

ডিমের বাজার দর স্থিতিশীল রাখতে সীমিত সময়ের জন্য ৭ প্রতিষ্ঠানকে শর্তসাপেক্ষে ৪ কোটি ৫০ লাখ ডিম আমদানির অনুমতি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
মঙ্গলবার (০৮ অক্টোবর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য-১ শাখা থেকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
অনুমোদন পত্রে বলা হয়েছে, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য মতে দেশে প্রতিদিন প্রায় ৫ (পাঁচ) কোটি পিস ডিমের চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে ডিমের বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় ও বাজারদর স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে সাময়িকভাবে সীমিত সময়ের জন্য ৭টি প্রতিষ্ঠানকে সাড়ে ৪ কোটি ডিম আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এ আমদানির অনুমতির মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে। তবে আমদানির কিছু শর্তাদি অনুসরণ করতে হবে।
যশোরের মেসার্স তাওসিনকে ১ কোটি পিস, সাতক্ষীরার মেসার্স সুমন ট্রেডার্সকে ২০ লাখ পিস, রংপুরের আলিফ ট্রেডার্সকে ৩০ লাখ পিস, ঢাকার মেসার্স মিম এন্টারপ্রাইজকে ১ কোটি পিস, হিমালয়াকে ১ কোটি পিস, মেসার্স প্রাইম কেয়ার বাংলাদেশকে ৫০ লাখ পিস এবং মেসার্স জামান ট্রেডার্স ৫০ লাখ পিস ডিম আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
আমদানির জন্য প্রযোজ্য শর্তের মধ্যে রয়েছে-
ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন ফর অ্যানিমেল হেলথ (হো) এর গাইডলাইন অনুযায়ী বার্ড ফ্লু মুক্ত জোনিং/কম্পার্টমেন্টালাইজেশনের স্বপক্ষে রপ্তানিকারক দেশের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক জোনিং/কম্পার্টমেন্টালাইজেশনের সার্টিফিকেট/ঘোষণা দাখিল করতে হবে।
আমদানিকৃত ডিমের প্রতিটি চালানের জন্য রপ্তানিকারক দেশের সরকার কর্তৃক নির্ধারিত/ক্ষমতাপ্রাপ্ত উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা বা বার্ড ফ্লু ভাইরাস ও ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া মুক্ত মর্মে সনদ দাখিল করতে হবে। সরকার কর্তৃক নির্ধারিত শুল্ক-কর পরিশোধ ও অন্যান্য বিধি-বিধান মানতে হবে।
এছাড়া ডিম আমদানির প্রতি চালানের অন্যূন ১৫ দিন আগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জানাতে হবে। আমদানির অনুমতি পাওয়ার ৭ দিন পর পর অগ্রগতি প্রতিবেদন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দাখিল করতে হবে এবং আমদানির অনুমতির মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে।
মন্তব্য করুন


স্থানীয়
বাজারে তেজাবি সোনার (পাকা সোনা) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের বাজারে সোনার দাম
বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম)
সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা। এতে এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ
৬২ হাজার ৯০ টাকা।
আজ
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ
জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। শনিবার বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড
প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠক করে এ দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান
ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে গত
২৯ জানুয়ারি সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ১৬ হাজার ২১৩ টাকা
বাড়িয়ে ২ লাখ ৮৬ হাজার ০১ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা দেশের ইতিহাসে রেকর্ড সৃষ্টি করে।
এটাই ছিল সোনার সর্বোচ্চ দাম।
নতুন
দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ৭ হাজার ৬৪০ টাকা
বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি
সোনার দাম ৭ হাজার ২৯০ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ
ছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৬ হাজার ২৪১ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা
হয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৪৪৩ টাকা। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ৫ হাজার ৭৪ টাকা
বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৭৫ হাজার ৪৮৫ টাকা। এর আগে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি)
সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ৭ হাজার ৬৪০ টাকা কমিয়ে ২
লাখ ৫৪ হাজার ৪৫০ টাকা, ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৭ হাজার ২৯০ টাকা কমিয়ে ২ লাখ
৪২ হাজার ৯০৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৬ হাজার ২৪১ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৮
হাজার ২০২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ৫ হাজার ৭৪ টাকা কমিয়ে এক লাখ
৭০ হাজার ৪১১ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
এর
আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ১০ হাজার
৯০৬ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা, ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ১০ হাজার ৪৩৯ টাকা
বাড়িয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৮ হাজার ৯২৩ টাকা বাড়িয়ে
২ লাখ ১৪ হাজার ৪৪৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনায় ৭ হাজার ২৯০ টাকা বাড়িয়ে
১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
একই
দিন সকালে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ৫ হাজার ৪২৪ টাকা বাড়িয়ে
২ লাখ ৫১ হাজার ১৮৪ টাকা, ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৫ হাজার ১৯০ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ
৩৯ হাজার ৭৫৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৪ হাজার ৪৩৩ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৫ হাজার
৫২০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনায় ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৬৮ হাজার
১৯৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তার আগে ২ ফেব্রুয়ারি রাতে ভালো মানের প্রতি ভরি সোনায় ৫
হাজার ৪২৪ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৮৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৫ হাজার ১৯০
টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৫৬৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৪ হাজার ৪৩৩ টাকা
কমিয়ে ২ লাখ ১ হাজার ৫২০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনায় ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা
কমিয়ে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
একইদিন
সকালে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ৬ হাজার ৫৯০ টাকা কমিয়ে ২
লাখ ৫১ হাজার ১৮৪ টাকা, ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৬ হাজার ২৯০ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৩৯
হাজার ৭৫৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ০৫ হাজার
৫২০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনায় ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৬৮ হাজার
১৯৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
তার
আগে ১ ফেব্রুয়ারি রাতে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় এক হাজার
৯২৫ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৫৭ হাজার ৭৭৪ টাকা, ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় এক হাজার ৮৬৬ টাকা
কমিয়ে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৫২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় এক হাজার ৬৩৩ টাকা কমিয়ে
২ লাখ ১০ হাজার ৮৮৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনায় এক হাজার ৩১৪ টাকা কমিয়ে
১ লাখ ৭১ হাজার ৫৬৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
একইদিন
সকালে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ৪ হাজার ৮২ টাকা বাড়িয়ে ২
লাখ ৫৯ হাজার ৬৯৯ টাকা, ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৩ হাজার ৯০৭ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৪৭
হাজার ৯১৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৩ হাজার ৩৮২ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ১২ হাজার
৫১৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনায় ২ হাজার ৪১ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৭৩ হাজার
৯১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
এদিকে
সোনার দাম বাড়ানো হলেও অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম
৬ হাজার ৩৫৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক
ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ১৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৯০৭ টাকা
নির্ধারণ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


চলতি মাসে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রেখেছে সরকার।
শনিবার (১ মার্চ) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে
পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়ে বলা হয়, গত ফেব্রুয়ারি মাসের নির্ধারিত
দামেই এই মাসে জ্বালানি তেল বিক্রি হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মার্চ মাসে তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে
জ্বালানি তেল সরবরাহ করতে বিদ্যমান দাম অনুযায়ী প্রতিলিটার ডিজেল ও কেরোসিন ১০৫
টাকা, পেট্রোলের দাম ১২২ টাকা ও অকটেনের দাম ১২৬ টাকা রাখা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের মার্চ থেকে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে
জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ শুরু করেছে সরকার। সেই থেকে প্রতি
মাসে নতুন দাম ঘোষণা করে আসছিল সরকার। তবে চলতি মাসে এর ব্যতিক্রম ঘটলো।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল ও কেরোসিনের দাম
লিটারপ্রতি এক টাকা বাড়িয়ে এই দাম নির্ধারণ করেছিল সরকার।
মন্তব্য করুন


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিজয় একাত্তর হলের ক্যান্টিনে আগুনের ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে হলের যমুনা ব্লকের পেছনের অংশে আগুন দেখা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণা, গ্যাস লাইন বা সিলিন্ডার থেকে লিকেজের কারণে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, সন্ধ্যা ৬টা ১৩ মিনিটে আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর তাদের চারটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে রওনা দেয়। ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রাফি আল ফারুক জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইউনিটগুলোকে সেখানে পাঠানো হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, ক্যান্টিনে থাকা একটি গ্যাস সিলিন্ডার থেকেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস কাজ করছে।
উল্লেখ্য, গত ২২ নভেম্বর তিন দফা ভূমিকম্পের পর টানা ১৫ দিনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় এ ধরনের আরেকটি অঘটন ঘটল।
মন্তব্য করুন


এলপি
গ্যাস আমদানি ও স্থানীয় উৎপাদনে ভ্যাট ও ট্যাক্স পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার
(৮ জানুয়ারি) দুপুরে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়।
প্রজ্ঞাপনে
বলা হয়, আমদানি করা এলপিজির ওপর ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার এবং স্থানীয়
পর্যায়ে তা ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এর
আগে এলপি গ্যাস ক্রমবর্ধমান সংকট ও মূল্য অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে আমদানি ও স্থানীয় উৎপাদন
পর্যায়ে ভ্যাট ও ট্যাক্স পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। একই সঙ্গে এলপি গ্যাস আমদানির
ক্ষেত্রে ব্যাংক ঋণ ও এলসি (ঋণপত্র) খোলার প্রক্রিয়া সহজীকরণেরও উদ্যোগও নেওয়া হয়।
আজ
বৃহস্পতিবার ( ০৮ জানুয়ারি ) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায়
এলপি গ্যাসকে ‘গ্রিনফুয়েল’ হিসেবে বিবেচনা করে কর কাঠামো পুনর্বিন্যাসের
বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠানো
হয়। একই দিনে, বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহে এলপিজি আমদানির জন্য ঋণ প্রাপ্তি ও এলসি খোলার
আবেদনসমূহ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে চিঠি
দেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।
এনবিআরকে
পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, দেশে ব্যবহৃত মোট এলপি গ্যাসের প্রায় ৯৮ শতাংশই বেসরকারি খাতের
মাধ্যমে আমদানি করা হয়, যা শিল্প খাত ও গৃহস্থালি— উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত
হচ্ছে। সাধারণত, শীত মৌসুমে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি দেশে পাইপলাইনের
প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ হ্রাস পাওয়ায় এলপি গ্যাসের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
চলতি শীত মৌসুমেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। ফলে বাজারে তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে এবং এর সরাসরি
প্রভাব পড়ছে সাধারণ ভোক্তার ওপর।
মন্তব্য করুন


পার্বত্য খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার গোমতি ইউনিয়নের রংমিয়া পাড়ার মানুষ বিচিত্র পেশায় জড়িত।
তারা সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পাহাড়ে পাহাড়ে ঘুরে মাছের খাবার ও বড়শি দিয়ে মাছ ধরার টোপ হিসেবে ব্যবহার করা লাল পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহ করে স্থানীয় পাইকারদের কাছে বিক্রি করেন। সেই পাইকারদের হাত ধরেই এসব পিঁপড়ার ডিম বিক্রি হয় ঢাকা, চট্টগ্রাম,ফেনী ও কুমিল্লায়। সাধারণত মে থেকে নভেম্বর পর্যন্ত তারা পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহ করেন।
পাহাড়ি বন-জঙ্গল থেকে পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহ শেষে তা বিক্রি করে যা উপার্জন হয়, তা দিয়েই চলে সংসার।
প্রতিদিন ১ থেকে দেড় কেজি পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহ করতে পারে বলে জানায় এ কাজের সাথে জড়িত মো. রুস্তম আলী । তিনি আরো বলেন, সকাল হলেই বাঁশ ও ঝুড়ি নিয়ে বের হয়ে গাছ থেকে ডিম সংগ্রহ করি। বিকেলে এসব ডিম পাইকারদের কাছে বিক্রি করি। প্রতি কেজি ডিম ৫৫০ টাকা দরে বিক্রি করি।
ডিম সংগ্রহকারী মো. জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, সব পিঁপড়ায় ডিম পাওয়া যায় না। এ জন্য প্রয়োজন লাল পিঁপড়ার বাসা। লাল পিঁপড়ার বাসায় মেলে প্রচুর সাদা ডিম। সাধারণত মেহগনি, আম, লিচু, কনক ও কড়ইসহ দেশীয় গাছগুলোয় লাল পিঁপড়ার বাসা পাওয়া যায়।ডিম সংগ্রহ করতে অনেক কষ্ট হয়। পিঁপড়াগুলো সাধারণত মগডালে বাসা বাঁধে। ডিম সংগ্রহ করার সময় কমবেশি কামড় খেতে হয়। সারাদিন বনে-জঙ্গলে ডিমের আশায় ঘুরে বেড়াতে হয়। পিঁপড়ার বাসা খুঁজে পাওয়ার ওপর নির্ভর করে তার আয়।
লাল পিঁপড়ার ডিমের স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, স্থানীয় ২০-২৫ জন পাহাড়ি বন-জঙ্গল থেকে লাল পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহ করে আমার কাছে বিক্রি করেন। পিঁপড়ার ডিম কিনে ঢাকা, চট্টগ্রাম, ফেনী ও কুমিল্লায় বিক্রি করি।
মূলত মাছের খামারি ও সৌখিন মাছ শিকারীরা এ ডিম কিনে থাকেন।
মন্তব্য করুন


কালীপূজা
উপলক্ষে দুই দিন বন্ধ থাকছে দেশের চতুর্দেশীয় স্থলবন্দর বাংলাবান্ধা। ১২ এবং ১৩ নভেম্বর
কালীপূজায় ২দিন বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকার তথ্যটি
নিশ্চিত করেছেন বাংলাবান্ধা সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম।
তিনি জানিয়েছেন, রবিবার ১২ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে
হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী কালীপূজা। পূজা উদযাপন উপলক্ষ্যে উভয় দেশের
এক্সপোর্টার, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ওয়েলফেয়ার ও ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে আলোচনা
সভার ভিত্তিতে এই দুদিন স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত
গ্রহণ করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত চিঠি উভয় দেশের কাস্টমস,ব্যবসায়ী সংগঠন, ও বন্দর কর্তৃপক্ষসহ
সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক
থাকবে।
বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)
নজরুল ইসলাম বলেছেন, পূজায় বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ
থাকবে তবে স্বাভাবিক থাকবে ইমিগ্রেশনে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত ।
মন্তব্য করুন


দেশে
বর্তমানে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ পরিমাণ খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছেন খাদ্য উপদেষ্টা
আলী ইমাম মজুমদার। তিনি জানান, সরকারি গুদামগুলোতে এখন প্রায় ২০ লাখ ২৭ হাজার ৪২০ মেট্রিক
টন খাদ্যশস্য জমা রয়েছে।
আজ
রোববার ( ৪ জানুয়ারি ) সচিবালয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ
তথ্য জানান। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুজনিত শোকের কারণে ১ জানুয়ারির
নির্ধারিত এই সংবাদ সম্মেলনটি পিছিয়ে আজ ৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়।
উপদেষ্টা
জানান, চলতি বছরের ১ জানুয়ারিতে খাদ্যশস্যের এই মজুদ গত পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।
মজুদের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে ১৬ লাখ ৯৬ হাজার ৭৮৭ মেট্রিক টন
চাল, ২ লাখ ৩৩ হাজার ২২৪ মেট্রিক টন গম এবং ৯৭ হাজার ৪০৯ মেট্রিক টন ধান সরকারি সংগ্রহে
রয়েছে।
অতীতের
মজুদের তুলনা করে তিনি জানান, এর আগে ২০২২ সালে সর্বোচ্চ ১৮ লাখ ৮১ হাজার টন মজুদ
ছিল। এছাড়া ২০২৩ সালে ১৮ লাখ ২ হাজার টন, ২০২১ সালে ৭ লাখ ২৬ হাজার টন, ২০২৪ সালে ১৫
লাখ ৫২ হাজার টন এবং ২০২৫ সালে ১১ লাখ ৮৮ হাজার টন খাদ্যশস্য মজুদ ছিল।
খাদ্যশস্য
সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আলী ইমাম মজুমদার বলেন, ফুড মনিটরিং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী
৫শ মেট্রিক টন ধান, ৬ লাখ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল এবং ৫৭ হাজার মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহের
লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
উপদেষ্টা
বলেন, তবে ইতোমধ্যেই সেই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৩১ হাজার মেট্রিক
টন ধান, ৭ লাখ ৩২ হাজার মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল এবং ৫৭ হাজার ৫৯৬ মেট্রিক টন আতপ চাল
সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে।
উপদেষ্টা
বলেন, ‘আমাদের খাদ্য পরিস্থিতি সন্তোষজনক এবং আপনারা জানেন কৃষি অত্যন্ত প্রকৃতি নির্ভর
একটা জিনিস এবং বিশেষ করে আমাদের মত দেশে। এটা অত্যন্ত সংবেদনশীল জিনিস, পরবর্তী ফসল
ভালো হলে আমরা এই বছরটা নিরাপদে কাটাতে পারব।’
বর্তমান
অবস্থা স্বস্তিদায়ক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকারের পাবলিক ফুড ডিস্ট্রিবিউশন
সিস্টেম অত্যন্ত সচল ও সক্রিয় আছে। এর মাধ্যমে আমরা চলমান কর্মসূচিগুলি পরিচালনা করতে
পারছি এবং পারব।’
মন্তব্য করুন


পবিত্র আশুরা উপলক্ষে সরকারি ছুটির
কারণে আজ বুধবার (১৭ জুলাই) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে
দু'দেশের মধ্যে আমদানি- রপ্তানি বাণিজ্য কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। ফলে বুধবার সকাল থেকে
এ বন্দর দিয়ে কোনো আমদানি-রপ্তানি হবে না। তবে দু'দেশের মধ্যে পাসপোর্টযাত্রী চলাচল
স্বাভাবিক রয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আবারো এ পথে
আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য চলবে বলে বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা জানিয়েছেন।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস স্টাফ
অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান জানান, পবিত্র আশুরা উপলক্ষে সরকারি ছুটি
ঘোষণা করায় আজ বুধবার বেনাপোল পেট্রাপোল বন্দরের সকল কাজকর্ম বন্ধ থাকবে। সে কারণে
এ পথে কোনো আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম হবে না। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পুনরায় এ পথে আমদানি-রপ্তানি
চলবে।
বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
(ওসি) আযহারুল ইসলাম জানান, আশুরা উপলক্ষে বুধবার এ পথে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও
দু'দেশের মধ্যে পাসপোর্টযাত্রী চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
বেনাপোল
স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (ট্রাফিক) রেজাউল করিম জানান, বুধবার পবিত্র আশুরায়
সরকারি ছুটি থাকায় বন্দরের পাশাপাশি কাস্টমসের কার্যক্রমের সঙ্গে দু‘দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ
থাকবে। আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও যেসব ভারতীয় ট্রাক পণ্য বন্দরে আনলোড করে খালি ট্রাক
নিয়ে ফিরে যেতে চাইবে তাদের অনুমতি দেওয়া হবে। এ জন্য চেকপোস্ট কার্গো শাখা খোলা থাকবে।
মন্তব্য করুন


আজ মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) সকালে আখাউড়া-আগরতলা সড়কের পৌর শহরের বাইপাস এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ কামরুল ইসলাম (৪০) ও গোলাম রাব্বি (২৫) নামে ২ জনকে গ্রেফতার করে আখাউড়া থানা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, আখাউড়া-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়কের পৌর শহরের বাইপাস এলাকায় সকালে পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় একটি প্রাইভেটকার আটক করা হয়। এ সময়, তল্লাশি চালিয়ে স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় ৩৬ কেজি গাঁজাসহ আখাউড়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল ইসলাম এবং তার গাড়ি চালক রাব্বিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
আখাউড়া থানা (ওসি) মোহাম্মদ ছমিউদ্দিন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সকালে পৌরশহরের বাইপাসের কোড্ডা সড়ক এলাকা থেকে ৩৬ কেজি গাঁজাসহ কামরুল ইসলাম ও তার সহযোগী রাব্বিকে গ্রেফতার করা হয়। জব্দ করা হয় মাদক চোরাচালানি কাজে ব্যবহৃত তার প্রাইভেটকারটি। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে গাঁজার চালান এক মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে গ্রহণ করে সে ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছিলেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের মাধ্যমে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগারে পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।
অপরদিকে, মাদকসহ যুবদল নেতা কামরুল ইসলাম গ্রেফতারের বিষয়টি দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করায় তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান উপজেলা বিএনপির সিনিয়র নেতারা।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ছাত্রদের আকাঙ্ক্ষার নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকারের সাথে একজোট হয়ে কাজ করার জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, “ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে সুযোগ এনে দিয়েছে, তা ব্যবহার করে আমরা অতীতের পচা বাংলাদেশ থেকে একটা নতুন তরতাজা বাংলাদেশের সৃষ্টি করতে চাই। আসুন, এ লক্ষ্যে আমরা একসঙ্গে কাজ করি।”
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত ন্যাশনাল বিজনেস সংলাপে তিনি আরো বলেন, “এটা কোনও কল্পকাহিনী না। আমার দৃঢ় বিশ্বাস- আপনার মনস্থির করে এগিয়ে এলে খুব দ্রুত গতিতে আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবো।”
ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স, বাংলাদেশ (আইসিসিবি) এবং জাতীয় পর্যায়ের ১৫টি বাণিজ্যিক সংগঠন এ সংলাপের আয়োজন করে।
সবাই মিলে একজোট হয়ে কাজ করলে তরুণদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলা অবশ্যম্ভাবী- এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে ব্যবসায়ীদের
উদ্দেশে নোবেলবিজয়ী ড. ইউনূস বলেন, “আমরা যে বড় কিছু করতে পারি তার প্রমাণ হলো ব্যবসায়ীরা। বিরাট দুঃসাহস নিয়ে আপনারা উদ্যোক্তা হয়েছেন। বাংলাদেশিদের
কাছে শিল্পপতি হওয়া দুঃস্বপ্ন ছিল, কিন্তু আপনারা সেটা করতে পেরেছেন। আপনারা বিশ্বমানের উদ্যোক্তা। যুবকরা যে সুযোগ এনে দিয়েছে তা কাজে লাগিয়ে আপনারা স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবেন।”
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষ পারস্পারিকভাবে পরিচিত এবং একজনের সঙ্গে আরেকজনের যোগসূত্র রয়েছে। দুনিয়ায় এমন কোনও দেশ পাওয়া যাবে না যেখানে পরস্পর পরস্পরের সঙ্গে এমন ঘনিষ্ঠ। এখানে হয়তো কেউ সরকারে আছেন, কেউবা সরকারের বাইরে আছেন বা ব্যবসা করছেন। অথবা কেউ আছেন বিদেশে। কিন্তু আমাদের সবার সঙ্গে একটা যোগসূত্র আাছে। পারস্পারিক এই যোগসূত্রই আমাদের বড় শক্তি যা আমাদের স্বপ্ন পূরণে ভূমিকা রাখতে পারে।”
তরুণদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে নোবেলবিজয়ী ড. ইউনূস বলেন, “যে কয়টা দিন সরকারে থাকি- আমরা একসঙ্গে কাজ করতে চাই। আমাদের অঙ্গীকার হলো- নতুন বাংলাদেশের জন্য যা আছে তা করবো। যেন বলে যেতে পারি- এই দেশ আমাদেরকে একটা সুযোগ দিয়েছিল, আমরা সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করেছি।”
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তরুণরা প্রাণ দিয়েছে। যে বাংলাদেশে তাদের জন্ম ও বেড়ে ওঠা তা অসহ্য হয়ে উঠেছিল। এ কারণে যখন ছাত্রদের প্রাণ ঝরছিল- তখন সারাদেশের মানুষ তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশে এমন কোনও মানুষ ছিল না তাদের সমর্থন করেনি। তাদের প্রাণের ফলে আমরা একটা নতুন সুযোগ পেয়েছি।”
ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ বিনির্মাণে সংস্কার বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে ড. ইউনসূ বলেন, “সংস্কার কেবল সরকারের ওপর ছেড়ে দেবেন না। আসুন সবাই মিলে সংস্কার করি। যেখানে ভুল দেখবেন, আত্ম-জিজ্ঞাসা করবেন-সেখান থেকে বেরিয়ে আসার। ছেলেদের আত্মাহুতির দিকে তাকিয়ে ভুলপথ পরিহার করুন।”
শ্রমিক-মালিকের মধ্যে সরকার সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের মেয়াদকালে আমরা শ্রমিক-মালিকের সম্পর্ক সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে চাই। আমরা এখনও জেনেভা কনভেনশনে যোগ দিতে পারিনি। আমাদেরকে সাহস দিন, এগিয়ে আসুন, আমরা সবাই মিলে আইএলও কনভেনশনে স্বাক্ষর করি।”
তিনি শ্রমিকদের যা প্রাপ্য, মালিকদের তাতে শরিক হওয়ার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনায় অনেক বাধা রয়ে গেছে উল্লেখ করে অধ্যাপক ড. ইউনূস বলেন, “ব্যবসায় বাধার কোনও সীমা নেই। ব্যবসা করা এক মহা সংগ্রাম। তবে আমরা এসব বাধা পেরিয়ে যেতে আজ একযোগে সরকার, সরকারের বাইরে সবাই এক পরিবারের সদস্য হিসেবে কাজ করে যাবো।”
তিনি ব্যবসায়ীদের
উদ্দেশে বলেন, “বাংলাদেশ নিম্ন মধ্য-আয়ের দেশ থেকে উচ্চ মধ্য-আয়ের দেশে উন্নীত হলে রফতানির ক্ষেত্রে কিছু সুবিধা হারাবে। কিন্তু আমাদের প্রতিযোগিতায় শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।”
দেশের প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়াতে ব্যবসায়ীদের সামাজিক ব্যবসা চালুর আহ্বান জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, “আপনার গ্রাম, উপজেলা কিংবা আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের এলাকায় সামাজিক ব্যবসা গড়ে তুলুন। বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্য সেবা, শিক্ষা ও পরিবেশ উন্নয়নমূলক সামাজিক ব্যবসা করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে আপনি বিনিয়োগ করবেন মুনাফার জন্য নয়, অন্যের সহায়তা বা সুবিধার জন্য।”
সংলাপে অর্থ উপদেষ্টা ড, সালেহউদ্দিন
আহমেদ, পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন
মাহমুদ এবং ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই)’র সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন বক্তব্য রাখেন। সূত্র: বাসস
মন্তব্য করুন