

ইতালির
রাজধানী রোমে বাংলাদেশি একই পরিবারের তিনজনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। স্ত্রী-সন্তানসহ
নিহত কামাল উদ্দিনের বাড়ি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে। বর্তমানে তার বাড়িতে চলছে শোকের
মাতম।
শনিবার
(২৭ জুন) সকালে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় নিহত কামালের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে আত্মীয়-স্বজন
ও প্রতিবেশীদের ভিড় দেখা গেছে। শোকাহত পরিবারকে দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে আসছেন স্বজনরা।
এর
আগে শুক্রবার (২৬ জুন) ইতালির সময় রাত প্রায় ৯টার দিকে রোমের পশ্চিমাঞ্চলীয় অরেলিও
এলাকার ভিয়া মন্টিগ্লিও সড়কের একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা
হলেন, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সিরাজুল ইসলামের
ছেলে কামাল উদ্দিন বাবুল (৩৯), তার স্ত্রী মমতাজ বেগম আরজু (৩৮) ও মেয়ে আরওয়া ইসলাম
আরিশা (৫)। একই ঘটনায় তাদের ছেলে আমির হোসেন অয়ন (১৮) গুরুতর আহত হয়েছেন।
কামালের
চাচাতো ভাই সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, ঘটনার সংবাদ পেয়ে আশপাশের প্রতিবেশী ও নিহতের আত্মীয়-স্বজনরা
বাড়িতে জমায়েত হয়েছেন। ইতালীয় আইনশৃঙ্খলাবাহিনী তাদের লাশ উদ্ধার করেছে এবং আহতকে আশঙ্কাজনক
অবস্থায় স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করেছে। তবে তিনি শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
নিহত
কামালের বাবা সিরাজুল ইসলাম বলেন, এক বছর আগে আমার ছেলে যখন দেশে এসেছিল, তখনই আমাদের
বাড়িতে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে একটি উড়োচিঠি দেওয়া হয়। বিষয়টি আমি স্থানীয় পুলিশ
প্রশাসনসহ সবাইকে জানাই। আমার ছেলে অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিল। আমি এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক
বিচার ও দোষীদের ফাঁসি চাই।
ইতালির
সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে প্রতিবেশীরা ওই ফ্ল্যাট থেকে চিৎকার
শুনতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনের লাশ উদ্ধার
করে। প্রাথমিক সুরতহাল শেষে তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি
আঘাত করে তাদের হত্যা করা হয়েছে।
খবর
পেয়েই রোম পুলিশের বিশেষ শাখা এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ
করে। তবে কী কারণে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কিংবা এর পেছনে কারা জড়িত, সে বিষয়ে এখন
পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানাতে পারেনি প্রশাসন।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর
পল্লবীতে মঙ্গলবার (১৯ মে) সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায়
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারকে এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা
দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
বৃহস্পতিবার
(২১ মে) আইন মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এ
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আইনমন্ত্রী বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের
বিচারকাজ সম্পন্ন করতে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আরও
পড়ুনবড় বোনের পিছে পিছে বের হওয়াই কাল হলো রামিসারধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু রামিসাকে,
মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন
শিশু
রামিসা হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামি গ্রেফতার ও ঘটনার রহস্য উদঘাটন প্রসঙ্গে মঙ্গলবার (১৯
মে) রাতে পল্লবী থানায় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা
বলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন)
এস এন নজরুল ইসলাম।
সংবাদ
সম্মেলনে জানানো হয়, পাশের ফ্ল্যাটের বাথরুমে শিশু রামিসাকে ধর্ষণ করা হয়ে থাকতে পারে।
যার আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে মরদেহ লুকাতে মাথা কেটে ফেলা হয়। এছাড়াও শরীরের
অন্য অংশগুলোও টুকরা করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ঘটনা জানাজানি হয়ে যাওয়ার কারণে
সেটি সম্ভব হয়নি।
নৃশংস
এই হত্যাকাণ্ডের মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা
থেকে এবং তার সহযোগী স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের ৭
নম্বর লেনের বাসা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
মন্তব্য করুন


দিনাজপুরের
বোচাগঞ্জে লিচু দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে
রহিম ঋশি (৩৫) নামে এক যুবককে আটক করেছে এলাকাবাসী।
রোববার
(৩১ মে) উপজেলার ছোট মালগাঁও এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সকালে অভিযুক্ত ওই যুবককে আটক করে
পুলিশকে সোপর্দ করেন স্থানীয়রা।
আটক
রহিম ঋশি (৩৫) পার্বতীপুর উপজেলার মহতপুর গ্রামের মন্টু ঋশির ছেলে।
স্থানীয়রা
জানান, দিনাজপুর বোচাগঞ্জ উপজেলার মালগাও গ্রামে জনি মাস্টার একটি লিচুর বাগান
লিজ নেয়। সেই লিচুর বাগান রহিম ঋশি পাহারা দিতেন। আজ সকালে শিশুটি লিচুর বাগানে থাকা
আম গাছে আম কুড়াতে গেলে রহিম ঋশি লিচু দেওয়ার কথা বলে বাগানের ভেতরে নিয়ে যায় এবং
এক থোকা লিচু দেয়। পরে শিশুটিকে ভুট্টা খেতে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা
করেন তিনি। এ সময় শিশুটি চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন এসে মেয়েটিকে উদ্ধার করে।
এ
বিষয়ে বোচাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, জনি মাস্টারের
বাগানের এক পাহারাদার এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। পরে স্থানীয় জনতা তাকে আটক করে।
ঘটনার খবর পেয়ে মোবাইল টিম পাঠানো হলে তারা ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে
থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। মামলার
প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মামলা সম্পন্ন হলে আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হবে।
মন্তব্য করুন


প্রায়
৩৮ বছর আগে অভিমান করে বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়া মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বাসিন্দা জাবেদ
আলী অবশেষে ফিরে এসেছেন নিজের গ্রামে। দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর তার আকস্মিক প্রত্যাবর্তনে
পরিবার ও এলাকাজুড়ে তৈরি হয়েছে আলোড়ন।
স্থানীয়
সূত্রে জানা যায়, বামন্দী ইউনিয়নের বাসিন্দা জাবেদ আলী প্রায় চার দশক আগে পারিবারিক
অভিমানের জেরে বাড়ি ছাড়েন। এরপর পরিবারের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না। দীর্ঘ সময়
ধরে খোঁজাখুঁজির পরও কোনো সন্ধান না পাওয়ায় স্বজনরা একপর্যায়ে ধরে নিয়েছিলেন তিনি আর
বেঁচে নেই।
গত
সোমবার হঠাৎ নিজ গ্রামে ফিরে আসেন ৭০ বছর বয়সী জাবেদ আলী। তবে তিনি সরাসরি নিজের বাড়িতে
না উঠে বড় ভাইয়ের বাড়িতে অবস্থান নেন। দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর স্ত্রী রুশিয়া খাতুনের সঙ্গে
দেখা হলেও তাদের মধ্যে কোনো কথোপকথন হয়নি।
জাবেদ
আলী জানান, বাড়ি ছাড়ার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে শেষ পর্যন্ত মানিকগঞ্জে স্থায়ী
হন। সেখানে জমি কিনে বসবাস শুরু করেন। দ্বিতীয় সংসারও গড়েছিলেন, তবে তার দ্বিতীয় স্ত্রী
কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। বর্তমানে সেখানে তার একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
তিনি
বলেন, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার ইচ্ছা থাকলেও লেখাপড়া না জানা এবং যোগাযোগের মাধ্যমের
অভাবে তা সম্ভব হয়নি। আর্থিক ও ব্যক্তিগত নানা কারণে এতদিন বাড়ি ফেরা হয়নি বলেও জানান
তিনি।
অন্যদিকে,
স্ত্রী রুশিয়া খাতুন বলেন, স্বামী চলে যাওয়ার পর দীর্ঘ বছর একাই সন্তানদের লালন-পালন
করেছেন। এই সময়ে তিনি কোনো খোঁজখবর বা আর্থিক সহায়তা পাননি। তাই পারিবারিক ও আর্থিক
বিষয়গুলোর সমাধান ছাড়া তাকে গ্রহণ করা কঠিন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে
জাবেদ আলীর ফিরে আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে তাকে দেখতে ভিড় করছেন এলাকার মানুষ। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা
জানিয়েছেন, পরিবারের মধ্যে বিদ্যমান জটিলতা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে।
সবাই আশা করছেন, দীর্ঘদিনের বিচ্ছেদ শেষে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নতুন করে সম্পর্কের
বন্ধন গড়ে উঠবে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় জাহাঙ্গীর হোসেন (৪০) নামে এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধরের পাশাপাশি চাইনিজ কুড়াল দিয়ে পায়ে আঘাত করলে কুড়ালটি তার পায়ে বিদ্ধ হয়ে আটকে যায়। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রোববার (২১ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জগন্নাথপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত জাহাঙ্গীর হোসেন জগন্নাথপুর এলাকার বাবা শাহ বাড়ির মৃত সাজু সরদারের ছেলে।
জানা যায়, এলাকায় মাদক ব্যবসা ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সোচ্চার ছিলেন জাহাঙ্গীর। ঘটনার দিন তিনি কথিত কিশোর গ্যাং সদস্য বাদলকে মাদক ব্যবসা না করার জন্য নিষেধ করেন। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বাদল, স্বাধীন, সৌরভসহ ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল জাহাঙ্গীরের ওপর হামলা চালায়।।পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তার পায়ে বিদ্ধ থাকা কুড়াল অপসারণের জন্য অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকরা তার অবস্থা পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ইকবাল জানান, হামলাকারীরা প্রথমে তাকে মারধর করে। পরে ধারালো চাইনিজ কুড়াল দিয়ে তার পায়ে আঘাত করলে কুড়ালটি পায়ের ভেতরে বিদ্ধ হয়ে আটকে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
আহত জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কথা বলে আসছি। আজও মাদক ব্যবসা না করার জন্য নিষেধ করেছিলাম। এর জের ধরে তারা দলবদ্ধভাবে আমার ওপর হামলা চালায় এবং কুড়াল দিয়ে আঘাত করে।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
মন্তব্য করুন


পবিত্র হজ পালন শেষে এখন
পর্যন্ত ৫১ হাজার ৯৮১ জন হাজি দেশে ফিরেছেন।
শুক্রবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের
হজ পোর্টালের সর্বশেষ বুলেটিনে এই তথ্য এর পাশাপাশি আরো জানানো হয়, চলতি বছর ৬০ জন
বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার ইসমাইল হোসেন (৬৪) নামে একজন হাজি
মারা গেছেন।
সৌদি আরবের আইন অনুযায়ী, মৃত্যুবরণকারী এসব হাজির মরদেহ সৌদি আরবেই দাফন করা হবে। প্রখর
তাপপ্রবাহ ও অসহনীয় গরমে চলতি বছর রেকর্ডসংখ্যক হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।
বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী,
মারা যাওয়া ৬০ জনের মধ্যে ৪৭ জন পুরুষ এবং ১৩ জন নারী। এর মধ্যে হজের আনুষ্ঠানিকতা
শুরুর আগে ১৭ জন, বাকি ৪৩ জন হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর পর মারা গেছেন। সবার নাম-পরিচয়
প্রকাশ করেছে হজ পোর্টাল। এসব হজযাত্রীর মধ্যে ৪৭ জন মক্কায় মারা গেছেন।
মসজিদুল হারামে তাদের জানাজা
অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ছাড়া হজ পালনের বিভিন্ন পর্যায়ে মদিনায় চারজন, মিনায় সাতজন ও জেদ্দায়
দুজন মারা গেছেন।
অন্যদিকে, মোট ১২৭টি ফ্লাইটে
৫০ হাজারের বেশি হাজি দেশে ফেরার তথ্য জানানো হয় বুলেটিনে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ
এয়ারলাইনস ৫৩টি, সৌদি এয়ারলাইনস ৪৮টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ২৬টি ফ্লাইটে হজ পালন
শেষে তারা দেশে ফেরেন।
চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৮৫ হাজার ২২৫ জন (ব্যবস্থাপনা সদস্যসহ) সৌদি আরবে হজ পালন
করতে যান।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকার সোহরাওয়ার্দী
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে একাধিক চিকিৎসকের
ওপর হামলা করে দুষ্কৃতকারীরা। এ সময় হামলাকারীদের সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার
দিকে এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলের একাধিক চিকিৎসক ও ইন্টার্ন চিকিৎসক
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ইন্টার্ন চিকিৎসকরা
জানান, মাল্টি অর্গাম ফেইলিউর একজন রোগী আইসিইউতে ভর্তি ছিল। তার অ্যাজমার সমস্যা ছিল।
সেখানে তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। যা ক্লিনিক্যালি আমাদের চিকিৎসকরা প্রুভ
করেছেন। মারা যাওয়ার পর কয়েকজন ব্যক্তি চিকিৎসকদের ওপর হামলা করে। আমাদের মনে হয় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে
কোনো একটি গোষ্ঠী এ ধরনের হামলা চালাচ্ছে।
জানা যায়, পরে পুলিশ এবং চিকিৎসকদের
উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। হামলাকারীদের সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন


নিজেদের সংখ্যালঘু হিসেবে নয়, বরং মানুষ
হিসেবে এবং বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করে সাংবিধানিক অধিকার চাওয়ার আহ্বান
জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। একই সঙ্গে হিন্দু
সম্প্রদায়ের ওপর বিভিন্ন হামলার ঘটনায় দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার
প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী
মন্দিরে সনাতন ধর্মালম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস
এ আহ্বান জানান।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস
বলেন, এমন বাংলাদেশ আমরা করতে যাচ্ছি, যেখানে সবাই এক পরিবার। এটা হলো মূল জিনিস। এখানে
পরিবারের মধ্যে কোনো পার্থক্য করা, বিভেদ করা, এটার কোনো প্রশ্নই আসে না। আমরা মুসলমান,
হিন্দু, বৌদ্ধ হিসেবে বিবেচিত নই; মানুষ হিসেবে বিবেচিত। আমাদের অধিকারগুলো নিশ্চিত
হোক। আপনারা যদি টেনে টেনে নিয়ে আসেন আমি ওমুক, আমি তমুক, এটা আবার পুরোনো জায়গায় চলে
গেলো। আপনারা বলেন যে আমি মানুষ, আমি বাংলাদেশের মানুষ, আমার সাংবিধানিক অধিকার এই,
আমাকে দিতে হবে। সব সরকারের কাছে এটাই চাইবেন। সব সমস্যার গোড়া হলো আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো
পচে গেছে। এ কারণেই এসব গোলমাল হচ্ছে। আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঠিক করতে হবে। ন্যায়বিচার
হলে কে বিচার পাবে না আমাকে বলেন। কোন ধর্মের, কোন জাতের, আইনে কি বলা আছে যে মুসলমান
সম্প্রদায় হলে এই আদালতে হবে, হিন্দু হলে ওই আদালতে যাবে। সবার জন্য আইন একটা, কার
সাধ্য আছে সেখানে বিভেদ করে যে এ রকম একটা, ওই রকম একটা। এটা এমন রোগ, মূলে যেতে হবে।
আপনারা যদি বলেন আমাদের সংখ্যালঘুরা, এটা বললে মূল সমস্যা থেকে আমরা দূরে সরে যাচ্ছি।
আমাদের বলতে হবে আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সেটা পেলে বাকস্বাধীনতা
প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আমাদের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এটিই হলো আমাদের মূল লক্ষ্য।
সনির্বন্ধ অনুরোধ আপনারা বিভিন্ন খোপের (বিভেদ) মধ্যে চলে যাইয়েন না। এই খোপ হলে, খোপের
মধ্যে মারামারি-কাটাকাটি লেগে যাবে। এক হয়ে আসেন। এক আইন, আমাদের আইনি অধিকার দিতে
হবে। বলেন, আপনারা আইনি অধিকার পান না, বিচার হয় না। এটাই হলো আসল জিনিস। বিচারব্যবস্থা
আমাদের দিকে তাকায় না, পুলিশ আমাদের দিকে তাকায় না। কারণ, আমি অধিকারটা … করতে পারি
নাই। আমাদের নীতিটা আমরা প্রতিষ্ঠা করতে পারি নাই। খোপ খোপ করতে আরম্ভ করবেন, তারাও
মজা পেয়ে যাবে। ওই মজার খেলাতে আমাদের আর নিয়ে যাইয়েন না। আমরা এসেছি, আমরা এক মানুষ,
আমাদের এক অধিকার। এর মধ্যে কোনো পার্থক্য করা যাবে না। একটু সহযোগিতা করেন আমাদের,
একটু ধৈর্য্য ধরেন। কী করতে পারলাম, কী পারলাম না সেটা পরে বিচার কইরেন। যদি না পারি
আমাদের দোষ দেবেন।
এর আগে সনাতন ধর্মের ধর্মীয় নেতারা
বিভিন্ন সময় তাদের ওপর হামলার কথা তুলে ধরেন এবং অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধানের কাছে এসব
সমস্যার স্থায়ী প্রতিকার চান। ড. মুহাম্মদ ইউনূস অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করে ন্যায়
প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে তাদের আশ্বাস দেন।
মন্তব্য করুন


আগামীকাল মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল)
থেকে শুরু হচ্ছে চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফরম পূরণ
যা চলবে আগামী ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত।
ফরম পূরণ এর ফি নিয়ে শিক্ষা
বোর্ডগুলো বলছে, এবার বিজ্ঞান শাখার পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণের ফি ২ হাজার ৬৮০ টাকা
নির্ধারণ এবং মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার জন্য ফি ২ হাজার ১২০ টাকা।
তবে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা
শাখার কোনো পরীক্ষার্থীর চতুর্থ বিষয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষা থাকলে নির্ধারিত ফি এর সঙ্গে
অতিরিক্ত ১৪০ টাকা যুক্ত হবে। আর নৈর্বাচনিক বিষয়ে ব্যবহারিক থাকলে বিষয়প্রতি আরও ১৪০
টাকা যোগ করা হবে।
এ ছাড়া অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের
ক্ষেত্রে শিক্ষা বোর্ডগুলো বলছে পরীক্ষার্থী প্রতি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ টাকা
। জিপিএ উন্নয়ন ও প্রাইভেট পরীক্ষার্থীদের জন্য ১০০ টাকা তালিকাভুক্তি ফি নির্ধারণ
করা হয়েছে। রেজিস্ট্রেশন নবায়ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫০ টাকা। আর বিলম্ব ফি নির্ধারণ
করা হয়েছে ১০০ টাকা।
তবে কোন শিক্ষার্থী ২৫ তারিখের
মধ্যে ফর্ম পূরণ করতে না পারলে নির্ধারিত সময়ের পর বিলম্ব ফি দিয়ে ২৯ এপ্রিল থেকে ২
মে পর্যন্ত ফরম পূরণ করতে পারবে ।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের এইচএসসি
ও সমমানের পরীক্ষা আগামী ২০ জুন হতে শুরু হবে।
মন্তব্য করুন


কোরবানির
পশুর মাংসের পাশাপাশি চামড়া ও অন্যান্য উপজাত সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা গেলে
জাতীয় অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা সম্ভব বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ
এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
বৃহস্পতিবার
(২১ মে) কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন বাংলাদেশে ‘কোরবানি বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় (মাংস প্রক্রিয়াজাতকারী,
চামড়া সংরক্ষণকারী এবং ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম) প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা
বলেন। কর্মশালা আয়োজন করে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।
ভেটেরিনারি
মেডিকেল টিম, প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা
করে মন্ত্রী বলেন, কোরবানির পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় আপনাদের
সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রশংসনীয়।
মোহাম্মদ
আমিন উর রশিদ বলেন, কোরবানিকে কেন্দ্র করে বিপুলসংখ্যক মানুষ পশু জবাই, চামড়া ছাড়ানো,
মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বণ্টনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে। এ বাস্তবতায় দক্ষ জনবল তৈরির
বিকল্প নেই। বিশেষ করে চামড়া ছাড়ানোর মতো সংবেদনশীল কাজে প্রশিক্ষিত জনবল না থাকলে
চামড়ার গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এর বাজারমূল্য কমে যায়।
প্রাণিসম্পদ
মন্ত্রী বলেন, দেশের মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট তরুণদের প্রশিক্ষণের আওতায় এনে
কোরবানির সময় দক্ষ জনবল তৈরি করা যেতে পারে। এতে একদিকে চামড়ার গুণগত মান উন্নত হবে,
অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের কর্মদক্ষতা ও স্বল্পমেয়াদি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তিনি
বলেন, সরকার প্রয়োজনে সারা বছরব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি বিবেচনা
করবে, যাতে কোরবানির সময় দক্ষতার অভাব না থাকে। মন্ত্রী আরও বলেন, কোরবানির চামড়া অধিকাংশ
ক্ষেত্রেই মাদ্রাসায় দান করা হয়। এ বাস্তবতায় চামড়া সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় লবণ সরবরাহসহ
সরকারি সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। সঠিকভাবে চর্বি পরিষ্কার, লবণ প্রয়োগ ও সংরক্ষণ নিশ্চিত
করা গেলে চামড়ার গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারিত
হবে।
তিনি
বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে কোরবানিযোগ্য পশু উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং দেশীয় উৎপাদন
দেশের চাহিদা পূরণে সক্ষম। দেশীয় খামারিদের সুরক্ষা ও জাতীয় স্বার্থে অবৈধভাবে পাচার
বা চোরাই পথে আসা পশু ক্রয়ের বিষয়ে সচেতনতা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের খামারিদের
স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, জনগণের
সচেতনতা, প্রশিক্ষণ ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে কোরবানির ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত হবে
এবং জাতীয় অর্থনীতিতে প্রাণিসম্পদ খাতের অবদান আরও বাড়বে।
প্রাণিসম্পদ
অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে
উপস্থিত ছিলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। অনুষ্ঠানে
আরও বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন। স্বাগত
বক্তব্য দেন অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. বয়জার রহমান এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন
পরিচালক ডা. বেগম শামছুননাহার আহম্মদ, পরিচালক ড. এ. বি. এম. খালেদুজ্জামান। কর্মশালায়
মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, মাংস প্রক্রিয়াজাতকারী, চামড়া সংরক্ষণকারী
এবং ভেটেরিনারি মেডিকেল টিমের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


২৬ আগস্ট ২০২৪ দেশ জুড়ে পালিত হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান উৎসব শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী।
এ দিনটিকে কেন্দ্র করে আয়োজিত বিবিধ অনুষ্ঠান ও উপাসনালয় সমূহের বিশেষ নিরাপত্তায় অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি নিয়োজিত রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
সেনাবাহিনীর এ তৎপরতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সনাতন ধর্মাবলম্বী জনগণ।
উল্লেখ্য যে, দেশব্যাপী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তায় কাজ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সংঘর্ষ ও অন্যায়কে পরাভূত করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই শ্রীকৃষ্ণের শিক্ষা। এই শিক্ষাকে বুকে ধারণ করে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের মানুষ একসাথে সোনার বাংলা গড়ে তুলবে এই সকলের প্রত্যাশা।
জনগণের এই প্রত্যাশা পূরণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পাশে আছে এবং থাকবে।
মন্তব্য করুন