

নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি;
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আমানগন্ডা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গনে সীমান্তবর্তী শীতার্ত ও দুস্থ মানুষের মাঝে শীতকালীন কম্বল বিতরণ করেছে কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি)।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ) ব্যাটালিয়নের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে মোট ৬০০টি শীতকালীন কম্বল বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিবি, সরাইল সদর দপ্তরের রিজিয়ন কমান্ডার ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সেক্টর কমান্ডার রকিবুল হাসান, কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজসহ অন্যান্য পদবীর কর্মকর্তা, জেসিও এবং বিভিন্ন পদমর্যাদার বিজিবি সদস্যরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) নিজস্ব দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় সীমান্ত রক্ষা ও চোরাচালান দমনের পাশাপাশি মানবিক দায়িত্ব পালনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শীত মৌসুমে সীমান্তবর্তী দরিদ্র ও দুস্থ জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানো বিজিবির নিয়মিত কার্যক্রমেরই অংশ এই কম্বল বিতরণ। এ ধরনের মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে বিজিবির বিশ্বাস ও আস্থার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা। কম্বল পেয়ে শীতার্ত মানুষ বিজিবির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
মন্তব্য করুন


হুমায়ুন
কবীরের বাড়িতে চলছে বাবরি মসজিদ তৈরির জন্য অনুদানে পাওয়া টাকার গণনা। শনিবার, ৬ ডিসেম্বর
অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিনই মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে বাবরি মসজিদের ভিত্তি প্রস্থর
স্থাপন করেন হুমায়ুন কবীর।
সেইদিনই
তিনি জানিয়েছিলেন যে, বাবরি মসজিদ তৈরি করতে খরচ হবে আনুমানিক ৩০০ কোটি টাকা। তবে টাকা
নিয়ে চিন্তা করছেন না হুমায়ুন, কারণ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তিই নাকি ৮০ কোটি
টাকা অনুদান দেন বাবরি মসজিদ তৈরির জন্য। আরও বহু মানুষ টাকা দিচ্ছেন। এরই মধ্যে অনলাইনে
প্রায় ৯৩ লাখ টাকা এবং নগদ অর্থে ১১টি ট্রাংকভর্তি অর্থ জমা পড়েছে নির্মাণ ব্যায়ের
জন্য। এত বিপুল পরিমাণ অর্থ নির্ভুলভাবে গোনার জন্য ৩০ জন কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে এবং
আধুনিক মেশিনের ব্যাবহার করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন,পুরো গোনার কাজ চলছে সিসিটিভির
কড়া নজরদাড়িতে।
বিধায়ক
হুমায়ুন কবির জানান, স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই টাকা গোনার সম্পূর্ণ কাজ ফেসবুকে লাইভে
দেখিয়েছি। তিনি বলেন,মানুষের দানেই তৈরি হবে আমার বাবরি মসজিদ। কারো রাজনৈতিক দলের
ফান্ডিং এ নয়। তাই সব প্রমাণ নিয়েই লাইভ করেছি। এখন পর্যন্ত ৭টি ট্রাংক খোলা
হয়েছে, যেগুলো থেকে ৩৭ লাখ টাকা নগদ পাওয়া গেছে। উপস্থিত আলেম-উলামা এবং ৩০ জন গণকর্মী
সাঁট মেশিন ব্যবহার করে টাকা গণনা করছেন।
হুমায়ুন
দাবি করেছেন, এখন পর্যন্ত এক কোটি ১০ লাখ টাকা অনুদান সংগ্রহ হয়েছে এবং আরও অনেকে এই
প্রচেষ্টায় যুক্ত হচ্ছেন।
মন্তব্য করুন


কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার মধ্য দিয়ে আগামীকাল শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে।এদিন সকাল ১১টায় ঢাকাসহ দেশের আটটি বিভাগে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে ২১ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে শিক্ষার্থীদের আসনবিন্যাস প্রকাশ করা হয়েছে। পরীক্ষায় সময় থাকবে ১ ঘন্টা ৩০ মিনিট। এরমধ্যে ৬০ নম্বরের এমসিকিউ অংশের জন্য বরাদ্দ থাকবে ৪৫ মিনিট। ৪০ মার্কের লিখিত অংশের জন্য বরাদ্দ থাকবে ৪৫ মিনিট।
এছাড়া, (শনিবার) ২৪ ফেব্রুয়ারি ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট, ১ মার্চ (শুক্রবার) বিজ্ঞান ইউনিট এবং ৯ মার্চ (শনিবার) চারুকলা ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


একটি শিশুর শৈশবের চিত্রাঙ্কন হচ্ছে অভিভাবক বা শিক্ষক।
আমরা যেভাবে চাইব সেভাবে তারা গড়ে উঠবে। আমাদের আকাঙ্ক্ষাকে রূপদান করবে। তাই বলে ভূল রূপদান যেন না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। আমরা আমাদের ভালোবাসা তাদের দিতে পারি কিন্তু চিন্তাভাবনা নয়, কারণ তাদের নিজস্ব চিন্তাভাবনা আছে। আসলে কোমল শিশুরা তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছু চাপিয়ে দিলে তাদের স্বপ্নগুলো ভেঙে যায়। নিজে থেকে কিছু করার বা চিন্তাভাবনা করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। হারিয়ে ফেলে তার সৃজনীশক্তি।
তাদের মানসিক বিকাশ হওয়াটা অত্যন্ত জরুরি। চিত্রাঙ্কন হতে পারে তার অন্যতম মাধ্যম।
শিশুরা
তার আশপাশের সুখ, দুঃখ, হাসি, কান্না, পরিবেশ তার ছবির ভাষায় তুলে ধরবে ।
মন্তব্য করুন


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী
প্রার্থীর সংখ্যা চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সারা দেশে ২৯৮টি নির্বাচনী এলাকায়
মোট ১ হাজার ৯৮১ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে ভোটের লড়াইয়ে নামছেন। এর মধ্যে নিবন্ধিত ৫১টি রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী
১ হাজার ৭৩২ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন ২৪৯ জন।
বুধবার ( ২১ জানুয়ারি ) দিবাগত রাতে ইসি সচিবালয়ের
পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক এই তথ্য জানান।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে সর্বোচ্চ ২৮৮টি
আসনে প্রার্থী দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
২৫৩টি আসনে এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ২২৪টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মধ্যে জাতীয় পার্টি ১৯২টি,
গণঅধিকার পরিষদ ৯০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৩৪টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩২টি
এবং আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ৩০টি আসনে তাদের প্রার্থী দিয়েছে।
ইসি জানিয়েছে, বর্তমানে ২৯৮টি আসনের প্রার্থী তালিকা
চূড়ান্ত হলেও পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের জন্য নতুন তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। এ কারণে ওই
দু’টি আসনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা আগামী ২৭ জানুয়ারির পর জানা যাবে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ৭টা
থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ৩০০ সংসদীয় আসনে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে। স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ব্যালট
পেপারের মাধ্যমে এই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, গত ১১ ডিসেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার
(সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছিলেন।
সেই অনুযায়ী ২৯ ডিসেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময়।
মন্তব্য করুন


স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল
মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) বলেছেন, যারা টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমার মাঠ নিয়ন্ত্রণকে
কেন্দ্র করে হতাহতের ঘটনায় জড়িত, তাদেরকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে। এতে ছাড় দেওয়ার
কোনো অবকাশ নেই। খুনিদের কোনো অবস্থায় ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। যারা প্রকৃত দোষী তাদেরকে
আইনের আওতায় আনা হবে।
আজ বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে টঙ্গীতে আসন্ন বিশ্ব ইজতেমা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের
লক্ষ্যে তাবলীগ জামাতের দুই গ্রুপের (জোবায়ের ও সাদ) সাথে বিশেষ আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের
ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম
চৌধুরী বলেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। অন্যায়কারীকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সঠিক তদন্ত
করে আইনের আওতায় আনা হবে। তাবলীগ জামাতের দুই গ্রুপকে অনমনীয় অবস্থান থেকে সরে এসে
ছাড় দিতে হবে। তবেই আমরা একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল বিশ্ব ইজতেমা উপহার দিতে পারব। উপদেষ্টা এ সময় বিশ্ব ইজতেমার মাঠে অনাকাঙ্ক্ষিত
ঘটনায় নিহতদের রুহের মাগফেরাত এবং আহতদের আশু আরোগ্য কামনা করেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সভাপতিত্বে বৈঠকে
উপস্থিত ছিলেন ভূমি উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, তথ্য
ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম, ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, প্রধান উপদেষ্টার
প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়নবিষয়ক বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল আব্দুল হাফিজ
(অব.), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরীসহ
আরও অনেকে।
মন্তব্য করুন


মজিবুর রহমান পাবেল, প্রতিবেদক:
খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেছেন, আমাদের সংবিধানে বলা আছে। দেশের মালিক জনগণ জনগণের হাতেই সকল ক্ষমতা। তারা ঠিক করবে। আগামী পাঁচ বছর কারা দেশ চালাবে, কিভাবে চলবে। জেলা পর্যায়ের পরে প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ে ভোটার গাড়ি যাবে।
৫ জানুয়ারি সোমবার কুমিল্লা টাউন হল মাঠে ফেস্টিভ ইলেকশন ক্যাম্পেইন এর আওতায় নির্বাচনী জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভোটের গাড়ির মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খাদ্য উপদেষ্টা বলেন, ভোটের গাড়ি এখন কুমিল্লায়। আপনারা সবাই নির্ভয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একই দিনে গণভোটে অংশ নিবেন। দীর্ঘদিন ধরে আমরা বাংলাদেশে কোন অংশগ্রহণমূলক ভোট গ্রহণ পাইনি। যাদের বয়স ৩০ থেকে ৩৫ বের তারা কখনো ভোট দিতে পারেনি। এমন অনেকেই আছে। এই অবস্থার অবসান আমরা এবার করতে যাচ্ছি। এই অবস্থার অবসানের জন্য সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
তিনি আরো বলেন, কুমিল্লা জেলা পুলিশকে বলা হয়েছে সর্বাত্মক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য । জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ও অন্যান্য কর্মকর্তাও নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য বলেছেন ।
প্রশাসন বিএনপি'র দিকে ঢুকে গেছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বলা আছে প্রশাসন নিরপেক্ষ থাকবে। এ ধরনের কোন বিচ্যুতি যাতে না ঘটে প্রশাসনের সাথে যারা সংশ্লিষ্ট আছেন তাদেরকে বলা হয়েছে আনুষ্ঠানিকভাবে বলা হয়েছে। আমি আশা করছি অনেকের আশঙ্কা ভুল প্রমাণ করে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ভোট কখনো তারা অঙ্গীকারবদ্ধ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, কুমিল্লা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশেদুল হক চৌধুরী, জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিসার হাবিবুর রহমান কুমিল্লা জেলার প্রশাসনে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
মন্তব্য করুন


মন্তব্য করুন


চব্বিশের
জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ
ট্রাইব্যুনাল-১।
আজ সোমবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন
সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ঐতিহাসিক এই রায় দেন। ট্রাইব্যুনালের
অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
বহুল আলোচিত এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ এনে শেখ
হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের সর্বোচ্চ শাস্তি চান প্রসিকিউশন।
অন্যদিকে, আসামিদের নির্দোষ দাবি করে খালাস চান তাদের পক্ষে
রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী। এছাড়া রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের
খালাস চান তার আইনজীবী।
এই মামলায় প্রসিকিউশন পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম,
প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এস. এইচ. তামিম শুনানি করেন। এছাড়া শুনানিতে বি.
এম. সুলতান মাহমুদ, শাইখ মাহদি, আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্যান্য প্রসিকিউটরা
উপস্থিত ছিলেন।
পলাতক শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে শুনানি করেন
রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। আর রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী
আবদুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ।
ঐতিহাসিক এই মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু
সাঈদের বাবাসহ স্বজনহারা পরিবারের অনেকে। এছাড়া স্টার উইটনেস হিসেবে সাক্ষ্য দেন
জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী নাহিদ ইসলাম এবং
দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান। মোট ৫৪ জন সাক্ষী এই মামলায়
সাক্ষ্য দেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান
কামাল ও আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে গত ১০ জুলাই অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর
আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
একপর্যায়ে দোষ স্বীকার করে ঘটনার সত্যতা উদ্ঘাটনে (অ্যাপ্রোভার)
রাজসাক্ষী হন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।
মন্তব্য করুন


কপ ২৯ সম্মেলনের আগে ন্যায়সংগত জলবায়ু
অর্থায়নের জন্য উন্নত দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন
উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
আজ রাজধানীর পরিবেশ অধিদপ্তরে অনুষ্ঠিত
‘রোড টু বাকু: কপ ২৯ - বাংলাদেশে সিএসওগুলোর জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত অবস্থান’ শীর্ষক
এক সেমিনারে এ আহ্বান জানান তিনি।
পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান
বলেন, জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন ও প্রশমন কৌশলগুলো ন্যায়সংগত হতে হবে এবং সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ
জনগোষ্ঠীকে প্রাধান্য দিতে হবে। আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সংকট মোকাবেলায় একশ’ বিলিয়ন ডলার
প্রদানের প্রতিশ্রুতি বাড়াতে হবে। উন্নত দেশগুলোর অর্থ সাহায্য কিছু আর্থিক সমস্যার
সমাধান করলেও প্রকৃত জলবায়ুর ক্ষেত্রে ন্যায় বিচার হবে না।
পরিবেশ উপদেষ্টা বাংলাদেশ বৈশ্বিক উষ্ণতা
১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখার বিষয়ে দৃঢ় অবস্থানের আশাবাদ পুন:ব্যক্ত
করেন।
তিনি অভিযোজন পদক্ষেপের ওপর গুরুত্বারোপ
করেন এবং তরুণদের এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার আহ্বান জানান।
এছাড়াও আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জগুলো স্পষ্টভাবে
তুলে ধরা এবং উচ্চাভিলাষী প্রশমন উদ্যোগ নিয়ে কথা বলার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন
তিনি।
তিনি কপ ২৯ সম্মেলনের আগে বাংলাদেশে
নাগরিক সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণের গুরুত্বও তুলে ধরেন।
উক্ত সেমিনারে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক
ড. আবদুল হামিদ, এনএসিওএমের নির্বাহী পরিচালক
ড. এস এম মুনজুরুল হান্নান খান, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ
কবির বক্তব্য রাখেন। এতে বিভিন্ন সিএসও, জলবায়ু কর্মী এবং নীতি বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
সেমিনারের মূল লক্ষ্য ছিল কপ ২৯ সম্মেলনের
আগে বাংলাদেশে নাগরিক সমাজের একটি একক অবস্থান গঠন করা।
পরে কপ ২৯ সম্মেলনে জোরালো এডভোকেসির
আহ্বান জানানো হয়, যাতে বৈশ্বিক জলবায়ু আলোচনায় বাংলাদেশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর
কণ্ঠস্বর শোনা যায়।
মন্তব্য করুন


স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেভ দ্য সোসাইটি
অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরাম (এসএসটিএফ) জানিয়েছে, গত ৩৮ দিনে দেশে বজ্রপাতে
৩৫ জন কৃষকসহ অন্তত ৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সংগঠনটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিল
মাসে বজ্রপাতে ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে নারী ১১ জন এবং পুরুষ ২০ জন। চলতি
মাসের ১ থেকে ৮ মে পর্যন্ত বজ্রপাতে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ৯ জন নারী
এবং ৩৪ জন পুরুষ।
বৃহস্পতিবার (৯ মে) প্রকাশিত এসএসটিএফের
গবেষণা সেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি মাসে একদিনে বজ্রপাতে ১১ জন নিহত ও ৯ জন
আহত হয়েছে। বজ্রপাতের ক্ষেত্রে কৃষকরা কীভাবে নিজেদের নিরাপদ রাখতে পারেন- সে বিষয়েও
আলোকপাত করা হয়েছে।
সম্প্রতি মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান,
মানিকগঞ্জের সিংগাইর, ঢাকার নবাবগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিদর্শন করেছেন সংগঠনটির
সদস্যরা। এ সময় ৫০০ জন করে কৃষক নিয়ে দল তৈরি করে বজ্রপাত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা
করেছেন।
এসএসটিএফের সাধারণ সম্পাদক রাশিম মোল্লা
বজ্রপাতের হাত থেকে কৃষকদের বাঁচাতে মাঠে আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের জন্য সরকারের প্রতি
অনুরোধ জানান।
এ ছাড়াও মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত ৪ মাস
বজ্রপাত সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
সংগঠনটি কিছু পরামর্শও দিয়েছে কৃষকদের
জন্য। সেগুলো হলো:
*মাঠে কাজ করার সময় আকাশে কালো মেঘ
দেখে যত দ্রুত সম্ভব নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া।
*বৃষ্টির সময় গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া
থেকে বিরত থাকা।
*খোলা আকাশের নিচে কাজ করার সময় জুতা
পরতে হবে।
*বজ্রপাতের সময় মাঠে কাজ করার সময়
শুয়ে পড়ুন।
ফোরামের সভাপতি ড. কবিরুল বাশার জানান,
বজ্রপাত বাড়ার পেছনে দুটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ক্রমবর্ধমান
প্রভাব এবং বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে গাছ কাটা, বিশেষ করে মাঠের উঁচু গাছ কাটা। গাছপালা
না থাকলে খোলা স্থানে বা মাঠে মানুষের ওপর আঘাত হানে বজ্রপাত। অধিকাংশ মানুষ মনে করেন
ঝড়ের সময় গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়াই ভালো। কিন্তু এটা ঠিক না। ঘরবাড়ি বা স্থাপনায়
আশ্রয় নিতে হবে মানুষকে।
মন্তব্য করুন