

ছোটপর্দার
অভিনেত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যুকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখনও তুমুল আলোচনা-সমালোচনা
চলছে। বেশিরভাগই কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন তার স্বামী ও অভিনেতা জাহের আলভীকে। তবে নিজের
স্বপক্ষে ফেসবুকে সরব আলভীও। শুক্রবার (৬ মার্চ) মধ্যরাতেও ইকরার মৃত্যুকে ঘিরে সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন তিনি। যদিও এটিকে ইকরার মৃত্যু নিয়ে তার শেষ
পোস্ট বলে দাবি করেছেন এই অভিনেতা।
নতুন
পোস্টে ইকরার বিরুদ্ধে বেশ কিছু বিস্ফোরক অভিযোগ আনেন আলভী। সেখানে তিনি ঘটনাটি নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ
দাবি তুলে ধরেছেন এবং তদন্তে সেসব বিষয় খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া এ ঘটনায়
তার বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়, তবে তিনি আইনের প্রতি সম্মান রেখে তা মেনে
নেবেন বলেও জানিয়েছেন।
আলভী
লিখেছেন, ‘এটাই হয়তো আমার শেষ পোস্ট । একটু সময় নিয়ে পড়বেন। আইনের প্রতি সম্মান রেখেই
বলছি, সুষ্ঠু বিচারে আইন আমার বিরুদ্ধে যে পদক্ষেপ নিবে আমি মাথা পেতে নেব। কিন্তু
আমার এই পোস্টে আমি কিছু ইনফরমেশন রেখে যেতে চাই, যেন আমার কিছু হলে, অথবা আমাকে অন্যায়ভাবে
ফাঁসানো হলে সাধারণ জনগণ ও সাংবাদিক ভাই-বোনেরা এই বিষয়গুলো নিয়ে সতর্ক থাকেন এবং আইনের
কাছে খতিয়ে দেখার দাবি রাখতে পারেন। ’
পোস্টে
আলভী লেখেন, ‘আমার বাসায় ড্রইং-ডাইনিংয়ে একটি সিসিটিভি ক্যামেরা আছে। যার এক্সেস কখনোই
আমার কাছে ছিল না। ইকরার ফোনে ছিল। ইকরার ফোন পুলিশি হেফাজতে আছে এবং এই মুহূর্তে তা
ফরেনসিকে পাঠানো হয়েছে। অনেকেই বলবেন, আমার বাসার সিসিটিভির এক্সেস আমার কাছে ছিল না,
এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। তাদেরকে বলব, সিসিটিভির সাথে লিংকড ডিভাইস লিস্ট চেক করলে সেটি
অনায়সে বেরিয়ে আসবে। আমি সারাদিন শুটিং এ থাকার কারণে কখনো এর এক্সেস ইকরার কাছেও চাইনি।
ইকরা এই ক্যামেরা দিয়ে বাসার কাজের লোক ও বাসায় থাকা আমার সহকারীর গতিবিধি লক্ষ্য করত
প্রয়োজনমতো। এই সিসিটিভি ফুটেজ দুর্ঘটনার সবচেয়ে
বড় আলামত শুধু দুর্ঘটনার সময় না, আমি নেপাল
আসার দিন থেকে রয়েছে এই ক্যামেরায় গুরুত্বপূর্ণ
ফুটেজ। আবারও বলছি, ইকরার মোবাইল (যার পাসওয়ার্ড আমি জানি না) ও সিসিটিভি ক্যামেরার
মেমোরি কার্ড দুটোই পুলিশের হেফাজতে।’
ইকরার
বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে আলভী লেখেন, ‘এখন বলব, কেন সিসিটিভির ফুটেজ সবচেয়ে বেশি
গুরুত্বপূর্ণ। আমি নেপালের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হই ২৫ তারিখ দুপুরে। ২৫ তারিখ, ২৬
তারিখ ও সর্বশেষ ২৭ তারিখ; এই ৩ দিনই সন্ধ্যার পর আমার বাসায় ইকরার বান্ধবী ও বন্ধুর
আগমন ছিল। যার গতিবিধি সিসিটিভিতে আছে। ২৫/২৬ শুধু বান্ধবী এবং ২৭ তারিখ ২ জন বান্ধবী
ও ১ জন ছেলে বন্ধু বাসায় এসেছে এবং মধ্যরাত পর্যন্ত ছিল। এ সময়গুলোতে ৩ দিনই তারা
সিগারেট/গাজা ও মদ্যপান করেছে। দুর্ঘটনার আগের দিন ২৭ তারিখ ইকরা আমার সহকারীকে দিয়ে
সিগারেট ও ঘুমের ঔষধও আনিয়েছে ঐ সময়ে, যা সিসিটিভির নিচেই ইকরাকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে
। এই সমগ্র ভাষ্য আমার সহকারীর এবং তা ইতিমধ্যেই পুলিশের কাছে স্টেটমেন্ট আকারে পেশ
আছে। সাংবাদিক ভাই ও সাধারণ সবাইকে জানিয়ে রাখলাম, বিষয়টি যেন সিসিটিভি ফুটেজ থেকে
এই ৩ দিনের ফুটেজ কোনোভাবেই সরানো না হয়, আর সরানো হলেও যেন এর সুষ্ঠু জবাবদিহি বা
তদন্ত করা হয়। এই ৩ দিন ও দুর্ঘটনার মুহূর্তে ইকরার কথা-বার্তা কোনোভাবেই সাধারণ মানুষের
মতো ছিল না। ইকরা এর আগেও ১৫ বছরে একাধিকবার আত্নহত্যার চেষ্টা করলেও কখনো সিরিয়াসলি
কোনো সংযোগ পাওয়া যায়নি। কিন্তু এইবার ইকরা একদমই নরমাল ছিল না। ’
আলভী
আরও লেখেন, ‘ইকরার মোবাইল পুলিশের মাধ্যমে ফরেনসিকে পাঠানো হয়েছে। যেখানে স্পষ্ট চলে
আসবে কে ইকরার একাউন্ট ডিসেবল করেছে। এবং এটিও জানার প্রয়োজন আছে কেন করেছে। আমার সাথে
ইকরার কনভারসেশনের একটি দাঁড়ি-কমাও পরিবর্তিত হয়নি, সেটি আমার ফোন ফরেনসিকে নিলে প্রমাণ
মিলবে। যেটা আমি স্বেচ্ছায় পুলিশের কাছে দিব। সবাইকে এই দিকটাও লক্ষ্য রাখার জন্য অনুরোধ
জানানো হচ্ছে যেন ইকরার ফোন থেকেও কোন কনভার্সেশন ডিলিট না হয়। যেমন ম্যাসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ বা অন্যান্য অ্যাপ।
এমনকি ফোনের ইনকামিং ও আউটগোয়িং কল লিস্ট এবং ২৫/২৬/২৭ তারিখ রাতে ওর বন্ধুদের সাথে
বাসায় আসা এবং চিল করা নিয়ে কনভারসেশন।’
পোস্টমর্টেম
নিয়ে আলভী লিখেছেন, ‘এবার আসেন পোস্টমর্টেম রিপোর্ট নিয়ে কিছু কথা বলি। আগের রাতে মদ্যপান
ও মাদক সেবন করা হলে অবশ্যই সেটি পোস্টমর্টেম রিপোর্টে আসবে। তাই, কোনোভাবেই এই রিপোর্ট
যেন পরিবর্তন না হয় সেদিকেও একটু নজর রাখার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। কারণ পোস্টমর্টেম
করার আগে পোস্টমর্টেম বাধা দেয়া হচ্ছিল। না চাইতেও নিচে কিছু সংবেদনশীল ইঙ্গিত রেখে
যাচ্ছি যেগুলো আপনাদের সামনে এই মানুষটিকে নিয়ে বিস্তারিত বলতে আমার জন্য কষ্টদায়ক।
সর্বোপরি ইকরা আমার স্ত্রী।’
ইঙ্গিতের
ব্যাপারে আলভী লিখেছেন, ‘আপনাদের মতে আমার না হয় তিথীর সাথে পরকিয়া, তাহলে ইকরার ব্যাচমেট
জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি, ফিলোসফি ডিপার্টমেন্টের ৪১তম ব্যাচের ‘নাবিদ’-এর
সাথে ইকরার কী? ২০১০ সালে পালিয়ে বিয়ে করে দুই পরিবারের কাছে ধরা খাওয়ার পর, ইকরা আমার
বিবাহিত স্ত্রী থাকার পরও ইকরার পরিবার ইকরাকে ইকরার সম্মতিতে আরেক জায়গায় বিয়ে দিয়ে
দেয়। হ্যাঁ, আমার স্ত্রী থাকা অবস্থায় ইকরা আরেকটি বিয়ে করে, বাসর করে। আমাকে ডিভোর্স
না দিয়ে তার পরিবারের সম্মতিতে তবে ভুল বুঝতে
পেরে যখন ইকরা আমার কাছে ফিরে আসতে সিদ্ধান্ত নেয়, আমি তাকে মাফ করে বুকে পাথর রেখে
মেনে নেই। একজন স্বামী হয়ে এই সিচুয়েশন বয়ে বেড়ানো খুব একটা সুখের না অবশ্যই।’
এই
অভিনেতা লেখেন, ‘ওপরের কোনো কিছুই এটা প্রমাণ করে না যে, ইকরা আমাকে ভালবাসতো না। ইকরা
আমাকে ভয়ংকর ভালবাসতো। আমিও বাসতাম। ত্যাগ ওর যেমন ছিল, আমারও ছিল। যুদ্ধ দুজনেরই
করতে হয়েছে। ভুল-ত্রুটি, ঝগড়া, কলহ অন্য সব সংসারের স্বামী-স্ত্রীর মতো আমাদেরও ছিল।
কিন্তু সময়ের কালক্রমে ভালবাসাটা মায়ায় রূপ নেয়। মায়া, অভ্যস্ততা ও সন্তানের সেতুবন্ধন
সবকিছুকে ছাপিয়ে ভালবাসার জায়গাটায় আসন গেড়ে বসেছিল। ওপরের মহলের চাপ, ইকরার পরিবারের
প্রতিশোধপরায়ণতা ও আমার স্বকর্মসংস্থানের মানুষদের বেইমানি হয়তো আমাকে দমিয়ে দেবে,
হয়তো বেঁচে থাকতে দেবে না।
পোস্টের শেষে আলভী লিখেছেন, ‘১ জন মানুষও যদি বিবেচনার
দুয়ার খুলে লেখাগুলো পড়ে থাকেন। দয়া করে প্লিজ তথ্য-প্রমাণ মিলিয়ে নিয়েন। মুছে যেতে
দিয়েন না । আমার সন্তানের জন্য হলেও। কারণ আমার জায়গা আমার সন্তানের জীবনে কেউ পূরণ
করতে পারবে না। এটা বাস্তব। আমাদের দুজনের দুজনকে দরকার। আপনারা পারলে আমাকে মাফ করে
দিয়েন।’
মন্তব্য করুন


আসন্ন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গঠিত বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা
কমিটির প্রথম বৈঠকে অংশ নিতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে পৌঁছেছেন
দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
আজ
রোববার (৪ জানুয়ারি) বিকেল ৫টায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব
করবেন কমিটির চেয়ারম্যান ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। বৈঠককে ঘিরে
দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বাড়তি তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে।
গত
বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে চেয়ারম্যান এবং দলের
জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকে সদস্যসচিব করে ৪১ সদস্যবিশিষ্ট
কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। বিএনপির পক্ষ থেকে ওই রাতে প্রকাশিত
এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কার্যক্রম
সুষ্ঠু, সংগঠিত ও সমন্বিতভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে অভিজ্ঞ ও দায়িত্বশীল নেতাদের সমন্বয়ে
এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে
আরও উল্লেখ করা হয়, কমিটিতে ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য
বেগম সেলিমা রহমান ও শামসুজ্জামান দুদু। এ ছাড়া প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে
মো. ইসমাইল জবিউল্লাহকে।
মন্তব্য করুন


মজিবুর রহমান পাবেল, প্রতিবেদক:
খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেছেন, আমাদের সংবিধানে বলা আছে। দেশের মালিক জনগণ জনগণের হাতেই সকল ক্ষমতা। তারা ঠিক করবে। আগামী পাঁচ বছর কারা দেশ চালাবে, কিভাবে চলবে। জেলা পর্যায়ের পরে প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ে ভোটার গাড়ি যাবে।
৫ জানুয়ারি সোমবার কুমিল্লা টাউন হল মাঠে ফেস্টিভ ইলেকশন ক্যাম্পেইন এর আওতায় নির্বাচনী জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভোটের গাড়ির মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খাদ্য উপদেষ্টা বলেন, ভোটের গাড়ি এখন কুমিল্লায়। আপনারা সবাই নির্ভয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একই দিনে গণভোটে অংশ নিবেন। দীর্ঘদিন ধরে আমরা বাংলাদেশে কোন অংশগ্রহণমূলক ভোট গ্রহণ পাইনি। যাদের বয়স ৩০ থেকে ৩৫ বের তারা কখনো ভোট দিতে পারেনি। এমন অনেকেই আছে। এই অবস্থার অবসান আমরা এবার করতে যাচ্ছি। এই অবস্থার অবসানের জন্য সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
তিনি আরো বলেন, কুমিল্লা জেলা পুলিশকে বলা হয়েছে সর্বাত্মক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য । জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ও অন্যান্য কর্মকর্তাও নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য বলেছেন ।
প্রশাসন বিএনপি'র দিকে ঢুকে গেছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বলা আছে প্রশাসন নিরপেক্ষ থাকবে। এ ধরনের কোন বিচ্যুতি যাতে না ঘটে প্রশাসনের সাথে যারা সংশ্লিষ্ট আছেন তাদেরকে বলা হয়েছে আনুষ্ঠানিকভাবে বলা হয়েছে। আমি আশা করছি অনেকের আশঙ্কা ভুল প্রমাণ করে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ভোট কখনো তারা অঙ্গীকারবদ্ধ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, কুমিল্লা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশেদুল হক চৌধুরী, জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিসার হাবিবুর রহমান কুমিল্লা জেলার প্রশাসনে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
মন্তব্য করুন


ফেনীতে গ্রামীণ ব্যাংকের একটি কার্যালয়ে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে ফেনী সদর উপজেলার শর্শদী বাজার এলাকায় অবস্থিত গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এতে কার্যালয়ের বারান্দায় রাখা তিনটি মোটরসাইকেল পুড়ে গেছে।
পুলিশ ও গ্রামীণ ব্যাংক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, শর্শদী বাজার এলাকায় গ্রামীণ ব্যাংকের দুইতলা ভবনটিতে কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী বসবাস করেন। ভোররাতে কয়েকজন দুর্বৃত্ত কার্যালয়ের নিচতলার কলাপসিবল গেটের ভেতরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় নিরাপত্তা প্রহরীরা বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার শুরু করলে ভবনের ওপরতলায় অবস্থানরত কর্মচারীরা দ্রুত নিচে নেমে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন।
পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এর আগেই কার্যালয়ের নিচে রাখা তিনটি মোটরসাইকেল সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়। এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হলেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
গ্রামীণ ব্যাংক শর্শদী শাখার ব্যবস্থাপক অশোক কুমার দেবনাথ বলেন,
“দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুন নেভাতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম জানান,
“খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন


বিএনপির
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভোটার হতে আইনি কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন নির্বাচন
কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তিনি জানান, ইসি চাইলে যেকোনো সময় যে কাউকে ভোটার
করতে পারে।
আজ
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) ইসি মাছউদ এ কথা বলেন। তবে ভোটার হতে তারেক রহমান শনিবার (২৮
ডিসেম্বর) নির্বাচন ভবনে আসবেন কিনা তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি ইসি মাছউদ বলেন।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর গতকাল বৃহস্পতিবার দেশে ফেরেন তারেক
রহমান। এর আগে ২২ ডিসেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক
শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান
তারেক রহমান দেশে ফিরে শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) ভোটার হবেন।
মন্তব্য করুন


চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর সীমান্ত দিয়ে ১৫ জনকে বাংলাদেশে ঢুকতে না দিয়ে ঠেলে দিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষা বাহিনী (BSF)। নওগাঁ ব্যাটালিয়ন ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুদ জানিয়েছেন, শনিবার রাতের এই ঘটনার পর তাদের রোববার ভোরে আটক করা হয়।
আটকদের মধ্যে রয়েছেন দুই শিশু, নয়জন নারী ও চারজন পুরুষ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা যশোর, নড়াইল, খুলনা ও মানিকগঞ্জ জেলার বাসিন্দা।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুদ বলেন, “ভোরে সীমান্তে টহলের সময় বিজিবি সদস্যরা তাদের দেখতে পায়। তাদের আটক করে ক্যাম্পে আনা হয়েছে এবং নিশ্চিতভাবে সকলেই বাংলাদেশি নাগরিক।” পরে তাদের গোমস্তাপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
গোমস্তাপুর থানার ওসি আব্দুল বারিক বলেন, “পুশইনের শিকার বাংলাদেশি নাগরিকরা থানার হেফাজতে রয়েছেন। ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
সব ক্ষেত্রে কোরআন শিক্ষা বাধ্যতামূলক হলে সমাজে পাপ কমে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন কুমিল্লা ৬ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, “আমি সংসদে যেতে পারলে সকল স্তরে কোরআন শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার জন্য কথা বলবো।”
আজ শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সকালে ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ মিলনায়তনে জাতীয় হাফেজ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, মসজিদের খতিব ও মুয়াজ্জিনরা সবচেয়ে অবহেলিত। দেশের সকল মসজিদের খতিব ও মুয়াজ্জিনকে সরকারি বেতনকাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। আগামীতে বিএনপি সরকার গঠন করলে, দেশনায়ক তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে ইনশাআল্লাহ এটা বাস্তবায়ন করা হবে।
মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, আলেমরা এদেশের সম্পদ। আলেমদের উপর কোনো আঘাত সহ্য করা হবে না। আলেম যে দলের যে মতেরই হোক তাদের রক্ষা করা ও নিরাপত্তা দেওয়া আমাদের সকলের দায়িত্ব।
বাংলাদেশ জাতীয় হাফেজ কল্যাণ সমিতির সভাপতি হাফেজ মাওলানা ইয়াসিন নুরী আল গাজীপুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় হাফেজ সম্মেলনে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আমিরুজ্জামান আমির, জেলা তাঁতী দলের সদস্য সচিব মাহমুদুর রহমান পিটার, সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আক্তার হোসেন, হাফেজ কল্যাণ সমিতির মহাসচিব ক্বারী হুমায়ুন কবির, সাংগঠনিক সম্পাদক মহসিন উদ্দিন বেলালী, অর্থ সম্পাদক হাফেজ ইজহারুল হক সিরাজী, বাংলাদেশ খতিব ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুফতি শামিম মজুমদার, কুমিল্লা বাঁচাও মঞ্চের সদস্য সচিব নাসির উদ্দিন প্রমুখ।
সম্মেলনে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুরস্কার গ্রহণ করে ইবনে তাইমিয়া হিফজ বিভাগ। শ্রেষ্ঠ হাফেজ হিসেবে পুরস্কার পান হাফেজ মাওলানা ফরিদ আহমেদ ভুঁইয়া ও অধ্যাপক শাহাদাত হোসেন। শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে পুরস্কৃত হন ইবনে তাইমিয়ার হিফজ বিভাগের শিক্ষক হাফেজ জয়নাল উদ্দিন আহমেদ। এছাড়াও সম্মেলনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শ্রেষ্ঠ হাফেজদের বৃত্তি প্রদান করা হয়।
মন্তব্য করুন


ধর্ম
উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, আইনের শাসন একটি জাতির উন্নয়নের অন্যতম সোপান।
দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আজ
সোমবার ( ২৬ জানুয়ারি ) দুপুরে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবী সমিতির
উদ্যোগে আদালতের অবকাঠামো উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন ও গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির
বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
ধর্ম
মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
ড.
আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় ন্যায়বিচার পৌঁছে দেওয়াই সরকারের অন্যতম
প্রধান অঙ্গীকার। বিচারব্যবস্থাকে সাধারণ মানুষের নাগালে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরকার
কাজ করছে। আদালতের অবকাঠামো উন্নয়ন সেই ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ।
তিনি
আরও বলেন, সাতকানিয়ার এই শতবর্ষী আদালত ভবনের অবকাঠামোতে আমূল পরিবর্তন আনা হবে। এটিকে
আধুনিক বহুতল ভবনে রূপান্তর করা হবে। এ বিষয়ে প্রকৌশলী ও স্থপতিদের সাথে কথা হয়েছে।
সাতকানিয়া
আদালতের অবকাঠামো উন্নয়নে সম্ভাব্য সকল ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
আগামী
১২ ফেব্রুয়ারিকে ঐতিহাসিক দিন উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘদিন পর ভোটাধিকার
প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছে। আমরা আশাবাদী, উৎসবমুখর পরিবেশে এ দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার
প্রয়োগ করতে পারবে। নির্বাচিতদের হাতে আমরা ক্ষমতা হস্তান্তর করে বিদায় নেব।
সাতকানিয়া
আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সোলাইমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সাতকানিয়া
আদালতের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ সিরাজ উদ্দিন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের
সহযোগী অধ্যাপক সাঈদ আহসান খালিদ ও আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাফিজুল
ইসলাম মানিক বক্তৃতা করেন।
পরে উপদেষ্টা সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন এক্স-রে মেশিন সংযোজন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচন
দিতে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও
বিএনপি।
কিন্তু আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। এর পরিবর্তে এই জায়গায় সংস্কার আনতে নতুন দল গঠনের চিন্তাভাবনা করছেন তারা।
অতি সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্যই করেছেন ছাত্র আন্দোলনের চার শিক্ষার্থী।
কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকেই শুরু হয় সরকারবিরোধী আন্দোলন। মানুষের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, সরকারি আমলা ও মন্ত্রী-এমপিদের দুর্নীতি থেকে শুরু করে সব অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলে ‘জেন জি’ হিসেবে পরিচিত তরুণেরা।
সরকারের পতন হয়, ক্ষমতায় আসে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রধান উপদেষ্টা হন নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁর উপদেষ্টা পরিষদে ছাত্র আন্দোলনের দুজন সমন্বয়কও রয়েছেন।
এমন অবস্থায় দেশে সংস্কার আনতে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন নিয়ে আলোচনা করছেন শিক্ষার্থীরা। রয়টার্সকে এমনটাই বলেন মাহফুজ আলম নামের এক শিক্ষার্থী। সরকার এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রণি-পেশার মানুষের মধ্যে লিয়াজোঁ করতে গঠিত কমিটির প্রধানের দায়িত্বে আছেন তিনি।
আইন নিয়ে পড়াশোনা করা ২৬ বছর বয়সী মাহফুজ
আলম বলেন, এক মাসের মধ্যে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের
আগে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে এ নিয়ে আলাপ করতে চায় শিক্ষার্থীরা। এর আগে পরিকল্পনার ব্যাপারে
কোথাও বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এ নিয়ে সমন্বয়ক তাহমিদ চৌধুরী বলেন, তাদের নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। এর মূল ভিত্তি হবে অসাম্প্রদায়িকতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা।
তবে, অর্ন্তবর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে থাকা দুজন ছাত্র প্রতিনিধি এ ব্যাপারে খোলাশা করে কিছু বলেননি। এমনকি কোন পলিসি নিয়ে তাঁরা কাজ করতে চাইছেন, সেটাও জানাননি। তবে, নির্বাচন কমিশনে ব্যাপক সংস্কারের কথা বলছেন।
এ নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এই আন্দোলনের স্পিরিট ছিল মূলত নতুন বাংলাদেশ গঠন করা, যেখানে কোনো ফ্যাসিস্ট বা স্বৈরাচার আর থাকবে না। তা নিশ্চিত করতে গঠনগত সংস্কার দরকার। এতে কিছু সময় তো লাগবেই।’
দ্রুত নির্বাচন দেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে যে দাবি জানানো হচ্ছে, তা অন্তর্বর্তী সরকার আমলে নিচ্ছে না বলে রয়টার্সকে বলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম।
এ ব্যাপারে সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা এখন অজানা নদীতে এসে পড়েছি। সেটা আইনগত ও রাজনৈতিকভাবেও। এই অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতা কেমন হবে তাও বলা যাচ্ছে না। কেননা এই সরকার আইন মেনে হয়নি।’
বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে
প্রায় ৩০ জনের সঙ্গে কথা বলেছে রয়টার্স। এর মধ্যে শিক্ষার্থী ছাড়াও রাজনৈতিক দলের নেতা
ও বিশ্লেষক রয়েছেন।
মন্তব্য করুন


আসন্ন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১০ (ধানমন্ডি, কলাবাগান, নিউমার্কেট ও হাজারীবাগ)
আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
আজ
সোমবার ( ২২ ডিসেম্বর ) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে তিনি ধানমন্ডি থানা নির্বাচন অফিস থেকে
ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে এই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।
১০
ডিসেম্বর সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের
পর উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেন দুই ছাত্রপ্রতিনিধি আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও
মাহফুজ আলম। এর পর থেকেই তাঁদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে নানা
মহলে গুঞ্জন শুরু হয়। উপদেষ্টা পদ ছাড়ার পর আসিফ মাহমুদ কোন দল থেকে নির্বাচনে লড়বেন,
তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ছিল। ধারণা করা হচ্ছিল, তিনি নবগঠিত জাতীয় নাগরিক
পার্টিতে (এনসিপি) গুরুত্বপূর্ণ পদ নিয়ে যোগ দেবেন অথবা গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী
হিসেবে বিএনপি জোটের সমর্থন নিয়ে নির্বাচন করবেন। তবে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে
১২ ডিসেম্বর আসিফ মাহমুদ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যানারে নয়,
বরং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই ঢাকা-১০ আসনে লড়বেন।
ঢাকা-১০
আসনটি রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী এলাকা হওয়ায় এখানে ত্রিমুখী বা চতুর্মুখী
লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। এই আসনে ইতিমধ্যে হেভিওয়েট প্রার্থীরা মাঠে নেমেছেন:
বিএনপির
দলটির নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ রবিউল আলমকে এই আসনের জন্য দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়ন পেয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ
সদস্য জসীম উদ্দিন সরকার।
তবে
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এখন পর্যন্ত এই আসনে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থীর নাম
ঘোষণা করেনি। মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পর আসিফ মাহমুদের সমর্থকেরা ধানমন্ডি এলাকায় উল্লাস
প্রকাশ করেছেন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের অন্যতম এই সমন্বয়কের নির্বাচনী লড়াইয়ে নামার
ঘোষণা তরুণ ভোটারদের মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা তৈরি করেছে।
নির্বাচন
কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ২৯ ডিসেম্বর, বাছাই হবে
৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি, আপিলের দিন ১১ জানুয়ারি, আর আপিল নিষ্পত্তি করা হবে ১২
থেকে ১৮ জানুয়ারি। অবশ্য গতকাল রোববার সংশোধিত তফসিলে রিটার্নিং কর্মকর্তার আদেশের
বিরুদ্ধে প্রার্থীদের আপিল করার সময় দুই দিন কমানো হয়েছে। আপিলের সময় ৫-১১ জানুয়ারি
পরিবর্তন করে ৫-৯ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে। আপিল নিষ্পত্তির তারিখও দুই দিন বাড়ানো
হয়েছে। ১২–১৮ জানুয়ারির পরিবর্তে ১০-১৮ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে।
তফসিলে
মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন রাখা হয়েছে ২০ জানুয়ারি, চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ
ও প্রতীক বরাদ্দের দিন ২১ জানুয়ারি। সব প্রক্রিয়া শেষে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণ হবে।
এবার ভোট গ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে শুরু হয়ে বিকেল
৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে।
এবারের
নির্বাচনে ৩০০টি সংসদীয় আসনের ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্রে ১২ কোটি ৭৬ লাখ ভোটার তাঁদের
ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
সংসদ
নির্বাচনের পাশাপাশি এবার সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার সংশ্লিষ্ট গণভোটও রয়েছে।
এ কারণে কিছু ভোটকক্ষ ও গোপন কক্ষ (যেখানে ব্যালটে সিল দেওয়া হয়) বাড়াবে ইসি। জাতীয়
সংসদ নির্বাচনের জন্য বরাবরের মতো সাদা রঙের ব্যালট পেপার আর গণভোটের জন্য গোলাপি রঙের
ব্যালট পেপার ব্যবহৃত হবে।
মন্তব্য করুন


মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে সেনাবাহিনীর কমিশন প্রাপ্ত কর্মকর্তারা নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন।
মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব এই প্রজ্ঞাপন জারি করেন।
ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ এর ১২(১) ধারা অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের এই ক্ষমতা দেওয়া হয়। এই ধারা অনুযায়ী সরকারকে মেট্রোপলিটনের বাইরে যে কোনো ব্যক্তিকে বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। পুলিশের ক্ষেত্রে সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার নিচে কাউকে দায়িত্ব প্রদান করা না গেলেও অন্যদের ক্ষেত্রে এ ব্যাপারে আইনে শর্ত আরোপ করা হয়নি।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭(১) ধারা অনুযায়ী ক্ষমতাপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা (সেনা কর্মকর্তা) সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের (জেলা প্রশাসক) তত্ত্বাবধানে কাজ করবেন।
গ্রেফতার, তল্লাশি ও বেআইনি সমাবেশ ভঙ্গের ক্ষমতা: প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা ফৌজদারি কার্যবিধির ৬৪, ৬৫, ৮৩, ৮৪, ৮৬, ৯৫(২), ১০০, ১০৫, ১০৭, ১০৯, ১১০, ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১৩০, ১৩৩ ও ১৪২ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন। এসব ধারা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা কাউকে আটক বা গ্রেফতার বা গ্রেফতারের আদেশ, তল্লাশির আদেশ ও বেআইনি সমাবেশ ভঙ্গের জন্য আদেশ দিতে পারবেন।
গ্রেফতার বা গ্রেফতারের আদেশ: ফৌজদারি কার্যবিধির ৬৪ ও ৬৫ ধারায় একজন ম্যাজিস্ট্রেট তার উপস্থিতিতে ও এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে কোনো অপরাধ করলে তিনি নিজে অপরাধীকে গ্রেফতার করতে পারবেন অথবা অন্য কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতারের আদেশ দিতে পারবেন। এছাড়া ৮৩ ও ৮৪ ধারা অনুযায়ী অধিক্ষেত্রের বাহিরে কার্যকরের জন্য পরোয়ানা জারি করতে পারবেন। আইনের ৮৬ ধারার বিধান মতে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দিতে পারবেন অথবা অপরাধ জামিনযোগ্য না হলে তাকে আদালতে পাঠাবেন।
তল্লশি সংক্রান্ত আদেশ: ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ৯৫(২) ধারার বিধানমতে তিনি জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশক্রমে ডাক বা টেলিগ্রাম বিভাগের দ্বারা তল্লাশি পরিচালনা করবার ও উক্ত দলিল, পার্সেল বা ব্যক্তি আটক করার ব্যবস্থা করতে পারবেন। ১০০ ধারার বিধানমতে কোনো ব্যক্তিকে বেআইনিভাবে আটক করার বিশ্বাসযোগ্য সংবাদ পেলে তল্লাশি পরোয়ানা জারি করতে পারবেন। ১০৫ ধারার বিধানমতে নিজ উপস্থিতিতেও ম্যাজিস্ট্রেট তল্লাশির আদেশ দিতে পারবেন।
শান্তিরক্ষায় মুচলেকা গ্রহণ: শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা থাকলে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭ ধারা অনুযায়ী শান্তি শান্তিরক্ষায় সদাচরণের মুচলেকা গ্রহণ করতে পারবেন। ১০৯ ধারার বিধানমতে অধিক্ষেত্রের মধ্যে ভবঘুরে ও সন্দেহভাজন ব্যক্তির কাছ থেকে মুচলেকা নিতে পারবেন। ১১০ ও ১২৬ ধারা অনুযায়ী অভ্যাসগত অপরাধীর কাছ থেকে জামিনদারসহ বা জামিনদার ছাড়াও শান্তিরক্ষায় মুচলেকা নিতে এবং প্রয়োজনে মুচলেকা বাতিল করতে পারবেন।
বেআইনি সমাবেশ ছত্রভঙ্গের আদেশ দান: ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৭ ধারা অনুযায়ী সর্বসাধারণের শান্তি বিনষ্ট হওয়ার কারণ হতে পারে এই ধরনের পাঁচ বা তারবেশি ব্যক্তির সমাবেশ ছত্রভঙ্গের আদেশ দিতে পারেন। আদেশ অমান্য করলে ১২৮ ধারা অনুযায়ী একজন ম্যাজিস্ট্রেট সমাবেশ ভঙ্গে বল প্রয়োগের আদেশ দিতে পারেন। ১৩০ ধারার বিধান অনুযায়ী সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে প্রয়োজনে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের গ্রেফতার করতে পারবেন।
এছাড়াও ফৌজদারি কার্যবিধির ১৩৩ ধারা অনুযায়ী একজন ম্যাজিস্ট্রেট পথ, নদী, খাল বা প্রকাশ্য স্থানে বেআইনি বাঁধা অপসারণ, ব্যবসা বা সংরক্ষিত এলাকায় মানুষের আরাম আয়েশের বিঘ্ন ঘটানো, গৃহ বা তাবু হতে ক্ষতিকর বস্তু বা বৃক্ষ অপসারণ, জলাশয় ঘেরাও, বিপজ্জনক প্রাণী ধ্বংস বা আটক ইত্যাদি আদেশ দিতে পারেন। কোনো ব্যক্তি ১৪২ ধারার বিধান মতে ক্ষতি এড়াতে কোনো ব্যক্তির উপর নির্দিষ্ট স্থানে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারেন।
মন্তব্য করুন