

সৌদি
আরবের মক্কার হেরা সাংস্কৃতিক এলাকায় পবিত্র কোরআন জাদুঘরে তৃতীয় হিজরি শতাব্দীর একটি বিরল কোরআনের পাণ্ডুলিপি প্রদর্শন করা হচ্ছে। ঐতিহাসিক এই নিদর্শন কোরআনের
পাণ্ডুলিপি তৈরির প্রাথমিক পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত। রোববার (৩০ আগস্ট) আরব
নিউজের এক প্রতিবেদন থেকে
এ তথ্য জানা যায়।
প্রতিবেদনে
বলা হয়, প্রদর্শিত পাণ্ডুলিপিটিতে সূরা মারইয়ামের একটি অংশ রয়েছে, যা প্রাণীর চামড়ার
ওপর লাল কালিতে লেখা। লেখাগুলোতে কোনো হরকত বা নুকতা নেই।
প্রাচীন যুগে কোরআন লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল এ ধরনের হরকত
ও নুকতাবিহীন লিপি।
এই
পাণ্ডুলিপির মাধ্যমে কোরআনের লিখনপদ্ধতির ক্রমবিকাশ এবং ইসলামের প্রাথমিক শতাব্দীগুলোতে কোরআন সংরক্ষণ ও লিপিবদ্ধ করার
পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারেন জাদুঘরে আসা দর্শনার্থীরা।
উল্লেখ্য,
কোরআন জাদুঘর মক্কার হেরা সাংস্কৃতিক এলাকার অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান। এখানে দর্শনার্থীরা কুরআনের ইতিহাস ও পাণ্ডুলিপি সংরক্ষণের
ধারা সম্পর্কে জানার সুযোগ পান। জাদুঘরে রয়েছে নানা ধরনের বিরল পাণ্ডুলিপি, ঐতিহাসিক কুরআন, দৃশ্য-প্রদর্শনী ও আধুনিক প্রযুক্তির
ব্যবহার।
একইসঙ্গে
জাদুঘরটি হেরা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত হেরা সাংস্কৃতিক এলাকার অংশ, যা দর্শনার্থীদের জন্য
ওহি অবতীর্ণ স্থানের সঙ্গে জ্ঞানগত সংযোগ তৈরি করে। এতে মক্কা ও হজযাত্রীদের জন্য
ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা
সমৃদ্ধ হয় এবং আধুনিক উপস্থাপনার মাধ্যমে কুরআনের ঐতিহ্য ও ইতিহাস তুলে
ধরা হয়।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশের চলমান সংস্কার কার্যক্রমে সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়নে জাপানি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে তাদের অবস্থান অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা কিমিনোরি।
বুধবার (১১ ডিসেম্বর) ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎকালে জাপানি রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রদূত কিমিনোরি অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, জাপান সরকার শান্তি ও স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক— এই তিনটি স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করবে।
কিমিনোরি বলেন, ‘আমরা এই তিনটি স্তম্ভের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করব।’
তিনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্বাচনী ব্যবস্থাসহ অন্যান্য সংস্কার কার্যক্রমে টোকিওর ‘দৃঢ় সমর্থনের’ কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।
অধ্যাপক ড. ইউনূস উভয় দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে অবদান রাখায় জাপানের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের প্রশংসা করে বলেন, ‘এই সম্পর্ক সবসময় খুব শক্তিশালী ছিল।’
সরকার বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করছে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশে আরও জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান জানান। বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি আমাদের জন্য ইতিবাচক বার্তা দেয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জাপানি রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ থেকে জাপানি কোন কোম্পানিও চলে যায়নি। তারা এখানে থাকতে আগ্রহী।’
তিনি নিক্কেইয়ের বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে আমন্ত্রণ জানান। সেখানে জাপানের প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রাখবেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, ওই সম্মেলনে অধ্যাপক ইউনূস জাপানের শীর্ষ কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে দেখা করতে পারেন এবং তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানাতে পারবেন।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনে প্রধান উপদেষ্টার পদক্ষেপের প্রশংসা করে জাপানি রাষ্ট্রদূত বলেন, টোকিও এই বৈঠককে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে।
অধ্যাপক ইউনূস মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জাতিসংঘের গ্যারান্টিযুক্ত একটি নিরাপদ এলাকা তৈরির আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন, যেখানে সংঘাত শেষ হওয়ার পর বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীকে তাদের বাড়িতে ফেরার পূর্বে সাময়িকভাবে পুনর্বাসিত করা যেতে পারে।
সাক্ষাৎকালে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


ছাত্র-জনতার
আন্দোলন চলাকালে ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ মামলার ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা দিতে একটি
হেল্পলাইন নম্বর চালু করেছে আইন মন্ত্রণালয়।
আইন,
বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়ে বলা হয়েছে,
“যদি কোনো ব্যক্তি গত ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত দায়ের করা মিথ্যা ও হয়রানিমূলক
ফৌজদারি মামলার শিকার হয়ে থাকেন, তবে তাকে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার
লিগ্যাল এইড হেল্পলাইন কল সেন্টারের ১৬৪৩০ নম্বরের (টোল ফ্রি) মাধ্যমে ভিকটিম
সাপোর্ট বা আইনি সহায়তা প্রদান করা হবে মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।”
সমাজের
দরিদ্র ও দুঃস্থদের বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দিতে ২০১৬ সালে এই হেল্পলাইন সেবার
কার্যক্রম উদ্বোধন করেছিলেন তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
গণ
আন্দোলনে সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল দায়িত্ব
নিয়ে তার প্রথম কর্মদিবসে এই হেল্পলাইন নম্বর ব্যবহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত
নিয়েছিলেন।
মন্তব্য করুন


লাইসেন্স
জালিয়াতি করে প্রায় ১৭ বছর ধরে শত শত ফ্লাইট পরিচালনার অভিযোগে এয়ার কানাডার এক
সাবেক পাইলটকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পিল অঞ্চলের পুলিশ। চার মাসের দীর্ঘ তদন্ত শেষে
মঙ্গলবার (৯ জুন) ৫৯ বছর বয়সী সাবেক ক্যাপ্টেন জিওফ্রে ওয়ালের বিরুদ্ধে জালিয়াতিসহ
বেশ কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়।
পুলিশ
জানিয়েছে, ২০০৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ভুয়া লাইসেন্স ব্যবহার করে ৯ শতাধিক অভ্যন্তরীণ
ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করেছেন এই পাইলট।
তদন্তে
জানা গেছে, জিওফ্রে ওয়ালের একটি বৈধ বাণিজ্যিক পাইলট লাইসেন্স থাকলেও, যাত্রীবাহী
উড়োজাহাজের ক্যাপ্টেন বা প্রধান চালক হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় উচ্চস্তরের 'এয়ারলাইন
ট্রান্সপোর্ট পাইলট লাইসেন্স' তাঁর ছিল না। গত বছর অবসরে যাওয়ার আগপর্যন্ত তিনি এই
ভুয়া সনদ দিয়ে এয়ার কানাডা এবং কানাডার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে প্রতারিত
করেছেন। এই জালিয়াতির ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে একটি জালিয়াতি, দুটি জাল নথি তৈরি ও ব্যবহার,
তিনটি ভুয়া ট্রেডমার্ক রাখা এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ
বিষয়ে পিল রিজিওনাল পুলিশের প্রধান নিশান দুরাইয়াপ্পা এক বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ
করে বলেন, ঘটনাটি জনমানুষের আস্থা ও নিরাপত্তার মূলে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। অভিযুক্ত
ব্যক্তি ৯০০টিরও বেশি ফ্লাইটে লাখ লাখ যাত্রীর জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলেছেন। অন্যদিকে,
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা ফ্লাইট সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রধান ও পেশাদার পাইলট
হাসান শাহিদি এই ঘটনাকে 'ব্যতিক্রমী ও অত্যন্ত বিরল' বলে আখ্যায়িত করেছেন।
তবে
এয়ার কানাডা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিলেও যাত্রীদের
নিরাপত্তা কখনোই বিঘ্নিত হয়নি। সংস্থাটির দাবি, লাইসেন্স জালিয়াতি করলেও জিওফ্রে
ওয়াল তাঁর সব প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করেছিলেন এবং বড় উড়োজাহাজ চালানোর ক্ষেত্রে
উচ্চস্তরের দক্ষতা প্রদর্শন করেছিলেন। প্রতি ছয় মাস পরপর বাধ্যতামূলক সিমুলেটর প্রশিক্ষণ
এবং বছরে একবার ফ্লাইট পরীক্ষায় তিনি সফলভাবেই উত্তীর্ণ হন। বিষয়টি জানার পরপরই তাঁকে
দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং ‘ট্রান্সপোর্ট কানাডা'কে অবহিত করা হয়। এয়ার
কানাডা আরও জানিয়েছে, এই ঘটনার পর তাদের সব পাইলটের লাইসেন্স পরীক্ষা করা হয়েছে এবং
অন্য কারও ক্ষেত্রে এমন কোনো জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন


কুষ্টিয়ার
খোকসায় যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে দু’জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১০ থেকে
১৫ জন গুরুতর আহত হয়ে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে এ ঘটনায়
বহু হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আজ
শনিবার (২৩ মে) বেলা ১১টার দিকে খোকসা থানার শিমুলিয়া দক্ষিণ কুঠিপাড়া মসজিদের সামনে
কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ
ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, কুষ্টিয়া থেকে পাংশাগামী ড্রাম ট্রাক এবং রাজবাড়ী থেকে
কুষ্টিয়া গামী যাত্রীবাহী পরিবহন বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এসময় বাস উল্টে
সড়কের পাশে পুকুরে পানির মধ্যে পড়ে যায়।
স্থানীয়রা
তাদের উদ্ধার করে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট
জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। এদের মধ্যে বাস যাত্রী ১০ থেকে ১৫ জনের অবস্থা গুরুতর।
কুষ্টিয়া
হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ওবায়েদ বলেন, ‘তানহা পরিবহনের একটি বাস
রাজবাড়ী থেকে কুষ্টিয়ার দিকে যাচ্ছিলো। বাসটি খোকসার শিয়ালডাঙ্গী মসজিদের সামনে পৌঁছালে
একটি ভ্যানের সঙ্গে সংঘর্ষের উপক্রম হয়। ভ্যানটিকে বাঁচাতে গিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা
একটি বালুবাহী ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লেগে বাসটি খাদে পড়ে যায়।’
মন্তব্য করুন


আইনশৃঙ্খলা
রক্ষাকারী বাহিনীকে গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী জনপ্রত্যাশা ও জনআকাঙ্ক্ষা
অনুযায়ী একটি জনবান্ধব ও সেবামুখী বাহিনী
হিসেবে গড়ে তুলতে ‘পুরস্কার ও তিরস্কার’ নীতি
অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মন্ত্রী
আজ দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে পুলিশের সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় কাজের
স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা সনদ ও আর্থিক পুরস্কার
প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ প্রত্যয় ব্যক্ত
করেন।
মন্ত্রী
বলেন, যারা সততা, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের সাথে
দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের কর্মের যথাযথ স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কৃত করা হবে। অন্যদিকে, যারা আইন-বিধি লঙ্ঘন করে জনসেবায় ব্যাঘাত ঘটাবেন বা অপকর্মে লিপ্ত
হবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি তিরস্কারমূলক
ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুরস্কার
বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন এবং সমসাময়িক
ও রাজনৈতিক নানা বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
মতিঝিল
মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পাওয়া ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (IED) উদ্ধার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, উল্টো রথযাত্রা বা কোনো বিশেষ
ধর্মীয় উৎসবকে লক্ষ্য করে এটি করা হয়েছে—এমন ধারণার কোনো ভিত্তি নেই, বরং এটি কাকতালীয়। তিনি বলেন, ডিএমপি'র বোম্ব ডিসপোজাল
ইউনিটের তৎপরতায় তা নিষ্ক্রিয় করা
হয়েছে এবং ঘটনাটির বিষয়ে তদন্ত চলছে।
সাবেক
রাষ্ট্রপতির মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ পত্র সংবিধানের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে এবং তা গৃহীত হয়েছে।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর যেকোনো নাগরিক
বা রাজনৈতিক দলের মতামত ও প্রতিবাদ প্রকাশের
অধিকার রয়েছে। তিনি আরো বলেন, পদাধিকার বলে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি যে সাংবিধানিক সুরক্ষা
(ইমিউনিটি) পেয়ে থাকেন, তা বলবৎ থাকবে।
তাছাড়া আইন অনুযায়ী সাবেক রাষ্ট্রপতিকে এসএসএফ (SSF), পিজিআর (PGR) ও পুলিশ বাহিনীর
সমন্বয়ে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা প্রদান করা হচ্ছে।
এ
বছর পুলিশ সপ্তাহে পদক প্রদান অনুষ্ঠান না হওয়া সংক্রান্ত
প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, তাড়াহুড়ো করে তৈরি করা প্রাথমিক তালিকায় কিছু কারিগরি ত্রুটি ও অনিয়ম ধরা
পড়ায় তা পুনরায় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তিনি বলেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে যোগ্যদের মাঝে বিশুদ্ধ তালিকা অনুযায়ী পুলিশ পদক প্রদান করা হবে।
পুরস্কার
প্রদান অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ও অতিরিক্ত সচিব
(রাজনৈতিক ও বহিরাগমন) ড.
জিয়াউদ্দিন আহমেদ। এ সময় অন্যান্যের
মধ্যে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ সহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উপস্থাপনা করেন পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (কনফিডেনসিয়াল) মো. কামরুল আহসান। অনুষ্ঠানে দুটি ভিন্ন সাহসিকতা, প্রশংসনীয় ও কৃতিত্বপূর্ণ কাজের
স্বীকৃতিস্বরূপ নয় জন পুলিশ
সদস্যকে পুরস্কৃত করা হয়।
জাতীয়
জরুরি সেবা ৯৯৯ ও ঢাকা রেলওয়ে
থানার যৌথ প্রচেষ্টায় ৩০ মিনিটের মধ্যে
প্রবাসীর হারিয়ে যাওয়া পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উদ্ধারের ঘটনায় যে সাতজন পুলিশ
সদস্যকে পুরস্কৃত করা হয়, তাঁরা হলেন যথাক্রমে ঢাকা রেলওয়ে থানার পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) জয়নাল আবেদীন, এএসআই (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির ও মোঃ রাজিকুল
ইসলাম, কনস্টেবল মোঃ শাহীনুর ইসলাম ও আজমীর হোসেন
এবং পুলিশ টেলিকম সংস্থার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর এসআই (নিরস্ত্র)
মোঃ মিজানুর রহমান ও কনস্টেবল মোঃ
বুলবুল আহমেদ।
ট্রাফিক
সার্জেন্ট কর্তৃক ছিনতাইকারী গ্রেফতারের ঘটনায় পুরস্কৃত দু'জন পুলিশ
সদস্য হলেন যথাক্রমে ডিএমপি'র ট্রাফিক মিরপুর
বিভাগের পল্লবী জোনের সার্জেন্ট এম এস মাহমুদ
আলি ও সার্জেন্ট মোঃ
তুহিনুর রহমান তুহিন।
মন্তব্য করুন


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি)
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আনসার সদস্যদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
রোববার (২৫ আগস্ট) রাত ৯টা
২০ মিনিটে এই সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষের কয়েক মিনিটেই শিক্ষার্থীদের
জনস্রোতে পালিয়ে গেছেন হাজারো আনসার সদস্য।
জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী
ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম, সমন্বয়ক
সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহসহ অনেককে সচিবালয়ে আটকে রাখে আনসার সদস্যদের একটি দল।
এই খবরে সচিবালয়ের দিকে অগ্রসর হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হন তারা। পেটুয়াদের
ভূমিকায় অবতীর্ণ হন আনসার সদস্যদের অনেকে। পরে স্রোতের মতো আসতে থাকেন শিক্ষার্থীরা।
তাদের ধাওয়ায় পালিয়ে যান আনসার সদস্যরা।
জানা যায়, মেনে নেওয়া হয়েছে তাদের যৌক্তিক দাবি। তারপরও আনসারদের একাংশ ঘেরাও করেন সচিবালয়। সেখানে আটকে রাখেন সমন্বয়কদের। সচিবালয় থেকে সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের আইডিতে করা লাইভে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ জানান সেখানের পরিস্থিতি। এরপর পরই এক পোস্টে তিনি লেখেন, সচিবালয়ের সামনে আনসার সদস্যরা শিক্ষার্থীদের নির্মমভাবে পেটাচ্ছে।
এর আগে বিকেলে কয়েক দফা
দাবিতে আন্দোলন করে আসা আনসার সদস্যরা তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন বলে জানান।
রাত সাড়ে ৮টার দিকে সমন্বয়ক
হাসনাত আবদুল্লাহ্ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন, সবাই রাজুতে আসেন। স্বৈরাচারীশক্তি
আনসার হয়ে ফিরে আসতে চাচ্ছে। দাবি মানার পরও আমাদের সবাইকে সচিবালয়ে আটকে রাখা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, চলচ্চিত্র শিল্পকে সমৃদ্ধ করতে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
শনিবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদের উদ্যোগে ত্রয়োবিংশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের সংগ্রামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব সাংস্কৃতিক বিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসাবে কাজ করবে। পাশাপাশি এই চলচ্চিত্র উৎসবের মাধ্যমে বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম আন্তর্জাতিক মানের চলচ্চিত্র সম্পর্কে ধারণা লাভের সুযোগ পাবে।
বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশে চলচ্চিত্রের ভূমিকা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, চলচ্চিত্র শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; চলচ্চিত্র সামাজিক পরিবর্তনেরও গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় এই অভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ওপর চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য চলচ্চিত্র নির্মাতাদের প্রতি আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন ও উৎসব পরিচালক আহমেদ মুজতবা জামাল।
মন্তব্য করুন


কয়েকদিন
আগেই আর্জেন্টিনার জার্সি পরে চেম্বারে ঢোকা রোগীদেরকে অর্ধেক ফিতে চিকিৎসার ঘোষণা
দিয়ে আলোচনায় আসেন ডা. মো. হাবিবুর রহমান নামে পটুয়াখালীর এক চিকিৎসক। এবার আর্জেন্টিনা
সমর্থকদের জন্য নিজের ব্যক্তিগত চেম্বারে একেবারে ফ্রিতে চিকিৎসার ঘোষণা দিয়ে সামনে
এলেন সুনামগঞ্জের আরেক চিকিৎসক। তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এই মেডিকেল
অফিসার একজন বিসিএস ডেন্টাল সার্জন।
৫
জুন (শুক্রবার) সন্ধ্যা ৭টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আর্জেন্টিনা
সমর্থকদের জন্য বিশেষ এ সুবিধার ঘোষণা দেন তিনি।
ফেসবুক
পোস্টে ডা. শরীফ জানান, আর্জেন্টিনার খেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার দিনগুলোতে তার ব্যক্তিগত
চেম্বারে সমর্থকদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ ও বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা থাকবে।
ঘোষণা
অনুযায়ী, আর্জেন্টিনার জার্সি পরে অথবা দলটির সমর্থক পরিচয়ে তার চেম্বারে আসা রোগীরা
সম্পূর্ণ বিনা ভিজিটে দাঁত ও মুখের বিভিন্ন রোগের পরামর্শ গ্রহণ করতে পারবেন। পাশাপাশি
দন্ত চিকিৎসার ক্ষেত্রেও বিশেষ ছাড় দেওয়া হবে।
ডা.
শরীফ হোসাইন জানান, ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা এবং প্রিয় দলের প্রতি সমর্থন জানাতেই এই
ব্যতিক্রমী উদ্যোগ তার। তিনি বলেন, খেলাধুলা মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও
আনন্দের বার্তা ছড়িয়ে দেয়। সেই আনন্দের অংশীদার হতেই আমি আর্জেন্টিনা সমর্থকদের জন্য
এ বিশেষ সুবিধার ব্যবস্থা করেছি।
এই
দন্ত চিকিৎসক আরও বলেন, আমরা সবাই আমাদের প্রিয় দলকে সমর্থন করি, পাশাপাশি নিজেদের
স্বাস্থ্য ও সুন্দর হাসিরও যত্ন নিই। সুস্থ ও সুন্দর হাসিই আমাদের কাম্য।
তার
এই ঘোষণাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। অনেক আর্জেন্টিনা
সমর্থক উদ্যোগটিকে অভিনব ও প্রশংসনীয় বলে মন্তব্য করেছেন। ডা. শরীফ হোসাইনের ফ্রিতে
চিকিৎসার ঘোষণা স্থানীয়ভাবেও ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে এবং বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মন্তব্য করুন


পাহাড়ি ঢল আর ভারী বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট
বন্যায় বিপর্যস্ত দেশের ৯ জেলা। এমন অবস্থায় পানিবন্দি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য
হটলাইন নম্বর চালু করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর।
আজ বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) ফায়ার সার্ভিস
সদর দপ্তরের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়েছে, সারা দেশের বন্যাকবলিত
এলাকার উদ্ধারকাজ বিষয়ে যেকোনো সেবার জন্য ফায়ার সার্ভিসের হটলাইন নম্বর ১০২ এবং কেন্দ্রীয়
নিয়ন্ত্রণ কক্ষের নিয়মিত ফোন নম্বর ০২২২৩৩৫৫৫৫৫ চালু থাকবে। পাশাপাশি মনিটরিং সেলে
সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য ০১৭১৩-০৩৮১৮১ মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা যাবে। এর পাশাপাশি
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল করেও ফায়ার সার্ভিসের এ সংক্রান্ত সেবা নেওয়া যাবে।
মনিটরিং সেলের পাশাপাশি বন্যাকবলিত
এলাকার ফায়ার স্টেশনগুলো এবং বিভাগীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষের মাধ্যমেও ২৪ ঘণ্টা দুর্যোগে উদ্ধারবিষয়ক
সেবা নেওয়া যাবে।
গতকাল বুধবার বিকেল ৫টা থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে
অধিদপ্তরে স্থাপিত এই মনিটরিং সেলের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর
পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল
রানা বলেছেন, ‘আমি ধর্ষণ করি নাই, শুধু লাশ কেটেছি। ধর্ষণ করেছে ডলার নামে একজন। আমি
পাপ করেছি, আমাকে সেই পাপের শাস্তি দিন।’
সোমবার
(১ জুন) এ মামলায় দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে চিৎকার করে
এসব কথা বলেন প্রধান আসামি সোহেল রানা।
এ
সময় তিনি দাবি করে, মেয়েটাকে এনে দিতে পারলে ‘ডলার’ নামে একজন তাকে দুই লাখ টাকা দেওয়ার
কথা বলেছিল। এ কথা বলার পরপরই উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তাকে থামিয়ে দেন এবং কাঠগড়া থেকে
নামিয়ে প্রিজন ভ্যানে নিয়ে যান।
সোমবার
এ মামলায় ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন তাদের বিরুদ্ধে
অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একইসঙ্গে এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য
আগামীকাল মঙ্গলবার (২ জুন) দিন ধার্য করেন আদালত।
এর
আগে গত ২৫ মে আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে চার্জশিট
(অভিযোগপত্র) দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান।
ওইদিনই মামলাটি পরবর্তী বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। এরপর চার্জশুনানির জন্য
আজকের দিন ধার্য করা হয়।
মামলার
অভিযোগপত্রে সোহেল রানার বিরুদ্ধে রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা এবং স্বপ্নার বিরুদ্ধে
ওই অপরাধে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে। জানা
যায়, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার সময় ঘর থেকে বের হলে আসামি কৌশলে ভিক্টিমকে তার ফ্ল্যাটের
রুমে নিয়ে যায়। সকাল সাড়ে ১০টায় বাদী মেয়েকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন।
একপর্যায়ে
আসামির রুমের সামনে বাদী তার মেয়ের জুতা দেখতে পেয়ে ডাকাডাকি করলে কোনো সাড়া শব্দ না
পেয়ে বাদী তার স্ত্রী ও অন্য ফ্লাটের লোকজন নিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় আসামির শয়ন কক্ষের মেঝেতে ভিকটিম রামিসার
মাথাবিহীন লাশ দেখতে পান। আর মাথা রুমের ভেতর বার্জার রংয়ের বড় বালতির ভেতর দেখতে পান।
এ
সময় আসামি স্বপ্নাকে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পেয়ে তারা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায় যে, তার স্বামী সোহেল রানা
তার হীন কামনা চরিতার্থ করার লক্ষে বাদীর শিশু কন্যাকে বাথরুমের আটকে রেখে ধর্ষণের
পর গলা কেটে হত্যা করে। লাশ গুম করার উদ্দেশে স্বপ্নার সহায়তায় সোহেল ভিকটিমের মাথা,
ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে ও যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে এবং দুইহাত কাঁধ
থেকে অর্ধবিচ্ছিন্ন করে লাশ বাথরুম থেকে আসামিদের শয়ন কক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে।
ওই
রুমের জানালার গ্রিল কেটে আসামি সোহেল রানা পালিয়ে যায়। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে
সংবাদ পেয়ে আসামি স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। আর নারায়নগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে
থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ
ঘটনায় রামিসার বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা করেন। গত ২১ মে সেই মামলায় সোহেল
রানা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপর তাদের
কারাগারে পাঠানো হয়।
রামিসার
বাবা তার পরিবারের লোকজন নিয়ে পল্লবী থানাধীন সেকশন-১১, ব্লক-বি এলাকায় ফ্ল্যাটে ভাড়া
বাসায় থেকে বনানীতে একটি বেসরকারি অফিসে চাকরি করেন। আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারও
একই বাসার অন্য ফ্ল্যাটে থাকতেন। রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণিতে
লেখাপড়া করতো।
মন্তব্য করুন