

ঋণ
খেলাপির তালিকা থেকে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান
মুন্সীর নাম বাদ দিয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেছেন চেম্বার আদালত।
এর
ফলে তিনি ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হবেন এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে
পারবেন না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
বৃহস্পতিবার
(৮ জানুয়ারি) চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত এ আদেশ দেন।
আদালতে
প্রিমিয়ার ব্যাংকের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার বিভূতি তরফদার।
তিনি
জানান, বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হবেন এবং জাতীয়
সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।
এর
আগে ঋণখেলাপির তালিকায় কুমিল্লা-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর নাম
স্থগিত করেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এ কে এম রবিউল হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
পরে এই আদেশ স্থগিত চেয়ে চেম্বার আদালতে আবেদন করে প্রিমিয়ার ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য,
কুমিল্লা-৪ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ
জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী।
মন্তব্য করুন


বিএনপির
চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, তার দল আগামী নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনে আত্মবিশ্বাসী।
একই সঙ্গে তিনি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট বা জাতীয় ঐক্য সরকার গঠনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান
করেছেন।
বার্তা
সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি কীভাবে আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে
নিয়ে সরকার গঠন করব, তাহলে বিরোধী দলে কে থাকবে?’ জামায়াতে ইসলামীর জোট সরকার গঠনের
প্রস্তাব প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি একথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ‘তাদের আসন সংখ্যা কত
হবে আমি জানি না, তবে যদি তারা বিরোধী দলে থাকে, আমি আশা করি তারা একটি ভালো বিরোধী
দলের ভূমিকা পালন করবে।’তবে রয়টার্স স্মরণ করিয়ে দেয়, ২০০১
থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী একসঙ্গে বাংলাদেশ শাসন করেছিল।
সংবাদ
সংস্থাটি জানায়, ২০২৪ সালে কয়েক মাসের অস্থিরতায় দেশের বৃহৎ তৈরি পোশাক শিল্প মারাত্মকভাবে
ব্যাহত হওয়ার পর জামায়াত সম্প্রতি দেশকে স্থিতিশীল করতে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের লক্ষ্যে
অংশীদারিত্ব পুনর্নবায়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পরিস্থিতি বর্ণনা করে রয়টার্স জানায়,
৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান প্রায় দুই দশক লন্ডনে নির্বাসিত থাকার পর গত ডিসেম্বর দেশে
ফেরেন। ছাত্র-যুব নেতৃত্বাধীন এক গণঅভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের নেতা শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত
হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ একটি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। সংবাদ সংস্থাটি
আরও জানায়, বিএনপির সহযোগীরা বলছেন, ৩০০ আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ের
বিষয়ে দলটি আত্মবিশ্বাসী। বিএনপি ২৯২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে এবং বাকি আসনে এর
মিত্ররা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
তবে
তারেক রহমান নির্দিষ্ট সংখ্যা বলতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘আমরা আত্মবিশ্বাসী যে সরকার
গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন আমরা পাব।’
বিভিন্ন
জনমত জরিপে বিএনপির বিজয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হলেও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের কাছ থেকে
কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে। ওই জোটে ছাত্র-যুব আন্দোলন থেকে
গড়ে ওঠা একটি ‘জেন জেড’ দলও রয়েছে।
বিশ্বের
সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়টার্স মন্তব্য করে, গত বছর ঢাকার একটি আদালত দমন-পীড়নে ভূমিকার জন্য
শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিলে ভারতের তাকে আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের
অবনতি ঘটে এবং এতে চীনের বিনিয়োগ ও রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হয়।
জয়ী
হলে ভারত থেকে সরে গিয়ে চীনের দিকে ঝুঁকবেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান
বলেন, প্রায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ (১৭৫ মিলিয়ন) মানুষের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে
সক্ষম এমন অংশীদার বাংলাদেশের প্রয়োজন। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে তরুণদের জন্য
কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দেশে ব্যবসা আনা এবং মানুষের জীবনমান উন্নত করার উদ্যোগ নিতে হবে।
তারেক
রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে যে দেশ আমার জনগণ ও দেশের
জন্য উপযোগী প্রস্তাব দেবে, তাদের সঙ্গেই আমাদের বন্ধুত্ব থাকবে, কোনো নির্দিষ্ট দেশের
সঙ্গে নয়। নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গারা থাকতে পারবে বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ
এবং উচ্চ দারিদ্র্যহারসম্পন্ন দেশ বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ (১.২ মিলিয়ন) রোহিঙ্গা মুসলিম
শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে।
এদের
অনেকেই প্রতিবেশী বৌদ্ধপ্রধান মিয়ানমারে একাধিক দমন অভিযানের মুখে পালিয়ে এসেছে, যেখানে
তাদের বহিরাগত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বাংলাদেশের
অন্তর্বর্তী সরকার গত বছর জানিয়েছিল, নানা চ্যালেঞ্জের কারণে শরণার্থীদের জন্য অতিরিক্ত
সম্পদ বরাদ্দ দেওয়ার সক্ষমতা তাদের নেই এবং তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক
সম্প্রদায়ের সহায়তা চেয়েছে।
বিএনপি
চেয়ারম্যান বলেন, তিনিও রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার পক্ষে, তবে তা অবশ্যই নিরাপদ
পরিস্থিতিতে হতে হবে।
তিনি
বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করব যেন এই মানুষগুলো তাদের নিজ ভূমিতে ফিরে যেতে পারে। তবে সেখানে
পরিস্থিতি নিরাপদ হতে হবে। যত দিন নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়, তত দিন তারা এখানে থাকতে
স্বাগত।’
মন্তব্য করুন


আসন্ন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)
দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষে নিজেদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের
ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের আলোকে জামায়াত মনোনীত
প্রার্থী সাইফুল ইসলাম (শহিদ) নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।
গতকাল
রোববার ঢাকায় এনসিপি, জামায়াতে ইসলামী এবং সমমনা ৮টি দলের মধ্যে একটি নির্বাচনী সমঝোতা
ঘোষিত হয়। এই জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কুমিল্লা-৪
আসনে এই পরিবর্তন আসে। উল্লেখ্য, এই দেবীদ্বার আসনটি এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর
নিজস্ব এলাকা।
সাইফুল
ইসলাম কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে তিনি রোববার রাতে তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে
একটি পোস্টের মাধ্যমে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানান। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ।
কেন্দ্রীয় সংগঠনের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে নির্বাচন থেকে নিজেকে আড়াল করে নিলাম। আল্লাহ
যেন দ্বীন কায়েমের পথে আমৃত্যু টিকে থাকার তৌফিক দান করেন।’
পরে
এ প্রসঙ্গে তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, সংগঠনের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই তিনি
এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেও আমি দেবীদ্বারের মানুষের
পাশে সব সময় থাকব। হয়তো জনগণের সব প্রত্যাশা পূর্ণাঙ্গভাবে পূরণ করতে পারব না, তবে
সংগঠনের এই সিদ্ধান্ত সামগ্রিকভাবে কল্যাণ বয়ে আনবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’
নাহিদকে
শুভকামনা জানিয়ে সরে গেলেন জামায়াতের আতিকনাহিদকে শুভকামনা জানিয়ে সরে গেলেন জামায়াতের
আতিক
গত
২৩ ডিসেম্বর এনসিপির নেতা-কর্মীরা হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।
বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহের
বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। জামায়াত প্রার্থীর সরে দাঁড়ানোর ফলে হাসনাত
আবদুল্লাহর অবস্থান এই আসনে আরও শক্তিশালী হলো বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটররা।
এর
আগে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে শুভকামনা জানিয়ে ঢাকা-১১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর
মনোনীত প্রার্থী আতিকুর রহমান নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। গতকাল রোববার রাতে নিজের
ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে এ কথা জানান ছাত্রশিবিরের সাবেক এই কেন্দ্রীয় সভাপতি।
মন্তব্য করুন


পুলিশের মহাপরিদর্শক
বাহারুল আলম বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনকে সুষ্ঠু, সুন্দর ও উৎসবমুখর করার মতো পূর্ণ সক্ষমতা
বাংলাদেশ পুলিশের রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ কঠোর প্রশাসনিক
পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আজ মঙ্গলবার
সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন,
২০২৬ উপলক্ষে রিটার্নিং অফিসার ও মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা
বিষয়ক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আইজিপি বলেন,
জুলাই-পরবর্তী সময়ে বাস্তব কারণেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির
মোকাবিলা করতে হয়েছে। তবে আমরা সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসেছি। নির্বাচনের আগে এই পর্যায়ে
এসে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে আমাদের বাহিনী যথেষ্ট সক্ষমতা
অর্জন করেছে।
পুলিশ প্রশাসনের
মাঠ পর্যায়ের রদবদল নিয়ে ইসির কাছে স্পষ্টীকরণ চান আইজিপি। তিনি বলেন, এসপি বা ঊর্ধ্বতন
কর্মকর্তাদের বদলির বিষয়ে কমিশনের নির্দেশনা থাকে। তবে কনস্টেবল বা সাব-ইন্সপেক্টরের
মতো সর্বনিম্ন পদেও রদবদলের ক্ষেত্রে কমিশনের পূর্বানুমতি প্রয়োজন কি না, সে বিষয়ে
স্পষ্ট নির্দেশিকা প্রয়োজন।
আইজিপি বাহারুল
আলম প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে বলেন, পুলিশ তার সর্বশক্তি ও সর্বাত্মক প্রচেষ্টার মাধ্যমে
এবারের নির্বাচন সফল ও শান্তিপূর্ণ করতে বদ্ধপরিকর। দেশবাসী ও নির্বাচন কমিশন আমাদের
ওপর পূর্ণ আস্থা রাখতে পারেন।
মন্তব্য করুন


ত্রয়োদশ
জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সশস্ত্র বাহিনীসহ দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে সতর্ক ও সচেষ্ট রয়েছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ
ছাড়া দূতাবাসগুলোর নিরাপত্তার ব্যাপারেও আশ্বস্ত করেছে মন্ত্রণালয়টি।
আজ
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে গৃহীত হালনাগাদ
প্রস্তুতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে ঢাকায়
বিদেশি দূতাবাসগুলোকে অবহিতকরণ সভায় এসব তথ্য জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রাষ্ট্রীয়
অতিথি ভবন পদ্মায় এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায়
নির্বাচন কমিশন বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের স্বাগত জানাবেন বলে কূটনীতিকদের বলা
হয় এবং তাদের নির্বাচন পর্যবেক্ষক প্রেরণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। ব্রিফিংয়ে ঢাকায়
দূতাবাসগুলোর প্রায় চল্লিশ জন কূটনীতিক উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


মা
বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছেছেন
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
এর
আগে বিমানবন্দর থেকে সোয়া তিন ঘণ্টার দীর্ঘ যাত্রা শেষে পূর্বাচলের ৩০০ ফুট সড়কে আয়োজিত
সংবর্ধনা সমাবেশের মঞ্চে যান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। বেলা ৩টা ৫০ মিনিটে তারেক
রহমান মঞ্চে উঠে দাঁড়ান। এ সময় তার সামনে লাখো নেতাকর্মী–সমর্থকের
উপস্থিতিতে জনসমুদ্রে পরিণত হয় পুরো এলাকা।
সেখানে
প্রায় ১৬ মিনিট বক্তব্য দেওয়ার পর তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন ও তার মা বেগম খালেদা জিয়াকে
দেখতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এভারকেয়ার হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হন।
বিমানবন্দর
থেকে যে জাতীয় পতাকার রঙে সাজানো বাসে করে তিনি পূর্বাচলের সংবর্ধনা মঞ্চে এসেছিলেন,
সেই বাসেই হাসপাতালে যান তিনি।
বিকাল
৪টা ২৫ মিনিটে বাসটি এভারকেয়ার হাসপাতালের দিকে রওনা দেয়। তবে মঞ্চ থেকে বাসে উঠতে
তাকে বেশ বেগ পেতে হয়। বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর ভিড়ের কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী
দীর্ঘ সময় ধরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে তাকে নিরাপদে বাসে তুলে দেন।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশের সংস্কারের বিষয়ে ঐকমত্যে উপনীত এবং ভোটার তালিকা তৈরি হলে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
মঙ্গলবার (২৫ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সদরদপ্তরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনের ফাঁকে আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভার সঙ্গে বৈঠকে এ কথা জানান প্রধান উপদেষ্টা।
বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস নির্বাচন, বেসামরিক প্রশাসন, পুলিশ, বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন ও সংবিধানে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের সুপারিশ করার জন্য তার অন্তর্বর্তী সরকার যে ছয়টি কমিশন গঠন করেছে, সে সম্পর্কে কথা বলেন।
তিনি বলেন, কমিশনের সুপারিশ নিয়ে সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে। সংস্কারের বিষয়ে ঐকমত্য এবং ভোটার তালিকা শেষে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হবে।
ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বাংলাদেশের সংস্কার উদ্যোগে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ওয়াশিংটনভিত্তিক ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান বিষয়টি নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করতে ঢাকায় একটি দল পাঠিয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভাকে বাংলাদেশের পূর্ববর্তী স্বৈরশাসন উৎখাত করা ছাত্র নেতৃত্বাধীন গণ-অভ্যুত্থান সম্পর্কে ব্রিফ করেন। তখন ক্রিস্টালিনা তাকে বলেন, এটি একটি ভিন্ন দেশ। এটি বাংলাদেশ ২.০।
আইএমএফের প্রধান নির্বাহী অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগে তার সমর্থন জানিয়ে বলেন, আইএমএফ বাংলাদেশ সরকারের জন্য আর্থিক সহায়তা দ্রুততর করবে।
তিনি বলেন, তিনি বাংলাদেশে ‘দ্রুত’একটি আইএমএফ দল পাঠিয়েছেন এবং এ মুহূর্তে সেটি ঢাকায় অবস্থান করছে। দলটি আগামী মাসে আইএমএফ পরিচালনা পর্ষদের কাছে তাদের প্রতিবেদন দাখিল করবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
জর্জিয়েভা বলেন, আইএমএফ বোর্ড টিমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন ঋণদান কর্মসূচি শুরু করতে পারে, অথবা এটি গত বছরের শুরুর দিকে চালু হওয়া বিদ্যমান সহায়তা কর্মসূচির অধীনে আরও ঋণ দিতে পারে।
জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও পরিবহন উপদেষ্টা ড. ফাওজুল কবির খান এবং বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় উপদেষ্টা
ফাওজুল কবির খান আইএমএফপ্রধানকে বলেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার মাত্র এক সপ্তাহ সময়ে
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে
অপরাধের ‘দুর্গ’
গুঁড়িয়ে দিয়েছে।
ড. দেবপ্রিয় দেশের অর্থ প্রদানের ভারসাম্য বাড়াতে আইএমএফের সহায়তার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, বিনিময় হার স্থিতিশীল করতে আইএমএফের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
মন্তব্য করুন


প্রধানমন্ত্রীর
বিদেশ সফর ও স্বদেশে প্রত্যাবর্তনকালে বিমানবন্দরে অনুসরণীয় রাষ্ট্রাচারে পরিবর্তন
আনা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর
বিদেশযাত্রা এবং দেশে ফেরার সময় অনুসরণীয় রাষ্ট্রাচার নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে
আজ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
চিঠি
অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ যাত্রা এবং দেশে ফেরার সময় মাত্র চারজন কর্মকর্তাকে
বিমানবন্দরে থাকতে হবে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উপস্থিত থাকবেন মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠতম
একজন মন্ত্রী, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর
মুখ্য সচিব।
এ
পরিবর্তনের মাধ্যমে পূর্ববর্তী বিস্তৃত প্রটোকল ব্যবস্থা সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা
মনে করছেন।
এর
আগে, ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টার বিদেশযাত্রা ও ফেরার সময় বিমানবন্দরে রাষ্ট্রাচার
নিয়ে নির্দেশনা জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। এখন ওই নির্দেশনা বাতিল করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


তথ্য
ও সম্প্রচার, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা
হাসান বলেছেন, ‘আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচন একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করবে। এই ভিত্তি
গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় করবে এবং সরকারকে জনগণের কাছে জবাবদিহির আওতায় আনবে। বৈষম্যহীন ও
শোষণমুক্ত সমাজ গড়ার যে স্বপ্ন এখনো পূর্ণতা পায়নি, সেই লক্ষ্য অর্জনের যাত্রা এখান
থেকেই শুরু করা সম্ভব হবে।’
আজ
সোমবার ( ১৬ ডিসেম্বর ) ঢাকায় সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন
শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন উপদেষ্টা।
উপদেষ্টা
বলেন, ‘শুধু নির্বাচন নয়, এবার গণভোটের মাধ্যমেও সংস্কার প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে
জনগণ তাদের মতামত জানাতে পারবে। এর ওপর ভিত্তি করে গণতন্ত্রের যাত্রা নতুন রূপে শুরু
হতে পারে।’
রিজওয়ানা
হাসান বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিপক্ষকে দমন করতে যুক্তি ও তর্কের বদলে হত্যাচেষ্টার
মতো সহিংস পন্থা নেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি নিন্দনীয় ও কাপুরুষোচিত।
তিনি
বলেন, ‘শক্তি থাকলে জনগণের মুখোমুখি হতে হবে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের সামনে যাওয়ার
পথ সবারই জানা।’ তিনি আরো বলেন, ‘প্রতিপক্ষকে ঘায়েল
করার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, নতুন বাংলাদেশে তার কোনো স্থান নেই। এই সরকার তখনই সফল
হবে, যখন সুষ্ঠু নির্বাচন, বিচার এবং সংস্কারের যে লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছে,
তা বাস্তবায়ন করা যাবে।’
তথ্য
উপদেষ্টা বলেন, ‘সরকারের লক্ষ্য একটি শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও স্বতঃস্ফূর্ত নির্বাচন
নিশ্চিত করা। মানুষ যেন নির্ভয়ে ভোট দিতে পারে। তবে এই প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার জন্য
একটি শক্তি সক্রিয় রয়েছে। সেই শক্তিকে প্রতিহত করার পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে
তোলাও প্রয়োজন।
মন্তব্য করুন


নির্বাচনে
পক্ষপাতিত্ব করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার
জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি বলেছেন, নির্বাচনে সততা ও নিরপেক্ষতার
প্রশ্নে কমিশন শক্ত অবস্থানে থাকবে। এখানে বড় দল বা ছোট দলের কোনো ভেদাভেদ নেই, সবাই
সমান। নির্দেশনার পরও কোনো কর্মকর্তা পক্ষপাতমূলক আচরণ করলে তার পরিণতি হবে কঠোর।
আজ
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে বরিশালের সার্কিট হাউসে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
ও গণভোট ২০২৬ উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ডিজিটাল ও অবজারভেশন টিমের সঙ্গে
মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
প্রবাসীদের
ভোটে কারচুপির সুযোগ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, প্রবাসীদের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের
কারচুপির সুযোগ নেই। ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে লাইভ ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে
এবং ব্যবহৃত ব্যালটের নিরাপত্তায় গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
ইসি
সানাউল্লাহ জানান, প্রবাসীদের জন্য ব্যবহৃত ব্যালটে মোট ১১৯টি প্রতীক থাকবে।
ফলে
খাম খোলা ও সঠিকভাবে ভোট গণনায় তুলনামূলকভাবে বেশি সময় লাগবে। ভোটকেন্দ্রে শুধু প্রিজাইডিং
অফিসার কলম সঙ্গে নিতে পারবেন, অন্য কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা পেনসিল ব্যবহার করবেন।
ভোটের দিন প্রতি আসনে ১০ জন করে ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি
বলেন, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে অনিয়ম ঠেকাতে কমিশন বিশেষভাবে সতর্ক
রয়েছে।
একই
সঙ্গে নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের কোনো ধরনের আপ্যায়ন বা আতিথেয়তা
গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেন তিনি।
মন্তব্য করুন


গণভোটে 'হ্যাঁ'র প্রচারণায় প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের সামনে কোনো আইনগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, এবারের গণভোট কোনো দলকে ক্ষমতায় বসানো কিংবা কোনো দলকে ক্ষমতায় যেতে বাধা দেয়ার এজেন্ডা নয়; এটি রক্তের অক্ষরে লেখা জুলাই জাতীয় সনদভিত্তিক রাষ্ট্র সংস্কারের এজেন্ডা, যা বাংলাদেশের সকল মানুষের। এই গণভোট হলো জনগণের সম্মতি নেওয়ার একটি প্রক্রিয়া: যার মাধ্যমে নির্ধারণ হবে আগামীর বাংলাদেশ কোন পথে চলবে।
গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে বিভাগীয় কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গতকাল শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, সকালে রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করে ঢাকা বিভাগীয় প্রশাসন।
ঢাকা বিভাগের কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার, বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস এসোসিয়েশনের সভাপতি ও পূর্ত সচিব মো: নজরুল ইসলাম ওঢাকা রেন্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক।
অনুষ্ঠানে প্রফেসর আলী রীয়াজ বলেন, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সাবেক বিচারপতি ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনায় ‘একবাক্যে’ মত পেয়েছি-গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের ওপর আইনগত নিষেধাজ্ঞা নেই। যারা এ বিষয়ে বাধা আছে বলে প্রচার করছে, তারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে অথবা ভিন্ন উদ্দেশ্যে বিষয়টি উত্থাপন করছে।
তিনি আরও বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে যে ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা ছিল, তার বিরুদ্ধে যারা সংগ্রাম করেছেন, প্রাণ দিয়েছেন, জেল–জুলুম–নিপীড়ন সহ্য করেছেন, গুমের শিকার হয়েছেন, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন-তারাই আমাদের দুইটি সুস্পষ্ট দায়িত্ব দিয়ে গেছেন। ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্র যেন আর ফিরে আসতে না পারে, সেই পথ রুদ্ধ করা। আরেকটি দায়িত্ব হচ্ছে ভবিষ্যতের বাংলাদেশের পথনকশা নির্মাণ। বাংলাদেশের এক তৃতীয়াংশ মানুষ ২৭ থেকে ৩৭ বছরের নিচে। আগামী অন্তত ৪০ বছর এই দেশ কেমনভাবে চলবে, আজ আমার ও আপনার দায়িত্ব হচ্ছে সে পথ নির্ধারণ করা এবং দুর্বার গতিতে সাফল্য ও সমৃদ্ধির এগিয়ে যাবার আয়োজন করা।
আলী রীয়াজ বলেন, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা কেবল কর্মকর্তা-কর্মচারী নন; তারা একই সঙ্গে নাগরিকও। তাই, রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কাঠামো নির্ধারণে নাগরিক দায়িত্ব পালনের প্রশ্নে তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্তদের জনগণের সেবায় সর্বদা সচেষ্ট থাকার কর্তব্য এবং নাগরিকদের আইন মানা, শৃঙ্খলা রক্ষা ও জাতীয় সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব উল্লেখ রয়েছে। সেই দায়িত্বের আলোকে গণভোটে মানুষকে সচেতন করা ও ভোটদানে উদ্বুদ্ধ করার কাজটিও নাগরিক কর্তব্যের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।
গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তির বিষয়টি উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, দীর্ঘ সময় ভোট নিয়ে অনাস্থার কারণে অনেকের কাছে গণভোট নতুন অভিজ্ঞতা। ফলে জনগণকে বোঝাতে হবে কীভাবে ব্যালটে ভোট দিতে হবে এবং ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের অর্থ কী। তারা জানান, গণভোটের ব্যালটে ‘টিক চিহ্ন’কে প্রচারণার মূল প্রতীক হিসেবে ধরে জনগণকে ভোটকেন্দ্রে আনতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
আলী রীয়াজ আরও বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে তিনটি ম্যান্ডেট নিয়ে কাজ করছে-সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। নির্বাচন সরকার আয়োজন করে না; অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে সরকার, আর নির্বাচন পরিচালনা করে নির্বাচন কমিশন। একইভাবে বিচারও আদালত পরিচালনা করবে, সরকার শুধু বিচার প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন রাখতে সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করছে।
অতীতে এক ব্যক্তির ইচ্ছায় সংবিধান সংশোধন হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পঞ্চদশ সংশোধনী করার জন্য জাতীয় সংসদের একটা কমিটি করা হয়েছিল। তাতে আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কোনো দলের সদস্যরা ছিল না। সেই কমিটি ২৫ থেকে ২৬টি বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা থাকবে। তবে কিছু শর্ত আরোপ করা হবে। যেমন ৯০ দিনের বেশি এটা থাকতে পারবে না। বিদেশের সঙ্গে কোনো চুক্তি করতে পারবে না। একটা বৈঠকে সেটা পরিবর্তিত হয়েছে। সেই বৈঠকটা হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। প্রধানমন্ত্রীর একক সিদ্ধান্তে বাংলাদেশে পঞ্চদশ সংশোধনী তৈরি হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয়েছে এক ব্যক্তির ইচ্ছায়। সংবিধান সংশোধনী ছেলে খেলায় পরিণত যাতে আর না থাকে সেটা বন্ধ করা দরকার।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত ৪৮টি সুপারিশ গণভোটে আসছে চারটি ক্যাটাগরিতে। চার ক্যাটাগরিতে ৪৮টি সুপারিশ থাকলেও কার্যত প্রশ্নটি একটাই। সেটি হলো—আপনি কি জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষে, না বিপক্ষে?
তিনি বলেন, গণভোট ব্যর্থ হলে ফ্যাসিবাদ আবার ফিরে আসবে এবং সেটি কতটা বীভৎস আর নির্মম ও নৃশংস হতে পারে সেটা আমরা কল্পনাও করতে পারি না। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অনুযায়ী আমাদের মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার ভিত্তিক একটি রাষ্ট্র তৈরী করা। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত গত ৫৪ বছরে সেই রাষ্ট্র আমরা পাইনি। বরং এই দীর্ঘ সময়ে ব্যাক্তি ও গোষ্ঠীবিশেষ আমাদের স্বাধীনতাকে অ্যাবিউজ করেছে নিজেদের হীন স্বার্থে। এবার জুলাই অভ্যুত্থান আমাদের সুযোগ করে দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধের সেই লক্ষ্য অর্জনের। এখন গণভোটের মাধ্যমে এই সুযোগ আমাদের কাজে লাগাতে হবে।
সভায় ঢাকা বিভাগের জেলা সমূহের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন