

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার একতারপুর গ্রাম থেকে অস্ত্র ও গুলিসহ এক সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে গ্রেফতার করা হয় তাকে।
গ্রেফতারকৃত সন্ত্রাসী একতারপুর গ্রামের মৃত রেজাউল ইসলামের ছেলে রাজন বিশ্বাস (২৮)।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু আজিফ বলেন, কালীগঞ্জ উপজেলার একতারপুর গ্রামের এক নারী রাজনের নামে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। পরে পুলিশ ওই গ্রামে অভিযান চালিয়ে আসামিকে গ্রেফতার করে।
এসময় তার দেহ তল্লাশি করে ১টি বিদেশি পিস্তল, ১টি ম্যাগজিন ও ২ রাউন্ড গুলি পাওয়া যায়। তার নামে থানায় নাশকতা, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু আজিফ বলেন, গ্রেফতারের পর তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
মন্তব্য করুন


দীর্ঘ
দেড় যুগ পর বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যাচ্ছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক
রহমান।
আজ
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরের পর তিনি সেখানে যাবেন বলে জানা গেছে। এ উপলক্ষে দলীয়
কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
জানা
গেছে, সোমবার দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিট থেকে কার্যালয়ের মূল ফটক বন্ধ করে রাখা হয়।
সীমিত
পরিসরে বিএনপির সিনিয়র নেতারা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করছেন।
কার্যালয়ের
সামনে র্যাবের একটি ডগ স্কোয়াড টিম অপেক্ষমাণ রয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যে সুইপিং কার্যক্রম
শুরু হবে বলে জানা গেছে।
কেন্দ্রীয়
কার্যালয়ের সামনে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের শতাধিক নেতাকর্মী
রয়েছেন।
সিএসএফ
ঘিরে রেখেছে পুরো কার্যালয়। এ ছাড়া পুরো নয়াপল্টন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রয়েছে
কঠোর নজরদারি।
তারেক
রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে দলীয় কার্যালয়। তাকে স্বাগত জানিয়ে
বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরের কর্মকর্তারা ফুলেল শুভেচ্ছা জানাবেন।
মন্তব্য করুন


রাজধানীতে
ছিনতাই ও অপরাধ ঠেকাতে রাস্তার পাশের চা-পান ও সিগারেটের দোকান রাত ১১টার মধ্যে
বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান।
ডিএমপি
কমিশনার বলেন, রাস্তায় পুলিশের স্টিকার লেখা কোনো গাড়ি দেখলে ডিউটিরত পুলিশ অবশ্যই
যাচাই করবেন যে, সেটা আসলেই কোনো পুলিশ অফিসারের গাড়ি কি না। কারণ গাড়িতে পুলিশের
স্টিকার লাগিয়ে বা ডিএমপির লোগো লাগিয়ে সন্ত্রাসীদের চলাফেরার তথ্য পাওয়া গেছে।
যদি যাচাই করে দেখা যায় সেটা পুলিশের গাড়ি নয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত
ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ডিএমপির ক্রাইম ও ট্রাফিক বিভাগ এই বিষয়টি নজর রাখবেন।
তিনি
বলেন, কোনো সন্ত্রাসী ও জঙ্গিগোষ্ঠী যেন কোনো প্রকার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করতে না
পারে সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। এই ধরনের অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর থাকতে
হবে।
কমিশনার
বলেন, অন্যান্য রমজানের চেয়ে এবার রাস্তায় যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল। ডিএমপির
ট্রাফিক বিভাগের সাথে ক্রাইম বিভাগও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছে। ট্রাফিক
নিয়ন্ত্রণ ট্রাফিক বিভাগের একার কাজ, এমনটা ভাবা যাবে না। ক্রাইম বিভাগের যাদের
সামনে রাস্তায় যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা দেখা যাবে তিনি সেখানে কাজ করবেন।
মন্তব্য করুন


টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা মাঠের দখলকে কেন্দ্র
করে যোবায়ের ও সাদপন্থিদের মধ্যে সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় অর্ধশতাধিক।
তাবলিগ জামাতের যোবায়েরপন্থিদের মিডিয়া
সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান ও মাওলানা সাদপন্থিদের মিডিয়া সমন্বয়ক আবু সায়েম বিষয়টি
নিশ্চিত করেছেন।
মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত
৩টার দিকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। নিহতরা হলেন আমিনুল
ইসলাম বাচ্চু (৫৫), বেল্লাল হোসেন (৬০) ও তাইজুল ইসলাম(৭০)।
আহতরা হলেন- আ. রউফ (৫৫), মজিবুর রহমান
(৫৮), আ. হান্নান (৬০), জহুরুল ইসলাম (৩৮), আরিফ (৩৪), ফয়সাল (২৮), তরিকুল (৪২), সাহেদ
(৪৪), উকিল মিয়া (৫৮), পান্ত (৫৫) টঙ্গী, খোরশেদ আলম (৫০) বেলাল (৩৪), আনোয়ার (৫০),
আবু বক্কর (৫৯), আরিফুল ইসলাম (৫০), আনোয়ার (২৬), আনোয়ার (৭৬), ফোরকান আহমেদ (৩৫),
আ. রউফ (৫৫) মজিবুর রহমান (৫৮), আ. হান্নান (৬০), জহুরুল ইসলাম (৩৮), আরিফ (৩৪), ফয়সাল (২৮), তরিকুল (৪২), সাহেদ (৪৪)।
মন্তব্য করুন


খুলনা মহানগরে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ কিশোর গ্যাংয়ের ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে খুলনা সদর থানার সম্মেলন কক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. কুতুব উদ্দিন এ তথ্য জানিয়েছেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলো: যশোর কেশবপুরের সফিনর দফাদারের ছেলে সজল দফাদার (২২), মহানগরের সবুপাড়া মেইল রোডের জনি হাওলাদারের ছেলে সাব্বির গাওলাদার (১৯) ও বাগমারা ২নং ব্যাংকার্স গলির বাসিন্দা মো. সেলিম শেখের ছেলে আকাশ শেখ (১৯)।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. কুতুব উদ্দিন জানান, ৮ জানুয়ারি ভোর সাড়ে ৫টায় খুলনা সদর থানাধীন শেরে বাংলা রোডস্থ পুরতন নির্বাচন অফিসের বিপরীতে হিমু লেনের ভেতর ডাকাতির প্রস্তুতিকালে কিশোর গ্যাংয়ের ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে কভারসহ একটি গুপ্তি, একটি ডাবল সুইচ গিয়ার ছুরি, একটি বাটযুক্ত ধারালো ছুরি এবং একটি লাল টেপ দিয়ে মোড়ানো লোহার রড উদ্ধার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধ খুলনা সদর থানায় ডাকাতির প্রস্তুতির মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, গ্রেপ্তাররা খুলনা মহানগর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কিশোর গ্যাং গ্রুপের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা বিভিন্ন জায়গায় অপরাধজনক ঘটনার সাথে তাদের জড়িত থাকার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করে। তাদের তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তাদের সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও গ্রেফতারের প্রস্তুতি চলছে।
মন্তব্য করুন


শিশুদের
শিক্ষায় নিরাপদ প্রযুক্তি ও বিকাশে সহযোগিতা বাড়াতে গঠিত বৈশ্বিক জোট ‘ফস্টারিং দ্য
ফিউচার টুগেদার’-এ যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে
ঢাকা ছেড়েছেন ডা. জুবাইদা রহমান।
বিমানবন্দর
সূত্র নিশ্চিত করেছে, রোববার (২২ মার্চ) তিনি ঢাকা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের
একটি ফ্লাইটে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হন।
যুক্তরাষ্ট্রের
ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে এই জোটে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান
ও সরকারপ্রধানদের জীবনসঙ্গীরা অংশ নিচ্ছেন। জুবাইদা রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমানের স্ত্রী।
সম্মেলনে
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ (এআই) বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি কীভাবে শিক্ষার প্রসার ঘটাতে
পারে, তা নিয়ে আলোচনা হবে। পাশাপাশি শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রশিক্ষণ এবং শিশুদের অনলাইন
ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করে উন্নত শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া
হবে।
হোয়াইট
হাউসের তথ্য অনুযায়ী, শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো অংশগ্রহণকারী দেশগুলোকে স্বল্পমূল্যে
বা বিনামূল্যে এসব প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ দিতে সম্মত হয়েছে।
সম্মেলনে
অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা নিজ নিজ দেশের প্রেক্ষাপটে উপযোগী প্রযুক্তি নির্বাচন ও বাস্তবায়নে
নিজ নিজ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সম্মেলন
শেষে জুবাইদা রহমানের দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
মন্তব্য করুন


ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা
নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সাইবার নিরাপত্তা আইনের বিতর্কিত ধারাগুলো পুনর্বিবেচনা করা হবে।
সোমবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে
আইসিটি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে এ কথা বলেন তিনি।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা
নাহিদ ইসলাম বলেন, আজকের বৈঠকে মৌলিকভাবে এই বিভাগের বর্তমান অবস্থা, চ্যালেঞ্জ এবং
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। আমরা বলতে চাই, সাইবার সিকিউরিটি আইনের
যে ধারাগুলো নিয়ে সমালোচনা রয়েছে সেগুলো পুনর্বিবেচনা করা হবে। এ সময় তিনি বলেন, কোটা
সংস্কার আন্দোলনের সময়ে যেসব স্টার্টআপ শিক্ষার্থীদের পক্ষ নেওয়ায় বিরূপ আচরণের শিকার
হয়েছে, তাদের বিনিয়োগ নিয়ে পুনর্বিবেচনা করা হবে। দেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন শিক্ষামূলক
প্রতিষ্ঠান ‘টেন মিনিট স্কুল’-এর
জন্য পাঁচ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব গত ১৬ জুলাই বাতিল করে আইসিটি বিভাগের আওতাধীন
সরকারি সংস্থা স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড। টেন মিনিট স্কুলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সিইও
আয়মান সাদিক সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের পক্ষ নিয়ে নিজের ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন।
এর পরই বিনিয়োগ প্রস্তাব বাতিল করা হয়।
এদিকে আন্দোলনকালে ইন্টারনেট শাটডাউন
নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে রবিবারে। কমিটিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার
কথা।
এর পেছনে যদি সাবেক প্রতিমন্ত্রী বা
কোনো সংস্থাপ্রধান জড়িত থাকেন, তাহলে তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে কি না—তা জানতে চাওয়া হলে নাহিদ ইসলাম বলেন,
অবশ্যই পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আজকের মধ্যে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন আসবে। এরপর যদি মূল্যায়ন
করে আরও তদন্ত প্রয়োজন হয়, সেটি করা হবে। এতে যদি সরকারের কোনো লোক, সংস্থা বা মন্ত্রী
কেউ জড়িত থাকেন, অবশ্যই বিচার করা হবে। ইন্টারনেটে অবাধে তথ্যপ্রবাহ হয়, এটি মানবাধিকার।
কিন্তু এই ইন্টারনেট বন্ধ করে মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে, শত শত মানুষকে মেরে ফেলা
হয়েছে। এ বিভাগের প্রকল্পে দুর্নীতি ও অবহেলার সুযোগ নেই।
মন্তব্য করুন


মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) গ্যাস পাইপলাইনের জরুরি প্রতিস্থাপন কাজের জন্য গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকায়।
সোমবার (১৪ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।
সকাল ১০টা হতে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মোট ৮ ঘণ্টা বনানী ডিওএইচএস, শহীদ মঈনুল রোড এবং স্বাধীনতা সরণি সংলগ্ন এলাকায় বিদ্যমান সব শ্রেণির গ্রাহকের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে বলে বলা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস মঙ্গলবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পুনরুত্থান কর্মসূচির উদ্বোধন করে বলেছেন, যে লক্ষ্য নিয়ে তরুণ ছাত্র, জনতা, রিকশাচালক, শ্রমিকরা শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন-সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে এই অনুষ্ঠানমালার মাধ্যমে জুলাই-আগস্ট মাসজুড়ে আমরা গত বছরের প্রতিটি দিনকে আবারও পুনরুজ্জীবিত করব। এই অনুষ্ঠানমালার মাধ্যমে সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে আবার নতুন করে শপথ নেব এবং এটা আমরা প্রতি বছর করব, যাতে স্বৈরাচার আর যেন মাথাচাড়া দিতে না পারে।
আজ মঙ্গলবার (১ জুলাই) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আজ ইতিহাসের এক গৌরবময় ক্ষণ। এক বছর আগে, এই জুলাই মাসে শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন শুরু করেছিল তা এক অভূতপূর্ব গণ-অভ্যুত্থান রচনা করে আমাদের মুক্তির স্বাদ দিয়েছিল। জুলাই ছিল দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে এক অমোঘ ডাক, জনতার এক জাগরণ। সেই আন্দোলনের মর্মবাণী ছিল- “ফ্যাসিবাদের বিলোপ করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ, রাষ্ট্রকে জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থাণের স্বপ্ন ছিল নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ এই মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, আমরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে স্মরণ করার যে অনুষ্ঠানমালা নিয়েছি, এটা শুধু ভাবাবেগের বিষয় নয়, ক্ষোভ প্রকাশের বিষয় নয়। আমরা ১৬ বছর পরে বিরাট বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলাম অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এবং যে কারণে অভ্যুত্থান হয়েছিল, তাৎক্ষণিক তাঁর যে লক্ষ্য ছিল সেটা আমরা পূরণ করতে পেরেছি। কিন্তু তাঁর পেছনে ছিল একটা বিরাট স্বপ্ন- নতুনভাবে রাষ্ট্রব্যবস্থা বিনির্মাণ, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ।
স্বৈরাচার যেন আর কখনও ফিরে আসতে না পারে সে বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, আমরা প্রতি বছর এই সময়টা উদযাপন করব যাতে পরবর্তীতে আবার এই অভ্যুত্থান করার জন্য ১৬ বছর আমাদের অপেক্ষা করতে না হয়। আমরা প্রতি বছর এটা করব, যাতে স্বৈরাচারের কোনো চিহ্ন দেখা গেলেই তাৎক্ষণিক ভাবে আমরা তার বিনাশ করতে পারি।
সেটার জন্য জুলাই গণঅভ্যুত্থান পুনরুত্থান কর্মসূচি পালন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বৈরাচারের প্রথম পাতা মেলার আগেই যেন আমরা তাকে ধরে ফেলতে পারি। ১৬ বছর যেন আমাদের অপেক্ষা করতে না হয়।
প্রধান উপদেষ্টা তাঁর ভাষণে জুলাই গণঅভ্যুত্থাণে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেককে গভীর গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি, সেই সব তরুণ-তরুণী, নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ, কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, রিকশাচালকদের—যারা রাস্তায় নেমে গণতন্ত্রের পতাকা উঁচিয়ে ধরেছিলেন; সাহস, ত্যাগ আর দৃঢ়তার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন’।
জুলাইকে ঐক্যের মাসে পরিনত করার আহ্বান জানিয়ে দেশবাসীর উদ্দেশে সরকার প্রধান বলেন, আমরা আজ মাসব্যাপী যে কর্মসূচির সূচনা করছি, তা শুধুই স্মরণ নয় বরং একটি নতুন শপথ। গত বছরের জুলাইয়ে এ দেশের সকল শ্রেণি-পেশা-বয়সের মানুষের মধ্যে যে ঐক্য তৈরি হয়েছিল, আমরা চাই, এই জুলাইয়ে সেই ঐক্য আবার সুসংহত হোক।
তিনি বলেন, ‘আমাদের এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য— জনগণকে গণতান্ত্রিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা, রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার দাবি জানানো এবং রক্তের বিনিময়ে পাওয়া সংস্কারের এই সুযোগকে হারিয়ে না ফেলা। আমাদের সামনের পথ অনেক কঠিন, কিন্তু মস্ত বড় সম্ভাবনাও আছে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, জনগণ যখন জেগে ওঠে, তখন কোনো শক্তিই তাদের রুখে দিতে পারে না। সেই বিশ্বাস নিয়েই আমি আপনাদের আহ্বান জানাই—আসুন, এই জুলাই মাসকে পরিণত করি গণজাগরণের মাসে; ঐক্যের মাসে’।
জুলাই-আগস্টের পুনরুত্থান কর্মসূচির সাফল্য কামনা করে প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে আমাদের স্বপ্ন আবার নতুন করে জেগে উঠুক। আমাদের ঐক্য সর্বমুখী হোক, অটুট হোক আমাদের এই অনুষ্ঠানমালার লক্ষ্য।
উক্ত অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী এবং শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার বক্তব্য রাখেন।
মন্তব্য করুন


সদ্য
সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে বিজয়ী জাতীয় নাগরিক
পার্টির (এনসিপি) নেতা আবদুল হান্নান মাসউদ বলেছেন, ‘আমাদের পুরো হাতিয়া যে ঐক্য দেখিয়েছে
সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে- এটাই আমাদের জয়। আমি বলছি, সন্ত্রাস যা করার করে নিন, বেশি
দিন করতে পারবেন না। তারা মনে করেছে দল ক্ষমতায় এসেছে, তাই যা ইচ্ছা তা করতে পারবে।
তারা আমাদের চানন্দী ইউনিয়নের বাশার মাঝির কথা ভুলে গেছে। তখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল,
বাশার মাঝি আওয়ামী লীগ করেও রক্ষা পায়নি। আজিম তাকে ছাড় দেননি। তাদের বলে দিতে চাই-
বাংলাদেশের সরকার তারেক রহমান হোক, হাতিয়ার সরকার আমরা।’
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটে আয়োজিত এক বিজয়ী পথসভায় তিনি
এই বিস্ফোরক দাবি করেন।
পথসভায়
সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিতে গিয়ে আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, ‘হাতিয়াবাসী সন্ত্রাসীদের
জবাব দিয়েছে। হাতিয়ার মানুষ এমন তাণ্ডবের বিপরীতে দাঁড়িয়ে, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে
এই প্রথম তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে। মা–বোনেরা রাস্তা দিয়ে যেতে পারেনি, কিন্তু
জমি দিয়ে হেঁটে গিয়ে ভোট দিয়েছে। অনেক জায়গায় লাঠি দিয়ে তিনবার বাড়ি দিয়েছে, চতুর্থবার
আবার গিয়ে ভোট দিয়েছে। অনেক রিকশাওয়ালাকে পিটিয়েছে, সে আবার সেই রিকশা নিয়ে গিয়ে ভোট
দিয়েছে।
তিনি
আরও বলেন, ‘আমাদের পুরো হাতিয়া যে ঐক্য দেখিয়েছে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে- এটাই আমাদের
জয়। আমি বলছি, সন্ত্রাস যা করার করে নিন, বেশি দিন করতে পারবেন না। তারা মনে করেছে
দল ক্ষমতায় এসেছে, তাই যা ইচ্ছা তা করতে পারবে। তারা আমাদের চানন্দী ইউনিয়নের বাশার
মাঝির কথা ভুলে গেছে। তখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল, বাশার মাঝি আওয়ামী লীগ করেও রক্ষা
পায়নি। আজিম তাকে ছাড় দেননি। তাদের বলে দিতে চাই- বাংলাদেশের সরকার তারেক রহমান হোক,
হাতিয়ার সরকার আমরা।’
আমরা
কোনও সংঘাত চাই না উল্লেখ করে হান্নান মাসউদ বলেন, ‘আমরা হানাহানি চাই না। আমরা শান্তি
চাই। চাঁদাবাজি–ধান্দাবাজি যারা করবে, তাদের বিরুদ্ধে
আমি আগে দাঁড়াবো- সে যে দলেরই হোক। চাঁদাবাজ–ধান্দাবাজদের বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধ
ঘোষণা করা হলো। আমাদের শান্তি দরকার।’
তিনি
আরও বলেন, ‘এই হাতিয়ার মানুষ অনেক বেশি লাঞ্ছিত হয়েছে, নিপীড়িত হয়েছে- আর হাতিয়ার মানুষকে
নিপীড়িত, নির্যাতিত, লাঞ্ছিত হওয়ার সুযোগ নেই। আমরা হাতিয়ার মানুষকে বাঁচাবোই, বাঁচাবোই,
বাঁচাবোই- ইনশাআল্লাহ।’
তিনি
বলেন, ‘আমরা ঘাট সিন্ডিকেট বন্ধ করেছি, ভবিষ্যতেও এই ঘাট সিন্ডিকেট বন্ধ থাকবে—
ইনশাআল্লাহ। আমি চেষ্টা করবো আগামী সাড়ে ৩ মাসের মধ্যে সাড়ে ১১ কিলোমিটার কাজ সম্পন্ন
করতে। আমার জন্য দোয়া করবেন, আমি যেন আমার দেয়া ওয়াদা বাস্তবায়ন করতে পারি।’
প্রসঙ্গত,
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ আসনে মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা
করেন। এনসিপি মনোনীত শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদ ৯১ হাজার ৮৯৯
ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মাহবুবের রহমান
শামীম পান ৬৪ হাজার ২১ ভোট। বাকি ৮ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
মন্তব্য করুন


জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে কয়েক শহিদ পরিবার আজ রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
বৈঠকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তর গঠন, আহত ও শহিদ পরিবারের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও স্বীকৃতি, আর্থিক সহযোগিতা ও পুনর্বাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা আজকের বৈঠকে শহিদ পরিবারের প্রত্যাশার কথা শুনেছেন এবং সরকারের চলমান কার্যক্রম তুলে ধরার পাশাপাশি সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম, জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক সারজিস আলম।
মন্তব্য করুন