

জাহাঙ্গীর আলম, কুড়িগ্রাম উত্তর প্রতিনিধি :
একশন এইড বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় উদয়াঙ্কুর সেবা সংস্থা এর আয়োজনে ইমপাওয়ারিং গার্লস এন্ড কমব্যাটিং চাইল্ড ম্যারেজ প্রজেক্ট এর আওতায় (২৮ এপ্রিল) সকাল ১১ টায় মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেহনুমা তারান্নুম। সভায় অত্র উপজেলার সকল প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ সহ প্রকল্পের সরাসরি অধিকারভোগীগণ উপস্থিত ছিলেন। সভায় অধিকারভোগীগণ বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট দায়িত্ববাহককে তাদের চাহিদা সমূহ তুলে ধরেন।
প্রকল্প সমন্বয়কারী রবিউল ইসলামের সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন আবদুল্লাহ আল মামুন, ম্যানেজার চাইল্ড স্পন্সরশীপ এন্ড চাইল্ড রাইটস প্রোগ্রাম, একশনএইড বাংলাদেশ বলেন অধিকারভোগীদের চাহিদা সমূহ দায়িত্ববাহকগণ গুরুত্বের সাথে নিয়ে সহযোগিতা করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। কিশোরী ক্লাবের সদস্য রেশমা খাতুন তার বক্তব্যে বাল্যবিবাহ বন্ধে শিক্ষক, ইমাম, কাজী, ঘটক ও প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।
প্রান্তিক নারী নেত্রী হালালী খাতুন বলেন, আমরা দরিদ্র মায়েরা প্রশাসনের সহযোগিতা পেলে বাল্যবিবাহ থেকে আমাদের শিশুরা রক্ষা পেতে পারে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সেক্রেটারী মোর্শেদ আলম বলেন, বাল্যবিবাহ এর জন্য অভিভাবক ও এর সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আনলে বাল্যবিবাহ কমে যাবে বলে আমার বিশ্বাস।
পানিমাছ কুটি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুক্তা শেখ বলেন, যে, বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে সমাজের প্রত্যেক অংশীজনকে নিজ নিজ দায়িত্ব থেকে কাজ করে যেতে হবে।
সাইফুর রহমান সরকারি কলেজের প্রভাষক শংকর কুমার সেন বলেন, আমরা এটি বাল্যবিয়ে দিয়ে হাজারটি সমম্যার জন্ম দেই। তাই আসুন আমরাই পারি বাল্যবিবাহ রোধ করতে।
ফুলবাড়ী উপজেলার ইমাম সমিতির সভাপতি হাফেজ একরামুল হক বলেন, অভিভাবক ও শিক্ষকের বড় দায়িত্ব হলো ছেলেমেয়েদের সঠিক পথে পরিচালিত করা। এইটি হলে পরে বাল্যবিবাহ অনেকাংশে কমে যাবে।
ফুলবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হারুন অর রশীদ বলেন, একজন মেধাবী মেয়ের কখনোই বাল্যবিবাহ হয় না। তাই আমাদের মেয়েশিশুদের লেখাপড়ায় মনোনিবেশ করতে হবে। যারা ভালো ফলাফল করছে না তারাই বাল্যবিবাহের শিকার হচ্ছে।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ শরিফুল ইসলাম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মাহাতাব হোসেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আকবর কবীর, ইউএসএস এর প্রধান কার্যালয়ের সমন্বয়কারী আব্দুর রউফ।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেহেনুমা তারান্নুম বলেন, বাল্যবিবাহ লিগ্যাল ভাবে হয় না। অধিকাংশ বাল্যবিবাহ ছেলেমেয়েদের প্রেম ঘটিত ফলাফল। আমরা সমাজে যারা পুরুষ আছি তারা যদি সিদ্ধান্ত নেই ১৮ বছরের কম কোন মেয়েকে আমরা বিয়ে কিংবা ছেলের বউ হিসেবে বেছে নিব না, তাহলেই অনেক বাল্যবিবাহ কমে যাবে। বাল্যবিবাহ রোধ করতে চাইলে যার যার অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা সবাই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে একসাথে কাজ করবো এই প্রতিজ্ঞা দেওয়া হলো।
মন্তব্য করুন


জেসিআই ঢাকা আপটাউন এর ২০২৬ সালের জেনারেল অ্যাসেম্বলি ও চেইন হ্যান্ডওভার সেরেমনি রাজধানীর গুলশান ক্লাবে ১০ মার্চ প্রাণবন্ত পরিবেশে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল (জেসিআই) একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক যা বিশ্বের ১২৭ টি দেশে বিস্তৃত।
এটি তরুণ উদ্যোক্তা ও পেশাজীবীদের নেতৃত্ব বিকাশের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন সৃষ্টিতে কাজ করে। জেসিআই বাংলাদেশ জাতীয় সংগঠন হিসেবে পরিচালিত হয় এবং জেসিআই ঢাকা আপটাউন দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ও গতিশীল লোকাল চ্যাপ্টার হিসেবে স্বীকৃত।
জেনারেল অ্যাসেম্বলিতে নাভিদ নওরোজ শাহ্ আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬ সালের লোকাল প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন। নবগঠিত ২০২৬ লোকাল বোর্ডের অন্যান্য সদস্যরা হলেন ইমেডিয়েট পাস্ট লোকাল প্রেসিডেন্ট এবং ২০২৬ ন্যাশনাল ট্রেনিং কমিটি চেয়ার সুমাইয়া ইসলাম; সহসভাপতি ফারহান মাহি; সেক্রেটারি জেনারেল জিয়া উদ্দিন রিয়াদ; জেনারেল লিগ্যাল কাউন্সেল অ্যাডভোকেট সাজিদ হোসেন; ট্রেজারার তাইবা রহমান মাইশা; ট্রেনিং কমিশনার ফারহাতুল জান্নাত, জেআইবি চেয়ার শফিকুল আলম শাওন; ডিরেক্টর নাসির সরকার।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ২০২৫ সালের লোকাল প্রেসিডেন্ট সুমাইয়া ইসলাম এবং নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ২০২৪ লোকাল প্রেসিডেন্ট ফয়জুন্নুর আখন।
অনুষ্ঠানে জেসিআই বাংলাদেশের জাতীয় নেতৃবৃন্দ আতিথেয়তা গ্রহণ করেন। উপস্থিত ছিলেন জেসিআই বাংলাদেশের ২০২৬ ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট আরেফিন রাফি আহমেদ, ২০২৫ ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট কাজী ফাহাদ, ২০২৪ ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট ও ক্লাব জেসিআই লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট ইমরান কাদির, ২০২৬ ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট খন্দকার নায়েমুল হাসান, ন্যাশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর জাফির শাফি, ন্যাশনাল সেক্রেটারি জেনারেল সিনান আরেফিন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল চেয়ারপারসন রাফায়েলুর রহমান মেহেদী; ফাউন্ডেশন অ্যাফেয়ার্স চেয়ারপারসন রেজওয়ানুর রহমান, জেসিআই ঢাকা আপটাউন এর পাস্ট লোকাল প্রেসিডেন্ট সালেহীন এফ নাহিয়ান ও নাজিয়া বরকত এবং অন্যান্যরা। এছাড়াও উক্ত অনুষ্ঠানে সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন দূতাবাস এর কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
২০২৬ লোকাল প্রেসিডেন্ট নাভিদ নওরোজ শাহ্ পূর্ববর্তী নেতৃত্ব, বিশেষ করে বিদায়ী লোকাল প্রেসিডেন্টের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি ২০২৬ সালে অর্থপূর্ণ প্রজেক্ট, নেতৃত্ব উন্নয়ন কার্যক্রম এবং সদস্যদের সক্রিয় সম্পৃক্ততার মাধ্যমে চ্যাপ্টারকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক চেইন হ্যান্ডওভার সম্পন্ন হয়, যা নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা ও আগামী বছরের জন্য নবায়িত অঙ্গীকারের প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত হয়।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লায় চট্টগ্রাম মেইল ট্রেনের ধাক্কায় যাত্রীবাহী মামুন পরিবহনের ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। এ ঘটনার পর ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রামের রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
শনিবার (২১ মার্চ) রাত ৩টার দিকে জাঙ্গালিয়া কচুয়ায় পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড ফ্লাইওভারে নিচে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের পরিচয় জানা যায়নি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার উপপুলিশ পরিদর্শক জনি বড়ুয়া।
জনি বড়ুয়া জানান, রাতে জাঙ্গালিয়া কচুয়ায় চট্টগ্রাম মেইল ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কায় যাত্রীবাহী মামুন পরিবহনের বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ১২ জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাস্থলে সদর দক্ষিণ থানা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
এ বিষয়ে কুমিল্লা ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. ইদ্রিস জানান, যাত্রীবাহী মামুন পরিবহনের বাসটি গাইবান্ধা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ হয়ে নোয়াখালী যাচ্ছিল। রাতে বাসটি জাঙ্গালিয়া কচুয়ায় পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড ফ্লাইওভারে নিচে রেললাইন পার হওয়ার সময় চট্টগ্রাম থেকে আসা ঢাকামুখী চট্টগ্রাম মেইল ট্রেনের ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে যায়। নিহত ও আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তবে ধারণা করা হচ্ছে, দুই যানের অসতর্কতার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার চান্দিনায় কাভার্ডভ্যানের
পেছনে ট্রাকের ধাক্কায় মো. নাজমুল (৫০) নামের এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় মহাসড়কের
উভয় পাশে অন্তত ১০ কিলোমিটার জুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়।
আজ রোববার (২৪ আগস্ট) ভোরে ঢাকা-চট্রগ্রাম
মহাসড়কের চান্দিনার ছয়ঘড়িয়া এলাকায় ওই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নাজমুল চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলার
শিবগঞ্জ উপজেলার শরতনগর গ্রামের মৃত সেকান্দার আলীর ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, রোববার ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম
মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনের ছয়ঘড়িয়া এলাকায় একটি মালবোঝাই কাভার্ডভ্যানকে পেছন থেকে ধাক্কা
দেয় অপর একটি ট্রাক। এতে ঘটনাস্থলেই ট্রাকে থাকা ব্যবসায়ী নাজমুল নিহত হয়। এ ঘটনায়
মহাসড়কের উভয় পাশে যানজট সৃষ্টি হয়। সকাল ১১টায় হাইওয়ে পুলিশ দুর্ঘটনা কবলিত ট্রাক
ও কাভার্ডভ্যান উদ্ধার করে। তারপর থেকে ধীর গতিতে
যান চলাচল শুরু করে। দুপুর ১টায় মহাসড়কে
যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
হাইওয়ে পুলিশ ইলিয়টগঞ্জ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মো. রুহুল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন- এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


আসফিয়া আমান, প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (BAIUST)-এর শিক্ষার্থীদের বুদ্ধিবৃত্তিক ও বৈশ্বিক সচেতনতার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত বাইউস্ট গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল (BGAC)-এর ৬ষ্ঠ কার্যনির্বাহী কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে। নতুন নেতৃত্বে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন আইন বিভাগের ১০ম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. আল আমামিন সরকার এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিবিএ বিভাগের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাত্রি দে। সংগঠনের অগ্রযাত্রাকে আরও বিস্তৃত, কৌশলগত ও ফলপ্রসূ করার প্রত্যয়ে এই কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। সদস্যদের উপস্থিতিতে আয়োজিত সভায় সংগঠনের ভবিষ্যৎ রূপরেখা, কর্মপরিকল্পনা ও মানোন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়।
সভাপতি মো. আল আমামিন সরকার তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, আজকের বিশ্ব বাস্তবতায় কেবল সনদ নির্ভর শিক্ষা একজন শিক্ষার্থীকে পূর্ণাঙ্গ করে তোলে না; বরং প্রয়োজন দৃষ্টিভঙ্গির পরিসর, যুক্তিনির্ভর বিশ্লেষণ, নীতিগত অবস্থান গ্রহণের সক্ষমতা এবং নেতৃত্ব দেওয়ার সাহস। তিনি উল্লেখ করেন, গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, সমসাময়িক বৈশ্বিক ইস্যু, কূটনীতি ও নীতিনির্ধারণের অনুশীলনের মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতাকে বাস্তবতার সঙ্গে সংযুক্ত করতে পারে। তিনি আরও দৃঢ়ভাবে বলেন, “আমরা শুধু একটি সংগঠন পরিচালনা করতে চাই না; আমরা এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তুলতে চাই, যারা চিন্তায় প্রগতিশীল, সিদ্ধান্তে দায়িত্বশীল এবং নেতৃত্বে আত্মবিশ্বাসী।”
সাধারণ সম্পাদক রাত্রি দে তাঁর বক্তব্যে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব এবং ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি জানান, নতুন কমিটি সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণাভিত্তিক আলোচনা, প্রতিযোগিতামূলক অংশগ্রহণ এবং বৃহত্তর নেটওয়ার্কিংয়ের সুযোগ সম্প্রসারণে অগ্রাধিকার দেবে। তাঁর মতে, একটি শক্তিশালী সংগঠন গড়ে ওঠে সমন্বয়, দায়বদ্ধতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে। সভার সমাপ্তিতে সদস্যরা প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন যে, তারা একযোগে কাজ করে বাইউস্ট গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিলকে আরও উচ্চতায় পৌঁছে দেবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরব বৃদ্ধিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য করুন


বস্ত্র ও পাট এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের
উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, সপ্তাহখানেক আগেও
কুমিল্লায় ত্রাণ দিয়েছি। আজ জরুরি ওষুধ যা বন্যা পরবর্তী সময় দরকার হয় ও একদল বিশেষজ্ঞ
চিকিৎসক নিয়ে এসেছি। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি। দ্রুত বন্যায় ক্ষয়-ক্ষতির নিরূপণ
ও বন্যা দুর্গতদের পুনর্বাসনে কাজ করছে অন্তর্বর্তী সরকার। ক্ষতির পরিমাণ দেখে বন্যায়
ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন করা হবে
শনিবার (৩১ আগস্ট) কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম
উপজেলা ও বুড়িচং উপজেলায় বন্যার্তদের জরুরি চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ বিতরণের পর এসব কথা
বলেন তিনি। এসময় শিশু ও গণস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও এইচ অ্যান্ড এইচ ফাউন্ডেশনের হেলথ কেয়ার
প্রজেক্ট কনসালটেন্ট ডা. রেহানা খানমের নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রতিনিধি দল বন্যায়
অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে
আহত হয়ে কুমিল্লার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন ৬ জনের চিকিৎসার
খোঁজ-খবর নিলেন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন। পরে বন্যার কারণে অসুস্থদের পরিদর্শন ও
চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়।
বস্ত্র ও পাট এবং নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের
উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেনের নিজ উদ্যোগ ও এইচ অ্যান্ড এইচ ফাউন্ডেশন, পিএসও, এস এস
গ্রুপের ও অন্যান্য সংগঠনের সহায়তায় প্রায় ৭০ হাজার ওষুধ এবং ১০০০ প্যাকেট শিশুখাদ্য
বিতরণ করা হয়েছে, এর মধ্যে পাউডার দুধ, চকোলেট, ম্যাংগো বার,বিস্কুট, চিপস, চানাচুর
ইত্যাদি প্রদান করা হয়েছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন চৌদ্দগ্রাম সেনা
ক্যাম্পের লে. কর্নেল মাহমুদুল হাসান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রহমতুল্লাহ, সার্কেল
এএসপি জাহিদুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহেদা বেগমসহ সেনাবাহিনীর অন্যান্য কর্মকর্তা
ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


ডিএনসি-কুমিল্লার মাদকবিরোধী যৌথ অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবা, ৫০০ গ্রাম গাঁজা ও মাদক বিক্রির ১ লাখ ১৩ হাজার ৯শত টাকাসহ দুইজনকে আটক।
সোমবার ( ১৪ অক্টোবর) সকাল ৪:৪৫ মিনিট থেকে ৬:৪৫ মিনিট পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করে লাকসাম থানাধীন খুন্তা দক্ষিণ পাড়াস্থ আসামী মোহাম্মদ আলীর নিজ ঘর এবং মিশ্রী মধ্যম পাড়াস্থ আসামী মো: মামুন এর নিজ ঘর থেকে ইয়াবা,গাঁজা ও টাকা সহ তাদের আটক করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কুমিল্লার উপ-পরিচালক চৌধুরী ইমরুল হাসান এর সার্বিক তত্বাবধানে ও পরিদর্শক মো: সাইফুল ইসলাম ভূঁঞা এর নেতৃত্বে এবং লাকসাম উপজেলা ক্যাম্পের সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন এর সার্বিক সহযোগিতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ডিএনসি কুমিল্লা, সেনা সদস্য, লাকসাম থানার পুলিশ সদস্য ও লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি মেডিকেল টিম অংশগ্রহণ করেন।
আটককৃত আসামীরা হলো-১/ লাকসাম থানাধীন মিশ্রী(মধ্যপাড়া) গ্রামের মৃত আব্দুল মালেক এর ছেলে মো: মামুন (৪৪), ২/ খুন্তা দক্ষিণ পাড়া এলাকার মৃত আব্দুল মজিদ এর ছেলে মোহাম্মদ আলী(৫০)।
আসামীদের বিরুদ্ধে পরিদর্শক মো: সাইফুল ইসলাম ভূঁঞা বাদী হয়ে লাকসাম থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
মন্তব্য করুন


নিজস্ব প্রতিবেদক - মজিবুর রহমান পাবেল
কুমিল্লার সুযোগ্য
জেলা প্রশাসক জনাব মোঃ আমিরুল কায়সার সম্পর্কে ইতিবাচক অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন
সাংবাদিক এরশাদ রানা। নিজের ব্যক্তিগত কাজে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে তিনি
দেখেছেন প্রশাসনিক সৌন্দর্য ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব, যা কুমিল্লার ২৩৫ বছরের সমৃদ্ধ
ইতিহাসের অংশ।
এরশাদ রানা তার ফেসবুক
পোস্টে উল্লেখ করেছেন, শতাধিক জেলা প্রশাসকের পদচিহ্ন থাকলেও মোঃ আমিরুল কায়সার
ছিলেন ব্যতিক্রমী এক ব্যক্তি— অহংকারহীন, ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে দূরে এবং অত্যন্ত বিনয়ী।
ব্যস্ততার মাঝেও তিনি ধৈর্যসহকারে সাংবাদিকের কথা শুনেছেন এবং তাৎক্ষণিক
সুপারিশসহ আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। শুধু তাই নয়, সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সরাসরি
আবেদনপত্রটি পাঠানোর নির্দেশও দিয়েছেন, যা তার প্রশাসনিক দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার
পরিচয় বহন করে।
সাংবাদিক এরশাদ রানা বলেন, "এই প্রথমবারের মতো কুমিল্লার জেলা
প্রশাসকের কার্যালয়ে এতটা বিনয়ী ও মানবিক ডিসি দেখলাম।" তার এই মন্তব্য থেকে
বোঝা যায়, জনবান্ধব প্রশাসন গড়তে জেলা প্রশাসক কতটা আন্তরিক।
জনগণের প্রতি দায়িত্বশীল ও মানবিক প্রশাসনের এমন উদাহরণ নিঃসন্দেহে
প্রশংসনীয়। তবে তিনি কতদিন কুমিল্লায় জেলা প্রশাসকের দায়িত্বে থাকবেন, তা অজানা।
তবে যতদিন থাকবেন, কুমিল্লাবাসীর জন্য তা সৌভাগ্যের বিষয় হবে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি;
খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার প্রমাণ করেছে যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল শুধু কথার রাজনীতি করে না, বরং বাস্তব কাজের মাধ্যমে মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কাজ শুরু করেছে।
আজ দুপুরে লালমাই উপজেলার দোশারীচোঁ মৌজাস্হ ডাকাতিয়া নদীর শাখা খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন এবং খাল সংলগ্ন মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কৃষি মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগেই বিএনপি দরিদ্র ও অসহায় নারীদের সহায়তার জন্য ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের ঘোষণা দিয়েছিল এবং নির্বাচন শেষে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সেই কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। একইভাবে কৃষকদের সহায়তায় কৃষক কার্ড চালু করার প্রস্তুতিও প্রায় সম্পন্ন হয়েছে এবং পয়লা বৈশাখের আশপাশে তা চালু করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ কৃষির সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত। কৃষকদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। এ লক্ষ্যে সরকার কৃষি ঋণ মওকুফসহ বিভিন্ন সহায়ক উদ্যোগ ইতোমধ্যে নিয়েছে।
মন্ত্রী আরো বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান-এঁর সময়ের মতো আবারও খাল খনন কর্মসূচি চালু করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় খাল পুনঃখনন ও সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, খাল পুনঃখননের মাধ্যমে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং মাছ উৎপাদনের সম্ভাবনা বাড়বে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতেও এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য হল কৃষকবান্ধব নীতি গ্রহণের মাধ্যমে দেশের কৃষি খাতকে আরও শক্তিশালী করা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো।
তিনি স্থানীয় জনগণকে খাল রক্ষা ও ব্যবস্থাপনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, খালগুলো সচল থাকলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, পানি নিষ্কাশন সহজ হবে এবং এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা -১০ (নাঙ্গলকোট ও লালমাই) এর সংসদ সদস্য মো: মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া, বিএডিসির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো: আজিজুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মু: রেজা হাসান। এসময় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ, স্হানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ জনসাধারণ উপস্হিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী “দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন এবং পুনঃখনন” কর্মসূচির অংশ হিসেবে কুমিল্লা জেলার লালমাই উপজেলায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)-এর আওতাধীন “বি-স্ট্রং” প্রকল্পের অধীনে খাল খননের কার্যক্রম আজ শুরু হয়েছে। এ খাল খনন কার্যক্রমের মাধ্যমে লালমাই উপজেলার ৪২টি গ্রামের জলাবদ্ধতা দূরীভূত হবে। ফলে এ অঞ্চলের বিপুল সংখ্যক মানুষ উপকৃত হবে।
মন্তব্য করুন


তাপস চন্দ্র সরকার, কুমিল্লা:
প্রতি বছর কার্ত্তিক মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয় তিথিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাসা-বাড়ীতে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনায় ঘরোয়া পরিবেশে পালিত হয় বাঙালি হিন্দুদের শ্রেষ্ঠ সামাজিক অনুষ্ঠান ভ্রাতৃদ্বিতীয়া বা ভাইফোঁটা উৎসব।
তারই ধারাবাহিকতায় ২৩ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নগরীর কালিয়াজুরীতে বাংলাদেশ আইনজীবী ঐক্য পরিষদ কুমিল্লা ইউনিটের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকারের একমাত্র মেয়ে অর্পিতা সরকার তাঁর ছোটভাই অরন্য সরকার প্রিন্স এর কপালে চন্দন দিয়ে ফোঁটা এঁকে ছড়া কেটে বলেন "ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা, যমের দুয়ারে পড়লো কাঁটা, যমুনা দেয় যমকে ফোঁটা, আমি দেই আমার ভাইকে ফোঁটা।" এভাবেই ভ্রাতৃদ্বিতীয়া যমের দুয়ারে কাঁটা দিয়ে বোন ভাইয়ের দীর্ঘায়ু ও সৌভাগ্য কামনা করেন। এরপরে ভাইবোনেরা একে অপরের সাথে মিষ্টি বিনিময় করে এবং উপহার আদান-প্রদান করে থাকে।
জানা যায়- শুভ দিনের পরম পবিত্র লগ্নে ভাই-বোনের মধুর সম্পর্কের পুনঃ নবীকরণ করে নেওয়া হয় প্রতি বছর। শৈশবের হারিয়ে যাওয়া মধুর এই দিনটিতে বড় বেশি করে মনে পড়ে যায়। ভাই-বোনের স্নেহ ভালোবাসার সম্পর্কের প্রকাশ ভাইফোঁটা আচার অনুষ্ঠানটি মন কেড়ে নেয়। একটি অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে চিরন্তন আবেগ অনুভূতিই জীবন্ত হয়ে ওঠে। কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষে দ্বিতীয় তিথিতে বোন তাঁর ভাইকে পরম যত্ন সহকারে একটি সুন্দর আসনে বসিয়ে হেমন্তের শিশির ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে হাতের তিন আঙ্গুলের সাহায্যে বোন তাঁর ভাইয়ের কপাল ধুয়ে দেয়। এরপর বোন তার কনিষ্ঠা আঙ্গুল দিয়ে একইভাবে চন্দন তিলক এঁকে দিয়ে ছড়া কেটে বলে "ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা, যমের দুয়ারে পড়লো কাঁটা, যমুনা দেয় যমকে ফোঁটা, আমি দেই আমার ভাইকে ফোঁটা।"
অ্যাডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার বলেন- দীপাবলির একদিন পরেই ভ্রাতৃদ্বিতীয়া বা ভাইফোঁটা। হেমন্তের পবিত্র শিশির দিয়ে বোন তাঁর ভাইয়ের সব অশুভ, অমঙ্গল ও অকল্যাণকর শক্তিকে ধুয়ে দেয়। সুগন্ধি চন্দন তিলক ললাটে এঁকে দিয়ে এনে দেয় সৌভাগ্যের পরশমনি। তারই সঙ্গে অমরত্বের প্রতীক দুর্বা আর ধনের প্রতীক ধান দিয়ে প্রার্থনা বা আশীর্বাদ বা তার মঙ্গল কামনা করেন। তিনি আরো বলেন- যমী (যমুনা) তার ভাই যমকে কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে নিজ গৃহে এনে পূজা করে ভোজনে আপ্যায়িত করেছিলেন। তিনি বলেন জনশ্রুতি আছে, সেই থেকে অদ্যাবধি বিপুুুল উৎসাহ উদ্দীপনায় ঘরোয়া পরিবেশে পালিত হয়ে আসছে বাঙালি হিন্দুদের শ্রেষ্ঠ সামাজিক অনুষ্ঠান ভ্রাতৃদ্বিতীয়া বা ভাইফোঁটা উৎসব।
অন্যদিকে, ১৩৩৬ খ্রিস্টাব্দে আচার্য সবানন্দ সুবীর পুঁথির শেষ শ্লোকে বলা হয় মহাবীরের জীবনবাসন হলে রাজা নন্দী বর্ধন বোনের শোক নিবারণের জন্য বোনকে বুঝিয়ে আদর যত্ন করে আপ্যায়ন করেছিলেন। ভ্রাতৃদ্বিতীয়া যমের দুয়ারে কাঁটা দিয়ে ভাইয়ের দীর্ঘায়ু ও সৌভাগ্য কামনা করা হয়। ভাইফোঁটার দিনে বোনেরা তাদের দাদা বা ভাইকে নিজের বাড়ীতে নিমন্ত্রণ করে আপ্যায়ন করে এবং ভাইয়েরাও বোনদের প্রাণ ভরে আর্শীবাদ করে। ভাগ্নিরা ভাইয়ের কপালে চন্দন ও কুমকুমের তিলক বা ফোঁটা এঁকে দিলে কেউ তার ক্ষতি করতে পারবেনা। সেজন্যই বোনেরা ভাইয়ের হাতে রাখি বেঁধে দেয়। এভাবে বোনেরা ভাইয়ের দীর্ঘায়ু কামনা করে। এরপর ভাইকে ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি খাওয়ায়। ভাইও তার সাধ্যমত বোনকে কিছু উপহার বা টাকা দেয়। পশ্চিমবঙ্গের ন্যায় বাংলাদেশেও ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে পালিত হয় বাঙালি হিন্দুদের শ্রেষ্ঠ সামাজিক অনুষ্ঠান ভ্রাতৃদ্বিতীয়া বা ভাইফোঁটা উৎসব।
মন্তব্য করুন


মন্তব্য করুন