

নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি;
কুমিল্লার বরুড়ায় চলন্ত মোটরসাইকেলের চাকায় বোরকা পেঁচিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হাবিবুর রহমান নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে উপজেলার গালিমপুর ইউনিয়নের খামার বাড়ি এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত হাবিবুর রহমান কুমিল্লার শিকারপুর যাত্রাপুর গ্রামের বাসিন্দা।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাবিবুর রহমান ও তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার কুমিল্লা বিশ্বরোড এলাকা থেকে মোটরসাইকেলযোগে ভাউকসার গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে দাওয়াত খেতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে নিজ গ্রাম যাত্রাপুরে ফেরার পথে গালিমপুর খামার বাড়ি এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলটির পেছনের চাকায় বোরকা পেঁচিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনরা জানান, চলন্ত অবস্থায় মোটরসাইকেলের পেছনের চাকায় স্ত্রীর বোরকা পেঁচিয়ে গেলে গাড়িটি মুহূর্তেই নিয়ন্ত্রণ হারায়। এতে আরোহী স্বামী ও স্ত্রী দুজনেই ছিটকে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই হাবিবুর রহমানের মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা ফারজানা আক্তারকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
মন্তব্য করুন


ইলিশের প্রজনন মৌসুমে ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে মাছ ধরতে নেমেছেন জেলেরা। নিষেধাজ্ঞা শেষে প্রথম রাতেই ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে তাদের জালে। মাত্র কয়েক ঘণ্টায় ভালো পরিমাণ মাছ পেয়ে ভোরেই ঘাটে ফিরেছেন অনেকে। এতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার ইলিশ ঘাটগুলোতে।
আজ রোববার (২৬ অক্টোবর) সকালে উপজেলার বুড়িরচর সূর্যমুখী ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ঘাটজুড়ে চলছে ব্যাপক বেচাকেনা। শ্রমিকরা টুকরি ভর্তি ইলিশ মাথায় নিয়ে দৌড়াচ্ছেন নৌকা থেকে বাজারে। পাইকার ও ব্যবসায়ীদের হাঁকডাকে মুখরিত পুরো এলাকা। কেউ দরদাম করছেন, কেউ ট্রলারে মাছ তুলছেন।
সূর্যমুখী ঘাট মাছ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি “আলাউদ্দিন” বলেন, ভোর থেকেই মাছ বিক্রি শুরু হয়েছে। জেলেরা মাত্র কয়েক ঘণ্টায় সাগর থেকে ভালো মানের ইলিশ ধরে এনেছেন। বহুদিন পর এমন জমজমাট বাজার দেখছি।
স্থানীয় জেলে ও নৌকার মাঝি আব্দুল কাদের বলেন, রাত ১২টার পর নদীতে গিয়েছিলাম, সকালে ঘাটে ফিরে এসেছি তিন মণ মাছ নিয়ে। যদিও মাছগুলো একটু ছোট, তবুও দাম ভালো থাকায় লাভ হয়েছে। এখন আবার সাগরে যাচ্ছি। কয়েক দিন এমন মাছ পেলে আগের ক্ষতি পুষিয়ে যাবে।
নিষেধাজ্ঞার সময়কাল নিয়ে কিছু জেলের ছিল ক্ষোভ। তারা বলছেন, ৪ অক্টোবরের পরিবর্তে যদি ১৩ অক্টোবর থেকে নিষেধাজ্ঞা শুরু করা হতো, তাহলে ক্ষতি কিছুটা কমে আসত। কারণ নিষেধাজ্ঞার আগেই সাগরে প্রচুর ইলিশ মিলছিল। তবুও সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে ৪ অক্টোবর বিকেলেই তারা ঘাটে ফিরে আসেন। এখন হাতিয়ার ঘাটগুলো কর্মচঞ্চল, জেলেদের জালে রুপালি ইলিশের নাচন, আর তীরে উঠছে আশা আনন্দে ভরা মাছভর্তি ঝুড়ি। ২২ দিনের অপেক্ষা শেষে আবারও রুপালি স্বপ্নের সন্ধানে সাগরে নেমে হাসি ফিরে এসেছে জেলেদের মুখে। এভাবে যদি মাছ পাওয়া যায়, তবে অতীতের ক্ষতি পুষিয়ে লাভের মুখ দেখা যাবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ী এবং জেলেরা।
মন্তব্য করুন


বরিশালের
আগৈলঝাড়ায় ঋণের কিস্তির টাকা দিতে না পারায় এক গৃহবধূর পালিত হাঁস জোর করে ধরে নিয়ে
যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক এনজিও কর্মীর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলার
বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত
কর্মীর নাম ফিরোজ খাঁন। তিনি ‘ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ’
(টিএমএসএস) নামের একটি এনজিওর মাঠকর্মী। ভুক্তভোগী গৃহবধূর নাম হাফিজা খানম, তিনি ওই
গ্রামের মো. মুরাদ হোসেনের স্ত্রী।
স্থানীয়
ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, হাফিজা খানম ২০২৫ সালের শুরুর দিকে টিএমএসএস থেকে ৬০
হাজার টাকা ঋণ নেন। তিনি নিয়মিত সপ্তাহে ১ হাজার ২৫০ টাকা করে কিস্তি পরিশোধ করে আসছিলেন।
মঙ্গলবার দুপুরে মাঠকর্মী ফিরোজ খাঁন ও তার এক সহযোগী কিস্তি আদায়ে হাফিজার বাড়িতে
যান। হাফিজা টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে সময় চাইলে ফিরোজ খাঁন তা মানতে নারাজ হন।
একপর্যায়ে তিনি উঠানে থাকা হাঁস-মুরগি দেখে টাকার বদলে হাঁস দাবি করেন। গৃহবধূ এতে
রাজি না হয়ে প্রতিবেশীর বাড়িতে গেলে ফিরোজ ও তার সহযোগী হাঁসটিকে ধাওয়া করে ধরে নিয়ে
যান।
হাফিজা
খানম বলেন, “আমি আগামী সপ্তাহে টাকা দেব বলেছিলাম, কিন্তু তারা শোনেনি। আমার মেয়ে লাবিবার
শখের চিনাহাঁসটি তারা জোর করে ধরে নিয়ে গেছে। হাঁসটির বাজারমূল্য ১৫০০-১৬০০ টাকা হলেও
তারা মাত্র ৮০০ টাকা দাম ধরে সেটি নিয়ে যায়।”এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাঠকর্মী ফিরোজ খাঁন
হাঁস নিয়ে যাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “কিস্তির টাকার বদলে ৮০০ টাকা দাম ধরে হাঁসটি
আনা হয়েছে।
টিএমএসএস-এর
ম্যানেজার মো. রাজেক ইসলাম কর্মীর সাফাই গেয়ে বলেন, “ঋণগ্রহীতা হাঁস বিক্রি করেই টাকা
দিতেন। তাই কর্মী দাম ধরে সেটি নিয়ে আসলে অপরাধের কিছু নেই।”
তবে
উপজেলা এনজিও সমন্বয় পরিষদের সভাপতি কাজল দাস গুপ্ত বলেন, “কিস্তির বদলে গ্রাহকের বাড়ি
থেকে হাঁস-মুরগি বা আসবাবপত্র নিয়ে আসার কোনো বৈধতা নেই। টিএমএসএস আমাদের সমন্বয় পরিষদের
আওতাভুক্ত নয়।”উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তপন বিশ্বাস বলেন, “কিস্তির
টাকার পরিবর্তে হাঁস নিয়ে আসা সম্পূর্ণ অবৈধ। ওই এনজিও কীভাবে এখানে কার্যক্রম চালাচ্ছে,
তা খতিয়ে দেখা হবে।”
মন্তব্য করুন


দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির প্রাচীর ভূমিকম্পে নয়, বরং বাড়তি কয়লার চাপে ভেঙে পড়েছে। ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ কয়লার মজুত বেড়ে যাওয়ায় আজ বুধবার (২৬ নভেম্বর) বাড়তি কয়লার চাপে ভেঙে গিয়েছে কয়লা খনির সীমানা প্রাচীরের প্রায় ১৬০ ফুট অংশ।
বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএমসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবু তালেব ফরাজী জানান, খনির ইয়ার্ডে কয়লা রাখার সর্বোচ্চ ধারণ ক্ষমতা ২ লাখ ২০ হাজার টন; কিন্তু বর্তমানে কোল ইয়ার্ডে কয়লার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ লাখ মেট্রিক টন।
তিনি জানান, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খনির উৎপাদিত কয়লার একমাত্র ক্রেতা পার্শ্ববর্তী বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির তিনটি ইউনিটের মধ্যে ২টি ইউনিট বন্ধ থাকায় পর্যাপ্ত কয়লা ব্যবহৃত হচ্ছে না। প্রতিদিন খনিতে কয়লা উত্তোলন হচ্ছে গড়ে ৩ হাজার মেট্রিক টন। ফলে দিনে দিনে বাড়ছে কয়লার মজুত। ইয়ার্ডে জায়গা না থাকায় কয়লার স্তূপ বেড়ে গেছে। এ কারণেই বাড়তি কয়লার চাপেই ভেঙে গেছে খনির সীমানা প্রাচীর। প্রাচীরের ১৬টি পিলারসহ প্রায় ১৬০ ফুট প্রাচীর ভেঙে পড়েছে বলে জানান তিনি।
দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির উৎপাদিত কয়লার ওপর ভিত্তি করে খনির পাশেই ২০০৬ সালে গড়ে উঠে কয়লাভিত্তিক বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। প্রথম অবস্থায় ১২৫ মেগাওয়াট করে মোট ২৫০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট স্থাপন করা হয়। এরপর ২০১৭ সালে ২৭৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন আরেকটি ইউনিট চালু করে এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট উৎপাদন ক্ষমতা বেড়ে দাঁড়ায় ৫২৫ মেগাওয়াট; কিন্তু যান্ত্রিক ত্রুটিসহ নানান জটিলতায় কখনই এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি একসাথে ৫২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারেনি।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, ১২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ২নং ইউনিটটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২০২০ সালের নভেম্বর মাস থেকে বন্ধ রয়েছে। এরই মধ্যে ২৭৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ৩নং ইউনিটটির গভর্নর ভাল্ব স্টিম সেন্সর-এর ৪টি টারবাইন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় গত ১৬ অক্টোবর রাত ৮টা ৩৫ মিনিট থেকে বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে ১২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ১নং ইউনিটটি গত ১৯ অক্টোবর দিবাগত রাতে বয়লার পাইপ ফেটে বন্ধ হয়ে যায়। বয়লার পাইপ মেরামত করে এক সপ্তাহ পর গত ২৬ অক্টোবর রাত ৭টা ১৯ মিনিটে আবার চালু করা হয় ১নং ইউনিটটির বিদ্যুৎ উৎপাদন; কিন্তু এর একদিন পর বিয়ারিংয়ের টেম্পারেচার সেন্সর নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এবং কিছু বাল্ব অকেজো হয়ে পড়ায় গত ২৭ অক্টোবর রাত ৯টা ১৪ মিনিটে বন্ধ হয়ে যায় সর্বশেষ চালু থাকা ১নং ইউনিটটি। ফলে ২৭ অক্টোবর রাত থেকে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় ৫২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন।
এদিকে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় উৎপাদিত কয়লা নিয়ে বিপাকে পড়েছে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি কর্তৃপক্ষ। কয়লা রাখার স্থান সংকুলান না হওয়ায় অব্যাহত উৎপাদন নিয়ে শংকায় পড়েছেন তারা।
খনির কর্মকর্তারা জানান, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির উৎপাদিত কয়লার একমাত্র ক্রেতা বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। কিন্তু একের পর এক বন্ধ থাকায় খনির উৎপাদিত কয়লা ব্যবহার করতে পারছে না বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। এতে মজুত অস্বাভাবিক বেড়ে কয়লা রাখার জায়গা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে খনি কর্তৃপক্ষ।
মন্তব্য করুন


আবেদনের প্রেক্ষিতে দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১০ নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছে বিএনপি।
আজ শনিবার (২২ নভেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত বছরের ১১ আগস্ট বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) অ্যাড. বিলকিস জাহান শিরীনের দলীয় সকল পদ স্থগিত করা হয়েছিল। আজ শনিবার তার সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি এখন থেকে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) হিসেবে বহাল থাকবেন। এ ছাড়া সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য গত ৮ এপ্রিল বরিশাল উত্তর জেলাধীন হিজলা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব দেওয়ান মো. মনির হোসেন, বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মাহফুজ আলম মিঠু, সহসভাপতি নুর হোসেন সুজন, সদস্য ইমরান খন্দকার, বরিশাল মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মশিউর রহমান মঞ্জু, মহানগর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাসুদ রাড়ি, বরিশাল স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব কামরুল হাসান, বরিশাল দক্ষিণ জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন ও বরিশাল মহানগরের অন্তর্গত ৩০নং ওয়ার্ড যুবদলের সদস্য সচিব মো. জাহিদকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে স্থগিত করা হয়েছিল। আবেদনের প্রেক্ষিতে দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক আজ তাদের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


যুব ও ক্রীড়া এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের
উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, কমনওয়েলথ চার্টার হলো বিশ্বের ৫৬টি দেশের
২.৭ বিলিয়ন মানুষের নৈতিক দিকনির্দেশনা। এই চার্টারের মূল্যবোধগুলো অবমূল্যায়িত হলে
একটি দেশের জন্য ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে। তাই এই কর্মশালা শুধু সময়োপযোগী নয়, অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের তরুণরা এই চার্টার সম্পর্কে জানলে তারা জাতি গঠনে আরও দক্ষভাবে
অবদান রাখতে পারবে।
গত ২৩ ও ২৪ জুন ঢাকায় অনুষ্ঠিত দুই
দিনব্যাপী এক কর্মশালায় উদ্বোধনী বক্তব্যে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় কমনওয়েলথ সচিবালয় কর্মশালার আয়োজন করে ।
মন্তব্য করুন


ধর্ম-বর্ণ ও মতের পার্থক্য থাকলেও বাংলাদেশের সব মানুষ একই পরিবারের সদস্য বলে উল্লেখ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
আজ বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্মের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের আগে বিমানবন্দরে দেওয়া নিজের একটি বক্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ড. ইউনূস বলেন, তখন বলেছিলাম আমরা একটা পরিবার। আমাদের নানামত, নানা ধর্ম থাকবে, নানা রীতিনীতি থাকবে কিন্তু আমরা সবাই একই পরিবারের সদস্য। এটাতে জোর দিয়েছিলাম। আমাদের শত পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও আমরা পরস্পরের শত্রু নই। আমাদের জাতীয়তা, পরিচয়ের প্রশ্নে এক জায়গায় চলে আসি। আমরা বাংলাদেশি, এক পরিবারের সদস্য।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বলেন, শপথ গ্রহণের পরে শুনতে আরম্ভ করলাম, সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন হচ্ছে। তখন মনটা খারাপ হয়ে গেল। এর পরপরই ঢাকেশ্বরী মন্দিরে গেলাম। সেখানেও বললাম, আমরা একই পরিবারের সদস্য।
তিনি বলেন, সব দাবিদাওয়া বাদ দিলেও একটা দাবি পরিষ্কার আমাদের সকলের সমান অধিকার, বলার অধিকার, ধর্মের অধিকার, কাজকর্মের অধিকার। সেটা এসেছে সংবিধান থেকে। নাগরিক হিসেবে প্রাপ্য, রাষ্ট্রের দায়িত্ব সেটা নিশ্চিত করা।
অধ্যাপক ড. ইউনূস বলেন, শুনলাম এখনো সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হচ্ছে।
তাই আমি সবাইকে নিয়ে বসলাম, এটা থেকে কীভাবে উদ্ধার করা যায়।
দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সেটা পুরো জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়েছিল। তখন তৃপ্তি পেলাম, একটু তো কাজ করেছি।
ভুল তথ্যের বিষয়ে সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এখন আবার নতুন কথা, হামলা হচ্ছে, অত্যাচার শুরু হচ্ছে। বিদেশি গণমাধ্যম বলব না প্রচারমাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে, এটা হচ্ছে। আমি খোঁজ নিচ্ছি, কী হচ্ছে? সবদিকে দেখলাম এটা হচ্ছে না। এক খবরে বলা হচ্ছে, আরেক খবরে বলা হচ্ছে হচ্ছে না, তথ্যের মধ্যে ফারাক আছে। এটা ঠিক না। এটার অবসান হতে হবে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা যে তথ্য পাচ্ছি তা ভুল হতে পারে। তথ্যের ওপর বসে থাকার কিছুই নাই, এটার অর্থ অন্ধের মতো বসে থাকা। ভেতরে গিয়ে দেখতে হবে। খোঁজ নিতে হবে তথ্যের গরমিল কেন? তাতে ওরা যা বলছে, তা কি মিথ্যা প্রচার? না আমরা যা বলছি তা মিথ্যা প্রচার। সত্যটা কোথায়।
তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্যের কোনো ফারাক নেই। সেখানে সঠিক তথ্য কীভাবে পাব, সেটা আমাদের জানার। প্রকৃত তথ্য, অনেক সময় সরকারি তথ্যের ওপর ভরসা করে লাভ নেই। কর্তা যা চায়, সেভাবে বলে। আসলটা মন খুলে বলতে চাই না। আমরা আসল খবরটা জানতে চাই। সেই প্রক্রিয়াটা প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। এত বড় দেশে যেকোন ঘটনা ঘটতে পারে, কিন্তু প্রকৃত তথ্য জানতে চাই। তাৎক্ষণিক খবর পেলে যাতে সমাধান করা যায়। যেদিক থেকেই দোষী দোষীই। তাকে বিচারের আওতায় আনা সরকারের দায়িত্ব।
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন, প্রথম কথাটা হলো না হওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি করা। আর হয়ে গেলে তাৎক্ষণিক প্রতিকারের ব্যবস্থা করা। আমি যা বলছি, তা দেশের বেশির ভাগ মানুষ মনে করে। আমরা এক পরিবারের মানুষ হিসেবে সামগ্রিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারি। সেখানে তথ্য ও প্রতিকার হলো বড় বিষয়।
তিনি বলেন, আমি পেলাম তথ্য কিন্তু প্রতিকার পেলাম না। সমস্যা হয়ে গেলে সমাধান করতে হবে। আজকের আলোচনা খোলাখুলি, আমরা সবাই আলোচনা করব। আমাদের লক্ষ্যে কোনো গোলমাল নেই। তথ্য প্রবাহ কীভাবে পাব, দোষীকে কীভাবে ধরব, যাতে সবাই সঠিক তথ্যটা পেয়ে যায়।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এমন বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলতে চাই, যার নাম দিয়েছি নতুন বাংলাদেশ। এটা আমাদের করতে হবে। আপনাদের কথা বলে সন্তুষ্ট করে আজকের মতো বিদায় দিলাম তা নয়। এটা দ্রুত করতে হবে। ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে দেখলে হবে না, আমাদের বর্তমানেই করতে যেতে হবে।
সংখ্যালঘু সমস্যার বিষয়ে অবাধ, সত্য তথ্য কীভাবে সংগ্রহ করা যায়, সে বিষয়ে ধর্মীয় নেতাদের পরামর্শ চান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, কীভাবে নিরাপদে সংগ্রহ করব, যে তথ্য দিচ্ছে সে যেন বিব্রত না করে তাও নিশ্চিত হতে হবে।
মন্তব্য করুন


শ্রম,
কর্মসংস্থান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন,
ঈদের আগে শ্রমিকরা তাদের প্রাপ্য বেতন ও বোনাস পেয়েছেন। বর্তমান সরকারের সদিচ্ছায় এটি
সম্ভব হয়েছে।
তিনি
আরও বলেন, শ্রমিকদের বেতন ভাতা পরিশোধের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রায় আড়াই হাজার কোটি
টাকা সহযোগিতা করা হয়েছে।
আজ
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে সিলেটের শাহী ঈদগাহ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এই কথা
বলেন তিনি।
বর্তমান
সরকারকে শ্রমিকবান্ধব উল্লেখ করে শ্রম, কর্মসংস্থান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান
মন্ত্রী বলেন, শুধু দেশের শ্রমিকরাই নয়, বরং বিদেশে অবস্থারত বাংলাদেশি সব প্রবাসী
শ্রমিকের জন্যও কাজ করছে সরকার। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির সময়ের শুরু থেকেই সরকার প্রবাসীদের
পাশে রয়েছে।
আরিফুল
হক চৌধুরী বলেন, সরকার, প্রশাসন, পরিবহন শ্রমিক ও মালিক সবার সহযোগিতা থাকার কারণে
এবার মানুষ স্বস্তিতে বাড়িতে ফিরতে পারছে।
তিনি
বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের সুযোগে কিছু দুষ্কৃতিকারী বাংলাদেশি হয়েও প্রবাসীদের জিম্মি
করে দেশে স্বজনদের কাছে ফোন করে টাকা চাচ্ছে, আমরা এদের শেকড় বের করেছি। প্রবাসীদের
পরিবারকেও এই ব্যাপারে সতর্ক করা হচ্ছে।
মন্ত্রী
বলেন, বন্ধ শ্রমবাজার খোলার পাশাপাশি শ্রমিকদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার।
আগামী মাসেই বিদেশ গমনেচ্ছু শ্রমিকদের ভাষা শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
তিনি
বলেন, চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার চেষ্টা করবে সরকার, যাতে ঝামেলা না হয়।
শ্রম,
কর্মসংস্থান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান আরও বলেন, অনেক লোক দালালদের মাধ্যমে
বিপদ্গ্রস্ত হয়। এই দালালদেরকে কীভাবে নির্বৃত্ত করা যায়, সেই ব্যাপারেও পদক্ষেপ নিচ্ছে
সরকার।
এরপর
বৃহস্পতিবার ঈদ জামাতের প্রস্তুতি পরিদর্শনকালে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রীর সাথে সিলেট
মহানগর পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম ও সিলেট
সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাই রাফিন সরকার উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


আগামী
ফেব্রুয়ারি মাসে রোজা শুরু হবে। এর আগেই তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সংকটের
সমস্যার সমাধান হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ
ফাওজুল কবির খান।
বুধবার
(২১ জানুয়ারি) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত
উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
ফাওজুল
কবির খান বলেন, ইরান থেকে আসা এলপিজির জাহাজগুলোর ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার
কারণে দেশের বাজারে এলপিজির সংকট হয়েছে।
এজন্য
বিকল্প দেশ থেকে এলপিজি আনা হচ্ছে। রমজানের আগেই সমস্যার সমাধান মিলবে।
জ্বালানি
উপদেষ্টা বলেন, যারা এলপিজি আমদানি করেন তাদের সবার সঙ্গে বসেছিলাম। কোম্পানিসহ বড়
আমদানিকারকদের সঙ্গে বসেছিলাম।
বিঘ্নটা
হল কেন? সমস্যার কারণ হচ্ছে আগে আমাদের দেশে ইরান থেকে এলপিজি আসতো। যে জাহাজগুলো ইরানিয়ান
এলপিজি বহন করতো সেগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এজন্যই সমস্যাটা হয়েছে।
এখন তারা অলটারনেটিভ সোর্স থেকে আনছে।
এলজিপি
যারা বিক্রি করে তারা রিসিট দেয় না। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে উপদেষ্টা বলেন, মোবাইল
কোর্ট করে আমরা চেষ্টা করছি যতটা কমানো যায়। আমাদের সামর্থ্যের মধ্যে যতটা করা সম্ভব
সব চেষ্টা করা হচ্ছে গ্রাহক যাতে এলপিজি কম দামে পায়। এলপিজি যেহেতু বেসরকারি খাত,
এখানে সরকারি কোনো নিয়ন্ত্রণ নাই। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিআরসি) মাধ্যমে
এটার মূল্য সমন্বয় হয়।
তিনি
আরও বলেন, এলপিজির আমদানি আগে থেকে মনিটরিং করা হতো না। এখন চিন্তা করছি; বিআরসি ও
জ্বালানি বিভাগের মধ্যে একটা সিস্টেম ডেভেলপ করছি যাতে করে আগাম আমদানির পরিস্থিতি
বুঝতে পারি।
মন্তব্য করুন


দেশের
৬৪টি জেলার মধ্যে ৩৫টিতেই নিপাহ ভাইরাসের রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি
রোগী পাওয়া গেছে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাট জেলায়।
রোগতত্ত্ব,
রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) জানায়, ২০২৪ সালে দেশে নিপাহ ভাইরাসে
মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া গত বছর (২০২৫) দেশে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চারজনের
মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার
(৭ জানুয়ারি) আইইডিসিআরের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘নিপাহ ভাইরাসের বিস্তার ও ঝুঁকি বিষয়ে
মতবিনিময়’ শীর্ষক এক সভায় এ তথ্য জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন
আইইডিসিআরের পরিচালক তাহমিনা শিরীন।
সভায়
আইইডিসিআরের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা বলেন, সাধারণত ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল
মাসকে নিপাহর মৌসুম ধরা হয়। কিন্তু ২০২৫ সালের আগস্ট মাসেও নিপাহ রোগী পাওয়া গেছে।
তাই
ধারণা করা হচ্ছে, খেজুরের কাঁচা রস ছাড়াও সংক্রমণের অন্য কোনো উৎস থাকতে পারে। এ ছাড়া
গত বছর প্রথমবারের মতো ভোলায় রোগী শনাক্ত হয়েছে, যেখানে আগে কখনো এই ভাইরাসের অস্তিত্ব
ছিল না।
তিনি
আরো বলেন, নিপাহ ভাইরাসের জন্য এখনও কার্যকর কোনো চিকিৎসা বা টিকা আবিষ্কৃত হয়নি, যা
পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
আন্তর্জাতিক
উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইইডিসিআর) সংক্রামক রোগ বিভাগের সহযোগী বিজ্ঞানী
ও নিপাহ ভাইরাস জরিপ সমন্বয়কারী ডা. সৈয়দ মঈনুদ্দিন সাত্তার বলেন, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে
৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।
আক্রান্ত
জেলার মধ্যে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাটে সংক্রমণ ও মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে
বেশি।
তিনি
জানান, ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে
প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নিপাহ
ভাইরাসে আক্রান্ত হলে যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে, সেগুলো হলো—জ্বর,
মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট, বমি, কাশি, অসংলগ্ন আচরণ, প্রলাপ বকা, ঘাড় ও পেশিতে ব্যথা, খিঁচুনি
ও অজ্ঞান হয়ে যাওয়া।
নিপাহ
ভাইরাস প্রতিরোধে খেজুরের কাঁচা রস খাওয়া থেকে পুরোপুরি বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন
বিশেষজ্ঞরা।
এছাড়াও,
পাখি বা প্রাণীর আধা খাওয়া কোনো ফল খাওয়া যাবে না এবং যেকোনো ফলমূল পরিষ্কার পানি দিয়ে
ভালোভাবে ধুয়ে খেতে হবে।
মন্তব্য করুন


দেশের তিন বিভাগ এবং উজানে ভারতের আসাম ও ত্রিপুরায় ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়ে সাত জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যার পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
আজ বুধবার (১ অক্টোবর) কেন্দ্র থেকে বলা হয়েছে, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগে ভারি বৃষ্টি হতে পারে। আর চট্টগ্রাম, ফেনী, লালমনিরহাট, নীলফামারী, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণার নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মো. মাহমুদুল ইসলাম শোভন ওই পূর্বাভাসে বলেছেন, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে একটি সুস্পষ্ট লঘুচাপের সৃষ্টি হয়েছে। এটি আগামী ২৪ ঘণ্টায় পশ্চিম-মধ্য ও তৎসংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে এবং আগামী ৪৮ ঘন্টায় দক্ষিণ উড়িষ্যা-উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের অভ্যন্তরে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগে এবং উজানে ভারতের ত্রিপুরা ও আসাম প্রদেশে ভারি থেকে অতি-ভারি বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হয়েছে। আজ বুধবার (১ অক্টোবর সকাল থেকে ৪ অক্টোবর সকাল) পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরে এবং সংলগ্ন উজানে ভারতের প্রদেশে বিচ্ছিন্নভাবে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
৭ জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যার পূর্বাভাস দিয়ে এতে আরও বলা হয়, চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহরী, সেলোনিয়া ও ফেনী নদীগুলোর পানি সমতল গত ২৪ ঘন্টায় বৃদ্ধি পেয়েছে। ওই নদীগুলোর পানি সমতল আগামী ৩ দিন বৃদ্ধি পেতে পারে।
এ সময়ে মুহুরী ও সেলোনিয়া নদী ফেনী জেলায় বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলগুলোতে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে, অপরদিকে ফেনী নদী চট্টগ্রাম জেলায় সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলসমূহ সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
রংপুর বিভাগের ধরলা ও দুধকুমার নদীসমূহের পানি সমতল গত ২৪ ঘন্টায় হ্রাস পেয়েছে এবং তিস্তা নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল আছে জানিয়ে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রে বলছে, নদীগুলোর পানি সমতল আগামী ৩ দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। এ সময়ে তিস্তা নদী সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
ময়মনসিংহ বিভাগের কংস নদীর পানি সমতল গত ২৪ ঘন্টায় হ্রাস পেয়েছে এবং সোমেশ্বরী ও ভূগাই নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল আছে জানিয়ে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ নদীগুলোর পানি সমতল আগামী ৩ দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। এ সময়ে সোমেশ্বরী, ভূগাই-কংস নদীসমূহ শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণা জেলায় সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের উপকুলীয় নদীসমূহে স্বাভাবিকের থেকে উচ্চতর জোয়ার বিরাজমান আছে, যা আগামী ৩ দিন অব্যাহত থাকতে পারে। এদিকে পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর ও এর আশপাশের এলাকায় সুস্পষ্ট লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার বার্তা দিয়ে আবওহাওয়া অধিদপ্তর আজ বুধবার সকালে জানিয়েছে, এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
ঢাকায় আজ বুধবার ভোর ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ২০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। এরমধ্যে গত মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে আজ বুধবার ভোর ৬টা পর্যন্ত ১৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা এই সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ।
আগামী চারদিন এমন ভারি বর্ষণ হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। এছাড়া জলাবদ্ধতা নিয়ে সতর্ক করে কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তারা।
মন্তব্য করুন