

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় বিয়ের দাবিতে
৩৫ বছরের এক নারীর বাড়িতে অনশন করেছেন আবুল কাসেম মুন্সি (৭৫) নামে এক বৃদ্ধ।
গত শনিবার (১৬ আগস্ট) উপজেলার বড়মাছুয়া
ইউনিয়নের ঠুটাখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তবে বিষয়টি টের পেয়ে ওই নারী আত্মগোপনে চলে যান।
জানা গেছে, আবুল কাসেম মুন্সি উপজেলার
বেতমোর রাজপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম মিঠাখালী গ্রামের মৃত আজাহার আলী মুন্সির ছেলে। স্ত্রী
মারা যাওয়ার পর তিনি পুনরায় বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। প্রায় দুই মাস আগে ওই নারীর সঙ্গে
পরিচয় হলে বিয়ের প্রস্তাবে তিনি রাজি হন বলে দাবি বৃদ্ধের।
এ বিষয়ে বৃদ্ধ আবুল কাসেম মুন্সি বলেন,
বিয়ের কথা বলে ওই নারী আমার কাছ থেকে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা নিয়েছে। কিন্তু কিছুদিন
ধরে হঠাৎ যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এমনকি আমাকে ভুল ঠিকানাও দেয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর
তার আসল বাড়ি খুঁজে পেয়েছি। হয় আমার টাকা ফেরত দেবে, নয়তো আমাকে বিয়ে করবে। এই দাবিতেই
আমি অনশনে বসেছি।
এলাকাবাসী জানায়, ওই নারী আগেও একাধিক
পুরুষকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তিনি যেন আর কাউকে প্রতারিত করতে
না পারেন সেজন্য তার শাস্তি হওয়া উচিত।
এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা
(ইউএনও) আবদুল কাইয়ূম বলেন, আমার কাছে এমন কোন অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ এলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা
নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায় দালাল চক্রের সাত সদস্যকে
আটক করেছে সেনাবাহিনী। এসময় তাদের কাছ থেকে ৫টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
সোমবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে দেবিদ্বার
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভিতরে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমান
আদালতের মাধ্যমে তাদের তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)
ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন, ছোট
আলমপুরের এরশাদ মিয়ার ছেলে বিল্লাল হোসেন, একই গ্রামের আব্দুল ওয়াহেদ মিয়ার মেয়ে নাছিমা
আক্তার, বারুর গ্রামের মৃত ঈসমাইল মিয়ার ছেলে আব্দুল জলিল মিয়া, বারেরা গ্রামের সুলতান
আলীর ছেলে মো. জাকির হোসেন, ওয়াহেদপুর গ্রামের আবুল কাশেম মিয়ার মেয়ে শাহেনা আক্তার,
একই গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে মো. বুলবুল এবং রসুলপুর গ্রামের জিয়াখানের মেয়ে
ফাতেমা আক্তার।
ভ্রাম্যমান আদালত সূত্রে জানা গেছে,
আটক দালাল চক্রের সাত সদস্য রোগীদের ভুল বুঝিয়ে হাসপাতাল থেকে বাইরের বিভিন্ন বেসরকারি
হাসপাতালে নিয়ে যেতেন অপরদিকে হাসপাতালে সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সুযোগ থাকার পরও
তারা বেসরকারি হাসপাতালে উচ্চ মূল্যে পরীক্ষা নিরিক্ষা করাতে বাধ্য করতেন। রোগীরা চিকিৎসা
করাতে রাজী না হলে হয়রানি করতেন চক্রের সদস্যরা।
দেবিদ্বার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)
ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম বলেন, দালালেরা সরকারি হাসপাতাল
থেকে তাঁদের কমিশন ভিত্তিক বিভিন্ন ক্লিনিক ও বেসরকারি হাসপাতালে রোগী ভাগিয়ে নিচ্ছেন
এমন তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর একটি দল অভিযান চালিয়ে চক্রের সাত সদস্যকে আটক করে।
পরে আটক সাতজনকে তিন মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার
কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. আলী এহসান বলেন, দালাল চক্রের শতাধিক সদস্য হাসপাতালের স্বাভাবিক
স্বাস্থ্যসেবায় ব্যাহত করছে। তারা দূর থেকে আসা সাধারণ রোগীদের কম টাকায় ভালো চিকিৎসা
দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন ফাঁদে ফেলে সরকারি হাসপাতাল থেকে বাহিরের বিভিন্ন ক্লিনিকে
নিয়ে যায়। এতে সাধারণ রোগীরা ভালো চিকিৎসা পাওয়ার বদলে প্রতারিত হচ্ছেন। ওই দালাল চক্রের
সাত সদস্যকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন


মন্তব্য করুন


কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) নৃবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে চলন্ত বাসে ‘শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণচেষ্টার’ অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তাতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের অজামিনযোগ্য দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
শুক্রবার (২২ আগস্ট) সকালে ৯ টার দিকে সেন্টমার্টিন পরিবহণ নামের ঢাকা মেট্রো-ব ১৫৭১৬৬ নম্বর প্লেটের একটি বাসে এই ঘটনা ঘটে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আজ (২২ আগস্ট) সকাল ৯ টার দিকে ঢাকার উদ্দেশ্যে কোটবাড়ি বিশ্বরোড থেকে সেন্টমার্টিন বাসে উঠেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। বাসটি পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড থেকে ইউ টার্ন নেওয়ার কথা বলা থাকলেও তাকে (ভুক্তভোগী) নিয়ে বাসটি চৌদ্দগ্রামের দিকে চলে যায়। এরপর সুয়াগাজী নামক স্থানে গিয়ে ইউ টার্ন নিয়ে পুনরায় পদুয়ার বাজার আসে। তখন বাসে ছিল চালক, হেল্পারসহ আরও তিনজন। বাসে একা পেয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর গলায় ছুরি ধরে গহনা, টাকাপয়সা নিয়ে নেয় ও ধর্ষণের চেষ্টা করে। তখন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর হাতে কামড় দেন অভিযুক্তরা। এরপর শিক্ষার্থীকে হাতপা বেঁধে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে সেই শিক্ষার্থীর (ভুক্তভোগী) অনুরোধে ফেলে না দিয়ে শাকিল আবাসিক হোটেল নামক হোটেলে নিয়ে আসে। পদুয়ার বাজারের স্থানীয় এক ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খবর দিলে শিক্ষার্থীরা গিয়ে ভুক্তভোগীর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করে এবং বাসে থাকা দুজনকে আটক করে। এসময় জড়িত অন্য তিনজন পালিয়ে যান।
ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা ৯৯৯ ফোন দিলে পুলিশ আসে। শিক্ষার্থীরা বাস মালিক এবং অভিযুক্ত বাকী দুইজনকে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসার জন্য দাবি জানায়। পুলিশ শিক্ষার্থীদের দাবি মানতে অস্বীকৃতি জানালে দুপুর বারোটার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। এতে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের দাবি না মানায় ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি ঠান্ডা করার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়।
পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা আলোচনায় আসলে ভ্রাম্যমাণ আদালতে অভিযুক্তদের দুইবছর কারাদণ্ড দেয়। বাকিদের ধরতে অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাদী হয়ে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণ চেষ্টার মামলা করবে বলে নিশ্চিত করেছেন। ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা সেন্টমার্টিন পরিবহনের দুটি বাস জব্দ করে ক্যাম্পাসে নিয়ে এসেছে।
গ্রেপ্তারকৃত দুইজন হলেন–মোঃ হোসেন আলী (২৫) এবং মোঃ আলী হোসেন (২৩)। গ্রেফতারকৃতদের ভাষ্যমতে পলাতক তিনজন হলেন–পিচ্চি রাসেল (৩২), নূর আলম এবং সৌরভ এবং সেন্টমার্টিন পরিবহনের মালিক হলেন মো: চাঁন মিয়া।
এবিষয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণের উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুবাইয়া খানম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের এসেই আমি প্রস্তাব দিয়েছিলাম মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজা দেওয়া বিষয়ে। শিক্ষার্থীরা শুরুতে আমার কথায় কর্ণপাত করেনি। অবশেষে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি মেনে নিয়েছে।’
কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন বলেন, গ্রেফতার হওয়া দুইজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বাকী অভিযুক্ত অন্য তিনজনকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করার চেষ্টা চলছে। আশাকরি পুলিশ প্রশাসনের কোনো গাফিলতি থাকবে না।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোঃ আবদুল হাকিম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের থেকে খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে দ্রুতই চলে আসি। এসে দেখি পরিস্থিতি উত্তপ্ত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী এসেও হিমশিম খাচ্ছে। অবশেষে একটা সুরাহা হয়েছে। অভিযুক্তদের দুইবছর কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। আমি ধর্ষণের পক্ষে নই, আমি চাই এর অভিযুক্তরা শাস্তি পাক।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ হায়দার আলী বলেন, আমাদের একজন নারী শিক্ষার্থীদের হাত-পা বেধে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে এবং বাস থেকে ফেলে দিয়ে মধ্যযুগীয় নির্যাতন করেছে। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দুইজন ধরা পরেছে, তারা পুলিশের কাছে আছে এবং পুলিশ প্রশাসন কথা দিয়েছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাকি তিনজনে গ্রেপ্তারর করবে।এখানে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আছেন, তিনি অপরাধীদের ২ বছরের অজামিনযোগ্য জেল দিয়েছেন এবং পুলিশ ঘোষণা দিয়েছেন তারা ১ মাসের মধ্যে চার্জশিট দিবেন যাতে ন্যায় বিচার নিশ্চিত হয়।
মন্তব্য করুন


বরগুনার সদর উপজেলায় জাল টাকাসহ ইমরান (২৫) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। (৬ ফেব্রুয়ারি)মঙ্গলবার দুপুরে বরগুনা সদর উপজেলা চত্বর থেকে তাকে আটক করা হয়।
আটক জেলা সদর উপজেলার ৬ নম্বর বুড়িরচর ইউনিয়নের বুড়িরচর গ্রামের খলিল খাঁর ছেলে ইমরান।
বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে প্রতারক চক্রের এক সদস্যের কাছে টাকা পাঠাতে যান ইমরান। কুরিয়ার সার্ভিসের সদস্যরা সন্দেহজনকভাবে তার হাতে থাকা পার্সেল খুলে জাল টাকা দেখতে পান। টাকার সম্পর্কে জানতে চাইলে যুবক দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় উপজেলা পরিষদ চত্বরে গ্রাম পুলিশের সহযোগিতায় তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। ইমরানের কাছ থেকে সাড়ে ৮ হাজার টাকার জাল নোট জব্দ করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি জাল টাকা প্রতারক চক্রের একজন সদস্য। তার বিরুদ্ধে জাল মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হবে।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (বাইউস্ট)-এর গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিলের ২০২৬–২৭ সেশনের নবগঠিত কার্যনির্বাহী কমিটির উদ্বোধনী সভা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গাম্ভীর্য ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। নতুন শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রম সুসংগঠিত ও লক্ষ্যভিত্তিকভাবে পরিচালনার প্রত্যয় নিয়ে আয়োজিত এ সভায় উপস্থিত ছিলেন কাউন্সিলের উপদেষ্টা পরিষদ, ট্রাস্টি বোর্ড এবং নবনির্বাচিত নির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের সূচনায় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যবৃন্দ একে একে সভাকক্ষে প্রবেশ করেন। সর্বপ্রথম সভাপতিত্বের আসন গ্রহণ করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মোঃ নায়েম আলীমুল হায়দার। এরপর ক্রমানুসারে উপস্থিত হন উপদেষ্টা মোহাম্মদ আলমগীর, তানজিলা তামান্না, লুৎফর রহমান রানা, ইয়াকুব আলী, মোঃ ইমরানুল হাসান ইমন এবং ফয়সাল আহমেদ জেলানি। তাঁদের উপস্থিতিতে সভার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
উপদেষ্টা পরিষদের পরিচিতি পর্ব শেষে ট্রাস্টি বোর্ডের কাঠামো ও দায়িত্ব উপস্থাপন করা হয়। ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সাদমান শারার, সহ-চেয়ারম্যান রাফি বিন হাসনাত, পরিচালক আসিফ এলাহী দীপ্ত এবং উপ-পরিচালক আসফাক আহমেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বোর্ডের নীতিগত অবস্থান, জবাবদিহিতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। তাঁরা কাউন্সিলের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সক্রিয় সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
এছাড়াও গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান রায়হান আব্দুল্লাহর নেতৃত্ব ও দূরদর্শী পরিকল্পনার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। তাঁর উদ্যোগ ও সাংগঠনিক ভিত্তি কাউন্সিলের বর্তমান কাঠামো ও কার্যক্রমকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছে।
সভাটি সঞ্চালনা করেন একাডেমিক বিষয়ক সম্পাদক সাইদেল মনতাহা জান্নাত এবং জনসংযোগ বিষয়ক সম্পাদক নিপর্ণা দেবনাথ। তাঁদের সুসংগঠিত উপস্থাপনায় অনুষ্ঠান ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে চলে। প্রথম পর্যায়ে তাঁরা পঞ্চম কমিটির সভাপতি হাসিবুর রহমান শাফিনকে আমন্ত্রণ জানান ষষ্ঠ কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করার জন্য।
ঘোষণাকালে তিনি ২০২৬–২৭ সেশনের সভাপতি হিসেবে মোঃ আল আমিন সরকার এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাত্রি দে-র নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। উপস্থিত সকল সদস্য করতালির মাধ্যমে নবনির্বাচিত নেতৃত্বকে স্বাগত জানান।
সভাপতি আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে ২০২৬–২৭ সেশনের পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়। তিনি সভাপতি হিসেবে মোঃ আল আমিন সরকার এবং সহ-সভাপতি হিসেবে আনিকা তাহসিন তাসনিয়ার নাম ঘোষণা করেন। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাত্রি দে, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আহম্মেদ ইসলাম জনি, সাংগঠনিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে আবদুর রহিম শুভ, জনসংযোগ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে নিপর্ণা দেবনাথ, একাডেমিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে সাইদেল মনতাহা জান্নাত, গণমাধ্যম ও যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে আরফান আরাফাত সিমুন এবং অর্থ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে আজরা সাদিয়ার নাম ঘোষণা করা হয়। ঘোষণার মাধ্যমে নবগঠিত কার্যনির্বাহী কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করে।
পরবর্তীতে সাধারণ সম্পাদক রাত্রি দে বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বলেন, গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল কেবল একটি সংগঠন নয়, এটি নেতৃত্ব বিকাশ, কূটনৈতিক চর্চা ও বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম। তিনি সদস্যদের প্রতি দায়িত্বশীলতা, সময়ানুবর্তিতা এবং সমন্বিত দলগত কাজের গুরুত্ব তুলে ধরেন। পরিকল্পিত কার্যক্রম, গবেষণাভিত্তিক প্রস্তুতি এবং নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কাউন্সিলকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিনিধিত্বশীল অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। স্বচ্ছতা ও ফলাফলভিত্তিক কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলার প্রত্যয়ও তিনি ব্যক্ত করেন।
এরপর সভাপতি মোঃ আল আমিন সরকার তাঁর বক্তব্যে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় বৈশ্বিক রাজনীতি, কূটনীতি ও নীতি নির্ধারণী আলোচনায় দক্ষতা অর্জন সময়ের দাবি। কেন আন্তর্জাতিক পরিসরে অংশগ্রহণ প্রয়োজন— এ প্রশ্ন উত্থাপন করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সম্মেলন ও সিমুলেশন কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি, আলোচনায় দক্ষতা এবং নেতৃত্বগুণ বিকাশে সহায়ক। তিনি কাউন্সিলকে একটি সুশৃঙ্খল, দায়িত্বশীল ও পেশাদার সংগঠনে রূপান্তরের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সভায় পরবর্তীতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যৌথভাবে একটি মডেল ইউনাইটেড নেশনস সিমুলেশনের উপস্থাপনা প্রদান করেন। সেখানে একটি পূর্ণাঙ্গ সম্মেলন আয়োজনের কাঠামো, কমিটি গঠন, প্রতিনিধি ব্যবস্থাপনা, একাডেমিক প্রস্তুতি এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। এ উপস্থাপনা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার একটি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
সবশেষে প্রধান উপদেষ্টা ড. মোঃ নায়েম আলীমুল হায়দার সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বলেন, সুসংগঠিত নেতৃত্ব, শৃঙ্খলাবদ্ধ দায়িত্ব বণ্টন এবং সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিলকে একটি আদর্শ প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করা সম্ভব। তিনি সকল সদস্যকে নিষ্ঠা, সততা, নথিবদ্ধকরণ এবং দলগত সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি আশ্বস্ত করেন যে, সঠিক পরিকল্পনা ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে ভবিষ্যতে বাইউস্ট ক্যাম্পাসে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন সম্মেলন সফলভাবে আয়োজন করা সম্ভব হবে।
উদ্বোধনী সভাটি নতুন সেশনের কার্যক্রমে উদ্দীপনা, সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কার্যক্রম পরিচালনার প্রত্যয়ে গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিলকে আরও গতিশীল ও সুসংহত পথে এগিয়ে নেওয়ার ভিত্তি স্থাপন করে।
মন্তব্য করুন


প্রানী নির্যাতন রোধে সচেতনতা বাড়াতে ক্যাটস হোম বিড়ালের বাড়ি ও বিড়াল সমাচার, কুমিল্লার আয়োজনে কুমিল্লায় বিড়াল প্রেমীদের নিয়ে ইফতার মাহফিল অসুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার বিকেলে নগরীর একটি রেস্টুডেন্টে ইফতার মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন ক্যাটস হোম বিড়ালের বাড়ি এর প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন রনী।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ভেট শেখ ইসমাইল আহমেদ, ভেট হাসিবুর রহমান সাফা, ক্যাটস হোম বিড়ালের বাড়ি এর যুগ্মআহবায়ক জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল, মোঃ আনোয়ার হোসাইন, শিহাব মাহমুদ, সদস্য সচিব লাকী রহমান, সদস্য এমদাদুল হক আখন্দ, বিড়াল সমাচার, কুমিল্লা গ্রুপের এডমিন জাবেদ কাউছার রাজন, শায়লা শিলা, ফারহান তানিন হীরা, সাংবাদিক আরিফুর রহমান মজুমদার, জহিরুল হক বাবু, মাইনুল হক স্বপন, প্রানী প্রেমী মির্জা আশরাফ, মেহেক তাইহান, পিয়াস খান, লুবাইনা তাহিয়াত, জান্নাতুল প্রীতি, তানিয়া তানহা বৃষ্টি, ইমন হোসেন, জাহানারা আক্তার নিশি, ইমরান হোসেন, লামিয়া বীথি, আতিক রহমান আশিকসহ আরো অনেকে।
মন্তব্য করুন


চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ঘরের দরজা ভেঙে আড়াই বছর বয়সী শিশুসহ মায়ের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ১০টায় উপজেলা সদর বিবিরহাট পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পেছনে কামাল ভবনের নিচতলা থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত গৃহবধূর আফরোজা আফরিন (২৫) ফটিকছড়ি পৌরসভা ৮নং ওয়ার্ডের মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলামের স্ত্রী ও শিশু আতকিয়া তাদের একমাত্র কন্যাসন্তান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে ওই গৃহবধূ তার কন্যা সন্তানকে নিয়ে ঘরের দরজা লাগিয়ে দেয়। পরে শ্বশুর এবং ননদ অনেক ডাকাডাকির পর দরজা না খুললে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ এসে গৃহবধূর মরদেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় এবং তার শিশু সন্তানের মরদেহ খাটের উপর দেখতে পায়।
নিহতের শ্বশুর মো. কামাল বলেন, আড়াই বছর আগে আমার ছেলের সঙ্গে আফরোজার বিয়ে হয়। পরে তাদের এক কন্যা সন্তান হয়। কিছুদিন ধরে আফরোজার মানসিক সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসা নিয়েছে।
এ বিষয়ে ফটিকছড়ি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে দরজার তালা ভেঙে আমরা লাশ উদ্ধার করেছি। ঘরের ভেতর গৃহবধূর লাশ ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় এবং তার শিশু সন্তানের লাশ খাটের উপর পাওয়া যায়। তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার আসল কারণ বের করা হবে।
মন্তব্য করুন


নেত্রকোনার ধনু নদে স্পিডবোট উল্টে নিখোঁজদের সবার লাশ উদ্ধার হয়েছে। রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নেত্রকোণার হাওরাঞ্চলের খালিয়াজুরি উপজেলার ধনু নদে বিয়েবাড়ির স্পিডবোট ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ থাকা তিনজনের মরদেহ পাওয়া গেছে। এতে দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে চারজন হলো।
এর মধ্যে রোববার সকাল পৌনে ১০টার দিকে ধনু নদের চরপাড়া এলাকায় দুজনের মরদেহ এবং বেলা আড়াইটার দিকে আরেক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম এ কাদের জানান।
তিনি বলেন, রোববার সকাল থেকেই ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল পুলিশ ও স্থানীয় জনগণের সহায়তায় দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছিল। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পাঁচহাটের দক্ষিণের বালুচর এলাকা থেকে একে একে নিখোঁজ তিন জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
তারা হলেন- স্বপন মিয়ার মেয়ে লায়লা আক্তার (৭), নবাব মিয়ার মেয়ে শিরিন আক্তার (১৮) ও সামসু মিয়ার মেয়ে সামিয়া (১১)। এর আগে শনিবার দুপুরে উষা মনি (৪) নামের এক শিশুর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তারা সবাই একই উপজেলার আন্ধাইর গ্রামের বাসিন্দা।
আন্ধাইর গ্রামের নবাব মিয়ার ছেলে রানা মিয়ার বিয়ের বরযাত্রী যেতে স্পিডবোটটি আনা হয়েছিল। বোটে বিয়েবাড়ির ১৫ জন স্বজন মিলে ঘুরতে বের হওয়ার পর এ ঘটনা ঘটে। পণ্যবাহী বাল্কহেডের ধাক্কা থেকে বাঁচতে গিয়ে ডিঙি নৌকার সঙ্গে ধাক্কা লেগে উল্টে যায় স্পিডবোটটি। এ সময় তিন শিশুসহ ৪ জন নিখোঁজ হন। অন্যদের আহত অবস্থায় উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম এ কাদের জানান, দুর্ঘটনার প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর রোববার বেলা আড়াইটার দিকে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে সামিয়ার মরদেহ ভেসে উঠতে দেখে স্থানীয়রা উদ্ধার করেন।
এর আগে সকাল পৌনে ১০টার দিকে দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ভাসমান অবস্থায় লায়লা আক্তার ও শিরিন আক্তারের লাশ উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া শনিবার দুপুরে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূর থেকে ঊষামণির লাশ উদ্ধার করেছিলেন স্থানীয়রা।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম এ কাদের জানান, ঘটনার পরপর পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও স্থানীয়রা উদ্ধার তৎপরতায় নামেন। সর্বশেষ নিখোঁজ শিশু সামিয়ার লাশ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে উদ্ধার তৎপরতা শেষ হয়েছে।
পরে লাশ মৃতদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছেও বলে জানান এই কর্মকর্তা।
মন্তব্য করুন


মো: মাসুদ মিয়া ,কচুয়া:
জীবনযুদ্ধে হার না মানা এক যোদ্ধা আজগর হোসেন (৩০)। তিনি একজন দিনমজুর। দুর্ঘটনায় হারিয়েছেন একটি হাত। পুরো পরিবার এখন নির্ভরশীল তার এক হাতের ওপর। ঘরে ২ মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে আজগর হোসেনের সংসার। তার আয়ে কোনোরকম চলছে পরিবারটি।
এলাকায় কাজ না থাকলেও বর্তমানে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার বাঁচাইয়া মেসার্স এসএবি বিকস ফিল্ডে শ্রমিকের কাজ করের তিনি। ওই ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করে যে টাকা উপার্জন করেন, তা দিয়ে চলে পরিবারটি।
জানা যায়, ২০ বছর আগে ইটভাটায় এক দুর্ঘটনায় আজগর হোসেন হারিয়ে ফেলেন তার ডান হাতটি। এক হাত না থাকলেও জীবন সংগ্রামে ঠিকে থাকার প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। কোনো ভিক্ষাবৃত্তি না করে আত্মনির্ভরশীল হতে কাজ করছেন সে। তবে এমন বাস্তবতায় তিনি থেমে থাকেননি। এক হাত নিয়েই ধরেন সংসারের হাল। যদিও আগের চেয়ে তার উপার্জন কমেছে, তবুও পরিবারকে বাঁচাতে দিন রাত পরিশ্রম করে চলছেন আজগর হোসেন। আজগর হোসেন নোয়াখালী জেলার সুবর্নচর উপজেলার চররশিদ গ্রামের অধিবাসী আব্দুল মালেকের ছেলে। বর্তমানে সে কচুয়ার বাচাঁইয়া ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করছেন।
শ্রমিক মো. আজগর হোসেন বলেন, আমার জায়গা জমি বলতে ভিটেমাটি ছাড়া কিছুই নেই। ২০০৫ সালে ইটভাটায় কাজ করতে গিয়ে দূর্ঘটনায় আমার ডান হাতটি নষ্ট হয়ে কাটা পড়ে । আমি এই এক হাত দিয়ে ইটভাটায় মাটি কাটা, ইট সারিবদ্ধ সহ বিভিন্ন কাজ করে থাকি। তবে আমার এক হাত নেই বলে আগের মতো কেউ আর কাজে নিতে চায় না। শরীরে যতক্ষণ দম আছে এক হাতেই কাজ করে যাব, তবুও ভিক্ষার মতো নিচু কাজ করব না।
অন্য শ্রমিকরা বলেন, আজগর হোসেন ও তার পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। এক হাতের ওপর চলছে পুরো সংসার। মেয়ে ও পরিবারের খরচ যোগান দিতে না পারায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।
এ বিষয়ে মের্সাস এসএবি বিকস্ এর পরিচালক মো. এমরান হোসেন জনি বলেন, এ ইটভাটায় প্রায় শতাধিক শ্রমিক কাজ করে। কেউ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসেন। তারই মধ্যে আজগর হোসেন তার এক হাত নেই, তবুও তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। তার মতো অন্যরা এভাবে কাজ করলেও হয়তো ভিক্ষাবৃত্তি রোধ করা যেত। আজগর হোসেন অনেক মানুষের অনুপ্রেরনা।
মন্তব্য করুন


এক প্রেমিকা নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিলো। এরই জের ধরে বেলাল হোসেন নামের এক বন্ধু আরেক বন্ধু সিরাজুল ইসলামের পুরুষাঙ্গ কেটে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে ঘটনার পর অভিযুক্ত বেলাল হোসেনকে পুরুষাঙ্গ ও পেট কাটা অবস্থায় স্থানীয়রা পাটক্ষেত থেকে উদ্ধার করে।
বুধবার (১৯ জুন) বিকেলে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলাল হোসেনের মৃত্যু হয়।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি মঙ্গলবার (১৮ জুন) দুপুরে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কামালের পাড়া ইউনিয়নের সুজালপুর গ্রামে ঘটেছে।
বেলাল হোসেন (২০) সুজালপুর গ্রামের মফিজল হকের ছেলে এবং সিরাজুল ইসলামের (২১) পাশের ঘুরিদহ ইউনিয়নের পবনতাইড় গ্রামের তোতা মিয়ার ছেলে।
কামালেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিনুর ইসলাম সাজু জানান, এক মেয়েকে নিয়ে দুই বন্ধুর সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। মেয়েটি বেলালের আত্নীয়। এর মধ্যে বেলাল জানতে পারে ওই মেয়ের সঙ্গে সিরাজুলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর বেলাল ঈদের পরদিন বন্ধু সিরাজুলকে দাওয়াত দিয়ে বাড়িতে ডেকে নেয়। পরে জোরপূর্বক সিরাজুলের পুরুষাঙ্গ ব্লেড দিয়ে কেটে দেয় বেলাল। এ সময় সিরাজুলের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।
এদিকে ঘটনার পর অভিযুক্ত বেলাল হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। একইদিন বিকেলে কামালের পাড়া ইউনিয়নের একটি পাটক্ষেতে বেলালকে পুরুষাঙ্গ ও পেট কাটা কাটা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (১৯ জুন) বিকেলে তার মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে সাঘাটা থানার ওসি মততাজুল হক জানান, ঘটনার পর একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বিকেলে বগুড়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলাল মারা গেছেন। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এভাবে একজন আরেকজনের পুরুষাঙ্গ কেটে দেয়ার ঘটনা অস্বাভাবিক। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মন্তব্য করুন