

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বিকাশ প্রতারক চক্রের দুই সদস্য পুলিশের কাছে ধরা পড়ে ভুক্তভোগীর টাকা ফেরত দিয়েছেন। তারা হলেন- উপজেলার সহস্রাইল বাজারের অনলাইন ব্যাংকিং এজেন্ট ও সহস্রাইল গ্রামের রংধনু টেলিকমের কিবরিয়া মোল্যা ও একই ইউনিয়নের বাড়ইকান্দী গ্রামের পঙ্কজ বাড়ই।
তাদের আটকের পর সাবেক এক ইউপি চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় ছেড়ে দেয় পুলিশ।
খুলনার খান জাহান আলী থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক মো. ইশতিয়াক আহম্মেদ জানান, খুলনার শিরোমনি হাফেজিয়া মাদরাসার শিক্ষক হাফেজ মফিজুল ইসলাম মিস্ত্রিকে গত ১ সেপ্টেম্বর অজ্ঞাত পরিচয়ধারী এক ব্যক্তির মোবাইল ফোনে কল দিয়ে নিজেকে তার ছাত্রের অভিভাবক দাবি করে। ওই ব্যক্তি প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তার মোবাইল ব্যাংকিং রকেট অ্যাকাউন্ট নম্বরে টাকা প্রাপ্তির একটি ভুয়া ম্যাসেজ দেন।
তিনি বুঝতে না পেরে সরল বিশ্বাসে উক্ত নম্বরে ৪৫ হাজার টাকা ফেরত পাঠায়। পরে রকেট অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স চেক করলে তিনি প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে খুলনার খান জাহান আলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন ভুক্তভোগী হাফেজ মফিজুল ইসলাম।
অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করতে গিয়ে বোয়ালমারী থানা পুলিশের সহযোগিতায় গত শুক্রবার (৩ নভেম্বর) রাতে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সহস্রাইল বাজারে বিকাশ এজেন্ট ব্যবসায়ী কিবরিয়া ও পঙ্কজ বাড়ই এর মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট থেকে লেনদেনের সত্যতা পাওয়া যায়।
পরে শেখর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইসরাফিল মোল্যার মধ্যস্থতায় ভুক্তভোগীর ৪৫ হাজার টাকা ফেরত দেন তারা।
শেখর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. ইসরাফিল মোল্যা বলেন, কিবরিয়া ও পঙ্কজ বাড়ই এর মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট থেকে ভুক্তভোগীর টাকা লেনদেনের সত্যতা পাওয়া যায়। অভিযোগকারীর টাকা ফেরত দেওয়ায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
অভিযুক্ত সহস্রাইল বাজারের রংধনু টেলিকমের মালিক কিবরিয়া মোল্যা বলেন, ১০/১২ দিন আগে আমার দোকান থেকে যে ব্যক্তি প্রতারণার টাকা উত্তোলন করেছে আমি তাকে চিনি না। প্রতারক চক্রের সঙ্গে আমি জড়িত নই।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন
কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লা জেলার ১১টি সংসদীয় আসনে দাখিল করা মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ৩১ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। একই সঙ্গে ৭৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি ) মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের দ্বিতীয় দিনে কুমিল্লা-৭ থেকে কুমিল্লা-১১ আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই করা হয়। এদিন এসব আসনে মোট ১৫ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল বলে ঘোষণা করা হয়। এর আগে শুক্রবার কুমিল্লা-১ থেকে কুমিল্লা-৬ আসনের মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে ১৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লার ১১টি আসনে মোট ১০৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের মধ্যে ৭৬ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ এবং ৩১ জনের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে কুমিল্লার মধ্যে সবচেয়ে বেশি মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে কুমিল্লা-৯ (লাকসাম–মনোহরগঞ্জ) আসনে। এ আসনে দাখিল করা ১৩টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ৮টি মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়, যা জেলার মধ্যে সর্বাধিক।
কুমিল্লার রিটার্নিং কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান বলেন, “কুমিল্লায় ১১টি আসনে মোট ১০৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। শুক্রবার ও শনিবার দুই দিন ধরে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ৭৬টি মনোনয়নপত্র বৈধ এবং ৩১টি মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, তারা নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন।
মন্তব্য করুন


মজিবুর রহমান পাবেল, প্রতিবেদক:
কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে আনা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি, থ্রি-পিস ও আতশবাজিসহ একটি মিনি পিকআপ জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) ভোরে জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার যশপুর সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে এসব মালামাল জব্দ করা হয় বলে জানিয়েছে বিজিবি।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) নিয়মিত চোরাচালানবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে শনিবার রাত ও রোববার সকালে দুটি ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের এক পর্যায়ে যশপুর বিওপির একটি টহল দল সীমান্তের প্রায় ২৫০ গজ ভেতরে মুড়াপাড়া এলাকায় একটি পরিত্যক্ত মিনি পিকআপ জব্দ করে। পরে গাড়িটি তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় শাড়ি ও থ্রি-পিস উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া একই সীমান্ত এলাকার পাহাড়পুর নামক স্থানে সীমান্তের প্রায় ১০০ গজ ভেতরে পরিচালিত আরেকটি অভিযানে বড় ধরনের ভারতীয় আতশবাজির চালান জব্দ করা হয়।
বিজিবির হিসাব অনুযায়ী, জব্দকৃত মিনি পিকআপসহ ভারতীয় শাড়ি, থ্রি-পিস ও আতশবাজির আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৩৪ লাখ ৮১ হাজার টাকা।
কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) জানায়, জব্দকৃত মালামাল প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কাস্টমস অফিসে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও অবৈধ কার্যক্রম রোধে বিজিবির অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি ;
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে কুমিল্লায় নানা আয়োজনে দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হয়েছে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
এরপর কুমিল্লা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেলা প্রশাসক মু.রেজা হাসান।
এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশেদুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনীর একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও পর্যায়ক্রমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
শ্রদ্ধা নিবেদন করে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা পরিষদ প্রশাসক ও কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোস্তাক মিয়া, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, কুমিল্লা প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সর্বস্তরের মানুষ।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার ঘাগুটিয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর ঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে দুইজন নারী ও একজন পুরুষ রয়েছেন।
হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, দুপুরে এলাকায় ভারী বৃষ্টি শুরু হলে ভবানীপুর ঘাটে উজানচর-ঘাগুটিয়া খেয়া পারাপারের জন্য কয়েকজন অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় আকস্মিক বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়।
নিহতরা হলেন হোমনা উপজেলার নালা দক্ষিণ গ্রামের মৃত হাজি মতিউর রহমানের মেয়ে মমতাজ বেগম (৩৭) ও জাকিয়া (২৩) এবং অপরজন দুলালপুর ইউনিয়নের পাথালিয়াকান্দি গ্রামের পুরুষ।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানায় পুলিশ।
মন্তব্য করুন


গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তিস্তার দুর্গম চরাঞ্চলে গরু চোর সন্দেহে আব্দুস সালাম (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
আজ শনিবার (১ নভেম্বর) ভোরে উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের বেলকা নবাবগঞ্জ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুস সালাম একই ইউনিয়নের রামডাকুয়া গ্রামের ওমেদ আলীর ছেলে। এ ঘটনায় দুলালী বেগম (৪৩) নামে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ।
আটক দুলালী বেগম বেলকা নবাবগঞ্জ গ্রামের আব্দুল গণি মিয়ার স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে আব্দুস সালাম স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল গণি মিয়ার গোয়ালঘরে প্রবেশ করেন। বিষয়টি টের পেয়ে দুলালী বেগম ও তার স্বামী আব্দুল গণি মিয়া প্রতিবেশীদের খবর দেন। খবর পেয়ে এলাকাবাসী এসে সালামকে বেধড়ক মারধর করে। একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তাকে ওই বাড়ির অদূরে পুকুরপাড়ে ফেলে রাখা হয়, সেখানেই তার মৃত্যু হয়। সব শেষ খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
বাড়ির মালিক আব্দুল গণি মিয়া জানান, কয়েকদিন আগে তার একটি শ্যালো মেশিন চুরি হয়ে গেছে। গত রাতে আব্দুস সালামকে তার গোয়াল ঘরে দেখে তিনি প্রতিবেশীদের খবর দেন। পরে তারা এসে সালামকে মারধর করে।
এদিকে নিহতের স্বজনরা দাবি করছেন, সালামের বিরুদ্ধে আগে কখনও চুরির অভিযোগ ওঠেনি। সম্প্রতি আব্দুস সালাম মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। তারপর থেকে মানুষের দান-খয়রাতে তিনি জীবনযাপন করতেন। পরিকল্পিতভাবে নির্যাতন করে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল হাকিম আজাদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডে যারা জড়িত ছিল, তাদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিদ্রোহ কুমার কুন্ড জানান, স্বজনদের দাবি নিহত ব্যক্তি মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। ঘটনাটি তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায়
৬৪ কেজি গাঁজাসহ ২ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশ।
আজ
(১৯ ফেব্রুয়ারি) ব্রাহ্মণপাড়া
থানায় কর্মরত এসআই শাহাবুর আলম ও সঙ্গীয় ফোর্স গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার
ব্রাহ্মণপাড়া থানাধীন ১নং মাধবপুর ইউপিস্থ মাধবপুর বাজার এলাকায় কুমিল্লা টু সিলেট
মহাসড়কের পূর্ব পাশে পাকা রাস্তার উপর চেকপোস্ট ডিউটি করাকালে ১টি পিকআপ গাড়ি থেকে
৬৪ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী ওয়াহিদুন নবী ও মোঃ তপন মিয়া কে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত
আসামী হলো:১. ওয়াহিদুন নবী (২৭), পিতা-মোঃ মোসলেম উদ্দিন, সাং-মাধবপুর(দক্ষিণপাড়া),
থানা- ব্রাহ্মনপাড়া, জেলা: কুমিল্লা। ২. মোঃ তপন মিয়া (১৯), পিতা-মোঃ কানু মিয়া, সাং-মাধবপুর,
পোঃ-মাধবপুর, ১নং মাধবপুর ইউপি, উপজেলা/থানা- ব্রাহ্মনপাড়া, জেলা: কুমিল্লা।
উক্ত
ঘটনায় ব্রাহ্মনপাড়া থানার মামলা রুজু করা হয়।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি :
৮ ডিসেম্বর কুমিল্লা মুক্ত দিবস উপলক্ষে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য ও রোগমুক্তি কামনায় কুরআন খতম ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কুমিল্লা–০৬ আসনের জননেতা ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন এর উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে নগরীর কান্দিরপাড়ে কুরআন তেলাওয়াত ও খতমের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে বিকেলে অনুষ্ঠিত বিশেষ দোয়া-মাহফিলে শহীদদের রুহের মাগফেরাত এবং দেশনেত্রী বেগম জিয়ার শারীরিক সুস্থতার জন্য মোনাজাত করা হয়। এতে কুমিল্লা মহানগর বিএনপি, জেলা বিএনপি এবং বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেন।
দোয়া-মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এস এ বারী সেলিম, মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শহীদুল্লাহ রতন, আতাউর রহমান ছুটি, মাহাবুবুর রহমান দুলাল, মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য মুজিবুর রহমান কামাল, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আমিনুল ইসলাম, জাসাস মহানগর শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক মঞ্জুরুল আলম ভূইয়া।
এ ছাড়া অংশ নেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সৈয়দ মেরাজ, জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খলিলুর রহমান বিপ্লব, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম রনি, সালমান সাঈদ, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব এ কে এম শাহেদ পান্না, মহানগর কৃষক দলের আহ্বায়ক কাজী শাহিনুর, সদস্য সচিব ইকরাম হোসেন তাজ, যুবদল নেতা সাজ্জাদ হোসেন, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি নাহিদ রানা, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি কাজী জোবায়ের আলম জিলানী, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক ধীমান, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন রবিনসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মী।
দোয়া মাহফিলে বক্তারা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে শহীদদের স্মরণে দোয়া করা হয়। এছাড়া দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি কামনায় হাজী ইয়াছিন গত ১১ দিন ধরে ধারাবাহিকভাবে করআন খতম, দোয়া, খাবার বিতরন, পশু সদকাসহ ধর্মীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। নেতাকর্মীরা এতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছেন এবং দেশনেত্রীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন।
মন্তব্য করুন


মজিবুর
রহমান পাবেল,
প্রতিবেদক:
জাতীয় নাগরিক পার্টি'র (এনসিপি'র) কেন্দ্রীয় সদস্য সালাউদ্দিন জামিল সৌরভ বলেছেন, বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে বিভাগ সংখ্যা বৃদ্ধি একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। এই প্রেক্ষাপটে কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণা করার দাবি দীর্ঘদিন ধরেই চলমান। দেশের পূর্বাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর হিসেবে কুমিল্লা একটি পূর্ণাঙ্গ বিভাগের মর্যাদা পাওয়ার উপযুক্ততা বহু আগে থেকেই অর্জন করেছে।
১. ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রশাসনিক গুরুত্ব:
কুমিল্লা দেশের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত এবং এর আশপাশে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও লাকসাম-নাঙ্গলকোট অঞ্চলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। এই অঞ্চলগুলো মিলে একটি স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক, ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক বলয় তৈরি করে, যা একটি আলাদা বিভাগের প্রাকৃতিক কাঠামো উপস্থাপন করে।
২. জনসংখ্যার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয়তা:
কুমিল্লা জেলা নিজেই বাংলাদেশের অন্যতম জনবহুল জেলা। কুমিল্লা অঞ্চল ও আশেপাশের জেলা মিলে জনসংখ্যা প্রায় ১ কোটির কাছাকাছি। একটি বিভাগের মূল লক্ষ্য হলো প্রশাসনিক সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। ঢাকা বা চট্টগ্রামের মতো বড় বিভাগগুলোর তুলনায় এই অঞ্চলকে একটি আলাদা বিভাগে উন্নীত করলে জনগণের ওপর প্রশাসনিক চাপ কমবে এবং সেবা পৌঁছাবে আরও দ্রুত।
৩. অর্থনৈতিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব:
কুমিল্লা প্রাচীন কালে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ছিল। ময়নামতি, শালবন বিহার, এবং অন্যান্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এই জেলার সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরে। কুমিল্লা শিল্প, কৃষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়েও এগিয়ে রয়েছে। এখানকার ইপিজেড, রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্প এবং কৃষিপণ্য উৎপাদন উল্লেখযোগ্য। একটি বিভাগীয় শহর হিসেবে কুমিল্লার অর্থনৈতিক সক্ষমতা আরও বাড়বে।
৪. শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন:
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে এখানে। একটি বিভাগ প্রতিষ্ঠা হলে এই অঞ্চলের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে সরকারি বরাদ্দ বৃদ্ধি পাবে, উন্নয়ন প্রকল্প আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হবে।
৫. দূরত্ব ও প্রশাসনিক জটিলতা কমবে:
চট্টগ্রাম বিভাগের অংশ হিসেবে বর্তমানে কুমিল্লা অনেক প্রশাসনিক কাজে চট্টগ্রাম নির্ভরশীল। কিন্তু কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রামের দূরত্ব প্রায় ২০০ কিলোমিটার। ফলে সাধারণ মানুষকে বিভাগীয় কাজের জন্য ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিভাগ স্থাপন হলে এই জটিলতা দূর হবে।
৬. জনআকাঙ্ক্ষা ও দীর্ঘদিনের দাবি:
কুমিল্লাকে বিভাগ করার দাবি অনেক পুরনো এবং জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য। এই দাবি শুধু রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক নয়, বরং এটি স্থানীয় মানুষের আত্মপরিচয়, মর্যাদা ও উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের এমন যৌক্তিক দাবি উপেক্ষা করা অনুচিত।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায় দালাল চক্রের সাত সদস্যকে
আটক করেছে সেনাবাহিনী। এসময় তাদের কাছ থেকে ৫টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
সোমবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে দেবিদ্বার
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভিতরে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমান
আদালতের মাধ্যমে তাদের তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)
ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন, ছোট
আলমপুরের এরশাদ মিয়ার ছেলে বিল্লাল হোসেন, একই গ্রামের আব্দুল ওয়াহেদ মিয়ার মেয়ে নাছিমা
আক্তার, বারুর গ্রামের মৃত ঈসমাইল মিয়ার ছেলে আব্দুল জলিল মিয়া, বারেরা গ্রামের সুলতান
আলীর ছেলে মো. জাকির হোসেন, ওয়াহেদপুর গ্রামের আবুল কাশেম মিয়ার মেয়ে শাহেনা আক্তার,
একই গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে মো. বুলবুল এবং রসুলপুর গ্রামের জিয়াখানের মেয়ে
ফাতেমা আক্তার।
ভ্রাম্যমান আদালত সূত্রে জানা গেছে,
আটক দালাল চক্রের সাত সদস্য রোগীদের ভুল বুঝিয়ে হাসপাতাল থেকে বাইরের বিভিন্ন বেসরকারি
হাসপাতালে নিয়ে যেতেন অপরদিকে হাসপাতালে সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সুযোগ থাকার পরও
তারা বেসরকারি হাসপাতালে উচ্চ মূল্যে পরীক্ষা নিরিক্ষা করাতে বাধ্য করতেন। রোগীরা চিকিৎসা
করাতে রাজী না হলে হয়রানি করতেন চক্রের সদস্যরা।
দেবিদ্বার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)
ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম বলেন, দালালেরা সরকারি হাসপাতাল
থেকে তাঁদের কমিশন ভিত্তিক বিভিন্ন ক্লিনিক ও বেসরকারি হাসপাতালে রোগী ভাগিয়ে নিচ্ছেন
এমন তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর একটি দল অভিযান চালিয়ে চক্রের সাত সদস্যকে আটক করে।
পরে আটক সাতজনকে তিন মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার
কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. আলী এহসান বলেন, দালাল চক্রের শতাধিক সদস্য হাসপাতালের স্বাভাবিক
স্বাস্থ্যসেবায় ব্যাহত করছে। তারা দূর থেকে আসা সাধারণ রোগীদের কম টাকায় ভালো চিকিৎসা
দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন ফাঁদে ফেলে সরকারি হাসপাতাল থেকে বাহিরের বিভিন্ন ক্লিনিকে
নিয়ে যায়। এতে সাধারণ রোগীরা ভালো চিকিৎসা পাওয়ার বদলে প্রতারিত হচ্ছেন। ওই দালাল চক্রের
সাত সদস্যকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন


ফেনীতে ভয়াবহ বন্যায় নিহত হয়েছেন একজন।
নিখোঁজ রয়েছেন একাধিকজন। এ ছাড়াও চার শতাধিক মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। ফুলগাজী, পরশুরাম
ও ছাগলনাইয়া উপজেলার সব এলাকার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তলিয়ে গেছে রাস্তা-ঘাট
ও বসতবাড়ি। নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে বন্যাদুর্গতরা। এ দিকে বিপৎসীমার ৯০ সেন্টিমিটার
ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনীয়া নদীর পানি।
ফুলগাজী উপজেলার সদর ইউনিয়ন, আনন্দপুর,
মুন্সীরহাট, আমজাদহাট ইউনিয়নের ৪০টির বেশি গ্রাম ও পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর, চিথলিয়া,
বক্সমাহমুদ এবং পৌরশহরসহ ৪৫টির বেশি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে।
এ ছাড়া ছাগলনাইয়ার পাঠাননগর, রাধানগর,
শুভপুর ইউনিয়নসহ তলিয়ে গেছে পুরো উপজেলার রাস্তাঘাট, পুকুর ও ফসলি জমি। কিছু কিছু এলাকায়
মানুষের ঘরের ছাদ ও টিনের চাল ছুঁয়েছে বন্যার পানি। এমন পরিস্থিতিতে আশ্রয় খুঁজছেন
বাসিন্দারা। বন্যাদুর্গতদের জন্য ত্রাণ সহায়তা নিয়ে মাঠে নেমেছে স্থানীয় প্রশাসন ও
বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
বুধবার (২১ আগস্ট) পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী
কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজা হাবিব শাপলা বলেন, ভয়াবহ এ বন্যায় স্থানীয় পৌরসভা ও উপজেলার
প্রায় অধিকাংশ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অসংখ্য মানুষ। দিনের প্রথম
প্রহর থেকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্য এবং স্বেচ্ছাসেবক ছাত্রদের সহায়তায় নৌকা দিয়ে লোকজনকে
উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ১০০ জনকে
উদ্ধার করা হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধার কাজ পরিচালনা করার জন্য সেনাবাহিনী এবং কোস্টগার্ডের
সহায়তা চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একজন লোক নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। উপজেলা প্রশাসনের
পক্ষ থেকে দুর্গতদের মাঝে ৫০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ ও আরও ৫০০ প্যাকেট শুকনো খাবার
এবং ৫০ টন চাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা
তানিয়া ভূইয়া বলেন, স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ এ বন্যায় উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নের প্রায়
অধিকাংশ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে, পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অসংখ্য মানুষ। মঙ্গলবার (২০ আগস্ট)
থেকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্য এবং স্বেচ্ছাসেবক ছাত্রদের সহায়তায় নৌকা দিয়ে লোকজনকে উদ্ধার
করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, এ উপজেলায় এখন পর্যন্ত প্রায়
৩০০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সেনাবাহিনী এবং কোস্টগার্ডের সহায়তায় উদ্ধার কাজ
শুরু করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত একজন মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গিয়েছে। পানির উচ্চতা সময়ের সঙ্গে
সঙ্গে বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ ও
আরও ৫০০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ১৮ টন চাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয়
প্রকৌশলী আবুল কাশেম বলেন, মুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ৯০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত
হচ্ছে। ভারি বৃষ্টি ও ভারতীয় পাহাড়ি ঢলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে।
মন্তব্য করুন