

ঘুমানোর
ভান করে উড়োজাহাজে নারী সহযাত্রীর গায়ে বারবার হাত রাখছিলেন ভারতীয় এক যাত্রী। তারপর
যৌন হয়রানির অভিযোগে যেতে হলো আদালতে। যুক্তরাষ্ট্রের এক অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে এ ঘটনায়
ঘটেছে।
ওই
ভারতীয় নাগরিকের নাম বরুণ অরোরা (৩৮)। এ মামলায় ভার্জিনিয়ায় একটি আদালতে দোষী সাব্যস্ত
হয়েছেন তিনি। তার সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড হতে পারে বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানা
গেছে।
মার্কিন
অ্যাটর্নি অফিসের দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট।
সেদিন রোড আইল্যান্ড থেকে ওয়াশিংটনগামী একটি ফ্লাইটে ভ্রমণ করছিলেন অরোরা।
আদালতের
নথিপত্র অনুযায়ী, অরোরার পাশের আসনে বসা ওই নারী যাত্রী উড়োজাহাজ অবতরণের ঠিক আগমুহূর্তে
ঘুম থেকে ওঠার পর বুঝতে পারেন, অরোরা তাঁকে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করছেন।
বিবৃতিতে
বলা হয়, ‘ঘুমের মাস্ক পরা অরোরা ঘুমানোর ভান করেন এবং ভুক্তভোগী বারবার তার হাত সরিয়ে
দেওয়ার পরও তিনি হাত সরাননি।’
মামলাটির
তদন্ত করে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)-এর ওয়াশিংটন ফিল্ড অফিস। রাষ্ট্রপক্ষে
মামলা পরিচালনা করেন বিশেষ সহকারী মার্কিন অ্যাটর্নি ম্যাডিসন মুমা এবং সহকারী মার্কিন
অ্যাটর্নি রাসেল এল কার্লবার্গ।
অ্যাটর্নি
অফিস আরও জানায়, ভারতীয় নাগরিক অরোরা বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন।
তাকে ২৯ জানুয়ারি ফ্লাইটে অবস্থানকালে আপত্তিকর আচরণ ও হেনস্থার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত
করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দণ্ড নির্দেশিকা ও অন্যান্য আইনি বিবেচনা মাথায় রেখে আগামী
৭ মে ফেডারেল জেলা আদালতের একজন বিচারক তার সাজা নির্ধারণ করবেন।
এ
ধরনের আরেক ঘটনায়, গত বছরের নভেম্বরে যুক্তরাজ্যে ৩৪ বছর বয়সী এক ভারতীয় নাগরিককে ২১
মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। জাভেদ ইনামদার নামে ওই ব্যক্তি ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে
১২ বছর বয়সী এক কিশোরীকে যৌন নিপীড়নের দায়ে দণ্ডিত হন। ২০২৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর মুম্বাই
থেকে লন্ডনগামী ওই ফ্লাইটে ঘটনাটি ঘটে।
মন্তব্য করুন


তিনটি
কবর খোঁড়া হয়েছিলো পাশাপাশি। প্রথমে নামানো হয় সুমন মণ্ডলের
মরদেহটি (২৫)। পরে
তাঁর ছোট ভাই রিমন
মণ্ডলের (১৪) লাশ নামানো
হয়। সর্বশেষ নামানো হয় চাচাতো ভাই
আশিক মোল্লার (২২) মরদেহ।
এই হৃদয়বিদারক দৃশ্যটি
রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে দেখা যায়
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে। উপজেলার সদকী ইউনিয়নের দুধরাজপুর-মহম্মদপুর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তিন ভাইয়ের দাফনের
সময় স্বজনের কান্না-আহাজারিতে শোকাহত হয়ে পড়েন কয়েকটি
গ্রামের মানুষ।
আগের
রাতে তিনজনের মৃত্যু হয় ফরিদপুরের ভাঙ্গায়
মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায়। সুমন
ও রিমন বোনের শাশুড়ির
জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য
ঢাকা থেকে ফিরছিলেন চাচাতো
ভাই আশিকের মোটরসাইকেলে করে। শনিবার রাত
একটার দিকে ফরিদপুর-ভাঙ্গা-বরিশাল মহাসড়কের হামিরদী ইউনিয়নের মাধবপুর কবরস্থানের সামনে তারা দুর্ঘটনার শিকার
হন।
সুমন
ও রিমন মহম্মদপুর গ্রামের
কৃষক করিম মণ্ডলের ছেলে।
করিম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘বোনের শাশুড়ির মরদেত দেখতে এক মোটরসাইকেলে আসতেছিল
ওরা। রাস্তা খুব ভাঙা ছিল।
পথে তিনজনই গাড়ি থেকে রাস্তায়
পড়ে যায়। তখন আরেকটা
গাড়ি এসে ওদের চাপা
দিলে তারা মারা যায়।
আমাদের কোনো অভিযোগ নেই।
কোনো মামলা করা হবে না।’
একই
গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা আক্কাস আলীর (৮৫) ভাষ্য, একসঙ্গে
এতো লাশ দাফনের ঘটনা
দেখেননি। সবাই সবাই মর্মাহত।
গ্রামে শোকের মাতম চলছে।
সুমন
ঢাকায় আসবাবপত্র তৈরির কারিগর হিসেবে কাজ করেন। তাঁর
সঙ্গে থেকে কাজ শিখছিলো
ছোট ভাই রিমন। সুমনের
বাবা করিম মণ্ডলের চাচাতো
ভাই শাহিন মোল্লার ছেলে আশিক মোল্লা।
ঢাকায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির পাশাপাশি ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালাতেন তিনি। সুমনের বোন শেফালির শাশুড়ি
শনিবার মারা যান। তাঁর
জানাজায় অংশ নিতে আসার
পথেই দুর্ঘটনা কেড়ে নেয় তাদের
প্রাণ।
ভাঙ্গা
হাইওয়ে থানার ওসি হেলাল উদ্দিনের
ভাষ্য, পুলিশ কোন যানবাহনের ধাক্কায়
দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তা শনাক্তে কাজ
করছে। রোববার সকালে তিনজনের মরদেহ স্বজনের কাছে বুঝিয়ে দেন।
এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
রোববার
ভোরের আলো ফোটার আগেই
একাধিক মসজিদের মাইকে মহম্মদপুর গ্রামের তিন কিশোর-যুবকের
মৃত্যুর সংবাদ প্রচারিত হয়। এতে গ্রামজুড়ে
শোকের ছায়া নেমে আসে।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিহত তিনজনের বাড়ির
পথে শোকার্ত মানুষের ঢল নামে। বেলা
সোয়া ১২টার দিকে ফরিদপুর থেকে
লাশবাহী গাড়ি এসে পৌঁছায়
মহম্মদপুরে। সন্তানহারা মা ও স্বজনের
আর্তনাদে ভারী হয়ে ওঠে
আকাশ।
আশিকের
বাড়িতে বিপুল পরিমাণ মানুষের ভিড় দেখা গেছে।
সেখানে আহাজারি করছিলেন মা শিউলি খাতুন,
বোনসহ অন্য স্বজনরা। শিউলি
খাতুন বিলাপ করতে করতে বলেন,
‘আমি কি জানি বেটা
ওর সাথেই আসতেছে গো? আমি কিছুই
জানিনে গো! ওরে সোনা,
কিছুই বলে গেলো না
গো।
মন্তব্য করুন


লাখো মানুষের অংশগ্রহণে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির নামাজে জানাজা। জানাজা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবর সংলগ্ন স্থানে তাকে দাফন করা হয়।এই উপলক্ষে প্রয়াত হাদিকে স্মরণ করে আবেগঘন এক স্ট্যাটাস দিয়েছেন জনপ্রিয় ইসলামিক বক্তা মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্টটি প্রকাশ করেন।পোস্টে আজহারী উল্লেখ করেন, শহীদ ওসমান হাদির বিদায় ছিল এক অনন্য ও গৌরবময় অধ্যায়। তিনি লেখেন, ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে দৃঢ় কণ্ঠ হয়ে হাদি খুব অল্প সময়েই মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন এবং ধূমকেতুর মতো আবির্ভূত হয়ে তিনি রবের সান্নিধ্যে ফিরে গেছেন। তার মতে, আসমানেও হয়তো এই বিদায়ের চেয়েও মহিমান্বিত সংবর্ধনার প্রস্তুতি চলছে।তিনি আরও বলেন, এক জুমার পর গুলিবিদ্ধ হয়ে পরের জুমার রাতেই শাহাদাতের মর্যাদা লাভ করা এবং অগণিত মানুষের দুআ ও অশ্রুসিক্ত ভালোবাসা পাওয়া—এটি নিঃসন্দেহে এক বিরল সৌভাগ্য।স্ট্যাটাসের শেষাংশে আজহারী লেখেন, হাদির মতো দেশপ্রেমিক, আধিপত্যবাদবিরোধী এবং ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী তরুণরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়বে। শহীদের রক্ত কখনোই বৃথা যায় না—এই বিশ্বাস ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ওসমান হাদি মানুষের ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণার মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবেন এবং প্রজন্মের পর প্রজন্মকে সাহস জোগাবেন।উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগকালে চলন্ত একটি মোটরসাইকেল থেকে গুলিবিদ্ধ হন শরিফ ওসমান হাদি। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরবর্তীতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি ইন্তেকাল করেন।
মন্তব্য করুন


আজ (১৪ নভেম্বর ২০২৪) জাহানাবাদ সেনানিবাসস্থ এএসসি সেন্টার এন্ড স্কুল এ আর্মি সার্ভিস কোরের ৪৩তম বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলন ২০২৪ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, ওএসপি, এসজিপি, পিএসসি। সেনাবাহিনী প্রধান এএসসি সেন্টার এন্ড স্কুল এ পৌছালে তাকে এএসসি কোরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ অভ্যর্থনা জানান।
সেনাবাহিনী প্রধান বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলনে উপস্থিত এএসসি কোরের অধিনায়ক ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন এবং এ কোরের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, গবেষণা, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন। একই সাথে তিনি স্মরণ করেন মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী এএসসি কোরের বীর সেনানীসহ সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের। সেনাবাহিনী প্রধান এএসসি কোরের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য এবং দেশমাতৃকার সেবায় এই কোরের অবদানের কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে এএসসি কোরের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং কোরের প্রতিটি সদস্যকে অভিনন্দন জানান। এছাড়াও, তিনি আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সদা প্রস্তুত থাকতে এই কোরের সকল সদস্যের প্রতি আহ্বান জানান।
উক্ত অনুষ্ঠানে সেনাসদরের ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাগণ, সদর দপ্তর আর্মি ট্রেনিং এন্ড ডকট্রিন কমান্ড এর কর্মকর্তাগণ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সকল এএসসি ইউনিটসমূহের অধিনায়কগণ এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


আজ (৫ ফেব্রুয়ারি) অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন দুই সংস্কার কমিশনের প্রধান।
কমিশনগুলো হলো: জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন ও বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন।
দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিচারবিভাগ সংস্কার কমিশনের প্রধান শাহ আবু নাঈম মমিনুর রহমান ও জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন।
গতকাল (মঙ্গলবার) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী জানিয়েছিলেন, আমাদের রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা ছিল গত মাসে। কিন্তু আমরা আমাদের কাজের কারণে পারিনি। কারণ আমরা মাঠে গিয়েছি, লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছি। বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় গিয়ে আমরা কথা বলেছি, অনলাইনে আমরা মতামত নিয়েছি। প্রতিবেদনে ১০০টির বেশি সুপারিশ থাকছে।
গত ৩ অক্টোবর ৮ সদস্যের জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করে সরকার। পরে কমিশনের সদস্য সংখ্যা আরও তিনজন বাড়ানো হয়। ৩ মাসের মধ্যে প্রস্তুত করা প্রতিবেদন হস্তান্তর করতে বলা হয়। এরপর তিন দফা বাড়িয়ে কমিশনের মেয়াদ ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু কাজ শেষ হয়ে যাওয়ায় বেঁধে দেওয়া বর্ধিত সময়ের ১০ দিন আগেই প্রতিবেদনটি জমা দেওয়া হলো। আর বিচার বিভাগকে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার প্রস্তাব করার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদনক্রমে বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন গঠন করা হয় ৩ অক্টোবর।
মন্তব্য করুন


প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেছেন, দেশের বিচার ব্যবস্থার মূল সমস্যা ৪ মিলিয়ন মামলার ভার। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আমরা রাউন্ড-ব্রেকিং টেকনোলজিকাল ইনোভেশন সিস্টেমের উপর ফোকাস করছি এবং মামলা নিষ্পত্তির জটিলতাগুলো সমাধানের চেষ্টা করছি।
সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট কর্তৃক ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স
অন জুডিশিয়ারি এক্রোস দ্যা বর্ডার্স (21st Century Challenges and
Experiences from the Himalayas and Beyond) শীর্ষক দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক
সম্মেলন হয়েছে ।
আন্তর্জাতিক সম্মেলনটির প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন
প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। তিনি এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।
সম্মেলনটির দ্বিতীয় দিনের প্রথম অধিবেশনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভুটানের হাইকোর্টের বিচারপতি লোবজাং রিনজিন ইয়ার্গে।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তৃতা করেন- আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন।
প্রধান বিচারপতি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে ভুটান ও নেপাল বাংলাদেশকে স্বাধীনতার স্বীকৃতিদানের ইতিহাস কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন এবং পিপলস জুডিসিয়ারি সম্পর্কে বলেন, পিপলস জুডিসিয়ারি ধারণাটি এমন একটি ধারণা, যা সংখ্যালঘুসহ সকল নাগরিকের সমান প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে এবং সংবিধান অনুযায়ী তাদের অধিকারগুলো রক্ষা করে।
প্রধান বিচারপতি বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার মূল সমস্যা উল্লেখ করে- তা থেকে উত্তরণের উপায় ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, বাংলাদেশের আদালত আজকে ৪ মিলিয়ন মামলার ভারে জর্জরিত। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আমরা রাউন্ড-ব্রেকিং টেকনোলজিকাল ইনোভেশন সিস্টেমের উপর ফোকাস করছি এবং মামলা নিষ্পত্তির জটিলতাগুলো সমাধানের চেষ্টা করছি।
প্রধান বিচারপতি বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা আধুনিকায়নে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। কক্সবাজারে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠায় জমি বরাদ্দের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, এই অধিবেশন দক্ষিণ এশিয়ার বিচার ব্যবস্থার জন্য একটি অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম- যা নিজেদের মধ্যে সংলাপে অন্তর্ভুক্ত হওয়া, ক্রস বর্ডার
ঐক্য গড়ে তোলা ও বৃহত্তর সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করবে।
এছাড়া বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সম্পর্কে বলতে গিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান
সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী এবং তা বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।
তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন আর তাই দেশে আজ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
ভুটানের হাইকোর্টের বিচারপতি লোবজাং রিনজিন ইয়ার্গে বলেন, ব্যক্তির মানবাধিকার রক্ষায় আইনের শাসনের খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি শক্তিশালী গণতন্ত্রের মূলভিত্তি।
তিনি বলেন, দুটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি- কেউ আইনের উর্ধ্বে নয় এবং সকলেই আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী। এটা বাস্তবায়ন করা না হলে, আইন ন্যায়বিচারের পরিবর্তে অবিচারের উৎস হয়ে উঠে। তিনি তার বক্তৃতায় ভুটানের বিচার ব্যবস্থার অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির এরূপ সম্মেলনের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, এই সম্মেলনের ফলে এই অঞ্চলের বিচারব্যবস্থার চ্যালেঞ্জগুলো শেয়ার করার মাধ্যমে তা উত্তরণে সহায়ক হবে।
সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- আপিল বিভাগ ও হাইকোর্টের বিচারপতিগণ, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি,
এটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, এটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের কর্মকর্তাগণ, সুপ্রিমকোর্ট
বার নেতৃবৃন্দ, সিনিয়র আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রির কর্মকর্তাবৃন্দ।
মন্তব্য করুন


পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, ইটভাটাজনিত বায়ুদূষণ রোধে আর কোনো নতুন ইটভাটার ছাড়পত্র দেওয়া হবে না।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে পরিবেশ অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ ব্রিক ম্যানুফ্যাকচারিং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিবিএমওএ)-এর নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় পরিবেশ উপদেষ্টা তিনি আরো বলেন, পরিবেশগত ছাড়পত্রবিহীন ৩ হাজার ৪৯১টি ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধ করা হবে। অবৈধভাবে পার্বত্য এলাকায় নির্মিত সব ইটভাটা স্থানান্তর করা হবে।
সভায় পরিবেশবান্ধব ইট উৎপাদন, ইটভাটার আধুনিকায়ন এবং কার্বন নির্গমন কমানোর বিষয়ে ও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ইটভাটার পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, শুধু ভবন নির্মাণই যথেষ্ট নয়, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
সভায় তিনি আরও বলেন, বায়ুদূষণের কারণে মানুষের গড় আয়ু ৫-৭ বছর কমে যাচ্ছে। তাই, লাইসেন্স এবং ছাড়পত্র ছাড়া কোনো ইটভাটা পরিচালনা করা যাবে না।
পাশাপাশি তিনি পরিবেশ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান।
বিবিএমওএ-এর নেতৃবৃন্দ ইটভাটা শিল্পের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি গ্রহণের প্রস্তাব দেন। ইটভাটায় সবুজ প্রযুক্তির ব্যবহার উৎসাহিত করতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন এবং উপদেষ্টাকে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
সভায় পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব, পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ ব্রিক ম্যানুফ্যাকচারিং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ফিরোজ হায়দার খানসহ কেন্দ্রীয় এবং বিভিন্ন জেলা থেকে আগত নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
এর আগে, উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সভায় বিভিন্ন কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দিক-নির্দেশনা দেন।
মন্তব্য করুন


নিজেদের সংখ্যালঘু হিসেবে নয়, বরং মানুষ
হিসেবে এবং বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করে সাংবিধানিক অধিকার চাওয়ার আহ্বান
জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। একই সঙ্গে হিন্দু
সম্প্রদায়ের ওপর বিভিন্ন হামলার ঘটনায় দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার
প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী
মন্দিরে সনাতন ধর্মালম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস
এ আহ্বান জানান।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস
বলেন, এমন বাংলাদেশ আমরা করতে যাচ্ছি, যেখানে সবাই এক পরিবার। এটা হলো মূল জিনিস। এখানে
পরিবারের মধ্যে কোনো পার্থক্য করা, বিভেদ করা, এটার কোনো প্রশ্নই আসে না। আমরা মুসলমান,
হিন্দু, বৌদ্ধ হিসেবে বিবেচিত নই; মানুষ হিসেবে বিবেচিত। আমাদের অধিকারগুলো নিশ্চিত
হোক। আপনারা যদি টেনে টেনে নিয়ে আসেন আমি ওমুক, আমি তমুক, এটা আবার পুরোনো জায়গায় চলে
গেলো। আপনারা বলেন যে আমি মানুষ, আমি বাংলাদেশের মানুষ, আমার সাংবিধানিক অধিকার এই,
আমাকে দিতে হবে। সব সরকারের কাছে এটাই চাইবেন। সব সমস্যার গোড়া হলো আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো
পচে গেছে। এ কারণেই এসব গোলমাল হচ্ছে। আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঠিক করতে হবে। ন্যায়বিচার
হলে কে বিচার পাবে না আমাকে বলেন। কোন ধর্মের, কোন জাতের, আইনে কি বলা আছে যে মুসলমান
সম্প্রদায় হলে এই আদালতে হবে, হিন্দু হলে ওই আদালতে যাবে। সবার জন্য আইন একটা, কার
সাধ্য আছে সেখানে বিভেদ করে যে এ রকম একটা, ওই রকম একটা। এটা এমন রোগ, মূলে যেতে হবে।
আপনারা যদি বলেন আমাদের সংখ্যালঘুরা, এটা বললে মূল সমস্যা থেকে আমরা দূরে সরে যাচ্ছি।
আমাদের বলতে হবে আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সেটা পেলে বাকস্বাধীনতা
প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আমাদের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এটিই হলো আমাদের মূল লক্ষ্য।
সনির্বন্ধ অনুরোধ আপনারা বিভিন্ন খোপের (বিভেদ) মধ্যে চলে যাইয়েন না। এই খোপ হলে, খোপের
মধ্যে মারামারি-কাটাকাটি লেগে যাবে। এক হয়ে আসেন। এক আইন, আমাদের আইনি অধিকার দিতে
হবে। বলেন, আপনারা আইনি অধিকার পান না, বিচার হয় না। এটাই হলো আসল জিনিস। বিচারব্যবস্থা
আমাদের দিকে তাকায় না, পুলিশ আমাদের দিকে তাকায় না। কারণ, আমি অধিকারটা … করতে পারি
নাই। আমাদের নীতিটা আমরা প্রতিষ্ঠা করতে পারি নাই। খোপ খোপ করতে আরম্ভ করবেন, তারাও
মজা পেয়ে যাবে। ওই মজার খেলাতে আমাদের আর নিয়ে যাইয়েন না। আমরা এসেছি, আমরা এক মানুষ,
আমাদের এক অধিকার। এর মধ্যে কোনো পার্থক্য করা যাবে না। একটু সহযোগিতা করেন আমাদের,
একটু ধৈর্য্য ধরেন। কী করতে পারলাম, কী পারলাম না সেটা পরে বিচার কইরেন। যদি না পারি
আমাদের দোষ দেবেন।
এর আগে সনাতন ধর্মের ধর্মীয় নেতারা
বিভিন্ন সময় তাদের ওপর হামলার কথা তুলে ধরেন এবং অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধানের কাছে এসব
সমস্যার স্থায়ী প্রতিকার চান। ড. মুহাম্মদ ইউনূস অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করে ন্যায়
প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে তাদের আশ্বাস দেন।
মন্তব্য করুন


আজ ৭ জানুয়ারি (বুধবার) বিকাল ৩টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহেরের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল, সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ (সাবেক এমপি) এবং এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য জনাব মোবারক হোসাইন ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
নির্বাচন কমিশনের সাথে সাক্ষাৎ পরবর্তী এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের দলের কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিলের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে বলেন, এক দেশে দুই রকম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কিছু কিছু রিটার্নিং কর্মকর্তা। একই আইনে দুই রকম সিদ্ধান্ত, আমরা এটার প্রতিবাদ জানিয়েছি। তিনি উল্লেখ করেন, একই ঘটনায় দুইজনের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেছে, একই ধরনের ঘটনা একই কোর্ট একই মামলা, কিন্তু আমাদের সিনিয়র নেতা- হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এটা যে কারণে হয়েছে তা হলো- বিভিন্ন জায়গায় দলীয় ডিসি নিয়োগ করা হয়েছে এবং তারা দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখেছেন, আইনকে দেখেননি। আমরা বলেছি- এ ধরনের ডিসি, এসপি যারা আছে তাদের অপসারণ করতে হবে। নিরপেক্ষ ডিসি, এসপি সেখানে নিয়োগ করতে হবে, তা না হলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
তিনি বলেন, দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকার কারণে একটি দলের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বৈধ করা হলেও কুড়িগ্রাম-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহীর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। এটি আমরা কমিশনকে জানিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, আমরা বলেছি যে নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। অন্য একটা দলকে ব্যাপক প্রচারণার সুযোগ দিচ্ছে। বিটিভি নিরপেক্ষ হয়নি- আমার এমন প্রশ্নে তথ্য উপদেষ্টা নিজের অসহায়ত্বের কথা জানান। অনতিবিলম্বে সকল দলের প্রচারণায় সমান সুযোগ দেয়ার ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছি আমরা।
রাজনৈতিক দল ও দলীয় প্রধানের প্রটেকশনে প্রটোকলের বিষয়ে বৈষম্যের কথা উল্লেখ করে ডা. তাহের বলেন, কোন কোন ব্যক্তিকে অনেক প্রটেকশন দেয়া হচ্ছে। আবার একই পর্যায়ের অন্য নেতাদেরকে সেরকম প্রটেকশন দেয়া হচ্ছে না। এখানে প্রটেকশন কাউকে বেশি দিবেন, কম দিবেন এটা আমাদের ইস্যু নয়। আমাদের ইস্যু হচ্ছে নির্বাচনের সময় একটা পাবলিক ইম্প্রেশনের প্রশ্ন আছে। এখন নির্বাচনের সময় এটা একটা ইস্যু, কারণ মানুষ দেখবে যে একজনকে অনেক প্রটোকল দেয়া হচ্ছে। তার প্রতি মানুষের ইম্প্রেশন হতে পারে। কারণ মানুষ বুঝবে সে ভবিষ্যৎ নেতা। যেটা লেভেল প্লেয়িংকে সাংঘাতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। একটা রঙ ম্যাসেজ জনগণকে দেয়ার চেষ্টা করছে।
আচরণবিধি লঙ্ঘণের বিষয়ে তিনি বলেন, একটি দলের পক্ষ থেকে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে। এটা সুস্পষ্টভাবে আচরণবিধির লঙ্ঘন। নির্বাচন কমিশন আমাদেরকে এ ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছেন।
তিনি আরও বলেন, ফেয়ার ইলেকশনের জন্য ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি থাকা দরকার। তারা নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছেন এবং আমাদের বলেছেন, এটা তারা ৯০ ভাগ কেন্দ্রে করবেন। আমরা চাচ্ছি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হোক। যদি আগামী নির্বাচনটি পাতানো নির্বাচন হয়, তাহলে বাংলাদেশ অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। দেশ আরও বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে চলে যাবে। একটি দল এটা করতে গিয়ে নির্বাসনে আছে।
মন্তব্য করুন


ইনকিলাব
মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত
মোটরসাইকেলচালক আলমগীরের সহযোগী ও আদাবর থানা যুবলীগ কর্মী হিমনকে গ্রেপ্তার করেছে
পুলিশ। এ সময় তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও বিপুল বিস্ফোরকদ্রব্য
উদ্ধার করা হয়।
আজ
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর আদাবরের একটি আবাসিক হোটেল থেকে তাকে গ্রেপ্তার
করা হয়।
বিষয়টি
কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার
(এডিসি) মো. জুয়েল রানা।
পুলিশ
সূত্র জানায়, হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত ফয়সাল ও আলমগীরের সঙ্গে হিমনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক
রয়েছে। প্রায় দুই মাস আগে তিনি দুবাই থেকে বাংলাদেশে ফেরেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে
প্রথমে আদাবরের রাজ্জাক হোটেল থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে
আদাবরের ১৭/বি এলাকার মেহেদীর বাসা থেকে পিস্তল, গুলি ও বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করা
হয়।
এডিসি
মো. জুয়েল রানা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে আদাবরের একটি আবাসিক
হোটেলে হিমন অবস্থান করছে। ওই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হিমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
গ্রেপ্তার হিমন হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত মোটরসাইকেলচালক আলমগীরের বন্ধু।
মন্তব্য করুন


মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে সেনাবাহিনীর কমিশন প্রাপ্ত কর্মকর্তারা নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন।
মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব এই প্রজ্ঞাপন জারি করেন।
ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ এর ১২(১) ধারা অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের এই ক্ষমতা দেওয়া হয়। এই ধারা অনুযায়ী সরকারকে মেট্রোপলিটনের বাইরে যে কোনো ব্যক্তিকে বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। পুলিশের ক্ষেত্রে সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার নিচে কাউকে দায়িত্ব প্রদান করা না গেলেও অন্যদের ক্ষেত্রে এ ব্যাপারে আইনে শর্ত আরোপ করা হয়নি।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭(১) ধারা অনুযায়ী ক্ষমতাপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা (সেনা কর্মকর্তা) সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের (জেলা প্রশাসক) তত্ত্বাবধানে কাজ করবেন।
গ্রেফতার, তল্লাশি ও বেআইনি সমাবেশ ভঙ্গের ক্ষমতা: প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা ফৌজদারি কার্যবিধির ৬৪, ৬৫, ৮৩, ৮৪, ৮৬, ৯৫(২), ১০০, ১০৫, ১০৭, ১০৯, ১১০, ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১৩০, ১৩৩ ও ১৪২ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন। এসব ধারা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা কাউকে আটক বা গ্রেফতার বা গ্রেফতারের আদেশ, তল্লাশির আদেশ ও বেআইনি সমাবেশ ভঙ্গের জন্য আদেশ দিতে পারবেন।
গ্রেফতার বা গ্রেফতারের আদেশ: ফৌজদারি কার্যবিধির ৬৪ ও ৬৫ ধারায় একজন ম্যাজিস্ট্রেট তার উপস্থিতিতে ও এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে কোনো অপরাধ করলে তিনি নিজে অপরাধীকে গ্রেফতার করতে পারবেন অথবা অন্য কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতারের আদেশ দিতে পারবেন। এছাড়া ৮৩ ও ৮৪ ধারা অনুযায়ী অধিক্ষেত্রের বাহিরে কার্যকরের জন্য পরোয়ানা জারি করতে পারবেন। আইনের ৮৬ ধারার বিধান মতে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দিতে পারবেন অথবা অপরাধ জামিনযোগ্য না হলে তাকে আদালতে পাঠাবেন।
তল্লশি সংক্রান্ত আদেশ: ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ৯৫(২) ধারার বিধানমতে তিনি জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশক্রমে ডাক বা টেলিগ্রাম বিভাগের দ্বারা তল্লাশি পরিচালনা করবার ও উক্ত দলিল, পার্সেল বা ব্যক্তি আটক করার ব্যবস্থা করতে পারবেন। ১০০ ধারার বিধানমতে কোনো ব্যক্তিকে বেআইনিভাবে আটক করার বিশ্বাসযোগ্য সংবাদ পেলে তল্লাশি পরোয়ানা জারি করতে পারবেন। ১০৫ ধারার বিধানমতে নিজ উপস্থিতিতেও ম্যাজিস্ট্রেট তল্লাশির আদেশ দিতে পারবেন।
শান্তিরক্ষায় মুচলেকা গ্রহণ: শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা থাকলে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭ ধারা অনুযায়ী শান্তি শান্তিরক্ষায় সদাচরণের মুচলেকা গ্রহণ করতে পারবেন। ১০৯ ধারার বিধানমতে অধিক্ষেত্রের মধ্যে ভবঘুরে ও সন্দেহভাজন ব্যক্তির কাছ থেকে মুচলেকা নিতে পারবেন। ১১০ ও ১২৬ ধারা অনুযায়ী অভ্যাসগত অপরাধীর কাছ থেকে জামিনদারসহ বা জামিনদার ছাড়াও শান্তিরক্ষায় মুচলেকা নিতে এবং প্রয়োজনে মুচলেকা বাতিল করতে পারবেন।
বেআইনি সমাবেশ ছত্রভঙ্গের আদেশ দান: ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৭ ধারা অনুযায়ী সর্বসাধারণের শান্তি বিনষ্ট হওয়ার কারণ হতে পারে এই ধরনের পাঁচ বা তারবেশি ব্যক্তির সমাবেশ ছত্রভঙ্গের আদেশ দিতে পারেন। আদেশ অমান্য করলে ১২৮ ধারা অনুযায়ী একজন ম্যাজিস্ট্রেট সমাবেশ ভঙ্গে বল প্রয়োগের আদেশ দিতে পারেন। ১৩০ ধারার বিধান অনুযায়ী সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে প্রয়োজনে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের গ্রেফতার করতে পারবেন।
এছাড়াও ফৌজদারি কার্যবিধির ১৩৩ ধারা অনুযায়ী একজন ম্যাজিস্ট্রেট পথ, নদী, খাল বা প্রকাশ্য স্থানে বেআইনি বাঁধা অপসারণ, ব্যবসা বা সংরক্ষিত এলাকায় মানুষের আরাম আয়েশের বিঘ্ন ঘটানো, গৃহ বা তাবু হতে ক্ষতিকর বস্তু বা বৃক্ষ অপসারণ, জলাশয় ঘেরাও, বিপজ্জনক প্রাণী ধ্বংস বা আটক ইত্যাদি আদেশ দিতে পারেন। কোনো ব্যক্তি ১৪২ ধারার বিধান মতে ক্ষতি এড়াতে কোনো ব্যক্তির উপর নির্দিষ্ট স্থানে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারেন।
মন্তব্য করুন