

গাজীপুর
সদর উপজেলার ভবানীপুর এলাকায় গাঁজা সেবনের দৃশ্য দেখে ফেলায় মাহাবুল হোসেন রনি (১৪)
নামের এক মাদ্রাসাছাত্রকে শ্বাসরোধে হত্যার পর আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ছাব্বির আহম্মেদ (১৯) নামের এক তরুণকে গ্রেপ্তার
করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তারের পর শুক্রবার আদালতে ১৬৪
ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ওই তরুণ ।
নিহত
মাহাবুল হোসেন রনি ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের সোহাস মিয়ার ছেলে।
সে ভবানীপুরের খুরশীদিয়া মারকাযুল উলুম ক্বওমী মাদরাসা ও এতিমখানার নাজেরা বিভাগের
শিক্ষার্থী ছিল। অন্যদিকে, গ্রেপ্তারকৃত ছাব্বির আহম্মেদ ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থানার
তুলন্দর গ্রামের আব্দুল বারেকের ছেলে। সে গাজীপুরের ভবানীপুর এলাকায় ভাড়াবাসায় বসবাস
করত।
পিবিআই
জানায়, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে তারাবির নামাজ পড়তে গিয়ে বাসায় ফেরার পথে নিখোঁজ
হয় রনি। পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টার দিকে স্থানীয়রা একই এলাকার একটি জঙ্গলের
ভেতর আগুনে পোড়া অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পায়। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি শনাক্ত
করেন। এ ঘটনায় নিহতের দাদা তারা মিয়া জয়দেবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
শুরুতে থানা পুলিশ মামলাটি তদন্ত করলেও পরে পিবিআই গাজীপুর জেলা এর তদন্তভার গ্রহণ
করে।
তথ্যপ্রযুক্তির
সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ৫ মার্চ রাতে ভবানীপুর এলাকা থেকে ছাব্বির
আহম্মেদকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে
ছাব্বির জানায়, ঘটনার দিন রাতে সে জঙ্গলের ভেতরে গাঁজা সেবন করছিল। এ সময় মাদ্রাসাছাত্র
রনি সেখানে এসে তাকে দেখে ফেলে এবং বিষয়টি অন্যদের জানিয়ে দেওয়ার কথা বলে। এতে ক্ষিপ্ত
হয়ে ছাব্বির তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় এবং পেছন দিক থেকে গলা চেপে শ্বাসরোধ করে
হত্যা করে। পরে ঘটনা গোপন করার জন্য সে মরদেহে আগুন লাগিয়ে পালিয়ে যায়।
পিবিআই
গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, তথ্যপ্রযুক্তি, স্থানীয় সোর্স ও
পেশাদার তদন্তের মাধ্যমেই এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।
মন্তব্য করুন


ড্রোন
প্রযুক্তিতে পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী সমাধানের লক্ষ্যে এক অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে
চীনের একদল গবেষক। উত্তর-পশ্চিম পলিটেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির একদল বিজ্ঞানী তৈরি করেছেন
বিশ্বের প্রথম ‘বাঁশের তৈরি ড্রোন’ এবং এটি পরিচালনার জন্য একটি বিশেষ
ওপেন-সোর্স বা উন্মুক্ত ফ্লাইট কন্ট্রোল সফটওয়্যার। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই
প্রযুক্তির সফটওয়্যারটি তারা বিশ্বের জন্য বিনামূল্যে উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। সাধারণত
ড্রোনের বডি বা ফ্রেম তৈরিতে কার্বন ফাইবার বা প্লাস্টিকের মতো ব্যয়বহুল কৃত্রিম উপাদান
ব্যবহার করা হয়। তবে চীনা গবেষকরা পরিবেশবান্ধব এবং সহজে পাওয়া যায় এমন বাঁশকে ড্রোনের
মূল কাঠামো হিসেবে বেছে নিয়েছেন। গবেষক দলটি জানিয়েছেন, বাঁশের তৈরি ড্রোনগুলো কেবল
পরিবেশবান্ধবই নয়, বরং এগুলো অত্যন্ত সাশ্রয়ী এবং ওজনে হালকা বাঁশের ড্রোনের ক্ষেত্রে
সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল এর কম্পন। কৃত্রিম উপাদানের তুলনায় বাঁশে ৮-২০ হার্টজ রেঞ্জের
নিম্ন-ফ্রিকোয়েন্সি কম্পন তৈরি হয়, যা সাধারণ ড্রোন কন্ট্রোলারগুলো সামাল দিতে পারে
না। এই সমস্যার সমাধানে গবেষকরা বিশেষ ‘ফ্লাইট কন্ট্রোল বোর্ড’
এবং নতুন অ্যালগরিদম তৈরি করেছেন। এই উন্নত সিস্টেমটি ড্রোনের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার
পাশাপাশি এর সাড়া প্রদানের গতি ১৫-২০ মিলিসেকেন্ড থেকে কমিয়ে মাত্র ৮-১০ মিলিসেকেন্ডে
নিয়ে এসেছে।
এটি
প্লাস্টিক বা কার্বন ফাইবারের ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশ রক্ষায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
রাখবে। বাঁশ সহজলভ্য হওয়ায় ড্রোনের উৎপাদন খরচ এক ধাক্কায় অনেক কমে আসবে। সফটওয়্যারটি
সবার জন্য উন্মুক্ত বা ফ্রি করে দেওয়ায় বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের বিজ্ঞানীরা এখন এই
প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে আরও উন্নত পরিবেশবান্ধব ড্রোন তৈরি করতে পারবেন। বিশেষজ্ঞরা
মনে করছেন, এই আবিষ্কার কৃষি কাজ, পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ড্রোন
ব্যবহারের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য
এই সাশ্রয়ী প্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে। চীনা বিজ্ঞানীদের এই উদ্ভাবন প্রমাণ
করল যে, আধুনিক প্রযুক্তির সাথে প্রকৃতির প্রাচীন উপাদানগুলোর মেলবন্ধন ঘটানো সম্ভব
হলে তা টেকসই ভবিষ্যতের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়াবে।
মন্তব্য করুন


সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ বছর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আজ বৃহস্পিতবার (২৪ অক্টোবর) এই সিদ্ধান্ত হয়। উক্ত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
বেলা সাড়ে ১১টায় তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়।
মন্তব্য করুন


স্বামীর
মুখে দুর্গন্ধের কারণে পারিবারিক অশান্তির অভিযোগ তুলে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন চাঁদপুরের
এক গৃহবধূ। জেলার শাহরাস্তি উপজেলার বাসিন্দা ওই নারী শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে এ
অভিযোগ করেন। পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে বিষয়টি মীমাংসা হয়।
উপজেলার
রায়েশ (সুদূরবাড়ী) এলাকার পারভীন আক্তার (৫০) তার স্বামী হেলাল আলীর বিরুদ্ধে শাহরাস্তি
থানায় অভিযোগ করেন। এতে বলা হয়, তাদের দাম্পত্য জীবনে দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি চলছে। স্বামীর
মুখে দুর্গন্ধের কারণে একই ঘরে বসবাস করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
অভিযোগে
আরো বলা হয়, মুখের তীব্র দুর্গন্ধ দূর করতে স্বামীকে নিয়মিত মুখ পরিষ্কার রাখার অনুরোধ
করেও ফল পাননি পারভীন আক্তার। উল্টো এ কারণে প্রায়ই তাকে গালাগাল ও মারধর করা হয়।
শাহরাস্তি
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর দুই
পক্ষকে থানায় ডেকে আলোচনা করা হয়। স্বামী-স্ত্রী দুজনই বয়স্ক হওয়ায় বিষয়টি পারিবারিকভাবে
মীমাংসা করা হয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে মুখের দুর্গন্ধের সমস্যাকে বলা হয় ‘হ্যালিটোসিস’।
এটি অনেকের ক্ষেত্রেই জটিল সমস্যা তৈরি করে, এমনকি ঘনিষ্ঠরাও অস্বস্তিতে ভোগেন।
ক্লিভল্যান্ড
ক্লিনিকের ওয়েবসাইটের তথ্য বলছে, অনেকে মুখে দুর্গন্ধের বিষয়টিকে সাময়িক সমস্যা ভেবে
অবহেলা করেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে জটিলতা চললে তা মুখগহ্বরের রোগ কিংবা অন্য কোনো শারীরিক
জটিলতার ইঙ্গিত হতে পারে।
মুখে
দুর্গন্ধের সবচেয়ে বড় কারণ দাঁতের ক্ষয়, মাড়ির রোগ এবং জিভে জমে থাকা ব্যাকটেরিয়া।
দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা খাবার পচে দুর্গন্ধ তৈরি করে, যা সময়ের সঙ্গে আরো তীব্র হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লালা মুখ পরিষ্কার রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু পানি
কম পান করা বা দীর্ঘ সময় মুখ শুকনা থাকলে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এ কারণে সকালে
ঘুম থেকে ওঠার পর অনেকের মুখে দুর্গন্ধ বেশি থাকে।
আবার
খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনও মুখে দুর্গন্ধের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। পেঁয়াজ, রসুন, কফি
ও মসলাযুক্ত খাবার সাময়িকভাবে মুখে গন্ধ বাড়ায়। পাশাপাশি ধূমপান ও অ্যালকোহল সেবন এ
সমস্যাকে দীর্ঘস্থায়ী করে তুলতে পারে।
অনেক
ক্ষেত্রে সাইনাস ইনফেকশন, টনসিল স্টোন, গ্যাসট্রিক, ডায়াবেটিস, এমনকি কিডনি ও যকৃতে
সমস্যার কারণেও মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে মাথা ও ঘাড়ের ক্যান্সারের
কারণেও মুখে দুর্গন্ধ পাওয়া যেতে পারে। তাই দীর্ঘদিন সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ
নেওয়া উচিত।
দন্তচিকিৎসকদের
পরামর্শ হলো, দিনে অন্তত দুইবার দাঁত ব্রাশ করা, নিয়মিত জিভ পরিষ্কার করা এবং ডেন্টাল
ফ্লস ব্যবহার করলে মুখের দুর্গন্ধ অনেকাংশে কমানো সম্ভব। এ ছাড়া পর্যাপ্ত পানি পান,
ধূমপান পরিহার এবং প্রয়োজন হলে মাউথওয়াশ ব্যবহার করা।
মন্তব্য করুন


নৌ
দুর্ঘটনা ও ফেরি পারাপারে ঝুঁকি এড়াতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ
এবং নৌপরিবহণ বিষয়ক মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, এখন থেকে ফেরিতে বাস তোলার
আগে অবশ্যই শতভাগ যাত্রীকে বাস থেকে নামিয়ে দিতে হবে। কোনো অবস্থাতেই যাত্রীসহ বাস
ফেরিতে তোলা যাবে না।
রবিবার
(২৯ মার্চ) সচিবালয়ে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ ও সড়কে সার্বিক নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত
উচ্চপর্যায়ের এক সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান।
তিনি
জানান, ফেরিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখন থেকে রেলিং লাগানো বাধ্যতামূলক
করা হবে। অনেক সময় ফেরিতে গাড়ি ওঠানামার সময় বা ঢেউয়ের কবলে পড়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে,
যা রেলিং স্থাপনের মাধ্যমে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
মন্ত্রী
শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘আমরা মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দিতে দায়বদ্ধ। অনেক সময় ফেরিতে
যাত্রীসহ বাস দুর্ঘটনায় পড়লে বড় প্রাণহানি ঘটে। এটি রোধ করতেই যাত্রীদের নামিয়ে খালি
বাস ফেরিতে তোলার নিয়ম কঠোরভাবে পালন করা হবে।’
সচিবালয়ের
এই সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা
উপস্থিত ছিলেন। এই নির্দেশনার ফলে ফেরি ঘাটগুলোতে জননিরাপত্তা আরো জোরদার হবে বলে মনে
করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন


মাদারীপুরের শিবচরে নিজ ক্লিনিকের নার্সকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় শিবচর ইউনাইটেড হাসপাতালের মালিক আপেল মাহমুদকে (৪২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) রাতে শিবচরের বাহাদুরপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আপেল মাহমুদ শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার পশ্চিম সেনেরচর এলাকার মৃত চান মিয়া শিকদারের ছেলে। তার বিরুদ্ধে এর আগে শিশু ধর্ষণচেষ্টা ও চাঁদাবাজির মামলাও রয়েছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শিবচর ইউনাইটেড হাসপাতালে কর্মরত একজন নার্সকে বিভিন্ন সময় হাসপাতালের মালিক আপেল মাহমুদ কুপ্রস্তাব দিতেন। গত বছরের ২০ ডিসেম্বর ওই নার্স হাসপাতালে কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরছিলেন। তার কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সেদিন বাড়ি ফেরার পথে তার গতিরোধ করে আপেল মাহমুদ জোরপূর্বক একটি মাইক্রোবাসে তাকে তুলে প্রাণে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে কক্সবাজার নিয়ে যান।
সেখানে একটি আবাসিক হোটেলে তাকে তিন দিন আটকে রেখে ধর্ষণ করেন।
পরে ২৫ ডিসেম্বর তাকে শিবচর এনে একটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে ভুয়া বিয়ের নথি তৈরি করে ওই নার্সকে ছেড়ে দেন আপেল মাহমুদ। এ ঘটনার পর গত ৩০ ডিসেম্বর নার্সের পরিবার শিবচর থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে মামলা না নেওয়ায় মাদারীপুর আদালতের দ্বারস্থ হন ভুক্তভোগী পরিবার।
আদালতের নির্দেশে চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি শিবচর থানায় আপেল মাহমুদের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়। এ ঘটনার পর আপেল মাহমুদ পলাতক ছিলেন।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে শিবচর থানার এসআই রেনুকা আক্তারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল শিবচরের পাঁচ্চর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ক্লিনিক মালিক আপেল মাহমুদকে গ্রেপ্তার করে।
এ বিষয়
শিবচর থানার ওসি মো. রতন শেখ (পিপিএম) বলেন, ধর্ষণ মামলার আসামি আপেল মাহমুদের নামে এর আগেও শিশু ধর্ষণচেষ্টা ও চাঁদাবাজির মামলায় রয়েছে। তার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এক নার্সকে ধর্ষণের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন


তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুরাদ হোসেন (৪০) নামের এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। আজ (২৯ নভেম্বর ) শনিবার দুপুরে পৌর এলাকার পবহাটি সিটি মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মুরাদ হোসেন পবহাটি মন্ডল পাড়ার মৃত আফজাল হোসেনের ছেলে। এলাকাবাসী জানায়, গত শনিবার মুরাদ হোসেনের বাবা আফজাল হোসেন মারা যায়। বাবার মৃত্যুর পর কুলখানি না করায় তার চাচাতো ভাই আলম মন্ডল ব্যাঙ্গ করে বলেন, ‘ভিক্ষা করে দোয়ার আয়োজন করতে’। এ নিয়ে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় মুরাদ হোসেন ও আলম মন্ডলের কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরই জের ধরে শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে পবহাটি সিটি মোড়ে মুরাদ বসে থাকা অবস্থায় তার চাচাতো ভাইয়ের ছেলে সৌরভ ৩ টি মোটরসাইকেলে কয়েকজনকে সাথে নিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুরাদের ওপর হামলা করে। তারা মুরাদকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর যখম করে। পরবর্তীতে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মুরাদকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ঝিনাইদহ সদর থানার (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘খবর পেয়েই আমাদের ফোর্স ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ সদর হাপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।’
মন্তব্য করুন


ইনকিলাব
মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির হত্যাচেষ্টায়
জড়িতকে ধরিয়ে দিতে পারলে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র
উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
আজ
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয় সভাকক্ষে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এমন তথ্য জানান।
ইনকিলাব
মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির জন্য দোয়া চেয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘তাকে হত্যাচেষ্টায়
জড়িতদের ধরিয়ে দিতে পারলে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে সরকার। সবাই তার জন্য দোয়া
করবেন। সবার দোয়ায় তিনি আমাদের মধ্যে আবার ফিরে আসতে পারবেন।’
তিনি
বলেন, ‘আসামি ধরার প্রক্রিয়া চলমান আছে। আশা করছি, সবার সহযোগিতায় খুব তাড়াতাড়ি তাকে
ধরতে পারব।’
উপদেষ্টা
বলেন, ‘ফ্যাসিস্টদের গ্রেপ্তারের সংখ্যা বাড়াতে হবে। এতদিন শুধু সরকারি কর্মচারীদেরই
হাতিয়ার দেওয়া হতো। এখন যারা নির্বাচনে অংশ নেবেন, তারাও যদি হাতিয়ার চান, তাহলে তাদের
লাইসেন্স দেওয়া হবে। তাদের কোনো হাতিয়ার আমাদের কাছে জমা থাকলে ফেরত দেওয়া হবে।’
তিনি
বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সম্মুখসারির যোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বদ্ধপরিকর।
সরকারের পক্ষ থেকে তাদের নিরাপত্তায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
মন্তব্য করুন


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং ঢাকা-৮ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মির্জা আব্বাস বলেছেন, দীর্ঘ ১৭ বছরে তার নির্বাচনী এলাকা মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির কবলে পড়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি নির্বাচিত হলে এলাকাকে এসব অপরাধ থেকে মুক্ত করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর শাহজাহানপুর এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, গত এক যুগেরও বেশি সময়ে তার এলাকার সামাজিক পরিবেশ ধ্বংসের মুখে পড়েছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, জনগণ তাকে নির্বাচিত করলে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে এলাকাকে নিরাপদ করে তুলবেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ ও সরকারের ঘনিষ্ঠ কিছু মহলের বক্তব্যে ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কিছু বক্তব্য শুনে সন্দেহ জাগছে যে ভেতরে ভেতরে অন্য কিছু চলছে। এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর মন্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, “ঢাকা শহরে তারা আমাদের একটি আসনও ছেড়ে দেবে না—এই কথা বলার অধিকার তাদের কে দিয়েছে? এই দেশের আসনের মালিক আল্লাহ ও জনগণ।”
বিএনপির এই নেতা দাবি করেন, তাকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে নানামুখী অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তার ভাষায়, মিথ্যা কাগজপত্র ছড়ানো হচ্ছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ভুয়া কনটেন্ট তৈরি করা হচ্ছে এবং সংগঠিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড জাতির জন্য কখনোই কল্যাণ বয়ে আনে না।
মির্জা আব্বাস আরও বলেন, প্রতিপক্ষের বক্তব্যে গণতান্ত্রিক চর্চার অভাব স্পষ্ট। তার মতে, পেছনে কোনো বিশেষ শক্তি সক্রিয় রয়েছে এবং নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, জনগণ এসব অপচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করবে।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ
ইউনূস সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী সকল বীর
শহিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।
প্রধান উপদেষ্টা আজ বৃহস্পতিবার (২১
নভেম্বর) সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে ঢাকা সেনানিবাসে শিখা অনির্বাণের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ
করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং শহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে দাঁড়িয়ে
এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।
এসময় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর একটি
চৌকস দল প্রধান উপদেষ্টাকে সালাম জানান। এসময়
বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।
প্রধান উপদেষ্টা সেখানে রাখা দর্শনার্থীদের বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
এর আগে শিখা অনির্বাণে পৌঁছলে সেখানে
তিন বাহিনীর প্রধানগণ এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অধ্যাপক ইউনূসকে
স্বাগত জানান।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের এই দিনে সেনা,
নৌ ও বিমান বাহিনীর সমন্বয়ে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী গঠিত হয় এবং তারা পাকিস্তানি হানাদার
বাহিনীর ওপর সর্বাত্মক হামলা চালায়।
স্বাধীনতার পর থেকে এই ঐতিহাসিক দিনটিকে
প্রতিবছর যথাযোগ্য মর্যাদায় সশস্ত্র বাহিনী দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
মন্তব্য করুন


নিজের হাতে থাকা ২৫ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের
জ্যেষ্ঠ সচিব ও সচিবদের সঙ্গে বৈঠক করছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা
ড. মুহাম্মদ মুহাম্মদ ইউনূস।
সোমবার (১২) সচিবালয়ে বৈঠক শেষে ব্রিফ
করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী।
জনপ্রশাসন সচিব জানান, সব মন্ত্রণালয়ের
কাজ দ্রুত চালু করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। এ জন্য সাত দিন সময় দিয়ে এখন
থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন। গত কয়েক বছর যারা পদোন্নতি থেকে
বঞ্চিত হয়েছেন, তাদের দাবিগুলো শুনে শিগগিরই সিদ্ধান্ত হবে। মন্ত্রণালয় এবং দপ্তরগুলোকে
দ্রুত ফাংশনাল করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
জনপ্রশাসন সচিব বলেন, যেসব মন্ত্রণালয়ে
আগে মন্ত্রী ছিলেন সেসব মন্ত্রণালয়ের কাজ যাতে স্থবির হয়ে না যায়, সচিবরা সেসব কাজ
নিজ উদ্যোগে যাতে শুরু করেন তা নিয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, সার, বিদ্যুৎ, কৃষি, জ্বালানি,
বন্দর, খাদ্যসহ জরুরি বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে সাত দিনের মধ্যে তালিকা করে কাজ শুরু করতে
হবে এবং তালিকাগুলো প্রধান উপদেষ্টাকে দিতে হবে।
মন্তব্য করুন