

বিএনপির
চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে কাটানো সময়ের স্মৃতিচারণা করলেন
তাঁর নাতনি জাইমা রহমান। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা জাইমা।
তিনি আজ মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্টে দাদু খালেদা জিয়ার
সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কেমন ছিল, সে কথা তুলে ধরেন।
জাইমার
পোস্টটি হলো— দাদুকে নিয়ে আমার সবচেয়ে প্রিয় স্মৃতিগুলোর একটি হলো,
পরিবারকে আগলে রাখা একজন অভিভাবক হিসেবে তিনি কতটা মমতাময়ী ছিলেন! আমার বয়স তখন এগারো।
আমাদের স্কুলের ফুটবল টিম একটা টুর্নামেন্ট জিতেছিল, আর আমি মেডেল পেয়েছিলাম। আম্মু
আমাকে সরাসরি দাদুর অফিসে নিয়ে গিয়েছিলেন, আমি যেন নিজেই দাদুকে আমার বিজয়ের গল্পটা
বলতে পারি; তাঁকে আমার বিজয়ের মেডেলটা দেখাতে পারি। আমি খুব উচ্ছ্বসিত হয়ে গোলকিপার
হিসেবে কী কী করেছি, সেটা বলছিলাম; আর স্পষ্ট টের পাচ্ছিলাম, দাদু প্রচন্ড মনোযোগ নিয়ে
আমাকে শুনছেন। তিনি এতটাই গর্বিত হয়েছিলেন যে পরে সেই গল্পটা তিনি অন্যদের কাছেও বলতেন।
আমি সব সময়ই জানতাম, আমার দাদুর কাঁধে একটা দেশের দায়িত্ব। তবুও আমার স্মৃতিতে দাদু
হলেন পরিবারকে আগলে রাখা একজন মমতাময়ী অভিভাবক। লাখো মানুষের কাছে তিনি ছিলেন দেশের
প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু আমার আর আমার কাজিনদের কাছে তিনি ছিলেন ‘দাদু’।
আমাদের ‘দাদু’। তিনি সব সময় আমাদের খেয়াল রাখতেন, আমাদের জন্য সময়
বের করতেন, আর যেসব মুহূর্ত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, সেগুলোতে আমাদের সাহস দিতেন,
উজ্জীবিত করতেন। এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলো থেকেই আমি নেতৃত্বের প্রথম শিক্ষা পাই। সেটি
হলো, নম্রতা, আন্তরিকতা আর মন দিয়ে শোনার মানসিকতা।
বাংলাদেশের
বাইরে কাটানো সতেরোটা বছর আমার জীবন অনেকভাবে বদলে দিয়েছে। কিন্তু আমি কখনোই আমার
শিকড় ভুলে যাইনি। কারণ, আমাদের সত্তার যে ভিত্তি, আমাদের যে সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ;
সেটিই আমাদেরকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে, পরিচয় বহন করে। প্রবাসে থাকা দ্বিতীয় ও তৃতীয়
প্রজন্মের অনেক বাংলাদেশির মতো আমিও নিজ দেশের বাইরে, ভিন্ন দেশে অনেকগুলো বছর কাটিয়েছি।
লন্ডনের দিনগুলো আমাকে বাস্তববাদী করেছে, একটা বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েছে। যদিও আমার
হৃদয়-মন সব সময় বাংলাদেশেই ছিল। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা আমাকে শৃঙ্খলা ও বিষয়ভিত্তিক
জ্ঞান শিখিয়েছে। তবে মানুষের সঙ্গে কাজ করা আমাকে শিখিয়েছে আরও অনেক বেশি; শিখিয়েছে
দায়িত্বশীল হতে, বিপদগ্রস্তের পাশে দাঁড়াতে। আইন পেশায় কাজ করার সময় কাছ থেকে দেখা
মানুষগুলোর গল্প, আর সেই গল্পগুলোর যৌক্তিক এবং আইনগত সমাধান খোঁজার দায়িত্ব আমাকে
আলোড়িত করে। প্রত্যেক ক্লায়েন্ট, প্রতিটি মামলা, প্রতিটি মানুষের সমস্যা, কারও না কারও
জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। যারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, অবহেলার শিকার
হয়েছেন, তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে সেই বিশ্বাস দিতে হয় যে তাঁদের বিষয়টি দেখা হচ্ছে, শোনা
হচ্ছে, সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। কারও জীবনের সবচেয়ে কঠিন দিনে তাঁর পাশে দাঁড়ানোর
অভিজ্ঞতা যে শিক্ষাটা দেয়, সেটা কোনো ক্লাসরুম দিতে পারে না। এই প্রতিটা ধাপ আমাকে
ভাবতে শিখিয়েছে, মানুষ হিসেবে কেমন হতে চাই। আমি আমার ‘দাদা’কে
কখনো দেখিনি। কিন্তু তাঁর সততা আর দেশপ্রেমের কথা সব সময় শুনে এসেছি। ‘দাদু’
আর ‘আব্বু’ সেই আদর্শটাই বয়ে নিয়ে চলেছেন। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের
সময় এবং ৫ আগস্টের আগে-পরের সময়টাতে আমি যতটুকু পেরেছি, নেপথ্যে থেকে সাধ্যমতো ভূমিকা
রাখার চেষ্টা করেছি। অধিকাংশ সময় বলেছি কম, বরং শুনেছি বেশি। ছোট ছোট কাজের মাধ্যমে
তাঁদের বোঝা একটু হালকা করার চেষ্টা করেছি।
অনেকগুলো
বছর পর দেশে ফিরছি। দেশে ফেরা মানে আবেগ আর অনুভূতির এক অনন্য সংমিশ্রণ। দেশে ফিরে
ইনশা আল্লাহ, আমি ‘দাদু’র পাশে থাকতে চাই। এই সময়টাতে আব্বুকে
সর্বাত্মক সহায়তা করতে চাই। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশের জন্য সর্বস্ব দিয়ে
সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে চাই। নিজের চোখে, নিজের অভিজ্ঞতায় প্রিয় বাংলাদেশকে নতুন করে
জানতে চাই; মানুষের সঙ্গে সামনাসামনি কথা বলতে চাই। যেভাবে এগুনো দরকার, আমি চাই বাংলাদেশ
আবারো সেভাবে সামনে এগিয়ে যাক, গর্জে উঠুক। আমি জানি, আমার পরিবারকে ঘিরে দেশের জনগণের
কৌতূহল রয়েছে, প্রত্যাশা রয়েছে। সেটি কখনো আশার, কখনো প্রশ্নের। সেই প্রত্যাশা পূরণের
দায়ভারও রয়েছে। জনগণের সেই প্রত্যাশা পূরণের চাপ আমরা সবাই কোনো না কোনোভাবে অনুভব
করি; পরিবারে, বন্ধুত্বে, সমাজে।
সংক্ষেপে,
আমার নিজের ভাষায়, এই হলো আমার গল্প। আমাদের প্রত্যেকের জীবনে একটা নিজস্ব গল্প আছে।
এই গল্পগুলোকে ধারণ করে আমরা সবাই হয়তো একসঙ্গে বাকি পথটা হাঁটতে পারি।
মন্তব্য করুন


তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীক এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।
এক শোকবার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে জাতি তার এক মহান অভিভাবককে হারাল। তাঁর মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত।
প্রফেসর ইউনূস বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রীই ছিলেন না; তিনি ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাঁর অবদান, তাঁর দীর্ঘ সংগ্রাম এবং তাঁর প্রতি জনগণের আবেগ বিবেচনায় নিয়ে সরকার চলতি মাসে তাঁকে রাষ্ট্রের অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর আপোষহীন নেতৃত্বের ফলে গণতন্ত্রহীন অবস্থা থেকে জাতি বারবার মুক্ত হয়েছে, মুক্তির অনুপ্রেরণা পেয়েছে। দেশ ও জাতির প্রতি তাঁর অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
রাজনৈতিক মতপার্থক্য সত্ত্বেও জাতির কল্যাণে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা, গণমুখী নেতৃত্ব এবং দৃঢ় মনোবল সব সময় পথ দেখিয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত রাজনীতিককে হারাল।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি’র চেয়ারপারসন, যিনি স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তাঁর স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধান, বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর ১৯৮২ সালে গৃহবধূ থেকে রাজনীতির মাঠে আসা বেগম খালেদা জিয়ার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব স্বৈরশাসক এরশাদের দীর্ঘ ৯ বছরের দুঃশাসনের পতন ঘটাতে প্রধান ভূমিকা রাখে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার বহু কর্ম ও সিদ্ধান্ত দেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছে। তিনি মেয়েদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি চালু করেন, যা বাংলাদেশের নারী শিক্ষার অগ্রগতির ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক জীবনে বেগম খালেদা জিয়া ভীষণভাবে সফল ছিলেন। তিনি কখনো কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনগুলোতে তিনি পাঁচটি পৃথক সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৮ সালে তিনি যে তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, সেখানেই তিনি জয়লাভ করেছিলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর অর্থনৈতিক উদারীকরণের মাধ্যমে তিনি দেশের অর্থনীতির একটি মজবুত ভিত্তি স্থাপন করেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন সংগ্রাম ও প্রতিরোধের এক অনন্য প্রতীক। তাঁর আপোষহীন ভূমিকা দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামে জাতিকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক সাফল্যের কারণেই বেগম খালেদা জিয়া চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছিলেন। মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় তাঁকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং দীর্ঘদিন কারাবাস করতে হয়েছিল।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টা তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার ও দলের নেতাকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
জাতির এই অপূরণীয় ক্ষতির দিনে তিনি দেশবাসীকে শান্ত থাকার ও ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন এবং যার যার অবস্থান থেকে বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া ও প্রার্থনা করার অনুরোধ করেছেন।
মন্তব্য করুন


রাজধানী
ঢাকার সকালটা আজ ছিল ধূসর। ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেছে জিয়া উদ্যান। প্রকৃতি যেন নিজেই নীরব
শোকে আচ্ছন্ন। কিন্তু সেই নিস্তব্ধতার বুক চিরে একটি জায়গায় ভিড়, আবেগ, ভালোবাসা আর
মানুষের দীর্ঘশ্বাস-বেগম খালেদা জিয়ার কবর।
দাফনের
চার দিন পেরিয়ে গেলেও স্মৃতির টান কমেনি। বরং কুয়াশাকে উপেক্ষা করেই সকাল থেকে মানুষ
ছুটে আসছেন প্রিয় নেত্রীর সমাধিস্থলে। কেউ ফুল হাতে, কেউ শুধু নিঃশব্দ দোয়া নিয়ে।
আজ
সমাধিস্থলে গিয়ে দেখা যায়, রাজধানীর নানা প্রান্ত এবং দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা
থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সারিবদ্ধভাবে আসছেন। দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও স্কুল-কলেজের
শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রিয় নেত্রীকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।
ফুলে
ঢেকে যাচ্ছে কবরের বেদি। কেউ মাথা নিচু করে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে আছেন, কেউ চোখ বন্ধ করে
দোয়ায় মগ্ন। পাশের মাইক থেকে ভেসে আসছে পবিত্র কোরানের তিলাওয়াত। সেই ধ্বনি যেন কুয়াশার
মধ্যেও হৃদয়ে পৌঁছে যাচ্ছে।
কবরের
পাশে স্থাপিত ছোট মঞ্চে মাদরাসার ছাত্র ও শিক্ষকরা কোরআন পাঠ করছেন। বাতাসে ভেসে থাকা
সেই আয়াতের সুর পুরো পরিবেশকে আরও ভারী ও আবেগময় করে তুলেছে।
বাংলাদেশ
জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কর্মী মঞ্জুরুল ইসলাম বাসসকে বলেন, “খালেদা জিয়া আমাদের কাছে
শুধু রাজনৈতিক নেত্রী নন-তিনি আমাদের বিশ্বাস, সাহস আর ভালোবাসার নাম। তাঁর আদর্শেই
রাজনীতির পথে এসেছি। তাই তাঁর কবরেই বারবার ফিরে আসি।”
রায়েরবাগ
থেকে আসা রাফিউল বাসসকে বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একজন নির্ভেজাল নেত্রী। তিনি
নিজের জন্য কিছু চাননি, বরং আজীবন দেশ, মাটি ও মানুষের কথা বলেছেন। আজ এখানে এসে মনে
হচ্ছে- আমরা আমাদের নেত্রীর কাছে অতি সামান্য হলেও ঋণ শোধ করছি।”
এক
তরুণ কর্মী কবরের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন অনেকক্ষণ নীরবে। তিনি বাসসকে বলেন, “খালেদা জিয়ার
চলে যাওয়া এখনো বিশ্বাস করতে পারি না। যখন বুঝতে শিখেছি, তখন থেকেই তাঁকে দেখে আসছি।
তাঁর বক্তব্য শুনেছি, মিছিলে হেঁটেছি। তাঁর চলে যাওয়া আমাদের জন্য খুবই কষ্টের।”বিএনপির
পাশাপাশি সহযোগী বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরাও ফুলেল শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।
কুয়াশার
শহরে এই কবর আজ শুধু একটি সমাধি নয়। এটি হয়ে উঠেছে ভালোবাসা, রাজনীতি আর স্মৃতির এক
নীরব মিলনস্থল- যেখানে মানুষ বারবার ফিরে আসে, চোখ ভেজায়, মন হালকা করে।
এই
কবরের পাশে দাঁড়িয়ে কেউ হারানো নেত্রীকে খোঁজে, কেউ নিজের বিশ্বাসকে নতুন করে শক্ত
করে। কেউ আবার সন্তানের হাত ধরে দেখিয়ে দেয় ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। কুয়াশা
যত ঘনই হোক, মানুষের হৃদয়ের এই টানকে ঢেকে রাখতে পারে না। বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার
আন্দোলনের আপসহীন নেত্রী ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ৮০ বছর বয়সে গত
৩০ ডিসেম্বর ভোরে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।
মন্তব্য করুন


ঢাকা মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাড পড়ে নিহত পথচারী আবুল কালামের স্ত্রী আইরিন আক্তার পিয়া মেট্রোরেলেই চাকরি পাচ্ছেন।আজ বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ডিএমটিসিএলের এক কর্মকর্তা জানান, “বিয়ারিং প্যাড দুর্ঘটনায় নিহত আবুল কালামের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার স্ত্রী আইরিন পিয়াকে মেট্রোরেলে চাকরি দেওয়া হবে। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা যাচাই করে উপযুক্ত পদ নির্ধারণ করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা চাইছি যেন পরিবারের প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দ্রুত সহায়তা দেওয়া যায়, যাতে তারা আর্থিক ও মানসিকভাবে কিছুটা স্বস্তি পান।”
গত ২৬ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনের পশ্চিম পাশে ৪৩৩ নম্বর পিলার থেকে বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে পথচারী আবুল কালাম আজাদের (৩৫) মাথায় লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহত আবুল কালাম আজাদ রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। ঘটনার পর তার স্ত্রী “আইরিন আক্তার পিয়া” বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
দুর্ঘটনার পরপরই সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রউফকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ জানায়, দুর্ঘটনার পর পুরো প্রকল্প এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং যান্ত্রিক সরঞ্জামের নিয়মিত পরিদর্শন বাড়ানো হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা আর না ঘটে।
মন্তব্য করুন


জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।
আজ বুধবার (১৫ অক্টোবর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি অধ্যাপক ইউনূসের সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, বৈঠকে কমিশনের পক্ষ থেকে ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ, কমিশন সদস্য বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, সফর রাজ হোসেন, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এবং প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
আগামী ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হবে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং আরও জানান, জুলাই সনদ অনুষ্ঠানের সার্বিক প্রস্তুতি ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে সন্ধ্যায় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠেয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা উপস্থিত থাকবেন।
মন্তব্য করুন


আসন্ন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১০ (ধানমন্ডি, কলাবাগান, নিউমার্কেট ও হাজারীবাগ)
আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
আজ
সোমবার ( ২২ ডিসেম্বর ) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে তিনি ধানমন্ডি থানা নির্বাচন অফিস থেকে
ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে এই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।
১০
ডিসেম্বর সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের
পর উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেন দুই ছাত্রপ্রতিনিধি আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও
মাহফুজ আলম। এর পর থেকেই তাঁদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে নানা
মহলে গুঞ্জন শুরু হয়। উপদেষ্টা পদ ছাড়ার পর আসিফ মাহমুদ কোন দল থেকে নির্বাচনে লড়বেন,
তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ছিল। ধারণা করা হচ্ছিল, তিনি নবগঠিত জাতীয় নাগরিক
পার্টিতে (এনসিপি) গুরুত্বপূর্ণ পদ নিয়ে যোগ দেবেন অথবা গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী
হিসেবে বিএনপি জোটের সমর্থন নিয়ে নির্বাচন করবেন। তবে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে
১২ ডিসেম্বর আসিফ মাহমুদ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যানারে নয়,
বরং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই ঢাকা-১০ আসনে লড়বেন।
ঢাকা-১০
আসনটি রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী এলাকা হওয়ায় এখানে ত্রিমুখী বা চতুর্মুখী
লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। এই আসনে ইতিমধ্যে হেভিওয়েট প্রার্থীরা মাঠে নেমেছেন:
বিএনপির
দলটির নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ রবিউল আলমকে এই আসনের জন্য দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়ন পেয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ
সদস্য জসীম উদ্দিন সরকার।
তবে
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এখন পর্যন্ত এই আসনে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থীর নাম
ঘোষণা করেনি। মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পর আসিফ মাহমুদের সমর্থকেরা ধানমন্ডি এলাকায় উল্লাস
প্রকাশ করেছেন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের অন্যতম এই সমন্বয়কের নির্বাচনী লড়াইয়ে নামার
ঘোষণা তরুণ ভোটারদের মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা তৈরি করেছে।
নির্বাচন
কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ২৯ ডিসেম্বর, বাছাই হবে
৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি, আপিলের দিন ১১ জানুয়ারি, আর আপিল নিষ্পত্তি করা হবে ১২
থেকে ১৮ জানুয়ারি। অবশ্য গতকাল রোববার সংশোধিত তফসিলে রিটার্নিং কর্মকর্তার আদেশের
বিরুদ্ধে প্রার্থীদের আপিল করার সময় দুই দিন কমানো হয়েছে। আপিলের সময় ৫-১১ জানুয়ারি
পরিবর্তন করে ৫-৯ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে। আপিল নিষ্পত্তির তারিখও দুই দিন বাড়ানো
হয়েছে। ১২–১৮ জানুয়ারির পরিবর্তে ১০-১৮ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে।
তফসিলে
মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন রাখা হয়েছে ২০ জানুয়ারি, চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ
ও প্রতীক বরাদ্দের দিন ২১ জানুয়ারি। সব প্রক্রিয়া শেষে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণ হবে।
এবার ভোট গ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে শুরু হয়ে বিকেল
৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে।
এবারের
নির্বাচনে ৩০০টি সংসদীয় আসনের ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্রে ১২ কোটি ৭৬ লাখ ভোটার তাঁদের
ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
সংসদ
নির্বাচনের পাশাপাশি এবার সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার সংশ্লিষ্ট গণভোটও রয়েছে।
এ কারণে কিছু ভোটকক্ষ ও গোপন কক্ষ (যেখানে ব্যালটে সিল দেওয়া হয়) বাড়াবে ইসি। জাতীয়
সংসদ নির্বাচনের জন্য বরাবরের মতো সাদা রঙের ব্যালট পেপার আর গণভোটের জন্য গোলাপি রঙের
ব্যালট পেপার ব্যবহৃত হবে।
মন্তব্য করুন


ঢাকার
দক্ষিণ বনশ্রীতে স্কুলপড়ুয়া কিশোরীর গলাকাটা লাশ উদ্ধারের ঘটনায় সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারের
পর র্যাব বলছে, ‘অনৈতিক প্রস্তাবে’ রাজি না হওয়ায় ওই ছাত্রীকে হত্যা করা
হয়েছে।
সন্দেহভাজন
২৮ বছর বয়সি মিলন মল্লিক নিহতের বাবার খাবার হোটেলের কর্মী ছিলেন। ঘটনার পর থেকে পলাতক
থাকা মিলনকে রোববার রাতে বাগেরহাট সদর থানার বড় সিংগা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
এ বিষয়ে জানাতে সোমবার বিকেলে কারওয়ান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন
আয়োজন করা হয়।
সেখানে
র্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন, হোটেল কর্মচারী হিসেবে
বিভিন্ন সময়ে হোটেলের কাজে ভিকটিমের বাসায় আসা যাওয়া ছিল মিলনের। বেশ কিছুদিন ধরে মিলন
ওই কিশোরীকে ‘অনৈতিক প্রস্তাব’ দিয়ে আসছিল। তিনি বলেন, ঘটনার আগের
রাতে আবারো অনৈতিক প্রস্তাব দিলে মিলনকে গালাগালি করে ওই কিশোরী। এর জেরে পরদিন মিলন
ওই কিশোরীকে বটি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
শনিবার
বিকালে দক্ষিণ বনশ্রীর এল ব্লকের ‘প্রীতম ভিলা’ থেকে ওই ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়।
১৭ ব্ছরের এ কিশোরী রেডিয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
ঘটনার
সময় তার বাবা-মা ও ভাই গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জে ছিলেন। বড় বোন শোভা আক্তার দুপুরে ব্যায়াম
করতে করতে জিমে গিয়েছিলেন। বড় বোন শোভা ফিরে এসে বোনের গলাকাটা মরদেহ দেখে পুলিশে খবর
দেন। এ ঘটনায় শনিবার রাতেই খিলগাঁও থানায় হত্যা মামলা করেন নিহতের বাবা মো. সজিব। অজ্ঞাতনামা
এক বা একাধিক ব্যক্তির জড়িত থাকার কথা বলা হলেও মামলায় সন্দেহভাজন কারো নাম নেই।
বাসার
সামনে শাহজালাল হোটেল নামে একটি খাবারের হোটেল আছে সজিবের। তিনি তার ছেলে শাকিল ও কর্মচারী
দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। দুই মেয়েকে বাসায় রেখে স্ত্রী-ছেলেকে নিয়ে গত ৭
জানুয়ারি জমি সংক্রান্ত কাজের জন্য হবিগঞ্জে গিয়েছিলেন সজিব। হোটেল মালিক গ্রামের বাড়ি
গেলে হোটেলের ৩ কর্মচারীও ছুটিতে যান, কেবল মিলন থেকে যান। সেজন্য মিলন সজিবের বাসা
থেকে খাবার আনতেন।
র্যাব
কর্মকর্তা ফায়েজুল আরেফীন বলেন, “মিলন ঘটনার দিন ১টা ৩৬ মিনিটে ওই বাসায় প্রবেশ করে
এবং খাবার নিয়ে ১টা ৪১ মিনিটে ভিকটিমের বোন শোভার সাথে বেরিয়ে যায়।“শোভা
জিমে থাকাকালীন সময়ে মিলন আবারো ২টা ২৫ মিনিটে ভিকটিমের বাসায় যায় এবং পৌনে ৩টায় বেরিয়ে
যায়।”
প্রাথমিক
জিজ্ঞাসাবাদে মিলন হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আগের রাতে ভিকটিমের
গালিগালাজে ক্ষিপ্ত হয়ে পরদিন প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় মিলন। ঘটনার দিন সে নাইলনের
দড়িসহ ভিকটিমের বাসায় যায় এবং ভিকটিমকে পুনরায় অনৈতিক প্রস্তাব দেয়।“প্রস্তাবে
রাজি না হওয়ায় ভিকটিমের গলায় রশি দিয়ে পেচিয়ে ধরলে সে মাটিতে পরে যায়। ভিকটিম চিৎকার
করলে আশপাশের লোকজন জড়ো হওয়ার আশঙ্কায় মিলন রান্না ঘরের বটি দিয়ে তাকে গলাকেটে হত্যা
করে।”
হত্যার
পর মিলন বাসার আসবাবপত্র তল্লাশি করে কিছু নগদ অর্থ নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার
করেছে বলেও জানান র্যাব কর্মকর্তা ফায়েজুল আরেফীন। মিলনের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের সময়
পরিহিত কালো প্যান্ট ও নীল গেঞ্জি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বটি
ও নাইলনের দড়ি উদ্ধার করে পুলিশ।
র্যাব-৩
অধিনায়ক ফায়েজুল আরেফীন বলেন, “হত্যাকাণ্ডের পিছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না, তা
তদন্তকারী কর্মকর্তার তদন্তে বেরিয়ে আসবে।”
মন্তব্য করুন


সিরাজগঞ্জ শহরে প্রকাশ্য এক কলেজ শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহত শিক্ষার্থীর নাম আব্দুর রহমান রিয়াদ (১৮)। তিনি ইসলামিয়া সরকারি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে শহরের চৌরাস্তা মোড় সংলগ্ন বাহিরগোলা সড়কে তার ওপর এই হামলা চালানো হয়।গুরুতর আহত অবস্থায় রিয়াদকে উদ্ধার করে শহীদ এম মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) প্রণয় কুমার।নিহত রিয়াদ শহরের সয়াধানগড়া খাঁ পাড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি মো. রেজাউল করিমের ছেলে বলে জানা গেছে।ঘটনার সময়ের একটি ভিডিও নিকটস্থ সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, রিয়াদ একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বসে ছিলেন। এ সময় কয়েকজন যুবক চারদিক থেকে এসে অটোরিকশার ভেতরেই তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।পরে স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে রাতে তার মৃত্যু হয়।এ বিষয়ে এসআই প্রণয় কুমার জানান, দেশীয় ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে হামলাকারীরা বিকেলে রিয়াদকে গুরুতর আহত করে। মৃত্যুর পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে এবং দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
মন্তব্য করুন


ঢাকার ভোটার হচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত
চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। এরই মধ্যে ভোটার তালিকায় তার নাম
অন্তর্ভুক্তির জন্য তথ্য সংগ্রহ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
ইসি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ভোটার
তালিকা হালনাগাদকালে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে ডা. জুবাইদা রহমানের তথ্য
সংগ্রহ করা হয়। গত ৬ মে লন্ডনে চিকিৎসা শেষে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দেশে
ফিরলে তার সঙ্গে পুত্রবধূ জুবাইদাও আসেন। পরে ঢাকায় ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের জন্য ঈদুল
আজহার আগে তার ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ ও নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করেন ইসির কর্মকর্তারা।
৫ জুন জুবাইদা লন্ডন ফিরে যান।
আজ সোমবার (২৩ জুন) ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ
সচিব আখতার আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এবারের ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে
জুবাইদার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
ওয়ান-ইলেভেনে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের
আমলে ২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো ছবিসহ ভোটার তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়। সে সময় তারেক
রহমান ও জুবাইদা রহমান লন্ডনে ছিলেন। ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর লন্ডনের উদ্দেশে বাংলাদেশ
ছেড়েছিলেন এই দম্পতি। এরপর তারা দেশে আসেননি।
ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, তথ্য সংগ্রহ
ও নিবন্ধন কার্যক্রম হলেও চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত হবে পুরো হালনাগাদ
কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর। আইন অনুযায়ী হালনাগাদ কার্যক্রম শেষে আগামী বছরের ২ জানুয়ারি
খসড়া ভোটার তালিকা এবং ২ মার্চ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে হবে। তবে ফেব্রুয়ারিতে
নির্বাচন হলে ভোটার তালিকা আইন সংশোধন করে এর আগেই তালিকা চূড়ান্ত করার চিন্তা আছে
ইসির।
মন্তব্য করুন


চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার গয়েশপুর সীমান্তে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে নিহত শহিদুল ইসলাম (৩৭) বা শহিদের মরদেহ সাত দিন পর দেশে ফেরত এসেছে। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে দৌলৎগঞ্জ-মাজদিয়া স্থলবন্দর এলাকায় পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফ মরদেহটি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর কাছে হস্তান্তর করে।
বিজিবির পক্ষে মহেশপুর ৫৮ ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান মরদেহ গ্রহণ করেন। জীবননগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রিপন কুমার দাস জানান, দীর্ঘ সাত দিন পর মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শহিদের বাবা নস্কার আলীসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মাহেদুল ইসলাম গত ২৯ নভেম্বর গয়েশপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে আহত হন। তিনি উপজেলার গয়েশপুর গ্রামের নস্কার আলীর ছেলে। ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা পাঁচ সহযোগী পালিয়ে যান, তবে শহিদুল গুরুতর আহত হন। তাকে প্রথমে কৃষ্ণগঞ্জের গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নতুন চার উপদেষ্টার দপ্তর বণ্টন করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নতুন চার উপদেষ্টার শপথ গ্রহণ শেষে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়।
নতুন উপদেষ্টাদের দপ্তর বন্টনসহ হলো বর্তমান উপদেষ্টাদের দপ্তর দায়িত্বেও পুন:বন্টন ।
নতুন উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদারকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদকে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানকে। এছাড়া স্বরাষ্ট্র এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন লে. জে. জাহাংগীর আলম চৌধুরী।
মন্তব্য করুন