

চট্টগ্রামে বিপিএলের অনুশীলনের সময় মোস্তাফিজুর রহমান উইন্ডিজ ক্রিকেটার ম্যাথিউ ফোর্ডের হাঁকানো বলের আঘাতে মাথায় চোঁট পেয়েছেন । সাথে সাথে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
রবিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুশীলন করছিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স আর আজ দলের অনুশীলনে ব্যস্ত ছিলেন মোস্তাফিজ। তারই পাশের নেটে ব্যাটিং অনুশীলন করছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটার ফোর্ড। ক্যারিবীয় এই ক্রিকেটারের হাঁকানো একটি বল এসে আঘাত করে টাইগার পেসারের মাথায়। এতেই মাটিয়ে লুটিয়ে পড়েন তিনি। এসময় তার মাথা থেকে রক্ত পড়তে দেখা যায়।
আঘাত পাওয়ার পর শুরুতে দলের ফিজিও দেন চিকিৎসকরা। পরিস্থিতিতির গুরুত্ব বুঝে মাঠের ভেতর অ্যাম্বুলেন্স এনে দ্রুত তাকে ইম্পেরিয়াল হাসাতাপালে পাঠানো হয়।
কুমিল্লার মিডিয়া ম্যানেজার খান নয়ন গণমাধ্যমকে বলেন, দেখছেন তো মাথায় লেগেছে। এরপর বসে ছিল মাঠে, যদিও রক্ত বের হয়েছে বেশ খানিকটা। তবে সে স্বাভাবিকভাবে কথা বলেছে। তাৎক্ষণিক হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। তার সঙ্গে দলের দায়িত্বে থাকা সকলেই গেছে।
মোস্তাফিজের অবস্থা নিয়ে এখনো কোনো বক্তব্য দেয়নি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স কর্তৃপক্ষ। তবে জানা গেছে, আপাতত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এই পেসারকে। হাসপাতালে নিয়ে করা হচ্ছে স্ক্যান। মূলত স্ক্যান রিপোর্টের উপরই বোঝা যাবে তার অবস্থা।
উল্লেখ্য, বিপিএলের এবারের আসরে এখন পর্যন্ত কুমিল্লার হয়ে ৯ ম্যাচ খেলেছেন মোস্তাফিজ। বল হাতে নিয়েছেন ১১ উইকেট।
মন্তব্য করুন


বঙ্গোপসাগর অঞ্চলকে সহযোগিতা ও প্রতিযোগিতার
কেন্দ্রবিন্দু উল্লেখ করে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, এখানে সহযোগিতার
কেন্দ্রে যেন পরিণত হয় আমরা সেই চেষ্টা করছি। এখানে যেন কোনো দ্বন্দ্ব-সংঘাতের কেন্দ্র
না হয়।
আজ রোববার (২২ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট
অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ-বিআইআইএসএসে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান
অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
‘বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে পুনরায় সংযোগ’ শীর্ষক
এ সেমিনারের আয়োজন করে বিআইআইএসএস ও ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপিং ইকোনমিকস (আইডিই-জেট্রো)।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র
উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, বঙ্গোপসাগর অঞ্চল অর্থনীতি ও ভূ-কৌশলগত কারণে ফোকাল
পয়েন্টে পরিণত হয়েছে। এ কারণে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিকভাবে বঙ্গোপসাগর এলাকায় বড় বড় শক্তির
নজর পড়েছে। এটা এখন সহযোগিতা ও প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দু। বঙ্গোপসাগর যেন সহযোগিতার
কেন্দ্রে পরিণত হয় আমরা সেই চেষ্টা করছি, যাতে দ্বন্দ্ব-সংঘাতের কেন্দ্র না হয়। গত
সাত বছরের বেশি সময় ধরে মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অবস্থান করছে।
রোহিঙ্গাদের অধিকারসহ নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে না পারলে এই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠিত
হবে না। নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বঙ্গোপসাগর এলাকা গড়ে তোলার জন্য স্থিতিশীলতা দরকার। এজন্য
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে সব অংশীজনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাই।
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকায়
নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত আইওয়ামা কিমিনিরো বলেন, মাতারবাড়ী বন্দর দিয়ে এই অঞ্চলে
কানেক্টিভিটি আরও জোরদার হবে আশা করি। এই কানেক্টিভিটি
জোরদারে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও বোঝাপড়া থাকা দরকার।
সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিআইআইএসএসের
চেয়ারম্যান রাষ্ট্রদূত এ এফএম গাওসুল আজম সরকার ও মহাপরিচালক মেজর জেনারেল ইফতেখার
আনিস।
মন্তব্য করুন


তাপপ্রবাহে বন্ধ থাকার পর শনিবার থেকে
যথারীতি মাধ্যমিক পর্যায়ের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম চলবে
বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার (২ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের
জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, শনিবার থেকে যথারীতি মাধ্যমিক
পর্যায়ের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম চলবে।
তাপপ্রবাহের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
বৃহস্পতিবার (২ মে) পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণার জন্য আদালত যে নির্দেশনা দিয়েছিল আদালত। সে
অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বন্ধ রাখা হয় মাধ্যমিক স্তুরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
মন্তব্য করুন


২০২৬
ফিফা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে স্পেন। দলটির দ্বিতীয়বারের
মতো বিশ্বকাপ জয়ের বাঁধভাঙা উল্লাস মুহূর্তেই রূপ নিয়েছে বিষাদে। সোমবার ভোরে পশ্চিম
স্পেনে একটি ফোয়ারা আংশিকভাবে ভেঙে পড়ে ১৩ বছরের এক কিশোর নিহত হয়েছে।
ভয়াবহ
এ দুর্ঘটনাটি ঘটে পর্তুগাল সীমান্তবর্তী সালামানকা প্রদেশের প্রায় ১২ হাজার বাসিন্দার
ঐতিহাসিক প্রাচীরঘেরা শহর সিউদাদ রদ্রিগোতে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন। দেশটির
জরুরি সেবা বিভাগ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
স্পেনের
ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ জয় উদযাপনের জন্য শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত আরবোল গর্দো ফোয়ারার
চারপাশে জড়ো হয়েছিলেন শত শত মানুষ। ঠিক তখনই স্মৃতিস্তম্ভটির ওপরের অংশটি ভেঙে নিচে
থাকা মানুষের ওপর পড়ে। এতেই ঘটে এই হতাহতের ঘটনা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের
ভাষ্য অনুযায়ী, রাত ১২টার কিছুক্ষণ পর হঠাৎ ফোয়ারাটির উপরের অংশ ভেঙে নিচে থাকা মানুষের
ওপর পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই ১৩ বছর বয়সি এক কিশোরের মৃত্যু হয়। আহত হন আরও দুইজন। তাদের
হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এই
আকস্মিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে সিউদাদ রদ্রিগো নগর কর্তৃপক্ষ।
এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ‘পুরো শহর আজ এই অকাল মৃত্যুতে শোকাহত। আমরা নিহতের পরিবার
ও বন্ধুদের এই গভীর সমবেদনা জানাই... স্প্যানিশ জাতীয় দলের বিশ্বকাপ জয়ের যে আনন্দ
উৎসবে রূপ নেওয়ার কথা ছিল, তা আজ এক নির্মম ট্র্যাজেডিতে পরিণত হলো।’
মন্তব্য করুন


তাপস চন্দ্র সরকার, কুমিল্লা।
"জয় জগন্নাথ... জয় জগন্নাথ..."—হাজারো কণ্ঠের একযোগে উচ্চারিত এই ধ্বনি, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি, ঘণ্টা-করতাল ও মহাহরিনাম সংকীর্তনের সুরে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) মুখর হয়ে ওঠে কুমিল্লা নগরী। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ভক্তি, আনন্দ আর সর্বজনীন সম্প্রীতির অপূর্ব মিলনে লাখো ভক্তের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় শ্রী শ্রী জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রাদেবীর পবিত্র উল্টো রথযাত্রা মহোৎসব। এর মধ্য দিয়েই সমাপ্তি ঘটে নয় দিনব্যাপী রথযাত্রা মহোৎসবের।
দুপুরের পর থেকেই নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও মন্দির প্রাঙ্গণে ভক্তদের ঢল নামে। ফুল, আলোকসজ্জা ও বর্ণিল সাজে সজ্জিত মন্দির এবং সুদৃশ্য রথ যেন এক অনন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি করে। ছোট-বড়, নারী-পুরুষ, তরুণ-বৃদ্ধ—সব বয়সের মানুষ ভক্তিভরে অংশ নেন এই মহোৎসবে। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি উৎসবটি পরিণত হয় সৌহার্দ্য, মানবতা ও সামাজিক সম্প্রীতির এক অনন্য মিলনমেলায়।
কুমিল্লার জগন্নাথপুর শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের মন্দির এবং ঠাকুরপাড়াস্থ শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ গৌর-নিতাই মন্দিরভিত্তিক আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন), কুমিল্লার যৌথ উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, পূজার্চনা, অগ্নিহোত্র যজ্ঞ, মহাহরিনাম সংকীর্তন, ধর্মসভা, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও মহাপ্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে এ মহোৎসব পালিত হয়।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, উল্টো রথযাত্রা উপলক্ষে নগরীর শ্রী শ্রী গুন্ডিচা মন্দিরে সকাল সাড়ে ৭টা থেকেই শুরু হয় পূজার্চনা, দর্শন-আরতি, বিশ্বশান্তি কামনায় অগ্নিহোত্র যজ্ঞ, ভজন-কীর্তন এবং মহাপ্রসাদ বিতরণ। কুমিল্লাসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে অসংখ্য ভক্ত ও দর্শনার্থী এতে অংশ নেন। অনেকেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে জগন্নাথদেবের দর্শন গ্রহণ করেন এবং মহাপ্রসাদ গ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের ধন্য মনে করেন।
দুপুরে অনুষ্ঠিত ধর্মসভায় ধর্মীয় গুরু, বিশিষ্টজন, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন সামাজিক-ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে আশীর্বাদক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন)-এর সিনিয়র সহ-সভাপতি শ্রী শ্রীমৎ ভক্তি অদ্বৈত নবদ্বীপ স্বামী মহারাজ। উদ্বোধন করেন ইসকনের সাধারণ সম্পাদক শ্রী শ্রীমৎ ভক্তিময় নিতাই স্বামী মহারাজ।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসূফ মোল্লা টিপু, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উৎবাতুল বারী আবু, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া, কুমিল্লা (দক্ষিণ) জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম প্রমুখ।
ধর্মসভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন জগন্নাথপুর শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের মন্দির ইসকন কুমিল্লার সহ-সভাপতি শ্রীমান ভদ্র নিমাই দাস ব্রহ্মচারী।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন- বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট কুমিল্লা মহানগর শাখার আহ্বায়ক শ্রী শ্যামলকৃষ্ণ সাহা। স্বাগত বক্তব্য দেন- মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক শ্রীমান রূপচন্দ্র শ্যাম দাস ব্রহ্মচারী। উদ্বোধনী শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ করেন শ্রীমান সদা শিব সিংহ দাস ব্রহ্মচারী এবং সভাপতিত্ব করেন শ্রীমান সুদর্শন জগন্নাথ দাস ব্রহ্মচারী।
ধর্মসভা শেষে শুরু হয় বহু প্রতীক্ষিত উল্টো রথযাত্রা। কীর্তনের তালে তালে হাজারো ভক্ত রথের রশি ধরেন। "হরে কৃষ্ণ, হরে রাম" এবং "জয় জগন্নাথ" ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে কুমিল্লার প্রধান সড়ক। করতাল, মৃদঙ্গ ও শঙ্খধ্বনির মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলে সুসজ্জিত রথ। দুই পাশে দাঁড়িয়ে হাজারো মানুষ এ দৃশ্য উপভোগ করেন। অনেকে মোবাইল ফোনে স্মরণীয় মুহূর্ত ধারণ করেন, আবার কেউ কেউ ভক্তিভরে রথকে প্রণাম জানান।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, রথের রশি স্পর্শ করা কিংবা রথ টানার সুযোগ পাওয়া পরম সৌভাগ্যের বিষয়। তাই নারী-পুরুষ, শিশু, যুবক ও প্রবীণ—সবাই গভীর শ্রদ্ধা ও ভক্তিভরে রথ টেনে নিজেদের সৌভাগ্যবান মনে করেন। অনেকের চোখেমুখে ফুটে ওঠে আবেগ, আনন্দ ও আধ্যাত্মিক প্রশান্তির অনন্য প্রকাশ।
শোভাযাত্রায় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কুমিল্লা জেলা, মহানগর ও আদর্শ সদর উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ উৎসবটিকে এক সর্বজনীন সম্প্রীতির বন্ধনে রূপ দেয়।
উল্টো রথযাত্রার ধর্মীয় তাৎপর্য সম্পর্কে বক্তারা বলেন, রথযাত্রার সময় শ্রী শ্রী জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রাদেবী মূল মন্দির থেকে গুন্ডিচা মন্দিরে গমন করেন। নির্ধারিত সময় শেষে উল্টো রথযাত্রার মাধ্যমে পুনরায় নিজ মন্দিরে প্রত্যাবর্তন করেন। এই প্রত্যাবর্তনই উল্টো রথযাত্রা হিসেবে উদযাপিত হয়। ভক্তদের বিশ্বাস, এই মহোৎসবে অংশগ্রহণ করলে ঈশ্বরের বিশেষ কৃপা লাভ হয় এবং ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে শান্তি, কল্যাণ ও সৌভাগ্য বয়ে আসে।
আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন), কুমিল্লার সভাপতি শ্রী সুকান্ত চক্রবর্তী (সুদর্শন জগন্নাথ দাস ব্রহ্মচারী) বলেন, "শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি ভক্তি, সম্প্রীতি, মানবকল্যাণ ও বিশ্বশান্তির এক অনন্য বার্তা বহন করে। সকলের অংশগ্রহণেই এই মহোৎসব আরও অর্থবহ হয়ে ওঠে।"
তিনি আরও বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের পারস্পরিক অংশগ্রহণই সম্প্রীতির বাংলাদেশ গঠনের অন্যতম শক্তি। রথযাত্রার মতো ধর্মীয় উৎসব সমাজে সহনশীলতা, সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধকে আরও সুদৃঢ় করে। তিনি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসব সফল করতে রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যমকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক এবং সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।
আয়োজকরা জানান, ভক্তদের নিরাপদ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন। ফলে পুরো মহোৎসব শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।
নয় দিনব্যাপী এই রথযাত্রা মহোৎসবজুড়ে পূজার্চনা, ধর্মসভা, মহাহরিনাম সংকীর্তন, ভজন-কীর্তন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং মহাপ্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে ভক্তদের মাঝে ধর্মীয় চেতনা, মানবসেবা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও বিশ্বশান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
দিনশেষে যখন জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রাদেবীর রথ পুনরায় নিজ মন্দিরে ফিরে আসে, তখন ভক্তদের কণ্ঠে আবারও ধ্বনিত হয়—"জয় জগন্নাথ"। প্রার্থনায় মুখরিত হয় চারদিক। হাজারো ভক্তের বিশ্বাস, এই পবিত্র প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়েই নতুন আশীর্বাদ, নতুন আশা এবং মানবকল্যাণের এক চিরন্তন বার্তা ছড়িয়ে পড়ে সমাজের সর্বস্তরে। কুমিল্লার এবারের উল্টো রথযাত্রা মহোৎসব তাই শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; এটি পরিণত হয়েছে ভক্তি, ঐতিহ্য, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধের এক অবিস্মরণীয় মহামিলনমেলায়।
মন্তব্য করুন


জাপানের
বিরুদ্ধে ২-১ ব্যবধানের নাটকীয় জয়ের পর স্বভাবসুলভ শান্ত ও আত্মবিশ্বাসী দেখা গেল
ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ার পরও ম্যাচে ফিরে আসার ব্যাপারে
তার মনে কোনো সন্দেহ ছিল না জানিয়েছেন এই ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড। সঙ্গে প্রতিপক্ষের
জন্য ব্রাজিল বসের প্রচ্ছন্ন সতর্কবার্তা—তার দল দিন দিন আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে।
ম্যাচের
অতিরিক্ত সময়ে বদলি খেলোয়াড় গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির শট জাপানি গোলরক্ষক জিওন সুজুকিকে
পরাস্ত করে জালে জড়ালে উল্লাসে মেতে ওঠে ব্রাজিল শিবির, আর তাতেই ভেঙে যায় জাপানি সমর্থকদের
হৃদয়। এই জয়ের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের রাউন্ড অব ৩২-র বাধা টপকে শেষ ষোলো নিশ্চিত করল
সেলেসাওরা।
ম্যাচ
শেষে ব্রাজিল কোচ আনচেলত্তি বলেন, ‘প্রথমার্ধের বিরতিতে আমি খেলোয়াড়দের ধৈর্য ধরতে
বলেছিলাম, কারণ আমি জানতাম আজ হোক বা কাল আমরা গোল পাবই। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
ছিল আমাদের খেলার গঠন ও কৌশল বজায় রাখা। আমরা জানি আমরা সঠিক পথেই এগোচ্ছি এবং আমাদের
এই ধারা বজায় রাখতে হবে।’
ম্যাচের
প্রথমার্ধে কাইশু সানোর গোলে লিড নিয়েছিল জাপান। বিপরীতে ব্রাজিলের পারফরম্যান্স এতটাই
অগোছালো ছিল যে, ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২ থেকে তাদের বিদায়
নেওয়ার শঙ্কা জেগেছিল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে খোলস ছেড়ে বের হয় রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
দ্বিতীয়ার্ধের
প্রথমে ক্যাসেমিরো গোল করে দলকে সমতায় ফেরান। এরপর অন্তিম মুহূর্তে মার্তিনেল্লির সেই
জয়সূচক গোল। ২০০২ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর এই প্রথম বিশ্বকাপের
কোনো নকআউট ম্যাচে প্রথমে পিছিয়ে পড়েও জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ল ব্রাজিল।
নিজেদের
রণকৌশল নিয়ে আনচেলত্তির ব্যাখ্যা, ‘শুরুতে আমরা মাঝমাঠে আধিপত্য বিস্তার করে প্রতিপক্ষের
রক্ষণভাগে ঢোকার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু ওদের মার্কিং খুব শক্ত থাকায় তা কাজ করেনি।
তাই বিরতির পর আমরা বক্সে ক্রস বাড়িয়ে আক্রমণ করার কৌশল নিই। এটি আমাদের খেলার একটি
ইতিবাচক বিবর্তন। শুরুতে জায়গা পেতে কষ্ট হলেও পরে আমরা সমস্যাটির দারুণ সমাধান করতে
পেরেছি।’
ম্যাচে
আরও একটি চমক জমিয়ে রেখেছিলেন ব্রাজিলিয়ান বস। তিনি জানান, ‘আমি নেইমারকে বলে রেখেছিলাম,
একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আমরা সমতায় ফিরতে না পারলে আমি তাকে মাঠে নামাব।’ তবে আপাতত ৩৪ বছর বয়সি এই তারকার বিশ্বকাপ যাত্রা
কেবল স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে নিশ্চিত জয়ের ম্যাচে বদলি হিসেবে খেলা ১৫ মিনিটেই সীমাবদ্ধ
রইল।
প্রথমার্ধে
জাপানের আধিপত্যের কথা মেনে নিলেও, আনচেলত্তির মতে এটিই ছিল গ্রুপ পর্বের যেকোনো ম্যাচের
চেয়ে ব্রাজিলের সেরা পারফরম্যান্স। তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের খেলা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে
পরিপূর্ণ ম্যাচ। মরক্কোর বিরুদ্ধে ড্র হওয়া ম্যাচটির মতো এবার আমরা প্রথমার্ধে খেই
হারিয়ে ফেলিনি। ফুটবলে আপনাকে ভুগতে হবেই, এটাই নিয়ম। এতে নতুন কিছু নেই। কষ্ট সহ্য
করা যেমন খেলার অংশ, তেমনি স্বস্তি পাওয়াটাও এর অংশ।’
এদিকে ম্যাচ হেরেও আত্মবিশ্বাসী জাপানের হেড কোচ হাজিমে মোরিয়াসু।
মন্তব্য করুন


সাতক্ষীরা
জেলা নিয়ে কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজার একটি পুরনো বক্তব্যের ভিডিও ফের
ভাইরাল হয়েছে।
সাতক্ষীরার-৪
আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামের নারীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ
মুহূর্তের ভিডিও যখন ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’, তখন আমির হামজার সেই বক্তব্যের ভিডিও
ফের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল।
ওই
ভিডিওতে আমির হামজাকে বলতে শোনা যায়, ‘আল্লাহ যদি কিয়ামতে জান্নাত দেওয়া আরম্ভ করে
প্রথমেই সাতক্ষীরা দিয়ে শুরু করবে।’
ভাইরাল
হওয়া ভিডিওতে আমির হামজাকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘গরিব মানুষকে আল্লাহ ও তার রাসূল
(সা.) বেশি ভালোবাসতেন। বাংলাদেশের রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ, সাতক্ষীরা আবেগের জায়গা।
সারা বাংলাদেশে আমার যতটুকু বাস্তবতা ও ধারণা, আল্লাহ যদি কিয়ামতে জান্নাত দেওয়া আরম্ভ
করে প্রথমে সাতক্ষীরা দিয়ে শুরু করবে। এরপরে চাপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী। আর আমার কুষ্টিয়া
থাকবে ৬৪ নাম্বারে কারণ সব গাজার (মাদক) আড্ডা।’
সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পেজ থেকে ছড়ানো আমির হামজার এই ভাইরাল ভিডিও নিয়ে চলছে আলোচনা
ও সমালোচনা।
ভিডিওটি
শেয়ার দিয়ে জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে উদ্দেশ্যে করে দলটির বিরোধী রাজনৈতিক
দলের নেতকর্মীরা ট্রল করছেন। তাদের ভাষ্য, জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলাম অনৈতিক কর্মকাণ্ডে
জড়িয়েছেন।
তবে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে প্রদর্শিত এক নারীর সঙ্গে
অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ঘটনাটি বিকৃতভাবে ছড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের
সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। তার দাবি, ‘ভিডিওর ওই নারী তার নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী।’
এক
ফেসবুক পোস্টে গাজী নজরুল ইসলাম জানান, গত ১৩ জুলাই তিনি তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা
বেগম ও দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়াম বেগমকে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে যান। সেখানে তার দ্বিতীয়
স্ত্রীর বাবা মো. মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক অফিস। সেখানে তারা আনুমানিক সোয়া এক ঘণ্টা
অবস্থান করেন। মাসুম বিল্লাহর অফিসে অবস্থানকালে তার গাড়িচালক ও দ্বিতীয় স্ত্রীর
মামা ওবায়দুল্লাহ গাড়ি দেখার কথা বলে বাইরে যান। পরে তিনি ৫–৭
জন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে তাদের কক্ষে ঢুকেন।
মন্তব্য করুন


ভোলার
চরফ্যাশনের শশীভূষণে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে জলিল পণ্ডিত নামের এক ব্যক্তির লাশ
দাফনে বাধা ও সন্তানদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। লাশ দাফনকে কেন্দ্র করে দুই স্থানে
দুইবার কবর খুঁড়ে দাফন করতে পারেনি।
এ
নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন
হয়। শনিবার (২০ জুন) উপজেলার শশীভূষণ থানার রসুলপুর ৩ নং ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
পরিবার
সূত্রে জানা গেছে, মৃত জলিল পণ্ডিত তার জীবদ্দশায় ৪টি বিয়ে করেন এবং বর্তমানে তার
দুই স্ত্রী ও সাতজন ছেলে-মেয়ে রয়েছে।
সন্তানদের
অভিযোগ, তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি ছোট স্ত্রীর মেয়ে খাদিজা আক্তারের নামে দলিল করে
যান। এই সম্পত্তিগত বিরোধের জের ধরেই লাশ দাফনে বাধা দেন সন্তানরা। পরে বাধ্য হয়ে
পরিবারের লোকজন নিজ বাড়ির উঠানে দ্বিতীয়বার কবর খোঁড়েন। কিন্তু সেখানেও মৃতের চতুর্থ
স্ত্রী ও সেই ঘরের সন্তানরা পুনরায় বাধা দেন।
এ
ছাড়া লাশ আঙিনায় রেখে ভাই-বোনদের মধ্যে কয়েক দফা হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। খবর
পেয়ে শশীভূষণ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও উত্তেজনা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব
হয়নি। পুলিশের সামনেই কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে এলাকাবাসী পরিস্থিতি শান্ত
করার চেষ্টা করে সন্তানদের বুঝিয়ে মৃত জলিল পণ্ডিতের লাশ নিজ বাড়ির আঙিনায় জানাজা
শেষে তড়িঘড়ি করে দাফন সম্পন্ন করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা
জানায়, দাফনকে কেন্দ্র করে কয়েক ঘণ্টা ধরে উত্তেজনা বিরাজ ওই বাড়িতে।
এক
পর্যায়ে লাশ বাড়ির উঠানে রেখে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক, ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি
এবং মারধর বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে শশীভূষণ
থানা পুলিশকে খরব দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
তবে পুলিশের উপস্থিতিতেও কয়েক দফা উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি
ও স্থানীয়রা উভয় পক্ষকে শান্ত করে দীর্ঘ আলোচনার পর বাড়ির উঠানে জানাজা শেষে জলিলের
লাশ দাফন করা হয়।
এদিকে
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের কারণে একজন মৃত
ব্যক্তির দাফন বিলম্বিত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। অনেকেই
এমন ঘটনাকে মানবিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
মন্তব্য করুন


গোপালগঞ্জের
টুঙ্গিপাড়া উপজেলার এক ব্যক্তি তার ছেলেকে পারিবারিকভাবে ত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন।
অভিযোগ করা হয়েছে, তার ছেলে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন।
সোমবার
(২২ জুন) রাতে উপজেলার গওহরডাঙ্গা চৌড়ঙ্গি এলাকার একটি ফার্নিচার দোকানের অফিস কক্ষে
আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন আব্দুল ওহাব শেখ। তিনি পাটগাতী ইউনিয়নের গওহরডাঙ্গা
গ্রামের বাসিন্দা।
লিখিত
বক্তব্যে আব্দুল ওহাব শেখ জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।
তার বড় ছেলে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের একটি ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি হলেও ছোট ছেলে সজীব
শেখ উপজেলা পর্যায়ের ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে তিনি দাবি করেন।
তার
ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিষয়টি জানার পর তিনি ছেলেকে ওই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড
থেকে সরে আসতে একাধিকবার পরামর্শ দেন। কিন্তু সজীব শেখ তার অবস্থান পরিবর্তন না করায়
পরিবার থেকে তাকে ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ
সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে সজীব শেখের ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক কোনো কর্মকাণ্ডের
দায় পরিবার বহন করবে না; এসবের সম্পূর্ণ দায়ভার তার নিজের ওপরই বর্তাবে।
তবে
এ বিষয়ে সজীব শেখ বা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন


কুড়িগ্রামের
ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় মরিচ ক্ষেত থেকে একটি গাঁজা গাছ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার
( ২০ জুন ) দুপুরে উপজেলার তিলাই ইউনিয়নের বটতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে গাছটি জব্দ করা
হয় বলে জানান ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মুনতাসির মামুন মুন।
পুলিশ
জানায়, দুধকুমার নদীবেষ্টিত দক্ষিণ তিলাই এলাকার কৃষক ইউসুফ মিয়ার মরিচ ক্ষেতে গোপনে
একটি গাঁজা গাছ লাগানো হয়েছিল। গাছটি প্রায় দুই বছর ধরে বেড়ে ওঠে এবং এর উচ্চতা প্রায়
১০ ফুটে পৌঁছে যায়। কিছুদিন পর গাছটিতে ফুল আসত।
গোপন
সংবাদের ভিত্তিতে সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল
সেখানে অভিযান চালায়।
স্থানীয়দের
দাবি, দুর্গম এলাকা হওয়ায় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কৃষক ভারতের দিকে পালিয়ে যায়।
এ
বিষয়ে এএসপি মুনতাসির মামুন মুন বলেন, চরাঞ্চলের কিছু কৃষক মাদক কারবারিদের প্ররোচনায়
অধিক লাভের আশায় এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। ঘটনাস্থলে আরও গাঁজাগাছ আছে কি-না,
তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি
বলেন, এ ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মন্তব্য করুন


দেশবাসীর
উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির পায়তারা
চলছে, সতর্ক থাকুন।’
তিনি
বলেন, ‘আজকে যারা দেশে এই অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করতে চায় তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক
থাকতে হবে। কারণ, দেশে এই মুহূর্তে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড
বাধাগ্রস্ত হবে। দেশের মানুষ বিপদে পড়বে।’
আজ
শনিবার ( ২৩ মে ) দুপুরে ত্রিশালের বৈলর এলাকার ‘ধরার খাল’
পুনঃখননের পর উপস্থিত নেতা-কর্মীসহ গ্রামবাসীদের এক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা
বলেন।
পল্লবীতে
শিশু রামিসা হত্যার ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘তিন-চার দিন আগে এই অত্যন্ত দুঃখজনক,
হৃদয় বিদারক একটি ঘটনা ঘটছে। এই ছোট্ট বাচ্চাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। প্রথম থেকে
আমরা বলে এসেছি যে, আইনের দৃষ্টিতে কোন ব্যক্তি যদি অপরাধ করে তাকে শাস্তি পেতে হবে।
আইনের শাসন আমরা প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। তবে সব কিছু নিয়ম কানুন মেনেই করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, ‘যে কোন অন্যায়কারীকে শাস্তি দিতে হলে, তার বিচার করতে হলে সরকারের কতগুলা নিয়ম
কানুন আছে। অথচ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে কিছু সংখ্যক মানুষ একটা ঘোলাটে
পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করছে। রাস্তাঘাট বন্ধ করে দিচ্ছে, যান বাহন চলাচল বন্ধ
করে দিচ্ছে, এখানে আগুন ধরাচ্ছে, ওখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হচ্ছে। এই কাজগুলো যারা করে
তারা আইনের শাসনকে বাধাগ্রস্ত করছে।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যখন ক্ষমতায়
ছিল সেই সময় আমরা দেখেছি দেশে কয়েকটি দুঃখজনক এরকম অন্যায় ঘটেছে, সেই অন্যায় যখন ঘটেছে
আমি নিজে সেই সকল বাচ্চার মায়েদের সাথে কথা বলেছিলাম, আমাদের দলের আইনজীবী, আমাদের
দলের চিকিৎসকরা গিয়ে চিকিৎসা দিয়েছে, আইনজীবীরা গিয়ে সেই আইনি সহায়তা করেছিল। আজকে
যেই ব্যক্তিরা হৈচৈ করছে, রাস্তা অবরোধ করছে, বড় বড় কথা বলছে, সেদিন কিন্তু তাদেরকে
আমরা মাঠে দেখিনি, সেদিন কিন্তু আমরা দেখিনি তারা অবরোধ করেছে।’
তিনি
প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘তাহলে কি আমরা ধরে নেব ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ
যেহেতু বিএনপিকে ভোট দিয়ে সরকার গঠন করতে ক্ষমতা দিয়েছে সেই জন্যই কোনো মহলের মনে জ্বালা
হচ্ছে এবং এই জ্বালার কারণেই তারা এসব ষড়যন্ত্র করছে?’
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, ‘আমাদেরকে সতর্ক হতে হবে। গত ৫ আগস্ট যাদেরকে বাংলাদেশের মানুষ এই দেশ থেকে বিতাড়িত
করে দিয়েছিল, এখন যারা অরাজগতা সৃষ্টি করতে চাইছে তাদের মধ্যে যোগসূত্র রয়েছে। যেভাবে
‘৯৬ সালে করেছিল, যেইভাবে ’৮৬ সালে করেছিল,
তাদের সাথে নতুন কয়েকটি লেজও গজিয়েছে। সুন্দর
ছোট ছোট লেজেও গজিয়েছে।’
তিনি
বলেন, ‘আমরা এই দেশ থেকে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছি। যেই স্বৈরাচার বাংলাদেশের মানুষের
ভোটের অধিকার, মানুষের কথা বলার অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, খেটে খাওয়া মানুষ, গ্রামে বাস
করা মানুষের সকল প্রকার উন্নয়ন বন্ধ করে দিয়েছিল সেই স্বৈরাচারকে এই বাংলাদেশের মানুষ
ছাত্র-জনতা রাজপথে একত্রিত হয়ে তাদেরকে এই দেশ থেকে বের করে দিয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, ‘এখন বাংলাদেশের মানুষ দেশ গঠন করতে চায়। বাংলাদেশের মানুষ তার ভাগ্যের পরিবর্তন
করতে চায়। ভাগ্যের পরিবর্তন যদি করতে হয় আমাদের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে সক্রিয়
করে তুলতে হবে, আমাদের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কাজে ব্যবহার করতে হবে, তাহলেই
আমরা এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারব।’
জনগণের
ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা রুখতে হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলে, ‘আজকে সময় এসেছে
মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য কাজ করার। অন্যদিকে যারা ন্যায় বিচারকে, সঠিক বিচারকে,
বাধাগ্রস্ত করার জন্য বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, মানুষের জন্য গৃহীত কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্তের
জন্য বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে তাদের ব্যাপারে বাংলাদেশের মানুষকে সজাগ থাকতে হবে।’
তিনি
বলেন, ‘মনে রাখতে হবে এদেশের মালিক জনগণ। কিছু সংখ্যক মানুষ দেশে বিভ্রান্তি ছড়াবে
আর তারা সফল হয়ে যাবে,মানুষের ভাগ্যে নিয়ে ছিনিমিনি খেলবে এই কাজ আর হতে দেওয়া যাবে
না। যারা জনগণের সাথে থাকবে জনগণের পাশে থাকবে, জনগণের জন্য কাজ করবে বাংলাদেশের জনগণ
তাদেরকেই সাথে নিয়ে এই দেশকে রক্ষা করবে যে কোন ষড়যন্ত্রের হাত থেকে।’
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, ‘আমার ঘর আমাকেই দেখতে হবে। আমাদের দেশ আমাদেরকেই দেখতে হবে। আমাদের দেশের স্বাধীনতা,
আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব, আমাদের দেশের মানুষের স্বার্থ আমরাই দেখব এবং যে কোন ষড়যন্ত্র
প্রতিহত করব আমরা ইনশল্লাহ।’
ময়মনসিংহ-৭
আসনে সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান লিটনের সভাপতিত্বে সমাবেশে দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী
আসাদুল হাবিব দুলুসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
এর
আগে প্রধানমন্ত্রী খাল পূনঃখনন স্থলে এসেই ফলক উন্মোচন করেন। এরপর তিনি নিজে খালের
কাছে গিয়ে কোদাল দিয়ে ‘ধরার খাল’ পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। তিনি
খালের পাশে একটি তাল গাছের চারাও রোপণ করেন।
মন্তব্য করুন