

ভারতের
মধ্য প্রদেশে গোবর ও গোমূত্র দিয়ে ক্যানসারের ওষুধ তৈরির একটি সরকারি গবেষণা প্রকল্পে
ব্যাপক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় এক দশক ধরে চলা এই প্রকল্পে রাজ্য সরকারের
কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও গবেষণার বাস্তব ফলাফল এবং অর্থ ব্যবহারের স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর
প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
২০১১
সালে জবলপুরের নানাজি দেশমুখ ভেটেরিনারি সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে গরুর মল-মূত্র ও দুগ্ধজাত
পণ্যের মিশ্রণ ব্যবহার করে ক্যানসারসহ গুরুতর রোগের চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবনের লক্ষ্যে
এই প্রকল্প শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শুরুতে আট কোটি রুপি দাবি করলেও মধ্য
প্রদেশ সরকার প্রকল্পটির জন্য সাড়ে তিন কোটি রুপি অনুমোদন দেয়। তবে প্রকল্পের অর্থের
ব্যাপক অপব্যবহার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠলে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।
অভিযোগ
পাওয়ার পর জেলা প্রশাসনের নির্দেশে প্রকল্পটির ওপর তদন্ত শুরু হয়। অতিরিক্ত কালেক্টরের
নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি ২০১১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ব্যয়ের নথিপত্র পরীক্ষা করে
সম্প্রতি কালেক্টরের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
তদন্তে
দেখা গেছে, শুধু গোবর, গোমূত্র, কাঁচামাল, সংরক্ষণ পাত্র ও যন্ত্রপাতির পেছনেই প্রায়
১ কোটি ৯২ লাখ রুপি ব্যয় দেখানো হয়েছে, যা বাজারদরের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। তদন্তকারীদের
মতে, এসব সামগ্রীর প্রকৃত খরচ ১৫ থেকে ২০ লাখ রুপির বেশি হওয়ার কথা নয়। এছাড়া গবেষণার
নামে দেশের বিভিন্ন শহরে ২৩ থেকে ২৪ বার প্লেনে ভ্রমণের খরচ দেখানো হয়েছে, যার প্রয়োজনীয়তা
নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
প্রতিবেদন
অনুযায়ী, অনুমোদিত বাজেটে না থাকা সত্ত্বেও প্রায় সাড়ে সাত লাখ রুপির একটি গাড়ি কেনা
হয়। পাশাপাশি জ্বালানি ও গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণে সাড়ে সাত লাখ রুপি, শ্রমিক খাতে সাড়ে তিন
লাখ রুপি এবং আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতিতে প্রায় ১৫ লাখ রুপি ব্যয়ের তথ্য পাওয়া
গেছে—যেগুলোকে প্রকল্পের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত বলে উল্লেখ করেছে
তদন্ত কমিটি।
অতিরিক্ত
কালেক্টর রঘুভর মারাভি বলেন, প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা থাকলেও
কী ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, তার কোনো স্পষ্ট নথি নেই। এমনকি যেসব গাড়ি কেনার কথা
বলা হয়েছে, সেগুলোর অবস্থানও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
তবে
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। রেজিস্ট্রার ড. এস এস তোমর বলেন,
সব কেনাকাটা সরকারি নিয়ম মেনে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে হয়েছে এবং প্রকল্প নিয়মিত
অডিটের আওতায় ছিল। তার দাবি, ‘এখানে কোনো দুর্নীতি হয়নি। তদন্ত কমিটিকে সব নথি সরবরাহ
করা হয়েছে।’
এখন
এই তদন্ত প্রতিবেদন ডিভিশনাল কমিশনারের কাছে পাঠানো হবে। সেখান থেকে পরবর্তী আইনি বা
প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন


দেশের
বাজারে টানা সপ্তমবারের মতো বেড়ে সোনার দামে নতুন রেকর্ড করেছে। এবার সোনার দাম ভরিতে
এক হাজার ৫৭৪ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এখন থেকে দেশের বাজারে প্রতি ভরি (২২ ক্যারেটের)
সোনা বিক্রি হবে দুই লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকায়। আগামীকাল রবিবার থেকে সারা দেশে সোনার
নতুন এ দর কার্যকর হবে।
শনিবার
(২৭ ডিসেম্বর) রাতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে
সোনার দাম বাড়ার এ তথ্য জানায়।
এতে
বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সে কারণে সোনার
দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাজুস।
নতুন
মূল্য অনুযায়ী ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম বেড়ে দুই লাখ ১৭ হাজার ৫৩৪ টাকা নির্ধারণ
করা হয়েছে।
এ
ছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম এক লাখ ৮৬ হাজার ৪৪৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার দাম এক লাখ ৫৫ হাজার ৪২৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে
রুপার দামও বেড়ে রেকর্ড করেছে। ২২ ক্যারেটের রুপার ভরি ছয় হাজার ৬৫ টাকা।
২১
ক্যারেটের রুপার দাম ভরি পাঁচ হাজার ৫৭৪ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের রুপার দাম ভরি চার হাজার
৯৫৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম তিন হাজার ৭৩২ টাকা নির্ধারণ
করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে এবং আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুতির এক মাস পূর্তিতে দিনটিকে
স্মরণীয় করে রাখতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘোষিত ‘শহীদী মার্চ’ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) পৌনে ৪টায়
মার্চটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে শুরু হয়। এর আগে বেলা ২টা থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
বিভিন্ন হল এবং আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল
নিয়ে বিভিন্ন টিএসসির দিকে আসতে থাকে। এ সময় তাদের গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কিত বিভিন্ন
স্লোগান দিতে দেখা যায়।
জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে
শুরু হয়ে এই মার্চ নীলক্ষেত, নিউমার্কেট, কলাবাগান, ধানমন্ডি, সংসদ ভবন, ফার্মগেট,
কারওয়ান বাজার, শাহবাগ হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শেষ হবে।
এর আগে, গতকাল (বুধবার) দুপুরে ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) এক সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র
আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। মার্চে শহীদদের স্মরণ
করে ছবি, উক্তিসহ বিভিন্ন স্মারক নিয়ে ছাত্র-জনতাকে স্বতঃস্ফূর্ত অংশ নেওয়ার আহ্বান
জানান তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা নিজ
জায়গা থেকে শহীদী মার্চে অংশ নেবে।
এ ছাড়া ঢাকা মহানগরসহ দেশের প্রতিটি
জেলা ও উপজেলায় শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে শহীদী মার্চ পালনের কথা জানান। সরকার পতনের এক
মাস পূর্তি উপলক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আন্দোলনের শহীদদের
ছবি থাকতে পারে। যে কথায় অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্র-জনতা শহীদ হয়েছেন, সেসব কথা প্ল্যাকার্ডে
থাকতে পারে। এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে কী চাই, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের
কাছে কী চাই- এসবও থাকতে পারে।
মন্তব্য করুন


শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবার রংপুর, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুই এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এ সময়ে সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেতে পারে।
তাছাড়া আগামী শনিবার সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেতে পারে।
সেই সঙ্গে আরো বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দুই এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময়ে দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
এতে আরো বলা হয়, রবিবার ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
এ দিন সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।
পূর্বাভাসে আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে এবং মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ৭৯তম জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে (ইউএনজিএ) যোগদানের জন্য ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওয়ানা হবেন।
২৭ সেপ্টেম্বর তাঁর উচ্চ পর্যায়ের সাধারণ বিতর্কে বক্তৃতা দেওয়ার কথা রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ৭৯তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সংক্রান্ত
মিডিয়া ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন আজ বলেছেন, ‘তাঁর বক্তৃতায় তিনি
বাংলাদেশে গত দুই মাসে গণ-অভ্যুত্থানের কথা তুলে ধরবেন এবং একটি গণমুখী, কল্যাণধর্মী
ও জনস্বার্থমূলক রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রতি তাঁর অঙ্গীকার পুনরুল্লেখ করবেন
বলে আশা করা হচ্ছে।’
তৌহিদ হোসেন আরো বলেন, প্রধান উপদেষ্টার বক্তৃতায় আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের সুদৃঢ় অবস্থান, জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক সংঘাত, রোহিঙ্গা সংকট, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সমস্যা, সম্পদের অবৈধ পাচার রোধ, অভিবাসী অধিকার রক্ষার মতো বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে।
তিনি বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা মাত্র তিনদিন নিউইয়র্কে থাকবেন। ২৭ সেপ্টেম্বর তিনি ঢাকার
উদ্দেশে রওয়ানা হবেন। প্রধান উপদেষ্টা পূর্ববর্তী সরকার প্রধানদের মতো চার্টার ফ্লাইটে
নয়, বাণিজ্যিক ফ্লাইটে এই যাতায়াত করবেন।
তৌহিদ বলেন, নিউইয়র্কে অবস্থানকালে প্রধান উপদেষ্টা নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান ও নেপালের
প্রধানমন্ত্রীদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘের মহাসচিব, জাতিসংঘের
মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট এবং ইউএসএআইডি প্রশাসক অধ্যাপক
ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি জাতিসংঘে বাংলাদেশের সদস্যপদ লাভের ৫০ বছর পূর্তির বছর। একথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই মাইলফলক উপলক্ষে ২৪ সেপ্টেম্বর প্রফেসর ইউনূসের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ একটি উচ্চ পর্যায়ের সংবর্ধনার আয়োজন করবে।
এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, দুই নেতার সময়সূচি না মেলার কারণে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে কোনো দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে না। তবে হোসেন বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ইউএনজিএ’র পাশাপাশি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের আলোচ্যসূচি সম্পর্কিত অপর এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ঢাকা ও নয়াদিল্লী কীভাবে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে ভাল ‘কাজের সম্পর্ক’ বজায় রাখতে পারে, তা নিয়ে তিনি আলোচনা করবেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পাশাপাশি তিনি জোট নিরপেক্ষ
আন্দোলনের (ন্যাম) মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক, কমনওয়েলথ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক, ইসলামিক
কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (ওআইসি) মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক এবং স্বল্পোন্নত দেশগুলোর
(এলডিসি) বার্ষিক মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বাংলাদেশের
প্রতিনিধিত্ব করবেন।
এবারের সাধারণ বিতর্কের প্রতিপাদ্য “কাউকে পেছনে ফেলে নয় : বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের
জন্য শান্তি, টেকসই উন্নয়ন ও মানবিক মর্যাদার জন্য একসঙ্গে কাজ করা।”
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি ;
সময়মত নিবন্ধন নিব, সঠিকভাবে ভ্যাট দিব’ প্রতিপাদ্যে কুমিল্লায় পালিত হচ্ছে ভ্যাট দিবস ও ভ্যাট সপ্তাহ।
আজ বুধবার সকালে নগরীর ঝাউতলার হোটেল এলিট প্যালেসে দিবসটি উপলক্ষে এক বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
মূল্য সংযোজন কর সম্পর্কে জনসচেতনতা জোরদার ও সঠিকভাবে ভ্যাট পরিশোধে করদাতাদের উদ্বুদ্ধ করতে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, কুমিল্লার উদ্যোগে আয়োজন করা হয় এ সেমিনার।
কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, কুমিল্লার কমিশনার মো. আব্দুল মান্নান সরদারের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন কর অঞ্চল কুমিল্লার কর কমিশনার মো. আবদুস সোবহান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কর অঞ্চল নোয়াখালীর কর কমিশনার শাহ্ মুহাম্মদ ইত্তেদা হাসান এবং কুমিল্লা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র সহ-সভাপতি জামাল আহমেদ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন যুগ্ম কমিশনার ফাহাদ আল ইসলাম এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুগ্ম কমিশনার নিতীশ বিশ্বাস।
এতে কমিশনারেটের বিভাগীয় কর্মকর্তা, সার্কেলের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, বিভিন্ন সেক্টরের অংশীজন এবং সাংবাদিকরা অংশ নেন।সেমিনারে বক্তারা বলেন, সঠিক পদ্ধতিতে ভ্যাট নিবন্ধন গ্রহণ ও ভ্যাট পরিশোধকে সহজ ও উৎসাহব্যঞ্জক করতে কমিশনারেট নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। কেনাকাটার সময় ভ্যাট চালান গ্রহণে ক্রেতাদের সচেতনতা সৃষ্টি হলে ভ্যাট ব্যবস্থাপনা আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হবে।
দেশের উন্নয়নকে টেকসই করতে করদাতা, ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
বিজয়ের মাসে আয়োজিত এ কর্মসূচি ভ্যাটসংক্রান্ত সচেতনতা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মন্তব্য করুন


এলপি
গ্যাস আমদানি ও স্থানীয় উৎপাদনে ভ্যাট ও ট্যাক্স পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার
(৮ জানুয়ারি) দুপুরে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়।
প্রজ্ঞাপনে
বলা হয়, আমদানি করা এলপিজির ওপর ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার এবং স্থানীয়
পর্যায়ে তা ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এর
আগে এলপি গ্যাস ক্রমবর্ধমান সংকট ও মূল্য অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে আমদানি ও স্থানীয় উৎপাদন
পর্যায়ে ভ্যাট ও ট্যাক্স পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। একই সঙ্গে এলপি গ্যাস আমদানির
ক্ষেত্রে ব্যাংক ঋণ ও এলসি (ঋণপত্র) খোলার প্রক্রিয়া সহজীকরণেরও উদ্যোগও নেওয়া হয়।
আজ
বৃহস্পতিবার ( ০৮ জানুয়ারি ) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায়
এলপি গ্যাসকে ‘গ্রিনফুয়েল’ হিসেবে বিবেচনা করে কর কাঠামো পুনর্বিন্যাসের
বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠানো
হয়। একই দিনে, বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহে এলপিজি আমদানির জন্য ঋণ প্রাপ্তি ও এলসি খোলার
আবেদনসমূহ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে চিঠি
দেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।
এনবিআরকে
পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, দেশে ব্যবহৃত মোট এলপি গ্যাসের প্রায় ৯৮ শতাংশই বেসরকারি খাতের
মাধ্যমে আমদানি করা হয়, যা শিল্প খাত ও গৃহস্থালি— উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত
হচ্ছে। সাধারণত, শীত মৌসুমে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি দেশে পাইপলাইনের
প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ হ্রাস পাওয়ায় এলপি গ্যাসের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
চলতি শীত মৌসুমেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। ফলে বাজারে তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে এবং এর সরাসরি
প্রভাব পড়ছে সাধারণ ভোক্তার ওপর।
মন্তব্য করুন


স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আজ বৃহস্পতিবার অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়গনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স প্রবেশপথে টানানো, তথ্য কর্মকর্তা নিয়োগসহ ১০ দফা নতুন নির্দেশনা দিয়েছে ।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর পরিচালনার ক্ষেত্রে বর্ণিত শর্তাবলি আবশ্যিকভাবে প্রতিপালন করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো। আর এ ১০ নির্দেশনা হলো :
১. বেসরকারি ক্লিনিক হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিকের লাইসেন্সের কপি প্রতিষ্ঠানের মূল প্রবেশ পথের সামনে দৃশ্যমান স্থানে অবশ্যই স্থায়ীভাবে প্রদর্শন করতে হবে।
২. সব বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় তথ্যাদি সংরক্ষণ ও সরবরাহের জন্য একজন নির্ধারিত দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকতে হবে। একইসঙ্গে তার ছবি ও মোবাইল নম্বর দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে।
৩. যেসব প্রতিষ্ঠানের নাম ডায়াগনস্টিক ও হাসপাতাল হিসেবে আছে, কিন্তু শুধু ডায়াগনস্টিক অথবা হাসপাতালের লাইসেন্স রয়েছে, তারা লাইসেন্স পাওয়া ছাড়া কোনাভাবেই নামে উল্লিখিত সেবা প্রদান করতে পারবে না।
৪. ডায়াগনষ্টিক সেন্টার, প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরির ক্ষেত্রে যে ক্যাটারগরিতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত, শুধু সে ক্যাটাগরিতে নির্ধারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া কোনোভাবেই অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যাবে না। ক্যাটাগরি অনুযায়ী প্যাথলজি বা মাইক্রোবায়োলজি, বায়োকেমিস্ট্রি ও রেডিওলজি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করতে হবে।
৫. বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতালের ক্ষেত্রে লাইসেন্সের প্রকারভেদ ও শয্যা সংখ্যা অনুযায়ী সব শর্তাবলি বাধ্যতামূলকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
৬. হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়োজিত সব চিকিৎসকের পেশাগত ডিগ্রির সনদ, বিএমডিসির হালনাগাদ নিবন্ধন ও নিয়োগপত্রের কপি অবশ্যই সংরক্ষণ করতে হবে।
৭. হাসপাতাল, ক্লিনিকের ক্ষেত্রে যে কোনো ধরনের অপারেশন বা প্রসিডিউরের জন্য অবশ্যই রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসককে সার্জনের সহকারী হিসেবে রাখতে হবে।
৮. কোনো অবস্থাতেই লাইসেন্সপ্রাপ্ত বা নিবন্ধিত হাসপাতাল ও ক্লিনিক ব্যতীত চেম্বারে অথবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়া যাবে না। বিএমডিসি স্বীকৃত বিশেষজ্ঞ ছাড়া যে কোনো ধরনের অপারেশন/সার্জারি/ ইন্টারভেনশনাল প্রসেডিউর করা যাবে না।
৯. সব বেসরকারি নিবন্ধিত লাইসেন্সপ্রাপ্ত হাসপাতাল, ক্লিনিকে লেবার রুম প্রটোকল অবশ্যই মেনে চলতে হবে।
১০. নিবন্ধিত বা লাইসেন্সপ্রাপ্ত হাসপাতাল, ক্লিনিকে অপারেশন থিয়েটারে অবশ্যই ‘Operation Theatre Etiquette’ মেনে চলতে হবে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি;
মহান বিজয় দিবস ২০২৫ উপলক্ষে কুমিল্লায় অনুষ্ঠিত হয়েছে আনন্দঘন কুচকাওয়াজ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। আজ ১৬ ডিসেম্বর সকালে কুমিল্লা ভাষা সৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয় মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী বীর শহীদদের।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোঃ রেজা হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার মোঃ আনিসুজ্জামান, পিপিএম। এ সময় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।অনুষ্ঠানের শুরুতে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে বাংলাদেশ পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, কারারক্ষী, বিএনসিসি এবং রোভার স্কাউটের সদস্যরা মনোমুগ্ধকর কুচকাওয়াজ প্রদর্শন করেন। কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণকারীদের শৃঙ্খলা ও নৈপুণ্য দর্শকদের প্রশংসা কুড়ায়।
এ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা মহান বিজয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরেন এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। বক্তারা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করেই আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে কুচকাওয়াজে বিজয়ী পুলিশ সদস্যদের হাতে সম্মাননা ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। তাঁদের সাহসিকতা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়।
এছাড়াও বিজয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরতে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সঙ্গীত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল দেশপ্রেম ও স্বাধীনতার গৌরবময় চেতনার উচ্ছ্বাস।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান নতুন প্রজন্মের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও দেশপ্রেমের চেতনা আরও সুদৃঢ় করবে বলে মনে করেন আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীরা।
মন্তব্য করুন


সরকারের সব পর্যায়ে সংস্কার কর্মসূচি
গ্রহণ ও বাস্তবায়নে ‘মার্চিং অর্ডার’ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সচিব সভায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস
এ নির্দেশনা দেন।
উপদেষ্টার
নির্দেশনাগুলো হলো:
১. সরকারের সব পর্যায়ে সংস্কার কর্মসূচি
গ্রহণ ও বাস্তবায়নে ‘মার্চিং অর্ডার’ দিয়েছেন।
২. সংস্কার কর্মসূচি প্রণয়নে প্রয়োজন
অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা ও মতামত গ্রহণ করতে হবে।
৩. জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা
বৈষম্যহীন মানবিক দেশ গড়ার যে প্রত্যয়, যে ভয়হীন চিত্ত আমাদের উপহার দিয়েছে, তার ওপর
দাঁড়িয়ে বিবেক ও ন্যায়বোধে উজ্জীবিত হয়ে আমাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে সততা, নিষ্ঠা, জবাবদিহিতা
নিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে।
৪. নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য গৎবাঁধা
চিন্তা-ভাবনা থেকে বেরিয়ে এসে, চিন্তার সংস্কার করে, সৃজনশীল উপায়ে জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ
গুরুত্ব দিয়ে সরকারি কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
৫. দুর্নীতির মূলোৎপাটন করে, সেবা সহজীকরণের
মাধ্যমে জনগণের সর্বোচ্চ সন্তুষ্টি অর্জন করতে হবে।
৬. সরকারি অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার
নিশ্চিত করতে হবে।
৭. সরকারি ক্রয়ে যথার্থ প্রতিযোগিতা
নিশ্চিত করতে হবে এবং স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিতে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো দুর
করতে হবে।
৮. সৃষ্টিশীল, নাগরিক-বান্ধব মানসিকতা
নিয়ে প্রতিটি মন্ত্রণালয়/বিভাগ স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার কর্মসূচির সময়াবদ্ধ
কর্মপরিকল্পনা দাখিল করবে, যা নিয়মিত মূল্যায়ন/পরিবীক্ষণ করা হবে।
৯. ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সৃষ্ট
নতুন বাংলাদেশ নিয়ে বিশ্বব্যাপী যে আগ্রহ, ইতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে, দেশের স্বার্থে
তা সর্বোত্তম উপায়ে কাজে লাগাতে হবে।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ
জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে
চাই না, যা মানুষের সাধ্যের বাইরে। বিএনপি সব সময় বিশ্বাস করে জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস’
তারেক
রহমান বলেন, এই ১২ তারিখের নির্বাচন হতে হবে দেশ পুনর্গঠনের নির্বাচন, মানুষের ভাগ্য
পরিবর্তনের নির্বাচন।
আজ
রোববার ঢাকায় নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিনে বিকেল সাড়ে ৫টায় ঢাকা-১৫ আসনে মিরপুর
১০ গোলচত্বর সংলগ্ন সেনপাড়া-পর্বতা এলাকায় আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক পথসভায় বিএনপি
চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন। এই আসনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর
আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বিএনপির
ঘোষিত নির্বাচনী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, আমরা আমাদের ম্যানিফেস্টোতে
উল্লেখ করেছি— আমরা এই দেশের নারী বা মা-বোনদের জন্য কী করতে চাই, ছাত্র
সমাজের জন্য কী করতে চাই, লক্ষ-কোটি বেকার মানুষের কর্মসংস্থান কীভাবে করব এবং কীভাবে
স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেব।
নারী
ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া
যতবার দেশ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছেন, তিনি চেষ্টা করেছেন দেশের নারীদের শিক্ষা ব্যবস্থা
ফ্রি করে দিতে। যার ফলে আজ বাংলাদেশের মেয়েরা ক্লাস ওয়ান থেকে ক্লাস টুয়েলভ পর্যন্ত
বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন,
বিএনপি সরকার গঠন করলে আমরা নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চাই। এজন্য
প্রতিটি ঘরে গৃহিণীদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে সরকারের পক্ষ
থেকে সহযোগিতা করা হবে।
কর্মসংস্থান
প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি এলাকায় অন্তত একটি করে ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট
গড়ে তোলা হবে, যেখানে ভাষা শিক্ষা ও বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণরা নিজেরা
ব্যবসা করতে পারবে অথবা বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে। বিদেশগামী শ্রমিকদের প্রসঙ্গে
তিনি বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি— যারা চাকরি নিয়ে বিদেশে যাবে, তাদের
যেন জমি বিক্রি করতে না হয়। এজন্য স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করা হবে।
কৃষকের
বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের কৃষক ভালো থাকলে বাংলাদেশও ভালো থাকবে। এজন্য কৃষকদের
জন্য কৃষি কার্ড চালু করা হবে এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে।
স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, গ্রামে গ্রামে স্বাস্থ্যসেবা
পৌঁছে দিতে হেলথ কেয়ার কর্মী নিয়োগ করা হবে। ঢাকা-১৫ এলাকার মানুষের চিকিৎসা সুবিধার
জন্য এখানে হাসপাতাল স্থাপন করা হবে এবং দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা ১০০ ফিট রাস্তার কাজ দ্রুত
শুরু করা হবে।
দেশ
পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, কথা একটাই, কাজ একটাই—
দেশকে পুনর্গঠন করতে হবে। আমাদের সকলের প্রথম এবং শেষ ঠিকানা এই বাংলাদেশ। তিনি আরো
বলেন, যারা জুলাই আন্দোলনে আহত হয়েছেন এবং যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগের প্রতি
সম্মান জানিয়ে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে এবং প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
এরপর
ঢাকা-১৪ আসনে মিরপুর মডেল থানার বিপরীতে ন্যাশনাল বাংলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে, ঢাকা-১৩
আসনে শ্যামলী ক্লাব মাঠে এবং ঢাকা-১১ আসনে বাড্ডার সাতারকুলে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য
রাখবেন তারেক রহমান। এর আগে নিজ সংসদীয় আসন ঢাকা-১৭ এলাকার ইসিবি চত্বর থেকে পথসভা
শুরু করেন তারেক রহমান। এরপর তিনি পল্লবীতে ঢাকা-১৬ আসনের বিএনপি প্রার্থী আমিনুল হকের
সমর্থনে আয়োজিত পথসভায় বক্তব্য রাখেন।
সভায়
প্রার্থী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল, ছাত্রদলের
সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব প্রমুখ।
মন্তব্য করুন