

সারাদেশে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি চক্র উত্তম ও সেলিম সিন্ডিকেটের মূলহোতাসহ ১৪ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাব ।
কয়েকটি চক্র রেলস্টেশনে কর্মরত অসাধু কর্মচারী, সহজ ডটকমের অসাধু কর্মকর্তা, সার্ভার রুম ও আইটি সদস্যদের সহযোগিতায় ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি করতো । এছাড়া সংরক্ষণ করা জনসাধারণের এনআইডির তথ্য ব্যবহার করে এমনকি সার্ভার ডাউন করে অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করতো এসব চক্র।
বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর কমলাপুর ও বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে র্যাব -৩।
গ্রেফতাররা হলেন- ট্রেনের টিকেট কালোবাজারির সেলিম সিন্ডিকেটের মূলহোতা মো. সেলিম (৫০), তার প্রধান সহযোগী মো. আনোয়ার হোসেন ওরফে কাশেম (৬২), অবনী সরকার সুমন (৩৫), মো. হারুন মিয়া (৬০), মো. মান্নান (৫০), মো. আনোয়ার হোসেন ওরফে ডাবলু (৫০), মো. ফারুক (৬২), মো. শহীদুল ইসলাম বাবু (২২), মো. জুয়েল (২৩) ও মো. আব্দুর রহিম (৩২)।তাদের তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দর রেলস্টেশন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে উত্তম সিন্ডিকেটের মূলহোতা উত্তম চন্দ্র দাস (৩০), তার প্রধান সহযোগী মো. মোর্শিদ মিয়া ওরফে জাকির (৪৫), আব্দুল আলী (২২) ও মো. জোবায়েরকে (২৫) গ্রেফতার করা হয়।
এসময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় এক হাজার ২৪৪টি আসনের টিকিট, ১৪টি মোবাইল ফোন এবং টিকিট বিক্রির নগদ ২০ হাজার টাকা।
শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে কারওয়ান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।তিনি বলেন, অনলাইনে বা রেল স্টেশনের টিকিট কাউন্টারে টিকিট পাওয়া না গেলেও কালোবাজারে বেশি দামে টিকিট বিক্রি হতে দেখা যায়। টিকিট কালোবাজারিরা বিভিন্ন কৌশলে ট্রেনের টিকিট অগ্রিম সংগ্রহ করে অবৈধভাবে নিজেদের কাছে মজুত করে রেখে সাধারণ যাত্রীদের কাছ দেড় থেকে দুই গুণ বেশি দামে টিকিট বিক্রি করছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে সরাসরি ট্রেন চলাচল শুরু হয় এবং এই রুটে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস নামের দুটি ট্রেন যাত্রা শুরু করে। দীর্ঘ এই ভ্রমণে নিরাপদ ও আরামদায়ক যাত্রার জন্য এ রুটে ট্রেনের টিকিটের ব্যাপক চাহিদা দেখা দেয়। টিকেটের চাহিদা বেশি থাকায় টিকিট কালোবাজারিদের দৌরাত্ম্যও বেড়ে যায়; অনলাইনে বা কাউন্টারে টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শেষ হয়ে যায় এই রুটের ট্রেনের টিকিট। কিন্তু কালোবাজারিদের কাছে ২-৩ গুণ দামে টিকিট বিক্রি হতে দেখা যায়।চাহিদা অনুযায়ী টিকিট না পাওয়ার এবং টিকিট কালোবাজারিরা বেশি দামে টিকিট বিক্রির বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচিত হয়। ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি প্রতিরোধ ও কালোবাজারিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে ১৪ জনকে গ্রেফতার করে র্যাব ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা ট্রেনের টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে কিছু তথ্য প্রদান করেছে ।
স্টেশনে কুলি, টোকাই, রিকশাওয়ালা ও দিনমজুরদের লাইনে দাঁড় করিয়ে টিকিট সংগ্রহ:
কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, কমলাপুর রেলস্টেশনে সেলিম সিন্ডিকেটের মূলহোতা সেলিম এবং বিমানবন্দর রেলস্টেশনে উত্তম সিন্ডিকেটের মূলহোতা উত্তমের নেতৃত্বে এ চক্রটি সংঘবদ্ধভাবে দীর্ঘদিন ধরে মহানগর প্রভাতী, তূর্ণা নিশিথা, চট্টলা এক্সপ্রেস, উপবন এক্সপ্রেস, মহানগর এক্সপ্রেস, পারাবত এক্সপ্রেস, উপকূল এক্সপ্রেস, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, কালনী এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি করে আসছিল। গ্রেফতার সেলিম এবং উত্তমের নেতৃত্বে তার সহযোগীরা প্রথমত ট্রেনের কাউন্টারে বিভিন্ন ভ্রাম্যমাণ যাত্রী, রেলস্টেশনের কুলি, স্টেশনের আশেপাশের এলাকার টোকাই, রিকশাওয়ালা ও দিনমজুরদের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে লাইনে দাঁড় করিয়ে টিকিট সংগ্রহ করত।
যাত্রীদের এনআইডি সংগ্রহ করে পরবর্তীতে সেগুলো ব্যবহার করে কাটা হতো টিকিট:
এক্ষেত্রে তাদের প্রত্যেককে চারটি করে টিকিট সংগ্রহ করার বিনিময়ে ১০০ টাকা করে দেওয়া হতো। এছাড়াও কাউন্টারে থাকা কিছু অসাধু টিকিট বুকিং কর্মচারীদের দিয়ে বিভিন্ন সাধারণ যাত্রীদের টিকিট কাটার সময় এনআইডি সংগ্রহ করে রাখে এবং পরবর্তীতে সেগুলো ব্যবহার করে সংরক্ষণকৃত প্রতিটি এনআইডি দিয়ে চারটি করে ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করে থাকে।
প্রতিদিন ৫০০ টিকিট সংগ্রহ করতো তারা:
এভাবে তারা প্রতিদিন প্রায় পাঁচ শতাধিক টিকিট সংগ্রহ করতো। অনেক ক্ষেত্রে টিকিট কাউন্টারে নিজেরা লাইনে দাড়িয়ে এবং কৌশলে লাইনে অপেক্ষমান টিকিটপ্রত্যাশী সাধারণ যাত্রীদের এনআইডি ব্যবহার করে চারটি টিকিট কিনে তিনটি টিকিট নিজেরা তার কাছ থেকে টাকা দিয়ে টিকিটগুলো কিনে নিতো।
সার্ভার ডাউন করে তারা অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ:
র্যাবের মুখপাত্র বলেন, ঈদ, পুজা, সাপ্তাহিক ছুটিসহ বিশেষ ছুটির দিনকে উপলক্ষ করে গ্রেফতাররা রেলস্টেশনে কর্মরত কিছু অসাধু কর্মচারী এবং অনলাইনে টিকিট ক্রয়ের জন্য ব্যবহৃত ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান সহজ ডটকমের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও সার্ভার রুম ও আইটি সদস্যদের সহযোগিতায় তাদের কাছে সংরক্ষিত জনসাধারণের এনআইডির তথ্য ব্যবহার করে এমনকি সার্ভার ডাউন করে তারা অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করতো।
শিক্ষার্থীদের দিয়ে অনলাইনে টিকিট কাটানো হতো:
কমান্ডার মঈন বলেন, পাশাপাশি গ্রেফতাররা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের দিয়ে অনলাইনে টিকিট কেটে সেগুলো তাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করতো। গ্রেফতাররা স্টেশনে থাকা তাদের সিন্ডিকেটের সদস্যদের দিয়ে কাউন্টার থেকে স্ট্যান্ডিং টিকেট সংগ্রহ করতো। এসব টিকিটের মূল্য কাউন্টারের বুকিং কর্মচারীদের সঙ্গে তারা ভাগ করে নিতো। ফলে রেলওয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এভাবে গ্রেফতাররা অবৈধভাবে বিভিন্ন পন্থায় বিপুল সংখ্যক ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করতো।
গ্রেফতারকৃত সেলিম ও উত্তমের নেতৃত্বে তার সহযোগীরা উপযুক্ত সময় বুঝে সংগ্রহকৃত টিকিট নিয়ে রেলস্টেশনের ভেতরে অবস্থান করে। রেলস্টেশনে এসে টিকিট না পাওয়া সাধারণ যাত্রীদের কাছে গ্রেফতাররা টিকিট বিক্রির জন্য ঘুরাঘুরি করে এবং বেশি দামে টিকিট বিক্রি করে। এছাড়াও ট্রেন ছাড়ার সময় যত সন্নিকটে আসতে থাকে তাদের মজুত করা কালোবাজারি টিকিটের দাম তত বাড়তে থাকে এবং সুযোগ বুঝে অনেক ক্ষেত্রে টিকিটের দাম দিগুণেরও বেশি বাড়িয়ে দেয়।
ঈদের সময় ৪ গুণ দামে টিকিট বিক্রি:
র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক বলেন, ঈদের ছুটিসহ বিভিন্ন ছুটিকে কেন্দ্র করে গ্রেফতাররা প্রতিটি টিকেট ৩-৪ গুণ বেশি মূল্যে বিক্রি করে। প্রতিটি টিকিট তারা দেড় গুণ থেকে দুই গুণে বিক্রি করে এই লভ্যাংশের ৫০ শতাংশ পায় গ্রেফতাররা নিতো এবং বাকি ৫০ শতাংশ কাউন্টারে থাকা বুকিং কর্মচারী ও তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সহজ ডটকমের কর্মচারী-কর্মকর্তা ও আইটি বিশেষজ্ঞদের দেওয়া হতো।
৩৫ বছর ধরে টিকিট কালোবাজারি করেছে সেলিম:
কমান্ডার মঈন জানান, গ্রেফতার সেলিম দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর ধরে টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত। তিনি কমলাপুর রেলস্টেশনে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি সেলিম সিন্ডিকেটের মূলহোতা। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় টিকিট কালোবাজারির দায়ে সাতটি মামলা রয়েছে এবং এসব মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগও করেছেন তিনি। সে জামিনে মুক্তি পেয়ে পুনরায় আবার টিকিট কালোবাজারির কার্যক্রমে লিপ্ত হয়।
১৫ বছর ধরে টিকিট কালোবাজারিতে জড়িত কাশেম:
তিনি বলেন, গ্রেফতার আনোয়ার হোসেন ওরফে কাশেম প্রায় ১৫ বছর ধরে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত। তিনি গ্রেফতার সেলিমের অন্যতম প্রধান সহযোগী। মূলত তার দায়িত্ব ছিল কাউন্টার থেকে ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করা। এর আগে তিনি মাদক মামলাসহ একাধিক মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করেছেন।
এছাড়াও গ্রেফতার অবনী সরকার ও হারুন মিয়ার দায়িত্ব ছিল চট্টগ্রাম এলাকার কাস্টমার সংগ্রহ করা। একইভাবে মান্নান এবং আনোয়ার ওরুফে ডাবলুর দায়িত্ব ছিল সিলেট এলাকার কাস্টমার সংগ্রহ করা। ফারুক এবং শহীদুল ইসলাম বাবুর দায়িত্ব ছিল ভৈরব ও কিশোরগঞ্জের কাস্টমার দেখাশোনা করা। জুয়েল এবং আব্দুর রহিমের দায়িত্ব ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও আখাউড়ার যাত্রী সংগ্রহ করা। এছাড়াও গ্রেফতারদের সবার বিরুদ্ধে টিকিট কালোবাজারির মামলা রয়েছে।
১৫ বছর ধরে টিকিট কালোবাজারি করেছে উত্তম:
কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, গ্রেফতার উত্তম প্রায় ১৫ বছর ধরে ট্রেনের টিকেট কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত। তিনি বিমানবন্দর রেলস্টেশনের টিকিট কালোবাজারি চক্র উত্তম সিন্ডিকেটের মূলহোতা। তার সহযোগী গ্রেফতার আলী ও ফারুকসহ রাজধানীর আশকোনা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় অবস্থান করে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করত। তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং এই সহানুভূতিকে কাজে লাগিয়ে রেলস্টেশন এলাকায় সবসময় অবস্থান করে টিকিট কালোবাজারি চক্র গড়ে তোলে।
উত্তমের বিরুদ্ধে টিকিট কালোবাজারির দায়ে চারটি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তিনি বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করেছেন।পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারও টিকিট কালোবাজারির কাজে লিপ্ত হন।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি;
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার জগতপুর গ্রামে ময়লা ফেলার জেরে অন্তঃসত্ত্বা নারী ফাহিমা আক্তার কে হত্যা করে সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালানোর সময় ৩ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাত ১০টায় ভারতে পালানোর সময় সীমান্ত এলাকা থেকে বিজিবির সহায়তায় তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- প্রধান আসামী মো. সাইদুর রহমান (২৪), ২ নং আসামী শাফিউল জান্নাত প্রকাশ সিয়াম (১৯) ও ৪ নং আসামী শাহারিয়ার নাজিম জয় (১৯)। তাদের মধ্যে সাইদুর রহমান ও সিয়াম জগতপুর (নাগরবাড়ি), বুড়িচং উপজেলার বাসিন্দা এবং শাহারিয়ার নাজিম জয় কুমিল্লা কোতোয়ালী থানার বাঁশমঙ্গল গ্রামের বাসিন্দা।
বুড়িচং থানার ওসি মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় আসামিরা ভারতে পালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এ তথ্যের পর তিনি নিজে এবং বুড়িচং থানার একাধিক পুলিশ সদস্য নিয়ে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করেন। পরে সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের সহযোগিতায় ভারতে পালানোর আগ মুহূর্তে আসামিদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।তিনি আরও জানায়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মামলার এজাহারনামীয় এক, দুই ও চার নম্বর আসামি রয়েছে।এর আগে রোববার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে বুড়িচং পৌরসভার জগতপুর (নাগরবাড়ি) গ্রামে ডায়পার ফেলা নিয়ে তুচ্ছ বিরোধের জেরে ফাহিমা আক্তার আঁখিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় আরও তিনজন গুরুতর আহত হন।
বুড়িচং থানা সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মন্তব্য করুন


জামায়াতে
ইসলামী দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে তাদের সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন
দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের
নিয়মিত জনগণের মুখোমুখি করা হবে বলেও জানান তিনি।
আজ
বৃহস্পতিবার ( ০৫ ফেব্রুয়ারি ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব তথ্য
জানান জামায়াত আমির।
ফেবসুক
পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের সরকার হবে জনগণের নিকট দায়বদ্ধ।
যুগ
যুগ ধরে এ দেশে জবাবদিহিতা ছাড়াই দেশ শাসন করা হয়েছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
হয়েছে পর্দার আড়াল থেকে। ক্ষমতাসীনদের দুর্নীতির পাহাড়কে গোপন করা হয়েছে চুপিসারে।’
তিনি
আরো বলেন, ‘আল্লাহর ইচ্ছায় ও জনগণের ভালোবাসায় আমরা যদি সেবা করার সুযোগ পাই, আমাদের
মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের সম্পদের হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ
করতে বাধ্য থাকবেন।
তাদের
নিয়মিত জনগণের মুখোমুখি হতে হবে এবং প্রতিটি সিদ্ধান্তের জন্য জবাবদিহি করতে হবে।’
জামায়াত
আমির তার পোস্টে বলেন, ‘আমাদের সরকার চলবে স্বচ্ছতা এবং ডিজিটাল রেকর্ড ব্যবস্থার মাধ্যমে,
যেখানে প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। সরকারি কাজ, ব্যয় এবং সেবা প্রদানের
প্রতিটি ধাপ নাগরিকরা সরাসরি (রিয়েল-টাইম) পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। জনগণের থেকে লুকিয়ে
রাখার এই সংস্কৃতির চিরস্থায়ী অবসান ঘটবে, ইনশাআল্লাহ।
মন্তব্য করুন


ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. মুনিবুর রহমান জানিয়েছেন আসন্ন এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের যে কোনো অসুবিধা মোকাবিলা করতে ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) প্রস্তুত থাকবে ।
মঙ্গলবার(১৩ ফেব্রুয়ারী) রাজধানীর ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে ট্রাফিক বিভাগের আয়োজিত ‘এস এস সি পরীক্ষা ২০২৪ উপলক্ষে সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা’ সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তিনি।
মুনিবুর রহমান বলেছেন, পরীক্ষার্থীদের যে কোনো অসুবিধা মোকাবিলা করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ এর ট্রাফিক বিভাগের প্রতিটি জোন কর্তৃক আলাদা আলাদা কুইক রেসপন্স টিম ( কিউআরটি ) গঠন করা হবে। এছাড়াও যে কোনো জরুরি প্রয়োজনে ৯৯৯ এ ফোন করে সহায়তার আহ্বান জানানো যাবে। এক্ষেত্রে ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করার চেষ্টা থাকবে।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মুনিবুর রহমান আরও বলেছেন, পরীক্ষা শুরুর আগে এমনভাবে বের হতে হবে যেন নূন্যতম ৩০ মিনিট পূর্বে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছানো যায়। যে সব সড়ক পারাপারে রেল ক্রসিং আছে তা বিবেচনা করে বাসা হতে সময় বিবেচনা করে রওয়ানা দেওয়া জরুরি। আপনার বাসার বা পরীক্ষা কেন্দ্রের আশেপাশের সড়কে যদি কোনো খোড়াখুড়ি/মেরামত কাজ চলে তবে তা বিবেচনায় নিয়ে সময় মত রওয়ানা দিতে হবে। পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাবধাণতা অবলম্বন করে যানবাহনে চলাচলের অনুরোধও জানিয়েছেন তিনি।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে
‘ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের বীর সেনাপতি’ আখ্যা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)
আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে মিরপুরে ঢাকা-১৫
আসনের নির্বাচনী প্রচারণার জনসমাবেশে বক্তৃতার সময় তিনি এ আখ্যা দেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশ জামায়াতে
ইসলামীর সংগ্রামী আমির। তবে এটুকু পরিচয় উনার জন্য বর্তমান বাংলাদেশের যথেষ্ট নয়।
তিনি দশ দলীয় নির্বাচনে ঐক্যের প্রধান কাণ্ডরি ও
ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের বীর সেনাপতি।
তিনি বলেন, জামায়াতের আমির এই বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে
নির্যাতিত হয়েছেন। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে গিয়েছেন, কারাবরণ করেছেন, মজলুম জননেতা
হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, আজ আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের
প্রচারণা শুরু হলো।
সারা বাংলাদেশে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটের যারা
প্রার্থী রয়েছে তাদের পক্ষে যেই জনজোয়ার নেমে এসেছে। ১২ ফেব্রুয়ারি সেটার ফল বাংলাদেশের
জনগণ দেখতে পাবে।
মন্তব্য করুন


মন্তব্য করুন


আলোচিত নারী উদ্যোক্তা রোবাইয়াত ফাতিমা তনির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তার সাবেক স্বামী সদরুল ইসলাম সোয়েব। সোয়েব দাবি করেছেন, তাদের একমাত্র মেয়ে মানতাহা ইসলাম সানভীকে জোরপূর্বক আটকে রাখা হচ্ছে এবং বিদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে সোয়েব ২৪ নভেম্বর কিশোরগঞ্জের ১ নং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি এজাহার দাখিল করেন। আদালত অভিযোগটি গ্রহণ করেছে এবং আগামী ২২ ডিসেম্বর শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোয়েব মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) কিশোরগঞ্জ শহরের আখড়াবাজারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ‘Sanvee's by Tony’ ফেসবুক পেজের অ্যাডমিন এবং উদ্যোক্তা রোবাইয়াত ফাতিমা তনি।
সোয়েবের মতে, তাদের বিয়ে হয়েছিল ২০১৩ সালের ২৮ জুন, এবং পরবর্তীতে এক মেয়ে জন্ম নেয়। দাম্পত্য কলহের কারণে ২০১৮ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তারা আলাদা হন। আদালতের শর্ত অনুযায়ী শিশু মায়ের কাছে বড় হচ্ছিল, কিন্তু বাবার সঙ্গে নিয়মিত দেখা করার সুযোগ দেওয়া হতো না বলে সোয়েব অভিযোগ করেন।
তিনি আরও জানান, তনি তার মেয়েকে ঢাকায় আটকে রেখেছেন এবং দেখা করতে চাইলে বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া হয়। আলাদা হওয়ার পর তনি দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন শাহাদাৎ হোসাইনের সঙ্গে এবং তার মৃত্যুর পর ইংল্যান্ডপ্রবাসী সিদ্দিককে বিয়ে করেন। সোয়েব দাবি করেন, বর্তমানে তনি মেয়েকে নিয়ে ইংল্যান্ড যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে সোয়েব বলেন, “আমার মেয়ে মানতাহাকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আটকে রাখা হয়েছে। তাকে বিদেশে পাঠানোর চেষ্টা চলছে। শিশুটিকে উদ্ধার করে আমার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ নিশ্চিত করতে আইনের সাহায্য চাই।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, তনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মেয়েকে ব্যবহার করে ব্যবসায়িকভাবে ভাইরাল হওয়ার চেষ্টা করছেন, যা শিশুর মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি;
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে হাজীপুরা স্টুডেন্ট ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত হাজীপুরা প্রিমিয়ার লীগ (এইচপিএল-৯) ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শনিবার (২০ ডিসেম্বর) রাতে স্থানীয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফাইনাল খেলায় মৌলভী-বাড়ী চ্যালেঞ্জার্সকে ৮ উইকেটে পরাজিত করে চেয়ারম্যানবাড়ী ভিক্টোরিয়ান্স চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রিয় জাতীয়ত-াবাদী ছাত্রদলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক ও দৈনিক আজকের জীবন পত্রিকার সম্পাদক সফিকুর রহমান সফিক। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ক্রীড়া যুবসমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে সুস্থ ও মানবিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত হলে তরুণরা খেলাধুলার মাধ্যমে নিজেদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাবে। তিনি আরও বলেন, যুবসমাজ জাগ্রত হলেই সমাজ পরিবর্তন সম্ভব। আগামী দিনের মানবিক ও সাম্যের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সচেতন, দায়িত্বশীল ও জাগ্রত ছাত্র-যুবকদের বিকল্প নেই। একই সঙ্গে সুষ্ঠু রাজনীতির চর্চা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় ছাত্র ও যুবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। হাজীপুরা স্টুডেন্ট ক্লাবের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার ফারুক হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলার মৈশাতুয়া ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি জহিরুল ইসলাম জহির, মৈশাতুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, মৈশাতুয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ আবুল কাশেম, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকদ-ে লর আহ্বায়ক মাইনুল ইসলাম সুমন, ডেন্টাল চিকিৎসক পরিষদের মহাসচিব ডা. শাহজাহান মজুমদার, ইউনিয়ন বিএনপি সদস্য মঞ্জুর রহিম প্রমুখ। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন সেলিম হাসনাত বিজয়, দ্বীন ইসলাম মজুমদার, ইকবাল হোসেন মুজাহিদ, মাহমুদুল হাসান রাহিম, সাইমন মিয়া, দেওয়ান সাদ্দাম ও ফারুক হোসেনসহ সংশ্লিষ্টরা। খেলা শেষে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের মাঝে ট্রফি ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
মন্তব্য করুন


যুব ও ক্রীড়া এবং শ্রম মন্ত্রণালয়ের
উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, রাজনৈতিক দলের ব্যাপারে যে রিউমার বা কথাবার্তা
শোনা যাচ্ছে, অনেকেই শুনতে চাচ্ছেন আমাদের থেকে, কথা হচ্ছে এ বিষয়ে এর আগেও আমরা স্পষ্টভাবে
বলেছি যে এখনই রাজনৈতিক দল খোলার কোনো অভিপ্রায় আমাদের নেই। এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে
যা আছেন তাদের ক্ষমতার অভিলাস নেই।
উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া আরও
বলেন, আপনারা জানেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে যারা আছেন তাদের পেশাগত জীবন আছে। সবাই
সেখানে ফিরে যেতে চাই। দেশের মানুষ গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে দায়িত্ব দিয়েছেন সেটা
যথাযথভাবে পালন করা, মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফল ঘটিয়ে একটি নির্বাচনের মাধ্যমে
গণতান্ত্রিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।
মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নগরীর
তেরখাদিয়া এলাকায় জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষণা এবং প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শক অধিদপ্তরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের তিনি এসব
কথা বলেন।
উপদেষ্টা আসিফ আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া
বলেন, আমরা যে সংস্কারের কথা বলেছি, সেটা ছিল এক দফা সংস্কার। শেখ হাসিনার সরকারের
পতন হয়েছে অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে। এক দফার মূল অংশ ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ। এই
ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপের জন্য যে সংস্কারগুলো অত্যাবশ্যকীয় সেগুলো করার ব্যবস্থা
গ্রহণ করা হয়েছে। এগুলো জনগণের ম্যান্ডেটের ভিত্তিতেই হয়েছে। জনগণ নির্বাচন বা ক্ষমতার
পালাবদলের জন্য অভ্যুত্থানে আসেনি। যদি আসত তাহলে ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের আগেই আসত
বলে আমি মনে করি। অভ্যুত্থান হয়েছে স্পষ্টভাবে এই ফ্যাসিবাদী সরকারের বিলুপ্তের জন্য।
যে ব্যবস্থা বিদ্যমান আছে যদি এটার সংস্কার করে দিয়ে যেতে না পারি তাহলে যে দলই ক্ষমতায়
আসুক স্বৈরতান্ত্রিক একটা সিস্টেমের মধ্যে সে নিজেও স্বৈরাচার হতে বাধ্য হবে। সে কারণে
আমরা মনে করি, দেশের জনগণ যেভাবে দেশকে গড়তে চাইবে, পুনর্গঠনের যে প্রস্তাবনা মানুষের
মধ্য থেকে আসবে সেটার বাস্তবায়ন করা আমাদের দায়িত্ব।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান
পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবদুর রহিম খানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, শ্রম
ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব এএইচএম সফিকুজ্জান, আইএলও-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর টুওমো
পুটিআইনেন প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, রাজশাহী নগরীর তেরখাদিয়া
এলাকায় ১৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজশাহীতে নবনির্মিত জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা
বিষয়ক গবেষণা এবং প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠানটি দক্ষিণ এশিয়ায় পেশাগত স্বাস্থ্য
ও নিরাপত্তা বিষয়ক একটি উল্লেখযোগ্য স্থান হতে চলেছে। দেশের শিল্প কলকারখানাসমূহে নিরাপদ
কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ ও শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে এই প্রতিষ্ঠানটি।
মন্তব্য করুন


কক্সবাজারের
টেকনাফ সীমান্তে ফের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নাফ নদীর ওপার থেকে থেমে থেমে গোলাগুলি ও বোমা
বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসায় সীমান্তঘেঁষা এলাকার মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার দিনভর এসব শব্দে স্থানীয়দের ঘরবাড়ি কেঁপে ওঠে বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা।
এ
পরিস্থিতিতে টেকনাফ উপজেলার নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে এক জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
শুক্রবার
সকালে হোয়াইক্যংয়ের উত্তরপাড়া সীমান্ত এলাকায় গোলাগুলির ঘটনার পর থেকে বর্ডার গার্ড
বাংলাদেশ (বিজিবি) সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন জেলে
ও সীমান্তবাসীদের সতর্ক থাকতে নির্দেশ দিয়েছে।
আহত
জেলের নাম মো. আলমগীর (৩১)। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নাফ নদীতে মাছ ও কাঁকড়া ধরার সময়
মিয়ানমার দিক থেকে ছোড়া গুলিতে তিনি আহত হন। গুলি তার হাত ভেদ করে বেরিয়ে যায়।
আলমগীর
টেকনাফের হোয়াইক্যং বিজিবি ক্যাম্পসংলগ্ন বালুখালী গ্রামের বাসিন্দা। তাকে কক্সবাজার
সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের
সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতেও সীমান্ত এলাকায় গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়।
পরিস্থিতি কিছু সময় শান্ত থাকলেও শুক্রবার সকাল ১০টার পর হোয়াইক্যং সীমান্তের ওপারে
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে
সঙ্গে একাধিক শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণের শব্দে এপারের বসতবাড়ি কেঁপে ওঠে।
হোয়াইক্যং
সীমান্তের বাসিন্দা আকবর হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার রাতে কয়েক দফা গুলির শব্দের কারণে
তিনি সারারাত আতঙ্কে ছিলেন। স্থানীয় জেলে ইকবাল মাঝি বলেন, রাখাইন সীমান্ত এলাকায় প্রায়ই
গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, এতে নাফ নদী ও চিংড়ি ঘেরে মাছ ধরতে যেতে ভয় লাগে।
হোয়াইক্যং
ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু জানান, শুক্রবার সকাল ১০টার
পর থেকে একের পর এক বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। বেলা ১১টার দিকে তিন থেকে
চারটি শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। এর আগেও রাখাইন সীমান্ত থেকে ছোড়া
গুলিতে এপারে একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
টেকনাফ
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমামুল হাফিজ নাদিম বলেন, সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের
নিরাপদ স্থানে থাকতে বলা হয়েছে এবং গুলিবিদ্ধ জেলের পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে
৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলামের দাবি, গুলিবিদ্ধ জেলে মাছ ধরার
সময় ভুলবশত সীমান্ত অতিক্রম করে মিয়ানমার অংশে ঢুকে পড়েছিলেন। সেখান থেকেই তাকে লক্ষ্য
করে গুলি করা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, শুক্রবার সকাল থেকে থেমে থেমে
মিয়ানমার অংশে গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে এবং বিজিবি সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
মিয়ানমারের
অভ্যন্তরে জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবেই সীমান্ত
এলাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে সীমান্তবাসীদের মধ্যে চরম
আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে।
মন্তব্য করুন


বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় রবিবার (২৫ আগস্ট ২০২৪) বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জল, স্থল ও আকাশ পথে উদ্ধার অভিযান ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করে। মানবতার সেবায় পরিচালিত এই অভিযানকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর আর্মি এভিয়েশন গ্রুপ ২১ টি হেলিকপ্টার সর্টির মাধ্যমে উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করে।
উল্লেখ্য, হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ১৬ জন মুমূর্ষ রোগীকে দুর্যোগপূর্ণ এলাকা হতে উদ্ধারপূর্বক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। যাদের মধ্যে ৩ জন শিশু, ৬ জন অন্তঃসত্ত্বা নারী, ২ জন পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগী ও ৫ জন বার্ধক্য জনিত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি রয়েছেন। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া সত্ত্বেও ২,১৪৭ প্যাকেট ত্রান ফেনী সদর, ফাজিলপুর, ছাগলনাইয়া, সোনাগাজী, পরশুরাম ও মধুগ্রাম এলাকায় সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার এর মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও বন্যা দুর্গত এলাকায় সেনা সদস্যদের কার্যক্রম পরিদর্শনে সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম, বিপি, ওএসপি, বিএএম, এনডিসি, পিএসসি কুমিল্লা ও ফেনী জেলায় গমন করেন। দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর এ কার্যক্রম চলমান থাকবে।
মন্তব্য করুন