

বন্যার পানি কমে এলেও কমেনি মানুষের দুর্ভোগ, মানুষের কষ্ট।
গৃহহীন মানুষগুলো আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে।
এ মানুষগুলোর ঘরবাড়ি পুনর্বাসনে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে পাশে এসে দাঁড়িয়েছে বিবেক।
কুমিল্লায় স্মরণকালের ইতিহাসের ভয়াবহ বন্যায় অনেক পরিবার গৃহহীন হয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বিবেক যেটি হলো মানবতার তরে কাজ করা সামাজিক সংগঠন মানুষদের আশ্রয়স্থল পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছে।
এ উদ্যোগেরই ধারাবাহিকতায় বুধবার ১১সেপ্টেম্বর বিবেক এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইউসুফ মোল্লা টিপু এর নেতৃত্বে কুমিল্লা বুড়িচং উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের নমষোদ পাড়া ও ইন্দ্রবতি গ্রাম এবং কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার আমড়াতলী ইউনিয়নের বালেশ্বর গ্রামে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তের মাঝে গৃহ পূর্ণনির্মাণের জন্য নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয় ।
অসহায় মানুষের পাশে সহায়তার হাত বাড়িয়ে তাদের পাশে থাকার আশ্বাস নিয়ে বিবেকের এই কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন,
বাংলাদেশকে এখনই পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সমাধানের দিকে অগ্রসর হতে হবে,
যাতে দেশ টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন পথে এগিয়ে যেতে পারে।
বৃহস্পতিবার রাতে অ্যানথ্রোপোসিন ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান
কার্ল পেজ ও তার সহকর্মীদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা
বলেন।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বিশ্বের ঘনবসতিপূর্ণ ও জলবায়ু
ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি হিসেবে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল
থাকার সামর্থ্য রাখে না। এখন সময় এসেছে বাংলাদেশকে গুরুত্ব সহকারে বিকল্প পরিচ্ছন্ন
জ্বালানি বিবেচনা করার, যার মধ্যে বৃহৎ পরিসরে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অন্যতম।
গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজের ভাই কার্ল পেজ
পরবর্তী প্রজন্মের পারমাণবিক প্রযুক্তি এবং হাইব্রিড সিস্টেমে অগ্রগতির কথা উল্লেখ
করেন, যা নির্ভরযোগ্য, শূন্য-কার্বন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, বার্জ-ভিত্তিক পারমাণবিক রিঅ্যাক্টরগুলো
সাশ্রয়ী, কম রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন এবং বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান শিল্প খাতকে কয়েক দশক
ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম।
পেজ বলেন, পারমাণবিক শক্তি আজ আর বিশ্বব্যাংকের মতো
বড় উন্নয়ন অর্থায়ন সংস্থাগুলোর কাছে নিষিদ্ধ বিষয় নয়। ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশ ইতোমধ্যেই
তাদের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণে এ প্রযুক্তি গ্রহণ করছে।
তিনি উল্লেখ করেন, উদ্ভাবনে বাংলাদেশের শক্তিশালী
রেকর্ড রয়েছে। তাই দেশটি পরিচ্ছন্ন জ্বালানির রূপান্তরে নেতৃত্ব দিতে পারে। এর সুফল
হবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রাখা এবং শিল্প খাতের প্রতিযোগিতা
বৃদ্ধি।
পেজ আরও বলেন, বাংলাদেশ উদীয়মান প্রযুক্তির জন্য
একটি কৌশলগত কেন্দ্র এবং পারমাণবিক উদ্ভাবনে শান্তিপূর্ণ নেতৃত্বের ভূমিকায় অবতীর্ণ
হতে পারে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানান, অন্তর্বর্তী সরকার সম্প্রতি
একটি নতুন জাতীয় বিদ্যুৎ নীতি প্রণয়ন করেছে। এতে সৌর জ্বালানির গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোকে
অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
তবে তিনি উল্লেখ করেন, পারমাণবিক বিকল্প নিয়ে যেকোনো
সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কঠোর গবেষণা ও সম্ভাব্যতা যাচাই অপরিহার্য।
তিনি বলেন, আমরা অবশ্যই এসব সুযোগ অনুসন্ধান করব।
তবে প্রতিশ্রুতিশীল এসব প্রযুক্তি নিয়ে গভীর গবেষণা দরকার। কোনো সন্দেহ নেই—বাংলাদেশকে
জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা দ্রুত হ্রাস করতেই হবে।
উক্ত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন
কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং সরকারের
সিনিয়র সচিব ও এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ।
মন্তব্য করুন


আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য দেন।
সকালে দেশের আট বিভাগ থেকে আগত স্বেচ্ছাসেবকদের নিবন্ধনের মধ্য দিয়ে দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। সকাল ৯টায় স্বেচ্ছাসেবক ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। পরে সকাল ১০টায় ধর্মগ্রন্থ পাঠের মাধ্যমে আলোচনা পর্ব শুরু হয়। স্বাগত বক্তব্য দেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, বড় অগ্নিকাণ্ড, ভূমিকম্প কিংবা বন্যার মতো দুর্যোগ মোকাবিলায় শুধু সরকারি বাহিনীর পক্ষে এককভাবে সব দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়। স্বেচ্ছাসেবকেরা পেশাদার বাহিনীর সঙ্গে একযোগে কাজ করেই দুর্যোগকালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তিনি আরও বলেন, যেকোনো দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই।
তিনি জানান, স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য সুযোগ–সুবিধা বাড়ানো এবং তাদের প্রশিক্ষণের মান ও পরিমাণ বৃদ্ধি করতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়–সংক্রান্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বখশ চৌধুরী এবং ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামালসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নিঃস্বার্থ সেবার মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবকেরা জনগণের বন্ধু হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করেছেন। সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ড, ভূমিকম্পসহ বড় বড় দুর্ঘটনায় ফায়ার ফাইটারদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছেন স্বেচ্ছাসেবকেরা—যা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান।
অনুষ্ঠানের আগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পূর্বাচল ট্রেনিং গ্রাউন্ডে স্বেচ্ছাসেবকদের মহড়া পরিদর্শন করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক দেশের বিভিন্ন এলাকার বাছাই করা ২২ জন স্বেচ্ছাসেবককে ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করেন। তিনি স্বেচ্ছাসেবকদের নিরলস ও সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করে আশা প্রকাশ করেন যে, ভবিষ্যতের সব দুর্যোগেও তাদের দেশপ্রেম ও নিষ্ঠা অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে দুই শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক ছাড়াও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক, উপপরিচালক, ট্রেনিং কমপ্লেক্সের অধ্যক্ষসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


ক্ষমতায় গেলে প্রত্যেক মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী
করে গড়ে তোলা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এজন্য তিনি আগামী
১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান। তারেক রহমান বলেন, এই দুনিয়ার
মালিক একমাত্র আল্লাহ তাআলা, বেহেশত, দোজখ, সবকিছুর মালিক আল্লাহ। আর একটি দল ভোটের
জন্য বেহেশতের টিকিট দিচ্ছে। নির্বাচনের আগেই তো ঠকাচ্ছে। আমরা যারা মুসলমান তাদের
শিরক করাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার ( ২ ২ জানুয়ারি ) দুপুর সিলেটের আলিয়া মাাদ্রাসা মাঠে
বিএনপির ধানের শীষের প্রথম জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘আজকে লাখ লাখ মানুষ এই মাঠে সমবেত
হয়েছেন। এই পরিবেশ ও সবার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে কয়েক হাজার মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে।
বিগত ১৫ বছরে ইলিয়াস আলীকে গুম করা হয়েছে, আমরা হারিয়েছি জুনাইদকে, দিনারকে। বিএনপির
লাখ লাখ মানুষ খুন, মামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। ফ্যাসিস্ট আমলে উন্নয়নের নামে মানুষ
শুধু লুটপাট দেখেছে।
উদাহারণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘২০০৫ সালে বন্যার সময় সুনামগঞ্জ
এসেছিলাম, তখন আসতে মাত্র ৫ ঘণ্টা সময় লেগেছিল, এখন আসতে ১০ ঘণ্টা লাগে। এত সময় লাগে
না লন্ডন যেতেও। তথাকথিত নির্বাচন দিয়ে তারা শুধু ভোটের অধিকার, কথা বলার অধিকার কেড়ে
নেয়নি। তারা উন্নয়নের নামে দেশের অর্থ বিদেশে নিয়ে গেছে।’
তিনি বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষ নির্বাচিত হলে
স্বৈরাচারমুক্ত দেশে গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হবে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপি দেশের এ অবস্থার পরিবর্তন
করতে চায়। কৃষক কার্ড দিয়ে কৃষকের পাশে দাঁড়াতে চায়, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দেশের
প্রত্যেকটি পরিবারের নারী পুরুষকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চাই। বেকার যারা আছেন,
তাদের আর বেকার থাকতে দেব না। তাদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে কাজে লাগাব।
তারেক রহমান স্লোগান ধরে বলেন, করব কাজ, গড়ব দেশ
সবার আগে বাংলাদেশ। এজন্য সবাইকে ধানের শীষের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমানের সময়
খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছিল। এখন আমরা আবার শুরু করতে চাই। এতে কৃষকরা যেমন লাভবান
হবেন, তেমনিভাবে ওপার থেকে পানি ছেড়ে দিলেও বন্যায় ভেসে যাব না। তারেক রহমান বলেন,
আমরা সবসময় বলি দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। টেক ব্যাক বাংলাদেশ।
মন্তব্য করুন


মাইলস্টোন
স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে
হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন,
এরা আমাদের সবারই সন্তান। হঠাৎ করে চিরদিনের জন্য চলে গেল। আমরা অবশ্যই এই ঘটনার তদন্ত
করব। আর যারা আহত- আমরা তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করছি। সবাই তাদের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছে।
আজ
সোমবার (২১ জুলাই) দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা এ কথা
বলেন।
হাসপাতালে
ভিড় না করার অনুরোধ জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ইউনূস দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন,
হাসপাতালে সকলে ছুটে আসছে। আমরা সবার কাছে অনুরোধ করছি হাসপাতালে ভিড় করবেন না। কারণ
যারা আহত তাদের জন্য এটা ভালো না। তাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধের শক্তি নেই। আমরা ভিড়
করলে, আমাদের শরীর থেকে কি রোগ তাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে এটা বলা মুশকিল। কাজেই দূরে
থেকে দোয়া করেন সবাই।
বিমান
বিধ্বস্তের এই ঘটনাকে ‘অবিশ্বাস্য’
আখ্যা দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন, আমার বলার কোনো ভাষা নেই। কিভাবে শুরু করব?
সেটাও বুঝতে পারছি না। আমার মতো সারাদেশের লোক আজকে হতবাক। এ রকম একটা কান্ড ঘটতে পারে।
আমরা কেউ কল্পনা করিনি। কারো ধারণার মধ্যে ছিল না। কিন্তু এই অবিশ্বাস্য ঘটনা আমাদেরকে
হঠাৎ করে গ্রহণ করতে হয়েছে।
বহু
শিশুর মৃত্যুতে সারা জাতি বাকরুদ্ধ মন্তব্য করে আবেগঘন ওই ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে মাইলস্টোন
স্কুল এন্ড কলেজ ক্যাম্পাসে কচি শিশুদের উপরে পড়ল। আগুনে পুড়ে শিশুরা মারা গেল। মা-বাপদের
আমরা কি জবাব দেব? কি বলবো তাদেরকে? আমরা নিজেদেরকে তো জবাব দিতে পারছি না। অজানা শিশুদের
মুখ বারবার চোখে ভেসে উঠছে। সারা জাতি বাকরুদ্ধ ও শোকাহত বললে খুব কম বলা হবে। এই দুর্ঘটনার
রেশ এখনো কাটেনি। এখনো লাশ আসছে হাসপাতালে। এখনো হাসপাতালে মারা যাচ্ছে। মা-বাপ এখনো
খোঁজ নিচ্ছে আমার সন্তান কোথায়? তাকে আর কোনদিন চেনা যাবে কিনা? যাদের লাশ দেখছি তার
মধ্যে আমার সন্তান আছে কিনা। পৃথক করার তো কোন উপায় নেই।
শিশুদেরকে
স্মরণ করে অধ্যাপক ড. ইউনূস আরও বলেন,আমরা অবশ্যই এই ঘটনার তদন্ত করব। তদন্ত হবে, কিন্তু
এই নিস্পাপ শিশুগুলো আর ফিরে আসবে না।
প্রধান
উপদেষ্টা আরও বলেন, শিশুদের বাবা মা আত্মীয়স্বজন সবার কাছে আমাদের সহানুভূতি জানাচ্ছি।
বাংলাদেশের যত সন্তান আছে সবাই আপনাদের সন্তান। আপনারা নিজেদের মনকে সান্ত্বনা দেয়ার
চেষ্টা করুন। আমরা সবাই আপনাদের সঙ্গে আছি। জাতির সমস্ত লোক আপনাদের সঙ্গে আছে।
অধ্যাপক
ইউনূস বলেন, ‘আমরা নিহত শিশুদের জন্য শোক দিবস
ঘোষণা করেছি। আগামীকাল শোক দিবসে আমরা সবাই মিলে তাদের কথা স্মরণ করব। তাদের আত্মার
শান্তি কামনা করব। আজ থেকে সবাই তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করব। আল্লাহ আপনাদেরকে
শান্তি দিন। নিহত শিশুদের জন্য দেশবাসী আমরা
সবাই দোয়া করছি। আল্লাহ এই শিশুদেরকে জান্নাতবাসী করুক।
মন্তব্য করুন


তথ্য
ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম বলেছেন, গোপালগঞ্জের বহু মানুষ আ. লীগ আমলে নিপীড়িত-বঞ্চিত
হয়েছেন।
আজ
শনিবার (১৯ জুলাই) তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম তার ভেরিফায়েড ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে
এ আহ্বান জানান।
তথ্য
উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেন, সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও বিচারে সহযোগিতা করুন। কিন্তু,
নাগরিক হিসাবে সকলের মানবাধিকারের পক্ষে থাকুন। কোনো এলাকাকে ঘেটো (একঘরে) বানানোর
চেষ্টা করবেন না। গোপালগঞ্জের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক
মানুষ নিম্নবর্গের হিন্দু। তারা লীগের আমলে নিপীড়িত ও বঞ্চিত হয়েছেন। আমাদের উচিত,
বাংলাদেশজুড়ে লীগের হাতে নিপীড়িত ও বঞ্চিতদের সাথে মৈত্রী করা। হাসিনার পরাজয় রাজনৈতিক না কেবল, নৈতিক ও বটে। নৈতিক
পরাজয়ের পর তার রাজনৈতিক পরাজয় ঘটেছিল। ফলে, আমরা হাসিনার বিরুদ্ধে গিয়ে নৈতিক উচ্চতা
হারাতে পারি না।
তিনি
বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর নূতন বাংলাদেশে আমরা মানবিক মর্যাদা, বৈষম্যহীনতা আর সুবিচারের
যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা পূরণ করা আমাদের কর্তব্য।
ঐক্যের
আহ্বান জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ বলেন, অনেকেই এখনও ভাঙার কাজে ব্যস্ত। কিন্তু গড়ার
কাজে কাউকে পাওয়া যায় না। অথচ, পুরানো বন্দোবস্ত মচকে গেছে। এখন আর এটাকে ভাঙ্গা যাবে
না বরং ভাঙ্গতে গেলে আরো বেঁকে যাবে, বেঁকে যাচ্ছে। আবার যখন সময় আসবে তখন ভাঙ্গা যাবে।
কিন্তু এক্ষণে গড়ার কাজে আমাদের মনোনিবেশ করা উচিত। গণ-অভ্যুত্থানের পর আমাদের অপ্রস্তুতি
ছিল, বিহ্বলতা আর অনভিজ্ঞতা মিলে আমরা ফ্যাসিবাদী বন্দোবস্তের পূর্ণাঙ্গ বিলোপ ঘটাতে
পারিনি। কিন্তু, এ সুযোগে রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী আকারে নিজেদের হাজির করা ও জবাবদিহিমূলক
গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কাজটা করতে পারলে আমরা ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ
বিলোপের পথে হাঁটতে পারব।
মন্তব্য করুন


নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ ব্যাহত করার চেষ্টা হলে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে উদ্দেশ্যমূলকভাবে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা জনমনে ভয় সৃষ্টি করছে। এ ধরনের তৎপরতা বন্ধে সরকার দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। কোন রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় এলে কী হতে পারে—এ নিয়ে বাইরে থেকে মন্তব্য করার কোনো সুযোগ নেই।
নির্বাচনী প্রচারে আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জানান, কিছু এলাকায় প্রার্থীরা সীমা অতিক্রম করছেন। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান এবং বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না।
মন্তব্য করুন


রাষ্ট্রীয়
মর্যাদায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দাফন সম্পন্ন
হয়েছে। দাফন শেষে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এ সময় বাংলাদেশ
সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধানরা মরহুমার প্রতি সশস্ত্র সালাম জানান।
এর
আগে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান কবরের পাশে তাকে সমাহিত
করা হয়। বিকেল ৩টায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
এদিন
বিকেল ৩টা ৪ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায়
বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জানাজায় লাখো মানুষের
ঢল নামে।
জাতীয়
মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক খালেদা জিয়ার জানাজা পড়ান।
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন তার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ
পরিবারের সদস্যরা, বিএনপির শীর্ষ নেতারা, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ এবং বিদেশি
অতিথিরা। পুরো আয়োজন পরিচালনা করেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম
খান।
জানাজায়
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধানরাও
নামাজে জানাজায় অংশ নেন। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, সেক্রেটারি
জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক
দলের নেতারাও খালেদা জিয়ার জানাজায় উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য,
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়
বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুতে বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত (৩১ ডিসেম্বর
এবং ১ ও ২ জানুয়ারি) তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে সরকার। এ ছাড়া জানাজা উপলক্ষে
আজ বুধবার সারা দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


মন্তব্য করুন


মজিবুর রহমান পাবেল, প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক বৈঠক মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে আমীরে জামায়াত তাঁর বিদেশ সফরের নানা দিক নেতৃবৃন্দের সামনে তুলে ধরেন। আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের সফর দেশ ও জাতির জন্য ফলপ্রসূ হওয়ায় আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের প্রশংসা করা হয় এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের পক্ষ থেকে তাঁকে ধন্যবাদ জানানো হয়।
বৈঠকে দেশে বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়।
কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ লক্ষ্য করছে যে, জুলাই জাতীয় সনদকে আইনি ভিত্তি দেওয়ার লক্ষ্যে গণভোট আয়োজনের বিষয়ে সরকার গড়িমসি করছে, যা জাতির জন্য উদ্বেগজনক। কেউ কেউ গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একই দিনে অনুষ্ঠানের মতো একটি ধারণা পোষণ করছেন। একই দিনে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে গণভোটের গুরুত্ব মারাত্মকভাবে হ্রাস পাবে। এটি গণভোট প্রক্রিয়াকে অনিশ্চয়তায় ফেলবে। কারণ, জাতীয় নির্বাচনে কোনো ভোটকেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত হলে গণভোটও স্থগিত হয়ে যাবে-যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এই প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ অন্তর্বর্তী সরকারের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছে যে, সরকার যেন অবিলম্বে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করে এবং আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যেই গণভোটের আয়োজন করে। পাশাপাশি, ওই গণভোটের ফলাফলের আলোকে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছে।
মন্তব্য করুন


দেশে চারটি
নতুন থানা স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত জাতীয়
বাস্তবায়ন কমিটি । এ ছাড়া মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করার প্রস্তাব
অনুমোদিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে তাঁর বাসভবন যমুনায় নিকারের ১১৯তম
সভা অনুষ্ঠিত হয়। এটি অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদকালে নিকারের প্রথম সভা।
সভায় প্রশাসনিক
পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত মোট ১১টি প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। সভা শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস
উইং থেকে এই তথ্য জানানো হয়।
নতুন থানাগুলো
হলো গাজীপুর জেলার পূর্বাচল উত্তর, নারায়ণগঞ্জ জেলার পূর্বাচল দক্ষিণ ও কক্সবাজার জেলার
মাতারবাড়ী। এ ছাড়া নরসিংদী জেলার রায়পুরাকে ভেঙে একটি নতুন থানা স্থাপনের প্রস্তাব
অনুমোদিত হয়েছে।
আর সাতক্ষীরাকে
‘বি’ থেকে ‘এ’ শ্রেণির জেলায় উন্নীত করার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে।
সভায় স্বাস্থ্য
মন্ত্রণালয়ের ‘স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ’ এবং ‘স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ’
দুটিকে আবার একত্র করে ‘স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়’ পুনর্গঠন করার প্রস্তাব
অনুমোদন করা হয়।
এ ছাড়া মহিলা
ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়’ করার প্রস্তাব
সভায় অনুমোদিত হয়। তবে এই মন্ত্রণালয়ের ইংরেজি নাম অপরিবর্তিত থাকবে।
সভায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের
আওতায় ‘রাজস্ব নীতি বিভাগ’ ও ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ’ নামের দুটি প্রশাসনিক বিভাগ
গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। প্রসঙ্গত, এ বিষয়ে ইতিমধ্যে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা
অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করা হয়েছে।
সভায় পরিবেশগত
বৈশ্বিক ঐতিহ্য, পর্যটন ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার বিবেচনায় সাতক্ষীরা জেলাকে ‘বি’ থেকে
‘এ’ শ্রেণিতে উন্নীত করার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।
এ ছাড়া ঠাকুরগাঁও
জেলায় ‘ভূল্লী’ থানার নামের বানান সংশোধনের প্রস্তাব সভায় অনুমোদিত হয়।
সভায় প্রধান
উপদেষ্টা ছাড়াও কয়েকজন উপদেষ্টা, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্য সচিবসহ সরকারের ১৪ জন সচিব
বা জ্যেষ্ঠ সচিব উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন