

ভোলায় গত পাঁচ দিনে ১২টি রাসেলস ভাইপার
সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। ১২টি সাপের মধ্যে এলাকাবাসী
১১টি সাপ মেরে ফেলেছে। আর একটি সাপ বনবিভাগের কাছে হস্তান্তর করেছে এলাকাবাসী।
জেলার সদর, দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন,
তজুমদ্দিন, চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলাসহ চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়ি ও খেলার
মাঠে একের পর এক রাসেলস ভাইপার সাপের দেখা মিলছে। একের পর এক এই সাপ উদ্ধারে জনসাধারণের
মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২০ জুন) সকালে সদর উপজেলার শিবপুরের 'গরিবের ডুবাই নামে খ্যাত'
চায়না ইপিজেড বালুর মাঠে একটি, তজুমউদ্দিন উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের একটি বসত বাড়ির
সামনে ও বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের জসিম হাওলাদারের বাড়িতে একটি রাসেলস ভাইপার
পাওয়া যায়।
এছাড়াও গত বুধবার (১৯ জুন) বিকেলে জেলার
তজুমউদ্দিন উপজেলার চৌমুহনী এলাকায় খেলার মাঠ, গত মঙ্গলবার (১৮ জুন) সকালে সদর উপজেলার
পূর্ব ইলিশায় ইউনিয়নে পাকার মাথা এলাকায় বসত বাড়ির পাশের জালের সঙ্গে পেঁচানো অবস্থায়
একটি রাসেলস ভাইপার উদ্ধার করা হয়। গত মঙ্গলবার রাতে দৌলতখান উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের
জালু মাঝির বসতঘর, রোববার (১৬ জুন) লালমোহন উপজেলার লর্ড হার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের সৈয়দাবাদ
এলাকায় একটি বাড়ির শৌচাগার, বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরা ও সাগর উপকূল উপজেলা চরফ্যাশনের
বিভিন্ন ইউনিয়নে আরও ৫টি রাসেলস ভাইপার সাপ দেখা যায়। পরে স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে সাপগুলোকে
পিটিয়ে মেরে ফেলে।
এর মধ্যে তজুমউদ্দিন উপজেলায় পাওয়া
একটি সাপ বনবিভাগের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে জেলাজুড়ে সর্বসাধারণের মাঝে
রাসেলস ভাইপার আতঙ্ক বিরাজ করছে ।
স্থানীয়রা জানায়, বেশ কয়েকদিন ধরে
জেলার সর্বত্র সাপের উপদ্রব দেখা দিয়েছে। কিন্তু এর আগে সাগর উপকূল উপজেলা চরফ্যাশনের
কুকরি-মুকড়ি, ঢালচর কিংবা মনপুরা উপজেলায় দেখা মিললেও এবার সদর উপজেলাসহ প্রায় সবস্থানেই
সাপের বিচরণ বেড়েছে। একের পর এক বিষধর রাসেলস ভাইপার সাপের দেখা মিলছে বিভিন্ন এলাকায়।
স্থানীয় জেলে জয়নাল মাঝি বলেন, নদীতে
মাছ শিকার করে ঘাটের দিকে যাওয়ার সময় বালুর মধ্যে এই সাপটি দেখতে পাই। পরে আরও লোকজন
এসে সাপটিকে রাসেলস ভাইপার বলে নাম দেয়। এই সাপ এর আগে আর কখনো দেখিনি। সাপটি দেখতেও
অনেক ভয়ানক। অন্য সাপের থেকে দেখতে আলাদা। সাপটি দেখে স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে মেরে ফেলে।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ জহিরুল
হক বলেন, রাসেল ভাইপার সাপ লোকালয়ে সাধারণত খুব কমই দেখা যায়। বাচ্চা দেয়ার কারণে হয়তো
ওই সাপটি লোকালয়ে চলে এসেছে। তবে সবাইকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
মন্তব্য করুন


সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলকে সংবর্ধনা প্রদান করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
আজ শনিবার (২ নভেম্বর) সকাল ১১ টায় ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় তিনি এ সংবর্ধনা প্রদান করেন।
এ সময় নারী ফুটবল দলের সদস্যরা তাঁদের স্বপ্ন ও খেলোয়াড় জীবনের প্রতিদিনের সংগ্রামের কথা প্রধান উপদেষ্টার সামনে তুলে ধরেন।
প্রধান উপদেষ্টা বিজয়ী খেলোয়াড়দের বিভিন্ন দাবি ও কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং অগ্রাধিকারভিত্তিতে সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন।
গত ৩০ অক্টোবর কাঠমান্ডুতে সপ্তম সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে নেপালকে ২-১ গোলে পরাজিত করে শিরোপ জিতে নেয় বাংলাদেশ দল।
নারী ফুটবলারদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, এই সাফল্যের জন্য আমি পুরো জাতির পক্ষ থেকে তোমাদেরকে অভিনন্দন জানাই। জাতি তোমাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমাদের দেশের মানুষ সাফল্য চায়, আর তোমরা সেই সাফল্য এনে দিয়েছ।
বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন সংবর্ধনায় আমন্ত্রণ জানানোর জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমরা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পেরে সম্মানিত বোধ করছি।
তিনি বলেন, অনেক বাধা পেরিয়ে আমরা এই পর্যায়ে পৌঁছেছি। শুধু নারী ফুটবল দলই নয়, বাংলাদেশের নারীদের সামগ্রিকভাবে নানা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
২০০৯ সালে ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করা সাবিনা তাঁর আগের প্রজন্মের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, আগের প্রজন্ম
ফুটবলকে তাঁদের ভালবাসা হিসেবে বেছে নেওয়ার সাহস দেখিয়েছিলেন।
সাবিনা আরো বলেন, আমাদের অনেকে সাধারণ পরিবার থেকে এসেছে এবং তার পরিবারকে আর্থিকভাবে
সাহায্য করতে হয়।
তিনি বলেন, আমাদের বেতন খুব বেশি নয়। এই বেতন দিয়ে পরিবারকে তেমন কোন সাহায্য করতে পারি না।
এই তারকা স্ট্রাইকার তাঁর কয়েকজন সহযোদ্ধার সংগ্রামের গল্প, যেমন মারিয়া মান্দারের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
ময়মনসিংহের বিখ্যাত কলসিন্দুর গ্রামের মারিয়া, যেখান থেকে সাফ বিজয়ী দলের ছয়জন খেলোয়াড় এসেছেন, ছোটবেলায় তাঁর বাবাকে হারান এবং মা তাকে বড় করেন।
উইঙ্গার কৃষ্ণা রানী সরকার ঢাকায় তাঁদের আবাসন সমস্যার কথা উল্লেখ করেন, আর মিডফিল্ডার মানিকা চাকমা খাগড়াছড়ি জেলার দূরবর্তী লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার ফুটবলার হিসেবে উঠে আসার সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন।
মিডফিল্ডার স্বপ্না রানী তাঁর নিজ জেলা দিনাজপুরের রানীশংকৈল উপজেলায় তার গ্রামের দূর্বল অবকাঠামোর কথা বলেন।
উইঙ্গার কৃষ্ণা প্রধান উপদেষ্টার কাছে অনুরোধ করেন যেন তাঁদের জন্য এশিয়ার বাইরে একটি প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করা হয়, বিশেষ করে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগ বিজয়ী বার্সেলোনার সঙ্গে।
প্রধান উপদেষ্টা প্রত্যেক খেলোয়াড়কে তাদের ব্যক্তিগত আশা-আকাঙ্ক্ষা, সংগ্রাম ও তাদের বিভিন্ন দাবি আলাদাভাবে কাগজে লিখে তাঁর কার্যালয়ে জমা দেওয়ার জন্য বলেন।
অধ্যাপক ইউনুস বলেন, ‘তোমরা যা কিছু চাও তা লিখতে দ্বিধা করো না আমরা তোমাদের দাবিগুলো পূরণ করার চেষ্টা করব। যদি কিছু এখনই করা সম্ভব হয়, আমরা তা করব’।
কোচ পিটার বাটলার এবং ম্যানেজার মাহমুদা আক্তারও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া, সুপ্রদীপ চাকমা, অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার এবং নূরজাহান বেগম।
মন্তব্য করুন


দায়িত্ব
গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মাত্র ১৮ ঘণ্টার এই সংক্ষিপ্ত সফর শেষে চীনের উদ্দেশ্যে মালয়েশিয়া ত্যাগ করছেন প্রধানমন্ত্রী।
সোমবার
(২২ জুন) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের উদ্দেশ্যে মালয়েশিয়া ত্যাগ করছেন।
এর
আগে গত রোববার (২১ জুন) রাতে সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি
রেগুলার ফ্লাইটে মালয়েশিয়া পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা
রহমান।
বিমানবন্দরে
মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে তাকে লালগালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রীর
এই সফরসঙ্গী দলে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা পদমর্যাদার ১০ জনসহ মোট ২৩ জন অফিশিয়াল
ডেলিগেশন ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর
কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানান, মালয়েশিয়ার এই সফল সফর বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের
ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। মালয়েশিয়ার কর্মসূচি শেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক
রহমান ও তার প্রতিনিধি দল সরাসরি চীনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।
চীনেও
দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি।
মন্তব্য করুন


সুপ্রিম কোর্টের সাবেক রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. গোলাম রব্বানী আইন ও বিচার বিভাগের সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।
সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে বুধবার তাকে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
এ বিভাগের চলতি দায়িত্ব পালনের ১০ দিনের মাথায় তিনি পূর্ণ দায়িত্ব পেলেন।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একই বিভাগে তিনি যুগ্ম সচিব (প্রশাসন-১) পদে ছিলেন। এর আগে চট্টগ্রাম থেকে তাকে ঢাকায় বদলি করে আনা হয়। তিনি ৮ সেপ্টেম্বর থেকে চলতি দায়িত্বে ছিলেন।
সুপ্রিম কোর্টের সাবেক এই রেজিস্ট্রার জেনারেলকে দেড় মাস আগে জেলা ও দায়রা জজ করে পাঠানো হয়েছিল চট্টগ্রামে। সরকার পরিবর্তনের পর গত ১৩ অগাস্ট তাকে আবার আইন মন্ত্রণালয়ে ফিরিয়ে আনা হয়। তখন এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য তাকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হচ্ছে বলে আলোচনা ছিল।
এ বিভাগের আগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ারকে গত বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ওএসডি করা হয়েছিল।
বিভিন্ন জেলায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করা নতুন আইন সচিব গোলাম রব্বানী ২০২২ সালে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের দায়িত্বে ছিলেন। ২০১৫ সালে তৈরি করা সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের পদটি রাষ্ট্রের পদমর্যাদাক্রম অনুযায়ী জ্যেষ্ঠ সচিবের সমপর্যায়ের। এর আগে তিনি ছিলেন হাই কোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার, যে পদটি মর্যাদার দিক দিয়ে সচিব পর্যায়ের।
আগের সরকার এ বছর ১ জুলাই তাকে রেজিস্টার জেনারেল পদ থেকে সরিয়ে চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে বদলি করে। ক্ষমতার পালাবদলের পর গত ১৩ অগাস্ট তাকে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব করা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের ছাত্র গোলাম রব্বানী ১৯৯১ সালে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য হন। পরে জুডিশিয়াল সার্ভিসে নিয়োগ পেয়ে টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, গাজীপুর ও ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
জামালপুরের যুগ্ম জেলা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের আইন শাখায় দায়িত্ব পালন করা গোলাম রব্বানী ২০১৭ সালের ৩১ অক্টোবর হাই কোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পান।
মন্তব্য করুন


টানা ভারি বর্ষণে কক্সবাজারে একের পর এক পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৮ জন, কক্সবাজার শহরে একজন, পেকুয়ায় একজন শিশু এবং মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে কক্সবাজার সদরের দরিয়ানগরে আরও এক নারী রয়েছেন। এসব ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার পাহাড়ঘেরা এলাকায় নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
রবিবার
(৫ জুলাই) দিবাগত রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত উখিয়ার ৭, ১১ ও ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প
এবং কক্সবাজার শহরের ছাত্তারঘোনা এলাকায় ধারাবাহিকভাবে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এরপর সোমবার
(৬ জুলাই) দুপুরে পেকুয়ায় এবং মঙ্গলবার দুপুরে দরিয়ানগরে আরও দুটি পৃথক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি
ঘটে।
সবচেয়ে
হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের
ডি-৬ ব্লকে। রাত দেড়টার দিকে পাহাড়ের একটি বিশাল অংশ ধসে পড়ে মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের
বসতঘরের ওপর। মুহূর্তেই মাটির নিচে চাপা পড়ে পুরো ঘর। খবর পেয়ে উখিয়া ফায়ার সার্ভিস
ও রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকেরা রাতভর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী
হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং চার বছরের ছেলে মোহাম্মদ আনাসের মরদেহ উদ্ধার করেন। পরিবারের
১০ সদস্য তখন ঘুমিয়ে ছিলেন। অলৌকিকভাবে সাতজন প্রাণে বেঁচে গেলেও তারা আহত হন।
উখিয়া
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা বলেন, ‘‘খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকারী
দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় অভিযান পরিচালনা করে। তিনজনের মরদেহ
উদ্ধার এবং আহত দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।’’
এই
ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রাত ২টার দিকে রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা
ক্যাম্পের ডি-৭ ব্লকে আরেকটি পাহাড়ধসে একরাম (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। সে মোহাম্মদ
রশিদের ছেলে।
এর
প্রায় দেড় ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ৩টার দিকে বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি-১১
ব্লকে পাহাড়ধসে একই পরিবারের চারজন নিহত হন। তারা হলেন—আব্দুর
রাজ্জাকের দুই মেয়ে উম্মে হাবিবা (২৭) ও তানজিনা আক্তার (১৩) এবং মোহাম্মদ রশিদের দুই
ছেলে মোহাম্মদ রিহান (৫) ও হারুনুর রশিদ (৩)।
অন্যদিকে
রাত ৩টার দিকে কক্সবাজার শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্তারঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসে স্থানীয়
বাসিন্দা আলী আকবর নিহত হন।
কক্সবাজার
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, ঘরচাপা পড়া অবস্থায় একই পরিবারের
তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। গুরুতর আহত আলী আকবরকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে
সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের খলিফা মুরা
আলিম্যার ঝিরি এলাকায় পাহাড়ধসে মো. মিনহাজ উদ্দিন (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। সে
কলিম উল্লাহর ছেলে। শিশুটির মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
মঙ্গলবার
দুপুরে কক্সবাজার সদরের দরিয়ানগর এলাকায় আরেকটি পাহাড়ধসে এক নারীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায়
শিশুসহ আরও চারজন আহত হয়েছেন।
কক্সবাজার
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আব্দুল মান্নান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় মঙ্গলবার সকাল ৬টা
পর্যন্ত জেলায় ১২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এরপর সকাল ৬টা থেকে দুপুর
৩টা পর্যন্ত আরও ৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। দিনের বাকি সময়েও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার
পাশাপাশি কোথাও কোথাও ভারি বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি
বলেন, ‘‘বর্তমানে চট্টগ্রাম অঞ্চল বৃষ্টিপাতের প্রধান ‘হটস্পট’।
এর প্রভাব কক্সবাজারেও পড়ছে। বিশেষ করে কুতুবদিয়া, চকরিয়া হয়ে চট্টগ্রামমুখী এলাকায়
বৃষ্টিপাতের তীব্রতা বেশি। উপকূলীয় অন্যান্য এলাকাতেও একই ধরনের পরিস্থিতি বিরাজ করছে।’’
কক্সবাজারের
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) দেবদূত মজুমদার বলেন, ‘‘পাহাড়ধসের ঘটনায় উদ্ধার হওয়া
মরদেহগুলো কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে
হস্তান্তর করা হবে। তিনি সবাইকে পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলার আহ্বান
জানান।’ রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা রহিম উদ্দিন ও করিম উল্লাহ
বলেন, ‘‘বর্ষা মৌসুম এলেই তাদের জীবন আতঙ্কে ভরে ওঠে। পাহাড় কেটে তৈরি ঢালে বাঁশ, ত্রিপল
ও অস্থায়ী উপকরণ দিয়ে নির্মিত ঘরগুলো ভারি বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। কখন
পাহাড় ধসে সবকিছু শেষ হয়ে যাবে—এই ভয় নিয়েই প্রতিদিন কাটাতে হয়। ইতোমধ্যে
অনেক পরিবার স্বজন হারিয়েছে, অনেকের ঘরবাড়িও ধসে গেছে।’’
শুধু
রোহিঙ্গা ক্যাম্প নয়, কক্সবাজার সদর, রামু ও উখিয়ার বিভিন্ন পাহাড়ঘেরা এলাকায় প্রায়
তিন লাখ মানুষ এখনও পাহাড়ের পাদদেশ ও ভূমিধসপ্রবণ এলাকায় বসবাস করছেন। টানা বৃষ্টিতে
এসব এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যেও চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।
শরণার্থী
ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘‘ক্যাম্পের
বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় ও কিছু রোহিঙ্গার অবৈধ পাহাড় কাটার কারণে বহু স্থান অত্যন্ত
ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বারবার সতর্ক করা হলেও একটি অসাধু চক্র পাহাড় কাটা বন্ধ করেনি।’’
তিনি
বলেন, ‘‘এটি শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, অনেকটাই মানবসৃষ্ট বিপর্যয়। যারা অবৈধভাবে পাহাড়
কেটে মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া
প্রয়োজন।
মন্তব্য করুন


বিএনপিসহ
দলটির তিন অঙ্গসংগঠনের জেলা নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়সভা করছেন প্রধানমন্ত্রী ও দলটির
চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
আজ
শনিবার (০৯ মে) বেলা পৌনে ১১টায় ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট (কেআইবি) মিলনায়তনে
এ মতবিনিময় সভা শুরু হয়।
দিনব্যাপী
রুদ্ধদ্বার এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে আছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মতবিনিময়সভায়
সভাপতিত্ব করছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এতে আরো উপস্থিত রয়েছেন
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ
চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান ও এ জেড এম জাহিদ
হোসেন।
গত
১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভের পর বিএনপির মাঠ পর্যায়ের নেতাদের
সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এটিই প্রথম মতবিনিময় সভা।
রুহুল
কবির রিজভী জানান, সভায় দলের নির্বাচনী ইশতেহার এবং সরকারের পরিকল্পনাগুলো নেতাদের
কাছে তুলে ধরা হবে। দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হবে।
মন্তব্য করুন




জয়পুরহাটের
কালাই উপজেলায় রাস্তার ওপর ধানবোঝাই ভ্যান দাঁড় করিয়ে রাখাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের
মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সামান্য কথা কাটাকাটির জেরে শুরু হওয়া বিরোধ মুহূর্তেই
রূপ নেয় সংঘর্ষে। এতে এক নারীসহ অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা
গুরুতর হওয়ায় তাদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা
হয়েছে।
শনিবার
(২০ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের তালোড়া বাইগুনী সরকারি প্রাথমিক
বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি
নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং টহল জোরদার করা হয়েছে।
আহতরা
হলেন— মাহমুদুল হাসান মেহেদুল, আবু জাফর মো. সৌরভ, তুষার হোসেন,
আনোয়ার হোসেন, আরাফাত হোসেন, আরিফুল ইসলাম, আতিকুল ইসলাম, আব্দুল মোত্তালেব, হবিবর
রহমান, দুদু মিয়া ও মজিদা বিবি। তাদের মধ্যে আতিকুল ইসলাম ও আবু জাফর মো. সৌরভ গুরুতর
আহত হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ায় পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়
সূত্র ও পুলিশ জানায়, শনিবার সন্ধ্যায় ভ্যানচালক আতিকুল ইসলাম তার ভ্যানে ধানবোঝাই
করে রাস্তার ওপর দাঁড় করিয়ে রাখেন। এসময় গ্রামের ভেতর থেকে মোটরসাইকেলযোগে বাইগুনী
চারমাথা বাজারের উদ্দেশ্যে বের হন আবু জাফর মো. সৌরভ। তালোড়া বাইগুনী সরকারি প্রাথমিক
বিদ্যালয়ের সামনে এসে তিনি রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা ধান বোঝাই ভ্যানের কারণে আটকে
যান। এরপর তিনি টানা হর্ন বাজাতে থাকেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হর্নের শব্দে বিরক্ত
হয়ে আতিকুল ইসলাম মোটরসাইকেল চালককে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলেন এবং ভ্যান সরানোর চেষ্টা
করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। খবরটি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে
পড়লে দুই পক্ষের স্বজন ও সমর্থকরা ঘটনাস্থলে এসে জড়ো হন। পরে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে উভয়
পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হন।
আহত
আতিকুল ইসলামের মামা জহুরুল ইসলাম বলেন, আমার ভাগ্নে দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ। ধান
বোঝাই ভ্যান সরাতে কিছুটা সময় লাগবেই। সে শুধু একটু সময় চেয়েছিল। কিন্তু মোটরসাইকেল
চালক কোনো কথা না শুনেই ক্ষিপ্ত হয়ে আমার ভাগ্নেকে মারধর করে। পরে তাদের লোকজন এসে
আরো কয়েকজনকে মারধর করে আহত করে। আমার ভাগ্নের অবস্থা গুরুতর, তাকে বগুড়ায় ভর্তি করা
হয়েছে।
অন্যদিকে
আহত আবু জাফর মো. সৌরভের মামা মো. আমজাদ হোসেন দাবি করেন, ভ্যান সরাতে বলায় আতিকুল
আমার ভাগনাকে গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে হাতাহাতির সময় তার শার্ট ও গেঞ্জি ছিঁড়ে ফেলা
হয়। পরে উভয় পক্ষের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে আমাদের পক্ষের ছয়জন
আহত হয়েছেন। আমার ভাগ্নের অবস্থাও আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে বগুড়ায় পাঠানো হয়েছে।
কালাই
থানার তদন্ত পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) দীপেন্দ্রনাথ সিংহ বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে দ্রুত
ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে নতুন করে যাতে
কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য এলাকায় পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো
পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তিনটি পণ্যবাহী গাড়ির সংঘর্ষে এক ট্রাকের হেলপার নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুইজন। দুর্ঘটনার পর তিনটি গাড়ির চালকই ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।
শনিবার (২৭ জুন) রাত দেড়টার দিকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাতিসা নতুন রাস্তা এলাকায় মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত হেলপারের নাম সিয়াম (২৫)। তিনি ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার ওসমানগঞ্জ এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে।
মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন জানান, একটি কাভার্ডভ্যান মহাসড়কে চলন্ত অবস্থায় কোনো ধরনের সংকেত না দিয়েই হঠাৎ রাস্তার বাম পাশে থামার চেষ্টা করে। এ সময় পেছন থেকে আসা একটি মালবোঝাই ট্রাক দ্রুতগতিতে এসে কাভার্ডভ্যানটির পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রাকের সামনের অংশ এবং কাভার্ডভ্যানটির পেছনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
সংঘর্ষে ট্রাকের হেলপার সিয়াম ও ট্রাকে থাকা আরও দুইজন গুরুতর আহত হন। এর কিছুক্ষণ পর একই দিক থেকে আসা আরেকটি কাভার্ডভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ওই দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটির পেছনে ধাক্কা দিলে ট্রাকটির পেছনের অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পরে স্থানীয়রা আহত তিনজনকে উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক হেলপার সিয়ামকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর দুইজনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার ওসি রুহুল আমিন বলেন, ‘নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। রেকারের মাধ্যমে দুর্ঘটনাকবলিত তিনটি যানবাহন মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’
মন্তব্য করুন


পবিত্র
ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটি শেষে আজ থেকে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরেছে দেশের সব সরকারি ও
বেসরকারি অফিস-আদালত। ফলে রাজধানীসহ সারা দেশের প্রশাসনিক কেন্দ্রগুলোতে কর্মচাঞ্চল্য
ফিরতে শুরু করেছে।
সোমবার
(১ জুন) সকাল থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি
লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত হয়ে
পড়েন তারা।
ঈদুল
আজহা উপলক্ষে গত ২৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা সরকারি ছুটি ছিল। ঈদ উদ্যাপন শেষে প্রথম
কর্মদিবসে আজ সকালে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে অফিস করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সকাল
৯টার কিছু পরেই তিনি সচিবালয়ে প্রবেশ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর
পাশাপাশি প্রথম কর্মদিবসেই সকালে সচিবালয়ে নিজ নিজ দপ্তরে উপস্থিত হন স্বাস্থ্য ও
পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির,
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের
খান চৌধুরীসহ মন্ত্রিসভার বেশ কয়েকজন সদস্য।
দীর্ঘ
ছুটির পর সহকর্মীদের সঙ্গে দেখা হওয়ায় সকাল থেকেই সচিবালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে ঈদের শুভেচ্ছা
বিনিময় ও কোলাকুলির এক উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। তবে প্রথম কর্মদিবসে বিভিন্ন
মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অনেক কক্ষেই কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিতি তুলনামূলক কিছুটা
কম ছিল।
সংশ্লিষ্টরা
জানিয়েছেন, দূরপাল্লার যাত্রা ও যানজটের কারণে কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী এখনো কর্মস্থলে
পৌঁছাতে পারেননি, যা আগামী দু-এক দিনের মধ্যে স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
সরকারি
অফিস খোলার পাশাপাশি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শেয়ারবাজার ও বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানেও
স্বাভাবিক লেনদেন ও কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ছুটির পর প্রথম দিনেই বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে
সাধারণ মানুষের সেবাগ্রহণ কার্যক্রমও স্বাভাবিক হতে দেখা গেছে। অনেক দিন পর সেবা নিতে
আসা মানুষের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।
উল্লেখ্য,
ঈদের দীর্ঘ ছুটির সময়ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, ফায়ার সার্ভিস,
জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ও হাসপাতাল, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট এবং
ডাক বিভাগের মতো জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় সেবাগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা
নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
মন্তব্য করুন


জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব-এর ৬টি পদ সংরক্ষণ করেছেন। এই উপলক্ষ্যে সচিবালয়ের সকল শ্রেণীর কর্মকর্তা ও কর্মচারীর পক্ষে থেকে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব আবদুল খালেক এর নেতৃত্বে উপসচিব-এর ৬টি পদ সংরক্ষণের অফিস আদেশ হাতে পেয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এপিডিকে ফুলেল শুভেচ্ছা দিয়ে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।
বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী
সমিতির মহাসচিব মাহে আলম, পার্সোনাল অফিসার সমিতির সভাপতি মোহা: সালাহউদ্দীন, নজরুল
ইসলাম, জাহেদা, সেলিনা, নুরুল আলম, রফিক, হান্নান সরদার, নুর নওয়েজ, মনিরুজ্জামান,
আক্তার, কামাল হোসেন, গাজীউর রহমান, ফরিদ, রিয়াদ, সাদ্দাম হোসেন, আলমগীর, মুননাফসহ
এছাড়া বিভিন্ন সংগঠন-এর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন