীভাবে ব্যালটে ভোট দিতে হবে এবং ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের অর্থ কী। তারা জানান, গণভোটের ব্যালটে ‘টিক চিহ্ন’কে প্রচারণার মূল প্রতীক হিসেবে ধরে জনগণকে ভোটকেন্দ্রে আনতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
আলী রীয়াজ আরও বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে তিনটি ম্যান্ডেট নিয়ে কাজ করছে-সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। নির্বাচন সরকার আয়োজন করে না; অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে সরকার, আর নির্বাচন পরিচালনা করে নির্বাচন কমিশন। একইভাবে বিচারও আদালত পরিচালনা করবে, সরকার শুধু বিচার প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন রাখতে সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করছে।
অতীতে এক ব্যক্তির ইচ্ছায় সংবিধান সংশোধন হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পঞ্চদশ সংশোধনী করার জন্য জাতীয় সংসদের একটা কমিটি করা হয়েছিল। তাতে আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কোনো দলের সদস্যরা ছিল না। সেই কমিটি ২৫ থেকে ২৬টি বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা থাকবে। তবে কিছু শর্ত আরোপ করা হবে। যেমন ৯০ দিনের বেশি এটা থাকতে পারবে না। বিদেশের সঙ্গে কোনো চুক্তি করতে পারবে না। একটা বৈঠকে সেটা পরিবর্তিত হয়েছে। সেই বৈঠকটা হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। প্রধানমন্ত্রীর একক সিদ্ধান্তে বাংলাদেশে পঞ্চদশ সংশোধনী তৈরি হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয়েছে এক ব্যক্তির ইচ্ছায়। সংবিধান সংশোধনী ছেলে খেলায় পরিণত যাতে আর না থাকে সেটা বন্ধ করা দরকার।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত ৪৮টি সুপারিশ গণভোটে আসছে চারটি ক্যাটাগরিতে। চার ক্যাটাগরিতে ৪৮টি সুপারিশ থাকলেও কার্যত প্রশ্নটি একটাই। সেটি হলো—আপনি কি জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষে, না বিপক্ষে?
তিনি বলেন, গণভোট ব্যর্থ হলে ফ্যাসিবাদ আবার ফিরে আসবে এবং সেটি কতটা বীভৎস আর নির্মম ও নৃশংস হতে পারে সেটা আমরা কল্পনাও করতে পারি না। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অনুযায়ী আমাদের মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার ভিত্তিক একটি রাষ্ট্র তৈরী করা। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত গত ৫৪ বছরে সেই রাষ্ট্র আমরা পাইনি। বরং এই দীর্ঘ সময়ে ব্যাক্তি ও গোষ্ঠীবিশেষ আমাদের স্বাধীনতাকে অ্যাবিউজ করেছে নিজেদের হীন স্বার্থে। এবার জুলাই অভ্যুত্থান আমাদের সুযোগ করে দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধের সেই লক্ষ্য অর্জনের। এখন গণভোটের মাধ্যমে এই সুযোগ আমাদের কাজে লাগাতে হবে।
সভায় ঢাকা বিভাগের জেলা সমূহের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


প্রধান
উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধান নির্বাচন
কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন।
আজ
বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তিনি
সাক্ষাৎ করেন।
প্রধান
উপদেষ্টার প্রেস উইং এ কথা জানিয়েছে।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন,
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোটের আয়োজন করা হবে। অর্থাৎ জাতীয় নির্বাচনের
মতো গণভোটও ফেব্রুয়ারির প্রথমার্থে একইদিনে অনুষ্ঠিত হবে। এতে সংস্কারের লক্ষ্য কোনোভাবে
বাধাগ্রস্ত হবে না। নির্বাচন আরও উৎসবমুখর ও সাশ্রয়ী হবে। গণভোট অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে
উপযুক্ত সময়ে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা হবে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) জাতির উদ্দেশে দেওয়া
ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস বলেন, রাষ্ট্রকাঠামো
সংস্কারের প্রস্তাব তৈরির লক্ষ্যে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন নিরলসভাবে গত প্রায় নয় মাস ধরে
কাজ করেছে। এ সময় কমিশন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের
সঙ্গে দীর্ঘ আলাপ-আলোচনা করেছে। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে ধৈর্য্যসহকারে রাজনৈতিক
দলগুলো কমিশন কর্তৃক উত্থাপিত বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছে।
মতের পার্থক্য থাকলেও তা কমিয়ে আনার চেষ্টা করেছে। অনেক বিষয়েই ঐকমত্যে আসতে পেরেছে।
দেশবাসী সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে এই পুরো কার্যক্রম দেখতে পেরেছেন। এটি বাংলাদেশের
রাজনীতির ক্ষেত্রে তো বটেই, পৃথিবীর অনেক দেশের জন্য এক অভূতপূর্ব ঘটনা। এটি ভবিষ্যৎ
রাজনীতির জন্যও আশাব্যঞ্জক। তিনি ঐকমত্য কমিশনের সদস্যদের এবং রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে
গণতান্ত্রিক চর্চার এই আসাধারণ আয়োজনকে সফল করায় আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ঐকমত্য কমিশনের প্রণীত জুলাই
সনদে সংবিধান বিষয়ক ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য
তৈরি হয়েছে। এটি একটি ঐতিহাসিক অর্জন। কিছু প্রস্তাবে সামান্য ভিন্নমত আছে। বাকি অল্প
কিছু প্রস্তাবে আপাতদৃষ্টে মনে হয় অনেক দূরত্ব আছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অস্বাভাবিক
কিছু নয়। তবে খতিয়ে দেখলে দেখা যায়, এসব প্রস্তাবগুলোর ক্ষেত্রেও আসলে মতভিন্নতা খুব
গভীর নয়। কেউ সংস্কারটা সংবিধানে করতে চেয়েছেন, কেউ আইনের মাধ্যমে করতে চেয়েছেন। কিন্তু
সংস্কারের প্রয়োজনীতা, নীতি ও লক্ষ্য নিয়ে কারো মধ্যে মতভেদ নেই। কাজেই রাজনৈতিক দলগুলোর
প্রকাশ্য বক্তব্য যতখানি পরস্পরবিরোধী অবস্থানে আছে বলে মনে হয়, জুলাই সনদ সঠিকভাবে
বিশ্লেষণ করলে ততখানি মত পার্থক্য দেখা যায় না। এটি আমাদের অনন্য অর্জন। এতে জাতি এগিয়ে
যেতে সাহসী হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, এসব বিবেচনায় রেখে এবং
রাজনৈতিক দলগুলো কর্তৃক স্বাক্ষরিত জুলাই সনদকে মূল দলিল হিসেবে ধরে নিয়ে অন্তর্বর্তী
সরকার আজকের উপদেষ্টামণ্ডলীর সভায় জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ,
২০২৫ অনুমোদন করেছে। এটি বিরাট খবর। প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর শেষে এটি ইতোমধ্যে গেজেট নোটিফিকেশন
করার পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই আদেশে আমরা গুরুত্বপূর্ণ
কিছু বিধান গ্রহণ করেছি। এর মধ্যে রয়েছে সনদের সংবিধান বিষয়ক সংস্কার প্রস্তাবনার ওপর
গণভোট অনুষ্ঠান এবং পরবর্তী সময়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের সিদ্ধান্ত। আমরা সকল
বিষয় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোটের আয়োজন
করা হবে। অর্থাৎ জাতীয় নির্বাচনের মতো গণভোটও ফেব্রুয়ারির প্রথমার্থে একইদিনে অনুষ্ঠিত
হবে। এতে সংস্কারের লক্ষ্য কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত হবে না। নির্বাচন আরও উৎসবমুখর ও সাশ্রয়ী
হবে। গণভোট অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে উপযুক্ত সময়ে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা হবে।’
জুলাই সনদের আলোকে গণভোটের ব্যালটে উপস্থাপনীয় প্রশ্নও
নির্ধারণ করা হয়েছে বলে প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন।
প্রশ্নটি হবে এরকম:
‘আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন
আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবগুলোর
প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করছেন?’
ক) নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন
কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন
করা হবে।
খ) আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ
নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ জন সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত
হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে।
গ) সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে
ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির
ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকার-সহ
বিভিন্ন বিষয়ে যে ৩০টি প্রস্তাবে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য হয়েছে সেগুলো
বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে।
ঘ) জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক
দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস বলেন, গণভোটের দিন
এই চারটি বিষয়ের ওপর একটিমাত্র প্রশ্নে আপনি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়ে আপনার মতামত
জানাবেন।
তিনি বলেন, গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট ‘হ্যাঁ’ সূচক
হলে আগামী সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধি নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত
হবে। এই প্রতিনিধিগণ একইসাথে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পরিষদ
তার প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ হতে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার করবে।
সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন হবার পর ৩০ কার্যদিবসের
মধ্যে সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে। এর মেয়াদ হবে
নিম্নকক্ষের শেষ কার্যদিবস পর্যন্ত।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকারনামা অনুসারে সংবিধানে জুলাই জাতীয় সনদ অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এটিও আজকে অনুমোদিত আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম
সরোয়ার নির্জন হত্যাকাণ্ডে দায়ের করা মামলার এজাহার নামীয় অন্যতম আসামি মো: সাদেককে
গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর)
দিনগত রাতে চকরিয়া থানার ফাসিয়াখালি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাবের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে
হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন তিনি।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের চকরিয়ার
মাইজপাড়া এলাকায় মাছ ব্যবসায়ী রেজাউল করিমের বাড়িতে একদল ডাকাত ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে—
এমন সংবাদে লেফটেন্যান্ট তানজিম সরোয়ার নির্জনের নেতৃত্বে যৌথবাহিনীর একটি টিম ঘটনাস্থলে
যায়। এরপর একজন ডাকাতকে আটক করলে তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য তার ওপর হামলা করে ডাকাত
দল।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় লেফটেন্যান্ট
তানজিম সরোয়ার নির্জনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মন্তব্য করুন


দেড়
যুগের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বৃহস্পতিবার দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান
তারেক রহমান। তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন যেমন বাংলাদেশের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় স্থান
নিয়েছে, তেমনি রয়টার্স, আল জাজিরাসহ বিভিন্ন বিদেশি গণমাধ্যমেও উঠে এসেছে।
আজ
বৃহস্পতিবার ( ২৫ ডিসেম্বর ) দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে রয়টার্সের একটি খবরের শিরোনাম
ছিল- ভোটের আগে নির্বাসন থেকে ফিরলেন শীর্ষ প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত
বাংলাদেশ নেতা।
খবরটিতে
বলা হয়, প্রায় ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে ঢাকায় ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান
তারেক রহমান। তার দল আশা করছে এতে সমর্থকরা উদ্দীপ্ত হবেন। আরও বলা হয়, ফেব্রুয়ারি
১২ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শীর্ষ প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে তাকে।
তারেক
রহমানের দেশে ফেরা উপলক্ষে সড়ক জুড়ে লাখো সমর্থকদের উপস্থিতি এবং কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার
কথা বলা হয়েছে প্রতিবেদনটিতে।
ভারতীয়
গণমাধ্যমে এনডিটিভির সংবার শিরোনাম ছিল- খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান বাংলাদেশে
ফিরলেন: নির্বাসনের সময়টি যেমন ছিল।
তারেক
রহমান দেশে ফিরেছেন এবং এ উপলক্ষ্যে সারা দেশ থেকে নজিরবিহীন মানুষের ঢল নেমেছে, এমন
বর্ণনা উঠে আসে এনডিটিভির প্রতিবেদনে। এর পাশাপাশি ২০০৮ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত
তারেক রহমানের বিষয়ে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এতে আলোচনা করা হয়।
এএফপির
প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল- খালেদা জিয়ার উত্তরসূরি নির্বাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশে ফিরলেন
১৭ বছর পর।
বাংলাদেশে
দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা পরিবারের উত্তরসূরি এবং সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক দলের নেতা
তারিক রহমান দেশে ফিরছেন, এমন বর্ণনা উঠে এসেছে প্রতিবেদনটিতে। তার মা খালেদা জিয়ার
শারীরিক অবস্থার কথা উল্লেখ করে বলা হয়, তারেক জিয়া তার মায়ের থেকে বিএনপির দায়িত্ব
বুঝে নেবেন এমন ধারণা করা হচ্ছে।
কাতারভিত্তিক
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার সংবাদের শিরোনাম ছিল- ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে ফিরলেন বাংলাদেশের
বিরোধীদলীয় নেতা তারেক রহমান।
তারেক
রহমানের পরিচিতি এবং দেশে ফেরার পটভূমির পাশাপাশি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির
চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে আল জাজিরার এই প্রতিবেদনে।
বিবিসি
বাংলার ওয়েবসাইটে তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের খবর লাইভ প্রকাশ করা হয়। এর
শিরোনাম ছিল- ১৭ বছর পর ঢাকায় তারেক রহমান। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান
দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর আজ এসেছেন
দেশের
মাটিতে।
তাকে ঢাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বাগত জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ
বিএনপির সিনিয়র নেতারা।
মন্তব্য করুন


আজ
২৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় শহীদ সেনা দিবস। আজ থেকে ১৭ বছর আগে এই দিনে দেশের সীমান্তরক্ষী
বাহিনী বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর)-এর সদর দপ্তর ঢাকার পিলখানায় বিদ্রোহের নামে সংঘটিত
হয় বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড। এতে বিডিআরের তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদসহ
৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা নির্মমভাবে নিহত হন।
মেজর
জেনারেল সাকিল আহমেদের স্ত্রীসহ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিকও ওই দিন প্রাণ হারান। পরদিন
২৬ ফেব্রুয়ারিও হত্যাযজ্ঞ চলতে থাকে। ২০০৯ সালের এই মর্মান্তিক দিনটিকে গত বছর থেকে
‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে।
আজ
বুধবার সকালে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর বনানী সামরিক কবরস্থানে শহীদ সেনাদের
রাষ্ট্রীয়ভাবে শ্রদ্ধা জানাবেন। দিবসটি শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের স্মরণ, দোয়া এবং রাষ্ট্রীয়
শ্রদ্ধা জানানোর দিন হিসেবে পালন করা হয়। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর একটি স্বাধীন
তদন্ত কমিশন তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও জড়িতদের
বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ করা হয়।
দিবসটি
উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তিনি বলেন, ‘আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি,
জাতীয় শহীদ সেনা দিবস। ২০০৯ সালের এই দিনে বিডিআর সদর দপ্তর পিলখানায় সেনা হত্যাযজ্ঞ
সংঘটিত হয়েছিলো। হত্যাযজ্ঞে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন শহীদ হয়েছিলো। ২০০৯ সালের
পর দিনটি যথাযোগ্য গুরুত্ব সহকারে পালন করা হয়নি।
২০২৪
সালে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হওয়ার পর থেকে দিনটি ‘শহীদ সেনা দিবস’
হিসেবে পালিত হচ্ছে। আজকের এই বিশেষ দিনে আমরা সেনা হত্যাযজ্ঞে শহীদদের মাগফিরাত কামনা
করছি। তাদের শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সহমর্মিতা প্রকাশ
করছি।’
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, ‘পিলখানায় সংঘটিত সেনা হত্যাকাণ্ডের বিচার চলমান। বিচারাধীন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত
কিছু বলার অবকাশ নেই। তবে এই হত্যাকান্ডের নেপথ্যে দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব
বিরোধী তৎপরতা বিদ্যমান ছিলো- নাগরিক হিসেবে এই বিষয়টি আমাদের উপলব্ধিতে থাকা জরুরী
বলে আমি মনে করি। এই হত্যাকান্ডের পর নানারকম মিথ্যা কিংবা অপতথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত
করার চেষ্টা হয়েছিলো। তবে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে
জনগণের কাছে পিলখানায় হত্যাকান্ডের নেপথ্য কারণ এখন বোধগম্য।’তিনি
আরও বলেন, ‘সশস্ত্র বাহিনী একটি স্বাধীন দেশের সম্মান, বীরত্ব এবং গৌরবের প্রতীক। ভবিষ্যতে
আর কেউ যাতে সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতে না পারে, আজ পুনরায় সেই
শপথে বলীয়ান হতে হবে।
দেশ
এবং জনগণের স্বার্থের বিপরীতে যে কোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে
দাঁড়াবো- এই হোক শহীদ সেনা দিবসের প্রত্যয়। উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি
ঢাকার পিলখানায় বিডিআরের একটি অংশ সদর দপ্তর দখল করে নেয়। তারা মহাপরিচালক মেজর জেনারেল
সাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা এবং ১৭ জন বেসামরিক ব্যক্তিকে হত্যা করে। বেসামরিক
লোকজনের ওপর গুলি চালানো হয়। অনেক সেনা কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারকে জিম্মি করা হয়।
স্থাপনা ও সম্পদ ভাঙচুর এবং মূল্যবান সামগ্রী লুটপাট করা হয়।
জানা
যায়, ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ওই ঘটনায় সদর দপ্তরে আটকে পড়া সেনা কর্মকর্তাদের উদ্ধারে
তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ ছিল না। তথাকথিত বিদ্রোহী সেনাদের
সঙ্গে আলোচনা ও অস্ত্র সমর্পণের নামে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতাদের
কার্যক্রম গোটা জাতি প্রত্যক্ষ করেছে। পরবর্তী সময়ে ঘটনার শিকার, ভুক্তভোগী এবং ভাগ্যক্রমে
বেঁচে ফেরা সেনা কর্মকর্তা ও অন্যরা ওই ঘটনার ভয়াবহতার লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন।
মন্তব্য করুন


সাংবাদিকদের
অধিকার প্রশ্নে সরকারের দায়িত্ব নিয়ে সমালোচনা করতে গিয়ে গণমাধ্যমের মালিকরা দায়িত্ব
এড়িয়ে যাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন,
দায়িত্ব পালনে সরকারের ব্যর্থতা আছে, পাশাপাশি অন্য যাদের দায়িত্ব আছে কি দায়িত্ব পালন
করছে, এটাও বড় ব্যর্থতা। তাদের ব্যর্থতাও তুলে ধরা হবে। জুলাই-আগস্টে ছয়জন সাংবাদিক
নিহত হয়েছেন, তারা যেমন গুলিতে নিহত হয়েছেন।
আবার
বিরূপ পরিস্থিতিতে কাজ করার সময় এসব সাংবাদিকের কোনো প্রটেকটিভ ইক্যুইপমেন্ট দেওয়া
হয়নি।
আজ
রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে জার্নালিস্ট সাপোর্ট
ডেস্ক হ্যান্ডওভার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুল
আলম বলেন, যেসব সাংবাদিকরা সামনে থেকে সংবাদ সংগ্রহ করলেন, গুলির মধ্যে কাজ করলেন তাদের
একটি হেলমেট নেই, তাদের একটি প্রটেক্টিভ ভেস্ট ছিল না, টিয়ার গ্যাস থেকে রক্ষা পেতে
কোনো ব্যবস্থা ছিল না। আশ্চর্যের বিষয় হলো সংবাদপত্রের মালিকদের যে সংগঠন নোয়াব একজন
সাংবাদিকের নিরাপত্তা সামগ্রী দেন না।
কয়েকদিন
আগে অনেক বড় অনুষ্ঠান করেছেন। সেখানে তারা অনেক কথা বলেছেন। কিন্তু তারা কোনো সাংবাদিকের
নিরাপত্তা সামগ্রী নিয়ে কথা বলেননি। ছয়জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন তারা এটা কোনো বিবৃতি
দেননি। তারা তাদের কর্মী নিয়ে কোনো দায়িত্ব পালন করেননি।
ঐক্য
প্রশ্নে তিনি বলেন, কয়েকদিন পর আমি সাংবাদিকতায় ফিরতে চাই। আমিও মনে করি সব সাংবাদিকরা
ঐক্যবদ্ধ থাকুক। কিন্তু সেটা হতে হবে সবার জন্য। কয়েকজন লোকের জন্য সিলেক্টিভ ঐক্য
নয়।
সবার
জন্য ঐক্য থাকতে হবে। সাংবাদিক যখন যুদ্ধক্ষেত্রে যায় সবার কাছে থেকে সাপোর্ট চায়,
তার জন্য বিশেষ কোনো পরিস্থিতি থাকে না। তারা তাদের পাঠকের জন্য খবর সংগ্রহ করবে, খবর
সার্ভ করবে। সব এক রকম হতে পারে না। একজন সম্পাদককে অফিস থেকে টেনে হিছড়ে বের করে আনা
হবে তথ্য ঐক্যের কথা বলা হবে না, একটা বিবৃতি দেবো না, এটা হতে পারে না। ঐক্য তখনও
থাকতে হবে।
ফেডারেল
সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন বলেন, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় অন্য
কেউ যখন মাঠে দাঁড়াতে পারছিল না তখন সাংবাদিকরা মাঠে থেকেছে। অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের
পর সেই সাংবাদিকদের মূল্যায়ন করা হয়নি, জায়গামতো পদায়ন করা হয়নি। এর মাধ্যমে সাংবাদিকদের
সঠিক ব্যবহার করা হয়নি।
সরকারি একটি গণমাধ্যমে ফ্যাসিস্ট বসানো হয়েছে, এখনো বহাল। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ডিআরইউ নেতাদের সাক্ষাতের খবর রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমটিতে প্রকাশের অনুরোধ করা হলে ডিআরইউ নেতার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান এখনো এমন সাহস কোথায় থেকে পায়, তার জবাব চান ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের এ শীর্ষনেতা।
সিনিয়র
সাংবাদিক সোহরাব হাসান বলেন, এখন সাংবাদিক আক্রান্ত। সাংবাদিক আক্রান্ত হলে আর সাংবাদিকতা
থাকে না। এখন তাই হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর দুই শতাধিক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হত্যা
মামলা দেওয়া হয়েছে। অনেককে জেলে পাঠানো হয়েছে। কোনো সাংবাদিককে হত্যা মামলার আসামী
করে জেলে থাকবে এটা কোনোভাবে ভালো দেখায় না। কেউ সাংবাদিকতার নামে দালালি করলে তার
বিরুদ্ধে দালাল হিসেবে বিচার করা হোক, হত্যা মামলা নয়।
তিনি
সাংবাদিকদের ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, জুলাই পরবর্তী ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে
সাংবাদিকদের ইউনিটি ধরে রাখতে পারলেও প্রেসক্লাব ধরে রাখলে পারলো না। কাউকে বাদ দিল,
কারো সদস্য পদ স্থগিত করলো। প্রেসক্লাবের নির্বাচনটাও শেষ পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।
তিনি
বলেন, সরকার সফলতার সঙ্গে এবং দ্রুত অনেক তদন্ত সম্পন্ন করেছে, কিন্তু সাগর-রুনির তদন্ত
করতে পারলো না। শুরুতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, শেষ পর্যন্ত তা রক্ষা করতে পারেনি। আগের
সরকারের সময়ে বারবার তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। কী এমন হলো কেউ
প্রতিবেদন দিতে পারছে না। তদন্ত প্রতিবেদন না দিতে না পারলে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে
সরে যাওয়া হোক।
জুলাই
আন্দোলন পরবর্তী কোন কোন গণমাধ্যমের অফিস দখল করা হয়েছে, মহল বিশেষের চাপে সাংবাদিকদের
চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। কেন চাকরিচ্যুত করা হয়েছে সে কথাটিও বলা হয়নি। এগুলো সাংবাদিকের
নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলে বলে মন্তব্য করেন সোহরাব হাসান।
ডিআরইউ
সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, সাংবাদিকরা ঘরে, বাইরে এবং অফিসে নির্যাতন ও নিগ্রহের শিকার
হচ্ছে। বেতনের নিরাপত্তা না থাকার কারণে পকেটে টাকা থাকে না। এজন্য পরিবারে নির্যাতনের
শিকার হন। খবর সংগ্রহ করতে বাইরে গিয়ে গন্তব্যে পৌছতে না পেরে নিগ্রহের শিকার হন। আর
পকেটে টাকা না থাকার কারণে ভালো রিপোর্টটি না দিতে পেরে নিগ্রহের শিকার হন। শুধু আইনি
নিরাপত্তা নয়, সাংবাদিকের বেতন-ভাতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। যাতে ব্যক্তি, পরিবার,
সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।
রাজনৈতিক
পালা বদলে সাংবাদিক হত্যা মামলায় দুই শতাধিক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা নিয়ে
দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গে টেনে ডিআরইউ সভাপতি বলেন, এখন উষ্ণ পরিবেশে উষ্ণ দাবি তোলা
হচ্ছে। অতীতে ভিন্ন মত হওয়ার কারণে যখন ৭ নম্বর ক্রমিকের নয়া দিগন্ত পত্রিকা ৫৭ নম্বরে
নামিয়ে দেওয়া হয় তখন কোনো কথা উঠে না, এখন কথা উঠছে। আগেও এ ধরনের কথা উঠা দরকার ছিল।
ঢাকা
সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইইজে) সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, অতীতে যাদের নেতৃত্বে সাংবাদিকদের
নিয়ে কাজ করা হয়েছে, সাগর-রুনি হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন দাবি দাওয়া দিয়ে কর্মসূচি শুরু
হয়েছে তখন মনে করেছে সাংবাদিকদের স্বার্থ ও নিরাপত্তায় দাবি জানাতে থাকলে সরকার বিরক্ত
হবে। তাই কারা আন্দোলন-কর্মসূচি থেকে পিছিয়ে আসে। এজন্য সাগর-রুনির হত্যার বিচার করা
যায়নি। সাংবাদিকের অধিকার ও কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক
মাইনুল হাসান সোহেল।
অনুষ্ঠানে
আরও বক্তব্য রাখেন ক্র্যাব সাধারণ সম্পাদক এমএম বাদশাহ, ডিআরইউ এর সাবেক নারী বিষয়ক
সম্পাদক নাদিয়া শারমিনসহ ইউনিসেফের নেতারা বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে
ইউনিসেফের পক্ষ থেকে ডিআরইউকে জার্নালিস্ট হেল্প ডেস্ক হস্তান্তর করা হয়। পেশাগত দায়িত্ব
সম্পর্কিত যে কোনো আইনি সহায়তা দেবে এ হেল্প ডেস্ক। আইনি কোনো সহায়তা চেয়ে ডেস্কে ফোন
করার সঙ্গে এ হেল্প ডেস্ক যেখানে যে ধরনের সহায়তা প্রয়োজন সহায়তা দেবে।
মন্তব্য করুন


বীরশ্রেষ্ঠ
নূর মোহাম্মদ শেখের ৯০তম জন্মবার্ষিকী আগামীকাল বৃহস্পতিবার। বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ
শেখ ১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইল সদর উপজেলার চন্ডিবরপুর ইউনিয়নের মহিষখোলা (বর্তমান
নাম নূর মোহাম্মদনগর) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মোহাম্মদ আমানত শেখ এবং
মা’র নাম জেন্নাতুন্নেছা। বাল্যকালেই বাবা-মাকে হারান তিনি।
সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন তিনি। বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের জন্মভূমি
মহিষখোলার নাম পরিবর্তন করে ২০০৮ সালের ১৮ মার্চ নূর মোহাম্মদনগর করা হয়।
বীরশ্রেষ্ঠ
নূর মোহাম্মদের কর্মময় জীবন থেকে জানা যায়, ১৯৫৯ সালের ১৪ মার্চ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান
রাইফেলস (ইপিআর) এ যোগদান করেন তিনি। যা বর্তমানে ‘বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ’
(বিজিবি) হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন দিনাজপুর সীমান্তে চাকরি করার পর ১৯৭০ সালের ১০ জুলাই
যশোর সেক্টরে বদলী হন তিনি। পরবর্তীতে ল্যান্স নায়েক হিসেবে পদোন্নতি পান তিনি। ১৯৭১
সালে যশোর অঞ্চল নিয়ে গঠিত ৮ নম্বর সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। নূর মোহাম্মদ শেখ
যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিপুর সীমান্তের বয়রা অঞ্চলে ক্যাপ্টেন নাজমুল হুদার নের্তৃত্বে
পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে দেশ শত্রুমুক্ত করেন। ১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যশোরের
গোয়ালহাটি ও ছুটিপুরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে গুলিতে সহযোদ্ধা
নান্নু মিয়া গুরুতর আহত হলে নূর মোহাম্মদ শেখ হাতে এলএমজি এবং কাঁধে আহত সাথীকে নিয়ে
শত্রু পক্ষের দিকে এগিয়ে যান এবং গুলি ছুড়তে থাকেন। এ সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর
ছোড়া মর্টার শেলের আঘাতে মারাত্মকভাবে জখম হন তিনি। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ নূর মোহাম্মদ
আশংকাজনক অবস্থায়ও নিজের জীবনের কথা না ভেবে যুদ্ধ চালিয়ে যান এবং গুলি চালাতে চালাতে
সামনের দিকে অগ্রসর হন। এক সময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। এদিন পাকিস্তানি হানাদার
বাহিনীকে প্রতিরোধ এবং দলীয় সঙ্গীদের জীবন ও অস্ত্র রক্ষা করতে গিয়ে শহীদ হন নূর মোহাম্মদ
শেখ। যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিপুরে তাকে
সমাহিত করা হয়। মুক্তিযুদ্ধে বীরোচিত ভূমিকা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘বীরশ্রেষ্ঠ’
খেতাবে ভূষিত হন তিনি।
নূর
মোহাম্মদের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ ট্রাস্ট ও জেলা প্রশাসনের
উদ্যোগে নূর মোহাম্মদ নগর ও বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ গ্রন্থাগার
ও স্মৃতি জাদুঘর মিলনায়তনে কোরআনখানি, স্মৃতিসৌধে পুস্পস্তবক অর্পণ ও গার্ড অব অনার
প্রদান, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে
জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বলে আশা
করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৩৫ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ।
গ্রেফতারের সময় তাদের কাছে থেকে ৯৮২ পিস ইয়াবা, ১৮ কেজি ৪৬০ গ্রাম গাঁজা, ১১ গ্রাম হেরোইন, ১৫ বোতল ফেন্সিডিল ও ১০ বোতল দেশি মদ জব্দ করা হয়।
বুধবার(২০ ডিসেম্বর) সকাল ছয়টা থেকে বৃহস্পতিবার(২১ ডিসেম্বর) সকাল ছয়টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৩০টি মামলা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


ত্রয়োদশ
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাঁচ দিনের মাথায় সরকার গঠন করছে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বাংলাদেশ
জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।
আজ
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার
সদস্যদের শপথ পাঠ অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধান অনুযায়ী, মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন
রাষ্ট্রপতি।
ধর্ম
বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেন কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ।
মঙ্গলবার
গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন বিএনপি ও সচিবালয়ের ঘনিষ্ঠ এক সূত্র।
মন্তব্য করুন


যুব ও ক্রীড়া এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের
উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, কমনওয়েলথ চার্টার হলো বিশ্বের ৫৬টি দেশের
২.৭ বিলিয়ন মানুষের নৈতিক দিকনির্দেশনা। এই চার্টারের মূল্যবোধগুলো অবমূল্যায়িত হলে
একটি দেশের জন্য ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে। তাই এই কর্মশালা শুধু সময়োপযোগী নয়, অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের তরুণরা এই চার্টার সম্পর্কে জানলে তারা জাতি গঠনে আরও দক্ষভাবে
অবদান রাখতে পারবে।
গত ২৩ ও ২৪ জুন ঢাকায় অনুষ্ঠিত দুই
দিনব্যাপী এক কর্মশালায় উদ্বোধনী বক্তব্যে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় কমনওয়েলথ সচিবালয় কর্মশালার আয়োজন করে ।
মন্তব্য করুন