

স্কুল
শিক্ষিকাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিল এক শিক্ষার্থী। কিন্তু সেই প্রস্তাবে রাজি হননি
শিক্ষিকা। প্রস্তাবে সাড়া না দিলেও হাল ছাড়েনি দ্বাদশ শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী। শিক্ষিকাকে
নিয়মিত অনুসরণ করার পাশাপাশি তাকে নানাভাবে হেনস্তা করারও অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
এক পর্যায়ে প্রকাশ্যে রাস্তায় শিক্ষিকাকে আক্রমণ করে এবং ধারালো ছুরি দিয়ে শিক্ষিকার
ঠোঁট কেটে দেয়।
এমন
ঘটনা ঘটেছে ভারতের উত্তরপ্রদেশের মৈনপুরি জেলার ঘটনা। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী বর্তমানে
পলাতক।
পুলিশ
জানায়, অখণ্ড প্রতাপ নামের ওই শিক্ষার্থী দীর্ঘ দিন ধরেই ওই শিক্ষিকাকে হেনস্তা করছিল
বলে অভিযোগ এসেছে।
আগ্রা
রোডের একটি বেসরকারি স্কুলে পড়ার সময়েই সে ওই শিক্ষিকাকে হেনস্তা করতে শুরু করে প্রতাপ।
শিক্ষিকার ভাইয়ের অভিযোগ, এই হেনস্তার কারণে সেই শিক্ষিকা স্কুল ছাড়তে বাধ্য হন। তিনি
পরে অন্য একটি বেসরকারি স্কুলে যোগ দেন। ওই শিক্ষার্থীর মায়ের কাছে এ নিয়ে অভিযোগও
জানানো হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ জানানোর পর হেনস্তার পরিমাণ আরো বেড়ে যায়।
শিক্ষিকার
ভাই আরো অভিযোগ জানান, গত ২৬ জানুয়ারি ওই শিক্ষার্থী ধারালো অস্ত্র নিয়ে সেই শিক্ষিকাকে
আক্রমণ করে। জোর করে তার সঙ্গে কথা বলার সময়েই আক্রমণ করা হয়। তখনই সে শিক্ষিকার ঠোঁট
কেটে দেয়। এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজে প্রকাশ পেয়েছে।
সেখানে
দেখা যায়, ওই শিক্ষিকা ছাত্রকে পড়ানোর জন্য জ্যোতি তিহারা এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন। প্রতাপ
তাকে বাধা দিয়ে একটি গলিতে নিয়ে যায় এবং প্রকাশ্য দিবালোকে তার ওপর হামলা করে।
আহত
শিক্ষিকা রাস্তায় কাঁতরাতে থাকলে পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়।
অবস্থার অবনতি হলে তাকে সফদরজং মেডিক্যাল কলেজে রেফার করা হয়, কিন্তু সেখানে প্লাস্টিক
সার্জন না থাকায় দ্রুত চিকিৎসার জন্য আগ্রার পুস্পাঞ্জলি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে
ওই শিক্ষিকা সেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এ
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ছাত্র পলাতক। পুলিশ তার সন্ধানের ব্যাপক তল্লাশি শুরু করেছে।
কোতোয়ালি
থানার কর্মকর্তা ফতে বাহাদুর সিং জানান, গত ১ ফেব্রুয়ারি ওই শিক্ষিকার পরিবারের পক্ষ
থেকে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। শিক্ষিকাকে যৌন হেনস্তা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ জানানো
হয়েছে ওই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্তকে ধরার জন্য অভিযান চলছে বলেও জানান তিনি।
মন্তব্য করুন


যে কোনো মূল্যে সীমান্ত হত্যা বন্ধ
করব বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
আজ শুক্রবার (৪ জুলাই) দুপুরে ঠাকুরগাঁও
পুরাতন বাসস্ট্যান্ড গোলচত্বরে জুলাই পদযাত্রার শুরুতে তিনি এ কথা বলেন।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন,
এটা হাসিনার বাংলাদেশ নয়, এটা ছাত্র-জনতার বাংলাদেশ। ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বাংলাদেশিদের
নির্বিচারে গুলি করা হত্যা করা হচ্ছে৷ অবৈধভাবে একের পর এক পুশইন করা হচ্ছে। যে কোনো
মূল্যে সীমান্ত হত্যা বন্ধ করব। জুলাই-আগস্টে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রতিরোধ গড়ে উঠেছিল৷ নতুন
দেশ গঠনে সারা দেশে কর্মসূচি চলছে। জুলাই ঘোষণাপত্র, সংস্কার, বিচার ও নতুন সংবিধানের
মাধ্যমে আমরা নির্বাচন চেয়েছি৷
এনসিপির জুলাই পদযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনীম যারা, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা৷
মন্তব্য করুন


আসন্ন জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর করার জন্য সরকার সম্ভাব্য সবকিছু করছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
আজ বুধবার (২২ অক্টোবর) জার্মান রাষ্ট্রদূত “ রুডিগার লোটজের “ সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ তথ্য জানান। এসময় প্রধান উপদেষ্টা জার্মান রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য উষ্ণ শুভেচ্ছা জানান এবং আশা প্রকাশ করেন, তিনি এখানে অবস্থানকালে বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সনদে সই করার জন্য প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে একত্রিত করে একটি চমৎকার কাজ করেছে। এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত—যা ঐক্য এবং পরিবর্তনের জন্য একটি অভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেখিয়েছিল। এটি আসন্ন নির্বাচনের আগে আস্থা তৈরিতে সহায়তা করে।’
বৈঠকে রাষ্ট্রদূত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি সমর্থন জানান এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আরও বেশি সম্পৃক্ত হচ্ছে এটা খুবই উৎসাহব্যঞ্জক। তিনি সরকারের সংস্কার প্রচেষ্টার, বিশেষ করে জুলাই জাতীয় সনদের প্রশংসা করেন।
রুডিগার লটজ বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোকে একসঙ্গে বসে কথা বলতে দেখে ভালো লাগছে। নির্বাচনের পরও দেশের এসব সংস্কার উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে।’
রাষ্ট্রদূত জার্মানিতে পড়াশোনা করতে ইচ্ছুক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর ক্রমবর্ধমান সংখ্যার কথাও উল্লেখ করেন।
মন্তব্য করুন


কৃষিতে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেয়ার
জন্য ২০১৯ সালের নীতিমালা অনুযায়ী কৃষি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে
সিআইপি'র সমমর্যাদায় Agricultural Important
Person এআইপি প্রবর্তন করেন সরকার।
২০২১ সালের এআইপি খেতাবে
ভূষিত হয়েছেন কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার
আদমপুর গ্রামের রাষ্ট্রীয় পুরস্কার প্রাপ্ত
কৃষি পরিবেশ সমাজ উন্নয়ন সংগঠক, অধ্যাপক এম এ মতিন (মতিন সৈকত)।
২০২১ সালের পদকটি আগামী ৭
জুলাই ২০২৪ইং তারিখে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে মতিন সৈকত সহ অনান্য এআইপিদের
সন্মাননা সংবর্ধনা প্রদান করা হবে।
তিনি চার দশক ধরে কৃষি পরিবেশ
সমাজ উন্নয়নে বৈপ্লবিক অবদান রাখছেন। কৃষি উদ্ভাবন জাত/প্রযুক্তি বিভাগে মতিন সৈকত-কে
এআইপি সম্মাননা দেয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত হয়।
এআইপিগণ সিআইপিদের মতো সুযোগ-সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে-
মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রশংসাপত্র, বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রবেশের জন্য প্রবেশ পাশ, বিভিন্ন
জাতীয় অনুষ্ঠানে নাগরিক সংবর্ধনায় আমন্ত্রণ, বিমান, রেল, সড়ক ও জলপথে ভ্রমণকালীন সরকার
পরিচালিত গণপরিবহনে আসন সংরক্ষণ অগ্রাধিকার, ব্যবসা/দাফতরিক কাজে বিদেশে ভ্রমণের জন্য
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভিসা প্রাপ্তির নিমিত্ত সংশ্লিষ্ট দূতাবাসকে উদ্দেশ্য করে
Letter of Introduction ইস্যু করবে, নিজের ও পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার জন্য সরকারি
হাসপাতালের কেবিন সুবিধা প্রাপ্তিতে অগ্রাধিকার এবং বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার
সুবিধা পাবেন।
মতিন সৈকত একজন বহুমুখী সৃজনশীল
উদ্ভাবক-উদ্যোক্তা। সৃজনশীল কাজের স্বীকৃতি
স্বরূপ তিনি ১৯৮৭ সালে মহামান্য রাষ্ট্রপতির
অভিনন্দন পত্র পেয়েছেন। পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি উদ্ভাবন ব্যাবহার এবং সম্প্রসারণে
অসাধারণ অবদানের জন্য ২০১০ এবং ২০১৭ সালে মাননীয়
প্রধানমন্ত্রী মতিন সৈকত-কে দুইবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক এবং পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে ব্যাক্তিগত ক্যাটাগরিতে
২০২১ সালে জাতীয় পরিবেশ পদক প্রদান করেন।
পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে
মতিন সৈকত ছয়বার সরকারিভাবে চট্টগ্রাম বিভাগে শীর্ষ স্থান অর্জন করেন। বিষমুক্ত ফসল,
নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে মতিন সৈকত নিরন্তর সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন।
বেকারত্ব দূরীকরণ, কর্মসংস্থান
সৃষ্টিতে সমবায় ভিত্তিতে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে মতিন সৈকত সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে গড়ে তুলেন
আপুসি, আপুবি, বিসমিল্লাহ, আদমপুর আদর্শ মৎস্য চাষ প্রকল্প।
প্লাবন ভূমিতে মৎস্য চাষে
দাউদকান্দি মডেল এবং নিরাপদ খাদ্য উপজেলা দাউদকান্দি মডেলের অন্যতম অংশীজন তিনি। সারাদেশে
বোরোধান উৎপাদন করতে সেচের পানির জন্য কৃষককে যখন ১২০০ থেকে ২০০০ টাকা বিঘাপ্রতি সেচ
খরচ দিতে হয়। সেখানে মতিন সৈকত বিঘাপ্রতি এককালীন
মৌসুমব্যাপী মাত্র দুইশ টাকার বিনিময়ে ত্রিশ বছর যাবত বোরোধান লাগানো থেকে পাকা ধান
কাটা পর্যন্ত যার যতোবার সেচের পানির প্রয়োজন ততোবারই সেচের পানি সরবরাহ করে জাতীয়
দৃষ্টান্ত স্হাপন করেন।
বোরোধানের জমিতে ধান উৎপাদনের
পাশাপাশি মৎস্য চাষ করে বিঘাপ্রতি ১০/ ১৫ হাজার
টাকা মুনাফা পাচ্ছেন কৃষক। মতিন সৈকতের দীর্ঘ আন্দোলনের ফলে সরকার কালাডুমুর নদী পূনঃখনন
করে দিয়েছেন।
এছাড়া মতিন সৈকত খাল-নদী
পূনঃখনন জলাভূমি সংরক্ষণ, বন্যপ্রাণী, পাখি
প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কাজ করছেন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা
হয় -
তিনি নিজ এলাকা দাউদকান্দি কুমিল্লায় ২০০৬ সালে ১০,০০০ কৃষক নিয়ে আইপিএম-আইসিএম
ক্লাব গঠন করেন। তার এ উদ্যোগের ফলে ২০১৭ বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) দাউদকান্দি
উপজেলাকে বিষমুক্ত নিরাপদ খাদ্য উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করে। তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ
তিনি ২০১০ ও ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধু কৃষি পদক এবং ২০২১ সালে জাতীয় পরিবেশ পদক পেয়েছেন।
মন্তব্য করুন


সাতক্ষীরায় সেনাবাহিনীর এক অভিযানে বিপুল মাদক, নগদ টাকা ও দেশীয় অস্ত্রসহ মাদক ব্যবসায়ী ইয়াসিন আরাফাতসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানটি বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সদর উপজেলার পলাশপোল এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন—মো. ইয়াসিন আরাফাত (২৫), মো. রাকিব হোসেন (২০) ও মো. মুরাদ হোসেন (২০)। ইয়াসিন আরাফাত পলাশপোল গ্রামের মো. আমিনুল সরদারের ছেলে। রাকিব হোসেন ও মুরাদ হোসেন কামালনগর গ্রামের বাসিন্দা।
অভিযানে তাদের কাছ থেকে ৪২০ পিস ইয়াবা, মাদক বিক্রির নগদ ৪ লাখ ১৫ হাজার ২৩০ টাকা, ৬টি দেশীয় অস্ত্র, ১৫টি লাঠি ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর সূত্র জানায়, ইয়াসিন আরাফাত সাতক্ষীরার একজন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত এবং তার বিরুদ্ধে মাদক চোরাচালান ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেপ্তাররা এসব অস্ত্র ও লাঠি ব্যবহার করে এলাকায় বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করছিল। তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর সাতক্ষীরা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও মাদকদমন অভিযানের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন


নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখ নির্বাচন আয়োজনে সশস্ত্র বাহিনীর
সদস্যদেরকে দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
আজ শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সশস্ত্র বাহিনী দিবস ২০২৫
উপলক্ষে সেনাকুঞ্জে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তোরণে
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। একটি নির্বিঘ্ন
ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সাথে
দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।’
প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে মহান মুক্তিযুদ্ধের
সকল শহীদ, যুদ্ধাহত এবং অন্যান্য বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ করেন এবং ২০২৪ এর জুলাই-আগস্ট
মাসে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সকল শহীদ, আহত এবং অংশগ্রহণকারী সর্বস্তরের জনগণের প্রতিও
শ্রদ্ধা জানান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর জন্ম ১৯৭১ সালে
রণক্ষেত্রে। সেসময় ২১ নভেম্বর সেনাবাহিনীর সাথে নৌ ও বিমান বাহিনী সম্মিলিতভাবে পাকিস্তানি
বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়েছিল বলে ২১ নভেম্বরকে মুক্তিযুদ্ধের একটি মাইলফলক হিসেবে গৌরবের
সাথে পালন করা হয়। তবে মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর সংগ্রামের সূচনা ঘটে ২৫শে মার্চের
রাত থেকেই। আমরা যদি বিজয় অর্জন না করতাম তাহলে এই বীর সেনাদের মৃত্যুদন্ড ছিল অনিবার্য,
অসহনীয় হয়ে যেত তাঁদের পরিবারের সকল সদস্যের জীবন।
ড. ইউনূস আরও বলেন, মুক্তিকামী সেনা, নৌ ও বিমান
বাহিনীর অকুতোভয় বীর সেনানীরা জীবনের পরোয়া না করে, পরিবারের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা
না করে এদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। তারাই এদেশের আপামর জনসাধারণকে সাহস
জুগিয়েছেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জল-স্থল ও আকাশপথে সম্মিলিতভাবে
প্রতিরোধ গড়ে তুলে দেশমাতৃকাকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করে এনেছেন। যুদ্ধ বেগবান
ও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে তখন বাংলাদেশ ফোর্সেস গঠন করা হয়েছিল। যার অধীনে ১১টি সেক্টরে
দেশের বিভিন্ন অংশ থেকে আসা মুক্তিযোদ্ধাদের সামরিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি গেরিলা প্রশিক্ষণ
দেওয়া হয়।
এরই চূড়ান্ত রূপ আমরা দেখি ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর
সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর সম্মিলিত অভিযানে। পাকিস্তানি সৈন্যদের বিরুদ্ধে
এই যৌথ অভিযানই ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের চুড়ান্ত বিজয়
এনে দিয়েছিল।
তিনি উল্লেখ করেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র
বাহিনীর অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
ড. ইউনূস বলেন, দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষাসহ
জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলায় সশস্ত্র বাহিনী সবসময় জনগণের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছে এবং
২০২৪ এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ও চলমান দেশ পুনর্গঠনের কাজে সশস্ত্র বাহিনী মানুষের
পাশে দাঁড়িয়ে আস্থার প্রতিদান দিয়েছে। তিনি গণতান্ত্রিক এবং সাংবিধানিক নেতৃত্বের প্রতি
অনুগত থেকে বাহিনীর পেশাগত দক্ষতা ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে এই ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন থাকবে
বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, একটি শান্তি প্রিয় জাতি হিসেবে আমরা সকল
বন্ধু রাষ্ট্রের সাথে সম্মানজনক সহাবস্থানে বিশ্বাসী। তথাপি, যেকোন আগ্রাসী বহিঃশত্রুর
আক্রমন থেকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য আমাদেরকে সদা প্রস্তুত এবং সংকল্পবদ্ধ থাকতে
হবে। এ লক্ষ্যে আমাদের সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন, উন্নত প্রশিক্ষণ এবং উন্নত
বিশে¡র সাথে তাল মিলিয়ে বাহিনীগুলোতে যুগোপযোগী প্রযুক্তি সংযোজনের প্রয়াস অব্যাহত
রয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, বিগত ৩৭ বছরে জাতিসংঘে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা ৪৩ টি দেশে ৬৩ টি মিশন সম্পন্ন করেছে এবং বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ১০টি মিশনে অংশগ্রহণকারী রয়েছে। তিনি বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীদের সাফল্যের জন্য সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা যাতে বিশ্বের চ্যালেঞ্জিং ও বিপদজনক অঞ্চল সমূহে সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারে সেজন্য তাদের সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রাপ্তির চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।
(সূত্র- বাসস)
মন্তব্য করুন


ময়মনসিংহে এজাহারভুক্ত
আসামিকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসার সময় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে আসামিপক্ষ। এ সময়
পুলিশের হাত থেকে হাতকড়াসহ আরিফুল ইসলাম নামের এক আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে তার সহযোগীরা।
গত মঙ্গলবার
বিকেল ৪টার দিকে নগরীর দিগারকান্দা ফিশারি মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় পাঁচ পুলিশ
সদস্য আহত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
এ ঘটনায় নেতৃত্ব
থাকা আসামির পিতা সাগর আলীকে আটক করেছে পুলিশ।
কোতোয়ালি মডেল
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুস সাকিব বলেন, ‘কয়েক দিন আগে স্থানীয় রাসেল
নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে আরিফুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা। রাসেল
বর্তমানে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। এই ঘটনায় কোতোয়ালি
মডেল থানায় একটি মামলা করা হয়।
তিনি জানান,
মঙ্গলবার বিকেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফরিদ আহমদের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি
পুলিশ দল দিগারকান্দা এলাকায় যায়। এরপর পুলিশ এজাহারভুক্ত আসামি আরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার
করে। তাকে নিয়ে আসার সময় আরিফুলের পিতা সাগর আলীর নেতৃত্বে লোকজন লাঠিসোঁটা ও দেশীয়
অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের এলোপাতাড়ি কুপিয়ে
ও পিটিয়ে জখম করে আরিফুলকে হাতকড়াসহ ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা।
হামলায় আহত
এক এএসআই ও তিন কনস্টেবলসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের ময়মনসিংহ মেডিক্যাল
কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একজন হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
ওসি মো. নাজমুস
সাকিব বলেন, কর্তব্যরত পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত
গুরুতর। আসামির পিতাকে আটক করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
মন্তব্য করুন


মজিবুর রহমান পাবেল, প্রতিবেদক:
হাসপাতালের প্যাথলজিতে মেয়াদোত্তীর্ণ রিএজেন্ট দিয়ে করা হচ্ছে পরীক্ষা, মূল্যে তালিকা থেকে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে কাটা হচ্ছে রিসিট। কুমিল্লার এমন দুই হাসপাতালকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা এবং সতর্ক করেন কুমিল্লা ভোক্তা অধিদপ্তর । রবিবার (১১ জানুয়ারি) অভিযান চালিয়ে দুই হাসপাতালকে জরিমানাসহ সতর্ক করা হয় ।
জরিমানা করা দুই হাসপাতাল কুমিল্লা নগরের লাকসাম রোড এলাকার সততা স্পেশালাইজড হাসপাতাল ও কুমিল্লা আলিফ হাসপাতাল।
জেলার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. রেজা মোহাম্মদ সারোয়ার আকবর বলেন, এমন নোংরা পরিবেশে কিভাবে চিকিৎসাকরা সেবা দেন তাও প্রশ্নবিদ্ধ। এমন হাসপাতালের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য বিভাগের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
কুমিল্লা জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ কাউছার মিয়া জানান, আজকে আমাদের নিয়মিত অভিযান বাজার মনিটরিং অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে, কুমিল্লার দু'টি হাসপাতালে অভি্যান পরিচালনা করি। এখানে আমরা বেশ কিছু অনিয়ম পেয়েছি তার মধ্যে সেবার মূল্য তালিকার সাথে কাটা রিসিটের মিল নেই,প্যাথলজিতে মেয়াদোত্তীর্ণ রিএজেন্ট থাকায় সততা স্পেশালাইজড হাসপাতালকে ৫০ হাজার টাকা এবং কুমিল্লা আলিফ হাসপাতালে মূল্য তালিকার সাথে কাটা রিসিটের টাকার পরিমাণ মিল না থাকায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা প্রধান করি৷ জনস্বার্থে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন দিনের শোক কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্তের কথা মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।শোক পালন উপলক্ষে মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম—ক্লাস ও পরীক্ষা—স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে এই সময়কালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনগুলোতে জাতীয় পতাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রীয় শোক কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে বলেও জানানো হয়।বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন ও জাতীয় পর্যায়ে তার অবদান স্মরণ করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ একাডেমিক সেমিনার এবং স্মরণসভা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।শোক কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামিআসহ বিভিন্ন হল, হোস্টেল ও আবাসিক এলাকার মসজিদে মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনায় কোরআনখানি, দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়েও তার আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।বুধবার বাদ জোহর রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থার আয়োজন করা হয়েছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নির্দিষ্ট রুটে পর্যাপ্ত সংখ্যক বাস জানাজাস্থলের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে।এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন এবং এই কঠিন সময়ে সবাইকে ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন


ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
বলেছেন, এ দেশ আমাদের সকলের। দেশের ভাবমূর্তি রক্ষা ও উজ্জ্বল করার দায়িত্বও সকল ধর্মের
মানুষের।
আজ (১০ অক্টোবর) বিকেলে শারদীয় দুর্গাপূজা
উপলক্ষে রাজধানীর বনানী পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সমবেত ভক্ত ও পূজারিদের উদ্দেশে শুভেচ্ছা
বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।
ধর্ম উপদেষ্টা খালিদ হোসেন বলেন, আমরা
একটি পরিবারের মতো। আমাদের সকলের সাংবিধানিক অধিকার সমান। দেশের ভাবমূর্তি যাতে নষ্ট
না হয় সেবিষয়ে আমাদেরকে সতর্ক ও দায়িত্বশীল হতে হবে। শারদীয় দুর্গোৎসব নির্বিঘ্ন করতে
সকল ধরনের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় পুলিশ,
আনসার-ভিডিপি, সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ধর্ম
বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করা হয়েছে। কোন দুর্বৃত্ত পূজামণ্ডপে হামলা
কিংবা প্রতিমা ভাংচুর করতে আসলে তাদেরকে আটক করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে সোপর্দ করতে
হবে। সরকার প্রচলিত আইনে এই দুর্বৃত্তদের সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান করবে। আমাদের অন্তর
সংকীর্ণ। আমরা সকলেই প্রচন্ড রকম আত্মকেন্দ্রিক। আমরা অন্যদেরকে আমাদের অন্তরে স্থান
দিতে পারিনা। আমাদের অন্তরকে বড় এবং দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রসারিত করতে হবে। আমাদের পারস্পরিক
সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বাড়াতে হবে। আগের সরকারগুলো দুর্গাপূজাতে পূজামণ্ডপগুলোতে সহযোগিতা
করার জন্য সাধারণত দুইকোটি টাকা বরাদ্দ দিতো।
কিন্তু বর্তমান সরকার এবছর চার কোটি টাকা বরাদ্দ
দিয়েছেন। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে ধর্মীয়
ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপন করতে পারে সেবিষয়ে
সরকার সম্ভাব্য সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ বহু ধর্ম ও গোত্রের মানুষের সমন্বয়ে
একটি বৈচিত্র্যময় দেশ। একটি বাগানে নানা প্রজাতির ফুল থাকলে বাগানটি যেমন দৃষ্টিনন্দন
ও বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠে। বাংলাদেশও ঠিক মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, জৈন ও ক্ষুদ্র
নৃগোষ্ঠীর সম্মিলনে বৈচিত্র্যময়। আমরা এই সৌন্দর্যকে লালন করতে চাই। আমরা পারস্পরিক
সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতিকে দৃঢ় করতে চাই। সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা স্বাধীনতা
অর্জন করেছি। আমাদের সকলের অধিকার সমান। ধর্মচর্চা, ধর্ম পালন ও ধর্ম অনুশীলন আমাদের
সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকার সমুন্নত রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর।
এসময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা
বিভাগের সিনিয়র সচিব ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন,
ধর্মসচিব মু.আ. হামিদ জমাদ্দার, গুলশান বনানী পূজা ফাউন্ডেশনে সাধারণ সম্পাদক
অসীম কুমার জোয়ার্দারসহ পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি ;
কুমিল্লার চান্দিনায় ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি শাখায় অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। আজ বুধবার সকাল পৌঁনে ৮টায় উপজেলা সদরের মধ্য বাজার জয়নাল সুপার মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় ব্র্যাক ব্যাংকের সার্ভার কক্ষ থেকে ওই অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত ঘটে। এতে দিন ব্যাপী গ্রাহক সেবা বন্ধ।
এতে আইটি শাখার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ, বৈদুতিক তার ক্ষতিগ্রস্থ হলেও অন্যান্য কক্ষ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ব্যাংকের লকার অক্ষত রয়েছে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান- ব্যাংক খোলার আগে কর্তব্যরত নিরাপত্তা প্রহরী হঠাৎ ব্যাংকের ভিতরে আগুনের সূত্রপাত টের পেয়ে কর্মকর্তাদের ও ফায়ার সার্ভিসে ফোন করেন। খবর পেয়ে ব্যাংক কর্মকর্তারা এসে ব্যাংক খোলেন এবং সকাল সোয়া ৮টা থেকে চান্দিনা ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় চার ঘন্টা চেষ্টার পর আগুন নির্বাপন হয়।
ব্যাংকটির ম্যানেজার মো. রফিকুল ইসলাম খাঁন জানান- আমাদের ব্যাংকের সার্ভার কক্ষে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। ওই কক্ষে থাকা বৈদ্যুতিক তাঁর সহ যন্ত্রাংশগুলো পুরে প্রচন্ড ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। তাৎক্ষনিক ভাবে ফায়ার সার্ভিস ও পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। খুব কম সময়ের মধ্যে আগুন নির্বাপন করা সম্ভব হলেও ধোঁয়া বের করতে অন্তত চার ঘন্টা সময় লাগে। এতে ওই সার্ভার কক্ষের কিছু যন্ত্রাংশ ও বৈদ্যুতিক তার নষ্ট হলেও বড় ধরণের ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছি। অগ্নিকান্ডের ফলে ব্যাংকের সকল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।
চান্দিনা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার ইমাম হোসেন পাটোয়ারী জানান- প্রাথমিক ভাবে বৈদ্যুতিক সক সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে অগ্নিকান্ডের মূল ঘটনা, ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।
মন্তব্য করুন