

জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষ্যে এক অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
২১ নভেম্বর মঙ্গলবার আয়োজিত অনুষ্ঠানটিতে জাতিসংঘের পিস অপারেশন বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জ্যঁ পিয়েরে ল্যাক্রুয়া, অপারেশনাল সাপোর্ট বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল অতুল খারে, নিরাপত্তা বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল উনাইসি ভুনিওয়াকা, জাতিসংঘের মিলিটারি এডভাইজর জেনারেল বিরামে ডিওপসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতগণ (স্থায়ী প্রতিনিধি) ও সামরিক উপদেষ্টাগণ (মিলিটারি এডভাইজর) অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে উপস্থিত অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত।
অনুষ্ঠানে দেশে ও বিদেশে সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে আগত অতিথিদের উদ্দেশ্যে একটি তথ্যবহুল ব্রিফিং প্রদান করেন মিশনের ডিফেন্স এ্যাডভাইজার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল সাদেকুজ্জামান। বক্তব্য পর্ব শেষে স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত আগত অতিথিদের নিয়ে কেক কাটা হয়।
মন্তব্য করুন


তথ্য
ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম বন্যার্তদের সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন ।
বুধবার (২১ আগস্ট) সচিবালয়ে
এক সংক্ষিপ্ত সভায় তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা এ আহ্বান জানিয়ে বলেন, চারদিকে বন্যা
পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে মানুষ যাতে এগিয়ে আসে সেজন্য
গণমাধ্যমকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের
বিরুদ্ধেও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য
যে, ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারি বর্ষণের কারণে দেশের কয়েকটি জেলায় ভয়াবহ
বন্যা দেখা দিয়েছে। বন্যার ফলে প্রধান প্রধান নদীগুলোতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। লাখ লাখ
মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। রাস্তাঘাট, বসতভিটা তলিয়ে সর্বস্তরের মানুষ অসহায় অবস্থায়
আছেন। শিশুসহ বয়স্ক নারী-পুরুষ, আসবাবপত্র, হাঁস-মুরগি, গবাদিপশু ইত্যাদি নিয়ে
মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন।
এমতাবস্থায় বন্যাকবলিত মানুষের
পাশে দাঁড়ানো অতিব জরুরি হয়ে পড়েছে।
দেশের
বিভিন্ন জেলায় ভয়াবহ বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য মানুষ যাতে এগিয়ে আসে সেজন্য
গণমাধ্যমকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে বলেছেন তথ্য ও সম্প্রচার
উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম ।
মন্তব্য করুন


ঢাকায়
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ৫০ লাখ মানুষের সমাগম
হবে বলে আশাবাদ জানিয়েছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও অভ্যর্থনা কমিটির সদস্য সচিব
রুহুল কবির রিজভী।
আজ
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় নির্মিত অভ্যর্থনা মঞ্চ পরিদর্শন
শেষে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী
বলেন, আগামী ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান আসবেন। আজকেই আমরা দেখতে পাচ্ছি, বিভিন্ন জেলা
থেকে লোক আসা শুরু হয়েছে। সুতরাং ২৫ ডিসেম্বর এখানে মানুষের মহামিলন ও মহামেলায় পরিণত
হবে। এ ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত। যে জনসমাগম হবে তাদের সংবর্ধনা নেওয়ার পর তার মা দেশনেত্রী
খালেদা জিয়া যিনি দীর্ঘদিন নিপীড়ন নির্যাতন সহ্য করেছেন, আজকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন,
তাকে দেখে তিনি বাসায় যাবেন। তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তার প্রথম দায়িত্ব সরকারের, এরপর
দলের।
এদিকে
দলের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা তারেক রহমানের ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে বিএনপির সর্বস্তরে
আনন্দের জোয়ার বইছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘনিয়ে আসায় তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত
নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য ও উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে স্লোগান
ও প্ল্যাকার্ড হাতে বিএনপির নেতাকর্মীরা মঞ্চ পরিদর্শনে আসছেন। তারা জানান, নেতাকে
বরণ করে নিতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এ সময় মঞ্চের সামনে পুলিশের পাশাপাশি
সেনাবাহিনীকেও টহল দিতে দেখা যায়। সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দফায় দফায় গাড়িতে
করে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন টিম মঞ্চ এলাকা পরিদর্শন করছে।
মন্তব্য করুন


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে কৃষিঋণ সংক্রান্ত প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিতে অনুষ্ঠিত হয় মন্ত্রিসভার বৈঠক। এতে অর্থ, বাণিজ্য, স্থানীয় সরকার, আইনসহ সব মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা অংশ নেন। সংক্ষিপ্ত এই বৈঠকে কৃষিঋণ সংক্রান্ত একটিমাত্র এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
এরপর বিকেলে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। তিনি জানান, শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতের কৃষকেরা এ সুবিধা পাবেন। এ সিদ্ধান্তের ফলে মওকুফ হবে মোট ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। এতে প্রায় ১২ লাখ কৃষক সুফল পাবেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ নেওয়ার পর যত সুদই হোক, সুদ-আসলসহ পুরোটা মওকুফ হবে। তিনি আরও বলেন, সরকার তার নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী এই হারে কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো দরিদ্র কৃষকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষি খাতের মেরুদণ্ডকে শক্তিশালী করা। এতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরা ঋণের দায় থেকে মুক্ত হতে পারবেন, যা তাঁদের কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি করবে এবং দেশের কৃষি খাতে উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
নাসিমুল গনি আরও বলেন, ঋণের কিস্তি বাবদ যে অর্থ কৃষকের ব্যয় হতো, সেই অর্থ তাঁরা উন্নত মানের বীজ বা আধুনিক সেচপ্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করতে পারবেন। মাথার ওপর ঋণের বোঝা না থাকায় কৃষক পরবর্তী মৌসুমে নতুন উদ্যমে চাষাবাদ শুরু করতে সক্ষম হবেন। এ ছাড়া এই মওকুফ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কৃষকদের ক্রেডিট রেকর্ড বা ঋণমান ভালো হবে। ফলে তাঁরা ব্যাংক থেকে আবার স্বল্প সুদে কৃষিঋণ গ্রহণ করতে পারবেন, যা তাঁদের স্থানীয় মহাজনি ঋণের উচ্চ সুদের হাত থেকে রক্ষা করবে।
মন্তব্য করুন


নীলফামারীতে অভিযান পরিচালনা করে ১৫ কেজি ৩শ গ্রাম গাঁজাসহ ২ মাদক কারবারিকে আটক করেছে র্যাব।
রোববার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে র্যাব।
একই দিন দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার শিবরামপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপাড়া গ্রাম থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটকরা হলো: গাজীপুর সদরের সালনা এলাকার ইউনুছ আলীর ছেলে মো. বিপ্লব (৩৪) এবং দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার সাহাডুবি এলাকার জনাব আলীর ছেলে নবী হোসেন (৩০)।
র্যাব-১৩ নীলফামারী ক্যাম্পের সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট বশির আহমেদ মাহিম জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে গোবিন্দপাড়া গ্রাম থেকে দুই মাদক কারবারিকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে ১৫ কেজি ৩শ গ্রাম গাঁজা, ৩টি মোবাইল ও ৩টি সিমকার্ড, নগদ ৫০ হাজার টাকা এবং ১টি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা মাদক কারবারির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। অনেকদিন ধরেই তারা মাদকের বড় বড় চালান সংগ্রহ করে দিনাজপুর জেলাসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে সরবরাহ করে আসছেন। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দিয়ে বীরগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


অধস্তন
আদালতের বিচারক ও আদালত প্রাঙ্গণের
নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশের মহাপরিদর্শকবরাবর চিঠি পাঠিয়েছে সুপ্রিম
কোর্ট সচিবালয়।
গত রোববার
প্রধান বিচারপতির নির্দেশে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সচিব (ভারপ্রাপ্ত) জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা
জজ মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী এ চিঠি পাঠান।
চিঠিতে
বলা হয়েছে, বিচার বিভাগ রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। অধস্তন আদালতসমূহে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ জনগণের
উপস্থিতিতে বিচারকাজ চলে।
বর্তমান
দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিভিন্ন নিরাপত্তাজনিত
ঝুঁকির প্রেক্ষাপটে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাটা জরুরি হয়ে পড়েছে।
নিরাপত্তাজনিত
কারণে সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের এজলাস
কক্ষে আইনজীবী ব্যতীত বিচারপ্রার্থী ও ‘অপ্রত্যাশিত’ ব্যক্তিবর্গের
প্রবেশাধিকার সীমিত করা হয়েছে। সমাবেশ,
মিছিল, অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য বহনও
নিষিদ্ধ করা হয়েছে সুপ্রিম
কোর্ট প্রাঙ্গণে।
আইজিপিকে উদ্দেশ করে চিঠিতে বলা হয়, “দেশের অধস্তন আদালতসমূহে বিচারকার্য নির্বিঘ্ন, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরিচালনার স্বার্থে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ ইউনিটসমূহকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে আপনাকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হলো।
মন্তব্য করুন


বিএনপি চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের
গণতন্ত্রের জন্য আপসহীন নেত্রী হিসেবে পরিচিত খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, নেতৃত্ব
এবং দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট গঠনে তাঁর ভূমিকা বিশ্ব গণমাধ্যমে বিশেষভাবে তুলে ধরা
হয়।
বিশ্বের
প্রভাবশালী সংবাদ সংস্থা ও গণমাধ্যমগুলো তাঁর রাজনৈতিক উত্থান, সংগ্রাম ও অবদানের ওপর
আলোকপাত করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
বার্তা
সংস্থা এএফপি বলেছে, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, যাঁকে অনেকেই আগামী
নির্বাচনে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরতে পারেন বলে মনে করছিলেন, মঙ্গলবার সকালে ৮০ বছর বয়সে
মৃত্যুবরণ করেছেন।
সরকার
তাঁর মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও একদিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। বুধবার
তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বার্তা
সংস্থা এএফপি আরো বলেছে, দীর্ঘদিন অসুস্থতা ও কারাবাস সত্ত্বেও খালেদা জিয়া গত নভেম্বর
মাসে ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে প্রচারণায় অংশ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন। গত
বছর গণ-অভ্যুত্থানে তাঁর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের
পর এটিই ছিল দেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন।
বিবিসি
‘খালেদা জিয়া: নিহত নেতার বিধবা স্ত্রী থেকে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী’
শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
প্রতিবেদনে
বলা হয়, ৮০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণকারী খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী।
একসময় তাঁকে তাঁর স্বামী, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম নেতা ও ১৯৭৭ সালে
রাষ্ট্রপতি হওয়া জিয়াউর রহমানের ‘লাজুক গৃহিণী’ হিসেবে বর্ণনা করা হতো। তবে ১৯৮১ সালে
স্বামীর হত্যাকাণ্ডের পর তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নেতৃত্বে উঠে আসেন
এবং নব্বইয়ের দশক ও ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে দুই দফায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব
পালন করেন।
অ্যাসোসিয়েটেড
প্রেস (এপি) জানায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেছেন বলে মঙ্গলবার
এক বিবৃতিতে জানিয়েছে বিএনপি। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি যেসব দুর্নীতি মামলার মুখোমুখি
হয়েছিলেন, সেগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছিলেন খালেদা জিয়া। চলতি
বছরের জানুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট তাঁর বিরুদ্ধে থাকা শেষ দুর্নীতি মামলাতেও তাঁকে খালাস
দেন, যার ফলে তিনি ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতেন। এপি আরও জানায়,
২০২০ সালে অসুস্থতার কারণে কারামুক্তির পর তাঁর পরিবার অন্তত ১৮ বার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনার সরকারের কাছে তাঁকে বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি দেওয়ার আবেদন জানালেও তা প্রত্যাখ্যান
করা হয়।
২০২৪ সালে শেখ হাসিনার পতনের পর নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার অবশেষে তাঁকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেয়। তিনি জানুয়ারিতে লন্ডন যান এবং মে মাসে দেশে ফেরেন।
রয়টার্স
শিরোনাম দেয়- ‘বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ৮০ বছর বয়সে মারা গেলেন’
রয়টার্স
জানায়, ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়া খালেদা জিয়া দীর্ঘদিনের
অসুস্থতার পর মঙ্গলবার মৃত্যুবরণ করেন।
চিকিৎসকদের
বরাতে বলা হয়, তিনি লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিসসহ বুক ও হৃদ্রোগে ভুগছিলেন।
আল
জাজিরা জানায়, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও দেশের অস্থির রাজনীতির এক প্রভাবশালী
ব্যক্তিত্ব খালেদা জিয়া দীর্ঘ অসুস্থতার পর ৮০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন।
কাতারভিত্তিক
এই গণমাধ্যমটি আরও একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে- ‘খালেদা জিয়া: বাংলাদেশের প্রথম নারী
প্রধানমন্ত্রী - ক্ষমতা ও প্রতিরোধের এক জীবন’ শিরোনামে।
ব্রিটিশ
দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান তাদের অনলাইন সংস্করণে লিখেছে- ‘বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী
খালেদা জিয়া ৮০ বছর বয়সে মারা গেলেন’।
ভারতীয়
সংবাদ সংস্থা পিটিআই এক প্রতিবেদনে লিখেছে- ‘খালেদা জিয়া: কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের
রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারকারী এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব’।
প্রতিবেদনে
বলা হয়, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী
হিসেবে খালেদা জিয়া কয়েক দশক ধরে দেশের রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করেন।
দীর্ঘদিন
বিএনপির নেতৃত্ব দেওয়া তিনবারের প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার ভোরে ঢাকায় দীর্ঘ অসুস্থতার
পর মৃত্যুবরণ করেন।
পিটিআই
জানায়, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকার জন্য সমর্থকদের কাছে তিনি ব্যাপকভাবে
সমাদৃত। নব্বইয়ের দশক এবং ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তিনি ছিলেন
এক প্রভাবশালী নাম।
ভারতের
বাংলা দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা লিখেছে, ‘একদা রাজনীতিতে ঘোর অনিচ্ছুক ‘ফার্স্ট লেডি’
থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী!’ জলপাইগুড়ির ‘পুতুল’ হয়ে উঠেছিলেন ‘বেগম জিয়া’-শীর্ষক
প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
উল্লেখ্য,
বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয় তাঁর স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের
মৃত্যুর পর। ১৯৮২ সালে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং ৯০-এর দশকে সামরিক স্বৈরশাসনের
বিরুদ্ধে গণআন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার পতনের পর ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারী
অনুষ্ঠিত জাতীয় সাংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী, ১৯৯৬ সালের
১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয়বার এবং ২০০১ সালে তৃতীয়বার তিনি
প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।
আন্তর্জাতিক
গণমাধ্যমগুলোতে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি অধ্যায়ের অবসান
হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। তিনি শুধু একটি দলের প্রধানই ছিলেন না, বরং সংসদীয় গণতন্ত্রের
ইতিহাসে অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন বলে উল্লেখ
করা হয়েছে।
দীর্ঘ
চার দশকের রাজনৈতিক জীবনে আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে পরিচিত বেগম খালেদা জিয়ার
মৃত্যুতে দেশ-বিদেশে অসংখ্য মানুষ শোক প্রকাশ করছেন।
বেগম জিয়ার ইন্তেকালে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সারাদেশে এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল, গুলশানে তাঁর বাসভবন ও নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শোকাহত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ভিড় দেখা গেছে। সেখানে অসংখ্য মানুষকে অশ্রুসিক্ত দেখা যায়। সারাদেশে সব জায়গায় দলীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে বিরাজ করছে শোকের মাতম।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর
বিজয়নগর এলাকায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী
শরিফ ওসমান হাদি দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী
পরিবেশে এমন সহিংস হামলা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য এবং দেশের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক অঙ্গনের
জন্য এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা।’আহত ওসমান হাদির সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত
করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
এ ছাড়া চিকিৎসা কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি করার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয়
দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন।
একই
সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে দ্রুত ও ব্যাপক তদন্ত চালিয়ে হামলায়
জড়িত সবাইকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি ঘটনাস্থল থেকে
আলামত সংগ্রহ, প্রত্যক্ষদর্শীর তথ্য গ্রহণ, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং হামলার পেছনে
কোনো সংগঠিত পরিকল্পনা থাকলে তা উন্মোচনের জন্য তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে বলেছেন।
প্রধান
উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে কোনো ধরনের সহিংসতা বরদাশত করা
হবে না। জনগণের নিরাপত্তা এবং প্রার্থীদের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।
দোষীরা যে-ই হোক, আইনের আওতায় আনা হবে।’
তিনি
দেশের সব রাজনৈতিক পক্ষ, কর্মী-সমর্থক এবং নাগরিকদের প্রতি শান্তি ও সংযম বজায় রাখার
আহ্বান জানান, যাতে আসন্ন নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও নিরাপদ পরিবেশে অনুষ্ঠিত
হতে পারে।
ইনকিলাব
মঞ্চের মুখপাত্র ও আসন্ন নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন
হাদী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে
ভর্তি করা হয়েছে।
তিনি
এখন কোমায় আছেন বলে জানিয়েছেন ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক (আরএস)
ডা. মোশকাত আহমেদ। তিনি জানান, শরিফ ওসমান হাদীর অবস্থা খুবই গুরুতর। তার মাথায় গুলিবিদ্ধ
হয়েছে। তিনি এখন কোমায় আছেন।
মন্তব্য করুন


উত্তর কোরিয়ার
নেতা কিম জং উন তার প্রশাসনের উপ-প্রধানমন্ত্রীকে ‘অযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে বরখাস্ত করেছেন।
রিয়ংসং মেশিন কমপ্লেক্স কারখানা উদ্বোধনের সময় কিম জং উন জনসম্মুখে মন্ত্রীর কার্যদক্ষতার
অভাবের উদাহরণ হিসেবে বলেন, ‘ছাগল দিয়ে গরুর গাড়ি চালানো যায় না।’
কেসিএনএ’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বক্তব্য দেওয়ার সময় কিম উপ-প্রধানমন্ত্রী ইয়াং সুং
হো-কে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন।
কিম তার বক্তব্যে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন, রুঢ় ও অযোগ্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের’ কঠোর সমালোচনা
করেন। তিনি বলেন, বন্ধুবর ভাইস প্রিমিয়ার, বেশি দেরি হওয়ার আগে অনুগ্রহ করে নিজেই পদত্যাগ
করুন। কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা নেই।
কিম আরও বলেন, গরুর গাড়ি টানার জন্য গরু দরকার, ছাগল নয়। এটি আমাদের সরকারি কর্মকর্তা
নিয়োগ প্রক্রিয়ার ভুল।
উল্লেখ্য, কিম জং উন প্রায়ই ‘অলস’ ও দায়িত্বহীন কর্মকর্তাদের জনসম্মুখে সমালোচনা করেন।
বিশেষত তার অর্থনৈতিক নীতিমালা কার্যকর করতে ব্যর্থ কর্মকর্তারা তার রোষের মুখে পড়েন।
তবে, রিয়ংসং মেশিন কমপ্লেক্স কারখানা উদ্বোধনের সময় কিমের এ ধরনের মন্তব্য বিশেষ নজর
কাড়ছে।
কিম কারখানা পরিদর্শনকালে বলেন, সরকারি ক্যাডাররা দীর্ঘদিন ধরে অল্পতেই হার মেনে নেওয়া,
দায়িত্বহীনতা ও নিস্পৃহতার মনোভাব দেখিয়ে আসছেন। কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের
জন্য মন্ত্রী ইয়াং-এর ওপর ভরসা রাখা যায় না।
উদ্বোধনের পর নতুন কারখানা থেকে উত্তর কোরিয়ার মোট যন্ত্রপাতি উৎপাদনের ১৬ শতাংশ সরবরাহ
হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কারখানার কর্মীরা সবুজ ইউনিফর্ম ও ধূসর টুপি পরে।
গত মাসে কিম তার দলের মধ্যে ‘অশুভ’ উপকরণ নির্মূলের অঙ্গীকার করেন এবং সরকারি গণমাধ্যম
জানিয়েছে, ক্ষমতাসীন দল তাদের সদস্যদের মধ্যে একাধিক অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে।
মন্তব্য করুন


প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমান বলেছেন, উত্তরাঞ্চল কৃষক প্রধান এলাকা। কৃষির সঙ্গে জড়িত দেশের অনেক কোম্পানি।
আমরা সেসব কোম্পানির সাথে কথা বলেছি। ঈদের পর তাদের সাথে বসব। উত্তরাঞ্চল থেকে কৃষিভিত্তিক
ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। সেখানে কৃষকদের সন্তানরা চাকরি পাবেন।
সোমবার
(১৬ মার্চ) দুপুরে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়া খাল খনন পরবর্তী আয়োজিত
জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক
রহমান বলেন, আমরা নির্বাচনের আগে অনেক কথা বলেছি। বলেছি সারাদেশে ৪ কোটি পরিবারের ফামিলি
কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। আমরা সারাদেশে ফ্যামিলি কার্ড দিতে শুরু করেছি। মধ্যপ্রাচ্যে
অনেক মানুষ কাজ করে। তাদের বিষয়ে আমরা চিন্তা করছি। তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে
যুদ্ধ শুরু হওয়ার কারণে অর্থনীতির ওপর চাপ পড়েছে। কিন্তু আমরা যে ওয়াদা করেছি সেগুলো
এরই মধ্যে শুরু করেছি।
তিনি
বলেন, খাল কাটার কাজ শুরু করেছি। আগামী মাস থেকে কৃষকদের কৃষক কার্ড দেওয়া হবে। ক্ষুদ্র,
প্রান্তিক ও মধ্য কৃষকরা কার্ড পাবেন। শহিদ জিয়া ও খালেদা জিয়া ছিলেন কৃষকদের বন্ধু।
আমরা কৃষকদের বন্ধু। কৃষক, কৃষানি ভালো থাকলে আমরা ভালো থাকব। তাই তাদের ভালো রাখতে
চাই। দেশের কৃষকদের শক্তিশালী ভিত্তির ওপর রাখতে চাই।
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, আমরা এমন একটি দল করি, যেই দলের কাজ হচ্ছে সাধারণ মানুষের উপকারে আসে এমন কাজ।
যেই কাজ করলে সাধারণ মানুষ খুশি হয় আমরা সেই কাজ করি। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে সাহাপাড়া খাল
খনন শুরু হলো, খালটি ১২ কিলোমিটার খনন শেষ হলে ৩১ হাজার কৃষক উপকৃত হবেন। এই খাল থেকে
পানি নিয়ে কৃষকরা ১২ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দিতে পারবে। সুবিধার আওতায় আসবে সাড়ে ৩
লাখ মানুষ। সবচেয়ে বড় বিষয় এই এলাকার কৃষকরা যে ফসল উৎপাদন করছে, তার থেকে ৬০ হাজার
মেট্রিক টন বেশি ফসল উৎপাদন করতে পারবে। এই খালের দুই পাশে রাস্তা নির্মাণসহ ১০ হাজার
বৃক্ষরোপণ করা হবে। খাল খনন শেষ হলে আমি আবার পুনরায় দেখতে আসব।
প্রধানমন্ত্রী
আরও বলেন, গ্রামের মানুষদের প্রধান পেশা হচ্ছে কৃষি। কৃষি যদি বাঁচে তাহলে কৃষক বাঁচবে,
তাহলেই দেশ বাঁচবে। খালগুলো খনন না হওয়ার কারণে ভরাট হয়ে গেছে। নদীও ভরাট হয়ে গেছে।
বর্ষার মৌসুমের অনেক খরা হয়, পানি পাওয়া যায় না। আমরা এই বর্ষার পানিতে কাজে ব্যবহার
করতে চাই। আমরা এমনভাবে পানি ব্যবহার করতে চাই, যাতে করে সমগ্র এলাকার মানুষ উপকার
পায়। আজকে খাল খনন শুরু করলাম। আগামী ৫ বছর সমগ্র দেশের ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন
করব। উজান থেকে যখন পানি আসে তখন নদীর পাশের মানুষ ও পশুর ক্ষতির পাশাপাশি ঘর-বাড়ি
নষ্ট হয়।
তিনি
বলেন, আমরা খাল খননের পর বর্ষার সময়ে অতিরিক্ত পানির ধরে রাখব। উজান থেকে নেমে আসা
পানি ধরে রাখতে পারলে আমরা সবাই উপকৃত হব। শুষ্ক কিংবা বর্ষা মৌসুমে কৃষকের পানি সরবরাহ
করতে পারি। কৃষির উৎপাদন বাড়াতে হবে। আমরা এত মানুষের খাবার বিদেশ থেকে আনা সম্ভব নয়।
তাই কৃষকের উপরে গুরুত্ব দিতে হবে। তাই পানিকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে।
পরিকল্পনার
পাশাপাশি সজাগ থাকবে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কারা বিশৃঙ্খলা করতে চায় তাদের বিষয়ে
খেয়াল রাখতে হবে। এই কাজগুলো আমার পক্ষে একা করা সম্ভব নয়। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজগুলো
করতে হবে। নির্বাচনে আপনাদের সমর্থনে যেমন আমরা সরকার গঠন করেছি। তেমনি আপনাদের সমর্থন
ছাড়া কাজ করা সম্ভব নয়। জনগণই হচ্ছে সকল ক্ষমতার উৎস। এই দেশের মালিক
জনগণ।
এই দেশের মালিক আপনারা। আপনারা যদি আমাদের সঙ্গে থাকেন তাহলে যে কোনো পরিকল্পনা কাজ
বাস্তবায়ন করতে পারব।
দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা
পরিষদের প্রশাসক মোফাজ্জল হোসেন দুলালের সভাপতিত্বে জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার
আহমেদ কচির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার
মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানি সম্পদ মন্ত্রী
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, সমাজকল্যাণ ও নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ
হোসেন, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, দিনাজপুর-৪ আসনের এমপি ও জাতীয় সংসদের
হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া, দিনাজপুর-১ আসনের এমপি মনজুরুল ইসলাম, দিনাজপুর-২ আসনের এমপি
সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক, দিনাজপুর-৩ আসনের এমপি সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশে আজারবাইজানের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত এলচিন হুসেইনলি আজ মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
এ সময় তারা আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠেয় কপ-২৯ সম্মেলন এবং জ্বালানি, বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক সহযোগিতা ও দুই দেশের মধ্যে বিমান পরিষেবা চুক্তির বিষয়ে আলোচনা করেন।
আশা করা হচ্ছে অধ্যাপক ইউনুস আজারবাইজানে অনুষ্ঠেয় কপ-২৯ সম্মেলনে যোগ দেবেন, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অন্তত ৩২ হাজার মানুষ জলবায়ু অর্থায়নের বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন।
রাষ্ট্রদূত হুসেইনলি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক আরও নিবিড় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একইসাথে তিনি উভয় দেশের মধ্যে ব্যবসা ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ উন্মোচন এবং আরও বেশি ব্যবসার উপায় খোঁজার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
তিনি জানান, জুন মাসে বাকুতে দুই দেশের মধ্যে পররাষ্ট্র দপ্তর পর্যায়ে একটি পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে আজারবাইজান বাংলাদেশের সঙ্গে একটি বিমান পরিষেবা চুক্তি স্বাক্ষরের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করে।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনুস আজারবাইজানকে "ভাল বন্ধু" হিসেবে উল্লেখ করেন এবং দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস আজারবাইজানের জনগণ, দেশটির নেতৃত্ব এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে তার দীর্ঘ সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন।
মন্তব্য করুন