

সুন্দরবনের গহীনে অভিযান চালিয়ে কুখ্যাত ‘জাহাঙ্গীর বাহিনী’র আস্তানা থেকে জিম্মি থাকা আটজন জেলেকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। অভিযানকালে ওই এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদও জব্দ করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক আজ দুপুরে সাংবাদিকদের এই সাফল্যের কথা নিশ্চিত করেন।
জিম্মিদশা ও উদ্ধার অভিযান
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক জানান, গোপন সূত্রে খবর আসে সুন্দরবনের শিবসা নদীর ছোট ডাগরা খাল এলাকায় ডাকাত জাহাঙ্গীর বাহিনী বেশ কয়েকজন নিরীহ জেলেকে জিম্মি করে রেখেছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড স্টেশন কয়রার সদস্যরা দ্রুত একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযান চলাকালে ডাকাতদের আস্তানা থেকে ৮ জন জেলেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি একনলা বন্দুক, চার রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং সাত রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ জব্দ করা হয়। তবে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পাওয়ায় ডাকাত সদস্যরা বনের গহীনে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ফলে কাউকে আটক করা যায়নি।
নির্যাতিত জেলেদের বিবরণ
উদ্ধার হওয়া জেলেদের মধ্যে রয়েছেন কয়রার আতিয়ার (২৮), আবুল খায়ের গাজি (২৪), মকছেদ আলী (৫০), মিজানুর রহমান (৩৭), কৃষ্ণপদ রপ্তান (৪৫), সুগদেব মন্ডল (২৭), মোশারফ হোসেন ঢালী (৬০) এবং জলিল গাজি (৩৫)। তারা প্রায় সবাই ৪ নম্বর কয়রা ও মহারাজপুর গ্রামের বাসিন্দা।
উদ্ধার হওয়া জেলেরা কোস্ট গার্ডকে জানিয়েছেন, জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা তাদের গত সাত দিন ধরে জিম্মি করে রেখেছিল এবং মুক্তিপণ আদায়ের জন্য তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হচ্ছিল।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, জিম্মি দশা থেকে উদ্ধার হওয়া জেলেদের আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া, সুন্দরবনকে জলদস্যু ও ডাকাতমুক্ত রাখতে কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর
নির্মাণাধীন ভবনের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে
৬ মাসের জন্য নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে ওয়াসা,
রাজউক এবং বিদ্যুৎ বিভাগ কোনো ধরনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না।
রিহ্যাব-এর
রিট পিটিশনের কারণে এ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। বিচারপতি সিকদার মাহমুদুর রাজি এবং
বিচারপতি রাজিউদ্দিন আহমেদ এ আদেশ দেন। সম্প্রতি আদালত এ আদেশ দেন।
রিহ্যাব-এর
পক্ষ থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্নের সম্ভাব্য ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরা হলে আদালত তা আমলে নেন।
ভবন তৈরির বা আংশিক তৈরি ভবনে বসবাসরত পরিবারগুলোর দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, পানি ও বিদ্যুতের
ওপর নির্ভরশীলতা এবং মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে আদালত এ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন।
আদালতের
আদেশে উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোকে আগামী ছয় মাস কোনো ধরনের বিদ্যুৎ লাইন,
পানির সংযোগ কিংবা অন্যান্য ইউটিলিটি সেবা বন্ধ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। একই সঙ্গে
বিষয়টি চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে বলা হয়েছে।
এ
আদেশের ফলে সংশ্লিষ্ট নির্মাণকৃত ভবনের মালিক বা ডেভেলপার তাৎক্ষণিক ভোগান্তি থেকে
রক্ষা পাবেন। বিশেষ করে পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে যে নানা সংকট তৈরি হয়,
আদালত তা বিবেচনায় রেখেছেন।
উল্লেখ্য,
বিগত কয়েক মাসে রাজউক, ডেসকো, ডিপিডিসি ও অন্যান্য বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির সহায়তায়
বিভিন্ন নির্মাণাধীন ও আংশিক সম্পন্ন ভবন থেকে প্রায় ১২০০টির বেশি বিদ্যুৎ মিটার বিচ্ছিন্ন
করা হয়। মূলত ডেভেলপারদের প্রকল্পে বিদ্যুৎ ও ইউটিলিটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় অনেক নির্মাণ
প্রকল্প কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে নির্মাণকাজ আটকে যায়, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট কর্মীরা
বেকার হয়ে পড়েন, ফ্ল্যাট হস্তান্তর প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং ডেভেলপারদের বড় ধরনের আর্থিক
ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।
একই
সঙ্গে ব্যাংক ঋণ পরিশোধ, গ্রাহকের সঙ্গে চুক্তি রক্ষা ও বিনিয়োগ স্থবিরতার মতো জটিলতা
তৈরি হয়, যা সামগ্রিকভাবে আবাসন খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এসব বাস্তব পরিস্থিতি
তুলে ধরেই রিহ্যাব আদালতের শরণাপন্ন হয়। রিহ্যাবের আবেদনের প্রেক্ষিতেই আদালত সংশ্লিষ্ট
কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এ অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
মন্তব্য করুন


কোটা সংস্কার আন্দোলনে আহত হয়ে রাজধানীর
বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আইনজীবীসহ চারজন মারা গেছেন।
শুক্রবার (১৬ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল
কলেজ হাসপাতালে মরদেহ চারটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।
নিহতরা হলেন- কুমিল্লা সদর উপজেলার
আইনজীবী আবুল কালাম (৫৫), চুয়াডাঙ্গার রাজমিস্ত্রী উজ্জ্বল হোসেন (৩০), নোয়াখালীর দোকান
কর্মচারী আসিফ (২৬) ও বরগুনার ওষুধ কোম্পানীর সেলসম্যান আল আমিন হোসেন (২৭)।
নিহত আইনজীবী আবুল কালামের বাড়ির চাঁদপুরের
হাজীগঞ্জে। তবে থাকতেন কুমিল্লা সদর উপজেলার মহিলা কলেজ রোডে।
মন্তব্য করুন


লন্ডনে
চার মাস চিকিৎসা শেষে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আগামী মঙ্গলবার (৬ মে) সকালে
ঢাকায় ফিরছেন। তার সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন দুই পুত্রবধূ। এদিন সকালে কাতারের আমিরের পাঠানো একটি বিশেষ এয়ার
অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পৌঁছাবেন তিনি।
বেগম
খালেদা জিয়ার দেশে ফেরার বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ বলছে, বিএনপি চেয়ারপারসনের দেশে
ফেরা উপলক্ষে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, পাশাপাশি
থাকবে পর্যাপ্ত ট্রাফিক ব্যবস্থা।
ঢাকা
মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার
(ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দেশে ফেরা
উপলক্ষে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে তার বাসভবন
পর্যন্ত যাত্রা সুগম করতে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত ট্রাফিক ব্যবস্থাও
থাকবে।
ঢাকা
মেট্রোপলিটন পুলিশের এক কর্মকর্তার সূত্রে জানা যায়, খালেদা জিয়ার ঢাকায় ফেরার উপলক্ষে
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ নিরাপত্তার জন্য
কাজ করছে। একইরকম তথ্য দিয়েছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান। তিনি
জানান, আগামীকাল সোমবার (৫ মে) যাত্রা শুরু করে মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে হযরত
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে বহন করা এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি অবতরণ করবে। এদিন
বিমানবন্দর থেকে গুলশানের বাসভবন ফিরোজা পর্যন্ত খালেদা জিয়ার যাত্রাপথে থাকবে নিশ্ছিদ্র
নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এছাড়া নেতাকর্মীদের জন্যও জারি করা হয়েছে কড়া নির্দেশনা।
নির্দেশনাগুলো
হলো: অত্যন্ত শৃঙ্খলার সঙ্গে রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে কোনো যানজট সৃষ্টি না করে একহাতে
জাতীয় পতাকা এবং আরেক হাতে দলীয় পতাকা নিয়ে দেশনেত্রীকে অভ্যর্থনা জানাবেন।
এছাড়া
সাধারণের চলাচলের জন্য ওইদিন বিমানবন্দর থেকে কাকলী পর্যন্ত মূল সড়ক এড়িয়ে এলিভেটেড
এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারেরও অনুরোধ জানানো হয়েছে দলটির পক্ষ থেকে।
আরও
বলা হয়েছে, বিমানবন্দর ও চেয়ারপারসনের বাসভবনে কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। সব নেতাকর্মী
দলীয় পতাকা এবং জাতীয় পতাকা হাতে রাস্তার একপাশে দাঁড়াবে। চেয়ারপারসনের গাড়ির সঙ্গে
মোটরসাইকেল এবং হাঁটা সম্পূর্ণরূপে নিষেধ।
অভ্যর্থনা
জানানোর জন্য বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের অবস্থানের কথাও জানিয়েছে দলটি।
সংগঠনের
নাম ও অবস্থান:
>মহানগর
উত্তর বিএনপি, বিমানবন্দর থেকে লা মেরিডিয়ান হোটেল।
>ছাত্রদল,
লা মেরিডিয়ান হোটেল থেকে খিলক্ষেত।
>যুবদল,
খিলক্ষেত থেকে হোটেল র্যাডিসন।
>মহানগর
দক্ষিণ বিএনপি, হোটেল র্যাডিসন থেকে আর্মি স্টেডিয়াম।
>স্বেচ্ছাসেবক
দল, আর্মি স্টেডিয়াম থেকে বনানী কবরস্থান।
>কৃষকদল,
বনানী কবরস্থান থেকে কাকলী মোড়।
>শ্রমিক
দল, কাকলী মোড় থেকে বনানী শেরাটন হোটেল।
>ওলামা
দল, তাঁতী দল, জাসাস, মৎস্যজীবী দল, বনানী শেরাটন হোটেল থেকে বনানী কাঁচাবাজার।
>মুক্তিযোদ্ধা
দল ও সব পেশাজীবী সংগঠন, বনানী কাঁচাবাজার থেকে গুলশান-২।
>মহিলা
দল, গুলশান-২ গোলচত্বর থেকে গুলশান অ্যাভিনিউ রোড।
>বিএনপি
জাতীয় নির্বাহী কমিটির নেতারা, গুলশান-২ গোলচত্বর থেকে গুলশান অ্যাভিনিউ রোড।
>বিভিন্ন
জেলা থেকে আগত নেতাকর্মী, যার যার সুবিধামতো স্থানে অবস্থান করবেন।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর
বনানী কবরস্থানে বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর কবর জিয়ারত করেছেন
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। কোকো বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছোট
ছেলে।
আজ
শনিবার কোকোর কবর জিয়ারতের সময় তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা। এ সময় তারা পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও মোনাজাত করেন।
আরাফাত
রহমান কোকোর জন্ম ঢাকায়, ১৯৬৯ সালে। ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে
মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে মারা যান আরাফাত রহমান কোকো। তিনি স্ত্রী ও দুই মেয়ে জাফিয়া
রহমান ও জাহিয়া রহমানকে রেখে যান। ২০০৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের
উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন আরাফাত রহমান কোকো।
মন্তব্য করুন


রোজার মাসে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বুড়িচং উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে বুড়িচং থানার ওসি মহোদয় এবং থানা পুলিশ সদস্যবৃন্দের উপস্থিতিতে নিমসার বাজারে বাজার মনিটরিং টাস্কফোর্সের অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বৃহস্পতিবার হওয়া এ অভিযান পরিচালনাকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাহিদা আক্তার লেবু, শসা, কাঁচা মরিচ,ধনে পাতা, আলু, পেঁয়াজ প্রভৃতি পণ্যের দাম যাচাই করেন। কাঁচাবাজার এর
পাশাপাশি দোকানগুলোতেও রশিদ এর মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় এর জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
পরিদর্শনকালে দেখা যায়, লেবু ২০-৬০ টাকা হালি, কাচা মরিচ ২৬ টাকা, শশা ৩০ টাকা, খিরা ১২-১৫ টাকা , টমেটো ৫-৮ টাকা , আলু ১৬-১৮ টাকা, লাউ ১৮-২০ প্রতি পিস, পেঁয়াজ দেশি (মেহেরপুর) ১৮-২০ টাকা, পেয়াজ দেশি (পাবনা,নওগা) ২৫-৩০ টাকা, ডিম হালি ৩৩-৩৪ টাকা, চিচিংগা ১৫ টাকা, গাজর ১৫-২০ টাকা, বেগুন ৬০-৬৫/- (উন্নতমানের বড় সাইজ), চিকন বেগুন ৩০-৩৫ টাকা এবং সিম ২০-২৫ টাকা প্রতি কেজি দরে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে।
তবে অভিযান পরিচালনাকালীন সময়ে এটাও বলে দেওয়া হয় যে ভবিষ্যতে কোনো প্রকার অনিয়ম বা মূল্য কারসাজি ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক করে দেওয়া হয়।
জনস্বার্থে এ ধরণের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন


সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে আয়োজিত এমডিএলবিস্ট সাউন্ডস্টর্ম সংগীত উৎসবে অংশ নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন মার্কিন র্যাপ তারকা কার্দি বি। সৌদির অন্যতম বড় এই সংগীত আয়োজনে তার পারফরম্যান্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে সৌদি আরবে অবস্থানকালে বিভিন্ন অনলাইন পোস্টে দেশটির প্রতি ইতিবাচক মন্তব্য করতেও দেখা যায় গ্র্যামি জয়ী এই শিল্পীকে।তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে এসে বিনোদনসহ বিভিন্ন খাতে সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নেওয়া ‘ভিশন ২০৩০’ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আয়োজিত এই উৎসবে কার্দি বি–এর অংশগ্রহণকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকেই।সৌদিতে পৌঁছানোর পর কার্দি বি তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও শেয়ার করেন। সেখানে তাকে কালো রঙের ঢিলেঢালা পোশাক ও হিজাব পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়। ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি লেখেন, “হ্যালো সৌদি আরব, হালাল বি হাজির,” সঙ্গে যোগ করেন সৌদি পতাকার রঙের একটি হৃদয় ইমোজি। পরদিন রিয়াদের বিভিন্ন শপিং মল ও জনসমাগমপূর্ণ স্থানে একই পোশাকে তাকে ঘুরতে দেখেন ভক্তরা।মঞ্চে পারফরম্যান্স শুরুর আগে দর্শকদের উদ্দেশে তিনি ঐতিহ্যবাহী সম্ভাষণ “সালামু আলাইকুম” বলেন এবং সৌদি আরবের প্রসঙ্গে “মাশাল্লাহ” শব্দটি ব্যবহার করেন। তার এসব বক্তব্য দ্রুত সৌদি আরবসহ আন্তর্জাতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয়।সাধারণত সাহসী বক্তব্য ও খোলামেলা মঞ্চ উপস্থিতির জন্য পরিচিত কার্দি বি সৌদিতে পারফরম্যান্সের সময় ভাষা ও আচরণে ছিলেন তুলনামূলক সংযত। তার পোশাকও ছিল সম্পূর্ণ ঢাকা, যা তার পরিচিত মঞ্চশৈলীর সঙ্গে ভিন্নতা তৈরি করে।সৌদি সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে কার্দি বি রিয়াদের আধুনিক অবকাঠামোর প্রশংসা করেন এবং শহরটিকে “একেবারে নতুন” বলে বর্ণনা করেন। তিনি জানান, হোটেলে তাকে বিশেষ আপ্যায়নের পাশাপাশি কক্ষের ভেতরেই জিম ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সৌদি সফরের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সেখানেই ব্যায়াম করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।একটি লাইভ ব্রডকাস্টে কার্দি বি বলেন, সৌদি আরবে তিনি ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছেন বলে তার মনে হয়েছে। তার ভাষায়, ছোট শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক মানুষ—সবাই তাকে চিনেছে এবং স্থানীয়দের আচরণ ছিল ভদ্র ও শালীন।গত ১১ থেকে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত সৌদি আরবের বিভিন্ন ভেন্যুতে পারফর্ম করেন কার্দি বি। এই সফর এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যখন সৌদি আরব বৈশ্বিক বিনোদন শিল্পে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করছে এবং আন্তর্জাতিক তারকাদের আকৃষ্ট করছে—যদিও দেশটির মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচনা এখনো অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জেনিফার লোপেজ, সেলিন ডিওন ও এমিনেমের মতো পশ্চিমা শিল্পীরাও উপসাগরীয় অঞ্চলে পারফর্ম করেছেন।
মন্তব্য করুন


ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় রাজবাড়ীর পদ্মা নদীতে অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ। আজ মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার এই অভিযানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইলিশ মাছ ও জাল জব্দ করা হয়েছে এবং আটক করা হয়েছে ২১ জন জেলেকে।
গতকাল সোমবার (২০ অক্টোবর) বিকেল ৩টা থেকে আজ মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বিকেল ৩টা পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে মোট ০৫টি মোবাইল কোর্ট ও ০৯টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ১৪৩ কেজি ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে আটক করা হয় ৩ লাখ ৮৩ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল, যার বাজারমূল্য প্রায় ৭৪ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।
জেলা মৎস্য অফিসার মাহবুবুল হক জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২১ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৩ জনকে ২ দিন, ৭ জনকে ৩ দিন, ৪ জনকে ৫ দিন এবং ৩ জনকে ৬ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। গোয়ালন্দ উপজেলায় ২ জনকে ৫ দিন এবং ২ জনকে ৩ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া সদর উপজেলায় একজন জেলেকে ১৫,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


যুক্তরাষ্ট্রে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পবিত্র কোরআনে হাত রেখে শপথ নিয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারী সোমা সাঈদ। তিনি নিউইয়র্কের স্টেট সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এই নজিরবিহীন ঘটনা মার্কিন বিচারব্যবস্থার দীর্ঘ পথচলায় ধর্মীয় বৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সোমা সাঈদ নিউইয়র্ক সিটিস্থ কুইন্স সিভিল কোর্ট হাউসে উচ্চপদস্থ বিচারপতি, কর্মকর্তা, রাষ্ট্রদূত ও কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে শপথ গ্রহণ করেন। এতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা লাখ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশির মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও উৎসাহের সৃষ্টি হয়।
তিনি পূর্বে ২০২১ সালে কুইন্স ডিস্ট্রিক্টের জাজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বাঙালি কমিউনিটির একটি পরিচিত মুখ। নতুন দায়িত্বে বসে তিনি স্টেট সুপ্রিম কোর্টে বিচার কার্য পরিচালনা করবেন।
মন্তব্য করুন


শীতে
কাঁপছে দেশের বিভিন্ন জেলা। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে শীত সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে।
আজ
শনিবার ( ০৬ ডিসেম্বর ) দেশের ২০ জেলায় তাপমাত্রা
১০ থেকে ১৩ ডিগ্রির ঘরে রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা
হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া
অফিস জানিয়েছে, টাঙ্গাইল, সিলেট ও বরিশালে আজ সকাল ৬টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে
১৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে নেত্রকোনায় ১৩.৭, খুলনায় ১৩.৬, ভোলায় ১৩.৪, সাতক্ষীরা,
দিনাজপুর, নীলফামারীর ডিমলায় ১৩.৩ ডিগ্রি। নীলফামারীর সৈয়দপুরে ১৩.২, পাবনার ঈশ্বরদী
ও কুমিল্লায় ১৩ ডিগ্রি, গোপালগঞ্জ ও কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে
১২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ ছাড়া নওগাঁর বদলগাছীতে ১২.৭, কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ১২.৬,
যশোরে ১২, চুয়াডাঙ্গায় ১১.৮ মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও ঠাকুরগাঁওয়ে ১১ ও পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়
১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে
আগামী পাঁচ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চার দিন রাত ও দিনে তাপমাত্রার কোনো
পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। একদিন তাপমাত্রা সামান্য বাড়বে।
পূর্বাভাসে
বলা হয়েছে, আগামীকাল রবিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা
দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। পাশাপাশি ভোরের দিকে সারা দেশের কোথাও কোথাও হালকা
কুয়াশা পড়তে পারে।
সেই
সঙ্গে সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এ ছাড়া আগামীকাল
রবিবার, মঙ্গলবার, বুধবার আবহাওয়ার এমন পরিস্থতি বিরাজ করবে। তবে আগামী সোমবার অস্থায়ীভাবে
আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। এসময় সারা দেশে রাত ও দিশের
তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
আবহাওয়া
অফিস জানায়, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন এলাকার অবস্থান
করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে, এর একটি বর্ধিতাংশ
উত্তর পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।
মন্তব্য করুন


দেশে
মাদক সেবনকারীর সংখ্যা বর্তমানে আনুমানিক ৮২ লাখে পৌঁছেছে, যা মোট জনসংখ্যার প্রায়
৪.৮৮ শতাংশ। গাঁজা সেবনকারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৬১ লাখ। এছাড়া ইয়াবা, অ্যালকোহল,
কফ সিরাপ, হেরোইনসহ বিভিন্ন প্রকার মাদক সেবন চলছে।
বাংলাদেশ
মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ও রিসার্চ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্টস লিমিটেড যৌথভাবে
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত
দেশব্যাপী এই গবেষণাটি সম্পন্ন করেছে। এতে দেশের ৮ বিভাগে ১৩ জেলা ও ২৬ উপজেলা থেকে
তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
গবেষণায়
দেখা গেছে ময়মনসিংহ (৬.০২%), রংপুর (৬.০০%) ও চট্টগ্রাম (৫.৫০%) বিভাগে মাদক ব্যবহারের
হার সর্বোচ্চ। ঢাকা বিভাগে সংখ্যার বিচারে সর্বাধিক মাদক ব্যবহারকারী রয়েছে, প্রায়
২২.৯ লাখ।
গুরুত্বপূর্ণ
বিষয় হলো, মাদকসেবীদের অধিকাংশই তরুণ। ৩৩ শতাংশ ব্যবহারকারী ৮-১৭ বছর বয়সে এবং ৫৯
শতাংশ ১৮-২৫ বছর বয়সে প্রথম মাদক গ্রহণ শুরু করেছে। বেকারত্ব, পারিবারিক অস্থিরতা,
মানসিক চাপসহ বিভিন্ন সামাজিক কারণে মাদক সেবন বাড়ছে। প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যবহারকারী
জানিয়েছে মাদক সহজলভ্য।
গবেষণায়
উঠে এসেছে, মাত্র ১৩ শতাংশ মাদকসেবী চিকিৎসা বা পুনর্বাসনের সুযোগ পেয়েছেন। সেবাদানের
অভাবে অনেকেই মাদক ত্যাগে ব্যর্থ হচ্ছেন। ৬৯% মাদকসেবী চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সুযোগ
এবং ৬২% কাউন্সেলিং সেবা চেয়েছেন।
বাংলাদেশ
মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, মাদক
সমস্যা শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, এটি একটি জটিল জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক সমস্যা। তাই
রাজনৈতিক সংকল্প এবং গবেষণার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে।
মাদক
নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ জানান, বর্তমানে দেশের মানুষের মধ্যে
মাদকাসক্তির ঝুঁকি বেড়েছে। সরকার ইতিমধ্যে ৭ বিভাগে ২০০ শয্যা বিশিষ্ট পুনর্বাসন কেন্দ্র
চালুর অনুমোদন দিয়েছে। পরিবার থেকে শুরু করে সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে মাদক নির্মূল
নিশ্চিত করতে হবে।
গবেষণার
ফলাফল দেশের মাদক নীতি প্রণয়ন ও কার্যক্রমের জন্য মূল্যবান তথ্য হিসেবে কাজ করবে বলে
সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।
মন্তব্য করুন