

নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি;
কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র, মাদক ও দেশীয় অস্ত্রসহ একাধিক মামলার আসামি মোঃ সোলেমান নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সোমবার ভোরে জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার দূর্গাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল।
গ্রেফতার সোলেমান ওই এলাকার মৃত আবদুল মান্নানের ছেলে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে ৮টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল আলম শাহ্।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোলেমানের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি খেলনা পিস্তল, ৫ রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগাজিন, ৩০ পিস ইয়াবা, পুলিশের ওয়াকিটকি, হ্যান্ডকাপ, ফিল্ড ক্যাপ এবং একটি চাইনিজ কুড়ালসহ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়।
গ্রেফতার সোলেমানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে
মন্তব্য করুন


জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্র সংস্কারে দলের
প্রস্তাব প্রকাশ করেছেন। দলটি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য
রাখা, পুলিশের জন্য স্বাধীন কমিশন গড়ে তোলাসহ বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছে। এ সময় রাষ্ট্র
সংস্কারে সেক্টর অনুযায়ী আলাদা আলাদা ১০টি প্রস্তাবনা তুলে ধরেছে দলটি।
বুধবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে হোটেল ওয়েস্টিনে আয়োজিত 'রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাবনা' শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রস্তাব তুলে ধরেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের।
এর আগে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন,
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অবদানের
কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি। নিহত এবং আহতদের জন্য দোয়া কামনা করেন। অনুষ্ঠান
পরিচালনা করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সম্পাদক মতিউর রহমান
আকন্দ।
জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে, এই ১০ প্রস্তাব শুধুমাত্র অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য। নির্বাচিত কোনো সরকারের জন্য নয়।
এই সরকারের কাছে তাদের মোট ৪১টি প্রস্তাব
আছে, যার মধ্যে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব গণমাধ্যমে তুলে ধরা হয়।
জামায়াতের
সংস্কারের প্রস্তাবগুলো হলো--
১.
আইন ও বিচার
● উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগের জন্য
সুষ্ঠু ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
● বিচার বিভাগ থেকে দ্বৈত শাসন দূর
করতে হবে।
● বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে
পৃথকীকরণের কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
● আইন মন্ত্রণালয় থেকে আলাদা করে সুপ্রিম
কোর্টের অধীনে পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
● ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার স্বার্থে
বিদ্যমান আইনসমূহের প্রয়োজনীয় সংশোধনী ও গণমানুষের মূল্যবোধের সাথে সামঞ্জস্যশীল আইন
প্রণয়ন করতে হবে।
● ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩’ওসকল কালো আইন বাতিল করতে হবে।
● বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা কমাতে বিভাগীয়
পর্যায়ে হাইকোর্ট বেঞ্চ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
● নিম্ন আদালতের যথাযথ স্বাধীনতা নিশ্চিত
করার জন্য পৃথক বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন করতে হবে।
● সকল ফৌজদারি মামলা তদন্তের জন্য স্বাধীন
তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।
● দেওয়ানি মামলার জন্য সর্বোচ্চ ৫
বছর এবং ফৌজদারি মামলাসমূহ সর্বোচ্চ ৩ বছরের মধ্যে নিষ্পত্তি করার বিধান করতে হবে।
২.
সংসদ বিষয়ক সংস্কার
● সংসদের প্রধান বিরোধীদল থেকে একজন
ডেপুটি স্পিকার মনোনীত করতে হবে।
● সংসদীয় বিরোধী দলীয় নেতার নেতৃত্বে
ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
● সংসদে বিরোধী দলীয় সদস্যদের পর্যাপ্ত
সময় দিতে হবে।
৩. নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার
● জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক
ব্যবস্থা (Proportional Representation-PR) চালু করতে হবে।
● সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত
করার লক্ষ্যে কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে স্থায়ীভাবে সন্নিবেশিত করতে হবে।
● নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার
জন্য বিভিন্ন দেশে প্রত্যাখ্যাত ইভিএম ভোটিং ব্যবস্থা বাতিল করতে হবে।
● কোনো সরকারি চাকরিজীবী তাদের চাকরি
ছাড়ার কমপক্ষে ৩ বছরের মধ্যে কোনো ধরনের নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।
● স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে
সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করতে হবে।
● অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার
জন্য সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক ২০০৮ সালে প্রবর্তিত রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন প্রথা বাতিল
করতে হবে।
● নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য কমিশনার
নিয়োগের জন্য প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা ও প্রধান বিচারপতির সমন্বয়ে সার্চ কমিটি
গঠিত হবে।
● জাতীয় সংসদ নির্বাচন একাধিক দিনে
অনুষ্ঠিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
● ঘওউ- ব্যবস্থাপনা নির্বাচন কমিশনের
অধীনে আনতে হবে।
৪. আইনশৃঙ্খলা সংস্কার
ক) পুলিশ বাহিনীর সংস্কার
● ১৮৬১ সালে ব্রিটিশ সরকার প্রণীত পুলিশ
আইন পরিবর্তন এবং পুলিশের জন্য একটি পলিসি গাইডলাইন তৈরি করতে হবে।
● পুলিশ সদস্যদের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি
এবং চাকরিচ্যুতির জন্য স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠন করতে হবে।
● নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি এবং চাকরিচ্যুতির
ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক ব্যক্তির সুপারিশের সুযোগ রাখা যাবে না তথা সর্বপ্রকার
দলীয় ও ব্যক্তিগত প্রভাব বা হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।
● পুলিশ ট্রেনিং ম্যানুয়ালের মধ্যে
ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিক অনুশাসন অন্তর্ভুক্ত
করতে হবে।
● পুলিশের মধ্যে মারণাস্ত্রের ব্যবহার
বাতিল করতে হবে।
● রিমান্ড চলাকালে জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে
আসামি পক্ষের আইনজীবীর উপস্থিতি এবং মহিলা আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাদের অভিভাবকের
উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।
● বিচার বিভাগীয় সদস্যদের দ্বারা পুলিশ
ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান থাকতে হবে।
● পুলিশের ডিউটি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা
উন্নত করতে হবে।
● ‘পুলিশ আইন’ পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জনের
মাধ্যমে আধুনিকায়ন করতে হবে।
খ)
র্যাব বিষয়ক সংস্কার
● র্যাব ও অন্যান্য বিশেষায়িত বাহিনীর
প্রতি জনসাধারণের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে।
● গত সাড়ে ১৫ বছর যারা র্যাবে কাজ
করেছে তাদেরকে স্ব স্ব বাহিনীতে ফিরিয়ে আনতে হবে এবং তাদেরকে পুনরায় র্যাবে নিয়োগ
দেয়া যাবে না।
● বিচারবহির্ভূত সকল প্রকার হত্যাকাণ্ড-
বন্ধ করতে হবে।
● র্যাবের সামগ্রিক কার্যক্রম মনিটরিং-এর
জন্য সেল গঠন করতে হবে। কোনো র্যাব সদস্য আইনবহির্ভূত কোনো কাজে জড়িত হলে এই সেল তার
বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করবে।
● মিডিয়ার ক্ষেত্রে নীতিমালা প্রণয়ন
ও অনুসরণ নিশ্চিত করতে হবে।
৫. জনপ্রশাসন সংস্কার
● জনবল নিয়োগ, বদলি, পদায়নে তদবির,
সুপারিশ ও দলীয় আনুগত্যের পরিবর্তে যোগ্যতা, দক্ষতা ও সততাকে প্রাধান্য দিতে হবে।
● যে কোনো চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি থেকে
শুরু করে নিয়োগ পর্যন্ত সময়ক্ষেপণ না করে যৌক্তিক সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।
● সরকারি চাকরিতে আবেদন বিনামূল্যে
করতে হবে।
● চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা আগামী ২
বছরের জন্য ৩৫ বছর ও পরবর্তী বয়সসীমা স্থায়ীভাবে ৩৩ বছর এবং অবসরের বয়সসীমা ৬২ বছর
নির্ধারণ করতে হবে।
● চাকরির আবেদনে সকল ক্ষেত্রে বয়সসীমার
বৈষম্য নিরসন করতে হবে।
● সকল সরকারি দপ্তরে দুর্নীতি নিরোধকল্পে
বিশেষ ব্যবস্থা তৈরি করা যাতে করে কেউ দুর্নীতি করার সুযোগ না পায়। এ জন্য প্রয়োজনীয়
মনিটরিং-এর ব্যবস্থা করতে হবে।
● চাকরিতে বিরাজমান আন্তঃক্যাডার বৈষম্য
দূর করতে হবে।
● বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে সরকারি
চাকরিতে যারা প্রশ্নপত্র ফাঁস, দুর্নীতি, জালিয়াতি ও দলীয় বিবেচনায় চাকরি পেয়েছে তাদের
নিয়োগ বাতিল করতে হবে।
৬.
দুর্নীতি
● দুর্নীতি দমন কমিশনে পরীক্ষিত সৎ,
ন্যায়পরায়ণ, দক্ষ ও যোগ্য লোক নিয়োগ দিতে হবে।
● রাষ্ট্রের সকল সেক্টরে জবাবদিহিতা
নিশ্চিত করতে হবে।
● দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী করে
নিরপেক্ষভাবে কাজ করার স্বাধীনতা দিতে হবে।
● বিগত সরকারের আমলে দেশ থেকে পাচারকৃত
অর্থ ফেরত আনার উপযুক্ত বিধান প্রণয়ন ও তা কার্যকর করার পদক্ষেপ নিতে হবে।
● মন্ত্রণালয় ভিত্তিক দুর্নীতি দমন
কমিশন গঠন করতে হবে।
● দুর্নীতি দমন কমিশনের আইন সংস্কার,
জনবল ও পরিধি বৃদ্ধি করতে হবে।
● রাষ্ট্রীয় ও জনগণের সম্পদ অবৈধভাবে
ভোগ দখলকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সুস্পষ্ট আইন প্রণয়ন করতে হবে।
৭.
সংবিধান সংস্কার
● রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে
ক্ষমতার ভারসাম্য রাখার বিধান সংযুক্ত করতে হবে।
● একই ব্যক্তি পরপর দুই মেয়াদের বেশি
প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না।
৮.
শিক্ষা ও সংস্কৃতি সংস্কার
ক) বিরাজমান সমস্যার আলোকে শিক্ষা সংস্কার
প্রস্তাব
● ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মাধ্যমিক
এবং একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিকে উচ্চমাধ্যমিক হিসেবে বলবৎ রাখতে হবে। অষ্টম শ্রেণির পাবলিক
পরীক্ষা বাতিল করে পূর্বের পরীক্ষা পদ্ধতি ফিরিয়ে আনতে হবে।
● পাঠ্যপুস্তকে ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের
বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস গুরুত্বের সাথে তুলে ধরতে হবে।
● সকল শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকে ধর্মীয়
মূল্যবোধবিরোধী উপাদান বাদ দিতে হবে।
● সকল শ্রেণিতে নবী করিম সা. এর জীবনীসহ
মহামানবদের জীবনী সংবলিত প্রবন্ধ সংযোজন করতে হবে।
● স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা
করতে হবে। বিদ্যমান স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসাগুলোকে সরকারীকরণ করতে হবে।
● প্রতিটি জেলায় কমপক্ষে একটি করে কামিল
মাদরাসাকে সরকারীকরণ করতে হবে।
● কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষাকে সাধারণ
শিক্ষার মূলধারায় যুক্ত করতে হবে।
● Department of Higher Education নামে
একটি স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠন করতে হবে।
● শিক্ষা সংস্কারের লক্ষ্যে গঠিত শিক্ষা
কমিশনের সকল ধারা তথা সাধারণ, আলিয়া, কওমীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে।
খ)
সংস্কৃতি সংস্কার
● জাতির ঐতিহাসিক আন্দোলন-সংগ্রাম ও
মূল্যবোধের আলোকে বিভিন্ন ধরনের চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে হবে।
● জাতির ঐতিহাসিক দিনগুলোকে স্মরণীয়
করার লক্ষ্যে বিশেষ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় তা পালনের ব্যবস্থা
করতে হবে।
● নাটক, সিনেমাসহ বিভিন্ন বিনোদনমূলক
অনুষ্ঠানগুলো অশ্লীলতামুক্ত করতে হবে। নাটক, সিনেমা ও বিভিন্ন কন্টেন্টে বিভিন্ন ধর্ম,
বিশেষ করে ইসলামকে হেয় করা থেকে বিরত থাকার বিধান প্রণয়ন করতে হবে।
● প্রাণীর মূর্তিনির্ভর ভাস্কর্য নির্মাণ
না করে দেশীয় প্রকৃতি, ঐতিহ্যকে বিভিন্ন চিত্রাঙ্কন-ভাস্কর্যে তুলে আনতে হবে।
● সকল গণমাধ্যমে শিক্ষামূলক প্রোগ্রাম
প্রচার নিশ্চিত করতে হবে।
৯.
পররাষ্ট্র বিষয়ক সংস্কার
● পররাষ্ট্রীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে সকল
গণতান্ত্রিক দেশের সাথে সাম্য ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে পারস্পরিক সম্পর্ক বজায় রাখতে
হবে।
● জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় চীন, নেপাল,
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার আন্তর্জাতিক নদীসমূহের পানিবণ্টন চুক্তির উদ্যোগ নিতে হবে।
● আসিয়ানভুক্ত দেশসমূহের সাথে বাণিজ্যিক
সম্পর্ক বৃদ্ধি করতে হবে।
● অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে বিগত সরকারের
আমলে সম্পাদিত সকল চুক্তি রিভিউ করতে হবে। এক্ষেত্রে একটি রিভিউ কমিশন গঠন করতে হবে।
● বাংলাদেশকে আসিয়ান জোটভুক্ত করার
উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
● শক্তিশালী SAARC পুনর্গঠনের উদ্যোগ
গ্রহণ করতে হবে।
● কোনো দেশের সাথে চুক্তি অথবা সমঝোতা
চুক্তি হলে পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে সেসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক উত্থাপন করে বিস্তারিত
আলোচনা পূর্বক তা অনুমোদন করতে হবে।
১০. ধর্ম মন্ত্রণালয় সংস্কার
● ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশকে (ইফাবা)
রাষ্ট্রের কল্যাণে অর্থবহ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
● ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমিকে স্বতন্ত্র
সংস্থা বা দপ্তরে রূপান্তর করতে হবে, যাতে তারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে।
● ইসলামিক মিশনকে সরাসরি মন্ত্রণালয়ের
অধীনে স্বতন্ত্র সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
● হজ ব্যবস্থাপনার জন্য স্বতন্ত্র অধিদপ্তর
প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
● হজ্জ ও উমরার খরচ কমানোর জন্য কার্যকর
উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
● ইসলামিক ফাউন্ডেশনে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান
প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যেখানে দেশের বরণ্যে আলেমগণ সম্পৃক্ত থাকবেন।
● বিতর্কিত সকল বই বাতিল ও প্রকাশনা
বন্ধ করতে হবে।
● সকল ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় কার্যক্রম
পরিচালনার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয়
নেতা অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, আ ন ম শামসুল ইসলাম, এটিএম মাছুম, সাইফুল আলম খান মিলন,
মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, এহসানুল মাহবুব
জুবায়ের, নূরুল ইসলাম বুলবুল, মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন সহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি;
কুমিল্লা জেলার মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. আলী নুর বশির, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাইনউদ্দিন চিশতি, বিএডিসি (সেচ) নির্বাহী প্রকৌশলী রুবাইয়াত ফয়সাল আল মাসুম, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হাসান হীরা, সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুন, কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মিজানুর রহমানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও)।
সভায় জেলার গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা ও উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে রাস্তা ও ড্রেনের অবস্থা, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং যানজট সমস্যা সমাধানের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে জুলাই শহীদদের কবরের নির্মাণকাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এছাড়া গৃহহীন জুলাই শহীদ ও আহতদের জন্য ঘর নির্মাণের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় জানানো হয়, মুরাদনগর উপজেলায় আহত ও গৃহহীন জুলাই যোদ্ধার জন্য ইতোমধ্যে একটি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান বলেন, “আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এসব বিষয় মাথায় রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ তৎপর থাকতে হবে।” তিনি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা ও নথিপত্র সংরক্ষণের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি প্রত্যেক দপ্তরকে নিজ নিজ কার্যালয়ের নিরাপত্তা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। জেলা প্রশাসক বলেন, আগামী নির্বাচন পর্যন্ত সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সবাইকে সর্বোচ্চ সচেতন থাকতে হবে।
সভায় কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মিজানুর রহমান বলেন, নির্বিচারে কৃষিজমি ধ্বংস করা হচ্ছে। ড্রেজার ও এক্সকেভেটর ব্যবহার করে ইটভাটার জন্য কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি (টপ সয়েল) তুলে নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, টপ সয়েল তৈরি হতে ৩০ থেকে ৪০ বছর সময় লাগে। এই টপ সয়েল রক্ষা করতে না পারলে ভবিষ্যতে কৃষিজমি নিচু ও অনুর্বর হয়ে পড়বে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও কঠোর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
সভা শেষে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সকল দপ্তর প্রধানকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে যথাযথ দায়িত্ব পালনের জন্য আহ্বান জানানো হয়
মন্তব্য করুন


নির্বাচন
কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, প্রবাসীদের
ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের কারচুপির সুযোগ নেই। ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে লাইভ ভেরিফিকেশন
বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং ব্যালটের নিরাপত্তায় গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন
করবেন।
আজ
রোববার (০১ ফেব্রুয়ারি) সকালে বরিশালের সার্কিট হাউজে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
ও গণভোট ২০২৬ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ডিজিটাল ও অবজারভেশন টিমের সঙ্গে
মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।
ইসি
সানাউল্লাহ বলেন, প্রবাসীদের জন্য ব্যবহৃত ব্যালটে মোট ১১৯টি প্রতীক থাকবে।
ফলে
খাম খোলা ও সঠিকভাবে ভোট গণনায় তুলনামূলকভাবে বেশি সময় লাগবে। ভোটকেন্দ্রে শুধুমাত্র
প্রিজাইডিং অফিসার কলম নিয়ে যেতে পারবেন, অন্য কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা পেন্সিল নিয়ে
যাবেন।
ইসি
আরও বলেন, ভোট চলাকালে প্রতি আসনে ১০ জন করে ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। মোবাইল
ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে অনিয়ম ঠেকাতে কমিশন বিশেষভাবে সতর্ক রয়েছে।
ভোট
কেনাবেচা বন্ধে একাধিক বৈঠক করা হয়েছে এবং অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সীমা
নির্ধারণ করা হবে।
তিনি
বলেন, নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের কোনো ধরনের আপ্যায়ন বা আতিথেয়তা
গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে। অপতথ্য ও গুজব প্রতিরোধে সত্য এবং সঠিক তথ্য দ্রুত জনগণের
কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
এছাড়া
বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী ও আহত ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা
নিতে বলেন তিনি।
সেই
সঙ্গে ভোটে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সব জেলা ও প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা
স্থাপন করা হবে বলেও তিনি জানান।
নির্বাচনের
নিরপেক্ষতা প্রসঙ্গে ইসি বলেন, সততা ও নিরপেক্ষতার প্রশ্নে নির্বাচন কমিশন শক্ত অবস্থানে
থাকবে। এখানে বড় দল বা ছোট দলের কোনো ভেদাভেদ নেই, সবাই সমান। নির্দেশনার পরও কোনো
কর্মকর্তা পক্ষপাতমূলক আচরণ করলে তার পরিণতি হবে কঠোর। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট
সবাইকে দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। যেখানে অনিয়ম হবে, সেখানে কোনো ধরনের নমনীয়তা
দেখানো যাবে না।
বরিশাল
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা খাইরুল আলম সুমনের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা
পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলামসহ অনেকে।
মন্তব্য করুন


বিদ্যুৎ,
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, বৈশ্বিক সংকটের কারণে
জ্বালানির যে সংকট তার আঁচ বাংলাদেশকেও স্পর্শ করেছে। কিন্তু এতে জনগণের যাতে ভোগান্তি
শিকার করতে না হয়, সেজন্য সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। শনিবার ( ১১ এপ্রিল ) যশোর মেডিকেল
কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন তিনি।
অনিন্দ্য
ইসলাম অমিত বলেন, কৃষক যাতে কোনভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হন তার জন্য সরকার কাজ করছে। কৃষকদের
নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। জনগণের যাতে ভোগান্তি শিকার
করতে না হয়, সেজন্য সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
তিনি
বলেন, বিগত ১৭ বছর ধরে যশোরে স্থবির হয়ে থাকা উন্নয়নের চাকা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের
সফরের মধ্য দিয়ে আবার সচল হবে। ২০০৬ সালে যশোর ঈদগাহ ময়দানে এক ঐতিহাসিক জনসভায় যশোরে
৫০০ শয্যাবিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই মেডিকেল কলেজ
হাসপাতাল যশোরবাসী আজও পায়নি। গত নির্বাচনের আগেও আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার ছিল, নির্বাচিত
হলে যশোরে এই হাসপাতাল আমরা করবো। তারই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী এই হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর
স্থাপন করবেন।
প্রতিমন্ত্রী
জানান, ২৭ এপ্রিল সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যশোর বিমানবন্দর থেকে শার্শা উপজেলার
উলাশীতে যাবেন। সেখানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত উলাশী খালের পুনঃখনন
কাজে অংশ নেবেন তিনি। এরপর যশোর শহরে ফিরে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর
স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন শেষে যশোর
ঈদগাহ ময়দানে জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করবেন।
প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমানের যশোর সফরের প্রস্তুতি উপলক্ষে তিনি শনিবার সকালে যশোরের জেলা প্রশাসকের
সম্মেলনকক্ষে জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানদের সাথে বৈঠক করেন। পরে যশোর মেডিকেল
কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের স্থান পরিদর্শন শেষে শার্শা উপজেলার উলাশী
খাল পরিদর্শন করেন।
এসময়
যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির
সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ
ও এসএসএ-এর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার
নবীনগরে গভীর রাতে ঘরে সিঁধ কেটে চুরি করার অভিযোগে গণপিটুনিতে সাহেদ আলী (৫৫) নামে
এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
শনিবার
(২০ ডিসেম্বর) গভীর রাতে উপজেলার কাইতলা ইউনিয়নের কোনাউর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত
সাহেদ আলী সেমন্তঘর গ্রামের মিল্লাত আলীর ছেলে। রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকালে পুলিশ
ঘটনাস্থল থেকে ওই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
নবীনগর
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল
ইসলাম জানান, সাহেদ আলী বেশ কিছুদিন ধরে তার পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। প্রাথমিক তদন্তে
জানা যায় শনিবার গভীর রাতে সাহেদ আলী কাইতলা ইউনিয়নের কোনাউর গ্রামে একটি ঘরে চুরি
করার পর মোহাম্মদ আলী নামে অপর এক ব্যক্তির বাড়িতেও সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে চুরি করার
চেষ্টা চালায়। এ সময় ঘরের লোকজন শব্দ শুনে চিৎকার শুরু করলে প্রতিবেশীরা এসে তাকে
ধরে ফেলে। পরে গণপিটুনিতে সে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যায়।
ঘটনার
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত চারজনকে প্রাথমিকভাবে
আটক করে থানায় নিয়ে আসে। তিনি আরও জানান,
লাশ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ
সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ফোনালাপ হয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির।
শুক্রবার (১৬ আগস্ট) বিকেলে সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্ট দিয়ে নরেন্দ্র মোদি বিষয়টি জানিয়েছেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি
জানান, অধ্যাপক মুহম্মদ ইউনূসের টেলিফোন কল পেয়েছি। বিরাজমান পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের
মধ্যে মতবিনিময় হয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ ও প্রগতিশীল বাংলাদেশের
প্রতি ভারতের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছি।
এছাড়াও নরেন্দ্র মোদি, বাংলাদেশের হিন্দু
সম্প্রদায়সহ সব সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের ওপর জোর দিয়েছেন।
ফোনে ড. ইউনূস নরেন্দ্র মোদিকে জানান,
অন্তর্বর্তী সরকার হিন্দু সম্প্রদায়সহ সব সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তার বিষয়টিকে
অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
কথোপকথনে ড. ইউনূস ও মোদি অগ্রাধিকার
ভিত্তিতে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
এর আগে ১৫ আগস্ট ভারতের স্বাধীনতা দিবসের
অনুষ্ঠানে মোদি বলেন, ১৪০ কোটি ভারতীয় বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে
চিন্তিত। ভারত সর্বদা বাংলাদেশের অগ্রগতির শুভাকাঙ্ক্ষী। আমরা আশা করি, বাংলাদেশে পরিস্থিতি
শিগগিরই স্বাভাবিক হবে। আমরা চাই হিন্দু ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক।
মন্তব্য করুন


গতকাল রাতে সুনির্দিষ্ট গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানাধীন জেনেভা ক্যাম্পের সেক্টর ৩, ৭ ও ৮ এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে বুনিয়া সোহেল গ্যাং-এর বিরুদ্ধে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করে ১১ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়। তবে এ সময় দীর্ঘ তল্লাশি করেও বুনিয়া সোহেলকে পাওয়া যায়নি। অভিযানকালে, বিপুল পরিমাণ মাদক, নগদ অর্থ এবং সন্ত্রাসী কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রকার দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্য হতে ৪ জন মাদক ব্যবসায়ীকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং শেখ জিলানিসহ ৭ জনকে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা ও পূর্ব হত্যাকাণ্ডের মামলা রয়েছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ। অবৈধ অস্ত্র, বিস্ফোরক কিংবা সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন


বিএনপির ভারপ্রাপ্ত
চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন। তার আগমন ঘিরে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয়
সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বিএনপি। রাজনৈতিক অঙ্গনে তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে
আলোচনা চললেও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে তারেক রহমানের
আদরের পোষা বিড়াল ‘জেবু’।
নেটিজেনদের
মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—তারেক রহমানের সঙ্গে কি জেবুও দেশে ফিরছে? ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রে জানা
গেছে, সাইবেরিয়ান ব্রিডের সাত বছর বয়সী এই বিড়ালটির জন্য পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় সব আনুষ্ঠানিক
অনুমোদন ইতোমধ্যেই সম্পন্ন করা হয়েছে। ফলে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে, তারেক রহমান পরিবারসহ
তার আদরের পোষা বিড়াল জেবুকেও সঙ্গে নিয়েই দেশে ফিরছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে
তারেক রহমানের ব্যস্ত সময়ের ফাঁকে পোষা বিড়াল জেবুর সঙ্গে খুনসুটি করার বিভিন্ন ছবি
ও মুহূর্ত আগেও বহুবার ভাইরাল হয়েছে। প্রাণীর প্রতি তার ভালোবাসা নেটিজেনদের মাঝে নানা
সময় প্রশংসাও কুড়িয়েছে।
সম্প্রতি বিবিসি
বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান তার পোষা প্রাণী এবং প্রাণীপ্রেমের বিষয়ে
তিনি বলেন, বিড়ালটি মূলত তার মেয়ের, তবে এখন পরিবারের সবারই আদরের হয়ে উঠেছে। সেই
সাক্ষাৎকারে তিনি বিড়ালের নাম ‘জেবু’ বলেও উল্লেখ করেন।
মানবিক ও ধর্মীয়
দৃষ্টিকোণ থেকে প্রাণীর প্রতি মমতার বিষয়েও তিনি মত প্রকাশ করেন। তারেক রহমান বলেন,
আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে সৃষ্টি করেছেন— তাই তার প্রতিটি সৃষ্টির প্রতি
সম্মান ও যত্ন নেয়া মানুষের দায়িত্ব। প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হলে মানুষের জীবন বিপন্ন
হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মন্তব্য করুন


আইন উপদেষ্টা
ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সকল প্রলোভন পরিহার করে সৎ ও নির্ভীক
থেকে ওসমান হাদি ইনসাফ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিলেন৷ তিনি নিজের কথা না ভেবে দেশের মানুষের
কথা ভাবতেন তাই শেষ বিদায়ের দিন হাদির জন্য মানুষের আহাজারি আর দোয়া ছিলো অতুলনীয়
আজ রোববার দুপুরে
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে স্টেট ইউনিভার্সিটির সপ্তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে
তিনি এসব বলেন।
এসময় আইন উপদেষ্টা
ওসমান হাদির জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আল্লাহ হাদিকে বেহেশতের
সর্বোচ্চ জায়গায় স্থান দেবেন। হাদি এই নস্যাৎ পৃথিবীর চেয়ে ভালো জায়গায় অবস্থা করছেন
বলে বিশ্বাস করেন তিনি৷
আসিফ নজরুল
বলেন, হামলাকারীর চেয়ে দেশে সৃষ্টিশীল মানুষের সংখ্যা বেশি। দেশে আত্মত্যাগকারী তরুণের
সংখ্যা অনেক বেশি।
মন্তব্য করুন


আগামী ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীসহ সারা দেশে তাপমাত্রা আরও কমবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আজ সোমবার (২৪ নভেম্বর) সকালে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পূর্বাভাসে বলা হয়, মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সকাল ৯টা পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। পাশাপাশি ভোরের দিকে সারা দেশের কোথাও কোথাও হালকা কুয়াশা পড়তে পারে। এ ছাড়া সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, দক্ষিণ আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও আরও ঘনীভূত হতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন শ্রীলঙ্কা উপকূলীয় এলাকায় আরেকটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
মন্তব্য করুন