

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় বাস ছিনতাই
চেষ্টার সময় চলন্ত গাড়ির জানালা লাফিয়ে পড়ে সানজিদা স্বর্ণা নামে এক বিশ্ববিদ্যালয়
ছাত্রী নিহত হয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার দুপুর ১২টার
দিকে উপজেলার ধনকুন্ডি এলাকায় ফুড ভিলেজ থেকে শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের একটি বাস ছিনতাইয়ের
এ চেষ্টা চালান রনি মোল্লা নামে এক যুবক। তাকে আটক করা হয় শাজাহানপুর উপজেলার বনানীর
লিচুতলা এলাকা থেকে। বাসটি উদ্ধার করা হয় সেখান থেকে। একই এলাকায় রনির বাড়ি।
নিহত সানজিদা স্বর্ণা বগুড়া উপশহরের
স্নিগ্ধা আবাসিক এলাকার আব্দুর রউফ তালুকদারের মেয়ে। ঢাকার আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল
ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের বিবিএর প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি।
বাসটির চালক ও সহকারী জানিয়েছে, ঢাকার
মহাখালী থেকে ৩৩ যাত্রী নিয়ে বগুড়া রওনা হয় তারা। শেরপুর উপজেলার ধনকুন্ডি এলাকার
ফুড ভিলেজ রেস্টুরেন্টে যাত্রাবিরতি দেওয়া হয়। এ সময় অনেক যাত্রী রেস্টুরেন্টে
যায়। বাসে ছিল ওই শিক্ষার্থীসহ চার নারী যাত্রী। কিছুক্ষণ পর এক যুবক গাড়িতে উঠে
ট্রায়াল দেওয়ার কথা বলে গাড়ি নিয়ে রওনা দেন।
মহাসড়কে ওঠার পর গাড়ি বেপরোয়া
গতিতে চালতে থাকলে চার নারী যাত্রী চিৎকার করতে থাকে। তারা তাকে গাড়ির গতি
কমাতে বলে। কিন্তু ওই যুবক বেপরোয়া গতিতেই গাড়ি চালাতে থাকেন। শেরপুরের মির্জাপুর
এলাকায় পৌঁছলে বাস ছিনতাই আতঙ্কে- গাড়ি থেকে লাফ দেন সানজিদা। স্থানীয়রা তাকে
শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় যায়। সেখানে তার মৃত্যু হয়।
শাহ ফতেহ আলী পরিবহন কোম্পানির কেয়ারটেকার
মো. ইদ্রিস আলী জানান, ফুড ভিলেজে বাস থামার পর চারজন নারী গাড়িতে ছিল। ওই সময় ছেলেটি
গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে খোঁজ শুরু করা হয়। এর মধ্যে শাজাহানপুর উপজেলার
বনানী লিচুতলা এলাকায় বাসটি আটক করে স্থানীয় ও পুলিশ সদস্যরা। ছেলেটিকেও আটক করা
হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানতে পারছি রনি নামে ওই ছেলে ঢাকার আব্দুল্লাহপুর থেকে বাসে
উঠেছিল। তার বাড়িও লিচুতলায়। কিন্তু কেন এমন কাজ করেছে- তা জানা যায়নি।
সানজিদার বাবা আব্দুর রউফ তালুকদার
বলেন, সকাল ৭টার দিকে বাসে উঠে মেয়ে ফোন দিয়ে কথা বলে। আর কথা হয়নি। পরে পুলিশ ফোন
করে জানায় শেরপুরে দুর্ঘটনায় মেয়ে মারা গেছে।
শাজাহানপুর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম
বলেন, রনি মোল্লা বাসটি লিচুতলা বাইপাস এলাকায় রেখে পালিয়ে যায়। ওই এলাকাতেই
তার বাড়ি। আমরা বাসটিতে গিয়ে তিনজন নারী যাত্রীকে পাই। তারা আমাদের ঘটনার বিস্তারিত
জানান। আমরা ওই গাড়ির চালকের আসনের নিচে একটা মানিব্যাগ পাই। মানিব্যাগে এনআইডি
ছিল। সেখান থেকে তথ্য নিয়ে অভিযান চালিয়ে রনিকে আটক করা হয়। প্রাথমিকভাবে
জানতে পেরেছি ট্রাকচালক রনি বাসের যাত্রীবেশে আব্দুল্লাহপুর থেকে বগুড়ায় আসছিল।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার গোমতী নদীর দুই তীরে গড়ে ওঠা সব ধরনের অবৈধ স্থাপনা ছয় (৬) মাসের মধ্যে উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
আজ রবিবার (৩ আগষ্ট) দুপুরে বিচারপতি মজিবুর রহমান ও বিচারপতি বশির উল্লাহ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন।
আদালত আদেশে বলেছেন, গোমতী নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ রক্ষায় যেকোনো ধরনের দখলদারিত্ব কঠোরভাবে দমন করতে হবে। আদালত আরও বলেন, এই নদীর তীরে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং জনস্বার্থের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে।
এই রিটের আবেদনকারী ছিলেন নদী রক্ষা ও পরিবেশ আন্দোলনের কর্মী আইনজীবী একলাছ উদ্দিন ভূইয়া। রিটকারীর পক্ষে শুনানী করেন, সিনিয়র আইনজীবী
মনজিল মোর্শেদ।
তিনি বলেন, “গোমতী নদী এখন দখলদারদের দখলে চলে গেছে। নদী চিহ্নিত করে সীমানা নির্ধারণ সত্ত্বেও সেখানে গড়ে ওঠেছে অবৈধ দোকানপাট, স্থাপনা ও বাড়িঘর।”
তিনি আরও বলেন, “আদালতের এই রায় শুধু গোমতী নয়, দেশের সব নদী রক্ষায় একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আমরা আশা করছি প্রশাসন এখন আর দখলদারদের সঙ্গে আপস না করে কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করবে।”
আদালতের নির্দেশে, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, অন্যান্য সরকারি দপ্তরগুলোকে এই ছয় মাসের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার চান্দিনার অংশে মাধাইয়া মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি কলেজের সামনে ১৭ আগস্ট শনিবার দুপুর ২টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এলাকায় একটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।
এ দুর্ঘটনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে খাদে পড়ে মাইক্রোবাসের চালকসহ ৩ জন নিহত হয়েছে। আরও ১ জন মহিলা গুরুতর আহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুজন বীমা কোম্পানীর কর্মকর্তা।
নিহতরা
হলেন, চালক তারেক, ট্রাস্ট লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানীর কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন ও মোজাম্মেল
হক।
দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন মাইক্রোবাসে থাকা আরও তিন যাত্রী।
বিষয়টি নিশ্চিত করে চান্দিনা ফায়ার স্টেশন মাস্টার অনয় কুমার ঘোষ জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা একটি মাইক্রোবাস মাধাইয়ার নাওতলা এলাকায় পৌঁছলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে থাকা একটি গাছের সাথে ধাক্কা খেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই ৩ জন মারা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা
জানান, মাইক্রোবাসটি চালকসহ ৪ জন যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাচ্ছিল। মাধাইয়া
মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি কলেজের সামনের সড়কে ঢাকা-চট্টগ্রাম লেন দ্রুত গতিতে আসা মাইক্রোবাসটি
নিয়ন্ত্রণ হারায়। এতে সড়কের পাশের একটি গাছের সাথে ধাক্কা লাগলে মাইক্রোবাসের সামনের
অংশসহ একপাশ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই মাইক্রোবাসের চালকসহ ৩ জন নিহত হয়।
মাইক্রোবাসের
ভিতরে থাকা গুরুতর আহত এক নারীকে চান্দিনা ফায়ার সার্ভিসের লোকজন উদ্ধার করে চান্দিনা
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
মন্তব্য করুন


তাপস চন্দ্র সরকার, কুমিল্লা:
কুমিল্লা মহেশাঙ্গণ শ্রী শ্রী লোকনাথ স্মৃতি তর্পণ সংঘের সাধারণ সম্পাদক হারাধন ভৌমিক ও কুমিল্লা সরকারি কলেজের প্রাক্তন ভিপি চিত্তরঞ্জন ভৌমিক এর গর্ভধারিনী মাতা এবং চট্টগ্রাম মিরসরাই উপজেলার আবুতোরাবস্থিত শ্রী শ্রী জগন্নাথ ধাম, শিব মন্দির ও কালীমাতা বিগ্রহ বাড়ী পরিচালনা পরিষদের প্রাক্তন উপদেষ্টা স্বর্গীয় গোপাল কৃষ্ণ ভৌমিক এর সহধর্মিণী এবং শ্রী শ্রী মা নয়নমণি শ্রীধাম পরিচালনা পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা শ্রী মিহির কান্তি নাথের শাশুড়ী মাতা স্বর্গীয় কিরণ বালা ভৌমিক এর শ্রাদ্ধানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
গত বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) মৃতার নিজ বাসায় শ্রাদ্ধকার্য অনুষ্ঠিত হয়।
তদুপলক্ষে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান শেষে পরদিন শুক্রবার দুপুরবেলা কুমিল্লা মহেশাঙ্গণে শাকান্নভোজ এর আয়োজন করা হয়।
উল্লেখ যে, চলতি বছর ২৯ অক্টোবর মঙ্গলবার প্রয়াত কিরণ বালা ভৌমিক বার্ধক্যজনিত কারণে ইহলোকের মায়ামমতা ত্যাগ করে পরলোকগমন করেন। তিনি মৃত্যুকালে হারাধন ভৌমিক, চিত্তরঞ্জন ভৌমিক, অমূল্য ধন ভৌমিক, পূর্ণধন ভৌমিক, জর্নাধন ভৌমিককে ০৫ (পাঁচ) পুত্র এবং বর্ণানী ভৌমিক ও জয়ন্ত ভৌমিককে (০২) দুই কন্যা, পুত্রবধূ, নাতি-নাতনি ও আত্মীয়-স্বজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে যান।
মন্তব্য করুন


নেত্রকোণা জেলার মোহনগঞ্জে পারিবারিক কলহের জেরে শান্ত মিয়া (৫০) নামে এক ব্যক্তির কান কামড়ে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছেন তার স্ত্রী। শান্ত মিয়াকে দ্রুত উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলেও কানের বিচ্ছিন্ন অংশ আর স্থাপন করতে পারেনি চিকিৎসকরা। পরে তাকে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে এখানেই ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে মোহনগঞ্জ পৌরশহরের উত্তর দৌলতপুরে এ ঘটনা ঘটে। মো. শান্ত মিয়া মোহনগঞ্জ পৌরশহরের উত্তর দৌলতপুরের বাসিন্দা। শান্ত মিয়ার স্ত্রীর নাম রাহেলা বেগম।
ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, নানা বিষয় নিয়ে শান্ত মিয়া ও তার স্ত্রীর মধ্যে মাঝে মধ্যেই ঝগড়া লেগে থাকে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া লাগে। একপর্যায়ে রাহেলা ক্ষিপ্ত হয়ে শান্ত মিয়ার কানে জোরে কামড় দেয়। এতে কান প্রায় পুরোটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দ্রুত শান্ত মিয়াকে উদ্ধার করে মোহনগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে মমেক হাসপাতালে পাঠান চিকিৎসক। এসময় বিচ্ছিন্ন কানের অংশটুকুও নিয়ে যাওয়া হয়। তবে মমেকের চিকিৎসকরা চেষ্টা করে কানের অংশ স্থাপন করতে পারেননি। চিকিৎসা শেষে শুক্রবার তাকে ফের মোহনগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শান্ত মিয়া বলেন, আমার কান পুরোটা কামড়ে ছিড়ে ফেলেছে। ময়মনসিংহ গিয়েও আর লাগানো যায়নি। স্ত্রীর সঙ্গে প্রায় ৩০ বছরের সংসার জীবন। সবসময় ঝগড়া করে। কিছুদিন আগে বড় ছেলে আমাকে না জানিয়ে বিয়ে করে ফেলেছে। কষ্ট করে ছেলেকে পড়াশোনা করিয়েছি তাই তার ভালোমন্দ জানার অধিকার আমার আছে। এসব জিজ্ঞাসা করতে গেলে আমার স্ত্রী আর ছেলে মিলে আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিতে চাইছে। এখনো থানা–পুলিশে অভিযোগ করিনি। একটু সুস্থ হই পরে যা যা করা দরকার সব করব।
মোহনগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) পার্থ সরকার জানান, শান্ত মিয়ার কানের সিংগভাই বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। শুধু নিচের কিছু অংশ রয়েছে। এটা একটা অঙ্গহানির ঘটনা। মমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল কিন্তু সেখানেও কানের কাটা অংশ স্থাপন করা যায়নি। এখন আর কিছু করার নেই। তার সুস্থ হতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে।
মোহনগঞ্জ থানার ওসি মো: দেলোয়ার হোসেন বলেন, এ ঘটনায় কেই এখনো অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায় অস্ত্র ও কার্তুজসহ একজন অস্ত্রধারীকে গ্রেফতার
করেছে র্যাব-১১, সিপিসি-২।
মঙ্গলবার
(১৭ এপ্রিল) রাতে র্যাব-১১, সিপিসি-২ একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে
কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানাধীন উত্তর কালিয়াজুরি এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা
করে আসামী মোঃ নাইম (২৪) নামক একজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করে। এ সময় আসামীর
কাছ থেকে ১ টি এলজি গান ও ১ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামী
মোঃ নাইম (২৪) কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানার উত্তর কালিয়াজুরি গ্রামের মোঃ তপন
মিয়া এর ছেলে।
র্যাব জানান, সে
দীর্ঘদিন যাবৎ কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করে সন্ত্রাসী কার্যক্রম
সহ বিভিন্ন ধর্তব্য অপরাধ সংগঠিত করে আসছিল আসছিল। উক্ত বিষয়ে গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে
কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের
বিরুদ্ধে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন


ফাতেমাতুজ জোহরা তন্বী, প্রতিবেদক:
নিটোল
পায়ে রিনিক ঝিনিক,পায়েলখানি বাজে
মাদল
বাজে সেই সংকেতে
শ্যামা
মেয়ে নাচে...
এস
ডি বর্মণের কণ্ঠে সেই প্রখ্যাত গান। বলছিলাম উপমহাদেশের সংগীতের রাজপুত্র কুমার শচীন
দেববর্মণের কথা।
শচীন
দেববর্মণ (১ অক্টোবর, ১৯০৬-৩১ অক্টোবর, ১৯৭৫) বিংশ শতাব্দীতে ভারতীয় বাংলা ও হিন্দী
গানের কিংবদন্তীতুল্য ও জনপ্রিয় সঙ্গীত পরিচালক, সুরকার, গায়ক ও লোকসঙ্গীত। আগরতলার বাসিন্দা হলেও শচীন দেবের শৈশব কেটেছে কুমিল্লায়
এবং শেষ জীবন মুম্বাইতে। তাঁর সহধর্মিণী মীরা দেবী এবং একমাত্র পুত্র রাহুল দেববর্মনও
মুম্বাই চিত্রজগতের প্রতিষ্ঠিত কণ্ঠশিল্পী।প্রায়শ তাঁকে এস ডি বর্মণ হিসেবেই উল্লেখ
করা হয়। কিছুটা অনুনাসিক কণ্ঠস্বরের জন্য তিনি তার শ্রোতাদের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত।
প্রায় একশো বছর পার করেও বাংলা গানের শ্রোতাদের কাছে তার কালোত্তীর্ণ গানের আবেদন
কিছুমাত্র লঘু হয়নি। কেবল সঙ্গীতশিল্পী হিসাবে নয়, গীতিকার হিসাবেও তিনি সার্থক।
তিনি বিভিন্ন চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর পুত্র রাহুল
দেববর্মণ ভারতের বিখ্যাত সঙ্গীত পরিচালক, সুরকার ও গায়ক ছিলেন। তাঁর ছাত্রী এবং পরবর্তীতে
সহধর্মিনী মীরা দেববর্মণ গীতিকার হিসাবে খ্যাতি অর্জন করেন। তিনি রবি গুহ মজুমদার এর
অনেক গানে সুর দিয়েছেন এবং তা শিল্পে রূপান্তরিত করেছেন। তিনি ২ বার (১৯৫৫ ও ১৯৭৪)
সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার এবং ১৯৭০ সালে শ্রেষ্ঠ নেপথ্য গায়ক হিসেবে
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (ভারত) লাভ করেন।
শচীন
দেব বর্মণ তার যুগের তুলনায় অনেকাংশে আধুনিক ছিলেন। তার অনেক গানই আজকাল রিমিক্স হচ্ছে
এবং জনপ্রিয়তাও পাচ্ছে। কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই জানছেন না, গান গুলোর আসল
সুরকার এবং গায়ক শচীন দেববর্মণ। শচীন দেব অনেক বাংলা গানে সুর দিয়েছেন। ১৯৩৪ সালে
নিখিল ভারত সঙ্গীত সম্মিলনে গান গেয়ে তিনি স্বর্ণপদক লাভ করেন। ১৯৩৭ সাল থেকে পরপর
কয়েকটি বাংলা ছায়াছবিতে তিনি সঙ্গীত পরিচালনা করেন। এক্ষেত্রে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য
ছায়াছবি হলো: রাজগী, ছদ্মবেশী, জীবন-সঙ্গিনী, মাটির ঘর ইত্যাদি। তার বিখ্যাত কিছু
গান যেমন-
শোনো
গো দখিন হাওয়া
হৃদয়ে
দিয়েছো দোলা
কে
যাসরে
ঝিল
মিল ঝিল মিল
তুমি
আর নেই সেই তুমি
রজ্গীলা
তুমি
এসেছিলে পরশু ইত্যাদি।
প্রতি
বছর দু-তিন দিন জুড়েই পালিত হয় 'শচীন মেলা'। স্নিগ্ধতা এবং ঐতিহাসিক স্থাপনা ব্যাখ্যা
দেয় সোনালী অতীতের। শচীন দেববর্মণের মতো মানুষরা অমর প্রজন্মের পর প্রজন্মে।
বাংলা ও হিন্দি গানের কিংবদন্তি সুরকার শচীন দেববর্মণ এর জন্মভিটা কুমিল্লার দক্ষিণ চর্থায়। একসময় রাজবাড়ি হলেও এখন সেটি ইতিহাসের কান্না বয়ে চলা এক পরিত্যক্ত ভবন।
সরকারি উদ্যোগে ‘সংস্কৃতি কমপ্লেক্স’ গড়ে তোলার কথা বলা হলেও বাস্তবে বাড়িটি পড়ে আছে অযত্নে-অবহেলায়।
আমরা কি তবে শচীন কর্তার সুরের স্মৃতি হারাতে বসেছি?
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মিনহাদুল হাসান রাফিকে গ্রেফতার করেছে কুমিল্লা ডিবি পুলিশ।
আজ শুক্রবার ( ১ আগস্ট) ভোর রাতে ফেনী জেলা থেকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া মিনহাদুল হাসান রাফি গতকাল কলকাতা থেকে গোপনে কুমিল্লা এসেছিলেন। এ খবর পেয়ে কুমিল্লা ডিবি পুলিশ স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে বৈষম্য বিরোধী চারটি মামলা রয়েছে।
কুমিল্লা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) মোঃ আব্দুল্লাহ তার গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রাফিকে গ্রেফতারের পর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সেনাবাহিনী ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে নিরাপত্তা বিষয়ক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার কুমিল্লা সদর উপজেলার ঈশ্বর পাঠশালার মহেশাঙ্গন প্রাঙ্গণে সভায় সভাপতিত্ব করেন ইউএনও ফাতেমা তুজ জোহরা। সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন অধিনায়ক, ২৩ বীর। এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল মালিক, র্যাব-১১ সিপিসি-২ এর এডমিন ডিএডি মহসিন, কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মহিনুল ইসলাম, আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট রাশেদুজ্জামান এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের জেলার আহ্বায়ক শ্যামল চন্দ্র সাহা।
সভায় বক্তারা বলেন, সেনাবাহিনী এবং সনাতন ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠীর মধ্যে সবসময় আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। এই সমন্বয় সভা সেই সম্পর্কেরই প্রতিফলন। পূজাকে কেন্দ্র করে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাই সবার অঙ্গীকার।
নিরাপত্তা জোরদার ও পূজা নির্বিঘ্ন করতে মণ্ডপ এলাকায় ব্যাগ চেকিং ব্যবস্থা, সিসি ক্যামেরা সচল রাখা ও পর্যবেক্ষণ, দ্রুত যোগাযোগের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ সক্রিয় রাখা, ঝুঁকিপূর্ণ মণ্ডপ চিহ্নিতকরণ ও নজরদারি বাড়ানো, অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র রাখা ও ব্যবহার নিশ্চিতকরণের কথা জানানো হয়।
মন্তব্য করুন


মুরাদুল ইসলাম কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামে কলা গাছের ভেলায় ভেসে এলো ভারতীয় এক শিশুর লাশ। রবিবার (২৭ জুলাই)সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের দুধকুমার নদে গারুহারা ঘাটে ভেলাটি ভাসতে দেখে স্থানীয় মানুষজন। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কলা গাছের কয়েকটি গুঁড়ি দিয়ে তৈরিকৃত একটি ভেলায় চাটাইয়ের ওপর প্রায় ৬ বছর বয়সী একটি শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখেন তারা। মরদেহটি চাদর, মশারি এবং পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা। শুধু মুখটা দেখা যায়। সেখানে শিশুটির ছবি সম্বলিত নাম ঠিকানা ও একটি ফোন নম্বর উল্লেখ করা ছিল।
উল্লেখিত ঠিকানায় দেখা যায়, শিশুটির নাম সুমীত দাস, তার পিতার নাম আকুমনি দাস, মায়ের নাম পদ্মা দাস। সেখানে ঠিকানা উল্লেখ করা ছিল ডেকাবঘাট লালবাড়ি আসাম।
যাত্রাপুরের গারুহারা এলাকার কলেজ শিক্ষার্থী ফারুক খান বলেন, সকাল সাড়ে নয়টার দিকে কলা গাছের ভেলায় একটি মৃতদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে আমি সেখানে যাই। পরে লাশের সঙ্গে একটি চিরকুট দেখতে পাই। ওই চিরকুটে একটি ভারতীয় ফোন নম্বর ছিল। ওই নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপ যোগাযোগ করলে অপরপ্রান্ত থেকে সাড়া পাই। অনকু দাস নামে এক ব্যক্তি শিশুটির মামা পরিচয় দেন।। পরে তিনি জানান 'গত ১০ জুলাই শিশুটি সাপের কামড়ে মারা গেলে তাকে কলা গাছের ভেলায় ভাসিয়ে দেওয়া হয়।'
এ বিষয়ে যাত্রাপুর ইউপি চেয়ারম্যার আব্দুল গফুর বলেন, শুনেছি শিশুটি নাকি সাপের কামড়ে মারা গেছে। তার স্বজনরা তাকে একটি কলা গাছের ভেলায় ভাসিয়ে দেয়। তবে ভেলাটি কেউ আটকায়নি। দুুপুরের পর জানতে পেরেছি ভেলাটি ব্রহ্মপুত্র নদে ভাসতেছিল।
মন্তব্য করুন


জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ীতে ক্যানসার রোগীর নাম ভাঙিয়ে চাঁদার টাকা তোলার সময় এক নারীসহ তিন ভুয়া সমন্বয়ককে আটক করে পুলিশ দিয়েছে স্থানীয়রা।
গতকাল মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে পৌরসভার মুল বাড়ী রেলগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
সমন্বয়ক দাবি করা ব্যক্তিরা হলেন- সরিষাবাড়ী মাহমুদা সালাম মহিলা কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী বৈশাখী আক্তার। পোগলদিঘা ইউনিয়নের চর পোগলদিঘা গ্রামের বাদল মিয়ার ছেলে রিফাদ হাসান। তিনি সরবান হাসান টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী, একই ইউনিয়নের রুদ্র বয়ড়া একুশে মোড় এলাকার সুরুজ আলীর ছেলে সিফাত আহমেদ। তিনি আলহাজ্ব মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: চাঁদ মিয়া জানান, বিকেলে তারা তিনজন সমন্বয়ক পরিচয়ে একজন ক্যানসার রোগীর সাহায্যের জন্য বিভিন্ন জায়গায় টাকা উত্তোলন করছিলেন। এ সময় স্থানীয়রা তাদের আটক করে থানায় খবর দেয়। পরে তাদের থানায় আনা হয়। তারা সরিষাবাড়ীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাধারণ শিক্ষার্থী। এমন প্রতারণা আর করবে না, এ মর্মে অভিভাবকরা তাদের জিম্মায় সন্ধ্যায় মুচলেকা দিয়ে আটকদের নিয়ে যান। এ সময় ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন